কহিনুর_দ্বিতীয়_খণ্ড,পর্বঃ৪২

1
120

#কহিনুর_দ্বিতীয়_খণ্ড,পর্বঃ৪২
কলমে: লাবণ্য ইয়াসমিন

পায়ে সিঁকল পরা অবস্থায় অচেতন হয়ে বিছানায় পড়ে আছে সুলতান পরিবারের সর্ব কনিষ্ঠ কন্যা মারিয়া ফারুকী। শুনশান নির্জন বাড়িতে মেয়েটাকে এভাবে ফেলে রাখার মানে কি অধরা বুঝতে পারলো না। জুবায়ের যখন বলেছি বিকেলে ওকে নিয়ে ঘুরতে আসবে অধরা আর অপেক্ষা করেনি। চলে এসেছে ওকে দেখতে।কিন্তু এখানে এসে মন একেবারে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেলো। চিনচিন যন্ত্রণা ওকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো। মারিয়াকে রাখা হয়েছে এটা মূলত একটা ফার্ম হাউজ। বাইরে থেকে বিশাল উচু করে প্রাচিল আর কড়া সিকিউরিটি দ্বারা বেষ্টিত এই বাড়িটা শহর থেকে একটু দূরেই অবস্থিত। জুবায়ের ওকে নিয়ে চুপচাপ মারিয়ার কক্ষে প্রবেশ করলো। মেয়েটার হাতটা টক\টকে রক্ত দ্বারা রঞ্জিত। অধরা চমকে উঠে জুবায়েরের কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলল,
> ওর হাতে কি হয়েছে? ওকে এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে কেনো? কিছুই তো বুঝতে পারছি না।
জুবায়েরের চোখেমুখে পানি টলমল করছে হয়তো চোখের পাপড়ি নড়লে এখুনি টুপ করে ঝরে যাবে। তবুও কিছু বলা দরকার ভেবে ভেজা গলাই বলল,
> ও অসুস্থ।মেন্টালি সিক তাই দাদু ওকে এখানে রেখেছে। তুমি তো জানো মেয়েটা অন্যদের মতো ছিল না। আমি আগলে রেখেছিলাম কিন্তু হঠাৎ কি থেকে কি হয়ে গেলো জানিনা।
জুবায়েরের কথা শুনে অধরা ভ্রু কুচকে ফেলল। একজন সুস্থ সবল মানুষ হঠাৎ কিভাবে অসুস্থ হতে পারে? রহস্য আছে নিশ্চয়ই। অধরা জুবায়ের হাতটা টেনে নিয়ে বলল,
> আমি সবটা জানতে চাই। কি হয়েছে ওর সঙ্গে আপনি সবটা জানেন তবুও ভনিতা করছেন কেনো? এই নির্জন বাড়িতে মারিয়াকে একা একা ফেলে রাখা হয়েছে এসবের মানে নাকি? মাথা খারাপ করবেন না প্লিজ।
অধরা উত্তেজিত হয়ে উঠেছে। জুবায়ের ওকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে কক্ষের বাইরে এসে সোফায় গিয়ে বসিয়ে দিলো। ওর সামনে পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলল,
> সবটা বলবো আজ তার আগে নিজেকে শান্ত করো। ঠান্ডা মাথায় শুনবে আমার কথাগুলো তারপর বুঝবে। কিছু কথা অবশ্য আমি নিজেই জানিনা তবে যেটুকু জানি সবটা আজ বলবো। ভেবেছিলাম বলবো না তুমি শুনলে ঝামেলা করবে।
> বাড়তি কথা না বলে শুরু করুণ আমি সবরকমের কথা শুনতে প্রস্তুত আছি। কোনো ঝামেলা করবো না।
