ডুবেছি_আমি_তোমাতে #Aiza_islam_Hayati #পর্ব_২৩

0
215

##ডুবেছি_আমি_তোমাতে
#Aiza_islam_Hayati
#পর্ব_২৩

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য জেলা রাঙামাটি।চারিপাশে সবুজের ছড়াছড়ি। ঢাকা থেকে রাঙামাটি তিনটি পরিবহন পরিবর্তন করে আট ঘণ্টা যাত্রায় আহনাভের পুরো পরিবার রাঙামাটি এসে পৌঁছায়।

.
হোটেলে এসে পৌঁছাতেই রাত আটটা বেজে যায়।যে যার রুমে চলে যায়।রাত দশটা নাগাদ রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে হোটেলের ছাদে।
.
যে যার রুমে ঢুকেই দুই ঘণ্টার বিশ্রাম নিয়ে নেয়।ফ্রেশ হয়ে চলে আসে ছাদে।যে যার মতো হোটেলের ছাদটি ঘুরে ঘুরে দেখছে।লায়ানা ছাদের এক কোণায় দাড়িয়ে কারো সাথে ফোনে কথা বলতে ব্যাস্ত।লায়ানা ফোন কান থেকে সরিয়ে কল কেটে দেয় অতঃপর আকাশ পানে তাকিয়ে আনমনে হেঁসে পিছন ফিরেই দেখে আহনাভ পকেটে দুই হাত গুজে দাড়িয়ে আছে।তার পূর্ণ দৃষ্টি লায়ানার দিকে।লায়ানা ঠোঁটের কোণে হাঁসির রেখা টেনে এগিয়ে এসে বলে,”কী আহনাভ মশাই আমার পিছন দাঁড়িয়েছিলেন এত্বক্ষণ যাবত?”

আহনাভ দুই কদম এগিয়ে এসে দুজনের মাঝে সকল দুরত্ব ঘুচিয়ে দেয়,কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বলে,”আজ গাড়িতে উঠার পর থেকে হোটেল আসা অব্দি ঘুমাতে ঘুমাতে এলে,আমি তো চট্টগ্রাম অব্দি ঘুমন্ত হায়া কে সামলাতে সামলাতে গিয়েছি তারপর কী হলো ট্রেনে উঠেও আমার কাঁধে মাথা রেখে কী ঘুম তোমার,বাসেও ঘুমালে।কী হয়েছে হায়া পাখি? শরীর খারাপ?বলো আমাকে।”

লায়ানা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আহনাভের মুখ পানে।আহনাভের ভ্রু কুঁচকে আসে।আহনাভ বলে,”কী হলো বলছো না কেনো?”

“বেশি না দুটো ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছিলাম।”

আহনাভ চোখ বড় বড় করে ফেললো।অবাক স্বরে বলে,”ঘুমের ট্যাবলেট কেনো খেয়েছো?”

“মাত্রাতিরিক্ত মাথা ব্যাথা গত কাল রাতে আমার ঘুম পুরোপুরি কেড়ে নেয় আহনাভ।আর কি সহ্য করতে না পেরে ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।”

আহনাভ অস্থির কণ্ঠে বলে উঠে,”এখন কেমন লাগছে?মাথা ব্যাথা করছে?”

লায়ানা হেঁসে বলে,” আমি একদম ঠিক আছি আহনাভ মশাই।আচ্ছা আজ আমাকে এইভাবে সামলে এইখানে আনতে কী আপনার খুব খারাপ লেগেছে?”

আহনাভ দুষ্টু হেসে বলে,” আমার তো ওই ঘুমন্ত হায়া কেই বেশি ভালো লেগেছে।কী শান্ত।চুপটি করে ঘুমিয়ে ছিল।আর বাসে কিছুক্ষন পর পর আমার শার্টের হাতা খামচে ধরে মৃদু কণ্ঠে একা একাই কী যেন বলছিলো।আমি কিছু না শুনতে না পেলেও খুব হাঁসি পেয়েছে।”

লায়ানা মুখ ফুলিয়ে বলে,”হম আমি তো খুব শয়তানি করি তাই না যাও যাও ওই ঘুমন্ত হায়ার কাছে যাও।”

“তুমি ঘুমিয়ে পরো তাহলে তো আমি ঘুমন্ত হায়া কে পেয়ে যাবো।”

লায়ানা আড় চোখে তাকিয়ে বলে,”অ’স’ভ্য লোক।তুমি একদম নিষ্পাপ না পুরোটাই ব’জ্জা’ত।”

“পড়ে দুজন মিলে নাহয় ঝগড়া করবো এখন চলো খেয়ে নিবে।”

“ওকে জনাব।”

.
খাবার টেবিলে একে একে এসে বসে পড়ে।লায়ানার ডান পাশে মুগ্ধতা বসেছে আর বাম পাশে আহনাভ। লায়ানার বাম পাশে আলিযা বসতে এসেছিল আহনাভ আলিযার মাথায় গাট্টা মেরে অপরপাশে বসতে পাঠিয়ে দেয়।

আলিযা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলে,” ভাই তুই শয়তানদের ডিগ্রি কী আবার পাস করে চলে এলি । আহির ভাইয়ের বউ মুগ্ধতা আপ্পি,তো আহির ভাই মুগ্ধতা আপ্পির সাথে বসতেই পারে তুই কেনো হায়াতি আপুর পাশে বসলি?”

