#রাজকন্যা_হূরিয়া❤️🌸
#লেখা_মুহতারিযাহ্_মৌমিতা
২৮;
ফুপুআম্মা বেহুঁশ হয়ে গেছেন নাজিমউদ্দীনকে দেখে। হওয়ারই কথা। গত পঁচিশটা বর্ষ অব্দি যাকে মৃত বলে জেনে এসেছেন আজ হঠাৎ সেই মানুষ টাকে চোখের সামনে জীবিত দেখলে যে কেউই জ্ঞান হারাবেন। ফুপুআম্মার ব্যাপারেও বিকল্প ভাবতে পারেনি রাজকন্যা। প্রায় অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে ফুপুআম্মা বেহুঁশ। আয়াস,রাজকন্যা এবং রেদোয়ান তিনজনেই কাঠপুতুলের মতো দাঁড়িয়ে আছে এক কোনে। যেন তাদের হাত পা অচল। তারা অন্যের দ্বারা চলাচল করতে পারে। অন্যথায় নয়।
এদিকে নাজিমউদ্দীন সেই তখন থেকেই পাগলের মতো করছেন ফুপুআম্মার হুঁশ ফেরানোর তাগাদায়। এই মুহুর্তে এই মানুষটাকে দেখলে কেউ বলতে পারবেনা এক কালে কতটা নির্দয়,নিষ্ঠুর ছিলেন। কতটা অত্যাচার করে ফুপুআম্মার জীবনটা নরকে পরিনত করে দিয়েছেন! আচ্ছা এমনটাও তো হতে পারে তিনি তখন কারোর ইশারার কাঠ পুতুল ছিলেন! কারোর ইশারায়, কারোর প্ররোচনায় তিনি ফুপুআম্মাকে নির্দয়ের মতো প্র’হার করেছেন,অ’ত্যা’চার। হতেই পারে! কিন্তু কার প্ররোচনায়-
“বেগম! বেগম চোখে খোলো? কি হলো তোমার? বেগম!”
নাজিমউদ্দীনের তৃষ্ণার্ত গলাটা ভেসে আসতেই রাজকন্যার ভাবনার ঘোর কেটে যায়। সে আর ভাবতে পারেনা। স্থির দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকায়। ফুপুআম্মা অচেতন অবস্থায় শুয়ে আছেন শয্যায়। নাজিমউদ্দীন তার মাথার কাছে। হাতের কৌটোতে জল নিয়ে বসে আছেন। কতক্ষন পরপরই জলের ছিটে দিচ্ছেন ফুপুআম্মার মুখে। কক্ষে তারা চারজন ব্যতীত আর কেউ। নাজিমউদ্দীন কে বন্দী করে আনা প্রহরীরা এবং কক্ষের বাইরে পাহারারত প্রহরীরা সবাইকেই বিদায় করেছে রাজকন্যা। কেননা, সে চায়না এই কক্ষের কোনো কথাই যেন চার দেয়ালের ওপাশে যায়। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ডাকতে হবে। কবিরাজ মশাইকে একবার খবর দিতেই হবে।
ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ছাড়লো রাজকন্যা। একবার কক্ষের দরজার দিকে তাকালো। দু’জন দাসী দাঁড়িয়ে আছে। রাজকন্যা তৈরি হলো তাদের ডাকবে কিন্তু এমন মুহূর্তে আয়াস তাকে আটকালো।
“কবিরাজ মশাইকে ডাকার প্রয়োজন নেই রাজকন্যা। আমার মনে হয় তাদের দু’জনকে আরও কিছুক্ষন এমন একাই রাখা উচিৎ। বেগমজির হুঁশ যদি ফেরে তবে নাজিমউদ্দীনের ডাকেই ফিরবে। আমি নিশ্চিত।”
রাজকন্যা আয়াসের বারন শোনে। ঠোঁটের কোনে ছোট্ট করে হাসির রেখা টেনে নিজের জায়গায় নিশ্চুপ দাঁড়ায়। ক্ষনকাল পেরোতে আয়াসের বানী ফলে যায়। ফুপুআম্মা যেমন আকস্মিক জ্ঞান হারিয়েছেন ঠিক তেমনই আকস্মিক সজ্ঞান ফিরেছেন। চোখ মেলে কয়েক মুহূর্ত ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলেন নাজিমউদ্দীনের পানে। তবে সেটাও দীর্ঘব্যাপী হলো না।আচমকা আতংকে ছিটকে পড়লেন খানিকটা দূরে। ভূত দেখার মতো চমকে উঠছেন বারেবারে। তার এমন করে ছিটকে পড়াতে চমকে উঠলেন নাজিমউদ্দীনও। ভড়কানো দৃষ্টিতে তাকালেন তিনি।
ফুপুআম্মা হঠাৎ চেঁচালেন।
“আ- আ- আপনি! আপনি! আপনি?”
