আঁধারের_তারাবাজি #অভ্রায়ীনি_ঐশি #পর্ব_২০

0
990

#আঁধারের_তারাবাজি
#অভ্রায়ীনি_ঐশি
#পর্ব_২০

সন্ধ্যা বেলায় নোভার রুমে গল্পের আসর জমিয়েছে নোভা,ইশু আর মোম।আখিও একটু পর পর এসে এটা ওটা বলে আবার ছুটছে রান্নাঘরে রুবিকে সাহায্য করতে।বাকিরা বাড়িতে নেই।পলি বেরিয়েছে নিজের ছোটখাটো শাড়ীর ব্যবসা সামলাতে।অবনরা নিজেদের অফিসে।নিশান ব্যাংকে আর নভ তার কাজে।,,,,

আড্ডার মাঝেই হঠাৎ করে একটা মেয়ে এসে উপস্থিত হলো।পড়নে স্লিভলেস কোমর পর্যন্ত টপস।সাথে জিন্স যার হাটুর কাছটায় ছেড়া,,,যেটাকে আজ কাল স্টাইল বলে বিবেচনা করা হয়।,,,

এসেই ধুম করে উপুর হয়ে সবার মাঝে শুয়ে পড়লো খাটে।,,,হঠাৎ এমন হওয়ায় মোম জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো নোভার দিকে। তা ঠিকই খেয়াল হলো মেয়েটির।,,,,ডার্ক লিপস্টিক যুক্ত ঠোট জোড়া ছড়িয়ে সাদা ধবধবে দাত বের করে হাসলো মেয়েটি।,,,

“আমায় দেখে অবাক হচ্ছো?,,আমি লিজা,,তুমিই তো নভ ভাইয়ের সেই মোম।। তাই না?”

মোম মাথাটা উপর নিচ ঝাকালো।,,নোভা বললো…

“ও আমার খালাতো বোন হয়,,”

মোম বুঝলো,,,নভ তখন এর কথাই বলেছে।,,,লিজা বললো…

“সত্যিই,,,,তোমায় দেখে হিংসে হচ্ছে আমার।,,,,”

মোম ভ্রু কুচকালো। আগে তো কখনো দেখা হয় নি।এভাবে প্রথম দেখায় কেউ হিংসে করে?,,,,

“আরে আরে,,,সিরিয়াস নিও নাহ।,,,অন্য কিছু নয়,,,,।আমি এতো সেজেও তোমার মতো হুর হতে পারলাম না।,,,ইশশশ,, নভ ভাই এই হুরটাকে কোথা থেকে তুলে আনলো রে নোভা?”

নোভা হাসলো,,,,

“দেখতে হবে না?কে এনেছে?”

মোম একটু লজ্জা পেলো,,,তবে মুখে হেসে বললো…

“কি যে বলেন আপু,,,,এসব তো কিছুদিন।আসল সুন্দর তো মন থেকে হয়,,,আপনি যার মাঝে মন থেকে সৌন্দর্য খুজে পাবেন,সেই আপনার কাছে সুন্দর।আর সেই সৌন্দর্য জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্তই থাকে।”

লিজা শুনলো,,বিজ্ঞদের মতো মাথা নাড়িয়ে বললো…

“হুমমম,,,তুমিই ঠিক।তবে তোমাকে তো সবার কাছেই সুন্দর লাগে।,,”

হেসে ফেললো মোম,,,তখনই লিজা তার দিকে আঙুল তুলে বললো…

“এই নোভা,,দেখ দেখ,,,হুরের হাসিটা তো আরোহ সুন্দর। ইশশ,,আমি যদি ছেলে হতাম..এক্ষুনি এই হুরের রুপের আগুনে ঝলসে যেতাম।’

লিজার কথায় সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।,,,তখনই দরজার বাইরে থেকে আখির কন্ঠ ভেসে এলো,,কাকে যেন বলছে…

” আরে,লুসিয়ান ভাই,,, তুমি এখানে??,,”

সাথে সাথেই আরেকটা পুরুষ কন্ঠ ভেসে এলো…

“এ্ এমনি,,,আমি যাচ্ছি।,”

চলে গেলো লুসিয়ান,,,,আখিও অবাক হয়ে ভেতরে ঢুকলো।,,, বললো..

” কি হলো বুঝলাম না,,,লুসিয়ান ভাই কেমন যেন উকি দিচ্ছিলে এই রুমে।”

কথাটায় তেমন পাত্তা দিলো না লিজা..

“ওও ভাইয়া,,,?,হয়তো আমাকলই ডাকতে এসেছিলো।,,আচ্ছা ছাড়ো ওসব।,,,আখি ভাবি,বলো তো এই মেয়েটা হুর না?”