আহনাভ প্লেটে খাবার নিয়ে ঠিক হয়ে বসে বলে,”আমার এক মাত্র বেয়াইন ঠিকঠাক করে খাওয়া দাওয়া করে কিনা তা তো আমাকেই দেখতে হবে তাই না।আর তুই ওর পাশে বসলে বেচারীর খাওয়া দাওয়া না দেখে নিজেই রা’ক্ষ’শে’র মতো খেতে থাকবি।”

আলিযা আহনাভের বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,”বাবাই ভাইকে কিছু বলো সে আমাকে খাওয়া খোটা দিচ্ছে।”

“নাহ মা খাও তুমি।আমি ওকে বলে দিচ্ছি।”,আহনাভের বাবা কথাটি বলে আবার খাওয়ায় মনোযোগ দিলেন।

এক সময় টেবিলে পিন পিন নিরবতা বইতে লাগলো যে যার মতো করে খেয়ে এক এক করে উঠে যেতে লাগলো।
.
সকলে নিজেদের রুমে চলে গেলে লায়ানা,মুগ্ধতা নিজেদের রুমে গিয়ে তৈরি হতে শুরু করলো।লায়ানা ক্রপ টপ এর উপরে জ্যাকেট পড়া শেষ করে ব’ন্দু’ক কোমরে গুজে নিচ্ছিল সেই মুহূর্তে লায়ানার ফোন বেজে উঠে।লায়ানা ফোন হাতে নিয়ে রিসিভ করতেই ওই পাশ থেকে বলে উঠে,”তোর হোটেলের নিচেই তোর আর মুগ্ধতা আপুর বাইক রেডি।আমি *** জায়গায় আছি তোরা চলে আয়।আর গার্ডরা বাড়ির নিচেই আছে।”

লায়ানা ফোন রেখে মুগ্ধতার দিকে তাকিয়ে বলে,”বনুই চল।”

.
দুজন হোটেলের নিচে নেমে আসে।দুজনের পরনেই কালো জিন্স,কালো ক্রপ টপ তার উপর কালো রঙের জ্যাকেট।দুজনের মুখেই মাস্ক।

দুজন বাইকে উঠে বসে।মুহূর্তের মাঝেই বাইক দুটো ছুটিয়ে নিয়ে চলে যায় মুগ্ধতা,লায়ানা।মুগ্ধতা আর লায়ানা যেতেই ওদের গার্ডরা এক এক করে ওদের পিছে চলে যায়।

.
চারিপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার।গা শিউরে ওঠার মতো পরিবেশ।এই অন্ধকারে কিছুটা দূরেই আলোর দেখা মিলছে।লায়ানা,মুগ্ধতা বাইক থামতেই আহান এগিয়ে আসে।লায়ানা বাইক থেকে নেমে আহানের সেট করা চুল আউলাঝাইলা করে দিয়ে বলে,”আমাদের এক দিন আগে এসে কেমন ঘুরলি ভাই।”

আহান আড় চোখে তাকিয়ে বলে,”কী আর ঘুরলাম তোর কাজ করতে করতেই এই জীবন শেষ।”

মুগ্ধতা বলে উঠে,”এই তোরা চুপ থাক।এইটাই ওই লোকেশন? আর ওই হা’রা’মী গুলো কই?

আহান চোখের ইশারায় ঝোপের ঐপাশেরর দিকটা দেখিয়ে বলে,”ঐযে ঐখানে চলো।”

লায়ানা,মুগ্ধতা সহ গার্ডরা ধীরে ধীরে ঝোপের ঐপাশটিতে চলে গেলো।

মাঝখানে আ’গু’ন জ্বলছে তার পাশে দশ জনের মত লোক বসে আছে।তাদের ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাঁসি।
মুগ্ধতা কোমড় থেকে ব’ন্দু’ক বের করে পিছন থেকে প্রত্যেকের হাতে শু’ট করে দিল।আচমকা এমন হওয়ায় হাত চেপে ধরে লোকগুলো ছিটকে পড়ল।

লায়ানা বলে উঠে,”কাজ শুরু করো।”

পাঁচ জন গার্ড এগিয়ে আসে,পাঁচজনের হাতেই বোতল ভর্তি কে’রো’সি’ন।গার্ডরা লোকগুলোর গায়ে কে’রো’সি’ন এর বোতল কাত করে তাদের পুরো গায়ে কে’রো’সি’ন ঢেলে দেয়।

মাঝ থেকে একজন লোক চেচিয়ে বলে উঠে,”কে তোরা?”

লায়ানা আর মুগ্ধতা আ’গু’নে পু’ড়’তে থাকা কাঠ গুলোর দিকে এগিয়ে গিয়ে দুজন দুইটি কাঠ হাতে নিয়ে নেয়।মুগ্ধতা বলে,”আমরা কে জেনে কী হবে বল।তোরা বরং তোদের মৃ’ত্যু’র জন্য প্রস্তুত হয়ে যা।এই শরীরের জ্বা’লা মে’টা’নো’র জন্য মেয়েদের ধ’র্ষ’ণ করতি।আজ বরং বিনা মূল্যে সারাজীবনের জন্য তোদের এই শ’রী’রে’র জ্বা’লা মিটিয়ে দিব।”

বলেই লায়ানা আর মুগ্ধতা লোকগুলোর গায়ে আ’গু’ন ধ’রি’য়ে দিল।লোকগুলো একসাথে ভুবন কাঁপানো চিৎ’কা’র করে উঠলো।লায়ানা,মুগ্ধতা বাঁকা হাসলো।

