#অপূর্ণ_প্রেমগাঁথা
#The_Mysterious_Love
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ২৮
অনুভবের চলতে চলতে মনে হয় পেছনে কেউ আছে। তার পায়ের ধাপ ফেলার শব্দ কানে আসছে অনুভবের। চলা থামিয়ে শুনতে থাকে পায়ের আওয়াজ। তবে তার থামার সঙ্গে পায়ের আওয়াজটাও থেমে যায়। দ্রুত পেছন ফিরে তাকায় সে। কাউকে দেখতে না পেয়ে তীক্ষ্ণ চোখে আশেপাশে তাকায় অনুভব। তার চোখের রঙ ক্রমশ সবুজ বর্ণ ধারণ করে। জ্বলজ্বল করে তার চোখের মণি। বড় বড় ঘন শ্বাস ফেলছে সে। কাল থেকে একফোঁটা রক্তও তার গলায় পৌঁছে নি। রক্ত পিপাসু জীবের জন্য এটা কতটা ক্ষতিকর সেটা একমাত্র তারাই জানে। আজ রাত রক্ত না পেলে আধমরা হয়ে পড়বে সে। সামনে ফিরে এবার দ্রুত গতিতে হাঁটতে শুরু করে অনুভব। মাধুর্য আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে কপালে ভাঁজ ফেলে বলে….
–“এতো রাতে বাড়ি থেকে কোথায় যাচ্ছেন উনি? আমার কেন মনে হচ্ছে উনি আমার থেকে কিছু একটা লুকোচ্ছেন?”
কথাগুলো বলতে বলতে মাধুর্য লক্ষ্য করে অনুভব বিদ্যুৎ এর গতিতে চলছে। এই কালো অন্ধকার রাতে নিজে জড়োসড়ো হয়ে অনুভবের মতোই দ্রুত হাঁটতে শুরু করে মাধুর্য।
অনেকটা পথ পেরোতেই মাধুর্যের খেয়াল হয় সে জঙ্গলে ঢুকে পড়েছে। সে চলতে গেলে শুকনো পাতার অদ্ভুত শব্দ তৈরি হচ্ছে। একটা শুকনো ঢোক গিলে তাকায় মাধুর্য। অনুভব এখনো হেঁটেই চলেছে। মাধুর্যও নিজের চলা থামায় না। এক পর্যায়ে সেই রহস্যময় কুয়োর কাছে এসে দাঁড়ায় অনুভব। নিজের চোখমুখের ঘাম মুছে আবারও আশপাশটা লক্ষ্য করে সে। মাধুর্য গাছের আড়ালে লুকিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। তার চোখ আচমকা খুলে যায় এক বিকট চিৎকারে। পাতা সরিয়ে নিজের চোখজোড়া অনুভবের দিকে দিতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার। অনুভবের বড় বড় নখ, ফর্সা শরীরে রগ গুলো বেরিয়ে আসার উপক্রম আর দুইদিকে বড় বড় দাঁত বেরিয়ে গেছে। তার সর্বাঙ্গে কাঁপুনি ধরে যায় স্বামীর এই রুপ থেকে। কাঁপতে কাঁপতে পিছিয়ে যায় সে। নিজের হাতজোড়া সিঁটিয়ে ধরে কম্পিত গলায় বলে….
