#প্রেম_এসেছিলো_নীরবে(14+17)
#সাদিয়া_জাহান_উম্মি
ড্রয়িংরুমে বসে আছে সবাই।আনন্দে চারপাশ মুখরিত।হিয়া আর আরাফ এর বিয়ে ঠিক হয়েছে আজ থেকে দশদিন পর শুক্রবারে।হিয়ার ইচ্ছে তারা ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করবে।তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেন্টমার্টিন যাবে বিয়ের জন্যে সবাই।সকালের মাজে এইজন্যে চাপা উত্তেজনা।সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে ও।কিন্তু কোন এক কারনে সে তার খুশিটা প্রকাশ করতে পারে না।কারন ও কোন জিনিস নিয়ে অতিরিক্ত খুশি প্রকাশ করলে সেটা ওর কপালে সয় না।অর্থ গম্ভীর মুখ করে বসে প্রাহির দিকে একধ্যানে তাকিয়ে আছে।আরাফ তাই খোঁচা মেরে বললো,
-” ভাই বিয়ে তো আমার। আমি তাকিয়ে থাকবো আমার বউয়ের দিকে। তুই কি দেখিস এতো?”
অর্থ তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকালো আরাফের দিকে।বললো,
-” তো?তুই দেখ না তোর বউকে আমি মানা করেছি,?তুই আমার দেখাদেখি নিয়ে এতো হাইপার হচ্ছিস কেন?সি ইজ মাইন ওকে?আমি চব্বিশ ঘন্টা ওর দিকে তাকিয়ে থাকবো।কি করবি তুই?বেশি কথা বললে তোর বিয়ে ক্যান্সাল!”
আরাফ শুকনো ঢোক গিললো।মুখে জোড়পূর্বক হাসি টেনে বলে,
-” না,না আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম।তুই বললে এক্ষুনি তোর বিয়ে প্রাহির সাথে দিয়ে দেই।”
অর্থ এমনভাবে আরাফের দিকে তাকালো।যার দৃষ্টির অর্থ,’ হ্যা এক্ষুনি বিয়ে দিয়ে দে না দোস্ত।’মুখে বললো,
-” তুই যদি এই কাজ করতে পারিস।আমি নিজেও তোর বিয়ে কাল দিয়ে দিবো।”
আরাফ খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলে,
-” সত্যি?চল আজ তোকে আর প্রাহিকে বিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হবো আমি।চল দোস্ত।এতো সুন্দর সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।”
হিয়া আর প্রাহি দুউ বন্ধুর এমন সব কথা শুনে পারেনা মাটি ফাক করে তার ভীতরে ডুকে যেতে।কিসব বলছে এরা?প্রাহির কান গরম হয়ে হিয়েছে এসব শুনে।ও আর একমুহূর্ত অপেক্ষা না করে ছুটলো।হেনা আর রায়হানা বেগমের কাছে।
এদিকে হেমন্ত চেচিঁয়ে ওকে ডাকলেও ও দাঁড়ায় না।হেমন্ত হাসতে হাসতে আঁড়চোখে ইশা’র দিকে তাকালো।মেয়েটা মুখ কাচুমাচু করে একেবারে হিয়ার সাথে লেগে বসে আছে।হেমন্ত দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।ও যে কবে বিয়ে করতে পারবে। ইস,ভাইটাও না এমন মেয়ে ভালোবাসলো যার এখনো হাটু সমান বয়স।কি করবে যে ও।একটু প্রেমও করতে পারছে না বেচারা।ইশাকে আই লাভ ইউ বললে দেখা যাবে এই মেয়ে আর জীবনেও তার মুখদর্শন হেমন্তকে করাবে না।বিরক্তিতে হেমন্ত’র শরীর রি রি করছে।এদিকে হিয়া তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে আরাফের দিকে তাকিয়ে ইশাকে নিয়ে সেও মায়ের কাছে চলে গেলো।
অর্থ এইবার বিরাট গম্ভীর স্বরে বললো,
-” হেমন্ত কি মনে করিস?মেয়ের আগেই কি কেসটা সল্ফ করে ফেলবো!”
হেমন্ত চিন্তিত স্বরে বলে,
-” আমি তো শুধু এটা ভাবছি প্রাহি কিভাবে সব মেনে নিবে।সি কান্ট টলারেট ভাই।ছোট থাকতে বুজেনি।কিন্তু এইবার ওকে সামলানো দায় হয়ে পড়বে যখন জানবে ওর খালামুনি আর আংকেল এক্সিডেন্টে মরেনি।উনাদের খুন করা হয়েছে।”
আরাফ বললো,
-” কিন্তু তার আগে স্বয়ং মেইন কাল্প্রিট এর মুখ থেকে সত্যি বাহির করতে হবে।”
অর্থ ভ্রু-কুচকে বললো,
-” সেটা বড় কথা না।ওটা কোন ব্যাপার না।বাট আমার টেন্সন হচ্ছে প্রাহির সেফটি নিয়ে।আর দু মাস পর প্রাহির বার্থডে।ওর বয়স সতেরো হবে।এর মানে ওর লাইফ রিস্ক আগে ফিফটি পার্সেন্ট ছিলো আর এখন পুরো হান্ড্রেন্ট পার্সেন্ট হবে।প্রাহিকে অনেক সাবধানে রাখা লাগবে।বাড়িতে সিকুরিটি গার্ডের সংখ্যা বারিয়ে দেওয়া লাগবে।আর হ্যা সেন্টমের্টিন গেলেও প্রচুর সাবধানতা অবলম্বন করা লাগবে।”
হেমন্ত বললো,
-” হ্যা ভাই তুমি ঠিক বলছো।তবে প্রাহির নামের যে সম্পত্তিগুলো আছে।সেগুলোর দলিল কালেক্ট করা হয়েছে।”
অর্থ হঠাৎ রেগে গিয়ে বললো,
-” বাস্টার্ডগুলো দিতে চাইছিলো না।পরে এমন থ্রেড দিয়েছি।সুরসুর করে বাহির করে দিয়েছে।”
হেমন্ত হালকা চিল্লানোর মতন বলে,
-” একটা মানুষ কতোটা খারাপ হলে এই কাজ করতে পারে।নিজের আপন বোন আর বোনের জামাইকে খুন করতে পারে।জঘন্য।”
অর্থ গম্ভীর স্বরে বললো,
-” তারা আসল প্লেয়ার না।খেলাটার নাটোর গুরু কে আমাদের সেটা বাহির করতে হবে।”
আরাফ বললো,
-” কিন্তু তারা দুজন তো স্বিকারই করছে না।সেই ব্যাক্তির কথা।”
অর্থ হালকা আওয়াজে বললো,
-” আই থিংক তারা সত্যি কথাই বলছে।”
হেমন্ত চেচিঁয়ে উঠলো,
-“হোয়াট?”
