#তোমার_পিছু_পিছুপর্ব-২২

0
566

#তোমার_পিছু_পিছুপর্ব-২২

১ সপ্তাহ জ্বরে ভোগার পর……বর্ন আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই সিদ্ধান্ত নিলো অফিসে যাবে….. এবং যাবেই যাবে…… যেই ভাবা সেই কাজ…. সকাল সকাল উঠেই তৈরী হয়ে রুম থেকে বের হতেই পারভিন বেগমের আহাজারি শুরু…….. উনি কিছুতেই ছেলেকে ছাড়বেন…. এবং ছেলেও নাছোড়বান্দা যাবেই যাবে…..মা’কে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বর্ন যখন গাড়িতে উঠল তখন অলরেডী ১০.৪১বাজে।

বর্ন অফিসে এসেই সোজা তামান্নার ডেস্কের সামনে….
-গুড মর্নিং, মিস তামান্না।……… মিস তামান্না দুইকাপ কফি নিয়ে চট করে আমার কেবিনে আসুনতো…. আর্জেন্ট…. হারি আপ… হারি আপ….
তামান্না ওর নোটবুক থেকে চোখ না সড়িয়েই এতোক্ষন বর্নর কথা শুনলো… এবং বাধ্য মেয়ের মত উঠে গিয়ে কফি আনতে গেলো….
বর্ন নিজের কেবিনে প্রবেশ করে ছোট খাটো একটা ধাক্কা খেলো….
সোফায় বসে সামনের টি-টেবিলে পা তুলে… দুই হাত ভাজ করে নীলময়ী ঝিমুচ্ছে…… বর্ন এগিয়ে গিয়ে পাশে দাড়াতেই….
-হ্যালো দেয়ার…গুড মর্নিং মিস্টার……
-গুড মর্নিং নীলময়ী…. কেমন আছেন…..
নীলময়ী বড় বড় দু’টা নিঃশ্বাস নিয়ে বলল
-হুম… অক্সিজেন ভিতরে যাচ্ছে,,,কার্বন-ডাইঅক্সাইড বাহিরে আসছে…. তার মানে জীবিত আছি……
বর্ন উত্তর দেয়ার আগেই দরজায় নক পড়ল। “কাম ইন” বলতেই,,,,তামান্না ভিতরে এসে একটা ছোট ট্রে থেকে দুই কাপ কফি নামিয়ে টি-টেবিলের উপর রাখল।এবং যেমন নিঃশব্দে এসেছিলো…. ঠিক তেমন নিঃশব্দেই চলে গেলো। বর্ন কিছুক্ষন ওর গমন পথের দিকে ভ্রু কুচকে চেয়ে রইল।
-হ্যালো মিস্টার….. আমি কিন্তু আজ শুধু শুধু আসিনি….. অনেক বড় একটা কারনে এসেছি…..
বর্ন শুধু তাকিয়ে রইল…..
-এভাবে তাকিয়ে কেনো!!! বাড়ে ভুলে গেছেন নাকি… আমি কিন্তু আপনার কাছ থেকে টাকা পাই……
বর্নর কনফিউশন আরো বেড়ে গেলো…..
-স… সরি….. আমার আসোলেই মনে নেই….. ইয়ে… কত…. মানে আপনি কত টাকা পান আমার কাছে…..
বিব্রত ভঙ্গিতে মাথার পিছন চুলকাতে লাগলো বর্ন….
-পুরো ১৫টাকা….
-জ্বী!?
-ওহহো…. সেদিন মাগনা মাগনা আইসক্রিম খেলেন…. টাকা দিবে কে?
-কিন্তু ১৫ টাকা যে ভাংতি নেই!!!
-আমি কি বলেছি আমি ১৫ টাকা নিবো!?
-ইয়ে,,,না,,,,মানে,,,,আসলে…..
-চলুন….আজকে আমার ঘুরার শখ হয়েছে…. ঘুরবো আমি আজকে….. আর ১৫ টাকা সময়মত না দেওয়ায় আপনার জরিমানা…… আপনিও ঘুরবেন আমার সাথে…..
-হুম… বুঝলাম….. আমি কিন্তু অতো কিছু একটা চিনি না…..
-নো সমস্যা….. চিনতে চিনতে ঘুরবো…… বুঝলেন….।

