অদৃষ্টচর #written_by_Nurzahan_Akter_Allo #Part_03

0
66

#অদৃষ্টচর
#written_by_Nurzahan_Akter_Allo
#Part_03

সকাল থেকেই ভ্যাপসা গরম লাগছে। তাঁর উপরে রান্নাঘরে চুলার পাশে রান্না করতে হচ্ছে। রুপের আম্মুর মেজাজটা খুব বিগড়ে আছে। নিয়ান কালকে রাতে দেশের বাইরে গেল ছ’মাসের জন্য । এজন্য নিপাও মিঠিকে নিয়ে বাবার বাসায় চলে গেছে। বাসায় স্বামী তো নাই। শুধু শুধু হাড় ক্ষয় করে শাশুড়ি ননদের সেবা করতে সে নারাজ। যার জন্য এই বাসায় থাকা, সে তো আপাতত নাই। তাহলে এখানে শুধু শুধু থেকে কি করবে? নিপা বাসায় থাকলেও সে কোন কাজ করে না। কারণ কাজ করলে ওর হাতের গ্লো কমে সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। সে কাজ দেখলেই সবসময় একপ্রকার পালিয়ে বেড়ায়। তাকে নিদারুন ভাবে কামচোরা উপাধিও দেওয়া যায়। নিপা যাওয়ার পর রুপ ওর আম্মুকে টুকটাক সাহায্য করেছিলো। এজন্য উনি দ্রুত রান্নাটা করতে পারছে। আজকে কাজের বুয়াটাও আসেনি। তাই হিমশিম খেতে হচ্ছে ওনাকে।
রুপের আম্মু হাতে থাকা খুন্তিটা পাশে রেখে শাড়ির আঁচলে ঘাম মুছে বিরবির করে বললো,

–“ছেলের বিয়ে দিয়ে বউ এনেছিলাম নাকি ঘর সাজানোর জন্য মানুষরুপী শোপিছ এনেছিলাম কে জানে। কামচোর মেয়ে একটা।”

রুপের আম্মু রান্না সেরে নিলো। রুপের আব্বুকে পাঠালেন রুপকে ডাকতে। উনি এসে দেখে রুপ ঘুমাচ্ছে। মেয়েকে উনি বড্ড বেশি ভালবাসে। রুপ বাবার অন্ত প্রাণ। রুপকথা রাজ্যের রাণী গুলো অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী হয়; তেমনি রুপও। উনার বড্ড ভয় হয় মেয়েকে নিয়ে। এখন দিনকাল খুব খারাপ। কখন না জানি কি হয়! এসব নিয়ে ভাবলেই বুকটা কেঁপে ওঠে। মাঝে মাঝে অজানা এক ভয় এসে উনাকে আঁকড়ে ধরে। কারণ উনার এই পুতুল কন্যাটা নজর লাগার মতো সুন্দর। আমাদের নজর তো আগে সুন্দর কিছুতেই আটকে যায়। আমরা সুন্দরের পূজারী। যেমন কুৎসিত কিছু আমরা পায়ে পিষে ফেলি, তেমনি সুন্দর কিছু দেখলেও সেটা দুমড়ে-মুচড়ে নষ্ট না করা অবধি শান্তি পাই না। সে কোনো ফুল হোক অথবা কোনো মেয়ে। এটা অপ্রিয় হলেও সত্য। রুপের আব্বু রুপের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো,

–“আম্মাজান উঠবেন না? ওহ রুহানিয়া মা। এবার উঠে পড়ো আম্মাজান।”

–“হুম আব্বু।”

–“এখন উঠে শাওয়ার নাও মা। দুপুর লাঞ্চ করে এরপর না হয় আবার ঘুমিও।”

–“আচ্ছা আব্বু।”

এখন দুপুর সাড়ে বারোটা বাজে। আজ শুক্রবার বলে রুপ কলেজে যায়নি। নিপা আর মিঠিকে বিদায় দিয়ে, আম্মুকে সাহায্য করে এসে পড়তে বসেছিলো। একটা বই নিয়ে পড়তে পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। রুপ ওর আব্বুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। রুপের আব্বু রুপকে শাওয়ার নিতে বলে, মেয়ের মাথায় আদর দিয়ে উনি চলে গেল। রুপ ওর বইটা পাশে রেখে ওয়াশরুমে চলে গেল। রুপের আব্বু রুপকে মা, আম্মাজান আর রুহানিয়া বলে ডাকে। রুপের পুরো নাম রুহানিয়া রুপ। ওর বাবার নাম রুহানুজাম্মান। ওর বাবার নাম থেকে রুহা আর নিয়ানের নামের দুই শব্দ নিয়ে রুপের পুরো নাম রুহানিয়া রুপ। সে বাবা আর ভাইয়ের কলিজার টুকরো। এজন্য ওদের নাম মিলিয়েই রুপের নামকরণ করা হয়েছে। আর রুপ নামটা রাখা হয়েছে ও অপরুপ সৌন্দর্যের অধিকারী এজন্য।