-” হ্যা! আপাততো এসব কথা রাখ।এসব কথা এখানে আলোচনা করাটাও রিস্ক।কারো কানে এই কথা গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।”
হেমন্ত, আরাফ আর অর্থ মিলে এই কয়দিন প্রচুর পরিমানে প্রাহির মা,আর বাবার কেস নিয়ে ইনভেস্টিকেশন করছে।আরাফ যেহেতু একজন সিআইডি অফিসার তাই ওদের কাজটা অনেকটা সহজ হয়ে উঠেছে।প্রাহির মামা আর মামি এখন ওদের আন্ডারে।তাদের থেকেই জানতে পেরেছে প্রাহির মা বাবাকে তারা খুন করেছে।তবে তাদের প্রধান শত্রুকে এখনো ধরতে পারেনি।ওরা এখন তাকে খোজার জন্যেই উঠে পরে লেগেছে।
—–
ডায়নিং টেবিলে রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।আজ আরাফের ফ্যামিলি খাওয়া দাওয়া করেই যাবে।হিয়াজ,হিয়ান্ত আর আরাফের বাবা আর কাকা ছাদে গিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন।
আরাফের মা আর কাকি, হেনা এবং রায়হানার সাথে কথা বলছেন আর হিয়া এবং প্রাহির সাথে খাবার এনে টেবিলে রাখছেন।
প্রাহি মুখটা কাচুমাচু করে রেখেছে কারন আরাফের কাকি এখানে আসার পর থেকেই তীক্ষ্ম চোখে ওকে পর্যবেক্ষন করে যাচ্ছেন।যখন থেকে শুনেছে প্রাহিকে নাকি অর্থ ভালোবাসে।আর ভবিষ্যতে সিকদার বাড়ির বড় বউ হবে প্রাহি।এটা জানার পর থেকে উনি পারেনা রিতিমতো প্রাহিকে গিলে খেয়ে ফেলতে।আরাফের সাথে অর্থ’র বন্ধুত্ব তো আছেই।যবে থেকে অর্থ প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে।উনার একটাই ইচ্ছা উনি তার মেয়েকে এই বাড়ির বউ বানাবেন। ইলফা হলো উনার মেয়ে।যে আপাততো দেশে নেই।নিউইয়র্কে আছে সে।এক সপ্তাহ পরই আসছেসে।ইলফা আসলেই তিনি যে করেই হোক ইলফাকে অর্থ’র গলায় ঝুলাবেই।ইলফার মা কটমট দৃষ্টিতে প্রাহির দিকে তাকিয়ে আছে।এতে প্রাহির অসস্থি হচ্ছে।তাই প্রাহি আস্তে করে রায়হানার কাছে গিয়ে বলে,
-” মামুনি!”
রায়হানা বেগম বললেন,
-” বল মা।কিছু লাগবে আম্মুনিটার?”
প্রাহি কাচুমাচু করে উত্তর দেয়,
-” আমার না প্রচুর মাথা ব্যাথা করছে।আমি গিয়ে একটু রেস্ট করি?”
রায়হানা বেগম প্রাহির কথা শুনে অস্থির কন্ঠে বলে,
-” সেকিরে মা।কখন থেকে হচ্ছে?আমাকে বলিস নি কেন?আমি আদা চা করে দিচ্ছি।ওটা খেয়ে ডিনার করে মেডিসিন নেহ।দেখবি ঠিক হয়ে যাবি।”
প্রাহি তাড়াতাড়ি করে বললো,
-” নাহ মামুনি এতো কিছুর দরকার নেই।তুমি একটু আদা চা করে দেও।আমি সেটা নিয়ে রুমে গিয়ে খেয়ে রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবে।শুধু মেডিসিন কেন খাবো?”
-” এ আবা কেমন কথা?ডিনার করবি না?”
প্রাহির মিষ্টি হেসে বলে,
-” তোমরা এখন খাও।আমার খুদা লাগলে আমি এসে খেয়ে যাবো।এখন আর কথা বলো নাতো।আমাকে তাড়াতাড়ি তোমার মিষ্টি হাতের মিষ্টি আদাচা করে দেও।”
রায়হানা আর কথা বারালেন না।প্রাহিকে আদাচা করে দিলে প্রাহি সেটা নিয়ে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে আসে।ডায়নিং টেবিল পার হয়ে সিড়ির কাছে যেতে হয়।প্রাহি মাথা নিচু করে সেখান থেকে যেতে নিয়ে আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখে।অর্থ ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।প্রাহি দ্রুত চোখ সরিয়ে উপরে চলে গেলো।
রায়হানা আসতেই অর্থ গম্ভীর স্বরে উনাকে বলে,
-” মা! ওর আবার কি হলো?ডিনার করবে না?”
রায়হানা বেগম সবার প্লেটে খাবার বেরে দিতে দিতে বলেন,
-” ওর নাকি মাথা ব্যাথা।মেয়েটা এতো চাপা স্বভাবের। মাথা ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে আমাকে এখন বলছে।”
অর্থ মায়ের কথা শুনে আরাফের কাকির দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকাতেই তিনি থতমত খেয়ে যান।জলদি চোখ সরিয়ে খাওয়ায় মনোযোগ দেন তিনি।অর্থ একটা রহস্যময় বাঁকা হাসি দিলো। রায়হানা বেগমকে বললেন প্লেটে বেশি করে খাবার দিতে।ও নিজে গিয়ে প্রাহিকে খাইয়ে দিয়ে আসবে।হেনা আলতো হাসলেন।তিনি নিজেই অর্থকে দুপ্লেট খাবার দিতেই।অর্থ সেগুলো নিয়ে উপরে চলে গেলো।আরাফের কাকি তা দেখে ভীতরে ভীতরে রাগে ফেটে যাচ্ছেন।পারেনা প্রাহিকে আগুনে ভষ্ম করে দিতে।
#চলবে_________
ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।কেমন হয়েছে জানাবেন।#প্রেম_এসেছিলো_নীরবে(১৫)
#সাদিয়া_জাহান_উম্মি
-“না খেয়ে এখানে বারান্দায় কি করছো প্রাহি?”
আকস্মিক অর্থ’র গলার আওয়াজ পেয়ে চমকে পিছনে তাকায় প্রাহি।অর্থ হাত ভাজ করে বারান্দার দরজার সাথে হেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রাহি মাথা নিচু করে নিলো।অর্থ ডাকলো,
-” এদিকে আসো প্রাহি!”
প্রাহি মাথা নিচু করে আস্তে ধীরে অর্থ’র সামনে এসে দাড়ালো।অর্থ’র সামনে কখনো মাথা উঁচু করে তাকায় না প্রাহি।লোকটার দিকে তাকাতে গেলেই বুকের ভীতরে কেমন যেন করে।অর্থ প্রাহির চিবুকে আলতো স্পর্শ করে মুখটা উপরে তুললো।ঠান্ডা কন্ঠে বলে,
-” আমার কুয়েশ্চনের আন্সার এখনো পাইনি।”
প্রাহি এইবার হালকা নড়েচড়ে জবাব দিলো,
-” মা..মামনিকে তো ব..বলে আসলাম।আমার মা..মাথাব্যাথা করছিলো।”
অর্থ গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-” হুয়াই আর ইউ লায়িং প্রাহি?”
