ফুলকৌড়ি (৩৪) #লেখনীতে_শারমীন_ইসলাম

0
1416

#ফুলকৌড়ি
(৩৪)
#লেখনীতে_শারমীন_ইসলাম

কম্বলের নিচে নিঃশব্দে কেঁদে যাচ্ছে কৌড়ি।সেটা বুঝে তাকে বুকে জড়িয়ে নিলো মান্যতা। স্নেহের হাত মাথায় বুলিয়ে স্বান্তনা দিতে থাকলো।তবে মুখে কোনো শব্দ প্রয়োগ করলোনা।কি বলবে আসলে সেটাই বুঝে উঠতে পারছেনা।কৌড়ি কি তাহলে সত্যিই দাদাভাইকে পছন্দ করেনা!আর দাদাভাইকে পছন্দ করে-না বলে কি তার যত্নগুলো নিতে চাইছেনা।নাহলে এমন যত্নবান, দায়িত্বশীল পুরুষ কোন মেয়ে না তার জীবনে চায়?আর সেই দায়িত্ববান যত্নবান,খেয়ালী দাদাভাইকেই কৌড়ি চাইছেনা!কিন্ত কেনো?এরকম খেয়ালী ছেলেদের প্রতি তো মেয়েদের মন গলতে সময় লাগেনা।তবে?মান্যতার ভাবনার মাঝেই কৌড়ির ফুপিয়ে বলে উঠলো।

‘উনি আমার সাথে জোরাবাদী করছেন আপু।উনি এমনটা করতে পারেন না!

দীর্ঘশ্বাস ফেললো মান্যতা।ফের নমনীয় কন্ঠে বললো।

‘তুই শুধু দাদাভাইয়ের জোরাবাদিটা দেখলি?তোর প্রতি তার যত্ন খেয়ালটা নজরে পড়লোনা?অনুভব করলি না, তুই নামক মেয়েটাতে সে কতোটা খেয়ালী,দায়িত্ববান
যত্নশীল?তুই মেয়েটাতে সে কি অনুভব করে?না-হলে এতোটা জোর আর অন্য কারও সাথে তাকে কখনো করতে দেখেছিস?এই ধর দীবা আপু।সে অসুস্থ হলো,পড়লো,মরলো কি বাচলো।তাঁর বিষয়ে কখনো দাদাভাইকে কোনো কথা বলতে শুনেছিস,মাথা ঘামাতে দেখেছিস?নাকি এমনটা করতে দেখেছিস?তবে কেনো একটু বুঝতে চাইছিস না,তুই নামক রমনীতে দাদাভাই ঠিক কি অনুভব করে?তুই দাদাভাইয়ের কাছে ঠিক কি?কেনো বুঝতে চাইছিস-না?ওই মানুষটাও যে আপন বলতে খুবই দূর্বল!তাদের সামান্য অসুস্থতায়,কষ্টে যে সে চুপচাপ থাকতে পারেনা।

‘দাদিআপা বারবার বলে দিয়েছেন। রোজ ফোন করলে একবার নয় হাজরবার করে সতর্ক করেন,আমি যেনো এমন কাজ না করি যাতে আমার মৃত বাবা মাকে অসম্মান করা হয়!তাদেরকে অসম্মানিত হতে না দেই।

‘এখানে উনাদেরকে অসম্মানিত করার কি হলো?

‘উনার কথাগুলো মানা মানেই তো উনাকে প্রশ্রয় দেওয়া।আর প্রশয় দেওয়া মানেই তো..

‘মানেই তো মানে কি?কিচ্ছু না।তোর মনেহয় দাদাভাই তেমন ছেলে?উনি কখনো তোরসাথে প্রেমময় সম্পর্কে জড়াবেন না।আর জড়াতে চাইবেনও না।আমার বিশ্বাস, তোর প্রতি যে ধ্যান খেয়াল উনার।উনি স্ত্রী রূপে ছাড়া আর অন্য কোনো রূপে তোকে চাইবেনা।

কৌড়ি মাথায় চুমু খেলো মান্যতা।নিজের সাথে আরও আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়ে বললো–তুই দাদাভাইয়ের।এটা ওই ব্যক্তিটা যখন পাকাপোক্তভাবে মন থেকে মেনে নিয়েছে,তোকে*ও মানিয়েই ছাড়বে।সে কোনোরূপই।
ছাড় পাবি-না তুই।আর দাদাভাই যখন বলেছে তোকে ডাক্তার দেখাতেই হবে,তো তুই মরে গেলেও ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হওয়াই লাগবে।এবং তাকে নিজের অসুস্থতা খুলে বলাই লাগবে।সুতরাং এতো ভেবেচিন্তে রাতের ঘুম হারাম না করে শান্ত হয়ে ঘুমা।ওদিকে যে আরেকজনের ঘুম হারাম করে দিয়ে এসেছিস,সেটাতো বেশ বুঝতে পারছি।