আহান মুগ্ধতার কাছে এগিয়ে এসে বলে,”আপু ওই পাশের ঘরটিতে আছে ওই মেয়েরা।”

“তোমরা থাকো আমরা যাচ্ছি মেয়েগুলোর কাছে।”

লায়ানা,মুগ্ধতা ঘরটির দিকে এগিয়ে যায়।ঘরের বাইরের ঝুলে থাকা তালা ভেঙে দুইজন ভিতরে ঢুকে দুজনেরই চোখ চড়ক গাছ একটি মেয়েও ঘরটির ভিতরে নেই।লায়ানা,মুগ্ধতা ঘরটি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসে। দুজন আহান এর কাছে এসে বলে,”মেয়েগুলো নেই আহান।”

আহান অবাক সরে বলে,”এর মানে ওরা মেয়েগুলোকে সরিয়ে ফেলেছে।”

লায়ানা দুই হাত মুঠ করে চোয়াল শক্ত করে বলে উঠে,”মেয়েগুলোর কিছু হলে শা’লা’র হা’রা’মী গুলোকে মে’রে টু’ক’রো টু’ক’রো করে ন’দী’তে ভা’সি’য়ে দিবো।”

…..

সূর্যদয়ের সময় আলো-ছায়ার খেলা ও নানা রঙের আভায় চারদিক রঙিন হয়ে উঠতে শুরু করে। রাঙামাটির সূর্যদয়ের অপরূপ দৃশ্য দেখতে সকলেই
ঘুম থেকে উঠে রিসোর্টটির ছাদে চলে এসেছে।

আহির কে ধরে দাড়িয়ে আছে আহনাভ।আহনাভ আহির কে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠে,”তোর এতই যখন ঘুম রে আহির,তাহলে সূর্যোদয় কেনো দেখতে এলি।”

আহির ঘুম জড়ানো কণ্ঠে শুধায়,” আসাটা ফরজ হয়ে গেসে বুঝলি।”তারপর ছাদের কোণায় দাড়িয়ে থাকা মুগ্ধতার দিকে তাকিয়ে বলে,”সকাল সকাল বউকে দেখতে এসেছিরে আহনাভ।”

আহনাভ আকাশ পানে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে,”আহারে আমার বউ পাগলা রে।বউকে পরে দেখিস আগে সূর্যোদয় দেখ।”

“তুই দেখ তোর সূর্যোদয় আমি আমার বউকে দেখি।”

আহনাভ আড় চোখে তাকায় আহিরের দিকে।এই আহির ঠিকই মুগ্ধতার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

আহনাভ তার কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে দেখার জন্য ঘাড় ঘুরাতেই দেখতে পেয়ে গেলো, লায়ানা ওয়ার্দি কে কোলে নিয়ে একটি চেয়ারে বসে আছে।

ওয়ার্দি লায়ানার টি-শার্ট টেনে বলে উঠে,” তিতি মাম্মাম দেখো দেখো সূর্দ মামা।”

লায়ানা হেসে আকাশ পানে তাকায়।

.

সূর্যোদয় দেখেই যে যার মত করে নিজেদের রুমে চলে গেলো ঘুমাতে।লায়ানা ওয়ার্দিকে সাহিরাহ রুমে দিয়ে আসে,রুমের সামনে আসতে আসতে দেখে আহির তাদের রুমের দিকেই আসছে।লায়ানার ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটে উঠল। আহির এগিয়ে আসতেই লায়ানা আহির এর সামনে দাড়িয়ে নিজেদের রুম দেখিয়ে বলল,”জিজু আপনি মুগ্ধতার সাথে গিয়ে শুয়ে পড়ুন।আমি এখন ঘুমাবো না।”

আহির চোখ বড় বড় করে নিজেকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে অবাক কণ্ঠে বলে,”আমি!”

লায়ানা হেসে বলে,”নিজের বউয়ের সাথেই ঘুমাবেন অন্য কেউ না।যান যান।”

আহির শুকনো ঢোক গিলে ধীর পায়ে রুমে ঢুকে গেলো।লায়ানা মৃদু কণ্ঠে বলল,”জিজু দরজা আটকে নিন।”বলেই হাসতে হাসতে দৌড়ে পালালো লায়ানা।

আহির দরজা আটকে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলো।মুগ্ধতা বিছনার এক পাশে ঘুমিয়ে আছে চুল গুলো এলোমেলো হয়ে মুখের উপর পড়ে আছে,আহির এগিয়ে যায় মুগ্ধতার দিকে।এগিয়ে গিয়ে মুগ্ধতার পাশে দাঁড়ায়া মৃদু কণ্ঠে শুধায়,”আমার অপরূপা সুন্দরী বউ।”বলেই মুখের সামনের চুলগুলো সরিয়ে দিল অতঃপর মুচকি হেসে মুগ্ধতার পাশটিতে গিয়ে শুয়ে পড়ল।

.
লায়ানা হাসতে হাসতে নিচে নামছিল ধপ করে কেউ হাত ধরে টান দিল।লায়ানা টান সামলাতে না পেরে শক্ত পোক্ত এক কিছুর সাথে বাড়ি খেল।প্রথমে বুঝতে না পেরে মৃদু কণ্ঠে বলে উঠে,”কোন হা’রা’ম’জা’দা রে।” বলেই কিঞ্চিৎ সরে এসে ভালো ভাবে সামনের মানুষটিকে উপর থেকে নিচ অব্দি দেখে নিয়ে বলে,” ওহ জনাব আপনি।”

“জি আমি পাখি,কোনো হা’রা’ম’জা’দা না।”

লায়ানা দাঁত দিয়ে জিভ কেটে আবার মুচকি হাসে।এক কদম এগিয়ে এসে শাহাদাত আঙ্গুলে আহনাভের বুকে গুতো দিয়ে বলে,”কী গো মশাই হুটহাট হাত ধরে টেনে অনো কেনো বলো তো?তোমার পেটে পেটে এত আহু মশাই।”

আহনাভ অবাক হয়ে বলে উঠে,”এই তুমি আমাকে আহু মশাই কেনো বললে?”

