রোদেলা লেখাঃ #মাহাবুবা_মিতু পর্ব-৮৫ (শেষ পর্ব)

0
38

#রোদেলা
লেখাঃ #মাহাবুবা_মিতু
পর্ব-৮৫ (শেষ পর্ব)

একটু আগেই বাড়ি ফিরেছে রোদেলা। দরজা পেরিয়ে রুমে ঢুকতেই সাফওয়ান জড়িয়ে ধরলো ওকে, রোদেলাও হাঁটু গেড়ে খাটো হয়ে ভালো করে ধরলো ওকে। তারপর কোলে নিয়ে দরজা লক করলো। কোলে থাকা সাফওয়ান এক এক করে বলতে শুরু করলো ওর আজকের স্কুলের গল্প।

সারাদিন যত ব্যাস্ততা, আর কষ্টের ভিতর দিয়েই যাক না কেন, রোদেলা এ গল্প শোনে মনোযোগ দিয়ে। যদি কখনো কাজের চাপ থাকে তাহলে রান্না ঘরে কিংবা বারান্দায় টুলের উপর বসিয়ে দেয় ওকে। কাজ করতে করতে শোনে সাফওয়ানের গল্প। এটা ওটা প্রশ্ন করে ওকে। আজ ও বললো-
ওদের ক্লাসের মিস কিভাবে সবাইকে নিয়ে ট্রেন ট্রেন খেলেছে। ওর বন্ধু আজ ওর টিফিন খেতে চেয়েছিলো, এবং ও তা দিয়েছে ওকে, আরেক বন্ধু ওকে নাগেট দিয়েছে, এমনি অবান্তর অনেক কথা। তবুও রোদেলা অখণ্ড মনোযোগের সাথে কথাগুলো শুনে। যেন দেশ পরিচালনার নীতিনির্ধারণীর বিষয়ে কথা বলছে সাফওয়ান, কোন পয়েন্ট মিস করা চলবে না, সুফিয়ানও তাই করে । ওদের চার বছর বয়সী ছেলেটা খুবই এক্সাইটেড নতুন স্কুল আর বন্ধুদেরকে নিয়ে। ইদানীং সেসব গল্প বলে ও। রোদেলা ওকে টয় হাউজের সামনে বসিয়ে বললো-
: ” তুমি এখানে বসে খেলো আমি একটু আসছি রান্নাঘর থেকে ”
: “ঠিকাছে মা”

রোদেলা রান্নাঘরে গেলে, দুজনের জন্য কফি তৈরী করে বসলো বারান্দায়। কফি শেষ করে রোদেলা রান্নাঘরে গিয়ে রান্নার আয়োজন করলো। ওরা সবাই এলো বলে। প্রতি উইকেন্ডে রেজওয়ান আসে ওর পরিবার নিয়ে, অনিমাও চলে আসে ওর দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে। ওর শ্বশুর মা*রা যাবার পর পরিবার নিয়ে এখানে চলে এসেছে বছর হতে চললো। ওর বরের ব্যাবসা ভালো যাচ্ছিলো না, দুই ভাই-ই এখানে সেটেল, বললো চলে আয় তোরা ঠিক একটা ব্যাবস্থা হয়ে যাবে। দেশের পরিস্থিতি আর ওদের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে ইংল্যান্ড চলে এলো ওরাও। প্রতি উইকেন্ডেই ওরা সবাই একসাথে হয় রোদেলাদের বাসায়।

সারা সপ্তাহ ব্যাস্ত থেকে উইকেন্ডে একটু রেস্ট নিবে, রিল্যাক্স করবে এমনটাই ভাবে প্রতি সপ্তাহে। কিন্তু সেই একই কাজ করে প্রতিবার। এটাই অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে এ পরিবারের। এতে রোদেলা ক্লান্ত হয় না বরং ওর ভীষণ ভালো লাগে সবাইকে একসাথে পেয়ে। কারন বিদেশবিভুঁইয়ে একেবারে কাছের আত্নীয় থাকা ব্লেসিং। এজন্য রোদেলা সবসময় খোদার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। তা না হলে জীবণটায় সব কিছু থেকেও পানসে লাগতো হয়তো। তার মানে এই না যে যাদের কাছের আত্নীয় নেই তারা ভালো নেই। তারাও ভালো থাকার উপায় খুঁজে নেয় নিজেদের মতো করে।

