#তোমার_পিছু_পিছুপর্ব-২১
(আমার গল্পগুলোতে পাঠক যেনো কিভাবে কিভাবে আগেভাগেই প্রেডিক্ট করে ফেলো…… ধ্যাত মজা লাগে না 😑😑)
তামান্না একটু গুটিসুটি মেরেই দাঁড়িয়ে আছে পারভিন বেগমের সামনে। পারভিন বেগমের তীক্ষ্ণ চাহনি দেখে তামান্নার আত্বা যাই যাই করছে…… পারভিন বেগম বেশকিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে,,এবার জিজ্ঞেস করলেন….
-তো মেয়ে তুমি আমার ছেলের অফিসে কাজ করো বুঝলাম….. কিন্তু এভাবে ফাইলের গাট্টি নিয়ে আমার বাড়িতে এসেছো কেনো!?
-ম্যাডাম আসলে স্যারের সাথে একটু কথা ছিলো,।
-অফিসে কি করো যে কথা নিয়ে বাড়ি আসতে হবে!?
তামান্না চুপ করে রইল…. এই মহিলাকে কিভাবে বুঝাবে অফিসের কথা নিয়ে বাড়ি আসার কারন!!!
-ছেলেটা আমার কি পরিমান জ্বরে ভুগছে তার খবর আছে কারো!!!! সব নষ্টের মূল ওর বাপ…… ওর বাপকে ধরবো আজ আমি…. ব্যবসা ব্যবসা করে মাথা খেয়ে ফেলল আমার ছেলেটার………
এসবই বিড়বিড় করতে লাগলেন পারভিন বেগম…..
তামান্না ঠায় দাঁড়িয়ে…. পা ব্যাথা করছে ওর…রাস্তায়ও বেশকিছুক্ষন দাঁড়িয়ে সময় কাটাতে হয়েছে…… কোথাও বসতে পারলে হত…. এই মহিলা যেই অভিযোগের ভান্ডার খুলে বসেছে,,, মনে হয় না তা এতো দ্রুত শেষ হবে…..
-তুমি এখনো এখানে দাঁড়িয়ে কেনো..?
পারভিন বেগমের হুংকারে তামান্নার কলিজা ব্যাঙের মত লাফিয়ে উঠল। সালাম মিয়াকে ধমকের পর পারভিন বেগম চোখ ঘুরালেন তামান্নার দিকে….
-এই মেয়ে তুমি মাছ কাটতে পারো…..?
তামান্নার মনে ক্ষীণ একটা সন্দেহ ছিল,,,এই মহিলা এমন কিছু জিজ্ঞেস করতে পারে….
-জ্বী আমি?
-কেনো মেয়ে তুমি কি ঐশ্বরিয়া নাকি যে তোমাকে জিজ্ঞেস করা যাবে না!!!
-জ্বী ম্যাডাম,,,আমি পারি মাছ কাটতে……
-দেখোতো এই মাছটা কাটতে পারবে কিনা!?
তামান্না ফোস করে একটা শ্বাস ছাড়লো…. তামান্না বুঝে পায় না…. এই মা ছেলে ওকে পেয়েছেটা কি!!! কাজের বুয়া!!! ওকে দেখলেই ওনাদের কাজের অর্ডার দিতে মন চায়!!! তামান্নার মন চাইছে এই মহিলাকে কঠিন কিছু কথা বলে চুপ করিয়ে রাখতে… কিন্তু না! বসের মায়ের সাথে তর্কাতর্কি করে চাকরি খুয়ানোর মত বোকা মেয়ে তামান্না না…….
তামান্না হাতের ফাইলগুলো সিকিউরলি রেখে,,, ওড়নাটা গুছিয়ে নিতে লাগল।
👇👇👇
পারভিন বেগম তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন…. মেয়েটা কি সুন্দর করে এতো বড় মাছটা কায়দা করে কেটে নিচ্ছে…..। বিয়ের আগে কম বেশি মাছ কাটলেও…. বিয়ের পর এসব আর ধরতে হয়নি…..আর এই পুচকা একটা মেয়ে কিরকম ভাবে তড়তড়িয়ে মাছ কাটছে……
-তুমি এতো বড় মাছ কাটা কার কাছ থেকে শিখেছো…..
-……………… বাবার কাছ থেকে ম্যাডাম।
-তোমার বাবা?
তামান্নার বিরক্ত লাগছে,,,এত প্রশ্ন করে কেনো এই মহিলা…..
-ম্যাডাম আমি গ্রামের মেয়ে….. বাবা প্রতি হাটবার বাজারের সবচেয়ে বড় মাছটা নিয়ে বাড়ি আসতেন…. এবং আমাদের দুইবোনকে সামনে বসিয়ে রেখে মাছ কাটতেন……সেখান থেকেই শিখা…..
-ওহ… কি করেন তোমার বাবা?
-বাবা গত হয়েছেন আজ ৫বছর ম্যাডাম।
বলেই তামান্না কাটা মাছের টুকরোয় লবণ ছীটাতে লাগল….।
👇👇👇
তামান্না বর্নর রুমের সামনে দাড়িয়ে হাত ঘড়িটার দিকে তাকালো,,,,, ১১টা বাজে….. মহিলা শুধু মাছ কাটিয়েই ক্ষান্ত হন নি…. ওকে আবার চা-ও বানাতে হয়েছে…. তামান্নার এখন সবকিছু ছেড়েছুড়ে বাসায় যেতে মন চাইছে। শরীর থেকে মাছ আর ঘামের বিচ্ছিরি গন্ধ বের হচ্ছে…..ইয়াক!