‘আপনি’ ব্যতীত ফুপুআম্মার গলার আওয়াজ শোনা গেলো না। রাজকন্যা দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলো ফুপুআম্মার নিকটে।
“ফুপুআম্মা.. ফুপুআম্মা শান্ত হোন। উনি আপনার স্বামী। নাজিমউদ্দীন। উনাকে চিনতে পারছেন না আপনি?”
রাজকন্যার স্পর্শ আর গলার আওয়াজ পেতেই তাকে ঝাপটে ধরে ফুপুআম্মা। মনে হচ্ছে তিনি প্রচন্ড ভয় পাচ্ছেন। দরদর করে ঘামছেনও।
“ন- ন- নাজিমউদ্দীন! না- নাজিমউদ্দীন!”
ফুপুআম্মা আবারও একাধারে নাম জপ করলো নাজিমউদ্দীনের। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। মনে হচ্ছে আবারও অচেতন হবেন। রাজকন্যা আয়াসের দিকে তাকালো। বিহ্বল কন্ঠে বলল,
“ফুপুআম্মাকে জল দিন দয়াকরে।”
আয়াস কেমন ব্যাকুল দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলো ফুপুআম্মার পানে। রাজকন্যার গলা পেয়ে তার ঘোর কাটলো। দ্রুত এগিয়ে গেলো জল দিতে। রেদোয়ানও এলো তার পিছুপিছু।
“বেগম! আমি তোমার স্বামী। আমাকে দেখে ভয় পেয়ো না। আমি নাজিম।”
ফুপুআম্মা শান্ত হলো না। বরং আরও ছটফট করতে লাগলো। আয়াস জল নিয়ে ছুট্টে এলো রাজকন্যার কাছে। রাজকন্যা তড়িঘড়ি করে জলটা খাইয়ে দিলো ফুপুআম্মাকে। খালি পাত্রটা আয়াসের হাতে তুলে দিতে দিতে করুন দৃষ্টিতে তাকালো রাজকন্যা। আয়াস রাজকন্যার অসহায় ঘেরা মুখটা দেখে তার দৃষ্টিখানা শান্ত করে নিলো। যার দরুন রাজকন্যাও কিছুটা প্রশান্তি অনুভব করলো। আয়াস চোখের পলক ঝাপটে বলল,
“সবটা ভালো হবে।”
রাজকন্যা ছোট্ট করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উপরনিচ মাথা নাড়লো। অতঃপর ফুপুআম্মার সম্মুখে বসলো। ফুপুআম্মা ভয়ে কাঁপছেন। তার দৃষ্টি নীচের দিকে স্থির হয়ে আছে। যেন উপরের দিকে তাকালেই ভয়ংকর কিছু দর্শন হয়ে যেতে পারে।
“ফুপুআম্মা। ও ফুপুআম্মা। একবার দেখবেন না আমায়? আমি আপনার স্নেহের রাজকন্যা। দেখুন একবার আমায়? আমি ডাকছি তো আপনাকে।”
ফুপুআম্মা চোখ পিটপিট করে একবার তাকায় রাজকন্যার পানে। ফের দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। রাজকন্যা আবারও ডাকে।
“ফুপুআম্মা? দেখুন আমি কাকে নিয়ে এসেছি।”
ফুপুআম্মা চমকে ওঠে। ভয়ে আরও গুটিয়ে যায়। কিছু বলতে পারেনা।
“ফুপুআম্মা.. নাজিমউদ্দীন জীবিতই ছিলেন। উনার কোনোদিনই কিছু হয়নি। সত্যি বলছি। উনি একদম সুস্থ ছিলেন, স্বাভাবিক ছিলেন। উনার মৃত্যু সংবাদটা মিথ্যে ছিলো। কেউ ইচ্ছে করে উনার মৃত্যু সংবাদটা রটিয়েছে এই রাজ্যে। উনি মারা যাননি।”
ফুপুআম্মা সবটাই শুনছেন। কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া করছেন না। তিনি একটু একটু শান্ত হচ্ছেন। তা দেখে রাজকন্যা আবারও বলতে আরম্ভ করে,
“হ্যাঁ ফুপুআম্মা। আপনার স্বামী একদম ঠিকাছেন। উনি একদম সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। আর দেখুন না, এতো বর্ষ বাদে আজ উনি নিজে আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। আপনার খোঁজ নিতে এসেছেন। আপনি কেমন আছেন তাকে ছাড়া উনি জানতে চান ফুপুআম্মা। উনাকে কি একবার বলবেন আপনি উনাকে ছাড়া একদম ভালো নেই? আপনি উনাকে ছাড়া ভীষণ একা! আপনি উনাকে ছাড়া একদম নিঃশ্ব! একবার কি বলতে চান উনাকে ফুপুআম্মা?”