আখি তাকালো মোমের দিকে। মনে একরাশ হিংসামি।একটু মুখ বাকিয়ে বললো…

“হুহ,,,এরকম হুর কত যে দেখেছি…,আরে এখন অনেক কিছু মেখেই এরকম সুন্দরী হওয়া যায়,,,এটা আর এমন কি,,। আমাদের কি আর ছেলে পাগল করার ইচ্ছে আছে নাকি ওদের মতো..?”

থামলো না আখি।হনহন করে চলে গেলো রুম ছেড়ে।,,,মোম অপ্রস্তুত হলো,,,কি বলবে বুঝে উঠতে পারলো না।,,,ইশু বুঝে বললো…

“আ্ আরেহ বাদ দে তো ভাবির কথা,,,উনি তে এমনই।,,।”

লিজা বললো..

“আরেহ মোম,,এবার বলো তো তোমার ব্যপারে।,,,শুনলাম তুমি নাকি অনেকদিন নভ ভাইয়ের কাছে বন্ধি হয়ে ছিলে?,,তা কিছু কি হয়েছে তোমাদের মধ্যে? ”

লিজাকে খুবই আগ্রহী লাগছে,,মোম থতমত খেয়ে গেলো,,,

“ক্ কি হবে??,,,ক্ কিছু নাহ,”

লিজা যেন আজব কিছু শুনলো,, ভ্রু কুচকে বললো….

“মানে কিহ??,,,তোমার মতো আগুনের ফুলকি নভ ভাইয়ার সামনে এভাবে ঘুরঘুর করলো,, আর ভাই এমনিই রইলো?,,,ও মাই গুডনেস,,,ভাই নিজেকে কি করে সামলালো??,,আরেহ,,এত দিনে তো মোমের প্রেগন্যান্ট হয়ে যাওয়ার কথা…”

আল্লাহ,,,কি কথা বলে দিলো লিজা।।।মোম টাশকি খেলো,,,চোখ গোল গোল করে কাশতে লাগলো,,,,

তা দেখে ব্যস্ত হলো বাকি তিনজন।,,,নোভা পানি এগিয়ে দিতে দিতে বললো ..

“আরে আরে,,,ষাট ষাট,,, এই নে পানিটা খেয়ে নে।”

মোম চোখের দৃষ্টি আগের মতো রেখেই একটু পানি খেলো।,,, পানির গ্লাসটা রেখেই হুড়মুড়িয়ে নামতে নামতে বললো…

“আ্ আমি আসছি,,,,”

নোভা ঘড়ি দেখলো,,,,তাড়া দিয়ে বললো…

“এই মোম,,,,একটু ছাদে যা তোহ,,,আমি একটা ড্রেস ভুল করে রেখে এসেছি ”

মোম “আচ্ছা” বলেই দৌড়ালো,,।

ইশু হাসতে হাসতে লিজার দিকে তাকিয়ে বললো…

“ইশশশ লিজাপু,,,,তুমি না?,,মোমকে ভীষণ লজ্জায় ফেলে দিলে,,,,এতটা না বললেও পারতে।”

লিজা আগের মতোই গালে হাত দিয়ে ভাবার ভঙ্গিতে বললো…

“বাট,,,,,,সত্যিই নভ ভাই কিচ্ছু করলো না মোমের সাথে?”

এরপর তড়িৎ গতিতে নোভা আর ইশুর দিকে তাকিয়ে বললো…

“এই,,,,নভ ভাই কি কোনো ভাবে গে??”

()()()()

ছাদে রঙিন আলো থাকে প্রত্যেক রাতেই।তাই খুব একটা ভয় লাগলো না মোমের।উঠে এসে চোখ ঘুরালো পুরো ছাদে।,,, কই কোনো ড্রেস তো নেই,,হয়তো নোভা আপু ভুলে গেছে।,,,

ভেবেই পেছন ফিরলো মোম,,,,সাথে সাথেই শক্ত কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে দু পা পিছিয়ে গেলো মোম।।চোখ বন্ধ করে নাক ডলতে ডলতে বলে উঠলো…

“উহহ,,কে রে,,,আল্লাহ,,,,আমার নাক ভেঙে দিলো”

চোখ খুলতেই দেখলো নভের হাসজ্জল মুখটা,,,দাত কেলিয়ে হাসছে সে।,,,মোম ঘোরে গেলো,,,,এই প্রথম নভ এভাবে হাসছে,,কই আগে তো মোম দেখেনি এমন হাসি?,,,অপরূপ লাগছে মোমের কাছে,,,,এমন মোহময় হাসি নভ প্রতিদিন কেন হাসে না??,,,,