কিন্তু আজ মিটিং ফাইনাল না করলেই না।
তামান্না দুইবার নক করল রুমের দরজায়…. কোন সাড়াশব্দ সাড়াশব্দ না পেয়ে… হালকা একটু ভিতরে উকি দিলো….
বর্ন জানালার ধারে বই হাতে বসে… পড়নে বোতল গ্রীন কালারের একটা ফুল স্লিভ টি-শার্ট এবং স্পর্টস ট্রাউজার। মুখে একটা থার্মোমিটার….
বর্ন দরজার দিকেই চেয়ে ছিলো… তামান্নাকে দেখে খুব কস্ট করে হাসলো… যেনো মুখ থেকে থার্মোমিটার পড়ে না যায়….
-আসবো স্যার?
মাথা ঝাকালো বর্ন।
-স্যার কিছু ফাইল ছিলো,, কয়েকজন ক্লায়েন্ট মিটিং এরেঞ্জ করতে চাচ্ছেন…………………..
স্যার আপনি কি অনেক অসুস্থ?
মাথা নাড়ালো বর্ন।
পারভিন বেগন হন্তদন্ত হয়ে বর্নর রুমে প্রবেশ করলেন,,,, থার্মোমিটার চেক করল……
-খুব খারাপ লাগছে খোকন! এখনো ১০২° জ্বর….. হাতের বই টই ফেলতো… একটু রেস্ট নিয়ে নে নাহয়…. একটু গরম দুধ নিয়ে আসি…. খাবি?
-লাগবে না মা… এভাবেই ঠিক আছি…. ডাকবো তোমায় যদি কিছু লাগে……
পারভিন বেগম তামান্নার দিকে তাকালেন
-এই মেয়ে ছেলেটার জ্বর আমার। কম প্রেসার দিও…. কয়েকদিন বস না গেলে অফিস লাটে উঠে যাবে না!!
বলেই পারভিন বেগম চলে গেলেন….বর্ন খুব সাবলীলভাবে হাসলো…..
-কেমন আছেন মিস তামান্না?
-জ্বী স্যার ভালো।
-আমি ভালো নেই মিস তামান্না….
-জ্বী,,,দেখতে পারছি স্যার।
তামান্না আর কথা বাড়ালো না। ফাইলগুলো ব্যাগে রেখে দিলো…. বেচারার অসুস্থতার সময় এতো চাপ দেওয়ার কি দরকার। কিন্তু কিছু মিটিং ফাইনাল করলো। এবং বর্নর কম্পিউটার দিয়ে কিছু ই-মেইল চেক করল এবং রিপ্লাই দিলো। বেশকিছুক্ষন একনাগাড়ে কাজ করার পর তামান্না ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখল বর্ন ঘুমিয়ে। কম্বল গায়ে জড়ানো। তামান্না একটু এগিয়ে গেলো। ঘামছে বর্ন,,,জ্বর ছাড়ছে হয়ত। তামান্না একটু দ্বিধান্বিত হলেও বর্নর কপালে হাত রেখে জ্বরটা চেক করল। নাহ!! জ্বর এখনো ভালোই আছে। তামান্না আস্তে করে কম্বলটা একটু সড়িয়ে দিলো…. ঘুরে দাড়াতেই মনে হল ওড়নায় টান লাগছে। পিছনে তাকিয়ে দেখে,,,, বর্ন দিব্বি চেয়ে আছে,,,,আর হাত দিয়ে ওর ওড়না ধরে রেখেছে….
তামান্নার হাত পা কাপতে লাগল। কোনরকমে রাগী গলা করে বলল
-কি আশ্চর্য্য!!! ওড়না ধরে কেনো টানাটানি করছেন!?…. ছাড়ুন,,,, ছাড়ুন বলছি…. এটা কোনধরনের কাজকারবার!! কেনো……………….
তামান্না কথা শেষ করার আগেই বর্ন তামান্নার ওড়না ধরে হেচকা টান মারলো….. তাল সামলাতে না পেরে তামান্না সোজা যেয়ে পড়ল বর্ন উপর…..
-মিস তামান্না আপনি সবসময় এতো রাগী রাগী হয়ে থাকেন কেনো!! বলুন তো…. সবসময় বকাঝকা…..
তামান্না মোচড়া মুচড়ি করতে লাগল…বর্ন শক্ত করে জড়িয়ে ধরল…
-আপনি জানেন না অসুস্থ মানুষকে সেবা করতে হয়… করুন তো… আমায় একটু সেবা করুন….
-ছাড়ুন
অস্ফুট স্বরে তামান্নার জবাব।
-মিস তামান্না আপনার শরীর থেকে লেবু পাতার ঘ্রান আসছে…… ওয়াই? বাট স্মেলস নাইস
বর্ন তামান্নার ঘাড়ে মুখ ডুবালো….
তামান্না এক ঝটকায় দাঁড়িয়ে গেলো…. বড় বড় পা ফেলে সোজা রুমের বাহিরে। কত্ত বড় অসভ্য এই লোক এখন জড়াজড়িতে নেমে গেছে…. এই লোককে একটা কঠিন শিক্ষা দিতে হবে…. অনেক বড় কঠিন শিক্ষা।
(আসছে)