–“এ…এই রুপ! মানে অনুভব কোনো সাধারণ মানুষ নন। এমন তো আমারও হয়েছিল। উনিও আমার মতো ভ্যাম্পায়ার।”
নিজের চোখজোড়ায় হাত বুলায় মাধুর্য। নিজের চোখজোড়াকেও বিশ্বাস হচ্ছে না তার। বারংবার মনে হচ্ছে চোখ তাকে ধোঁকা দিচ্ছে।
অনুভব পাগলের মতো আচরণ শুরু করেছে।
–“রক্ত। রক্ত চাই। নয়ত আজই আমি শেষ।”
কিছুক্ষণ এদিক ওদিক উম্মাদের মতো হাঁটাহাঁটি করতে থাকে অনুভব। সে চাইলেই রাস্তায় থাকা যেকোনো মানুষের রক্ত এক মূহুর্তে শুষে নিতে পারত। কিন্তু এটাতে ওর অধিকার নেই। কোনো সাধারণ মানুষের প্রাণ নিজ হাত কেঁড়ে নিতে পারে না সে। এটা ভারি অন্যায়। একসময় কুয়োর ভেতর নেমে যায় সে।
তা দেখে বিস্ফোরিত নয়নে তাকায় মাধুর্য। তার বিস্ময়ের স্তর আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়ায়। তার পা অবশ হয়ে আসছে। না চাইতেও নিজেকে শক্ত করে মাধুর্য। ও আজ এতোটুকু বুঝেছে, ওই কুয়োর নিচে এক আলাদা জগতের সাথে অনুভবের কোনো সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু অনুভবকে এখনো ভুল বোঝে নি মাধুর্য। কারণ অনুভবের মতো সেও নিজের আসল অস্তিত্ব না জানিয়ে অনুভবকে বিয়েটা করেছে। মনে সাহস জুগিয়ে কুয়োর কাছে আসে মাধুর্য। খুব সাহস করে চোখমুখ খিঁচে নেমে পড়ে সে। তার ভরসা অনুভব যখন নামতে পেরেছে সেও পারবে। হলোও তাই। মাধুর্য নিজেকে আবিষ্কার করে এক অন্য রাজ্যে। চোখ খুলে যেন কল্পনার রাজ্য আবিষ্কার করে সে। মাথার ওপর সূর্য উঠেছে। তবে তা মেঘে মুখ লুকিয়ে আছে। যাক ভালোই হয়েছে। নয়ত তার গায়ের চামড়া লাল বর্ণ ধারণ করতো।
পাশেই একটা নদী। যার পানি ঝকঝকে কাঁচের মতো পরিষ্কার। নিচে রঙবেরঙের মাছ সাঁতার কাটছে। সবটাই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কি সুন্দর দৃশ্য! তার মুখ থেকে আপনাআপনি বেরিয়ে এলো….
–“নদীও এতোটা সুন্দর হয়? এ কোন জগত?”
আশেপাশে তাকিয়ে কয়েকটা গাছপালার আচ্ছাদন আবিষ্কার করে মাধুর্য। গাছগুলোও অদ্ভুত সুন্দর। গাছের সবুজ পাতা চিকচিক করছে। দুটো গাছের ওপর হালকা গোলাপি ফুলগুলো শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে। মাঝে মাঝে হালকা হাওয়ায় ফুলগুলো নিচে পড়ে সুন্দর একটা ফুলের রাস্তার মতো তৈরি হয়েছে।
–“আচ্ছা প্রথম বার যখন এসেছিলাম তখন রাত ছিল। কিন্তু আমাদের ওখানে দিন ছিল। আর এখন এখানে দিন আর ওখানে রাত। তাহলে কি এটা সত্যিই এক অন্য জগত?”
একপা দুইপা করে এগুতে এগুতে এই প্রশ্নগুলো জাগে মাধুর্যের মনে। হঠাৎ তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে তার স্বপ্নে আসা মেয়েটি। মাথায় একটা অসহ্যকর ব্যাথা জেগে ওঠে। মাথা ধরে চোখমুখ খিঁচে দাঁড়ায় মাধুর্য। মাথাব্যাথা সইতে না পেরে বসে পড়ে গাছের নিচে। এবার ওই অচেনা মেয়েটার সঙ্গে অনুভবের কিছু কাছাকাছি দৃশ্যও ফুটে উঠছে। অস্ফুটস্বরে বলে ওঠে…..
–“অনুভব! প্রিন্স অনুভব!”
