অপূর্ণ_প্রেমগাঁথা #The_Mysterious_Love #আনিশা_সাবিহা পর্ব ২২

0
857

#অপূর্ণ_প্রেমগাঁথা
#The_Mysterious_Love
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ২২
চারিদিকে আযান পড়ছে। ভোরের আলো এখনো ফোটেনি। একটু নড়েচড়ে ওঠে মাধুর্য। চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় চোখমুখ কুঁচকে যায় তার। কেউ তাকে জোরে চেপে ধরে আছে সেটা বুঝতে পারে সে। তাকে জড়িয়ে থাকা মানুষটির বুকে হাত রেখে সরে আসতে চায় মাধুর্য। কিন্তু মানুষটি বোধহয় তাকে ছাড়তে চায় না। একরাশ বিরক্তি নিয়ে চোখ খোলার চেষ্টা করে মাধুর্য। নিজের ফোলা ফোলা চোখে তাকাতে সক্ষম হয় সে। মাথা উঠিয়ে অনুভবকে দেখে চোখ থেকে ঘুম ছুটে যায় তার। ধড়ফড়িয়ে উঠে বসার চেষ্টা করতেও পারে না। অনুভব তার হাতের দুটো বাঁধন দিয়ে সুন্দর করে ধরে দেয়ালে ঠেস লাগিয়ে ঘুমোচ্ছে। ঘুমন্ত চেহারা দেখে বড্ড মায়া হলো মাধুর্যের। ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করল অনুভবের কপাল। হাতটা বাড়িয়ে নিয়ে যায় মাধুর্য অনুভবের গালের দিকে। গালে যখন হাত রাখতে যাবে তখনই মনে পড়ে গতকাল রাতের কথা। নামিয়ে নেয় নিজের হাত। ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজেকে ছাড়াতে।

মাধুর্যের নড়াচড়াতে ঘুমে বিঘ্ন ঘটে অনুভবের। ঘাড় এপাশ-ওপাশ ঘুড়িয়ে খানিকটা চমকে চোখ খোলে সে। ওর হাতের বাঁধন আলগা করার শত চেষ্টা করে চলেছে মাধুর্য। তাকে কষ্ট করতে না দিয়ে অনুভব নিজেই খুলে দেয় হাতটি। মাধুর্য দুই হাত দূরে গিয়ে হাত দিয়ে ভর রেখে বসে অনুভবের দিকে তাকায়। চোখজোড়া গাঢ় লাল হয়ে গিয়েছে লোকটির। মুখটা লাগছে শুকনো শুকনো। গোলাপি আভায় আবৃত ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। মুখ ফিরিয়ে নেয় মাধুর্য। তার আর কোনো অধিকার নেই মানুষটাকে এতো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার। গলা খাঁকারি দিয়ে সে বলে ওঠে….
–“আপনি এখানে এইসময়?”
অনুভব নিজের শার্ট ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে দাঁড়ায়। ঘুম জড়ানো গলায় বলে ওঠে…..
–“কাল রাতে এলিনা আমাকে ফোন করেছিল। তুমি রাতে ভীষণ কাঁপছিলে। তাই এসেছি।”
–“কিন্তু এভাবে আমাকে জড়িয়ে রাত কাটিয়ে দেওয়া বিষয়টা বেশ আপত্তিকর অনুভব। আপনি পারতেন সামিহা আপুকে ফোন করতে।”
মাধুর্যের কন্ঠে গম্ভীরতা। তার উদ্ভট ব্যবহারে বিস্মিত চোখে তাকায় অনুভব।