লায়ানা ঠোঁটের কোণে মুচকি হাঁসি বজায় রেখে বলে,”মন চাইলো বললাম।দিদুন কিন্তু খুব মিষ্টি করেই ডাকতো তোমায় আহু মশাই।”

আহনাভ হো হো করে হেঁসে উঠল।হাসতে হাসতে বলল,”হায়া পাখি তোমার মনে আছে?”

“কেনো মনে থাকবে না জনাব।আর আপনি হুট করে এত রোম্যান্টিক হয়ে গেলেন যে আমার তো সইছে না জনাব।”

আহনাভ পুনরায় হাসে।লায়ানা আরো এগিয়ে এসে বলে,”জানো আমার তো মন চায় তোমার ওই সুন্দর সুন্দর গাল গুলোতে টুপ করে।” লায়ানা থেমে যায় আহনাভ বলে উঠে,” কী?”

“মন চায় টুপ করে জম্পেশ একটা কামড় দিয়ে গালে সিল বসিয়ে দেই। গালের ওই সিল দেখে আর কোনো মেয়ে নজর দিবে না তোমার উপর।”

“তবে রে।” আহনাভের বলতে দেরি হলেও লায়ানার সামনে থেকে গায়েব হতে দেরি লাগেনি।লায়ানা
সিঁড়ি বেয়ে কিছুটা উপরে উঠে ঘাড় কাত করে আহনাভের দিকে তাকিয়ে বলে,”এইযে শুনছো আহনাভ মশাই।”

আহনাভ মুচকি হেসে উপরে তাকায় লায়ানার দিকে।লায়ানা বলে উঠে,”মাথায় ভালো করে গেঁথে রাখো আহনাভ মশাই তুমি শুধু মাত্র এই লায়ানার।তুমি যদি আমাকে নাও চাও আমি তোমাকে শত বার চাইবো আমার জীবনে।প্রয়োজন পড়লে তুলে এনে বিয়ে করে ফেলবো।” বলেই দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যায়।

আহনাভের পিছন থেকে এক কণ্ঠে ভেসে আসে,”বাহ আমি যা দেখছি তা কী ঠিক?”

আহনাভ ফিরে তাকায়,মুচকি হেসে এগিয়ে গিয়ে বলে,”মা।”

.
মুগ্ধতার টিপটিপ করে চোখ খুলে তাকালো,মুখ খুলে কিছু বলবে বলে পাশে ফিরে তাকালো।এক চিৎকার করে মুগ্ধতা আহির কে বিছানা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

আহির কোমরে হাত দিয়ে বলে,”তুমি আমার কোমড় ভেঙেই ছাড়বে এই পণ করেছো নাকি?”

মুগ্ধতা বলে উঠে,”সাহস কম বড় না একটা অবিবাহিত মেয়ের ঘরে এসে তার পাশেই শুয়ে ছিলেন। আহ আমি আমার ভবিষ্যতের জামাইর কাছে মুখ কিভাবে দেখাবো?”

আহির তার কোমড় ছেড়ে দিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে মুগ্ধতার দিকে।মুগ্ধতা আহিরের এমন ভাবে তাকিয়ে থাকা থেকে বলে,” এইভাবে রসগোল্লার মত চোখ করে তাকিয়ে আছেন কেনো?চোখ খুলে একুরিয়ামে সাজিয়ে রাখবো আমার দিকে এইভাবে তাকালে।”

আহির ভ্রু কুঁচকে বলে,”তুমি আসলেই অবিবাহিত মুগ্ধ?”

“অবশ্যই।”

“দাড়াও দেখাচ্ছি তোমাকে”,বলেই আহির বিছানায় উঠে বসে।মুগ্ধতার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,” আবার বলো শুনি তো তুমি বিবাহিত কিনা।”

মুগ্ধতা কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে বলে,”একদম আগাবেন না আহির।আমি কিন্তু মে’রে দিবো বলে দিলাম।”

আহির এগিয়ে এসে ধপ করে মুগ্ধতার পাশে বসে পড়ে।মুগ্ধতার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ধীর কণ্ঠে বলে,”শুনো এমন করে আর বলবে না মুগ্ধ রানি।আমি তোমার এক মাত্র জামাই আর তুমি কিনা বার বার বলো তুমি বিবাহিত না।তাহলে আমি কী ম’রে গিয়েছি?”