জুবায়ের চোখ বন্ধ করে শুরু করলো,
> যেদিন ভোরবেলা তোমাকে গাড়িতে তুলে দিয়েছিলাম মনে আছে সেদিনের কথা? প্রাণাধিক প্রিয় স্ত্রী আর অনাগত সন্তানকে দূরে পাঠিয়ে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। মাথা কাজ করছিলো না। ভেবেছিলাম কঠিন প্রতি/শোধ নিবো। যাদের জন্য আমি সব হারিয়েছি তাদেরকে ভালো থাকতে দিবো না। সেসব ভেবে আমি বাড়িতে পা রাখতেই মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলাম। পেছন থেকে আঘাত করা হয়েছিল। মাথা ফেঁটে র/ক্ত বেরিয়ে আমার শরীর ভেসে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম এখুনি বুঝি মা/রা যাবো কিন্তু মৃ/ত্যু কি সহজ ছিল? মর/লাম না। ঝাপসা চোখে মারিয়াকে দেখলাম বুনো ফুলের মালা গলাই পরে এলোথেলো পোশাকে দাঁড়িয়ে আছে। ওকে দেখে আমার আত্মা শুকিয়ে গেলো। আমার বোন যাকে আমি সন্তান স্নেহে যত্নে মানুষ করেছি ওর ঠোঁট কেঁটে র/ক্ত ঝরছে। বুঝতে বাকি ছিল না আমার বাকী বোনদের মতো ওকেও শয়/তানের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। কখন এমন সর্বনাশ হলো জানতে পারলাম না। আসলে তোমাকে নিয়ে সেরাতে এতোটা বিজি ছিলাম তাই অন্য কিছু খেয়াল রাখতে পারিনি। মারিয়া ভয়ে চুপসে ছিল। ছলছল চোখে বারবার আমার দিকে হাত বাড়িয়েছিল আমি ফ্লোরে পড়ে ছিলাম। র/ক্তের স্রোত বয়ে চলছিলো সুলতান ভিলাতে। মমকে আমার আশেপাশে আসা মানা ছিল। সারা বাড়িতে তখন মানুষের চাইতে শয়/তানের আনাগোনা বেশি ছিল। অর্ধমানব আর কালো শক্তির শয়/তানেরা মারিয়াকে নিয়ে উৎসবে মেতে ছিল। মেয়েটাকে সামনে বসিয়ে কি সব মন্ত্র উচ্চারণ করছিলো আমি যে একটা মানুষ নিচে পড়ে আছি সেদিকে কারো খেয়াল ছিল না। ওরা ভেবেছিল আমি হয়তো মারা গেছি। র/ক্তের নেশায় ওরা পাগল ছিল। কয়েকজনের ব/লি হয় সেদিন। হয়তো সুলতান পরিবারের র/ক্তের জন্য সেদিন আমি ওদের ভুড়িভোজের তালিকায় যুক্ত ছিলাম না। সে যাইহোক এর মাধ্যেই বাড়ির কাজের মেয়ে মানে ঐশ্বর্যের মা আমাকে গোপনে বাইরে নিয়ে আসে। বাইরে এক গার্ডের সাহায্যে আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে দীর্ঘ ছয়মাস আমার জ্ঞান ছিল না। আমি অচেতন ছিলাম। পরে যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখি সবটা স্বাভাবিক। দাদু আমার মাথার পাশে বসে আছে জামসেদ মম ড্যাড সবাইকে পেলাম। সেদিনের কথা সবাই অস্বীকার করে বলল আমি নাকি সবটা ভুল দেখেছি। তোমাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল তাই পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছি। আমাকে দাদু হাসপাতালে ভর্তি করেছে। কাজের মেয়েটাকে তখন আশেপাশে পেলাম না। ওর থেকে শুনবো কিভাবে বুঝতে পারছিলাম না। যখন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে সুলতান ভিলাতে ফিরলাম তখন বাড়িতে মারিয়া ছিল না। দাদু বলল মারিয়া আয়াতকে পছন্দ করে ওকে বিয়ে করেছে বিধায় মেয়েটা পাগল হয়ে গেছে আর আয়াতের মৃ/ত্যু হয়েছে। সুলতান পরিবারের অভিশাপের কথা তো জানোই! তবুও আমার বিশ্বাস হলো না। মেয়েটা আমাকে ছাড়া কিভাবে এমন কাজ করবে মাথায় আসলো না। তাই গোপনে খোঁজ করলাম। একদিন মার্কেটে ঐশ্বর্যের মায়ের সঙ্গে দেখা হলো। আমি ওর পেছনে পেছনে গেলাম। কৌশলে ওর বাড়ির ঠিকানা নিয়ে উপস্থিত হলাম। কি হয়েছিল সেদিন রাতে সবটাতো আমি জানি কিন্তু প্রমাণ ছিল না।তবে সেদিন ঐশ্বর্যের মা কিছু বলতেই পারলো না। আমি সেখানে যেতেই মেয়েটা আমার সামনে গলা থেকে র/ক্ত উঠে ছটফট করতে করতে মা/রা গেলো। ঐশ্বর্য তখন খুবই ছোট। মারা যাওয়ার আগে মেয়েটা শুধু বলল,” আপনার জন্য জীবন দিয়েছি আফসোস নেই কিন্তু আমার মেয়েটাকে একটু দেখবেন। সেদিন রাতে যা হয়েছে সবটা সত্যি ছিল। তবে আপনাকে সুলতান পরিবার বাঁচাতে চেয়েছে বলেই আপনার ক্ষতি হয়নি। ওরা আপনাকে চাই আপনার সম্পত্তির জন্য। আমার মেয়েটাকে দেখবেন স্যার।”
মেয়েটা আর কিছু বলতে পারলো না। সেদিন রাতে আরও কিছু ঘটেছিলো যেটা আমি জানিনা। জামসেদকে তখন পুরোপুরি বশে ছিল বিধায় ওর কিছু মনে নেই। আমি রাগ করে ঐশ্বর্যকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে দিয়েছিলাম। তোমার খোঁজে তখন দাদু হন্যে হয়ে উঠেছিলো। বারবার আমাকে জিঞ্জাসা করা হয়। আমি তো তোমার ঠিকানা জানতাম না। তাছাড়া জানলেও বলতাম না। দাদু খোঁজ নিয়ে জেনেছিলো তুমি বাংলাদেশ আছো। আমাকে না বলেই ওরা বাংলাদেশ চলে যায়। আর স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করে। খবরটা যখন আমি জানতে পারলাম আমিও চলে গিয়েছিলাম। তারপর তো জানো সবটা?
জুবায়ের কথাগুলো বলে মলিন হাসলো। কষ্টের দিনগুলো কিভাবে কেটেছে ভাবলেও শরীর ছমছম করে। অধরা ধ্যানমগ্ন, কিছু একটা নিয়ে চিন্তিত। জুবায়ের ওকে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল,
> কি ভাবছো এতো?
> আয়াতের বাড়িতে খোঁজ নিয়েছিলেন?
জুবায়ের মাথা নাড়িয়ে বলল,
> না কিভাবে আন্টির সামনে যেতাম বলো? আমাদের জন্য উনার একমাত্র ছেলেটা নেই কিভাবে ক্ষমা করতেন আমাকে?