–“এমন করছো যেন আগে আমরা একসঙ্গে সময় কাটাই নি।”
আবারও মাধুর্য পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেয়….
–“আগের কথা আর এখনকার কথায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আপনার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আমার বেস্টফ্রেন্ড কবিতার সাথে। আমি চাই না ও কোনোরকম ভাবে আমাকে ভুল বুঝুক। তাই জন্যই বলছি আগের কথা আর এখনকার কথা অনেক আলাদা।”
চোখ বড় বড় করে তাকায় অনুভব। ও যা ভেবেছিল অবশেষে তাই হলো। কবিতায় সে যার সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। তবে মাধুর্যের অদ্ভুত ব্যবহার মানতে পারছে না সে। তার বলা প্রত্যেকটা কথা অনুভবের মস্তিকে আঘাত হানে। কিন্তু কি করবে সে? কিছু কি করার আছে? ও পারবে না অন্য কাউকে বিয়ে করতে। অনুভবের বুক চিরে বেরিয়ে আসতে চাইছে তার মনের কথাগুলো। তার সামনে থাকা প্রেয়সীকে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে….
–“কি করব আমি? আমাকে কোনো পথ দেখাও মাধুর্য। এভাবে আমি বাঁচতে পারব না। শুনেছি, অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সবটা কেন ব্যতিক্রম হচ্ছে? কি দোষ করেছি আমি?”
হাহাকারে ভরে আসে অনুভবের ভেতরটা। ধীর গলায় বলে…..
–“আমি আসছি।”

নিজের গতিতে বেরিয়ে যায় অনুভব। মাধুর্য স্তম্ভিত হয়ে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে। সবটা হাতে বাইরে চলে গেছে। কিছু করার নেই। শান্ত হয়ে ওয়াশরুমে ঢোকে সে।
নামাজ সেরে বাইরে আসতেই মাধুর্য খেয়াল করে ওর হাত-পা হার হিম করা ঠান্ডা হয়ে রয়েছে। নিজের গলা মুখে হাত রাখে মাধুর্য। তার পুরো শরীর একইরকম ঠান্ডা। যেন সে কোনো সাধারণ মানুষ নয়। কোনো আস্ত বরফ। বেশ খানিকটা চিন্তিত হয়ে বাইরে লিভিং রুমে আসে মাধুর্য। এলিনা সবে মাত্র নামাজ পড়ে সোফায় বসেছে। মাধুর্যকে দেখে প্রশ্ন করে ওঠে….
–“এখন কেমন লাগছে তোমার?”
–“হুমম ভালো। কালকে কেন অনুভবকে ডেকেছিলে এলিনা? ডাকার দরকার ছিল না।”
মাধুর্য বিক্ষিপ্তভাবে কথাটা বলতেই আমতা আমতা করতে শুরু করে এলিনা।
–“একা কি করব বুঝতে পারিনি। তাই….”
–“যদি বুঝতে না পারতে তাহলে আমাকে সেভাবেই রেখে দিতে। আমি তো ঠিক হয়েই গেছি। এমনিই ঠিক হয়ে যেতাম।”
মাধুর্যের কন্ঠে এক পাহাড় সমান অভিমান এবং কষ্ট বুঝতে দেরি হলো না এলিনার। কোনো জবাব না দিয়ে মাধুর্যের মুখের দিকে নির্বিকার ভাবে চেয়ে রইল সে।

অফিসের কেবিনে ফোন নিয়ে পায়চারি করেই চলেছে অনুভব। তার চোখেমুখে অস্থির ভাবটি ফুটে উঠেছে। ফোন অন করে অনেক ভাবনাচিন্তা করে কল করে কবিতার নম্বরে। গতকাল কবিতা নিজে থেকে তাকে ফোন করেছিল মাধুর্য কোথায় থাকে তা জানতে। অনেক খুঁজে খুঁজে সে পেয়েছে কবিতার নম্বর। নাকের ডগায় বিন্দু বিন্দু ঘাম চিকচিক করছে অনুভবের। ওপাশ থেকে কল রিসিভড হয়। তড়িঘড়ি করে অনুভব বলে ওঠে….
–“হ্যালো? কবিতা বলছো?”
ওপাশে কবিতার হাত কাঁপছে। যতই হোক মানুষটি এখন ওর হবু বরে পরিণত হয়েছে। লজ্জা পাওয়া স্বাভাবিক। মিইয়ে যাওয়া সুরে বলে….
–“জ্বি!”
–“শুনলাম তুমি বিয়েতে রাজি। তুমি মন থেকে রাজি?”
–“জ্বি। আমার বাবা নেই। অনেক আগেই আমার মাকে ছেড়ে চলে গেছেন অন্য কারো হাত ধরে। মা-ই আমার সব। মা আপনাকে যথেষ্ট পছন্দ করেছেন। আমিও রাজি।”