প্রাহি অবাক হয়ে তাকালো।ও যে মিথ্যে বলছে লোকটা কিভাবে বুজলো।অর্থ হালকা হাসলো।প্রাহির হৃদপিন্ডটা কামড়ে ধরলো যেন কিছু লোকটার হাসি দেখে।ইস,,কি সুন্দর লাগে হাসলে অর্থকে।এভাবে কি সবসময় হাসিমুখে থাকতে পারেনা সে?উহুম! তা কেন থাকবে? গাম্ভীর্যতা আর রাগ যেন লোকটার রন্দ্রে রন্দ্রে মিশে থাকে।অর্থ প্রাহিকে আরো একধাপ চমকে দিয়ে ওকে কোলে তুলে নিলো।প্রাহি হালকা ভয় পেয়ে অর্থ’র গলা দুহাতে জড়িয়ে ধরে বলে,
-” কি করছেন?এ..এভাবে না বলে কেউ কোলে নেয়?”
অর্থ হালকা ধমকে বলে,
-” সাট আপ প্রাহি।তোমার এইসব ফালতু কথা আমার রাগ বারিয়ে দেয়।ডোন্ট ইউ আন্ড্যার্স্টান্ড আই লাভ ইউ।আর আমি জানি তুমিও আমায় ভালোবাসো।সো আমি এইসব বেহুদা ফর্মালিটিস পালন করতে পারবো না।”
প্রাহি এইবার মিনমিনিয়ে বললো,
-” আমি কি একবারও সেটা বলেছি?আমাকে এইভাবে হুটহাট কোলে তুলে নিলে যে আমি ভয় পাই।সেটা আপনাকে কে বুজাবে?”
-” বুজা লাগবে না।তুমি যে ভীতুর ডিম তা আমি ভালোভাবে জানি।”
প্রাহির ছোট্ট মনে অভিমান জমলো।প্রাহিকে ভীতুর ডিম বললো লোকটা।প্রাহি তো শুধু তাকে ভয় পায়।ভয় পায় মানে অনেক বেশি ভয় পায়।প্রাহি মুখ ফুলিয়ে রাখলো।অর্থ প্রাহির অভিমান বুজতে পেরে হালকা হাসলো ওর অগোচারে।
অর্থ প্রাহিকে নিয়ে বিছানায় বসালো।ওয়াশরুম থেকে হাত ধুয়ে নিজ হাতে প্রাহিকে খাইয়ে দিলো যত্ন করে।মাজে মাজে প্রাহির কান্না পায়। ভীষন কান্না।ও সবার থেকে যেভাবে ভালোবাসা স্নেহ পাচ্ছে। তা মা বাবা মারা যাবার পর কখনই পাইনি।সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হয় এই গম্ভীর রগচটা মানুষটার ভালোবাসা দেখে।এই মানুষটাও বুজি ওকে এতো ভালোবাসতে পারবে ভাবেনি সে কোনদিন।আগে ও খেতে চাইলেও দুটো ভাত পেতো না খেতে।মামি মারধর করতো খাবার চাইলে।আর আজ খাবে না বলেছে তাও লোকটা কি সুন্দর করে ওকে খাইয়ে দিচ্ছে।এতো ভালোবাসা কোথায় রাখবে সে?আদৌ সে এই লোকটার এমন পাগলামো ভালোবাসার যোগ্য?
প্রাহি এইসব ভাবছিলো এর মাজে প্রাহি সব খাবার খেয়ে নিয়েছে অর্থ’র হাতে।অর্থ প্লেটে হাত ধুয়ে প্রাহির মুখ মুছিয়ে দিলে ধ্যান ভাংগে প্রাহির।অর্থ’র দিকে একবার তাকিয়ে আবার খাবারের প্লেটের দিকে তাকায়।অবাক হয়ে বলে,
-” এতোগুলো খাবার শেষ?”
অর্থ বাকা হাসলো প্রাহির কথায়।বললো,
-” হ্যা!”
-” আমি খেয়েছি সব খাবার?”
অর্থ ভ্রু-কুচকে বললো,
-” তো? এতোক্ষন কি আমি ভুত পেত্নিদের খাওয়াচ্ছিলাম ইডিয়ট।”
আশ্চর্য হয়ে মুখটা হা হয়ে গেলো প্রাহির।ভাবনার মাজে এতোগুলো খাবার কখন খেলো টেরই পেলো না ও।নিজেকে সামলে নিয়ে মুখটা ছোট করে বিশাল জড়তা নিয়ে প্রাহি জিজ্ঞেস করলো,
-” আপনি খেয়েছেন?”
-” তোমার কি মনে হয়?”
অর্থ’র পালটা প্রশ্নে চুপ হয়ে যায় প্রাহি।ও ভালো করেই জানে অর্থ খাইনি।প্রাহি এইবার নিঃশব্দে বিছানা থেকে নেমে দাড়ালো।তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে হাত ধুয়ে এসে।বেড সাইড টেবিল থেকে আরেকটা খাবারের প্লেট ছিলো সেটা নিয়ে ধীরপায়ে হেটে এসে অর্থ’র সামনে বসে পড়লো।পোলাওটা রোস্টের হালকা ঝোল দিয়ে অর্থ’র মুখের সামনে ধরলো একলোকমা।অর্থ আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে আছে প্রাহির দিকে।প্রাহি যে এমন একটা পদক্ষেপ নিবে স্বপ্নেও ভাবিনি ও।অনাকাক্ষিত সুখ পেয়ে অর্থ কি করবে দিশা পাচ্ছে না।প্রাহি এইবার হালকা আওয়াজে বলে,
-” হা করুন না। খাইয়ে দিচ্ছি তো।”
অর্থ হা করলো।প্রাহি ওকে খাইয়ে দিলো।অর্থকে খাওয়াতে প্রাহির বেশবেগ পেতে হচ্ছে।অর্থ যেই লম্বা।প্রাহি তো ছোট্ট একটা বিড়ালছানা।অর্থ তা বুজতে পেরে।প্রাহিকে চরম মাত্রায় অবাক করে দিয়ে প্রাহির সামনে ফ্লোরে বিছানো কার্পেটে বসে পড়লো।প্রাহি আতকে উঠে বলে,
-” আরে কি করছেন?নিচে বসেছেন কেন?”