ফুপুআম্মা ব্যতীত বাকি তিনজনের দৃষ্টিতেই নেমে এলো এক আকাশসম বিস্ময়! কি বলছে রাজকন্যা? বেগমজি নাজিমউদ্দীনকে ছাড়া ভালো নেই? নাজিমউদ্দীন যেন হোঁচট খেলেন রাজকন্যার কথা গুলোয়! এটা কেমন করে সম্ভব? তিনি যা অ’বিচার করেছেন বেগমজির প্রতি.. তাতে করে সারাজীবন ধরে কেবল অ’ভিশাপই দেওয়ার কথা ছিলো তাকে। কিন্তু না। বেগমজি তাকে অভিশাপ দেওয়া তো দূর বরং আরও বেশি ভালোবেসেছেন তাকে! এও কি বিশ্বাসযোগ্য?
“এ আপনি কি বলছেন রাজকন্যা?”
আয়াস বিস্মিত কন্ঠে শুধালো। রাজকন্যা তার দিকে না তাকিয়েই জবাব দিলো,
“হ্যাঁ। আমি ঠিক বলছি।”
বলতে বলতে রাজকন্যা নাজিমউদ্দীনের দিকে তাকালো। নাজিমউদ্দীন তাকিয়েই ছিলো রাজকন্যার দিকে। এ কথা শুনে তিনি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। তার কান্নার শব্দে চমকে উঠলো উপস্থিত সকলে। এমনকি বেগমজিও। বেগমজি ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালো নাজিমউদ্দীনের পানে। তার চোখে ভাসতে থাকা জল দেখে তার কি হলো সে নিজেও জানেনা। ছুট্টে গেলো তার সম্মুখে।
“ক- ক- কি হলো! ক- কি হলো? আ-আপনি কাঁদছেন কেন? ক-কি হলো?”
ফুপুআম্মার এহেম কান্ড দেখে অবাক না হয়ে পারলোনা বাকিরা। আয়াস এবার বিশ্বাস করতে বাধ্য হলো কতটা ভালোবাসেন বেগমজি নাজিমউদ্দীনকে।
রাজকন্যা বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। আয়াসের সম্মুখে গিয়ে ফুপুআম্মা এবং নাজিমউদ্দীনকে ইশারা করে বলল,
“এখন বলুন? আপনার কি মনে হয় এই মানুষটা কোনোদিন তার স্বামীকে নিজের থেকে আলাদা করতে পারে? কোনোদিন নিজের সদ্যোজাত সন্তানকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে?”
আয়াস নিজের অজান্তেই বলে উঠলো,
“অসম্ভব!”
“হু অসম্ভব তো বটেই। কিন্তু আপনি যে সত্যিটা জেনেছেন সেই সত্যিটারও তো নিবারণ করতে হবে। তাই না?”
“মানে?”
“অপেক্ষা করুন।”
বলে রাজকন্যা স্থীর দাঁড়াল। সামনের দিকে তাকিয়ে দেখলো নাজিমউদ্দীনের সঙ্গে ফুপুআম্মাও কাঁদছেন। নাজিমউদ্দীন কাঁদতে কাঁদতে হাত জোর করে মাফ চাইছেন ফুপুআম্মার কাছে। এসব দেখে শান্তি লাগছে রাজকন্যার। তবে এবার রহস্য খোলার পালা।
“ফুপুআম্মা?”