নিভানের জেদালোপূর্ন কথাগুলো পুনরায় মনে করতেই কৌড়িও যেনো মান্যতার কথাগুলো মনেমনে মেনেই নিলো।কান্না থেমে গেছে তার অনেক আগেই।ঠান্ডায় মান্যতা জড়িয়ে ধরায় যেনো উষ্ণতায় আর-ও আরাম পেলো।ঘুম না আসলেও চুপচাপ পড়ে রইলো মান্যতার বুকে।এই মানুষগুলো তাকে এতোটা আপন করে নেবে,ভালোবাসবে এটা কখনোই সে আশা করেনি।আর মান্যতা বলে এই অমায়িক স্বভাবের মেয়েটার সে এতো প্রিয় হয়ে উঠবে,এটাও কল্পনায় ছিলো না।সর্বোপরি ওই মানুষটা তাকে চাইবে,দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করার স্পর্ধা করেনি কৌড়ি।আর সেই মানুষটা তাকে এমনভাবে চাইছে,উফফ।

‘এই কৌড়ি।

হঠাৎ ডাকে একটু চমকালো সে।ছোটো করে বললো–হুমম।

‘এই-যে আমি তোমাকে মাঝেমাঝে তুই করে বলি।মন খারাপ হয়?রাগ করোনা তো?

‘একটু-ও না।বরং ভালো লাগে।আপন আপন মনে হয়।তুমি আমাকে তুই করে ডাকতেই পারো।ডাকতেই পারো কি, ডাকবে।

‘এখন নাহয় ডাকলাম।পরে তো আবার সেই তুমি করে সম্বোধন করতে হবে।

‘কেনো?

‘দাদাভাই আমার কতোবড় জানো!সেই বড় ভাইয়ের বউ তুমি হবে বলে কথা।

‘আপুু।

শব্দ করে হেসে দিলো মান্যতা।বললোা–ওরকম কেনো
করিস?আমার দাদাভাই খুব ভালো।যে মানুষটা তার নিজের আপনজনকে মনপ্রাণ দিয়ে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে পারে,আগলে রাখতে পারে।না জানি সে তার বউটাকে কতো ভালোবাসবে!কিভাবে আগলে রাখবে!বউ হ তারপর বুঝবি।একটা সময় গিয়ে দেখবি, ওই মানুষটাকেই ছাড়া তোর চলছে-না।

গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেললো কৌড়ি।সে কি আর ইচ্ছে করে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে!ওই মানুষটাকে অনাগ্রহ বা উপেক্ষিত করার যোগ্যতা তার আছে কি!শুধু দায়বদ্ধতার খাতিরে নিজের মনটাকে ধরেবেঁধে অনুভূতিগুলো চেপে রাখতে হচ্ছে।নিজেকে ছোটো হতে দেখলেও,নিজের মৃত বাবা মা’কে কিকরে সে ছোটো হতে দেখে!যারা তার অসময়ে আশ্রয় দিয়েছে, তাদেরকেও বা কিকরে ঠকায়?এইযে দুবেলা ফুপুমনি অবহেলিত,বাকা,ছোটো নজরে তাকে দেখে।মাঝেমধ্যে কথার ছলে কটু বাক্য শুনাতেও পিছুপা হোন না।
এমন কুইঙ্গিতপূর্ন কথা বলেন,যেনো নিজের রূপলাবণ্যে দিয়ে এবাড়ির ছেলেগুলোকে সে পটাতে এসেছে।এমনকি লোভীও সে।এগুলো নিজের জন্য মানা গেলেও,মৃত বাবা মায়ের নামে সহ্য করবে কি করে কৌড়ি! আপনজন বলতে এক ওই দাদাআপাই আছে।যিনি মায়ের মমতা দিয়ে স্নেহ আদরে তাকে মানুষ করেছেন।উনার আদেশ উপদেশগুলোও উপেক্ষ কি-করে করবে?কোনো একটা কান্ড ঘটলে উনাকে-ও কি কথা কম শুনতে হবে।তবে পা কোনদিকে বাড়াবে সে?সারাদিনে অনেক ঘুমিয়েছে,তাই আপতত চোখে ঘুম ধরা দিলো-না।তবে মাথায় চিন্তারা ঘুরপাক খেলো বৈচিত্র্যময়।তন্মধ্যে যে মানুষটাকে একটু আগে প্রচন্ড খারাপ বলে আখ্যায়িত করে এলো,সেই মানুষটাকে নিয়েই মন মস্তিষ্কের ভিতর চকরির মতো ঘুরপাক খেতে থাকলো।ওই মানুষটাকে নিয়ে ভাবতে বসলে সবথেকে একটা কথা তাকে বিশেষভাবে ভাবায়,ওই মানুষটা তাকে পছন্দ করে,শুধু তাকেই চায়!কি অদ্ভুত অনুভূতিতে ছেয়ে যায় তখন শরীর-মন।মানুষটার চাওয়ার তীব্রতা দেখে,আবেগি মন খুব সাড়া দিতে চায়।তবে পরবর্তীতে দাদিআপার,বিথীর কথাগুলো বিবেক দিয়ে ভাবলে,মন মস্তিষ্ক দিশাহারা হয়ে পড়ে।যেমনটা এখন দিশাহারা অবস্থা।

