#প্রিয়_অর্ধাঙ্গীনি
#সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী
#পর্ব_২৪
,
তোরা দুজনে এই সময় ছাঁদে কি করছিস?
শশী আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিজের মনে বিরবির করছিলো। আর রোদ্র শশীর পিছনে দাঁড়িয়ে ওকেই দেখছিলো ভেবেছে শশী পিছনে ফিরলেই হাঁটু গেঁরে বসে ওকে মনের সব জমানো কথাগুলো বলবে। কিন্তু তার আগেই ছাঁদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সমুদ্র কথাটা বলল। সমুদ্রের গলা শুনে রোদ্র সোজা হয়ে দাঁড়ালো শশীও চমকে পিছনে ফিরে তাকিয়ে সমুদ্র কে দেখে ভয়ে গুটিশুটি হয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়ালো। সমুদ্র ভ্রু কুঁচকে দুজনকে দেখছে, তবে মনে মনে কি ভাবছে সেটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে নাহ। ওটা সমুদ্রই ভালো জানে, এই সময়ে সমুদ্র কে ছাঁদে দেখে রোদ্র বেশ বিরক্ত হলো বিরবির করে বলল, ধূর এই ভাইয়া টাও না আসার আর সময় পেলো নাহ। নিজে বিয়েতো দূর প্রেমতো করলোই নাহ এখন আমার প্রেমের মাঝে এসেও বাঁধা দিচ্ছে।
কি ব্যাপার কথা বলছিস না কেনো?
আসলে ভাইয়া হয়েছে কি এতোদিন পর বাড়িতে আসলাম শশীর সাথে দেখা হলো তাই এমনি কথা বলার জন্য এখানে আসা এই আর কি আমরা তো নিচেই নেমে যাচ্ছিলাম কিন্তু শশী আকাশে কি তারা নাকি দৌড়াতে মানে ছুটতে দেখেছে তাই কিসব করছে। আমরা এই নিচে নেমে যাবো, এই শশী যাও নিচে যাও এতো রাতে ছাঁদে কি হ্যাঁ? জানো নাহ ছাঁদে জ্বীন ভূত থাকে মেয়েদের দেখলে তুলে নিয়ে যায়। এইতো ভাইয়া আমি ওকে বকে দিয়েছি ও এখনি চলে যাবে।
রোদ্র এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে কেবলা হেসে সমুদ্রের দিকে তাকালো, ওদিকে শশী চোখ বড় বড় করে রোদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে। একি মিথ্যাবাদী রে নিজেই আমাকে কি যেনো বলবে এটা বলে ছাঁদে নিয়ে এলো আর এখন নিজের ভাইয়ের সামনে পুরাই পাল্টি খেয়ে গেলো। মনে মনে কথাগুলো বলে রেগে রোদ্রের দিকে তাকালো, দেখলো রোদ্র করুন মুখ করে আগে থেকেই ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
রোদ্র নিচে যা তুই মা ডাকছে।
আচ্ছা ঠিক আছে, শশী চলো।
না তুই যা আমার শশীর সাথে কথা আছে।
সমুদ্র কথাটা বলতেই শশী ভয়ে একবার রোদ্রের দিকে তাকিয়ে আবার সমুদ্রের দিকে তাকালো। রোদ্রও শশীর দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে সমুদ্রের দিকে তাকালো কিন্তু বড় ভাই এর কথার পিঠে আর কিছু বলতে পারলো নাহ। অগত্যা মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে নিচে চলে গেলো। রোদ্র যাওয়ার পর সমুদ্র হেঁটে রেলিং এর কাছে গেলো, অতঃপর আকাশের চাঁদের দিকে একবার তাকিয়ে আবার শশীর দিকে তাকালো শশী এখনো সেই এক জায়গায় খাম্বার মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আমার কাছে এসো।
গম্ভীর স্বরে কথাটা বলে আবারও সামনের দিকে তাকালো, সমুদ্রের কথা শুনে কিছুটা সময় নিয়েই শশী এক পা দু পা করে আস্তে আস্তে সমুদ্রের পাশে গিয়ে দাড়ালো। তবে তাত্ক্ষণিক কেউ কোনো কথা বলল নাহ বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সমুদ্র সামনের দিকে তাকিয়েই বলল, তা কি চাইলে?