ডাকলো রাজকন্যা। ফুপুআম্মা পেছন মুড়ে তাকালেন।
“আপনার কি মনে আছে সেই ক্ষনের কথা, যে ক্ষনে আপনি আপনার সদ্যোজাত পুত্রের কান্নার আওয়াজ শুনেছিলেন?”
ফুপুআম্মা স্তবির হয়ে গেলেন। তার একটু একটু করে মনে পড়তে লাগলো সেই কাল রাতের কথা। এক নিমিষে ভয়ার্ত উঠলো তার দৃষ্টি। একরাশ অসহায়ত্বতা এসে ভর করলো তার মন পুকুরে। আবারও কেঁদে উঠলেন তিনি। নাজিমউদ্দীনের পানে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন,
“আমি পারিনি আমাদের সন্তানকে বাঁচাতে! আপনি চলে যাবার পরপর সেও আমায় ছেড়ে চলে গিয়েছিলো।”
“ম- মানে! বাঁচাতে পারোনি মানে! সে তো বেঁচে আছে৷ আর আমার সঙ্গেই আছে।”
নাজিমউদ্দীনের গলায় এমন কথা শুনে স্তব্দ হয়ে গেলো ফুপুআম্মা। তার কান্না থেমে গেলো। বোবা চোখে তাকিয়ে রইলো নাজিমুদ্দিনের পানে। যেন এমন অবাক বিস্ময় বাণী তিনি ইতিপূর্বে কোনোদিন শোনেন নি।
“ব- ব- বেঁচে আছে! আ- আ- আমার পুত্র বেঁচে আছে?”
“হ্যাঁ বেঁচে আছে সে। তাকে তুমি মৃত কেন বলছো বেগম? তুমিই তো তাকে জন্মের পরে এই রাজ্য থেকে বহিষ্কার করেছো। কেননা সে আমার পুত্র ছিলো বলে।”
“কি বলছেন? কি বলছেন আপনি এসব?”
“এটা কি সত্যি নয়?”
“না না না। এ- এটা সত্যি নয়। আমার পুত্রকে আমি কেন বহিষ্কার করবো? আমি যে হতভাগিনী মা! জন্মের পর তার মুখখানাও দেখতে পারিনি। একটা মৃত্যু সন্তানের মুখ দেখেছিলাম আমি!”
নাজিমউদ্দীন অবাক হন।
“এটা কি করে সম্ভব? মিত্র তো বলেছিলো তুমি আমার চলে যাওয়ার পর নিজের সন্তানকেও বহিষ্কার করেছো। এবং সে আমাদের পুত্রের প্রায় ৪ বর্ষ অব্দি দেখভাল করে। যখন তার বয়স ৪ বর্ষ তখনই সে আমার কাছে তাকে ফিরিয়ে দেয়।”
“মিত্র?”
“মিত্র?”
রাজকন্যা এবং ফুপুআম্মা একত্রেই নামটি উচ্চারণ করে। নাজিমউদ্দীন জবাব দেয়,
“হ্যাঁ আমার মিত্র। মানে আয়াসের আব্বাজান। আয়াস এবং আমাদের পুত্র মেরাজ একই ক্ষনে জন্মায়। মেরাজকে তুমি এই রাজ্য থেকে বিতাড়িত করলে ওকে নিয়ে যায় মিত্র। আয়াস এবং মেরাজকে একত্রেই দেখভাল করতে আরম্ভ করে। আমি সেই ৪বর্ষ এই রাজ্য এবং আমাদের কুঠুরি ছেড়ে ভিন্ন দেশে চলে যাই। কেননা তখন সিরাজ আমাকে বন্দী করিবার জন্য শতশত প্রহরী নিয়োজিত করে। আমার চলে যওয়ার পেছনে অবশ্য মিত্ররই সহযোগিতা বেশি ছিল। আমার জীবনের নিশ্চয়তা দিতেই সে আমাকে ভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেয়। আমিও চলে যাই। এমনকি আমি এটাও জানতাম না বেগম এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে।”
“আপনার কখনও জানতে ইচ্ছে হয়নি কেন ফুপুআম্মা আপনাদের পুত্রকে এই রাজ্য থেকে বিতাড়িত করলো? শতহোক সে তো একজন মা! কোনো মা’ই কি পারে তার সন্তানকে নিজের থেকে আলাদা করতে?”