আজ থেকে প্রায় ৪৯ বছর আগে এই ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে ভ্যাম্পায়ার গমগম করত। আশেপাশে ছিল সুখ ও খুশির আমেজ। সবার মুখে সবসময়ের জন্য হাসি লেগে থাকত। তাদের খুশির প্রধান কারণ ছিল তাদের কিং প্রলয়ের সকল সিদ্ধান্ত। সব প্রজাকে কি করে ভালো রাখতে হয় উনি তা ভালোমতোই জানতেন। উনার একমাত্র ছেলে ভ্যাম্পায়ার প্রিন্স অনুভব বড় হয় মানুষের জগতে। শুধুমাত্র শিক্ষার জন্য সকল ছেলেমেয়েদের মানুষের জগতে বসবাস করানো শিখানো হতো। অনুভবসহ তার কাজিনরাও তার সঙ্গে মানুষের জগতেই বড় হয়। যারা ছিল প্রণয় এবং রায়মার সন্তান। তাদের দুটো ছেলে ছিল। নাম ছিল ফারহান এবং জীবন।
অন্যদিকে ভাবনা ছিল এক সাধারণ ভ্যাম্পায়ার। নিজের মায়ের সঙ্গে একা বাস করত সে রাজমহলের ঠিক বাইরের কিছু আলিশান ঘরে। তার কারণ ভাবনার বাবা একসময় সেনাপতি ছিলেন। যিনি ওয়ারওল্ফের সঙ্গে যুদ্ধে মারা যান। তারপর থেকে ভাবনা এবং তার মায়ের দায়িত্ব নেয় কিং প্রলয় নিজেই। ভাবনার সৌন্দর্য ছিল এমনই যা বর্ণনা করতে গেলেও বোধহয় শেষ হবার নয়। অনেকে তো তার সৌন্দর্য দেখার পর বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে এক দেখাতেই। কিন্তু তার মা রাজি হন নি। এতো তাড়াতাড়ি নিজের মেয়েকে বিয়ে দিতে চান না উনি। কারণ উনার মেয়ে ছাড়া কেউ নেই।
এভাবেই চলছিল দিন। একদিন হুট করেই প্রিন্স অনুভব সহ তার বন্ধুবান্ধব এবং ভাইদের প্রবেশ ঘটে ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে। মুখরিত হয়ে ওঠে ভ্যাম্পায়ার রাজ্য। অনুভবের মা ভ্যাম্পায়ার কুইন ইরিনা এবং তার বাবা ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছেলের আগমনে। রাজ্যের প্রায় সকলে ছুটে আসে প্রিন্স অনুভবকে দেখতে। সেদিন বিকেলে একা ঘোড়া নিয়ে বের হয় অনুভব। এতোদিন পর নিজের রাজ্যে ফিরেছে আর আশপাশটা দেখবে না তা কি কখনো হয়?
ঘোড়া এক জায়গায় এসে থামিয়ে দেয় অনুভব। নিচে নেমে পড়ে সে। সামনেই রয়েছে নদী। নদীর সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে শনশন বাতাস অনুভব করে সে। জায়গাটাই প্রচন্ড হাওয়া দিচ্ছে। নিচে নানানরকম মাছ দেখে হালকা নিচু হয়ে পানি ছুঁইয়ে দেয় অনুভব। এই নীল চোখজোড়ার জন্য সবার চেয়ে আলাদা সে। তার এই নীল চোখজোড়া ঘায়েল করতে সক্ষম রাজ্যের মেয়েদের। দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে অনেকে এই প্রিন্স কে বিয়ে করতে। কিন্তু কাউকেই মনে ধরে না অনুভবের। এখানে আসার পর পরই তার মা বেশ জেদ শুরু করেছে বিয়ে দেওয়ার জন্য। বয়স তো ছেলের কম হয়নি। ২৭ পেরিয়ে ২৮ বছর হয়েছে তার। এবার ছেলের বিয়ে না দিয়ে কিছুতেই দমবেন না কুইন ইরিনা।
কালকে বেশ কয়েকজন মেয়েদের ডাকা হয়েছে। অনুভবের যাকে মনে ধরবে তার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় এঁটেছেন কুইন ইরিনা। অনুভব বিরক্তির শব্দ করে পানিতে হাত দিয়ে দূটে ছিটিয়ে দেয়।
–“মা যে কি করে! হুটহাট করে যাকেতাকে কি করে বিয়ে করি?”