কফি শেষ করে ভেবে নিলো কি তৈরী করবে ও আজকের জন্য, মনে মনে ভাবলো – নুডলস, সবজির পাকোড়া, পেয়াজু, বেগুনি এসব তৈরী করবে, আর বাচ্চাদের জন্য স্যান্ডুয়েচ, চিকেন ফ্রাই ।

ওরা আসার আগেই সব কাজ শেষ করতে চায় রোদেলা। যাতে সবাই একসাথে বসে আড্ডা দিতে পারে।

ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে কফির মগ হাতে সুফিয়ান রান্নাঘরে গেলো রোদেলাকে হেল্প করতে। সাফওয়ান এসে বললো-
: “জানো বাবা আজ কি হয়েছে? ”
: “কি হ’য়েছে?”
এরপর শুরু হলো বাবা-ছেলের গল্প…
সুফিয়ান পাকোড়া ভাজছে আর টুলে বসে থাকা ছেলের এই সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। পাশে দাঁড়িয়ে স্যান্ডুয়েচের পুর তৈরী করতে করতে তা দেখছে রোদেলা। ভাবছে বাবার সাথে গল্প করার এমন স্মৃতি নেই ওদের ।

সাফওয়ান জন্মাবার পর রোদেলা ওর কাজ কমিয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র ইউনিভার্সিটির ক্লাস গুলো করে বাড়ি চলে আসে। আপাতত কোন রিসার্চের কাজে ইনভলভ হচ্ছে না ও। ছেলেটা একটু বড় হোক তারপর না হয় আবার পুরে দামে কাজ শুরু করা যাবে। জীবণে যে লক্ষ্য ছিলো তা পূরণ হওয়ার পর অর্থের পেছনে ছোটাটা অর্থহীন মনে হয়েছে ওর কাছে। সুফিয়ান বরাবরের মতো এবারও সমর্থন করেছে ওকে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ চলে এলো অনিমা,
এর আধঘন্টার মধ্যে রেজওয়ান। প্রিসিলা এসেই মেয়েকে রেজওয়ানের কাছে দিয়ে দৌড়ে গেলো রান্নাঘরে। অনিমার মেয়েটা ছোট তাই ও সাহায্য করতে আসলেও রোদেলা ওকে কোন কাজ করতে দেয় না, ঘরে গিয়ে বসতে বলে। প্রিসিলা রান্নাঘরে গিয়ে ছুটি দিলো সুফিয়ানকে। ওরা তিন ভাইবোন একসাথে বসে গল্প করছে। একটু পর গিয়ে ওদেরকে চা দিয়ে আসলে প্রিসিলা৷ এসে বাকী পিয়াজু গুলো ভেজে ফেললো।
অন্য চুলায় থাকা চিকেন ফ্রাই নাড়তে নাড়তে প্রিসিলা রোদেলাকে জিজ্ঞেস করলো –
: “আপা কিছু ভেবেছিস?”

তৈরী করা স্যান্ডুয়েচ গুলো দুই টুকরায় ভাগ করছে রোদেলা, সে অবস্থায় কাজটা থামিয়ে ও তাকালো প্রিসিলার দিকে, যেন প্রিসিলা কি বলছে তা বুঝতে পারছে না ও…