শ্রেয়ানের আম্মু এই নিয়ে সাতবার শ্রেয়ানকে ডেকে গেল। কিন্তু শ্রেয়ানের কোনো খবর নেই। সে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। শ্রেয়ানের আম্মু রেগে গিয়ে শ্রেয়ানে গায়ে পানি ঢেলে দিলো। শ্রেয়ান ধরফরিয়ে উঠে বসলো। শ্রেয়ানের আম্মু অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। শ্রেয়ান করুণ চোখে ওর মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,

–“আম্মু কত সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিলাম। আমার এত সুন্দর একটা স্বপ্নে পানি ঢেলে দিলে।”

শ্রেয়ানের কথা শুনে ওর আম্মু আরো রেগে গেল। উনি দাঁত কটমট করে বললো,

–“কতক্ষণ থেকে তোর ফোনটা বেজে যাচ্ছে। কানে কি তুলে দিয়ে রেখেছিস? আর ঘুমালে তোর হুঁশ কই যায়? আজ বিয়ে দিলো তো কাল বাচ্চার বাবা হবি। আর এখনও তুই আমাকে জ্বালিয়ে মারিস। পরের মেয়ে আনলে কি তাকেও এভাবে জ্বালাবি?”

শ্রেয়ান আর কথা বাড়ালো না। আড়মোড়া ভেঙ্গে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো। এখন ওর আম্মুর সামনে থেকে কেটে পড়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। না হলে ঘুরে ফিরে বিয়ে, বউ, বাচ্চাতে ওর আম্মু বার ফিরে আসবে। ছেলের এমন কাজে উনি রাগে গজগজ করতে করতে রুম ত্যাগ করলো।

একজন নিউরোসার্জন ডাক্তারের চেম্বারের রুপ আর ওর আব্বু অপেক্ষ করছে। ওরা বসে আছে চেম্বারের সামনে রাখা বেঞ্চের মত চেয়ারগুলোতে। এই ডক্টরের কাছে চিকিৎসা পেতে হলে কখনো কখনো ৩/৪ মাসও লেগে যায় সিরিয়াল পেতে। উনি কখনো অযথা সময় ব্যয় করেন না। তবুও উনার পেশেন্টের সংখ্যা সর্বক্ষণ এমনই থাকে। উনি ৩ মাস হলো দেশে ফিরেছে। আড়াই মাস ঢাকাতে ছিল। এরপর খুলনাতে পোষ্টিং হয়ে এসেছে। রুপ ডক্টরের নেমপ্লেটে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো। সেখানে বড় বড় করে লিখা

–” ‘ডাঃ আদ্রিয়ান এহসান (এফসিপিএস) নিউরোসার্জন।’

একটা ছেলে সিরিয়াল অনুযায়ী নলিতা নামের একটা মেয়ের নাম ডেকে ওঠে। নলিতা রায় ওনার রিপোর্ট নিয়ে ডক্টরের চেম্বারে প্রবেশ করলো। নলিতা একবার চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিলো।

সুদর্শন একজন যুবক চেয়ারে বসে আছে। উনিই নিউরোসার্জন অাদ্রিয়ান এহসান। নলিতাকে দেখে আদ্রিয়ান উনাকে বসতে বললো। নলিতা ডক্টরের মুখ দেখে যেন রোগের কথা ভুলে গেছে। বিবাহিত একজন মহিলা হয়েও উনি বেহায়ার মত তাকিয়ে আছে। আদ্রিয়ান উনার এগিয়ে দেওয়া রিপোর্টে চোখ বুলিয়ে নিলো। রিপোর্ট দেখে আদ্রিয়ান মৃদুভাবে বললো,

–“আপনি কি পেশেন্ট?”