প্রশ্ন করলো না মোম,।নিজেও সামিল হলো নভের সাথে।,,আলতো হাসলো।,,,

নভ চোখ বোলালো মোমের পুরো মুখশ্রীতে।পরখ করলো মোমের চঞ্চল আখিজোড়ায়,হালকা ফাক হয়ে যাওয়া মোমের ঠোট জোড়ায়।,,,,এগিয়ে গেলো মোমের কাছে।,,হালকা বাতাসে উঠতে থাকা মোমের বেবি হেয়ার গুলো আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিলো।।,,,,,থুতনিতে হাত ঠেকিয়ে মুখটা একটু তুললো মোমের।,,,

আবেশে চোখ বুঝলো মোম,,, হৃদয় কাপছে তার।,,,থুতনি থেকে হাত সরালে নভ।,,তবে মোমের কোনো পরিবর্তন হলো না।,,,নভের হাত ছুলো মোমের বাম হাত।,,,ধীরে ধীরে উপরে তুললো হাতটা।,,ঠান্ডা কিছু একটা ছুলো মোমের অনামিকা আঙুল। মোম বেশ অনুভব করছে,,তবে আখিদ্বয় খুললো না,,,তবে তা বেশিক্ষণ টিকলো না,, নভের পুরু ঠোটের স্পর্শ হাতে পেয়েই চোখ খুললো মোম।,,,,,হাতের আঙুলে একটা চকচকে সাদা পাথট যুক্ত আংটি আবিষ্কার করলো মোম।,,,খুব সহজেই বুঝে ফেললো এটা ডায়মন্ড।,,, প্রশ্ন করার আগেই নভের কোমল কন্ঠ ভেসে এলো…

“ডোন্ট আস্ক মি এনি কোশ্চেন নাও।,, যাস্ট আন্সার মি,,,,,,”

একটু থামলো নভ।,,,মোমের হাত থেকল চোখ তুলে চোখের দিকে তাকালো। , কি মোহনীয় সেই দৃষ্টি।,,,, তাকানো দায় হয়ে পড়েছে মোমের।,,,দৃষ্টি নামিয়ে এদিক ওদিক তাকালো….

“Will you be my juliyet? (তুমি কি আমার জুলিয়েট হবে?)”

ব্যাস,,,দৃষ্টি শান্ত হয়ে গেলো মোমের।চোখ জোড়া আপনাআপনিই ঠেকলো নভের চোখে।,,,,কি বললো নভ?,,তার জুলিয়েট,,মানে??

নভের কন্ঠ অন্যরকম হলো,,,,

“তুমি তো আমায় রোমিও ডাকো তাই না??,,আমি্ আমি হাজার নারীর রোমিও হয়েছি।তবে আজ পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো মেয়ের মাঝেই আমার স্বস্থি খুজে পাইনি।,,আমি যথেষ্ট খারাপ চরিত্রের মানুষ।তবে মোম,,,তুমি বিশ্বাস করো,,,ত্ তোমার আগমনের পর আমি আর পারিনি অন্য মেয়ের সান্নিধ্যে যেতে।চেষ্টা করেছিলাম কয়েকদিন।তবে জানো তো মোম,,,অদ্ভুত ভাবে না,,,তখন আমার চোখের সামনে তোমার মুখটা ভেসে উঠতো,,,মনে হতো যে আমি কোনো না কোনো ভাবে তোমার সাথে অন্যায় করছি।আর পারতাম না ঐ মেয়েগুলোর সাথে ইন্টিম্যান্ট হতে।,,,”

একটু থামলো নভ,,,,তারপর আবার বলতে লাগলো…

“কখন যে তুমি আমার জীবনে আঁধারের তারাবাজি হয়ে একছটা আলো রূপে ধরা দিলে বুঝতেই পারিনি।,,,কখন যে তোমায় নিজের থেকেও বেশি নিজের করে ফেলেছি তাও বুঝতে পারিনি।,,,তবে এখন আমি নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করি যে,,৷ Without you,I can’t live a single second,,,,,,,,,,,,,, I love you my juliyet,,,,Will you be mine?For ever?”

থামলো নভ।,,,,অপেক্ষা করতে লাগলো মোমের উত্তরের।,,,মন বলছে,,এক্ষুনি মোম লাজুক হাসবে।,,মাথাটা একটু নামিয়ে ফেলবে।,,এতেই নভ তার উত্তর পেয়ে যাবে,,তারপর আলতো করে নভ জড়িয়ে ধরবে মোমকে,,,,,,

তবে সেই সুন্দর মুহুর্তের ভাবনা বেশিক্ষণ টিকলো না।,,মোমের ধাক্কায় ঘোর কেটে গেলো নভের।,,,নিজেকে সামলে তাকালো মোমের দিকে,,,তার চোখে পানি,,,মুখের ভাবটা এমন যেন রাগে ফুসছে,, ঠিক তাই হলো।,,,রাগে গজগজ করতে করতে মোম বললো…

