মেঘকন্যা☁️ #Part_12 #Writer_NOVA

0
133

#মেঘকন্যা☁️
#Part_12
#Writer_NOVA

বিষন্ন মনে বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাতের অন্ধকার দেখছি।চারিদিকে আবছা অন্ধকার। যদিও রাতের অন্ধকার ফুটতে বেশি বাকি নেই ।আছরের নামাজ পরে ছাদের থেকে একটু হাটাহাটি করে এখন মাগরিবের নামাজের জন্য অপেক্ষা করছি।এর মধ্যে এক দিন কেটে গেছে কিন্তু আয়িশের কোন খোঁজ নেই। আম্মি তো নামাজে বসে ওর জন্য কাঁদে। আব্বি ওর খোঁজ লাগিয়েছে কিন্তু কোথাও নেই। এমনকি নিজের বাসাও নেই। অনেক চিন্তা হচ্ছে ওর জন্য। এক দিন ধরে আমার রুমে থাকা জ্বীনটাও আমাকে জ্বালাচ্ছে না।তাকে অনেকটা মিস করি।কিন্তু তাকে তো মিস করার কথা না।প্রথম প্রথম আপদ চলে গেছে বলে অনেক খুশি হয়েছিলাম।কিন্তু এই খুশি আমার চিরস্থায়ী হয়নি।কিছু সময় পর থেকে খারাপ লাগা শুরু করেছে।তাছাড়া আয়িশের জন্য কাঁদতে কাঁদতে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছি।বারবার মনে কু ডাকছে।নিশ্চয়ই ওর কোন ক্ষতি হয়েছে।

আমিঃ আয়িশটা কোথায় আছে কে জানে?সেদিন তো আমাকে বাঁচিয়ে মহা উদ্ধার করেছিলো।নিজের চিন্তা সব ভুলে খেয়ে ফেলেছে। আল্লাহ মালুম, ছেলেটা বিষাক্ত শরীর নিয়ে কোথাও পরে আছে কিনা।আজকালের মানুষ তো কেউ মরে পরে থাকলেও ফিরে তাকায় না।আমি ওর সাথে সেদিন কেন কথা বললাম না?নিজের ওপর রাগ উঠছে।এতটা স্বার্থপর কি করে হতে পারলাম?আল্লাহ তুমি আয়িশকে ভালো রেখো।

মনে মনে কথাগুলো বলে যেই বারান্দা থেকে চলে আসবো ওমনি বাড়ির গেইটের দিকে নজর গেলো।মনে হচ্ছে কেউ অতিকষ্টে বাসার দিকে এগিয়ে আসছে।সারা শরীর তার রক্তাক্ত। আমি ভয় পেয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইলাম।কিছু সময় পর সে আমার দিকে তাকিয়ে একটা করুন চাহনি দিলো।কাঁপা কাঁপা কন্ঠে ডেকে বললো।

আয়িশঃ মমমাললল্টটটটি ককককাললার।
আমিঃ আয়িশ!!!!!

আমি দৌড়ে নিচে চলে এলাম। দরজা খুলে দেখলাম আয়িশ ঢুলছে।প্রায় পরে যাবে।আমি ওকে পরে যাওয়ার আগে ধরে ফেললাম।আয়িশ আমার দিকে তাকিয়ে একটা শুকনো হাসি দিলো। সে হাসিতে অনেক কষ্টে জর্জরিত থাকলেও ছিলো অনেক বড় প্রাপ্তি। চোখ দুটো ওর চিকচিক করছিলো।ওর দূর্বল এক হাত দিয়ে আমাকে আলতো করে জরিয়ে ধরলো।