রাজকন্যা শুধালো। তার কন্ঠে আকুলতা। নাজিমউদ্দীন মুখ উঁচিয়ে তাকায় রাজকন্যার পানে। বড় করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
“জানতে চেয়েছি বৈ কি! অবশ্যই চেয়েছিলাম। চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু ওমন একটা মুহুর্তে বেগমের সামনে আসাটা প্রায় দুঃসাধ্য ছিলো। আর মিত্রের মুখে সবটা শুনে মেনেও নিয়েছিলাম। কেননা, মিত্র যখন নিজে বলেছে তখন মিথ্যে নিশ্চিয়ই বলবেনা।”
“আ- আ- আমার পুত্র কোথায়? কোথায় সে? তাকে নিয়ে এলেন না কেন? কোথায় আমার পুত্র?”
ফুপুআম্মা অস্থির হয়ে উঠলেন। উদগ্রীব হয়ে জানতে চাইলেন তার পুত্রের কথা। রাজকন্যা পাশ ফিরে একবার আয়াসের দিকে তাকালো। আয়াসও তাকালো রাজকন্যার পানে। ছোট্ট করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দৃষ্টি মাটিতে বিদ্ধ করলো আয়াস। অপরাধী গলায় বলল,
“ক্ষমা করবেন ফুপুআম্মা! মেরাজ এখন ঠিক নেই। ওর চিকিৎসা চলছে!”
আঁতকে উঠলেন ফুপুআম্মা!
“ক- ক- কি বলছো? কেন! কি হয়েছে আমার পুত্রের!”
“ফুপুআম্মা আমি বলছি।” বলল রাজকন্যা।
ফুপুআম্মা তাকালো রাজকন্যার দিকে। রাজকন্যা স্মিত হাসলো। একবার আয়াসের দিকে তাকিয়ে ফের নাজিমউদ্দীনের দিকে তাকালো। কিছু না বলে এগিয়ে গেলো ফুপুআম্মা শয্যার পাশে। নীচের দিকে ঝুঁকে ছোট্ট একটা বাক্স তুললো। বাক্সটা উঠিয়ে ফুপুআম্মার সামনে রাখলো। বলল,
“ফুপুআম্মা, এর মাঝে নাজিমউদ্দীনের যুবক কালের একখানা চিত্র আছে। দয়াকরে বের করবেন?”
ফুপুআম্মা তুমুল গতিতে মাথা নেড়ে চটজলদি বাক্সটা খুলল। বাক্যটা খুলতেই দৃশ্যমান হয় নাজিমউদ্দীনের যুবক কালের একখানা চিত্র। কিন্তু সেটা দেখতে মোটেও পুরনো মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে আজই এই চিত্র আকা হয়েছে।
ফুপুআম্মা চিত্রখানা বের করে নাজিমউদ্দীনকে দেখালেন। নাজিমউদ্দীন যেন অবাক বনে গেলেন। বিস্মিত নয়নে তিনি আয়াসের পানে একবার তাকালেন। আয়াস উদগ্রীব নয়নে তাকিয়ে ছিলো। নাজিমউদ্দীন তাকাতেই সে প্রস্তুত হলো কিছু বলবে বলে। তবে তার পূর্বেই বলে উঠলো রাজকন্যা,
“মেরাজ আপনার এবং ফুপুআম্মার পুত্র নয় নাজিমউদ্দীন। আপনাদের একমাত্র পুত্র হলো আয়াস।”
রাজকন্যার এহেম বাণীতে নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেলো পুরো কক্ষ। সবাই আকস্মিক যেন হোঁচট খেয়ে পড়লো। এক বিশাল আকাশ সমগ্র বিস্ময় নিয়ে হা সূচক দৃষ্টি নিয়ে তাকালো সবাই!
“এটা কি ধরণের ঠাট্টা করছেন, রাজকন্যা?
ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলে উঠলো আয়াস।
“আমি কোনো ঠাট্টা করছি না, রাজকুমার আয়াস!”
আয়াসের শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল রক্তস্রোতে বয়ে গেলো! অদ্ভুত তাড়না মিশ্রিত দম বন্ধ করা এক অনুভূতি হলো। রাজকন্যা এসব কি ধরনের ঠাট্টা করছে তার সঙ্গে! এসব নিয়েও কি কেউ ঠাট্টা করে?
#চলবে