থম মেরে কিছুক্ষণ বসে থাকতেই তার কানে আসে একটা হাসির আওয়াজ। চোখজোড়া নদীর স্রোতের দিকে স্থির করে কান পেতে শোনে হাসির শব্দটা। মন মাতিয়ে ফেলছে সেই হাসির আওয়াজ। আবেশে চোখ বন্ধ হয়ে আসে তার। হৃদয়ে খেলে যায় উথাল-পাতাল ঢেউ। একটা মেয়ে খিলখিল করে হাসছে। হুঁশে ফিরে এসে সোজা হয়ে দাঁড়ায় অনুভব। মনে মনে ভাবতে থাকে কোথা থেকে আসছে এই হাসির আওয়াজ? আওয়াজে অনুসরণ করে এগিয়ে আসে অনুভব। গাছপালার আচ্ছাদন থেকে বেরিয়ে আসতেই আবিষ্কার করে ফুল লতাপাতায় ঘেরা এক অসম্ভব সুন্দর বাগান। চোখ ধাঁধিয়ে যায় তার।
–“এই বাগান তো আগে কখনো দেখিনি। এখান থেকেই আসছে সেই হাসির আওয়াজ। যা আমাকে অস্থির করে তুলেছে।”
বাগানের সামনে ঘাসের মতো গেট দিয়ে ভিড়িয়ে দেওয়া। এককথায় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ! প্রচন্ড কৌতুহল নিয়ে অনুভব ঘাসের গেট খুলে ভেতরে আসে। কয়েকধাপ হাঁটতেই শুনতে পায় গুনগুন গানের আওয়াজ। যেই আওয়াজ অনুভবের কানে নয় হৃদয়ে গিয়ে করাঘাত করে। সামনে তাকাতেই একটি মেয়েকে দেখতে পায় সে। হালকা গোলাপি রঙের লম্বা ড্রেস পড়ে আছে সে। নিচে মাটিতে তার জামার অনেকাংশই লুটিয়ে আছে। হালকা লাল রঙের মন মাতানো তার চুলের রঙ। রিনরিনে মিষ্টি কন্ঠ। অনুভবের ভেতরে বাসনা জাগে সামনে থেকে মেয়েটাকে দেখতে। কে সেই মেয়ে? যে তার মনে ঝংকার তুলতে চাইছে? একসময় অনেকটা কাছে চলে আসে অনুভব। মেয়েটার শরীর থেকে পায় এক মাতাল করা ঘ্রাণ। যেটাতে অনুভব মূহুর্তেই আসক্ত হয়ে পড়ে।
গাছে গাছে পানি দিতে ব্যস্ত ভাবনা। তার ডাগরডাগর আঁখি জোড়াতে খুশি স্পষ্ট। ঠোঁট নাড়িয়ে গুনগুন করে গাইছে সে। আর মাঝে মাঝে পাশের গাছের ডালে থাকা তার প্রিয় বিড়াল পিকুর দিকে তাকাচ্ছে।
–“দেখ পিকু, ফুলগুলো কত সুন্দর না? দেখ কাঁদিস না। ফুলগুলো দিয়ে তোকেও সাজিয়ে দেব। যদিও তুই ছেলে বিড়াল। সমস্যা নেই তুই আমার কাছে একের ভেতর দুই।”
অনুভবের হাসি পেয়ে যায় ভাবনার কথাগুলো শুনে। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাসে সে। গাছে পানি দিতে দিতে হঠাৎ পেছনে কারো গরম নিঃশ্বাস ভাবনার ঘাড়ে এসে লাগে। গাছে পানি দেওয়া থামিয়ে দেয় ভাবনা। এই প্রথম কারো নিঃশ্বাস তার লোককূপে পর্যন্ত শিহরণ জাগিয়ে দিচ্ছে। হুট করে পেছন মুড়ে ঘুরতেই একজন পুরুষকে দেখে ভড়কে যায় ভাবনা। তার থেকে দূরে যাওয়ার জন্য পিছুতেই লোকটা তার হাত ধরে হেঁচকা টান দেয়। ভাবনা গিয়ে পড়ে সরাসরি তার বুকে। ভাবনা অজান্তেই খামচে ধরে অনুভবের হাত। বড় নিঃশ্বাস নিয়ে তাকায় সে। দম বন্ধ হয়ে আসছে তার এই প্রথম কোনো পুরুষের সংস্পর্শে এসে। অনুভব হালকা নিচু হয়ে ভাবনার কাঁধে থুতনি রেখে বলে….
–“সামলে। পেছনে তোমার পানি দেওয়া গাছ আছে। তাদের ওপর পড়ে যাবে।”
কথাগুলো ভাবনাকে কাঁপিয়ে তোলে। চোখ পাকিয়ে তাকায় সে। এক ভয়ানক সুর্দশন পুরুষে বাহুতে বন্দি হয়ে পড়েছে ভাবনা। নীল চোখজোড়ার ভয়ানক চাহনি, কপালে আটকে আছে একটা মুকুট, ঠোঁটের কোণে পাগল করা হাসি, আর নাকের ডগায় ছোট্ট তিল। ভাবনা ছিটকে দূরে সরে আসে অনুভবের থেকে।
–“কে আপনি হ্যাঁ? আমার অনুমতি ছাড়া আমার বাগানে ঢুকেছেন কেন?”
অনুভব আশেপাশের গাছপালা লক্ষ্য করে বেশ ভাব নিয়ে বলে……
–“ওহ এটা তাহলে তোমার বাগান। তাই তো বলি এটা তো আগে দেখিনি। আর ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে স্ট্রবেরি গাছও আগে দেখিনি।”
ভাবনা কপাল কুঁচকে তাকায়। স্ট্রবেরি নামটা আগে কখনো শোনে নি সে। ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে স্ট্রবেরি নামক কোনো ফল নেই। ভাবনা আধো আধো করে বলার চেষ্টা করে……
–“স্ট্রবেরি? এটা আবার কি?”
