প্রিয়_অর্ধাঙ্গীনি #সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী #পর্ব_৩৪

0
812

#প্রিয়_অর্ধাঙ্গীনি
#সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী
#পর্ব_৩৪
,
যদিও নেশাটা এখন আর আগের মতো নেই তবুও কেমন একটা মাথার মধ্যে ঝিমঝিম করছে। কপাল চেপে ধরে সোফায় বসে আছে রোদ্র। প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। তখনি ভিতর থেকে কেউ একজন এসে রোদ্রের সামনে গ্লাসে কিছু একটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল।

“এটা খেয়ে নাও দেখবে মাথা যন্ত্রণা থেকে অনেকটাই আরাম পাবে।

বিদেশের মাটিতে বাঙালি পেলে মনটা হঠাৎই কেমন ভালো হয়ে যায়। রোদ্র উপরে থাকিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে গ্লাসটা নিয়ে খেয়ে নিলো। ফাঁকা গ্লাসটা বাড়িয়ে দিয়ে কৃতজ্ঞতা সহিত বলল।

” আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে সাহায্য করার জন্য। আজকে আপনি না থাকলে হয়তো এতোক্ষণে হসপিটালের বেডে পড়ে থাকতাম।

রোদ্রের কথাশুনে সামনের যুবকটা কিছুটা হেসে গ্লাসটা পাশে রেখে রোদ্রের মুখোমুখি বসে বলল।

“প্লিজ আমাকে আপনি আঙ্গে করোনা। আমরা তো সেইম বয়সীই হয়ত দুই এক বছরের ছোট বড় হবো।

“আপনি আমার বড় ভাইয়ার বয়সীই হবেন।

” তুমি আবারও আমাকে আপনি বলছো? তখন নাহ তোমাকে বললাম আমরা বন্ধু আর আমার জানামতে বন্ধু কে কেউ আপনি করে বলে নাহ।

ছেলেটার কথাশুনে রোদ্র হেসে ফেলল। সত্যি ছেলেটা একদম অন্য রকম। অজানা অচেনা আমাকে কত সুন্দর আপন ভেবে সাবলীলভাবে কথা বলছে। যেনো আমি তার কত চেনা। কথাগুলো ভেবে রোদ্র বলল।

“আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোমাকে তুমি করেই বলবো। খুব বুঝে গেছি তোমার সাথে আমি কথায় পারবো নাহ। ওহ হ্যাঁ তুমি বললে নাতো তুমি এখানে কী জন্য এসেছো।

” আসলে কি বলোত আমি একদম ভবঘুরে যাকে বলে অগোছালো ঠিক তেমন। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। অবশ্য আমার ছোট আরেকটা বোনও আছে। বাবার বিশাল বিজনেস। আমাকে বলে বিজনেস এ মন দিতে কিন্তু আমি ভাই ওসবে নাই। তাই বাবাকে বলে দিয়েছি আমি এখন ওসব সামলাতে পারবো নাহ। তুমিই বলো আমার কি এখন বিজনেস সামলানোর বয়স? আমার তো এখন খোলা আকাশে ডানা মেলে উড়ার বয়স। আমি ভ্রমণ প্রিয় মানুষ। এদেশ থেকে ওদেশ চষে বেড়ানোই আমার কাজ এই জন্যই এখানে আসা। আর তুমি?

“তোমার যেমন ভ্রমণ প্রিয় আমারও তেমন ছবি আঁকা প্রিয়। সেই জন্যই এখানে আসা। আমার পরিবারে মা বড় ভাইয়া, ছোট্ট একটা ভাই আর।

এইটুকু বলে থেমে গেলো রোদ্র। সামনে তাকিয়ে দেখে ছেলেটা প্রশ্নবোধক চাহনিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। রোদ্র মুচকি হেসে বলল।

” আর ভাইয়ার জীবন সঙ্গীনি।

মাঝে অনেক কথাবার্তা হলো এক পর্যায়ে ছেলেটা রোদ্রের নাম জিগাস করলে রোদ্র নিজের নাম বলে। পরে রোদ্র যখন ছেলেটাকে তার নাম জিগাস করে তখন ছেলেটা মুচকি হেসে জবাব দেয়।

“জোসেফ মি, একটু থেমে আবার বলে চৌধুরী ।
,,,,,,,,,,,,,,

রাত তখন বেশ গভীর। শহরের সব কোলাহল থেমে গিয়েছে সেই অনেক আগে। রাতজাগা পাখীরাও তাদের নীড়ে ফিরে ঘুমিয়ে গিয়েছে। সমুদ্রের খালি বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে শশী। দুজনের উপর পাতলা চাদর দেওয়া। খানিক পূর্বেই ভালোবাসার উত্তাল সমুদ্রে ডুবে ছিলো দুজনে। রুমের মধ্যে মিটিমিটি আলো জ্বলছে। মাথার নিচে দুহাত দিয়ে কিছু একটা ভাবনায় মগ্ন সমুদ্র। মালবিকার পরের চালটা ঠিক কি হতে পারে এটা নিয়েই চিন্তিত ও। ওনার এতো ক্ষতি হওয়ার পরেও এভাবে চুপ কীভাবে আছে। নাকি চুপ থাকা কোনো বড় ঝড়ের লক্ষন। সমুদ্রের এসব ভাবনার মাঝেই বুঝতে পারলো তার বুকে তরল জাতীয় কিছু একটা ফোঁটা ফোঁটা পরছে। সমুদ্র মাথার নিচে থেকে হাত সরিয়ে দুহাতে শশীর মুখ ধরে উপরে তুলল দেখলো শশী কান্না করছে। সমুদ্র বৃদ্ধা আঙুলের সাহায্যে শশীর চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল।

” কি হয়েছে? কান্না করছো কেনো? পেট বেথ্যা করছে?