দেখতে দেখতে আরও কয়েকটা দিন চলে গেলো।ইভানের রিসেশনের পর বাড়িতে আস্তে আস্তে মেহমান ও কমতে শুরু করলো।বললে চলে আপতত বাড়িতে কোনো মেহমান নেই।এরমধ্যে ইভানও তন্ময়ীকে নিয়ে ওবাড়ি থেকে ঘুরে এলো।তাহমিনা বেগম ইভানের প্রতি মনেমনে মনোক্ষুণ্ণ থাকলেও জামাই আদরে সামান্য পরিমান-ও অনাগ্রহ দেখালেন না।আর না কোনো ত্রুটি রাখলেন।বরং নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ইভানকে জামাই হিসাবে যথেষ্ঠ পরিমাণ আদর যত্ন করলেন।মেয়েকেও উপদেশ দিলেন,সবকিছু মানিয়ে গুছিয়ে নিতে।ইভানের রিসেশনের দু’দিন পর কৌড়ির ডাক্তার দেখানোর কথা থাকলেও ডাক্তার দেখানোর মতো সুযোগই হয়নি।হঠাৎ পরিক্ষার ডেট পড়ায় মান্যতাও ব্যস্ত হয়ে গেলো।তবে কৌড়ি চাইছে, ডাক্তার দেখানোর বিষয়টা কোনোভাবে চাপা পড়ে যাক।কেননা,অসুস্থ বলতে নিজের এই লজ্জাজনক শারীরিক বিষয়টা যদি এবাড়ির সকালেসহ ওই মানুষটা জানে,লজ্জার কি আর শেষ থাকবে!যদিও মান্যতা বলেছে,কাল অবশ্যই তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে।সেই টেনশনে আছে আপতত সে।দীর্ঘশ্বাস ফেলে এলোমেলো মনে ফের পড়ায় মনোযোগ দিলো।