মুগ্ধতা আহিরের এমন কাচুমাচু মুখ দেখে জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট দুটো ভিজিয়ে নিয়ে বলে,”এই আপনি এমন ইমোশনাল ব্লেইক মেইল করবেন না তো।ঠিক আছে আর বলবো না।”

আহির হেঁসে বলে,”কী ভালো বউ আমার।আচ্ছা শুনো মুগ্ধ রানি চট করে রেডি হয়ে নাও আমরা কাপ্তাই হ্রদ দেখতে যাবো।আরো অনেক কিছু ঘুরে দেখার আছে আজ।”

“ঠিক আছে আপনি যান আমি রেডি হয়ে আসছি।”

#copyrightalert
#চলবে

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য জেলা রাঙামাটি।চারিপাশে সবুজের ছড়াছড়ি। ঢাকা থেকে রাঙামাটি তিনটি পরিবহন পরিবর্তন করে আট ঘণ্টা যাত্রায় আহনাভের পুরো পরিবার রাঙামাটি এসে পৌঁছায়।

.
হোটেলে এসে পৌঁছাতেই রাত আটটা বেজে যায়।যে যার রুমে চলে যায়।রাত দশটা নাগাদ রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে হোটেলের ছাদে।
.
যে যার রুমে ঢুকেই দুই ঘণ্টার বিশ্রাম নিয়ে নেয়।ফ্রেশ হয়ে চলে আসে ছাদে।যে যার মতো হোটেলের ছাদটি ঘুরে ঘুরে দেখছে।লায়ানা ছাদের এক কোণায় দাড়িয়ে কারো সাথে ফোনে কথা বলতে ব্যাস্ত।লায়ানা ফোন কান থেকে সরিয়ে কল কেটে দেয় অতঃপর আকাশ পানে তাকিয়ে আনমনে হেঁসে পিছন ফিরেই দেখে আহনাভ পকেটে দুই হাত গুজে দাড়িয়ে আছে।তার পূর্ণ দৃষ্টি লায়ানার দিকে।লায়ানা ঠোঁটের কোণে হাঁসির রেখা টেনে এগিয়ে এসে বলে,”কী আহনাভ মশাই আমার পিছন দাঁড়িয়েছিলেন এত্বক্ষণ যাবত?”

আহনাভ দুই কদম এগিয়ে এসে দুজনের মাঝে সকল দুরত্ব ঘুচিয়ে দেয়,কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বলে,”আজ গাড়িতে উঠার পর থেকে হোটেল আসা অব্দি ঘুমাতে ঘুমাতে এলে,আমি তো চট্টগ্রাম অব্দি ঘুমন্ত হায়া কে সামলাতে সামলাতে গিয়েছি তারপর কী হলো ট্রেনে উঠেও আমার কাঁধে মাথা রেখে কী ঘুম তোমার,বাসেও ঘুমালে।কী হয়েছে হায়া পাখি? শরীর খারাপ?বলো আমাকে।”

লায়ানা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আহনাভের মুখ পানে।আহনাভের ভ্রু কুঁচকে আসে।আহনাভ বলে,”কী হলো বলছো না কেনো?”

“বেশি না দুটো ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছিলাম।”

আহনাভ চোখ বড় বড় করে ফেললো।অবাক স্বরে বলে,”ঘুমের ট্যাবলেট কেনো খেয়েছো?”

“মাত্রাতিরিক্ত মাথা ব্যাথা গত কাল রাতে আমার ঘুম পুরোপুরি কেড়ে নেয় আহনাভ।আর কি সহ্য করতে না পেরে ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।”

আহনাভ অস্থির কণ্ঠে বলে উঠে,”এখন কেমন লাগছে?মাথা ব্যাথা করছে?”

লায়ানা হেঁসে বলে,” আমি একদম ঠিক আছি আহনাভ মশাই।আচ্ছা আজ আমাকে এইভাবে সামলে এইখানে আনতে কী আপনার খুব খারাপ লেগেছে?”

আহনাভ দুষ্টু হেসে বলে,” আমার তো ওই ঘুমন্ত হায়া কেই বেশি ভালো লেগেছে।কী শান্ত।চুপটি করে ঘুমিয়ে ছিল।আর বাসে কিছুক্ষন পর পর আমার শার্টের হাতা খামচে ধরে মৃদু কণ্ঠে একা একাই কী যেন বলছিলো।আমি কিছু না শুনতে না পেলেও খুব হাঁসি পেয়েছে।”

লায়ানা মুখ ফুলিয়ে বলে,”হম আমি তো খুব শয়তানি করি তাই না যাও যাও ওই ঘুমন্ত হায়ার কাছে যাও।”

“তুমি ঘুমিয়ে পরো তাহলে তো আমি ঘুমন্ত হায়া কে পেয়ে যাবো।”

লায়ানা আড় চোখে তাকিয়ে বলে,”অ’স’ভ্য লোক।তুমি একদম নিষ্পাপ না পুরোটাই ব’জ্জা’ত।”

“পড়ে দুজন মিলে নাহয় ঝগড়া করবো এখন চলো খেয়ে নিবে।”

“ওকে জনাব।”

.
খাবার টেবিলে একে একে এসে বসে পড়ে।লায়ানার ডান পাশে মুগ্ধতা বসেছে আর বাম পাশে আহনাভ। লায়ানার বাম পাশে আলিযা বসতে এসেছিল আহনাভ আলিযার মাথায় গাট্টা মেরে অপরপাশে বসতে পাঠিয়ে দেয়।

আলিযা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলে,” ভাই তুই শয়তানদের ডিগ্রি কী আবার পাস করে চলে এলি । আহির ভাইয়ের বউ মুগ্ধতা আপ্পি,তো আহির ভাই মুগ্ধতা আপ্পির সাথে বসতেই পারে তুই কেনো হায়াতি আপুর পাশে বসলি?”