প্রিসিলার দৃষ্টি তখনো ফ্রাইপ্যানেই নিবদ্ধ, যেন চোখ দু্টো দেখাতে চায় না ও রোদেলাকে। এমন অবস্থায়ই বললো-
: ” তার শিক্ষা হবে না জীবণেও, তুই এক কাজ কর কৃষ্ণচূড়া বাড়িটা বিক্রি করে দে, তারপর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরুক তিনি, তবে তুই ভাবিস না, তাতেও তার শিক্ষা হবে , দেখবি দামড় নোভেলকে কোলো করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন তিনি”
: ” আমি কিছু ভাবতে পারছি না, অথচ তাকে কত বলেছি এ রকমটা না করতে, শুনেনি তখন আমার কথা, এখন কাঁদে”
: ” কাঁদা! হুহ্ এটা তার ভং। উনি একটা স্বার্থপর মহিলা, দুঃখ শুনাই না তো তাই ভাবেন মেয়েরা তো ভালো আছেই,
যত এখান থেকে নিয়ে ওদেরকে দিতে পারে ততই তার লাভ, বড় সাজা বুঝলি। এদের সব ভাইবোনদের এই এক অসুখ। বড় আর মহান সাজা ”
: ” তোর কি মনে হয় আমি এসব বুঝি না ”
: ” বুঝিস তাহলে বারবার একই ভুল কেন করিস? ”
: ” কানের সামনে ভনভন করে, এর ওর সমস্যা বলে, একটা বারও জিজ্ঞেস করে না আমি কেমন আছি, কিভাবে যাচ্ছে দিন, কিংবা তিনি কেমন আছে তাও বলে না। ফোন করলেই সেই একই গান, এর এই হয়েছে, ওর ঐ হয়েছে”
: ” তুই বেশী ভালোগিরি দেখাতে গিয়ে সবসময় এমন পরিস্থিতিতে পরিস, তাও হুস হয় না তোর ”
: ” দেখ এমন একটা পরিস্থিতির জন্য কিন্তু সেই দায়ী, হুট করে একটা কাজ করে ফেলে, কাল কি হবে তা একবারের জন্য ও ভাবে না, এ অবস্থায় বাড়িটা বিক্রি করলে সব দোষ আমার কাঁধে আসবে ”
: ” এ মহিলা ভাইবোনের পরিবার বলতে অজ্ঞান, তার মাথায় গু ও নাই বুঝলি। আর দোষের কথা কি বললি? তুই কি ভাবিস দুই খালা মনির কেউ আমাদের ভালো জানে?”
: ” কিচ্ছু মাথায় ঢুকছে না”
: ” আচ্ছা ভাইয়া কি বলে? ”
: ” তোর ভাইয়া হাসে, অথচ দেখ যতই আমার টাকায় কেনা বাড়ি হোক সেটা, সুফিয়ানের জায়গায় অন্য কেও হলে এ ব্যাপারটা নিয়ে কিন্তু ঘরে অশান্তি করতো”
: ” আসলে কি জানিস, বলদ দুটো মেয়ের জামাই পাইছে তো যা খুশি তা করে, অন্য মেয়ে জামাইদের মতো পান থেকে চুন খসলেই লাত্থি মেরে বাপের বাড়ি ফেলে রাখতো বছরের পর বছর, তাহলে হুশ হতো ওদের। তুই বল ভাইয়ার ব্যাবসায় টাকার দরকার, কত জামাই শ্বশুর বাড়ি থেকে সাহায্য নেয়, এটা তো ওর বউর টাকায় কেনা। আজ বিপদে পরলে এটা ও পেতেই পারে”
: ” কিন্তু বিপদ তো হয় নি ”
: ” তোর ভালো গিরি এবার বন্ধ কর আপা, বাড়ি হাতের বাইরে চলে গেছে, এখনো সময় আছে বিক্রি তুই করলে টাকাটা তুই পাবি, তা না হলে দুদিন পর ব্যাংকের জিম্মায় চলে যাবে সেটা, সে ব্যাবস্থাই তোর মা জননী করেছেন”

কথাটা শেষ হতেই চুলা বন্ধ করে প্রিসিলা, সোনালী রঙের চিকন ফ্রাই গুলো একটা প্লেটে তুলে সেটা নিয়ে বেরিয়ে যায় রান্নাঘর থেকে।

