#কাজল_কালো_ভ্রমর
#পর্ব১৬
#Raiha_Zubair_Ripte
তুমি যদি ওকে বিয়ে করতে চাও তাহলে আমার কি হবে, তুমি তো আমাকেও ভালোবাসতে, তোমার মনে তো আমার ও বিচরণ ছিলে আয়ুশ,তাহলে এক মনে তুমি কয়জন কে বিচরন করতে দাও।
পেছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে ভেসে আছে এই কথাটি। আয়ুশ ঘাবড়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে।
আহিল পেছনের সেই মেয়েলি ব্যাক্তি টাকে দেখে বলে, আরে আপনি।
_ হ্যাঁ আমি।
আয়ুশের দিকে এগিয়ে সাদিয়া আবার বলে,,
_ তুমি তো ভালোবাসতে আমায়, তাহলে এই মেয়েকে কেনো তুমি বিয়ের কথা বলছো,কে হয় এই মেয়ে তোমার।
আহিল আর মিহিকা দুজনে একে অপরের দিকে চায়, কি হচ্ছে কিছুই তাদের মাথায় ঢুকছে না। মিহিকা খানিকটা এগিয়ে সাদিয়ার সামনে গিয়ে বলে,,
_ আপু আপনি এসব কি বলছেন,আমি আয়ুশ ভাইয়ার বোন,আর আয়ুশ ভাইয়া তুমি এসব কি বলছিলে এতোক্ষণ আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
সাদিয়া কিছু একটা ভেবে শয়তানি হাসি দিয়ে লজ্জা পাওয়ার ভান করে বলে,,
_ ওহ তুমি আয়ুশের বোন,এই আয়ুশ তুমি কি তাহলে মিহিকা কে দিয়ে প্রেকটিস করছিলে কিভাবে আমায় জানাবে তুমি, হাউ সুইট গো তুমি। উফ সত্যি কতো ভালোবাসো তুমি আমায়।
আয়ুশ কিছু না বলে সাদিয়ার হাত টেনে মিহিকা আহিলের থেকে খানিকটা দূরে নিয়ে যায়,, সাদিয়ার হাত টা ছেড়ে রাগী গলায় শুধায়,,
_ কি শুরু করলে তুমি,আমি ভালোবাসি মিহিকা কে আর মিহিকা কেই বিয়ে করতে চাই,তুমি এসব কেনো করছো।
_ তুমি জানো না আমি এসব কেনো করছি,আমি ও ভালোবাসি তোমায়,আর তুমি তো গিরগিটি যখন তখন রং বদলাও,তুমি শুধু দেখতে থাকো আমি কি করি,তুমি নিশ্চয়ই চাইবে না তোমার এই রূপ টা মিহিকা দেখুক।
কথাগুলো বলে সাদিয়া মিহিকা আর আহিলের সামনে আসে।
_ সরি মিস্টার আহিল,তখন হুট করে ওভাবে ক্যাফে থেকে চলে যাবার জন্য, আসলে আয়ুশ আর আমি খুবই চিন্তিত আমাদের রিলেশনটা নিয়ে আসলে বিদেশে থাকা কালিন আমাদের সম্পর্ক গড়ে উঠে,এখন ফ্যামিলি কে কিভাবে জানাবো সেটাই বুঝতে পারছি না।
_ আরে চিন্তা করো না আপু আমি আছি তো,ফুপি আর ফুপা কে রাজি করানো টা আমার উপর ছেড়ে দাও,আমি তাদের রাজি করিয়েই ছাড়বো।
খুশি হয়ে বলে উঠে মিহিকা,এর মধ্যে আয়ুশ ও চলে আসে,মিহিকার এমন কথা শুনে মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে যায় আয়ুশের,আয়ুশের এমন মুখ দেখে সাদিয়া মনে মনে হেঁসে উঠে। মিহিকা আয়ুশের হাত ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলে,,
_ এই আয়ুশ ভাই তলে তলে এতদূর চলে গেছো,একটিবার জানালেও না যে আমার জন্য এতো সুন্দর একটা ভাবি লুকিয়ে রাখছো আমি তে আজ ফুপি কে বলবো তার ছেলে কি করে বেরাচ্ছে।
_ সে না হয় তুমি বলো কিন্তু আয়ুশের বাবা মাকে রাজি করিয়ে প্লিজ আমার বাসায় প্রস্তাব পাঠাতে বলো। আমরা একে ওপর কে অনেক ভালোবাসি।
_ চিন্তা করো না আমি ঠিক ফুপি কে রাজি করাবো।