প্রাহি ওর বামহাতের সাহায্যে অর্থকে টানতে চেষ্টা করলে।অর্থ রাম ধমক দিলো প্রাহিকে,
-” প্রাহি!! ডাফার একটা।বিছানায় বসে কিভাবে খাওয়াবে?হেভ ইউ সিন ইউ এন্ড মি?আমি তোমার থেকে কতো লম্বা।তুমি পারবে ঠিকভাবে আমাকে খাওয়াতে?নাউ ডোন্ট স্যে আ ওয়ার্ড।যা করছিলে তা করো।”
প্রাহি মুখটা একটুখানি করে অর্থকে খাওয়াতে লাগলো।খাওয়ার মধ্যে অর্থ প্রাহির আঙ্গুল গুলো ওর জিহ্বা দিয়ে এমনভাবে স্পর্শ করে যে প্রাহি পারেনা লজ্জায় কেঁদে দিতে।এতোটা অসভ্য কেউ কি করে হতে পারে?এমনিতেই সকালে যেই ভয়ানক কথা বলেছে লোকটা তাতেই ও অর্থ’র সামনেও আসতে পারে না।এতেই মনে হয় ওর হার্টবিট এতো জোড়ে বিট করছে মনে হয় যেন ফেটে যাবে।প্রাহি অর্থ’র প্রতিটা স্পর্শে কাঁপতে কাঁপতে পারেনা মরে যেতে।নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসছে ওর।প্রাহি অনেক কষ্টে খাবারটুকু অর্থকে খাইয়ে দিলো।খাওয়া শেষ হতেই প্রাহি দ্রুত করে প্লেট টেবিলে রেখে ওয়াশরুমে ডুকে গেলো।ওয়াশরুমের আয়ানার সামনে দাঁড়িয়ে আছে প্রাহি মুখটা দুহাতের আজলে ঢাকা।প্রাহি লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলছে।প্রাহি আস্তে করে হাত দুটো ওর মুখমণ্ডল থেকে সরালো।আয়নায় চোখ তুলে তাকাতেই খেয়াল করে ওর মুখশ্রী লাল হয়ে আছে লজ্জায়।ইসস,পুরো শরীরটা শিরশির করছে ওর।ডানহাতটা সামনে আনলো প্রাহি।লাজুক হেসে ডানহাতটা বুকে চেপে ধরলো প্রাহি।বুকটা ধুকপুক ধুকপুক করছে।ইসস,এতো লজ্জা কোথায় রাখবে ও?আচ্ছা,অনেকক্ষন তো হলো অর্থ কি এখনো ওর রুমে আছে?প্রাহি বের হবে কিভাবে?একবার কি উঁকি দিয়ে দেখবে?হ্যা,এটাই ঠিক হবে।একটুখানি চোখ বাহির করে যদি দেখে অর্থ এখন্য আছে তাহলে আবার দরজা আটকে দিবে।যেই ভাবা সেই কাজ প্রাহি ওয়াশরুমের দরজা হালকা ফাক করে দেখে কেউ নেই রুমে।তারমানে লোকটা চলে গেছে।প্রাহি এইবার ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলো।তারপর আবার ওয়াশরুমের দরজা আটকে পিছনে ঘুরতেই কারো সাথে ধাক্কা খায় ও।চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে অর্থ।এবং ওর দিকে তাকিয়েই বাকা হাসি দিচ্ছে।প্রাহি তড়িঘড়ি করে আবারও ওয়াশরুমে ডুকতে নিলেই।অর্থ হেচকা টানে প্রাহিকে নিজের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করে নেয়।প্রাহির কাধে মুখ গুজে দিলো অর্থ।প্রাহি কেঁপে উঠে অর্থ’র পিঠ খামছে ধরলো।অর্থ ঘোরলাগা কন্ঠে বলে,
-” কেন নিজের লজ্জারাঙ্গা মুখটা দেখার থেকে আমাকে বঞ্চিত করছো প্রাহি?আমি তো তোমার লজ্জায় রক্তিম আভা ছড়ানো মুখটা দেখতেই ভালোবাসি। তোমার ঠোঁটের কোনে ওই লাজুকহাসি টুকু যে আমার হৃদয়ে মিষ্টি একটা চিনচিনে ব্যাথা তৈরি করে। এতেই যে আমি কতোটা তৃপ্ত তা তোমাকে কিভাবে বুজাবো প্রাহি?”
একটু থেমে আবার বলে,
-” আ’ম ওয়েটিং ফোর ইউ প্রাহি।ওয়েটিং ফোর দ্যাট টাইম হোয়েন ইউ উইল বি মাইন ফোরএভার।যেখানে কোন বাধা থাকবে না প্রাহি।যখন আমার অধরজোড়া স্পর্শ করবে তোমার অধরখানা।তার জন্যে থাকবে না কোন বাদ্ধবাধকতা।আমি তোমাকে চাই প্রাহি।অনেক চাই।পাগলামি ভাবে চাই।বুজো তুমি?”
প্রাহি কাঁপছে ভীষনভাবে কাঁপছে।অর্থ’র এমন ভয়ানক সব কথাবার্তা যে ওর সয্য ক্ষমতার বাহিরে।অর্থ আবারও বলে,
-” প্রাহি বলো না আমার ভীতরের অস্থিরটা তুমি বুজো?আমার মনটা যে প্রতিদিন,প্রতিনিয়ত তোমার জন্যে ব্যাকুল হয়ে থাকে বুজো তুমি।”
প্রাহি এইবার সয্য করতে না পেরে অর্থকে ছেড়ে দিয়ে ওর মুখ চেপে ধরলো।তারপর বলে,
-” চুপ।আর একটা কথা না।বুজি আমি সব বুজি। এখন চুপ থাকুন।আপনার এইসব ভয়ানক কথা আমি নিতে পারছি না।জ্ঞান হারাবো আমি।চুপ!’
বলেই অর্থ’র কপালে গভীর একটা চুমু খেয়ে অর্থকে টাইট করে জড়িয়ে ধরলো।অর্থ নিজেও প্রাহিকে নিজের বাহুবন্ধনে শক্ত করে আকড়ে ধরে রাখলো।
#চলবে_______
ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।কেমন হয়েছে জানাবেন।সুন্দর মন্তব্য না পেলে কাল সকালে গল্প দিবো না।রাগ করবো।#প্রেম_এসেছিলো_নীরবে(১৬)
#সাদিয়া_জাহান_উম্মি
আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করে বাড়ির লোকেরা মাত্রই বাড়িতে এলো।এখন খাওয়া দাওয়ার পালা।টেবিলে প্রাহিকে না দেখে ভ্রু-কুচকে আসে অর্থ’র। সকালেও মেয়েটা আসেনি।রেস্টুরেন্টে একটা ইম্পোর্ট্যান্ট মিটিং থাকায় অর্থ নিজেও খোজ খবর নিতে পারিনি।আর আজ দুদিন যাবত অর্থ’র উপর কাজের চাপটা একটু বেশিই।কারন সামনেই হিয়ার বিয়ে কতোগুলো কাজ বাদ যাবে।এইযে খেয়ে আবারও চলে যেতে হবে কাজের জন্যে।অর্থ আর কিছুই বললো না চুপচাপ খেয়ে নিলো।তারপর উঠে গিয়ে সোজা প্রাহির রুমের দিকে অগ্রসর হয়।রুমে ডুকেই দেখতে পায় বিছানার উপর আপাদমস্তক ঢেকে রেখে প্রাহি সুয়ে আছে।অর্থ গম্ভীরমুখে সেদিকে এগিয়ে যায়।প্রাহির কাছকাছি আসতেই কম্বলের ভীতর থেকে চাপা আর্তনাদ আসছে।অর্থ অবাক হয়।হলো কি মেয়েটার?অর্থ তাড়াতাড়ি কম্বলটা সরিয়ে দেখে।প্রাহি পেট চেপে ধরে হালকা ক্ষীণ আওয়াজে কাঁদছে।অর্থ অস্থীর হয়ে উঠে,
-” কি হলো প্রাহি?হোয়াট হেপেন্ড টু ইউ?এমন করছো কেন?”
প্রাহি কিছুই বলছে না দাঁতেদাঁত চিপে নিজের ব্যাথাটা নিয়ন্ত্রনের আনার চেষ্টা করছে।কিন্তু কিছুতেই পারছে না।অর্থ আরো হাইপার হয়ে যায়,
-” কি হলো? বলছো না কেন?কি হয়েছে তোমার?”