রোদেলা হাতের কাজ শেষ করে চুলা পরিষ্কার করতে নিতেই প্রিসিলা এসে বলে-
: ” তুই গোসলে যা, আমি পরিস্কার করছি ”
রোদেলা চিন্তামগ্ন অবস্থায় বেরিয়ে যেতেই প্রিসিলা বললো-
: এত কেন ভাবছিস আপা? মা তো আমারও বল, মা আমাদের বুঝে না, বুঝবে না কোন দিনও। তাকে বদলানোর চেষ্টাটা এবার বাদ দে”
: ” বাদ দেই কিভাবে বল, সারাদিন এসব ঘুরে মাথার মধ্যে। সেদিন বলে কিনা কি করেছিস আমাদের জন্য? দুঃখে আমার মন চাইছে ম*রে যাই। আল্লাহ আমাকে এত সামর্থ্য দেওয়া সত্বেও কোন বিলাসিতা করি না আমি, টাকা জমাই, কখন কোন কাজে লাগে তা ভেবে, সবার খুশির কথা ভাবি, সব কিছু কি ওর কাছ থেকে বলে কয়ে করি, এদিকে বাবা-মা কে বড় করি সুফির কাছে, ঐ দিকে বাবা-মায়ের কাছে বড় করি সুফিকে। এই খেলায়-ই আমার জীবণ শেষ। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে যোগাযোগ বন্ধ করে দি, যা হয় হয়ে যাক, কিন্তু আবার ভাবি যেমনি হোক আমাদেই তো মা”
: ” আমাদের পরিবারে তোর অবদান অনেক, এটা তিনি অস্বীকার করলেও মিথ্যা হয়ে যাবে না। তোকে এসব বলে আবার সবার কাছে ঠিকই তোদের সুনাম করে।
: ” মানুষের কাছে সুনাম করলে আমার কি তাতে? সে আমাকে বলে কি করছিস আমাদের জন্য, আর মানুষের কাছে সুনাম করে, লাভ কি তাতে, দিন শেষে আমি তো সেই ঘৃণাই করছি তাকে, বিশ্বাস কর বিন্দু মাত্র ভালোবাসা নেই আমার তার প্রতি। যা করি শুধু খোদার দিকে চেয়ে ”
: “তুই করিস বেশী, তোর দোষও বেশী। মাথা ঠান্ডা করে ভাব, তারপর সিদ্ধান্ত নে, তাকে নিয়ে ভাবিস না। বাড়ি বিক্রি করলেও আমরা দুজন মিলে ঠিক তাকে চালিয়ে নিবো।

একথার উত্তরে রোদেলা কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে চলে গেলো বাথরুমে।

সবকিছু রেডি করে চা নিয়ে বসলো প্রিসিলা। মাথা ব্যাথা করছে ওর বিকেল থেকে। নাশতা মোটামুটি তৈরী। রোদেলা ফ্রেশ হয়ে এলেই মুভি শুরু হবে।
অনিমা প্রিসলাকে বলে-
: “ভাবী ঐ ব্যাগে থাকা বক্সটা একটু বের করো তো, আমি ভুলেই গিয়েছি”
: ” কি আছে বক্সে? ”
: “খুলেই দেখো”
: ” বাহ্, তুমি দেখি তোমার সিগনেচার ডিস তৈরি করে এনেছে…”
: ” হুম, তোমারা সবাই পছন্দ করো তাই…”

অনিমা সরিষার তেল দিয়ে গরুর গোশতের তেহারী রান্না করে এনেছে সবার জন্য। অনিমার হাতের এ রান্নাটা সবার বেশ প্রিয়। তাই মাঝে মাঝেই এ ডিসটা রান্না করে ও। ও জানে রোদেলা ওকে কিছু করতে দিবে না। তাই ফোন করে বলেছে ওকে ভারী রান্না না করতে।

আটটার মধ্যে সবাই বসলো ড্রইং রুমে। টিভির পর্দায় চলছে সদ্য মুক্তি পাওয়া “এভারটার – থ্রি!”

মুভি শেষ হতেই কথা, গল্প, আড্ড চললো শেষ রাত পর্যন্ত।
এমনি হয় প্রতিবার। তবে আজ কেমন যেন তাল মিলাতে পারছে না রোদেলা। নাশতার চাপে অনিমার তেহারী আর খাওয়া হয় না। সেটা ফ্রিজে তুলে রাখে রোদেলা পরের দিনের জন্য।