অনুভব আরেকটু ঝুঁকে পড়ে ভাবনার ওপর। ভাবনার কোমল গালজোড়া আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে শীতল গলায় বলে…..
–“এটা একটা লাল ফল। যা মানুষের জগতে পাওয়া যায়। এই ফলের রঙটা আমি তোমার মাঝেও দেখতে পাচ্ছি। তাই ভাবলাম তুমিও স্ট্রবেরি গাছ।”
চোখ বড় বড় করে তাকায় ভাবনা। লোকটা কি বলছে? নিজের গালে হাত দিয়ে আরো দুই ধাপ দূরে সরে গিয়ে বলে…..
–“কে আপনি বলুন তো? অচেনা মেয়ের গাল স্পর্শ করছেন কেন? আপনাকে তো আগে কখনো দেখিনি এখানে।”
–“আমাকে চেনো না তুমি?”
–“না চিনি না।” (মাথা নাড়িয়ে)
–” ওহ। সবুর করো। খুব তাড়াতাড়ি চিনে যাবে।”
ভাবনা মুখ বাঁকায়। লোকটা বড়ই অদ্ভুত। অনুভব ভাবনার মুখ বাঁকানো টাও মুগ্ধ হয়ে লক্ষ্য করে। মেয়েটার নেওয়া সমস্ত পদক্ষেপই সুন্দর। মাথা ঝাঁকিয়ে ওঠে সে। তার এমনটা কেন হচ্ছে? মানুষের জগতে সে শিখেছে, একজনের তখনই অন্যের প্রতিটা পদক্ষেপ ভালো লাগে যখন সে ওপর ব্যক্তিটির প্রেমে পড়ে। তবে কি তারও কি প্রেমের রেলগাড়ির টিকেট কাটার সময় এসেই গেল?
তার ধ্যান ভাঙে পায়ের শব্দে। সামনে চেয়ে দেখে মেয়েটা তার বিড়ালকে সযত্নে নিজের দুই হাত দিয়ে আগলে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। অনুভবের মনে হয় সেই বিড়ালটা মনে হয় একটু বেশিই ভাগ্যবান। নয়ত সেই মেয়েটার হাতে আগলে কি থাকতে পারত?
ভাবতে ভাবতে অনুভব দেখে মেয়েটা আবার বিড়াল রেখেই তার দিকে ছুটে আসছে। ভ্রু কুঁচকে তাকায় অনুভব। ভাবনা ঝড়ের গতিতে এসে অনুভবকে ধাক্কা দিতেই সে সাথে অনুভবও পড়ে যায় ফুল বিছানো ঘাসের ওপর। অনুভব চোখ বড় বড় করে দুষ্টু হেসে বলল….
–“প্রথমে তো আমি তোমাকে ছোঁয়ায় বেশ কথা শুনিয়ে দিলে। এখন নিজের ছুটে এসে পড়ছো আমার গায়ের ওপর। আমার কাছে আসার প্লানিং চলছে?”
ভাবনা বিরক্ত হয়ে তাকায়। তৎক্ষনাৎ তাদের থেকে দূরে গিয়ে একটা তীর পড়ে। ভাবনা সেটা দেখিয়ে বলে…..
–“আপনাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল কেউ। সেটা দেখতে পেয়েই ছুটে এলাম বুঝেছেন? এর বেশি কিছুই না। আমার মনে হয় শয়তান ওয়ারওল্ফের কাজ এসব। সাবধানে থাকুন।”
ভাবনা উঠে দাঁড়ায়। নিজের জামা থেকে ধুলোবালি ঝাড়তে ঝাড়তে বিড়ালে উদ্দেশ্যে বলে….
–“চল পিকু। মায়ের কাছে ফিরতে হবে।”
ভাবনা হাঁটতে থাকে। অনুভব পেছন থেকে মনোযোগের সহিত দেখতে থাকে। অবশেষে কি না তাকেও প্রেমের সাগড়ে পড়ে হাবুডুবু খেতে হচ্ছে সাঁতার না জেনেও!!!
চলবে…..🍀🍀
বি.দ্র. ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আর গল্পটাকে কেউ বাস্তবের সাথে তুলনা করবেন না। এটা কাল্পনিক।