আমিঃ আআআয়য়য়িশশ কি হয়েছে তোর?এমন অবস্থা কেন?সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত। রক্ত শুকিয়ে গেছে। তুই কোথায় ছিলি এই একদিন?জানিস তোর জন্য কত চিন্তা হচ্ছিল আমাদের। আমার মনে হচ্ছিল আমি আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে হারিয়ে ফেলেছি। আমি নামাজে তোর জন্য আল্লাহর কাছে কত কান্না করেছিস জানিস?আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো।কে করেছে তোর এই অবস্থা? কথা বলছিস মা কেন?একদম হাবার মতো হাসবি না।
(কাঁদতে কাঁদতে)

চোখ দিয়ে অনরবত পানি পরছে আমার।হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে পেলে মানুষ যতটা খুশি হয় তারচেয়ে বেশি খুশি আমি।আয়িশ আমার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে। ওর দূর্বল হাত দিয়ে আমার চোখের পানি মুছে দিলো।

আয়িশঃ একদম কাঁদবি না।তুই কাঁদলে আমার অনেক কষ্ট হয়।

আমিঃ তোকে এতকষ্ট করে কথা বলতে হবে না। ভেতরে চল।কিন্তু আমিতো তোকে একা নিতে পারবো না।আব্বি আম্মিকে ডাকতে হবে।

আমি আয়িশকে এক হাতে কোমড় জড়িয়ে রেখেছি।আরেক হাত দিয়ে ওর বাম হাতটা যে আমার ঘাড়ে জরিয়ে রেখেছে সেটাকে ধরে রেখেছি।কিন্তু আমি ব্যালেন্স রাখতে পারছি না।ওকে একা নিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে একেবারে অসম্ভব। আমি আম্মি,আব্বিকে ডাকতে লাগলাম।

আমিঃ আম্মি, আব্বি।কোথায় তোমরা?নিচে এসো।আব্বি আম্মি।তোমরা কি শুনতে পাচ্ছো?তারা নিশ্চয়ই আমার ডাক শুনতে পাচ্ছে না। আমি আয়িশকে রেখে তাদেরকে ডেকে নিয়ে আসি।

আয়িশ ভ্যাবলাকান্তোর মতো এখন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মন ভরে দেখছে।চারপাশের কোন হুশ নেই। কিন্তু আমরতো এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে চলবে না।ওর সারা শরীররের বিভিন্ন জায়গায় কেটে গেছে। মুখে খামচির দাগ। রক্ত জমাট বেঁধে শুকিয়ে গেছে। ঠোঁটের বাপাশে কেটে গেছে। কিন্তু এখন তাজা রক্ত ঝরছে।পোশাক ছিন্নভিন্ন হয়ে আছে জখমের কারণে। আমি হাত বাড়িয়ে ওর ঠোঁটের রক্তটুকু মুছে দিলাম।

আমিঃ তুই এখানে থাক।আমি আম্মি আব্বিকে ডেকে আনছি।একটু অপেক্ষা কর।তোর কিছু হবে না। আমি কিছু হতে দিবোই না।

আয়িশঃ নাহ, তুই কোথাও যাবি না।আমার সাথেই থাকবি।

আমিঃ পাগলামি করিস না।তোর কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। তুই একটা কথাও বলবি না। একটু বস।আমি আব্বি আম্মিকে নিয়ে আসি।

আয়িশকে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসিয়ে যাওয়ার জন্য উঠতেই ও আমার ওড়না টেনে ধরলো।আমি পেছন দিকে তাকিয়ে ওর করুন চাহনি দেখে দমে গেলাম।

আমিঃ একটু অপেক্ষা কর।আমি যাবো আর আসবো।প্লিজ আমাকে যেতে দে।তোকে ভেতরে নিতে হবে তো।

আয়িশ মাথা হেলিয়ে ওড়নাটা ছেড়ে দিলো।ওর চোখে আমি আমাকে হারানোর ভয় দেখছি।মনে হচ্ছে আমি চলে গেলে ওর কাছে আর আসবো না।আমি দৌড়ে ভেতরে চলে গেলাম।আব্বি, আম্মিকে নিয়ে জলদী করে বাইরে চলে এলাম।আম্মিতো আয়িশের এই অবস্থা দেখে কান্না শুরু করলো।সবাই ধরাধরি করে আয়িশকে ভেতরে নিয়ে এলাম।তখনও আয়িশ এক ধ্যানে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