এরই মাজে পিছন থেকে হিয়ার গলার আওয়াজ পেলো অর্থ।নিজেকে দ্রুত প্রাহির থেকে একটু দূরে সরালো।তাকিয়ে দেখে হিয়ার হাতে কিছু ফ্রুট্স, ডিম সেদ্ধ,ধোঁয়া উঠা একগ্লাস দুধ ট্রেতে রাখা।
হিয়া টেবিলের উপর ট্রেটা রেখেই অর্থ’র উদ্দেশ্যে বলে,
-” আসলে ভাইয়া প্রাহির শরীরটা ভালো না।একটু অসুস্থ ও।”
অর্থ অস্থির হয়ে উঠলো,
-” অসুস্থ মানে?আমাকে আগে জানাসনি কেন?”
হিয়া বিরক্ত হয়ে বলে,
-” উফ! তুমি প্রাহির থেকেই জেনে নেও আর ওই খাবারগুলো খাইয়ে দিও।আমি গেলাম।”
-“আরে শুনে যা কিরে….!” অর্থকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে হিয়া চলে যায়।অর্থ এইবার রেগে যায়।প্রাহির দুবাহু শক্ত করে ধরে ওকে উঠিয়ে বসিয়ে দেয়।শক্ত কন্ঠে বলে,
-” বাচ্চাদের মতো না কেঁদে এটা তো বলবে কি হয়েছে তোমার? ইডিয়ট!”
প্রাহি ভয় পেয়ে যায়।মিনমিনিয়ে এইবার বলে,
-” আ…আমার সেন্সিটিভ টাইম চ..চলছে।”
অর্থ এইবার বুজলো আসল কাহিনি কি।রেগে গিয়ে বলে,
-” এটা বলতে এতোক্ষন লাগে গাধি একটা।মাথামোটা কোথাকার।”
প্রাহি ধমক খেয়ে আরো জোড়ে কান্না করে দেয়।অর্থ আবারও ধমক দেয় ওর এমন কান্না দেখে,
-” চুপ! একটা চটকনা মেরে সব দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদ্দপ মেয়ে।এখন চুপচাপ এইসব খাবার গুলো খাওয়া স্টার্ট করো।আমি হটব্যাগে করে পানি নিয়ে আসছি।আর হ্যা সবার আগে দুধটা খাওয়া যেন হয়।গরম গরম খাবা এতে ভালো লাগবে ওকে।যদি দেখি খাওনি।এক থাপ্পড়ে চাপা ঝুলিয়ে দিবো।”
প্রাহিকে শাষিয়ে অর্থ চলে যায়।প্রাহি না চাইতেও নাক মুখ কুচকে দুধটুকু খেয়ে নেয়।
[অনেকেই বলছেন প্রাহি আর অর্থ’র প্রেমটা একটু বেশি।সমস্যা নেই।আর দু একটা পার্ট হবে হয়তো।তারপরেই ওদের বিচ্ছেদ ঘটবে মেনে নিতে পারবেন তো?দীর্ঘ বিচ্ছেদ কিন্তু।কি বলেন আপনাদের কি মতামত?জানাবেন কিন্তু।যদি আপনাদের মতামতে মত পালটে ফেলি ভাবা যায় না দুঃখিত গল্পের মাজে এসব বলার জন্যে]
কিছুক্ষন পরেই অর্থ চলে আসে।দেখে প্রাহি দুধটুকু খেয়েছে।স্বস্তির নিশ্বাস নেয় অর্থ।তারপর প্রাহির কাছে হটব্যাগটা দিয়ে বলে,
-” এটা দিয়ে তলপেটে সেক দেও।ভালো লাগবে!”
প্রাহি বাধ্য মেয়ের মতো তাই করলো।তারপর অর্থ প্রাহিকে ফল গুলো আর ডিমটা খাইয়ে দেয়।খাওয়া শেষে একটা পেইনকিলারও খাইয়ে দেয়।প্রাহির চোখ ছলছল করছে।এই সময়টা তার জীননে বহুবার এসেছে।ব্যাথায় ও এইভাবেই কাতরাতো।কিন্তু একটিবারও ওর প্রতি ওর মামা মামির কোনরূপ মায়া দয়া হতো না।এই অসহ্য যন্ত্রনা নিয়েই প্রাহির ঘরের সকল কাজ করতে হতো।কি বেদনাদায়ক লাগতো সেইসময় বলে বুজানো যাবে না।অতীত ভাবতেই একফোটা অস্রু গড়িয়ে পড়ে প্রাহির চোখ থেকে।অর্থ জিজ্ঞেস করলো,
-” কাঁদছ কেন?এখনো ব্যাথা করছে পেটে?”
প্রাহি আর নিজেকে সামলাতে পারলো না।বাচ্চাদের মতো ফুফিয়ে উঠে দ্রুত সহিত ঝাপিয়ে পড়লো অর্থ’র বুকে।দুহাতে অর্থকে শক্তকে জড়িয়ে ধরে ফুফিয়ে কাঁদছে মেয়েটা।এদিকে অর্থ হতভম্ব হয়ে আছে।মেয়েটা হঠাৎ এইভাবে ঝাপিয়ে পড়ায় বোধশূন্য হয়ে যায় ও।অর্থ খানিক বাদে সম্ভীত ফিরে পেতেই নিজেও দুহাতে জড়িয়ে ধরলো প্রাহিকে।আদুরে কন্ঠে বলে,
-” কি হয়েছে বলবে তো?”