রাত পৌণে চারটা।
কিছুক্ষণ আগে আড্ডা ভাঙ্গলো। ফজরের নামাজ পরে সবাই যার যার ঘরে ঘুমাবার আয়োজনে ব্যাস্ত। বাচ্চারা ঘুমিয়েছে অনেক আগেই। রোদেলা ড্রাইং রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে। ওকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সেখানে গিয়ে ওর পাশে দাঁড়ায় সুফিয়ান। ওকে দেখে মুচকি হাসে রোদেলা । তারপর দুজনে দাঁড়িয়ে দেখে রাতের ওয়েলস শহরকে। ওদের এ বাসাটার বারান্দা থেকে ভিউ খুবই সুন্দর। এখানে দাঁড়িয়ে বাড়ির সামনের আঁকাবাকা পথটা শেষ হয়েছে যেখানে, সে পর্যন্ত দেখা যায়। দুইপাশের দোকান, বাড়ি ঘর, স্কুল আর বাড়ির পাশের মাঠটা দেখা যাচ্ছে। একটু সময় পর সুফিয়ান বললো-
: “ঘুমাবে না”
: ” হুম”
: “চলো তাহলে”
: ” আপনি যান আসছি আমি”
: ” আমার কোন কাজ নেই, একটু দাঁড়াই তোমার সাথে?”
: ” দাঁড়ান! এভাবে বলার কি আছে ”
: ” তুমি কি কোন কারনে চিন্তিত ”
: ” না, এমনিই মনটা কেমন যেন লাগছে”
: ” মা’র ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তিত?
: ” কিভাবে বুঝলেন? ”
: ” তখন দু’বোন কি যেন বললে মায়ের ব্যাপারে, বেসিনে হাত ধুতে গিয়ে শুনলাম আবছা করে, তাই অনুমান করলাম”
: ” ও বলছে বাড়িটা বিক্রি করে দিতে, আমি কি করবো বুঝতে পারছি না।
: ” কি বলবো বলো, মা এত বোকা! নিজের বুঝ বুঝে না”
: ” মা এমন কেন সুফি? ”
: ” এমন কিছু হবে আমি আগেই জানতাম, তখন বলি নি পাছে তুমি কি ভাবো। বাদ দাও এসব, চল আমরা ঘরে গিয়ে কথা বলি, ঠান্ডা বাতাস বইছে”
রোদেলা তবুও দাঁড়িয়ে রইলো সেখানে, একটু পর সুফিয়ান খেয়াল করলো রোদেলা কাঁদছে। ওকে ঘুরিয়ে বুকে টেনে নিলো সুফিয়ান। সুফিয়ানের বুকোর উম রোদেলার কান্নাটাকে যেন উস্কে দিলো, বাচ্চাদের মতো কাঁদতে লাগলো রোদেলা। এত শক্ত মেয়েটার কান্না দেখে হুহু করে উঠলো সুফিয়ানের বুক। অনবরত মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে সুফিয়ান। যেন এখনি শান্ত হয়ে যাবে ও।

কান্না জড়ানো কন্ঠে রোদেলা বললো-
: ” মা আমাদেরকে কেন বুঝে না সুফি? খোদা এ জীবণে
সব দিয়ে, কেন মায়ের মমতা থেকে আমাদের বঞ্চিত করলেন? এত কিছু তো হতে চাই নি আমি, আমি চেয়েছি তার একছত্র মনোযোগ, ভালোবাসা। অথচ তার যত চিন্তা সব অন্যকে নিয়ে, আমাদেরকে নিয়ে ভাবার সময় তার হয় না, তিনি অন্যের দুঃখে কাতর, অথচ আমাদেরকে কখন কিসের ভিতর দিয়ে যেতে হয় তা টেরও পান না, কেমন মা তিনি?

এর কোন উত্তর জানা নেই সুফিয়ানের। তবুও ও যা পার তা দিয়ে ওর এই শূন্যতা পূরণ করতে চায় সুফিয়ান। ওকে ভালোবেসে, সবসময় ওর পাশে থেকে। কিন্তু মায়ের মমতার জায়গা পূরণ করবে এমন কিছু কি আছে এই পৃথিবীতে? বরাবর বৃথা চেষ্টা করে সুফিয়ান, কারন রোদেলাকে যে ও নিজের চেয়েও বেশী ভালোবাসে।

সমাপ্ত……

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here