🌨️🌨️🌨️

আব্বি ও মালী চাচা মিলে আয়িশের ড্রেস চেঞ্জ করে দিচ্ছি। আমি ও আম্মি রুমের বাইরে পায়চারি করছি। ডাক্তারকে কল করা হয়েছে। সে আসার আগে ওর ড্রেস পাল্টানো জরুরি।আব্বি কল করে মালী চাচা রহমত কে আসতে বলেছে।তিনি আমাদের বাড়ির পাশেই থাকেন।আয়িশ আমার হাত ছাড়তে চাইছিলো না।দূর্বল হাতেও যতটুকু পেরেছে শক্ত করে ধরে রেখেছিলো।ওর ধারণা আমাকে ছেড়ে দিলেই আমি ওকে ছেড়ে চলে যাবো।আমার হাত ছাড়ানোর আগে আয়িশ অজ্ঞান হয়ে গেলো।তারপরেও হাত ছাড়েনি।আমি ও আম্মি সেই ফাঁকে মাগরিবের নামাজ আদায় করে নিয়েছি।আব্বি রুমেই নামাজ আদায় করেছে।

এত সময় লাগে ড্রেস চেঞ্জ করতে।একেকটা মিনিট আমার কাছে একেকটা ঘন্টা মনে হচ্ছে। কিছু সময় পর ডাক্তার চলে এলো। আব্বির পরিচিত সে। সিফাত আঙ্কেল।সে এসে আয়িশকে দেখতে লাগলো।আমি রুমের এক কোণায় ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে আছি।

ডাক্তারঃ উনার এত ক্ষত হলো কি করে?মনে হচ্ছে কোন হিংস্র পশুর নখের আঁচড়। কোথায় ছিলো সে?এরকম আঘাত সচারাচর দেখা যায় না।শুধু মাত্র বনবিভাগে থাকা কর্মকর্তাদের শরীরে পাওয়া যায়।যদি সে বনে থাকা পশুদের দ্বারা আক্রমণ হয়।

আব্বিঃ আমি বলতে পারবো না।গত পরশু রাতে আমাদের বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলো।কোথায় যাবে, কি করবে কিছু বলেনি।গোটা একদিন ওর কোন খোঁজ খবর নেই। পুরো শহর তন্নতন্ন করে খুজেও কোথাও পাইনি।সন্ধ্যায় মেয়ে এসে বলে আয়িশ বাসার বাইরে আছে।সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে আছে।জলদী করে আমরা ওকে ভেতরে নিয়ে এসেছি।কিভাবে হলো তা জানি না।

আম্মিঃ ডাক্তার ছেলেটাকি সুস্থ হবে না?আল্লাহ কেন ছেলেটার সাথে এমন করলো।কি দোষ করেছিলো আমার ছেলেটা।(কাঁদতে কাঁদতে)

ডাক্তারঃ শান্ত হোন মিসেস ইসলাম। আমি দুটো ইনজেকশন পুশ করে দিচ্ছি। একটি ঘুমের আরেকটা ব্যাথা কমার।সে এখন অজ্ঞান অবস্থায় আছে। তাকে কোনরকম প্রেশার দেওয়া যাবে না।ফুললি ২৪ ঘন্টা রেস্টে রাখবেন।কিছু ঔষধ লিখে দিচ্ছি। নিয়মিত খাওয়াতে থাকেন ইনশাল্লাহ আল্লাহ ভালো করে দিবে।উনাকে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার খাওয়াবেন।বেশি করে দুধ,ডিম, শাক-সবজি। উনি প্রচুর দূর্বল এখন।অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। সাবধানে রাখবেন।আমি ক্ষত স্থানগুলোগে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছি।ভয়ের কোন কারণ নেই। আল্লাহ আছেন।তিনি সুস্থ করে দিবেন।মুখের আঁচড়ের দাগের জন্য ক্রিম লিখে দিয়েছি। ১২ ঘন্টা পর পর ব্যবহার করতে বলবেন।

আব্বিঃ জ্ঞান ফিরবে কখন?