বর্ন আর নীলময়ী কেবিন থেকে বের হয়ে লিফটের দিকে এগিয়ে গেলো। কিন্তু কিছু দূর যেয়ে বর্ন আবার ফিরে এলো…… এবং তামান্নার ডেস্কের সামনে দাড়ালো।
-মিস তামান্না,,,,আপনাকে আমি ঠিক ৩০ সেকেন্ড সময় দিচ্ছি….আপনার টেবিলের এই ছড়ানো কাগজপত্র গুছাতে এবং ডেস্কটপ অফ করতে……
তামান্না কিছুটা বিরক্তি আর কিছুটা বিভ্রান্তি নিয়ে তাকালো বর্নর দিকে…..
-স্যার…..কিছু পেপারসের কাজ…………………
-মিস তামান্না…. আপনি আমার এসিস্ট্যান্ট…… যদি আমিই অফিসে না থাকি তাহলে আপনি কার জন্য থাকবেন………
-কিন্তু স্যার….. এই পেপার গুলো অনেক……………
-মিস তামান্না ইউ আর রানিং আউট অফ ইউর টাইম…. অনলি টেন সেকেন্ডস লেফট…..
-আরে ধুরররর…… এত ধানাই পানাই কেনো করছেন….. এক কাজ করুন মিস তামান্নাকে আপনার কাধে তুলে নিন…..
বর্নর পিছন থেকে নীলময়ী উচ্ছ্বসিত গলায় আইডিয়া দিলো……..
বর্ন কিছুক্ষণ নীলময়ীর দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,,
-হুম,,,গুড আইডিয়া…..
বর্ন কিছু করার আগেই,,,,,,,তামান্না তড়িঘড়ি করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো….. তাড়াতাড়ি ডেস্কটপ অফ করল। টেবিলের ফাইল পেপারস তাড়াহুড়ো করে ঠিক করতে গিয়ে হাতের ধাক্কায় পানির গ্লাস ফেলে দিলো…….
ফাইল পেপারস পানিতে ভিজে একাকার…. কাচের গ্লাস গড়িয়ে পড়ে গেলো ফ্লোরে।

👇👇👇
নীলময়ীর চিৎকার চেচামেচিতে প্রথমেই যেতে হলো একটা রেস্টুরেন্টে……. তামান্না কিছুই নিলো না….. শুধু হাত গুটিয়ে বসে রইল……. এভাবে হুমকি দিয়ে বাহিরে আনার কোন মানে হয়!!!! এই লোকের নামে কেস করতে পারলে হত……. হুহ!!!
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যেতে হলো…..কর্নফুলী গার্ডেন সিটি, শপিংমলে…….। ঢাকায় বছরকয়েক আগে এলেও তামান্না এদিকটায় আসে নি,,,,এমনকি তামান্না এর আগে এসব শপিং মলেও আসেনি….. তামান্নার শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম। এরকম যায়গায় আসাতো ভাগ্যের ব্যাপার…… তামান্নার মনটা হঠাৎ অনেক খুশী খুশী হয়ে গেলো। খুশীতে একটু নাচলে কেমন হয়…… তামান্নার দুই গাল হাসিতে টুলটুল করতে লাগলো…… সামনের এই খবিশ বদমাশ স্যারটাকেও তামান্নার অতি মহান লাগতে লাগলো…….
তামান্না লক্ষ্য করল ও বর্ন আর নীলময়ী থেকে হাকলা একটু পিছনে হাটছে….. বর্ন আর নীলময়ী সামনা পাশাপাশি। কিছু একটা বলে নীলময়ী খুব হাসছে…….
তামান্নার ওদের দুইজনকে একসাথে দেখল একমনে……….. একদম পার্ফেক্ট ম্যাচ!!! একদম রাজকুমার আর রাজকুমারীর মত…… আর তামান্না!!! ওদের পেয়াদা…… আর দু-চারজন পাইক পেয়াদা সাথে থাকলে একদম খাপে খাপে মিলতো……..
মাথা নিচু করে ফোস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো…… এটাই কি বাস্তব না!!! বামুন হয়ে চাদে হাত দেওয়া খুবই ভয়ানক ব্যাপার……. ও একটা শান্তিপূর্ণ জীবন চায়…… এসব ভয়ানক কাজ করে জীবন ঝামেলাযুক্ত করার মানে হয় না…..।

👇👇👇
-মিস তামান্না…. হ্যালো মিস তামান্না….. শুনছেন!!
বর্নর ডাকে হুশ ফিরলো তামান্নার…. এতোক্ষন ও তাকিয়ে ছিলো গ্লাসের নিচে ডিসপ্লের ডায়মন্ড রিংগুলোর দিকে…. আসলে রিং না… তামান্না দেখছিলো প্রাইস ট্যাগগুলো …. প্রাইস দেখে তামান্নার মাথা ভনভন করতে লাগল। তামান্নার ডান পাশে নীলময়ী একটা রিং নিয়ে গুতাগুতি করছে….. আর বা পাশে বর্ন।
-মিস তামান্না আপনি ঠিক আছেনতো….. আপনার চেহারা এরকম ফ্যাকাসে হয়ে আছে কেনো!!!!
-না…. না স্যার আছি….. আমি আছি………..
-মিস তামান্না দেখুনতো কোন দুলটা বেশি সুন্দর…..
বর্ন তিনটা ডায়মন্ড ইয়ারিং দেখালো…… তামান্না বেশকিছুক্ষন দেখে ছোটজোরা ইয়ারিংটা দেখালো চোখের ইশারায়…..
-হুম…. আমারও এটাই পছন্দ হয়েছিলো…….
বর্ন সেলসম্যানকে বলল,,,
-আই উইল টেক দিস ওয়ান
-ওকে স্যার….. ইটস সেভেন্টি ফাইভ থাউজেন্ট টু হানড্রেড টাকা অনলি।
তামান্নার কান ঝাঝা করতে লাগল। কোনরকমে শুকনো গলায় বলল
-স্যার একগ্লাস পানি খাবো…….।

(আসছে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here