অনুভব বিরক্তির শ্বাস ছাড়ে। কবিতা নামক মেয়েটির ওপর ভীষণ রাগ হচ্ছে তার। নিজে রাজি বললেই হলো। অন্যদিকে ছেলে মন থেকে রাজি কি না তা জানতে চাওয়ার কোনো হেলদোল নেই। চাপা গলায় অনুভব বলতে নেয়….
–“ওকে। তুমি রাজি কিন্তু আমি রাজি কি না তা জানার চেষ্টা করছো কখনো?”
–“আপনি রাজি। সেটা তো কাল জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল না? চেষ্টা করতে যাব কেন?”
অবাক সুরে বলে ওঠে কবিতা। তখনই অনুভবের কেবিনে প্রবেশ করেন প্রণয়। অনুভবের কথাবার্তা শুনে মনে হলো সে কবিতাকে বেফাঁস কিছু বলতে চলেছে। দ্রুত গিয়ে আচমকা ফোনটা অনুভবের থেকে কেঁড়ে নিয়ে কল কেটে দেন প্রণয়। রাগে কটমট করে পেছন ফিরে তাকায় অনুভব। নিজের চাচ্চুকে দেখে জোরে বলে ওঠে….
–“চাচ্চু! ফোনটা কেঁড়ে নিলে কেন? আর কেবিনে ঢোকার সময় নক করে আসোনি কেন?”

–“কেন নক করে এলে ফোনটা কেটে দিতি আর আমি জানতে পারতাম না তুই কবিতাকে ফোন করেছিস। এটাই তো?”
বিষাদ মাখা মুখে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে অনুভব। প্রণয় শান্ত কন্ঠে বলেন….
–“অনুভব, তোকে এই বিয়ে করতে হবে। তোর বাবা বলেছিল তো? তোর ভালোর জন্য বিয়েটা করতে হবে।”
–“তাহলে শুধু কবিতাকেই কেন চাচ্চু? তোমরা বোধহয় ভুলে যাচ্ছো কবিতা একজন মানুষ।”
–“মানুষ জন্যই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কারণ ভাবনা কে তা আমরা আদোও জানি না। আর মানুষের ভালোবাসা পেলে তোর মাঝে যে শয়তান সত্তা রয়েছে তা বিলীন হতে পারে অনুভব।”
অনুভব চেঁচিয়ে বলল….
–“দরকার নাই শয়তান সত্তা বিলীন হবার। আমি চাই না কারো ভালোবাসা চাচ্চু। আমি শুধু একজনেরই ভালোবাসার কাঙাল ছিল আর আছি সে আমার ভাবনা। তার থেকে আমাকে দূরে করে দিচ্ছো। আই হেট ওল ওফ ইউ। প্লিজ গো!”
প্রণয় কিছু বলতে গিয়েও বলে না। এই ছেলে এখন কিছুই মানবে না নিজের কথা ছাড়া। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বেরিয়ে আসেন উনি।

সময় জিনিসটা নদীর স্রোতের মতো। স্রোত যেমন সারাজীবন বহমান থাকে তেমনই সময়ের ক্ষেত্রেও তাই। সময় একবার পেরিয়ে গেলে তা হাজার সাধনা করেও ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। চোখের পলকেই কেটে গেছে আট দিন। রাত পেরোলেই বিয়ের বাজনা বাজবে মাধুর্যের ভালোবাসার মানুষটির এবং তার প্রিয় বান্ধবীর। নিজের ভাগ্যকে খুব সহজেই মেনে নিয়েছে মাধুর্য। সে বুঝে গিয়েছে ‘অনুভব সিনহা নামক মানুষটি তার ভাগ্যেই নেই।’

কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে ছোট ছোট ধাপ ফেলে হাঁটছে মাধুর্য। আকাশে গোল থালার মতো চাঁদ উঠেছে। আজ পূর্ণিমা। অফিস থেকে ফিরছে সে। কাল অনুভবের বিয়েতে ইনভাইটেশন পেয়েছে তার স্যার প্রলয়ের থেকে। তবে মাধুর্য ঠিক করেছে সে যাবে না। কারণ সে মেয়েপক্ষ। কবিতা ওর কাছে বায়না ধরেছে তাকে বউ সাজিয়ে অনুভবের সামনে মাধুর্যকেই নিয়ে যেতে হবে। মাধুর্যও মানা করতে পারেনি। চারিপাশে গাছের কারণে চাঁদ ঠিকঠাক দেখা যাচ্ছে না। যেই গাছপালার পর্ব শেষ হয় তৎক্ষনাৎ তার ওপর চাঁদের আলো পড়ে। এক অন্যরকম অস্বস্তি হতে শুরু করে মাধুর্যের। মাথা ঘুরে ওঠে তার। আজ সন্ধ্যা থেকেই ওর কেমন জানি লাগছে। এক অন্যরকম অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। চাঁদের দিকে তাকায় সে। তার চোখ সবুজ বর্ণের হয়ে আসে। আস্তে আস্তে ফুটে ওঠে তার হাত পায়ের রগ। হুট করেই বড় হয়ে যায় তার হাতের নখগুলো। ঠোঁটের দুদিকে বেরিয়ে আসে দুটো সরু ও চিকন দাঁত। হা করে মাধুর্য। কাঁধ থেকে পড়ে যায় ব্যাগ। অবাক করা বিষয় হচ্ছে আজ সবকিছুই ওর সঙ্গে সজ্ঞানে হচ্ছে। ও সব দেখতে পাচ্ছে। ভয়াতুর দৃষ্টিতে নিজের হাতের দিকে তাকায় মাধুর্য।
–“এ…এ কি হচ্ছে আমার সা…সাথে?”

নিজের গালে হাত বুলায় মাধুর্য। প্রচন্ড তৃষ্ণার্ত অনুভব করে সে। গলায় হাত দেয়। নিজের ওপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে মাধুর্য। টলতে টলতে ঝোপের ভেতরে ঢুকে আসে সে। অস্পষ্ট চোখের সবকিছু ঝকঝকে এবং স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাত হওয়া সত্ত্বেও সবটা দেখতে পায় মাধুর্য। তার থেকে কিছু দূরে দেখতে পায় সেই রহস্যময় কুয়ো টা। যেই এগুতে নেবে তখনই পায়ের কাছে ভাঙা আয়নার টুকরো পায় মাধুর্য। নিজের চেহারা দেখতে হালকা ঝুঁকে পড়ে সে। নিজের এমন ভয়ঙ্করী রুপ দেখে আঁতকে ওঠে। কানে হাত রেখে বলে….
–“এটা আমি না। আমি এমন নয়। হতে পারি না এমন।”
চিৎকার দিয়েও সব সত্যিটা পাল্টায় না। সে আজ সজ্ঞানে আসল রুপে এসেছে। আজ থেকেই তাকে মেনে নিতে হবে সে একজন ভ্যাম্পায়ার। একটা সময় ভয়ানকভাবে হুংকার দিয়ে ওঠে মাধুর্য। তার হুংকারে কেঁপে ওঠে আশেপাশের পরিবেশ। তৃষ্ণা মেটানোর জন্য কোনো কিছু না পেয়ে সেখানই ক্লান্ত হয়ে পড়ে মাধুর্য। একসময় গা এলিয়ে ধপ করে পড়ে যায় মাটিতে।