প্রাহি কাঁদতে কাঁদতেই বলে,
-” আপনি এতো ভালো কেন?কেন এতো ভালোবাসেন আমাকে।জানেন এইসময়টায় আমি মামা মামির কাছে থাকতে কতোটা কষ্ট করতাম।বাড়ির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওরা আমায় খাবার দিতো না।এই সময় এমনিতেও আমার খেতে ইচ্ছে করতো না আবার ওরা খাবারও দিতো না।খিদে বসে যেতো তাই আমি আর খেতামও না।এভাবে প্রায় দুদিন চলে যেতো আমি পানি ছাড়া কিছুই খেতাম না।যখন সহ্য করতে না পারতাম খুদা তখন শুধু মরিচ ভর্তা দিয়ে ভাত দিতো মামি।কারন আমি তো ঘরের কাজ ভালোভাবে করতে পারতাম না।কারন আমি যে না খেয়ে থাকতাম শক্তি পাবো কোথা থেকে?খিদে চোটে যা দিতো তাই খেতাম।আর আজ দেখুন এতো এতো খাবার খাবো না বলে আমাকে কিভাবে আপনি খাইয়ে দিচ্ছেন।এতো সুখ কি আমার কপালে থাকবে বলুন।আমি যে বড্ড ভীতু।আমার ভয় করে এতো সুখে থাকলে।মা বাবাকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব।আপনাকে ভালোবাসি কিনা জানি না।তবে আপনাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। আমি পাগল হয়ে যাবো।আপনি আমাকে ছেড়ে কোনদিন যাবেন না অর্থ কোনদিন না।”
আবারও কাঁদতে লাগলো প্রাহি।এদিকে প্রাহির কান্নাজড়িত কন্ঠে উচ্চারিত হওয়া প্রতিটা শব্দ যেন অর্থ’র কলিজায় গিয়ে বিধেছে।তার প্রেয়সী ঠিক কতোটা কষ্টে ছিলো।কতোটা কষ্টের মাজেও নিজেকে বাচিঁয়ে রেখেছে।অন্যথা প্রাহির মতো এই বয়সী মেয়েরা কবেই আত্মত্যাগ করে দিতো।কিন্তু তার প্রাণনাশনী নিজেকে স্ট্রোং রেখেছে।অর্থ’র চোখের কোণেও অস্রুরা ভারি হয়ে উঠছে। অর্থ প্রাহির মুখটা সামনে আনে।তারপর যত্ন করে প্রাহির চোখের জল মুছে দেয়।দুহাতের আজলে প্রাহির মুখটা ধরে ওর কপালে গভীর চুম্বন করে।প্রাহি আবেশে চোখ বন্ধ করে নেয়।অর্থ এইবার বলে,
-” অতীতের কথা ভেবে নিজেকে আর কখনই কষ্ট দিবে না।মনে রাখবে তুমি এখন আমার ভালোবাসা।তোমাকে প্রতিটা মুহূর্তে আমি আগলে রাখবো।আর কখনো দুঃখ পেতে দিবো না।আর রইলো আমার কথা।আমি নিজেও তো তোমায় ছাড়া নিজের অস্তিত্ব ভাবতে পারিনা।তাহলে তোমাকে রেখে কোথায় যাবো আমি বলো।আর তুমি আমাকে না ভালোবাসলেও চলবে।আমার ভালোবাসাই যথেষ্ট।আমি তোমাকে আমার কাছেই রাখবো সারাজীবন।”
প্রাহির ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠে অর্থ’র কথা শুনে।অর্থ প্রাহিকে সুইয়ে দিয়ে বলে,
-” সাবধানে থাকবে ওকে।কিছু লাগলে হিয়া অথবা আম্মুকে ডাক দিও।কাকিমার শরীরটা ভালো না হাটুতে ব্যাথা তাই তাকে ডেকো না ঠিক আছে।সেলিমা খালাকেও ডাকতে পারো।আমি একটু কাজে যাচ্ছি।আমি আসলে আর কাউকে লাগবে না। ঠিক আছে?”
প্রাহি নিশব্দে মাথা নাড়ায়।অর্থ প্রাহির কপালে চুমু দিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।রুম হতে বের হতেই মুখটা থমথমে হয়ে যায় অর্থ’র।প্যান্টের পকেটে ক্রমাগত ভাইব্রেড হওয়া ফোনটা বাহির করে দেখে আরাফের কল।অর্থ দ্রুত রিসিভ করে কানে দেয়।ওপাশ থেকে আরাফের অস্থির কন্ঠে,
-” হ্যালো! অর্থ।দরকারি কথা শোন।প্রাহির মামা মামিকে এতো করা গার্ডে রাখার পরেও উনারা উধাও হয়ে গিয়েছে।”
অর্থ ডোন্ট কেয়ার মুড নিয়ে বললো,
-” আমি জানি।ইনফেক্ট আমি নিজেই তো উনাদের৷ পালানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছি।”
আরাফ অবাক হয়ে চিল্লিয়ে উঠে,
-” হোয়াট?আর ইউ ম্যাড অর্থ।তুই এটা কিভাবে করতে পারলি?এখন তারা গিয়ে যদি আরো ভয়ানক প্লান বানায় প্রাহিকে কিছু করে বসে।”
অর্থ’র চোয়াল শক্ত হয়ে আসে।রাগি গলায় বলে,
-” সেটা করার আগে ওদের এই ফাহিয়াশ অর্থ এর সাথে মুখোমুখি হতে হবে।একেকটার ভয়ানক মৃত্যু লিখা আছে এদের কপালে তাও আমার হাতে।শুধু সময়ের অপেক্ষা।”
আরাফ তুমুল অস্থিরতা নিয়ে বলে,
-” তোর প্লানটা এক্সেক্টলি ঠিক কি বলবি আমাদের?এতো খামখেয়ালি কেন করছিস?”
-” চিন্তা করিস না।আমাদের ডিপুতে রাতে আসছি হেমন্তকে নিয়ে সবটা ক্লিয়ার করবো।”
আরাফ বলে উঠে,
-” সে নাহয় বুজলাম।বাট এতোটুকু তো বল।তুই ওই খচ্চর বুড়োবুড়িকে এতো সহজে পালাতে দিলি কিভাবে?নাহলে আমি শান্তি পাবো না দোস্ত।”
অর্থ বাঁকা হাসলো। বললো,
-” তাহলে শোন……!”
একে একে অর্থ সব বললো আরাফকে। সব শুনে আরাফ ইয়া বড় একটা হা করে বলে,
-” মামা তুই দেখি হিটলারের উপরে হিটলার।আমি সিআইডি অফিসার হয়েও আমার মাথায় এতো বুদ্ধি নাই কেন?”
অর্থ হালকা হাসলো।তারপর আবারও করুন গলায় বলে,
-” তোকে যে কি বলে ধন্যবাদ দিবো আরাফ আমি ভেবে পাচ্ছি না।সামনে তোর বিয়ে তাও তুই এই কেসটা নিয়ে উঠেপুটে আমাদের সাথে তদন্ত করতে নেমেছিস।আমি তোর এতো বড় অবদান ভুলবো না।”
আরাফ রেগে যায়।রাগ নিয়ে বলে,
-” ফালতু কথা বললে তোকে এসে ঘারাবো হারামি।আমি তোর বন্ধু হয়ে যদি এটুকু করতে না পারি।তাহলে কি করবো বল।আর তুই আমাকে কি দিবি রে।তুই আমার দুনিয়ার সবচেয়ে বড় চাওয়াটা পূরন করেছিস।নিজের কলিজার টুকরো বোনটাকে সারাজীবনের তরে আমার হাতে তুলে দিয়েছিস।তার কাছে তোর এতোটুকু কাজ তো নিছক কিছুই না।”
অর্থ’র প্রান জুরিয়ে যায়।বললো,
-” আমার কলিজাটাকে দেখে রাখিস ভাই।”
-” ইনশাআল্লাহ। যতোদিন বেঁচে থাকবো।শেষ নিশ্বাস অব্দি ওকে আগলে রাখবো।”
-” আচ্ছা রাখি।ডিপুতে দেখা হবে।”
-” ওকে।”
ফোন কেটে দিতেই অর্থ নিজের কাজে চলে যায়।অপেক্ষা শুধু রাতের প্লানটা সবার সাথে ডিস্কাস করার।
#চলবে____
কেমন হয়েছে জানাবেন।ভুলগুলো ক্ষমা করে তা ধরিয়ে দিবেন।যাতে আমি পরিবর্তীতে তা ঠিক করতে পারি।
#প্রেম_এসেছিলো_নীরবে(১৭)
#সাদিয়া_জাহান_উম্মি
নিস্তব্ধ রাত।চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। থেকে কি জানি একটা পাখি ডেকে উঠছে।শরীর হিম করা সেই ডাক।ঝি ঝি পোকাগুলোর ডাক যেন পুরো জঙ্গল মাতিয়ে রেখেছে।এমন ভয়ানক জঙ্গলের মাজেই একটা পরিত্যক্ত পুরনো বাড়ির সদর দরজা ভেদ করে প্রবেশ করলো তিনজন লোক।গার্ড হিসেবে যারা ছিলো সবাইকে ওদের দেখে সালাম জানালো।তারাও মুচকি হেসে সালাম গ্রহন করলো।তারপর সোজা উপরের তলায় একটা রুমে ডুকে পরলো।রুমটায় বিশাল বড় একটে টেবিল, চৌদ্দটা চেয়ার আছে।সামনে বিশাল বড় একটা হোয়াটবোর্ড।টেবিলের উপরে একটা প্রজেক্টর ও পানির বোতল রাখা।বুজাই যাচ্ছে এটা একটা গোপনীয় মিটিং রুম।রুমটায় কড়া সিকিউরিটি দেওয়া।দরজায় ফেস লক দেওয়া।যাতে ওদের তিনজন ছাড়া আর কেউ এখানে প্রবেশ করতে না পারে। হ্যা, এটা আর কারো নয় অর্থ’র একটা পরিত্যক্ত বাড়ি।আর ওর সাথেই সেই দুজন হলো আরাফ আর হেমন্ত।ওরা নিরিবিলি গিয়ে চেয়ার টেনে বসে পরলো।হেমন্ত এইবার অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-” ভাই! আমাকে এইবার জলদি সবটা খুলে বলো।তুমি জেনে শুনে কেন ওর বাস্টার্ড দুটোকে পালাতে দিলে?”