অধরা কিছু একটা ভেবে নিয়ে বলল,
> আয়াত বেঁচে আছে ওর কিছু হয়নি। মারিয়ার সঙ্গে সেদিন কার বিয়ে হয়েছিল খোঁজ নিন। মেয়েটার সঙ্গে আরও খারাপ কিছু হয়েছে এবং হচ্ছে আমার বিশ্বাস।
জুবায়ের ভ্রু কুচকে বলল,
> মারিয়ার জন্য ডাক্তার রাখা হয়েছে তাছাড়া কি এমন হবে? দাদু কিন্তু আমাদের সঙ্গে খারাপ কিছু করেননা। ড্যাড নিজের মেয়ের সঙ্গে নিশ্চয়ই কোনো অন্যায় হতে দিবেন না।
অধরা বিরক্ত হয়ে বলল,
> এতোটা মহান হলে আপনাকে মাথায় বাড়ি খেতে হতো না। মারিয়ার সঙ্গে আমি কথা বলতে চাই। চলুন দেখা করি।
অধরা উত্তরের অপেক্ষা করলো না। কিছু একটা হচ্ছে মেয়েটা সঙ্গে তাছাড়া অভিশাপ যেখানে কেটে গেছে সেখানে কিসের পাগলামী? মেয়েটা নিশ্চয়ই কথা বলতে পারছে। অধরা হন্তদন্ত হয়ে মারিয়ার কক্ষে গিয়ে থমকে গেলো কারণ দাদুর ওর মাথার কাছে বসে আছে। অধরাকে দেখে উনি মুখটা কুচকে ফেললেন। হয়তো খুশি হতে পারেননি। গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন,
> এখানে এসেছো কেনো? জুবায়ের কোথায়?
অধরার উত্তর দিতে হলো না। জুবায়ের এসে হাজির হয়েছে। ও সোজাসাপ্টা উত্তর দিলো,
> বোনকে দেখতে এসেছি ভাবছি ওকে এখানে আর রাখবো না। নিয়ে যাবো সঙ্গে করে।
জুবায়েরের বলতে দেরী হলো কিন্তু দাদুর ধমক দিতে দেরী হলো না। হুঙ্কার দিয়ে বললেন,
> ওকে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা মাথা থেকে বাদ দাও। অধরা দাদুভাইকে নিয়ে চলে যাও। কতবার বলেছি মারিয়ার কাছে এসোনা। মেয়েটা অসুস্থ লোকজন দেখলে ভয় পাবে।
দাদুর কথা শুনে জুবায়ের ফোড়ন কেটে বলল,
>কথায় বলে মায়ের থেকে মাসির দরদ বেশি।দাদু তোমার অবস্থাও তেমন। মারিয়ার ভালো আমার থেকে তুমি বুঝবে? মজা করছো আমার সঙ্গে?
জুবায়ের ঘাড় ত্যাড়া মানুষ। রেগে গেলে কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড়া দিয়ে কথা বলে না এটা সকলেই ভালো করে জানে। দাদু বিষয়টা বুঝে অধরাকে বলল,
> ওকে নিয়ে যাও। এখানে আর এসোনা। কথা দিচ্ছি মারিয়া খুব তাড়াতাড়ি ভালো হবে।
অধরা কিছু বলতে চাইলো কিন্তু হলো না। তার আগেই মারিয়া জেগে উঠলো। মেয়েটা শব্দ করে কেঁদে উঠে বলল,
> আমাকে ছেড়ে দাও প্লিজ। তোমরা মেরোনা আমাকে। চন্দ্রের উত্তাপে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি। ও ছাড়বে না কাউকে। সবাইকে মে/রে ফেলবে।
মারিয়া কথা এগোতে পারলো না। দাদু অতি যত্ন করে মারিয়ার হাতে ইনজেকশন ফুঁটিয়ে দিলেন। মেয়েটা আবারও চোখ বন্ধ করে স্থির হয়ে গেলো। অধরা মারিয়ার বলা কথাগুলো বারবার উচ্চারণ করলো। জুবায়ের ভয় পেলো বোনের এলোমেলো কথা শুনে। ভাবলো ওদেরকে দেখে মারিয়ার এমন করছে তাই দ্রুত অধরাকে নিয়ে বেরিয়ে আসলো। অধরার মনে বারবার প্রশ্ন জাগলো চন্দ্রের উত্তাপ বলতে মারিয়া কা বুঝিয়েছে? আবারও কি রহস্য সামনে আসতে চলেছে?