এলিনা কোনোরকমে এনে মাধুর্যকে বিছানায় শুইয়ে দেয়। এলোমেলো হয়ে শুয়ে পড়ে মাধুর্য। এলিনা বাইরে এসে অনুভবকে ইশারা করে। অনুভব মাথা নাড়িয়ে গাড়ি করে চলে যায়। নিজের রাজ্য থেকে কুয়োর মাধ্যমে বের হতেই অনুভবের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি গিয়েছিল অবচেতন মাধুর্যের দিকে। একপ্রকার ভয় পেয়ে দৌড়ে মাধুর্যের কাছে আসে অনুভব। দেখে ওর শ্বাস এখনো চলছে। কিছুটা নিশ্চিন্ত হয় সে। তবে আন্দাজ করতে পারে মাধুর্য হয়ত নিজের রুপে আবারও এসেছিল। তাই ওকে সাবধানে ঘরে পৌঁছে দেয় অনুভব। তবে নিজে মাধুর্যের সামনাসামনি হবে না বলে আর এক মূহুর্তও অপেক্ষা করেনি সে। কারণ মাধুর্য তাকে এড়িয়ে চলে। সামনাসামনি হলেই বার বার চলে যেতে চায়। অনুভব ভেতর থেকে প্রচন্ড ভেঙে পড়েছে মাধুর্যের এই ব্যবহারে। মাঝে মাঝে তার ভালোবাসার মানুষের কোলে মাথা রেখে মন খুলে কাঁদতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেই অধিকার যেন ছেলেদের দেওয়া হয়নি। ছেলেদের নাকি কাঁদতে নেই। অন্তরে সবরকম যন্ত্রণা, কষ্ট চেপে রাখতে হয়। অনুভবও সবটা চেপেই রাখছে ভেতরে। তবে এখনো একটা ক্ষীণ আশায় বেঁচে আছে সে। বিশ্বাস করছে তার নিষ্ঠুর ভাগ্যের ওপর। ভাগ্য তাকে ফেরাবে না।

আধো আধো ভাবে চোখ মেলে মাধুর্য। নিজের ভয়ঙ্কর রুপ মনে পড়তেই মৃদু চিৎকার দিয়ে উঠে বসে সে। সেই চিৎকারে হন্তদন্ত হয়ে হাতে একটা গ্লাস নিয়ে ঘরে আসে এলিনা।
–“তোমার জ্ঞান ফিরেছে? কেমন আছো এখন?”
এলিনাকে দেখে গুটিশুটি হয়ে বসে পড়ে মাধুর্য। তার মস্তিষ্কে একটা কথায় ঘুরতে থাকে, সে সাধারণ মানুষ নয়। সে ভয়ানক কোনো প্রাণী। এলিনার থেকে তার দূরে থাকতে হবে। এলিনা ভ্রু কুঁচকায়। ক্ষীণ গলায় বলে….
–“কি হয়েছে? এমন করছ কেন? ঠিক আছো তো?”
–“হ্যাঁ আমি ঠিক আছি।”
থেমে থেমে জবাব দেয় মাধুর্য। এলিনা তার দিকে গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলে….
–“এই নাও এটা খেয়ে নাও। ভালো লাগবে। এটা তোমার দরকার।”
দ্রুত গ্লাস নিয়ে মাধুর্য এলিনাকে ইশারা করে।
–“হুহ। খেয়ে নেব। যাও।”
এলিনার বিষয়টা অদ্ভুত লাগে। তবে প্রকাশ করে না। গ্লাসে অনুভব কিছুটা রক্ত মেশাতে বলেছিল শরবতের সঙ্গে। যার কারণে শরবতের রঙ লাল হয়েছে। অনুভবের ধারণা মাধুর্য অতিরিক্ত রক্তের পিপাসার কারণে নিজের আসল রুপে আসতে বাধ্য হয়েছিল। তাই এলিনাকে সেই কাজটা করতে বলেছে সে।

শরবত হাতে নিয়ে প্রথমে নাক শিটকায় মাধুর্য। এক মূহুর্তেই শরবতের মধ্যে থেকে এক অদ্ভুত ঘ্রাণ আসতেই চোখ বন্ধ করে ফেলে সে। এক ঢকে খেয়ে ফেলে সমস্ত রক্ত মেশানো শরবত। মিটে যায় তার তৃষ্ণা। অনুভব করে এক তৃপ্তি। উঠে দাঁড়ায় সে। মনে হয় অনুভবের কথা। কাল ওর বিয়ে। সবটা কেমন জানি শুরুতেই ভেঙে গেল। আয়নায় সামনে গিয়ে দাঁড়ায় সে। নিজের চোখমুখে হাত বুলিয়ে আপনমনে বলে….
–“কি আমি? কি আমার আসল পরিচয়?”

চলবে…..🍀🍀
বি.দ্র. ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here