আহনাভ প্লেটে খাবার নিয়ে ঠিক হয়ে বসে বলে,”আমার এক মাত্র বেয়াইন ঠিকঠাক করে খাওয়া দাওয়া করে কিনা তা তো আমাকেই দেখতে হবে তাই না।আর তুই ওর পাশে বসলে বেচারীর খাওয়া দাওয়া না দেখে নিজেই রা’ক্ষ’শে’র মতো খেতে থাকবি।”

আলিযা আহনাভের বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,”বাবাই ভাইকে কিছু বলো সে আমাকে খাওয়া খোটা দিচ্ছে।”

“নাহ মা খাও তুমি।আমি ওকে বলে দিচ্ছি।”,আহনাভের বাবা কথাটি বলে আবার খাওয়ায় মনোযোগ দিলেন।

এক সময় টেবিলে পিন পিন নিরবতা বইতে লাগলো যে যার মতো করে খেয়ে এক এক করে উঠে যেতে লাগলো।
.
সকলে নিজেদের রুমে চলে গেলে লায়ানা,মুগ্ধতা নিজেদের রুমে গিয়ে তৈরি হতে শুরু করলো।লায়ানা ক্রপ টপ এর উপরে জ্যাকেট পড়া শেষ করে ব’ন্দু’ক কোমরে গুজে নিচ্ছিল সেই মুহূর্তে লায়ানার ফোন বেজে উঠে।লায়ানা ফোন হাতে নিয়ে রিসিভ করতেই ওই পাশ থেকে বলে উঠে,”তোর হোটেলের নিচেই তোর আর মুগ্ধতা আপুর বাইক রেডি।আমি *** জায়গায় আছি তোরা চলে আয়।আর গার্ডরা বাড়ির নিচেই আছে।”

লায়ানা ফোন রেখে মুগ্ধতার দিকে তাকিয়ে বলে,”বনুই চল।”

.
দুজন হোটেলের নিচে নেমে আসে।দুজনের পরনেই কালো জিন্স,কালো ক্রপ টপ তার উপর কালো রঙের জ্যাকেট।দুজনের মুখেই মাস্ক।

দুজন বাইকে উঠে বসে।মুহূর্তের মাঝেই বাইক দুটো ছুটিয়ে নিয়ে চলে যায় মুগ্ধতা,লায়ানা।মুগ্ধতা আর লায়ানা যেতেই ওদের গার্ডরা এক এক করে ওদের পিছে চলে যায়।

.
চারিপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার।গা শিউরে ওঠার মতো পরিবেশ।এই অন্ধকারে কিছুটা দূরেই আলোর দেখা মিলছে।লায়ানা,মুগ্ধতা বাইক থামতেই আহান এগিয়ে আসে।লায়ানা বাইক থেকে নেমে আহানের সেট করা চুল আউলাঝাইলা করে দিয়ে বলে,”আমাদের এক দিন আগে এসে কেমন ঘুরলি ভাই।”

আহান আড় চোখে তাকিয়ে বলে,”কী আর ঘুরলাম তোর কাজ করতে করতেই এই জীবন শেষ।”

মুগ্ধতা বলে উঠে,”এই তোরা চুপ থাক।এইটাই ওই লোকেশন? আর ওই হা’রা’মী গুলো কই?

আহান চোখের ইশারায় ঝোপের ঐপাশেরর দিকটা দেখিয়ে বলে,”ঐযে ঐখানে চলো।”

লায়ানা,মুগ্ধতা সহ গার্ডরা ধীরে ধীরে ঝোপের ঐপাশটিতে চলে গেলো।

মাঝখানে আ’গু’ন জ্বলছে তার পাশে দশ জনের মত লোক বসে আছে।তাদের ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাঁসি।
মুগ্ধতা কোমড় থেকে ব’ন্দু’ক বের করে পিছন থেকে প্রত্যেকের হাতে শু’ট করে দিল।আচমকা এমন হওয়ায় হাত চেপে ধরে লোকগুলো ছিটকে পড়ল।

লায়ানা বলে উঠে,”কাজ শুরু করো।”

পাঁচ জন গার্ড এগিয়ে আসে,পাঁচজনের হাতেই বোতল ভর্তি কে’রো’সি’ন।গার্ডরা লোকগুলোর গায়ে কে’রো’সি’ন এর বোতল কাত করে তাদের পুরো গায়ে কে’রো’সি’ন ঢেলে দেয়।

মাঝ থেকে একজন লোক চেচিয়ে বলে উঠে,”কে তোরা?”

লায়ানা আর মুগ্ধতা আ’গু’নে পু’ড়’তে থাকা কাঠ গুলোর দিকে এগিয়ে গিয়ে দুজন দুইটি কাঠ হাতে নিয়ে নেয়।মুগ্ধতা বলে,”আমরা কে জেনে কী হবে বল।তোরা বরং তোদের মৃ’ত্যু’র জন্য প্রস্তুত হয়ে যা।এই শরীরের জ্বা’লা মে’টা’নো’র জন্য মেয়েদের ধ’র্ষ’ণ করতি।আজ বরং বিনা মূল্যে সারাজীবনের জন্য তোদের এই শ’রী’রে’র জ্বা’লা মিটিয়ে দিব।”

বলেই লায়ানা আর মুগ্ধতা লোকগুলোর গায়ে আ’গু’ন ধ’রি’য়ে দিল।লোকগুলো একসাথে ভুবন কাঁপানো চিৎ’কা’র করে উঠলো।লায়ানা,মুগ্ধতা বাঁকা হাসলো।

আহান মুগ্ধতার কাছে এগিয়ে এসে বলে,”আপু ওই পাশের ঘরটিতে আছে ওই মেয়েরা।”