খুব করে চাওয়া জিনিস কাউকে বলতে হয় নাহ তাহলে সেটা আর পাওয়া যায় নাহ।
তাই নাকি এসব উদ্ভট কথা কোথা থেকে শিখেছো? এসব সত্যি নাহ এখন বলো কি চাইলে।
সমুদ্রের কথাশুনে শশী পাশ ফিরে সমুদ্রের দিকে তাকালো তারপর মুচকি হেসে হাঁটু মুড়ে বসে সমুদ্রের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, আপনার ওই শক্তপোক্ত শুকনো খাঁ খাঁ করা মরুভূমির মতো বুকে এক পশলা শান্তির বৃষ্টি হতে চেয়েছি, আপনার মনের আকাশের চাঁদ হয়ে জ্বলজ্বল করতে চেয়েছি। সমুদ্রের মতো উত্তাল অশান্ত নিয়ন্ত্রণহীন আপনার একমাত্র শান্তির কারণ হতে চেয়েছি। আপনার বুকের বাঁ পাশের শক্ত চামড়া ভেদ করে ভিতরে যে এক টুকরো নরম হৃদপিণ্ড আছে সেখানের একমাত্র মালিক হতে চেয়েছি। অতঃপর সব শেষে সত্যিসত্যিই যদি পূর্ণজন্ম বলে কোনো কিছু থেকে থাকে তাহলে আমি সেই জন্মেও আপনার অর্ধাঙ্গীনি রূপে এই ধরনীতে আসতে চেয়েছি আপনি কি অনুমতি দিবেন?
শশীর কথাশুনে সমুদ্র অবাক হয়ে শশীর দিকে তাকিয়ে আছে। অতঃপর শশীর হাত ধরে ওকে তুলে দাঁড় করিয়ে সমুদ্র বুকে নিজের দু হাত গুঁজে বলল, কাল সকালে তৈরি থেকো রোদ্র তোমাকে হিজলতলী দিয়ে আসবে। আর এখন নিচে যাও রাত অনেক হয়েছে এতো রাত করে বাইরে থাকা ঠিক নয়।
সমুদ্রের কথা শুনে শশী পুরাই ভেবাচেকা খেয়ে গেলো ও বলল কি আর সমুদ্র করছে কি। তবে সমুদ্রের এহেন কাজে ভিতরে ভিতরে কষ্ট পেলো তাহলে কি সমুদ্র ওকে চাই নাহ? এই জন্যই কি সমুদ্র ওকে পাঠিয়ে দিতে চাইছে। শশী কিছু বলতে চাইছে কিন্তু সমুদ্র হাত দিয়ে বাঁধা দিয়ে বলল, আর কোনো কথা শুনতে চাইছি নাহ চুপচাপ নিচে যাও।
কাজল বিহীন টানা টানা দুটো আঁখি বেঁয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়ল তবে সেটা সমুদ্রের চোখে পড়েছে কিনা জানা নেই শশীর কারণ সেতো মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। শশী বেশ কিছুক্ষণ সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থেকে আস্তে আস্তে চলে গেলো। যাওয়ার আগে নিজে নিজেকে বলল আর কখনো ভালোবাসার দাবী নিয়ে এই পাষাণ লোকের সামনে আসবে নাহ। ওনি আসলে ভালোবাসা কি সেটা জানে নাহ কাউকে ভালোবাসতেও ওনি জানেনা শুধু কষ্ট দিতে জানে। ওনার থেকে কিছু আশা করাটাই বোকামী আসলে আমিই পাগল, সিঁড়িতে পা দেওয়ার আগে শশী শেষ বারের মতো ঘুরে পিছনে তাকালো কিন্তু না সেই হৃদয়হীন লোকটা আগের মতোই আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। এক বারের জন্যও পিছন ঘুরে তাকায়নি, অতঃপর সিঁড়ি বেঁয়ে নিচে নেমে গেলো। শশী অদৃশ্য হতেই সমুদ্র ঘুরে তাকালো রেলিং এর সাথে হেলান দিয়ে দু হাত বুকে গুঁজে শশীর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
যতটা ভেবেছিলাম তুমিতো দেখি তার থেকেও এগিয়ে আমিই দেখছি ছোটো বলে পিছিয়ে যাচ্ছিলাম। তুমিতো দেখি বেশ বড় হয়ে গেছো একদম বাসর করার মতো।
,,,,,,,,,,,
ডয়িং রুমে ব্যাগ হাতে মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে আছে শশী, এখন শুধু রোদ্র রেডি হয়ে নামলেই ওরা হিজলতলীর উদ্দেশ্যে রওনা হবে৷ শশী একবার মাথা উঁচু করে উপরের দিকে তাকালো কিন্তু সমুদ্রের কোনো নামগন্ধ ও নেই পরে শাহানারার থেকে জানতে পারলো সমুদ্র সকাল সকাল কোথাও একটা গিয়েছে। অগত্যা একরাশ হতাশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো, শাহানারা পাশ থেকে নানা রকম কথা বলছে কিন্তু শশীর সেদিকে কোনো মন নেই ও শুধু রাতের কথা ভাবছে তাহলে কি সমুদ্র ওকে চাই নাহ? ওকে পছন্দ করে নাহ এই জন্যই কি এভাবে ফিরিয়ে দিলো। শশীর ভাবনার মাঝেই রোদ্র নিচে নেমে এসে শশীর পাশে দাঁড়িয়ে বলল, তাহলে যাওয়া যাক?