আর একসপ্তাহ পর পরিক্ষা।আপতত কলেজ বন্ধ।রুমে বসে পড়ছে কৌড়ি।পড়ছে তো না।ইদানীং একজন মানুষকে নিয়ে ভাবনাটা বেড়ে গিয়েছে তার।তিনি সময়ে অসময়ে মনস্তাত্ত্বিকে এখন অবাধ চলেফিরে বেড়ান।কি এক জ্বালা!চেয়েও তাকে মনস্তাত্ত্বিক থেকে সরানো যায়-না।পড়ার ফাঁকে আবারও সেই মানুষটার বিচারণ!উফফ!শব্দটা প্রয়োগ করে চোখজোড়া বুঁজে কিছুসময় সেভাবে থেকে ফের চোখ খুলে বইয়ের পাতা মনোযোগী হবার চেষ্টা করলো।তবে সেই মানুষটা হয়তো কৌড়ির এই অবজ্ঞা মেনে নিতে চাইলোনা,তাই বাস্তবে ধরা দিলো।হঠাৎই কৌড়ির ফোন বেজে উঠলো। এখন আবার কে ফোন দিয়েছে?এই অসময়ে তো কখনো ফোন দেয়না কেউ?কথাগুলো ভাবতে ভাবতে,ফোন হাতে নিয়ে চোখের সামনে আনতেই নজর স্থির হয়ে গেলো তার।হৃদস্পন্দন ধকধক ধ্বনিতে আওয়াজ করে উঠলো।’নিভান’ নামটা স্কিনে পরিচ্ছন্নভাবে জ্বলজ্বল করছে।বয়সে তারথেকে-ও কতোবড় মানুষটা অথচ তারই নামটা কি অবলীলায় লেখা।সেই থেকে এই পর্যন্ত নামটা চেঞ্জ করার কথা মাথায় এলেও,পুনরায় কি নাম লিখে সেভ করবে সেটা ভেবে নামটা আর কাটা হয়নি।যদিও মানুষটা অতি প্রয়োজন ছাড়া কখনো তাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করেনা।এখন আবার কি জন্য দিল?হৃদ স্পন্দনে গতিবেগ হ্রাস পেলো।মন চাইছে কলটা ধরতে,মস্তিষ্ক বলছে না।মন মস্তিষ্কের দ্বিধাদন্ডে মনকে আজ প্রশ্রয় দিলো কৌড়ি।যদিও হৃদ যন্ত্র তার লাফিয়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম।তবুও কলটা রিসিভ করে চোখ বুঁজে চেয়ারে গা এলিয়ে দিলো সে।ফোনটা রিসিভ হয়েছে!ওপাশের মানুষটার ঠোঁটের কোণেও যেনো এক টুকরো হাসি ফুটলো।সে-ও, তার নিজস্ব অফিসকক্ষে বসা আরামদায়ক চেয়েরটায় শরীর এলিয়ে দিয়ে মৃদুস্বরে ডাকলো।

‘কৌড়ি।

এবার হৃদস্পন্দন থেমে গেলো কৌড়ির।এ কেমন ডাক!তাকে অস্বাভাবিক করে তোলে।গায়ের নুইয়ে থাকা লোমগুলােও কেমন কাঁটার মতো তথাস্তু হয়ে দাঁড়িয়ে সমস্ত শরীরে ডাকের জানান দিয়ে শিরশিরানি বয়ে যায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আজ যেনো কিসের টানে ডাক অবজ্ঞা করতে পারলোনা কৌড়ি।খুবই নিন্মস্বরে ছোটো করে উত্তর দিলো।–হুমম।

ওপাশের মানুষটার হাসিটা যেনো আর-ও একটু বিস্তৃত হলো।সময় নিয়ে বললো–তুমি পড়ছো, তাই-না?বিলিভ মি কৌড়ি,আমি তোমাকে একটুও ডিস্টার্ব করতে চাই নি।কিন্তু তোমার কথা খুব মনে হচ্ছিলো।কেনো জানিনা কথা বলতেও খুব ইচ্ছে করছিলো।তাই ডিস্টার্ব করলাম।আমি জানি আমার ফোনকলে তুমি বিরক্ত হয়েছো,তবুও অল্পক্ষণের জন্য এই অপছন্দ মানুষটাকে একটু সয়ে নাও।একটু ডিস্টার্ব হও।

উত্তর দিলোনা কৌড়ি।শুধু চোখ বুঁজে কথাগুলো শুনে গেলো।বুকের ভিতর যে উথালপাতাল ঝড় চলছে তার।গলা দিয়ে কথা বের করবে কিকরে সে?আর বলবেও বা কি সে?তাই নীরবে সেই ভরাট গলার কথাগুলো শুনে গেলো।উত্তর পাওয়ার আশাও করলোনা নিভান।ফের সুন্দর সাবলীল গলায় বললো।

‘আমি কখনো নিজেকে অন্যের কাছে ছোটো করে দেখাতে পছন্দ করিনা।করিনিও কখনো।আমার নেই কিচ্ছু,তো নেই।তাই বলে আমাকে কেউ ছোটো করে দেখবে,এমনটা কখনো কারও সামনে প্রেজেন্ট করেনি আমি।বারবার কারও কাছে নিজের ভালোমন্দ অনুভূতি প্রকাশ করে নির্লজ্জতার বহিঃপ্রকাশও ঘটায়নি কখনো।ইউ নো,তুমিই একমাত্র ব্যক্তি।যেখানে আমি নিজেকে ছোটো করতে প্রস্তুত হয়েছি।নিজের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েও বারবার নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়েছি।নির্লজ্জও বানিয়েছি নিজেকে।আর যতক্ষণ তুমি আমার না হতে চাইবে ততক্ষণ পর্যন্ত হয়তো এই নির্লজ্জতার দফা বহাল থাকবে।নির্লজ্জ হতে রাজিও আমি,তোমাকে তোমার কাছে বারবার চেয়ে নিজেকে ছোটো করতেও রাজি আমি।তবে যে নিভান আমি ছিলাম, সেই নিভান হারিয়ে।নিজের সেই দৃঢ়পণ,ব্যক্তিত্ব,সবকিছু খুইয়েও তোমাকে পেতে চাইছে মন।কেনো কৌড়ি?আমি কেনো পারছিনা,আমার মন আমার মস্তিষ্ক থেকে তোমাকে দূরে সরাতে?আমার এতো এতো কাজের প্রেশারের মধ্যেও কেনো পারছিনা, তুমি নামক কৌড়িকে সেই কাজের প্রেশারের মধ্যে চাপা ফেলতে।এই কৌড়ি বলো-না?আমিতো এতোটা দূর্বল কারও প্রতি কখনোই ছিলাম না।তবে কিকরে হোলাম তোমার প্রতি?