এর মধ্যে সামিরা অভি চলে আসে, এসে সাদিয়া কে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে সামিরা ও কে। মিহিকা সব খুলে বলে। সামিরা সব শুনে সাদিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে বলে,
_ মাশাল্লাহ আপু তুমি তো অনেক সুন্দর, আয়ুশ ভাইয়ার সাথে তোমায় খুব মানাবে। আজই ফুপি কে তোমার কথা জানাবো।
এভাবে আরো কিছুক্ষণ তারা গল্প করে,গল্পের পুরোটা সময় আয়ুশ চুপ ছিলো,মনে মনে সাদিয়াকে কয়েকশো বার বকে।
আড্ডা দেওয়া শেষ হলে অভি বলে উঠে এবার বাসায় ফেরা উচিত,অভির সাথে সায় জানায় সবাই,মিহিকা কৌশলে বলে উঠে,,
_ এই আয়ুশ ভাইয়া সন্ধ্যা হয়ে গেছে তুমি বরং সাদিয়া আপু কে বাসায় দিয়ে আসো।
আয়ুশ এবার মুখ খুলে,,
_ তাহলে তরা যাবি কিভাবে বাসায়।
আহিল ফট করে বলে উঠে,,
_ চিন্তা করবেন না আমি ড্রপ করে দিবো ওদের আর অভি তো আছেই।
অভি ও সায় জানিয়ে বলে,,
_ হ্যাঁ আয়ুশ আপনি নির্দ্বিধায় উনাকে দিয়ে আসুন আমি আর আহিল মিলে পৌঁছে দিবো ওদের।
আয়ুশ আর কিছু না বলে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সাদিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে,আসো।
সাদিয়া মুচকি হেঁসে ওদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় আয়ুশের সাথে।
আহিল অভি সামিরা মিহিকারা আর সময় নষ্ট না করে আহিলের গাড়িতে উঠে পড়ে। মিহিকা গিয়ে পেছনের সিটে সামিরার সাথে বসতে নিলে অভি এসে সামিরার পাশে বসে পড়ে। মিহিকা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,,
_ ভাই আপনি এখানে বসলেন যে।
_ সামিরার সাথে কিছু ইম্পরট্যান্ট কথা আছে,তুমি গিয়ে সামনের সিটে আহিলের পাশে গিয়ে বসো।
মিহিকা আর কথা না বাড়িয়ে সামনের সিটে এসে বসে পড়ে, আহিল এবার মিহিকার দিকে চেয়ে গাড়ি চালাতে শুরু করে।
সন্ধ্যা রাস্তায় জ্বলছে ল্যাম্প পোস্টের আলো,হালকা শীতল বাতাস মনটাকে শান্ত করে তুলছে,মিহিকা আপন মনে বাহিরের দৃশ্য দেখতে ব্যাস্ত,আহিল ক্ষনে ক্ষনে মিহিকার দিকে চায়,মিহিকার এই শান্ত শীতল রূপ টা কেনো যেনো আহিল কে খুবই আকৃষ্ট করছে।
আজ হঠাৎ কি হলো আহিলের যে এই শ্যাম কালো ভ্রমরের ন্যায় মেয়েটার দিকে বারংবার তাকিয়ে বেড়াচ্ছে।
পেছনের সিট থেকে সামিরা আর অভি বিষয়টা খেয়াল করে।
___________________
_ এই এই গাড়ি থামাও এখানে।
হঠাৎ মাঝরাস্তায় এসে সাদিয়া বলে উঠে আয়ুশ কে। আয়ুশ এমন আচমকা কথা শুনে জোড়ে ব্রেক কোষে।
_ কি ব্যাপার এখানে গাড়ি থামাতে বললে কেনো।
সাদিয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,,
_ আমি এখানেই নামবো তোমার সাথে এক গাড়িতে যাওয়ার রুচি নেই।
_ রুচি নেই তাহলে আমার পেছন পড়ে আছো কেনো,তখন ওমন ড্রামা করলেই বা কেনো।
_ ও তোমার মোটা মাথায় ঢুকবে না,তোমার বোনকে আজ ভালোই উসকে দিলাম,দেখো কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায়।