রোদ্রের কথায় ধ্যান ভাঙ্গলো শশীর সবার থেকে বিদায় নিয়ে ওরা বেরিয়ে পড়ল। রোদ্র একমনে গাড়ি চালাচ্ছে ওর পাশে শশী চুপ করে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর কিছু একটা মনে হতেই রোদ্র আড়চোখে শশীর দিকে তাকায়ে বলল, তুমি না আমাকে কিছু বলতে চেয়েছিলে।
তাতো চেয়েছিলাম কিন্তু রাতে আপনার ভাই যেটা করলো এরপর তো তার থেকে কিছু আশা করাটাই বোকামী। কথাটা মনে মনে বলল শশী, এভাবে চুপ থাকায় রোদ্র আবারও শশীকে কথাটা বলল এবার শশী অন্যদিকে মুখ করেই বলল, নাহ কিছু নাহ এমনি।
শশীর মনের মধ্যে ঠিক কি চলছে সেটা জানার জন্য রোদ্র কথায় কথায় শশীকে বলল, আচ্ছা শশী তুমি কি কাউকে পছন্দ করো? না মানে আমি বলতে চাইছি যে তোমার কি কাউকে ভালো লাগে? যেহেতু আমরা বন্ধু সেহেতু আমাকে বলতেই পারো এইটুকু অধিকার অন্তত আমার আছে নাকি?
রোদ্রের কথায় শশী তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু বলল না রাতের ঘটনায় এমনিতেই মনটা খারাপ তার উপর রোদ্র এভাবে প্রশ্ন করায় ভিতরে ভিতরে বেশ বিরক্ত হলো শশী। তবে মুখে সেটা প্রকাশ করলো নাহ, বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে বলল, একজন কে অনেক ভালো লাগে কিন্তু আমার মনে হয় সে আমাকে পছন্দ করে নাহ। আমার এটা মনে হয় তবে তার মনে কি চলছে সেটা ওনিই জানেন। বিরবির করে কথাটা বলল শশী রোদ্র শশীর এমন কথা শুনতেই আচমকা গাড়ি ব্রেক করে অবাক হয়ে শশীর দিকে তাকালো, এভাবে ব্রেক করায় শশী সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে গেলো আতংকিত চোখে রোদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল, কি হয়েছে?
হুম, না মানে সামনে ভাইয়া।
কথাটা শুনতেই শশী সামনের দিকে তাকালো দেখলো সমুদ্র তার কালো জীপটার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যেনো কোনো সিনেমার হিরো এদিকে আমার নরম মনটা ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে ওনি সেজেগুজে ঘুরে বেড়াচ্ছে নিষ্ঠুর লোক একটা। শশী মনে মনে কথাটা বলতেই রোদ্র সিট বেল খুলে শশীকে বসতে বলে গাড়ি থেকে নেমে গেলো। তবে রোদ্র আর সমুদ্রের মাঝে কি কথা হলো সেটা শশীর অজানা, খানিকক্ষণ পর রোদ্র সমুদ্রের জীপটাতে চড়ে বসল অতঃপর গাড়িটা নিয়ে বাড়ির দিকে চলে গেলো। রোদ্র চলে যেতেই সমুদ্র এসে শশীর পাশে বসে পড়লো, তবে শশীর মনে হাজার খানিক প্রশ্ন থাকলেও সেদিকে পাত্তা দিলো নাহ। সমুদ্র কে পুরোপুরি এড়িয়ে গেলো, সমুদ্র শশীর দিকে তাকিয়ে নিজের সিট বেল পড়ে নিলো কিন্তু তবুও শশী সমুদ্রের দিকে তাকালো নাহ মুখ ঘুরিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। সমুদ্র বেশকিছু সময় শশীর দিকে তাকিয়ে থেকে চটাস করে শশীর ডান গালে টাইট একটা চুমু বসায়ে দিলো। নরম গালে সমুদ্রের ঠোঁটের ছোঁয়া পেতেই শশী তড়িৎ গতিতে সমুদ্রের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালো, কিন্তু সমুদ্রের কোনো হেলেদুল নেই সে তারমতো গাড়ি স্টার্ট দিতে ব্যাস্ত। শশী রেগে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল, এটা কি হলো?