ডাক্তারঃ আগামীকাল সকালের আগে নয়।জ্ঞান ফেরার পর জোর করে হলেও খাবার খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দিয়েন।পুরো দমে খেয়াল রাখবেন। বেডের থেকে নামতেই দিবেন না।

ডাক্তার দুটো ইনজেকশন পুশ করে দিলো।আয়িশের মলিন মুখটা আমার কাছে অনেক খারাপ লাগছে। ফর্সা মুখটায় আঁচড়ের দাগগুলো টকটকে লাল হয়ে আছে।ঠোঁটটা ফুলে ঢোল হয়ে রয়েছে। চোখের নিচটা গাঢ় কালো। কেউ ঘুষি দিয়ে এই অবস্থা করেছে। মাত্র একটা দিনে কি অবস্থা? চেহারার দিকে তাকানো যায় না।ওর পরনে টি-শার্ট ও ক্রিম কালার টাউজার।আব্বি এসব কোথায় পেলো কে জানে?আয়িশের চোখ দুটো বন্ধ। কিন্তু আমি তার মধ্যেও মায়া খুঁজে পাচ্ছি। ছোট বাচ্চাদের মতো করে হালকা একটু ঠোঁট ফুলিয়ে রেখেছে। এই বুঝি কান্না করে দিবে।

ডাক্তারঃ পেশেন্টের খেয়াল রাখবেন।প্রেসক্রিপশনে সব লিখে দিয়েছি।আমি এবার উঠছি।পায়ের ক্ষতটা একটু গভীর।কাচ জাতীয় কিছু দিয়ে কেটে গেছে। সাবধানে মলম লাগাবেন।

আব্বিঃ রহমত ডাক্তারকে পৌঁছে দিয়ে এসো।তার যেনো কোন অসুবিধা না হয়।
রহমতঃ আচ্ছা সাহেব।চলেন ডাক্তার সাব।
ডাক্তারঃ আসালামু আলাইকুম। আসছি।কোন সমস্যা হলে কল করবেন।আমি দুই দিন পরে এসে পেশেন্টকে দেখে যাবো।
আব্বিঃ অলাইকুম আস সালাম।

ডাক্তার চলে যেতেই আম্মি আয়িশের সামনে গিয়ে বসলো।ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।আমি থ মেরে পূর্বের জায়গায় দাঁড়িয়ে পলকহীনভাবে আয়িশের দিকে তাকিয়ে আছি। আব্বি নামাজ আদায় করতে মসজিদে চলে গেল।

আম্মিঃ মেঘা তুই ওর পাশে বস।আমি এশারের নামাজটা পরে আসি।

আমিঃ আচ্ছা তুমি যাও।আমি বসছি।

আম্মিঃ কোথাও যাস না ওকে একা ছেড়ে। আজ কিন্তু আল্লাহ ওর ওসিলায় তোকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তোকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে আল্লাহ যদি আয়িশকে না পাঠাতো তাহলে এতক্ষণে আমার কোল খালি হয়ে যেতো।

আমিঃ আমি জানি। আজ সারাদিনে তুমি এই কথাগুলো না হলেও ২০ বার বলেছো।যাতে করে আমার মুখস্থ হয়ে গেছে।

আম্মি উঠে দরজা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো।

আম্মিঃ ওর বাবা-মা কোথায় তা জানিস মেঘা?