“আপনি ভাবলেন কি করে, আপনার মতো একটা প্লেবয় কে আমি ভালোবাসবো?,,আমি??মৌচাক এহসান আমি,,,,একবার নিজেকে দেখুন,,আর আমাকে দেখুন,,,আমি চাইলেই শত শত ছেলে আমায় বিয়ে করার জন্য লাইন লাগিয়ে দাড়িয়ে থাকবে,,,আর সেখানে আপনার মতো একটা চরিত্রহীনকে আমি কিনা….হুহ”

নভ অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে মোমের দিকে।,,,এসব কি বলছে মোম?,,,এতোদিনে কি নভের প্রতি একটুও মায়া,ভালোবাসা জন্মায়নি তার?,, সত্যিই জন্মায় নি?,,,

“এইসবের জন্যই আমার সাথে এখনো কিছু করেন নি তাই না?,,ভালো মানুষ সাজার জন্যই তো?,,,,হাহ,,”

তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো মোম,,,

“আপনার ধারণা ভুল প্রমান হলো মি. অবয়ব রায়ানিশ,,,,। আপনি আমায় এখনো বুঝতে পারেন নি,,,,,,,এসব কিছুই বৃথা আপনার।আমার মতে মেয়েকে ভালোবাসার কোনো যোগ্যতাই নেই আপনার বুঝেছেন?,,,,,,আর কখনো,, আমার সামনে এসব প্রেম প্রস্তাব নিয়ে আসবেন না,,,,মনে থাকে যেন।”

দাড়ালো না মোম।ধপধপ পায়ে ছাদ ত্যাগ করলো।আর পেছনে ফেলে গেলো থমকে যাওয়া নভকে।,,,,,

হাটু ভেঙে বসে পড়লো নভ,,,দুহাত যেন ভর ছেড়ে দিলো।
স্তব্ধতার রেশ কাটলো।পুরো দুনিয়া যেন কেপে উঠলো নভের চিৎকারে।,,,কোথাও যেন শুনেছিলো নভ,,,,শূন্যে চিৎকারে অন্তরের সব অতৃপ্ত কষ্ট দূর হয়ে যায়। তাই তো সেও আজ সেই চেষ্টাটা করলো,,,কিন্তু দূর হলো কি??,,মনে তো হচ্ছে না।মোমের কথা গুলো কি এতোটাই তীব্র ছিলো?যে নভের বুকে ছুরির মতো বিধলো?,,,নভ কি সত্যিই তার জুলিয়েটকে ভুল ভেবেছিলো?,,,,

ভাবতে পারছে না নভ,, আর পারছে না মোমের সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা করতে।,,তার মোম কখনোই ভিন্নরূপি হতে পারে না।সে তার মোমকে ঠিক যেমনটি চিনেছে,,মোম তেমনই।নাহ,,,মোমের মাঝে কোনো বহুরূপীর বসবাস নেই।,,,,,,উচ্চমানের অন্তঃকষ্ট নিয়ে নভ নিজে নিজেই বলে উঠলো…

“কেন এসব বললে মোম?, আমি জানি তুমি কেন এসব বলেছো,,,,কিন্তু জানা স্বত্বেও আমার যে তোমার কথা গুলো সহ্য হচ্ছে না।,,,তুমি কি পারতে না তোমার কষ্ট গুলো আমার সাথে ভাগ করে নিতে?কেন এতো ভালো তুমি?কেন তুমি আমায় কষ্ট দিতে চাও না?,,,,তুমি নিজে কি জ্বলছো না?বলো?,,,জ্বলছো না তুমি?,,,,,,”

ঘনঘন শ্বাস নিয়ে উঠে দাড়ালো নভ।,,,শান্ত করলো নিজেকে।,,,বাকা হাসি ফুটলো ঠোঁটের কোনে।,,,,

“এবার আর প্রেম প্রস্তাব নয় জুলিয়েট,, ডিরেক্ট বিয়ে করবো তোমায়।,,তবে তার আগে তোমাকেও একটু পুরতে হবে।বুঝতে হবে এই প্লে বয় অবয়ব রায়ানিশ তোমার জীবনে কি।,,,, কাল থেকে আমার অন্য রূপ দেখবে তুমি,,,,। Be ready for new Abayab Rayanish,,,, my juliyet”

++++চলবে++++

অপেক্ষা করুন আগামী পর্বের জন্য, আর পেজে লাইক ফলো দিয়ে কমেন্ট করে রাখেন বাকি পর্ব পোস্ট করেই কমেন্ট বক্সে দিয়ে দেবো লিংক।

#আঁধারের_তারাবাজি
সকল পর্বের লিংক
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=122110547678106938&id=61553208165829&mibextid=2JQ9oc

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here