–“না, আমার ছোট বোন। আমি আমার বোনের জন্যই এসেছি”

–“ওহ! রিপোর্ট অনুযায়ী পেশেন্টের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আর রক্ত ক্ষরণের জন্য স্নায়ুবিক প্রবাহ সচল থাকতে পারছে না। এজন্য উনার অনেক সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা।”

–“জ্বি! নিউরোলজিস্ট সাইদুর রহমান স্যারের কাছে আমার বোনের কাছে ট্রিটমেন্ট করিয়েছি৷ উনিই আমাকে আপনার কাছে পাঠালো। এখন বোনের সুস্থতার জন্য আমাদের করণীয় কি?”

–“উনার সার্জারি করতে হবে। এছাড়া কোনো উপায় নেই।”

নলিতা কেঁদে দিলো। আদ্রিয়ান মৃদু স্বরে একজন ডক্টর হিসেবে যতটুকু বোঝানো সম্ভব, সে নলিতাকে বোঝালো। আর সার্জারি করবে কিনা এটা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বললো। নাহলে পেশেন্টের প্রাণ সংশয় দেখা দিতে পারে। নলিতা অাদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো,

–“স্যার আপনার কাছে সার্জারিটা করাতে চাচ্ছিলাম। যদি আপনি ডেটটা বলে দিতেন।”

নলিতা বুদ্ধি করেই অাদ্রিয়ানকে সার্জারি করতে বললো। কারণ ডক্টর আদ্রিয়ানে সিরিয়াল পাওয়া চারটেখানি কথা না। একবার হাত ফসকে গেলে অদ্রিয়ানের সিরিয়াল পাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।আদ্রিয়ান মৃদু স্বরে বললো,

–“আমার পূর্বের পেশেন্টের সার্জারির ডেট অলরেডি ফিক্সড হয়ে আছে। এজন্য এখন আপনাকে সঠিক ডেট টা জানাতে পারছি না। তবে আমার সহকারী আপনাকে অবিলম্বে ডেটটা জানিয়ে দিবে।”

নলিতা চোখের পানি মুছে অাদ্রিয়ানের কেবিন থেকে বের হয়ে এলো। এরপর সে অাদ্রিয়ানের সহকারীর সাথে কথা বললো। উনি জানালো আগামী চার সপ্তাহ অর্থাৎ একমাস সার্জারির ডেট ফিক্সড করা সম্ভব হচ্ছে না। অলরেডি অনেক গুলো পেশেন্টের সার্জারির ডেট ফিক্সড হয়ে আছে। নলিতা আর কোন উপায় না পেয়ে সার্জারির সিরিয়াল দিয়ে রাখলো। সিরিয়াল অনুযায়ী পরের মাসের প্রথম দিনটা ফিক্সড করা হলো।

নলিতার পর রুপের আব্বু আর রুপ আদ্রিয়ানের চেম্বারে প্রবেশ করলো। রুপের আব্বু অাদ্রিয়ানের দিকে উনার রিপোর্ট এগিয়ে দিলো। রুপ আশে পাশে চোখ বুলাচ্ছে। রুপের আব্বুর মেরুদণ্ড অপারেশন করা হয়েছিলো। কিছুদিন ধরে সমস্যা দেখা দিচ্ছিলো তাই এখানে এসেছে। আদ্রিয়ান রুপের আব্বু আরো কিছু জিজ্ঞাসা করে মেডিসিন লিখে দিলো। অাদ্রিয়ানের পেন ধরার স্টাইলটা রুপের খুব পছন্দ হয়েছে। বৃদ্ধাঙ্গুল আর শাহাদাৎ আঙ্গুল দিয়ে লিখছে। ডক্টরদের লিখা এত সুন্দর হয়, এটা নিয়ে রুপ হতবাক! কারণ সে আজ অবধি যতগুলো ডক্টরের শরণাপন্ন হয়েছে, উনাদের লিখা ছোট বেলার গ্রামীণ দৃশ্যের নদীর ঢেউয়ের মত। রুপের একটা বদ অভ্যাস আছে, কারো কোন গুন ওর ভালো লাগলো তার থেকে পারমিশন নিয়ে সেই গুনটা নিজের মাঝে রপ্ত করা। এজন্য সে আজও তাই বললো,

–“স্যার আপনার পেন ধরা স্টাইলটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আপনি পারমিশন দিলে আপনার এই গুনটা আমি নিজেও চেষ্টা করে দেখতে চাই।

আদ্রিয়ান রুপের দিকে একবার তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো,

–“অবশ্যই, কেন নয়।”