আমিঃ না আম্মি।আয়িশ কখনো নিজের বাবা-মায়ের কথা আমাকে বলেনি।ওর বাবা-মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলেই রেগে যায়।কেন তা আমি জানি না। তোমাকে তো বলেছি বিশাল বড় ফ্ল্যাটে ও একা থাকে।

আম্মিঃ তাহলে সুস্থ হওয়া অব্দি আয়িশ আমাদের কাছেই থাকবে।

আমিঃ আগামীকাল সকালে উঠেই নিজের বাসায় যাওয়ার জন্য উঠে-পরে লাগবে।একে আমি ভালো করে চিনি।কোথাও এক রাত থাকতে চায় না।

আম্মিঃ আমি জোর করে রেখে দিবো।বললেই হলো নাকি?ওকে যেতে দিলেতো যাবে।ডাক্তার কি বলে গেল শুনলি না।ওর এখন ২৪ ঘন্টা বেড রেস্টে থাকতে হবে।সারা শরীরে জখমের দাগ।এত ব্যাথা নিয়ে যে একটা দিন কিভাবে রয়েছে তা একমাত্র আল্লাহ জানে। ওর কারণে আল্লাহ তোকে ফিরিয়ে দিয়েছি।ওর যেহেতু বাবা-মা কোথায় আছে তা আমরা জানি না। তাই আমাদের কাছেই ও ভালো থাকবে।

আমিঃ আম্মি আমার কিন্তু এখন হিংসে হচ্ছে।আয়িশ থাকা মানে তুমি ওকেই আমার থেকে বেশি আদর করবে,খাইয়ে দিবে,ওর যত্ন নিবে।আমি কিন্তু সহ্য করবো না।আমার আম্মি, আব্বির ভাগ আমি কাউকে দিবো না।

আম্মিঃ এত হিংসুটে কবের থেকে হলি? ছেলেটাকে আল্লাহ মরণের হাত থেকে হেফাজত করেছে। আল্লাহ না করুক যদি কিছু হয়ে যেতো। তাহলে নিজেকে কখনি আমি মাফ করতে পারতাম না।সেদিন রাতে আমার ওকে যেতে দেওয়াই ঠিক হয়নি।

আমিঃ আরে আম্মি রাগছো কেন?আমিতো দুষ্টুমী করলাম।তুমি নামাজ পরতে যাও।তুমি এলে আমি নামাজে পরতে যাবো।

আম্মি চোখ মুছে চলে গেল।আমি গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে আয়িশের পাশে বসলাম।হাত-পায়ের বিভিন্ন জায়গায় ব্যান্ডেজ।চোখের পাপড়িগুলো হালকা লালচে কালার।সিল্কি চুলগুলো একপাশে পরে আছে।এক হাত বুকের ওপর রাখা।খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছি ওকে।ইচ্ছে করছে হাত দিয়ে চুলগুলো এলোমেলো করে দিতে।তাই করলাম।জেগে থাকলে চোখ দুটো ছোট ছোট করে তাকিয়ে থাকতো।কারণ প্রায় সময় আমি এই কাজটা করি।কিছুক্ষণ পর টের পেলাম ঘুমের ঘোরেও আমার বাম হাতটা আলতো করে ধরে রেখেছে। এমনটাতো হওয়ার কথা নয়।এই ছেলেকে দিয়ে বিশ্বাসও নেই।সব সম্ভব এর দ্বারা।ছেলেটাকে আমার এখন অতিরিক্ত বেশি ভালো লাগছে। চোখ, মুখে উপচে পরা মায়া।দেখতে বেশ লাগছে।ওকে দেখতে এতটাই বিভোর ছিলাম। এক মুহুর্তের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম আমি বিবাহিত। আচ্ছা, কি হয়েছিলো গত রাতে?যার জন্য আয়িশের এই অবস্থা। কোন ভয়ানক কিছু কি??

#চলবে

রিচেইক দেইনি।ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here