সমুদ্রের কথার পিঠে শশী মুখে কিছু বলল নাহ। শুধু মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলো তার মোটেও পেট বেথ্যা করছে নাহ। সমুদ্র পুনরায় একি কথা জিগাস করলো তবে এবারেও শশী কোনো জবাব দিলো নাহ। আগের ন্যায় কান্না করতে ব্যাস্ত সে। এবার সমুদ্র রাগী সুরে বেশ গড়া গলায় বলল।

“তাহলে এভাবে কান্না করছো কেনো? আরে তুমি না বললে আমি বুঝবো কীভাবে?

এবার শশীর কান্নার বেগ একটু থামলো। নাক টেনে আবারও সমুদ্রের বুকে মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বলল।

” কালকে আপনার না গেলে হয় নাহ? আমি জানি আপনি একবার গেলে আবার আসতে অনেক দেরি হবে। আগের বার তো প্রায় আটমাস পরে এসেছিলেন। এবার না জানি কবে আসবেন। আমি একা কীভাবে থাকবো? আপনাকে ছাড়া একটা দিনও যেখানে কাটানো অসম্ভব সেখানে এতোগুলো দিন থাকতে আমার ভীষণ কষ্ট হবে সমুদ্র। আমার কেনো জানি অনেক ভয় করছে মনে হচ্ছে আপনাকে আমি হারিয়ে ফেলবো। প্লিজ আপনি যাবেন নাহ।

কথাগুলো বলে খুব শক্ত করে সমুদ্র কে আঁকড়ে ধরল শশী। এতোক্ষণে শশীর কান্নার কারণ বুঝতে পারলো সমুদ্র । শশীর এমন কথাশুনে হালকা হেসে দুহাতে আরো শক্ত করে নিজের বক্ষমাঝে শশীকে মিশিয়ে নিলো। শশীর মাথায় নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে শশীর মতোই ফিসফিস করে বলল।

“পাগলী এর জন্য কেউ এভাবে কান্না করে নাকি। তুমি বেশি ভাবছো এই জন্য তোমার এমন মনে হচ্ছে । আর আমিতো এসেছি অনেকদিন হলো এবার তো আমাকে ফিরে যেতেই হবে সোনা। তবে কথা দিচ্ছি খুব শীঘ্রই আবার তোমার কাছে ফিরে আসবো। আর একটা কথা। শোনো এভাবে আর কখনো কাঁদবে নাহ। একটা কথা মনে রাখবা তুমি একজন সৈনিক এর স্ত্রী। তোমার স্বামী দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য লড়ে। তার অর্ধাঙ্গীনি হয়ে তোমার কি এতো নরম হলে চলে? আমার অবর্তমানে মা কে জয়কে তো তোমাকেই দেখে রাখতে হবে। শক্ত হাতে সবাইকে সামলাতে হবে। বাইরের খারাপ মানুষের থেকে নিজের প্রিয় জনদের সামলে রাখতে হবে। যেনো কোনো ভাবেই তাদের কু দৃষ্টি তোমার কাছের মানুষের উপর না পড়ে।

সমুদ্রের সব কথা শশী মন দিয়ে শুনে অতঃপর দুষ্টুমী ভরা কন্ঠে সমুদ্রের খালি বুকে নিজের আঙুল দিয়ে আঁকিবুঁকি দাগ কাটতে কাটতে বলল।

” কিন্তু আমিতো ছোটো বলেন। আপনার একমাত্র বাচ্চা বউ তাহলে আমি কীভাবে এতো বড় দায়িত্ব একা সামলাবো।

সমুদ্র শশীর কথাশুনে ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকালো। সমুদ্র নিজেও বুঝতে পেরেছে শশী দুষ্টমী করে কথাটা বলেছে। অতঃপর সমুদ্র ও শশীর কথা বোঝার ভান করে মুখটা যতটা সম্ভব গম্ভীর করে নিজেদের উপরের চাদরটা খানিক সরিয়ে ভিতরে উঁকি দিয়ে অতঃপর শশীর দিকে তাকিয়ে বলল।

“হুম সবি ঠিক আছে। তবে চাদরের নিচের দিকে তাকালে তোমাকে কোনো অংশে বাচ্চা মনে হয় নাহ।

সমুদ্রের কথাশুনে শশী চোখ বড় বড় করে সমুদ্রের দিকে একবার তাকিয়ে আবার ও ওর বুকে মুখ গুঁজে বলল।

” ছিঃ আপনি কত খারাপ কীসব নির্লজ্জ মার্কা কথা বলেন।

কথাটা বলেই শশী সমুদ্রের বুকে বেশ জোরে সরে একটা কাঁমর বসালো। সমুদ্র তড়িৎ গড়িতে শশীকে পাশে ফেলে ওর উপর নিজের ভর ছেড়ে বাঁ হাতে কাঁমড় দেওয়া জায়গায় ডলতে ডলতে বলল।

“এইটুকুনি শরীলে এতো জোড় কোথা থেকে আসে। একদম দাগ বসায়ে দিয়েছো। তবে কেউ একজন বলেছিলো কেউ কোনোকিছু দিলে তাকে সেটা দ্বিগুন ফেরত দেওয়া উচিত। এখন তুমি যে আমাকে একটা কাঁমড় দিলে আমার ও উচিত তোমাকে এটা দ্বিগুন ফেরত দেওয়া। দেখি চাদরটা সরাও তুমি আমায় ঠিক যেখানে কাঁমড়টা দিয়েছো আমিও ঠিক সেখানে গুনে গুনে তোমায় দুটো কাঁমড় দেবো। তাহলেই না সব শোধবোধ হবে।

#চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here