গাড়ি চালানোর ফাঁকে সমুদ্র শশীর দিকে তাকিয়ে বলল, কোনটা কি হলো?
একটু আগে আপনি ওটা কি করলেন?
একটু আগে আমিতো অনেক কিছুই করেছি তবে তুমি কোনটার কথা জিগাস করছো বুঝতে পারছি নাহ বোঝায় বলো।
কি ইতর লোক সব কিছু বোঝেও এখন না বোঝার ভান করে নাদান বাচ্চা সাজতেছে৷ মনে মনে কথাটা বলে শশী দাঁতে দাঁত চেপে বলল, আপনি আমার গালে ইয়ে খেলেন কেনো?
ইয়ে আবার কি? ওহ আচ্ছা তুমি চুমু খাওয়ার কথা বলছো? কিন্তু এখানে আমার দোষ কোথায় তুমিই তো চুমু খেতে বললে।
সমুদ্রের কথাশুনে শশী অবাক হয়ে সমুদ্রের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলল, আমি বলেছি? কি মিথ্যা কথা আমি আবার কখন আপনাকে এটা করতে বললাম। গাড়িতে উঠর পর থেকে তো আমি আপনার সাথে কথায় বলেনি তাহলে।
ওইতো কথা বলোনি কিন্তু ঠিকি আমাকে চুমু খাওয়ার ইশারা দিয়েছো। আমিতো গাড়িতে উঠে দেখলাম আমার দিকে তোমার ডান গাল বাড়িয়ে দিয়ে আছো, তো আমিও ভাবলাম ছোটো মানুষ হয়ত মুখে বলতে পারছো নাহ লজ্জা পাচ্ছো তাই ইশারা করছো এই জন্যই তো আমি চুমুটা খেলাম। আমি আবার বড্ড পরোপকারী, মায়ের থেকে শোনোনি? এই জন্য কেউ কিছু চাইলে তাকে ফেরাতে পারিনা।
সমুদ্রের কথাশুনে শশী আকাশ থেকে পড়ল এই লোকটাকে ও যতটা ভালো ভেবেছিলো এ তার এক কোণাও নাহ। উপরে ভদ্রলোক সেজে থাকে অথচ ভিতরে ভিতরে মহা খারাপ, আবার কিছু বললেও উল্টো পাল্টা যুক্তি দিয়ে বুঝায়ে দেয়। কথাগুলো ভেবে শশী রাগে রাগে আড়চোখে সমুদ্রের দিকে তাকালো তবে এবার আর জানালার দিকে মুখ দিয়ে রাখেনি একদম সোজা সামনের দিকে তাকিয়ে আছে, আর বার বার শুধু সমুদ্রের দিকে তাকাচ্ছে লোকটাকে কোনো বিশ্বাস নেই একবার গালে চুমু খায়ে কিসব যুক্তি দেখালো। না জানি আবার খপ করে ঠোঁটে চুমু দিয়ে আবার কি যুক্তি দেখায় এই জন্য সাবধান থাকায় ভালো।
,,,,,,,,,,,,,,
আম্মা আমিতো আপনার কথামতোই কাজ করলাম তারপরেও ওই সমুদ্র আমারে লোক দিয়া এমনে পিটালো আর আপনি এখনো ওকে কিছু করলেন নাহ।
ও গ্রামে না গিয়েই তোমার হাত পা ভেঙ্গেছে আর আজকে তো ওনিজেই গ্রামেই যাচ্ছে তাহলে ভাবো তোমার কি হতে পারে। নিজের জীবন প্রিয় হলে যলদি লুকিয়ে পড়ো আমি না বলা পযন্ত ওর সামনে পড়ো নাহ।
কন কি আম্মা ওই সমুদ্র আজকে আমাদের গ্রামে আসতেছে? হায় হায় আমারে আগে বলবেন নাহ। কথাটা বলেই শাহিন ফোনটা কেটে দিয়ে বাঁ হাতে নিজের লুঙ্গিটা ধরে খোঁড়াতে খোঁড়াতে নিজের বাড়ির দিকে চলে গেলো, আপাতত আজকে আর বাড়ি থেকে বেরোনো যাবে নাহ খবর নিয়ে দেখতে হবে সমুদ্র কতদিন হিজলতলী থাকে সেই কয়দিন মোটেও বাইরে বার হওয়া যাবে নাহ।
ফুপি তুমি এখনো চুপ করে থাকবে ওই সমুদ্র একের পর এক আমাদের ক্ষতি করেই চলছে আর তুমি চুপ করে বসে আছো। কিছু বললেই বলো সময় আসুক আরে আর কবে সময় আসবে তুমি কিসের জন্য অপেক্ষা করছো বলোত? খাগড়াছড়ি তে আমাদের লোকগুলো কে কুকুরের মতো মারলো সাথে ওতোটাকার মালগুলো সব আটক করলো আবার এখানে এসেও একের পর এক ক্ষতি করেই চলেছে এর পরেও তুমি এভাবে হাত পা গুঁটিয়ে বসে থাকবে?