**************
নাইট ক্লাবে বারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আঁধার। ওর পাশে লাল রঙের তরল গ্লাসে নিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে চুমুক দিচ্ছে কহিনুর। হেসে হেসে কথা বলছে দুজনে। মনে হচ্ছে কতদিনের বন্ধুত্ব নাকি প্রণয়? দূরে বেলালকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাথর। ওকে ফোন করে ডেকে আনা হয়েছে। এখানে কহিনুরকে দেখে ও থমকে গেলো। মেয়েটা কি খাচ্ছে দেখেই ও মুখ বাঁকালো। যেটা ওর সহ্য হয়না সেটা কহিনুর অনায়াসে ঢকঢক করে গিলছে। দৃশ্যটা খুবই জঘন্য লাগলো। তাছাড়া নিজের স্ত্রীকে পর পুরুষের সঙ্গে এভাবে দেখতে কোনো পুরুষেরই ভালো লাগবে না। পাথর মুখটা গম্ভীর করে সোজা গিয়ে ওদের সামনে গিয়ে বলল,
> সুলতান বংশের মেয়েরা বুঝি এভাবে নিজেদের সম্মান নিলাম করে বেড়ায়? এতো বংশের বড়াই সব শেষ?
পাথরের কথা শুনে কহিনুর হাসলো। এক ঢোকে বাকিটা গিলে নিয়ে আঁধারের গালে চুমু দিয়ে বলল,
> ওকে পছন্দ আমার। আমি কহিনুর , যা ইচ্ছা তাই করবো তোমার কি? পারলে আটকে দেখাও?
পাথর ওর কথা শুনে কিছুটা বিচলিত হলো তবে ওর ওষ্ঠে ফুঁটে উঠলো চমৎকার হাসি। কহিনুর মুগ্ধ হতে গিয়েও হলো না।এভাবে হাসির কি হলো কে জানে। তাই কৌতূহলী হয়ে জিঞ্জাসা করলো,
> তুমি হাসলে কেনো?
পাথর এবার উত্তর দিলো না। মুখটা কঠিন করে হাতের মুঠো শক্ত করে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো কহিনুরের গালে। মেয়েটা ছিটকে গিয়ে পড়লো মেঝেতে। হাতের কাচের গ্লাসটা ঝনঝন করে ভেঙে চার‍দিকে ছড়িয়ে গেলো। আঁধার হন্তদন্ত হয়ে কহিনুরকে তুলে নিলো নিজের সঙ্গে। কহিনুরের ঠোঁট কে/টে র/ক্ত ঝরছে। কিছু বলতে চাইলো তাঁর আগেই পাথর বলল,
> থাপ্প/ড়টা হচ্ছে আমার নূরের পবিত্র অবয়ব নিয়ে নোংরা খেলাই শামিল হওয়ার জন্য। কি মনে হয় আমি চিনবো না? রহস্য রহস্য খেলা পাথরের সঙ্গে চলবে? কিছুতেই চলবে না। আমি দেখতে চেয়েছিলাম কতদূর পযর্ন্ত এগোতে পারিস কিন্তু আজ ধৈর্যের বাইরে।
পাথর আর অপেক্ষা করলো না ছুটে আসলো বাইরে। বেলাল চুপচাপ দেখছিলো। পাথর ওকে গাড়িতে তুলে দিয়ে সমুদ্রের দিকে ছুঁটলো কহিনুরের কাছে। মেয়েটা নিশ্চয়ই সেখানেই আছে। সবটা পরিস্কার ভাবে জানাটা খুব জরুরী। পাথর ঝড়ের গতিতে সমুদ্রের তীরে এসে দেখলো সত্যিই কহিনুর বসে আছে। মেয়েটার চেহারার উজ্জ্বলতা মলিন হয়েছে। এলোমেলো চুলগুলো বাতাতে দুলছে। পাথর দৌড়ে গিয়ে ওর মুখটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,
> কোথায় ছিলে তুমি? গতকাল থেকে উল্টোপাল্টা আচরণ করছো বলবে কি হয়েছে? আমার খোঁজ নিতে সময় লাগবে ততক্ষণে খারাপ কিছু হয়ে যাবে। প্লিজ বলো কি হচ্ছে এসব?