“তোমরা থাকো আমরা যাচ্ছি মেয়েগুলোর কাছে।”

লায়ানা,মুগ্ধতা ঘরটির দিকে এগিয়ে যায়।ঘরের বাইরের ঝুলে থাকা তালা ভেঙে দুইজন ভিতরে ঢুকে দুজনেরই চোখ চড়ক গাছ একটি মেয়েও ঘরটির ভিতরে নেই।লায়ানা,মুগ্ধতা ঘরটি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসে। দুজন আহান এর কাছে এসে বলে,”মেয়েগুলো নেই আহান।”

আহান অবাক সরে বলে,”এর মানে ওরা মেয়েগুলোকে সরিয়ে ফেলেছে।”

লায়ানা দুই হাত মুঠ করে চোয়াল শক্ত করে বলে উঠে,”মেয়েগুলোর কিছু হলে শা’লা’র হা’রা’মী গুলোকে মে’রে টু’ক’রো টু’ক’রো করে ন’দী’তে ভা’সি’য়ে দিবো।”

…..

সূর্যদয়ের সময় আলো-ছায়ার খেলা ও নানা রঙের আভায় চারদিক রঙিন হয়ে উঠতে শুরু করে। রাঙামাটির সূর্যদয়ের অপরূপ দৃশ্য দেখতে সকলেই
ঘুম থেকে উঠে রিসোর্টটির ছাদে চলে এসেছে।

আহির কে ধরে দাড়িয়ে আছে আহনাভ।আহনাভ আহির কে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠে,”তোর এতই যখন ঘুম রে আহির,তাহলে সূর্যোদয় কেনো দেখতে এলি।”

আহির ঘুম জড়ানো কণ্ঠে শুধায়,” আসাটা ফরজ হয়ে গেসে বুঝলি।”তারপর ছাদের কোণায় দাড়িয়ে থাকা মুগ্ধতার দিকে তাকিয়ে বলে,”সকাল সকাল বউকে দেখতে এসেছিরে আহনাভ।”

আহনাভ আকাশ পানে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে,”আহারে আমার বউ পাগলা রে।বউকে পরে দেখিস আগে সূর্যোদয় দেখ।”

“তুই দেখ তোর সূর্যোদয় আমি আমার বউকে দেখি।”

আহনাভ আড় চোখে তাকায় আহিরের দিকে।এই আহির ঠিকই মুগ্ধতার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

আহনাভ তার কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে দেখার জন্য ঘাড় ঘুরাতেই দেখতে পেয়ে গেলো, লায়ানা ওয়ার্দি কে কোলে নিয়ে একটি চেয়ারে বসে আছে।

ওয়ার্দি লায়ানার টি-শার্ট টেনে বলে উঠে,” তিতি মাম্মাম দেখো দেখো সূর্দ মামা।”

লায়ানা হেসে আকাশ পানে তাকায়।

.

সূর্যোদয় দেখেই যে যার মত করে নিজেদের রুমে চলে গেলো ঘুমাতে।লায়ানা ওয়ার্দিকে সাহিরাহ রুমে দিয়ে আসে,রুমের সামনে আসতে আসতে দেখে আহির তাদের রুমের দিকেই আসছে।লায়ানার ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটে উঠল। আহির এগিয়ে আসতেই লায়ানা আহির এর সামনে দাড়িয়ে নিজেদের রুম দেখিয়ে বলল,”জিজু আপনি মুগ্ধতার সাথে গিয়ে শুয়ে পড়ুন।আমি এখন ঘুমাবো না।”

আহির চোখ বড় বড় করে নিজেকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে অবাক কণ্ঠে বলে,”আমি!”

লায়ানা হেসে বলে,”নিজের বউয়ের সাথেই ঘুমাবেন অন্য কেউ না।যান যান।”

আহির শুকনো ঢোক গিলে ধীর পায়ে রুমে ঢুকে গেলো।লায়ানা মৃদু কণ্ঠে বলল,”জিজু দরজা আটকে নিন।”বলেই হাসতে হাসতে দৌড়ে পালালো লায়ানা।

আহির দরজা আটকে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলো।মুগ্ধতা বিছনার এক পাশে ঘুমিয়ে আছে চুল গুলো এলোমেলো হয়ে মুখের উপর পড়ে আছে,আহির এগিয়ে যায় মুগ্ধতার দিকে।এগিয়ে গিয়ে মুগ্ধতার পাশে দাঁড়ায়া মৃদু কণ্ঠে শুধায়,”আমার অপরূপা সুন্দরী বউ।”বলেই মুখের সামনের চুলগুলো সরিয়ে দিল অতঃপর মুচকি হেসে মুগ্ধতার পাশটিতে গিয়ে শুয়ে পড়ল।

.
লায়ানা হাসতে হাসতে নিচে নামছিল ধপ করে কেউ হাত ধরে টান দিল।লায়ানা টান সামলাতে না পেরে শক্ত পোক্ত এক কিছুর সাথে বাড়ি খেল।প্রথমে বুঝতে না পেরে মৃদু কণ্ঠে বলে উঠে,”কোন হা’রা’ম’জা’দা রে।” বলেই কিঞ্চিৎ সরে এসে ভালো ভাবে সামনের মানুষটিকে উপর থেকে নিচ অব্দি দেখে নিয়ে বলে,” ওহ জনাব আপনি।”

“জি আমি পাখি,কোনো হা’রা’ম’জা’দা না।”

লায়ানা দাঁত দিয়ে জিভ কেটে আবার মুচকি হাসে।এক কদম এগিয়ে এসে শাহাদাত আঙ্গুলে আহনাভের বুকে গুতো দিয়ে বলে,”কী গো মশাই হুটহাট হাত ধরে টেনে অনো কেনো বলো তো?তোমার পেটে পেটে এত আহু মশাই।”

আহনাভ অবাক হয়ে বলে উঠে,”এই তুমি আমাকে আহু মশাই কেনো বললে?”