রুপ খুশি হয়ে আদ্রিয়ানকে ধন্যবাদ দিলো। আদ্রিয়ান রুপের আব্বুকে মেডিসিন গুলো খেয়ে দেখতে বললো। যদিও আর সমস্যা হওয়ার কথা না। যদি সমস্যা হয় তো আর একবার উনাকে আসতে বললো। রুপ আর ওর আব্বু বের হয়ে এলো। আদ্রিয়ান বাকি পেশেন্ট দেখতে ব্যস্ত হয়ে গেল। ডক্টর মানুষ; তার দম ফেলারও সময় নেই। উনার কাছে সময়ের মূল্য অনেক। এসব পেশেন্ট দেখে রাত আটটায় আবার ওটিতে ঢুকতে হবে। মেডিসিন গুলো নিয়ে ওরা বাসায় ফিরে এলো। হালকা নাস্তা করে রুপ ওর আব্বু-আম্মুর সাথে আবার বের হলো। ওরা এখন ওর খালামণির বাসায় যাবে। উনারা গেট থেকে বের হতেই শ্রেয়ানের সাথে দেখা হলো। শ্রেয়ান উনাদের সালাম দিয়ে কুশলাদি জানতে চাইলো। রুপের আব্বু-আম্মুও শ্রেয়ানের খোঁজ খবর নিলো৷ পাশাপাশি বিল্ডিংয়ে থাকে, সেই হিসেবে চেনাজানা আছে আর কি। শ্রেয়ান রুপের দিকে একবার তাকালো। এরপর উনাদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল। যথাসময়ে রুপরা ওর খালামণির বাসায় পৌঁছে গেল। রুপের আম্মু-আব্বু ওর খালামণির সাথে কথা বললো। রুপ ওর খালাকে সালাম দিলো। তখনই কেউ সিড়ি দিয়ে নেমে এসে ওনাদের বললো,

–“আসসালামু আলাইকুম।”

–“আরে রাহীদ। কেমন আছো আব্বু?”

–“আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি। আপনারা কেমন আছেন?”

–আমরাও ভাল আছি।”

–“রুপ কি খবর তোমার?”

–“জ্বি ভাইয়া ভালো।”

রাহীদ রুপদের সাথে কথা বলে বের হয়ে গেল। ওর জরুরী কাজ পড়ে গেছে। তবে যাওয়ার আগে রাহীদের রুপের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেলো। রুপ চোখ সরিয়ে রাহীদের ভাই রাহাতের সাথে কথা বলাতে মগ্ন হয়ে গেল। রুপ কেন জানি রাহীদের চোখের দিকে তাকাতে পারে না। ওর চোখে চাহনি কেমন জানি লাগে রুপের কাছে। চোখ নাকি মনের কথা প্রকাশের আরেকটা মাধ্যম। তাহলে কি রাহীদ রুপকে কিছু বোঝাতে চাই? নাকি এটা রুপের ভুল ধারণা। রাহীদের রুপকে কি বা বলার আছে? আগে তো খালাতো ভাই-বোন হিসেবে ওদের অনেক গল্প, আড্ডা, খুমশুটি হতো। এখন দিন দিন কেন জানি সম্পর্কটাতে দূরত্ব বেড়ে গেছে। নাকি বড় হওয়ার সাথে সাথে সম্পর্কগুলোর ভীত আপনাআপনিই নড়ে যায়? আর এমন হওয়াটা স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক? এই প্রশ্নের উত্তর রুপের জানা নেই। তাই এই ব্যাপারটা আপাতত মাথা থেকে বের করে ফেললো।

ওইদিকে সবুজের মামা আসাদের আঁকানো চিহ্নটা দিয়ে গোয়েন্দারা সমাধান খুঁজছে। অদ্ভুত এক চিহ্ন যেটার কোনো মানেই খুঁজে বের করা যাচ্ছে না। আসলেই কি এই চিহ্নের কোনো মানে আছে? নাকি পাগলের পাগলামি বলে গণ্য করা উচিত হবে? এটা নিয়েই সবাই চিন্তিত। সবুজের চাচা পুলিশের বড় অভিসার পদে নিযুক্ত আছেন৷ এজন্য উনি সবুজের খুনিকে ধরার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। কে সেই খুনী? কার এত বড় সাহস উনি দেখতে চান। উনি সেই নিষ্ঠুর খুনীকে পেলে তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টদায়ক মৃত্যু দিয়ে মারবে বলে ঠিক করেন।

To be continue…..!!
(কেমন হচ্ছে জানাবেন, ধন্যবাদ।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here