কহিনুর জীবনে প্রথমবার ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো। তবে ভয়/ঙ্কর বিষয় হচ্ছে চোখে পানির বদলে র/ক্ত ঝরছে। পাথর দ্রুত ওকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে বলল,
> নূর কেনো কাঁদছো বলবে? তোমার সঙ্গে কি হয়েছে?
পাথর ওর কান্না থামানোর জন্য অস্থির হয়ে উঠলো। কিছুক্ষণ পরে কহিনুর থেমে গেলো। সাঈদকে আশেপাশে পাওয়া গেলো না। নীরবতা ভেঙে কহিনুর বলে উঠলো,
> ওরা আমার চেহারা, অবয়বটা ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। আমি জ্বলেপুড়ে মারা যাচ্ছি। বেলালকে আমি মারি/নি বিশ্বাস করুন। গতকাল আপনাকে কি বলেছি কিছু মনে নেই। আমাকে পুরোপুরি বসে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ওর দ্বিতীয় শরীর চাইছে। আমার আত্ম বা শরীর সবটাই দখল করবে। চাচ্চু বলেছিলো সাবধানে থাকতে। আমার র/ক্ত ঝরেছে আপনি দেখতে পেয়েছেন? এই র/ক্তের গন্ধে ওরা আরও উন্মাদ হয়ে উঠবে। কিভাবে বাঁচবো আর সবাইকে বাঁচাবো আমি?

কহিনুর আবারও ফুপিয়ে উঠলো। পাথরের চোখমুখ শক্ত হচ্ছে। এইটুকু একটা মেয়েকে মে/রে ওরা শক্তি চাইছে নরাধমের দল। পাথর ওকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়ে বলল,
> কিচ্ছু হবে না। আমি আছি না? সব ঠিক করে ফেলবো। তোমার চেহারায় যে ছিল ওকে চিনো?

কহিনুর মাথা নাড়িয়ে বলল

> সেদিন আমি মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম কিন্তু ফিরে এসে খবর শুনি বেলালের উপরে আক্রমণ হয়েছে আপনি আমাকে দোষারোপ করছেন। গতকাল ছিল পূর্ণিমা রাত। আমার মধ্যে থাকা রত্ন কিছু সময়ের জন্য বাইরে এসেছিল চন্দ্রের আলোতে ওটা আরও শক্তি পেয়েছে কিন্তু রত্ন ছাড়া আমি তো একদম সাধারণ মানুষ। এই সুযোগে ওরা আমাকে বশ করে নিয়েছিলো। আমার ছায়া থেকে অবয়ব নিয়ে ওরা জঘন্য কিছু করেছে। যখন রত্নের শক্তি ফিরে পেলাম তখন থেকেই গায়ে ফোসকা নিচ্ছে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছেন ওরা কি করেছে। অভিশাপ মুক্ত সুলতান পরিবারের সঙ্গে অর্ধমানবের সম্পর্ক তৈরী করতে চাইছে। আমার চেহারা কেউ নিতে পারতো নেই। সেটা কৌশলে একজন নিয়ে নিয়েছে। এবার আমাকে নিবে।
পাথর ভ্রু কুচকে বলল,
> কে নিবে?
কহিনুর ছোট্ট করে উত্তর দিলো,
> চন্দ্র। অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সে ফিরে এসেছে। কালো শক্তি উনাকে ফিরিয়ে এনেছে। উনি আত্ম/হ/ত্যা করেছিলেন।

পাথর জানেনা চন্দ্রের সঙ্গে কহিনুরের সম্পর্ক কি। তবে প্রতিজ্ঞা করলো এর শেষ দেখে ছাড়বে। এই ষড়যন্ত্রে যে যে চন্দ্রকে সাহায্য করছে সবাইকে দেখে নিবে।কিন্তু শুরু করবে কোথা থেকে?

চলবে

ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন। গল্প প্রায় শেষের দিকে। দশ পর্বের মধ্যেই সমাপ্ত করবো ইনশাআল্লাহ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here