_ তুমি কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি করছো সাদিয়া,
সাদিয়া গাড়ি থেকে নেমে পার্স থেকে পাঁচশত টাকার নোট বের করে আয়ুশের হাতে ঠুসে দেয়।
আয়ুশ টাকা রা মেলে ধরে বলে,,
_ কিসের টাকা দিচ্ছো তুমি এটা।
_ ওমা কিসের আবার তোমার গাড়ি ভাড়ার টাকা, এতো কষ্ট করে নিয়ে আসলে এতোটা পথ তাই খুশি হয়ে বকসিস দিলাম রেখে দাও,বাই বাই।
কথা গুলো বলে সাদিয়া চলে যায়। আয়ুশ রাগে হাত মুঠোবন্দি করে ফেলে। গাড়ি ঘুরিয়ে বাসার দিকে যায়।
🌸
মিহিকা সামিরা বাসায় এসেছে প্রায় মিনিট পঁচিশের মতো। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে বলকনিতে ফোনটা নিয়ে দাঁড়ালে হঠাৎ ফোনে একটা অচপনা নাম্বার থেকে ফোন আসে,মিহিকা কৌতূহল নিয়ে ফোন টা রিসিভ করে।
ফোন রিসিভ করলে ওপাশ থেকে কোনো আওয়াজ আসে না,মিহিকা বার বার হ্যালো হ্যালো করে কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ রেসপন্স করে না,মিহিকা রেগে ফোন কেটে দেয়,ফোনের দিকে তাকিয়ে বলে,,
_ আজাইরা ফালতু লোক ফোন দিয়ে যে কথা বলতে হয় সেটাও জানে না। রেগে বেলকনি থেকে রুমে চলে আসে।
আহিল ছাঁদে দাঁড়িয়ে আছে,একটু আগেই মিহিকা কে ফোব করেছিলো,আজ ফেরার পথে অভি আহিলের ফোনে মিহিকার নাম্বার দিয়ে দেয়,আহিল ও কেনো যেনো না করে নি যখন নাম্বার টা দিতে চাইলে অভি।
অভি সামিরার থেকে মিহিকার নাম্বার নেয়,বাড়ি ফেরার পথে অভি আহিলের সাথে মিহিকাকে নিয়ে কথা বলে,আহিল ও খুব মনোযোগ দিয়ে অভির প্রতিটি কথা শুনে,কথার এক পর্যায়ে অভি আহিলের থেকে আহিলের ফোন চায়,আহিল কিসের জন্য সেটা জানতে চাইলে অভি বলে,,
_ আমার শালিকা কে না তুই চাইলি তাই দেওয়ার ব্যাবস্থ করছি দে ফোন দে।
আহিল ও বিনা বাক্যে ফোন দিয়ে দেয়।
বাসায় আসার পর থেকে একদণ্ড ও স্বস্তি নিয়ে বসতে পারে নি আহিল,থেকে থেকে বারবার মিহিকার মুখ ভেসে উঠছে,খুব করে তার সেই গলার শব্দ শুনতে ইচ্ছে করছে। তাই কোনে কিছু না ভেবেই নাম্বারে কল লাগায় আহিল।
মিহিকা ফোন রিসিভ করে হ্যালো বললে,আহিলের অশান্ত মনের প্রলয় টা শান্ত হয়। মিহিকা যে বারবার হ্যালো বলছে সেটা আহিলের কানে পৌঁছালেও নিজে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলছে।
কি বলবে সে,যদি জানতে চায়,আমি কে?নামৃবার কোথায় পেলাম তখন!
এসব ভাবনার মাঝেই মিহিকা ফোন কেটে দিলে আহিল বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে,
“কি ক্ষতি হতো তার যদি আরেকটু খানি বলতো কথা আমার সাথে,জানতেই না হয় চাইতাম কি এমন করলো আমায় যে বারংবার উড়ে আসে আমার মন-মস্তিষ্কে অশান্ত করে তুলছে ক্ষনে ক্ষনে।
পরক্ষণেই আবার তার মন স্বত্বা বলে উঠে,, না সে তো কিছু করে নি,আমার মন-মস্তিষ্কই বারংবার তার উপর আকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছে এটা কি আদৌও উচিত?
#চলবে
( ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,একটা বড়সড় কমেন্ট চাই, হ্যাপি রিডিং)