লায়ানা ঠোঁটের কোণে মুচকি হাঁসি বজায় রেখে বলে,”মন চাইলো বললাম।দিদুন কিন্তু খুব মিষ্টি করেই ডাকতো তোমায় আহু মশাই।”

আহনাভ হো হো করে হেঁসে উঠল।হাসতে হাসতে বলল,”হায়া পাখি তোমার মনে আছে?”

“কেনো মনে থাকবে না জনাব।আর আপনি হুট করে এত রোম্যান্টিক হয়ে গেলেন যে আমার তো সইছে না জনাব।”

আহনাভ পুনরায় হাসে।লায়ানা আরো এগিয়ে এসে বলে,”জানো আমার তো মন চায় তোমার ওই সুন্দর সুন্দর গাল গুলোতে টুপ করে।” লায়ানা থেমে যায় আহনাভ বলে উঠে,” কী?”

“মন চায় টুপ করে জম্পেশ একটা কামড় দিয়ে গালে সিল বসিয়ে দেই। গালের ওই সিল দেখে আর কোনো মেয়ে নজর দিবে না তোমার উপর।”

“তবে রে।” আহনাভের বলতে দেরি হলেও লায়ানার সামনে থেকে গায়েব হতে দেরি লাগেনি।লায়ানা
সিঁড়ি বেয়ে কিছুটা উপরে উঠে ঘাড় কাত করে আহনাভের দিকে তাকিয়ে বলে,”এইযে শুনছো আহনাভ মশাই।”

আহনাভ মুচকি হেসে উপরে তাকায় লায়ানার দিকে।লায়ানা বলে উঠে,”মাথায় ভালো করে গেঁথে রাখো আহনাভ মশাই তুমি শুধু মাত্র এই লায়ানার।তুমি যদি আমাকে নাও চাও আমি তোমাকে শত বার চাইবো আমার জীবনে।প্রয়োজন পড়লে তুলে এনে বিয়ে করে ফেলবো।” বলেই দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যায়।

আহনাভের পিছন থেকে এক কণ্ঠে ভেসে আসে,”বাহ আমি যা দেখছি তা কী ঠিক?”

আহনাভ ফিরে তাকায়,মুচকি হেসে এগিয়ে গিয়ে বলে,”মা।”

.
মুগ্ধতার টিপটিপ করে চোখ খুলে তাকালো,মুখ খুলে কিছু বলবে বলে পাশে ফিরে তাকালো।এক চিৎকার করে মুগ্ধতা আহির কে বিছানা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

আহির কোমরে হাত দিয়ে বলে,”তুমি আমার কোমড় ভেঙেই ছাড়বে এই পণ করেছো নাকি?”

মুগ্ধতা বলে উঠে,”সাহস কম বড় না একটা অবিবাহিত মেয়ের ঘরে এসে তার পাশেই শুয়ে ছিলেন। আহ আমি আমার ভবিষ্যতের জামাইর কাছে মুখ কিভাবে দেখাবো?”

আহির তার কোমড় ছেড়ে দিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে মুগ্ধতার দিকে।মুগ্ধতা আহিরের এমন ভাবে তাকিয়ে থাকা থেকে বলে,” এইভাবে রসগোল্লার মত চোখ করে তাকিয়ে আছেন কেনো?চোখ খুলে একুরিয়ামে সাজিয়ে রাখবো আমার দিকে এইভাবে তাকালে।”

আহির ভ্রু কুঁচকে বলে,”তুমি আসলেই অবিবাহিত মুগ্ধ?”

“অবশ্যই।”

“দাড়াও দেখাচ্ছি তোমাকে”,বলেই আহির বিছানায় উঠে বসে।মুগ্ধতার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,” আবার বলো শুনি তো তুমি বিবাহিত কিনা।”

মুগ্ধতা কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে বলে,”একদম আগাবেন না আহির।আমি কিন্তু মে’রে দিবো বলে দিলাম।”

আহির এগিয়ে এসে ধপ করে মুগ্ধতার পাশে বসে পড়ে।মুগ্ধতার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ধীর কণ্ঠে বলে,”শুনো এমন করে আর বলবে না মুগ্ধ রানি।আমি তোমার এক মাত্র জামাই আর তুমি কিনা বার বার বলো তুমি বিবাহিত না।তাহলে আমি কী ম’রে গিয়েছি?”

মুগ্ধতা আহিরের এমন কাচুমাচু মুখ দেখে জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট দুটো ভিজিয়ে নিয়ে বলে,”এই আপনি এমন ইমোশনাল ব্লেইক মেইল করবেন না তো।ঠিক আছে আর বলবো না।”

আহির হেঁসে বলে,”কী ভালো বউ আমার।আচ্ছা শুনো মুগ্ধ রানি চট করে রেডি হয়ে নাও আমরা কাপ্তাই হ্রদ দেখতে যাবো।আরো অনেক কিছু ঘুরে দেখার আছে আজ।”

“ঠিক আছে আপনি যান আমি রেডি হয়ে আসছি।”

#copyrightalert
#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here