অর্থ বাকা হাসলো।বললো,
-” এটাই তো আমার একটা স্ট্রিক্ট প্লান।”
হেমন্ত বুজতে না পেরে ভ্রু-কুচকে তাকালো।প্রশ্ন করলো,
-” মানে? কি বলতে চাইছো?এক্সেক্টলি ক্লিয়ার করে বলবা তুমি?”
অর্থ এইবার সোজা হয়ে বসলো।তার দুই ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো,
-” শুন,আমরা তদন্ত করে তো জানলাম যে প্রাহির বাবা মাকে ওর মামা মামিই খুন করেছেন।তুই(হেমন্তকে) যখন প্রাহির মা বাবার কেসটা রি-ওপেন করতে বললি। আমি তা না করে দিলাম।কারন এতো বছর পুরনো কেস ঘেটে লাভ নেই।পুলিশ তেমন একটা গুরুত্বও দিবেনা।তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আমার মতো করে কালপ্রিট ধরবো।তাই আরাফের সাথে আলাপ করলাম।ও সিআইডি অফিসার। আমার কাজটা সহজ হবে।তো আমরা প্রাহিদের বাড়িতে গেলাম।বাড়িটা তো মেরামত করা হয়েছে।তাই কোন প্রমান পেলাম না।তাই বুদ্ধি খাটিয়ে আম্মু আর কাকিমার থেকে প্রাহির বাড়িতে আগে যারা কাজ করতো সবার নাম জেনে নিলাম।এবং তারা কোথায় থাকে সেটাও জেনে নিলাম।আম্মুরা দুজনের ঠিকানা বলতে পারলো।কিন্তু প্রাহির মা,বাবা মারা যাওয়ার মাসখানেক আগে নাকি আরো দুজন কাজের লোক নতুন এসেছিলো তাদের ঠিকানা জানেনা।আমার সন্দেহ লাগলো তখনি।তাই আমার লোক লাগিয়ে দিলাম।প্রাহিদের বাড়ির আগে যেই দুজন কাজ করতো তাদের সাথেও যোগাযোগ করলাম।অবশেষে অনেক খুজে ওই দুটোকে পেলাম।দুটো মুখ খুলতে চাইছিলো না।থার্ড ডিগ্রি টর্চার করায় সবটা বলে গড়গড় করে।প্রাহির মামা মামিই ওদের টাকা দিয়েছিলো প্রাহির মা বাবাকে খুন করতে।তুই(হেমন্ত) যেদিন বিদেশ চলে যাবি।সেদিনই ওই লোক দুটো প্রাহিদের কিচেনের গ্যাস সিলেন্ডার লিক করে দিয়ে পালিয়ে যায়।আর সেদিন বাড়িতে প্রাহির মা, বাবা ছাড়া কেউ ছিলো না।কারন তারা তো আমাদের বাড়িতে আসবেন তাই সব চাকরদের ছুটি দিয়ে দিয়েছিলেন।তাই সবাই চলে গিয়েছিলো সকালের খাবার বানিয়ে দিয়ে আর টুকাটুকি কাজ কাম করে দিয়ে।তাই বাড়িয়ে যেহেতু কেউ ছিলো না।প্রাহির মা হয়তো কোন কাজে কিচেনে গিয়েছিলেন।আর গ্যাস জ্বালাতেই পুরো আগুন বিষ্ফোরিত হলো।আর প্রাহির মার গায়ে আগুন লেগে গেলো আর তাকে বাচাতে গিয়ে প্রাহির বাবাকেও আগুন ছাড় দিলো না।দুজনকেই তার তান্ডবে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিলো।”
অর্থ থামলো লম্বা করে নিঃশ্বাস ছাড়লো।সবার চোখজোড়া ছলছল করছে।অর্থ’র চোখজোড়াও জ্বলছে।তারই এই অবস্থা যখন সব সত্যি প্রাহি জানবে তখন কেমন করবে তার মেয়েটা।কি করে সামলাবে নিজেকে।আদৌ কি সামলাতে পারবে?অর্থ কি পারবে নিজের প্রাণপ্রিয়াকে আগলে রাখতে?