সমুদ কে কতদিন ধরে চিনো তুমি? কতটুকু জানো ওকে? ছোটো বেলা থেকে চিনি আমি ওকে ও কোনো কাজ এমনি এমনি করে নাহ ওর প্রতিটা কাজের পিছনে কোনো না কোনো কারণ থাকে। তুমিতো নিজেই তার প্রমাণ পেলে আমাকে না জানিয়ে ওই মেয়েটার পিছনে লেগেছিলে, তোমার বাবাকে যেতে না দিয়ে নিজে গেটস হয়ে গেলে ওর কলেজে। কি ভেবেছো সমুদ্র এসব কিছুই জানে নাহ? আর আজকে বোকার মতো কি করতে যাচ্ছিলে রোদ্রকে আক্রমণ করে শশীর কাছে ভালো হতে চেয়েছিলে কিন্তু পেরেছো তা? ঠিকিতো মাঝ রাস্তায় সমুদ্র রোদ্রকে পাঠিয়ে নিজে গেলো, ও চুপ করে আছে বলে এটা ওর দুবর্লতা ভেবো নাহ। পনেরো বছরের একটা ছেলে নিজের জীবন বাজি রেখে যখন তার কাছের মানুষ কে বাঁচিয়েছিলো আমি তখনি জানি ওকে হালকা ভাবে নেওয়া মোটেও ভালো হবে নাহ। ও জানতো যে আমি অভীক এর ক্ষতি করবো সেই জন্য আমাকে পছন্দ করতো নাহ, মিশতে দিতো নাহ আমার সাথে অভীককে কিন্তু অভীক তো বোকা ছিলো সেই জন্যই বেঘোরে প্রাণটা হারালো। ভাবো ছোটো বেলাতেই যেই ছেলেটা এতোটা সাহসী ছিলো তাহলে এখন সে কি হয়েছে। তোমার বয়স অল্প রক্ত গরম অল্পতেই ধৈর্য হারা হয়ে পড়ো এই জন্য সামনে আগাতে পারো নাহ। বুদ্ধি খাটিয়ে ধৈর্য ধরে ছিলাম বলেই আজকে এই পযন্ত এসেও এখনো টিকে আছি। ধৈর্য ধরো সঠিক সময় সঠিক চালটা ঠিক দেবো বরাবরের মতো জিতটা আমারি হবে শুধু অপেক্ষা করো। আর হ্যাঁ আমাকে না জানিয়ে আর কিছুই করবে নাহ তুমি, এসব ভুলভাল কাজ না করে নিজের কাজে মনযোগী হও।
কথাগুলো বলে মালবিকা নিজের ফোনটা বের করে কাউকে কল দিতে দিতে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। জোসেফ রেগে একটা লাত্থি দিয়ে পাশের চেয়ারটা ফেলে দিলো অতঃপর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, জোসেফ মির্জা এতো অপেক্ষা করতে পারবে নাহ ওই সমুদ্র কে তো আমি দেখে নেবো ও আমার অনেক ক্ষতি করেছ এবার ওর পালা। সুস্থ শরীলে তো হিজলতলী গিয়েছে তবে সুস্থ ভাবেই ফিরে আসতে পারে কিনা এটাই দেখার বিষয়।
#চলবে?
ইনশাআল্লাহ এবার থেকে প্রতিদিন গল্প দিবো।