[আমি তো কাল একটু বলেছিলাম যে অর্থ আর প্রাহিকে আলাদা করে দিবো।দুষ্টুমি করেই নাহয় বলেছিলাম।আমি কি এতো অবুঝ যে আমাত এতোগুলো পাঠককে নারাজ করে তাদের কষ্ট দিবো।বাট আপনারা আমাকে অনেক হার্ট করেছেন।গল্প আর পড়বেন না।আর পড়ে কি হবে।বিচ্ছিরি গল্প না পড়লেই হবে।আমার অনেক খারাপ লেগেছে।আপনাদের যেহেতু এতোই খারাপ লাগলো আমার লিখা।আমি তাই জলদি শেষ করে দিবো গল্প।আপনাদের কথাই রাখবো হ্যাপি এন্ডিং দিবো।আমি নিজেই স্যাড এন্ডিং গল্প পছন্দ করেনা।জলদি গল্প শেষ করবো।যতো জলদি পারি।গতকালকের মজা করাটা আমার উচিত হয়নি ক্ষমা করবেন আমাকে।আজও ক্ষমা চাচ্ছি গল্পের মাজে এসব বলার কারনে]
হেমন্ত চোখজোড়া মুছলে তারপর ধীরে বলে,
-” এইগুলোতো জানি ভাইয়া।আসল কথায় আসো।”
-” পুরো ঘটনা বিস্তারিতভাবে না বললে বুজবি নাকি গাধা।”
আরাফ বলে,
-” তুই বল তো।আমার সহ্য হচ্ছে না আর।”
অর্থ আবারও বলতে লাগলো,
-” প্রাহির মামা মামিকে ধরে আনলাম।এতো টর্চার করলাম।স্বিকার করতে চাইলো না। পরে মার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে এইটুকুই বলে যে ‘ আমরা শুধু লোভে পরে এটা করেছি।আমাদের লোভ দেখানো হয়েছে।প্রাহির মা বাবাকে মারলে আমাদের পঞ্চাশ লক্ষ টাকা দিবেন।আর তাই আমরা সেটাই করি। কিন্তু আমরা লোকটাকে কোনদিন দেখিনি।সত্যি বলছি।সে শুধু ফোনে কথা বলতো।নাম জিজ্ঞেস করেছিলাম বলেছিলো তার নাম নাকি ব্লাকহান্টার।এটাই তার পরিচয়।ব্যস আর কিছু জানি না।প্রাহির মা বাবাকে মারার পর সব সম্মত্তি প্রাহির হবে আর তা প্রাহি পুরোপুরি ১৮ বছর হলেই একটা কাগজে সই করলেই হবে।প্রাহি সব সম্মত্তির মালিক।তাই প্রাহিকে নিয়ে আমাদের দূরে কোথায় পালিয়ে যেতে বলে আর প্রাহির ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বড় করতে বলে।ওর সব খরচ নাকি সে দিবে।আমরাও তাই তাই করেছি।আর লোকটা তার কথামতো আমাদের টাকা দিতো।কিন্তু আমরা তাকে চিনি না সত্যি।’ ব্যস তারা এটুকুই বললো।আমারও কেন জানি মনে হলো তারা সত্যি বলছে। কিন্তু এভাবে তো চলবে না আমাকে মেইন কাল্প্রিট ধরতে হবে। তাই একদিন উনাদের খাবারের সাথে ঘুমের ঔষুধ দিলাম।তারা খেয়ে ঘুমিয়ে গেলেই।উনাদের হাতে ছোট্টখোট্ট অপারেশন করে উনাদের হাতে জিপিআরএস বসিয়ে দিলাম।এইবার উনারা যেখানে যেখানে যাবেন সম্পূর্ণ খবর আমার কাছে আসবে।উনারা একদিন না একদিন তো ওই লোকটার কাছে যাবেই তাই না?আমি শুধু সেই আশায় আছি।শুধু একবার ঠিকানা পাই।আমি তাই উনাদের পালানোর সুযোগ করে দিলাম।আর আমাদের কয়েকটা গার্ডদের চব্বিশঘনটা এদের উপর নজর রাখতে বলেছি।”
হেমন্ত আর আরাফ হা করে তাকিয়ে আছে অর্থ’র দিকে।অর্থ কথা শেষ করে দুটোকে এইভাবে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে চোখ ছোট ছোট করে তাকায়।বলে,
-” হোয়াট?এইভাবে তাকাচ্ছিস কেন?”
হেমন্ত অবাক হয়ে বলে,
-” তোমার মাথায় এতো বুদ্ধি আসে কোথা থেকে ভাইয়া?”
অর্থ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,
-” তা জেনে তুই কি করবি?তুই দিনরাত দেবদাস হয়ে ঘুরেই দিশা পাস না।”
হেমন্ত থতমত খেয়ে গেলো।কাঁপা গলায় বলে,
-” কি বলতে চাইছো ভাইয়া?”
হেমন্ত’র এমন রিয়েকশন দেখে বাঁকা হাসলো অর্থ।বললো,
-” তুই কি ভাবিস?আমি কিছু জানি না?ইশিকে যে ভালোবেসে দিনরাত দেবদাস হয়ে উদাসিন থাকিস আমি বুজিনা?”
হেমন্ত হা করে তাকিয়ে থাকলো।এটা কেমন মানুষ। এই মানুষটার থেকে কিছুই লুকানো যায় না।হেমন্ত বলে,
-” তুমি আসলেই একটা হিটলার।কিছু লুকানো যায় না তোমার কাছ থেকে।”
আরাফ হেসে হেমন্ত’র কাধে হাত চাপড় মেরে বলে,
-” তাহলে ইশিকে বলে দিচ্ছিস না কেন?”
হেমন্ত মুখটা একটুখানি করে বললো,
-” বলতে তো চাই।কিন্তু এই মেয়ে যেই ভীতু।দেখা যাবে আমার সামনেই আর আসবে না কখনো বিয়ে তো দূরে থাক।আর ভাইয়া না বিয়ে করতে আমি কিভাবে বিয়ে করবো।ভাইয়া বিয়ে করে নিলে।আমি ওকে কিডন্যাপ করে হলেও বিয়ে করে নিতাম।বাট ভাইয়া যেই পুচকে মেয়েকে ভালোবাসে।সে এখনো ভালোবাসা কি সেটাই জানে না।তো আমি সেই শোকে দেবদাস হয়ে ঘুরবো না তো কি করবো?”
আরাফ আর অর্থ হেসে দিলো। আরাফ হাসি থামিয়ে একটু ভাবুক হয়ে বলল,
-” কিন্তু প্রাহির মামা মামি হঠাৎ প্রাহিকে ওমন একটা লোকের সাথে বিয়ে কেন দিতে চাইলো?”
অর্থ গম্ভীর স্বরে বললো,
-” কাল্প্রিটটা হয়তো কোনভাবে বুজেছিলো হেমন্ত প্রাহিকে খুজছে।তাই প্রাহিকে বিয়ে দিয়ে সেই লোকের সাথে ওর কাল্প্রিটটার কাছে পাঠিয়ে দিতো।কারন হঠাৎ করে তো আর একটা মেয়েকে উধাও করা যায় না।সমাজ নানান কথা বলে।প্রাহির মামা মামিকেও তাই করতো।প্রাহিকে দেখতে না পেলে অবশ্যই জিজ্ঞেস করতো ওর কথা।আর প্রাহিকে ওই এলাকার সবাই অনেক ভালোবাসে।তাই বিয়ের উছিলায় ওই লোকটার কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্যে ওসব করেছিলো।”
আরাফ, হেমন্ত,অর্থ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।আসল খুনিটাকে যে কিভাবে খুজে বের করবে।তাদের শক্তপোক্ত একটা প্লান বানানো লাগবে এর জন্যে।ভয়ানক প্লান।তিনজন মিলেই সেইগুলাই ডিস্কাস করলো।এইবার বাড়ি যাওয়ার পালা।অর্থ এইবার আরাফ আর হেমন্তকে বলে,
-” আপাততো আমরা তোর (আরাফ) আর হিয়ার বিয়ে না হওয়া অব্দি চুপ থাকি।এই কয়েকটাদিন ব্যস্ততায় কাটবে তাই বললাম।আর আমার লোকরা তো আছেই প্রাহির মামা মামির সাথে।যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাই তাহলে আগাবো।নাহলে কয়েকটাদিন চুপ থাকি আমরা।”
সবাই অর্থ’র সিদ্ধান্তে সায় জানালো।এরপর ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
#চলবে______