চোখ বেঁয়ে নোনাজল গড়ালো কৌড়ির।এভাবে কিকরে একটা মানুষ কাতরভাবে তাকে চাইতে পারে!কিকরে!আবার সেই মানুষটা।যার কাছ থেকে এসব কথা-কাজ অবিশ্বাস্য।কখনোই আশা করেনি।অথচ সেই মানুষটা তার কাছে পুরো খোলামেলা পুস্তক।অথচ অন্য পাঁচ দশটা মানুষের সামনে,মানুষটা কি গম্ভীর। অনুভূতিহীন।শক্তপোক্ত দৃঢ়মনের মানুষ।সেই মানুষটা শুধুই তার খোলামেলা হতে চাইছে।মানেটা কি?বুঝতে কি পারছে না কৌড়ি।পারছে।খুব ভালোভাবে পারছে।এরকম মানুষকে নিজের করে পাওয়ার সৌভাগ্য কজনের হয়?
কৌড়ির হয়েছে।অথচ সেই সৌভাগ্য নিজ ইচ্ছেতে বরন করার ক্ষমতা তার নেই।তবে নিজের মনকে আর বাঁধ সেধে রাখবেনা কৌড়ি।নিজ ইচ্ছেতে সেই সৌভাগ্য বরণ করার ক্ষমতা তার না থাকলেও ওই মানুষটার তো আছেই।পারলে ওই মানুষটা তাকে নিজের করে নিক।যেভাবে পারে তাকে সেভাবেই নিজের করে নিক।সে কখনো অমত পোষন করবে-না।তবে মুখে স্বীকারোক্তি জানানো হয়তো কখনো তারদ্বারা হবেনা।

‘এই কৌড়ি।শুনছো তুমি?

দৃঢ়কণ্ঠের ডাক ফের পড়তেই ভাবনা কেটে গেলো। না চাইতেও ফের জবাব দিয়ে ফেললো কৌড়ি।’হুমম।

‘একটুও কথা বলতে ইচ্ছে করেনা আমার সাথে তাই না?

উত্তর দিলোনা কৌড়ি।কারন মন যা বলছে মুখে তার বিপরীত উত্তর দিতে হবে।মিথ্যাও মুখ দিয়ে সহজে বের হবেনা।তাই বরাবরের মতো নিশ্চুপ রইলো।নিভান ফের বললো।

‘আচ্ছা কৌড়ি,আমার যদি হঠাৎ কিছু হয় যায়।ধরো হঠাৎই আমি বরাবরের মতো দূরে চলে গেলাম।তোমার থেকে খুব দূরে।যেখানে গেলে কেউ আর কখনো ফেরে না।আচ্ছা কৌড়ি,আমার অবর্তমানে তুমি কি একটুও কষ্ট পাবে আমার জন্য?আমি নেই, কখনো মন খারাপ হবে তোমার?

বুজে থাকা চোখজোড়া টেনে আরও গভীরভাবে টেনে বুঁজে নিলো কৌড়ি।ফের মৃদুস্বরে আওড়ালো–এগুলো কি বলছেন আপনি।

কথাটা শোনা হলোনা নিভানের।তার আগেই তার পি-এ নক করলো দরজায়।মনোযোগ ছিন্ন হলো নিভানের।মনে পড়ল,একটা ইম্পর্ট্যান্ট মিটিংয়ের জন্য একটু পরে বের হতে হবে তাকে।সেজন্য ডাকতে এসেছে মৃদুল।মৃদুলকে ফাইলপত্র নিয়ে বের হয়ে গাড়িতে বসতে বলে,পাঠিয়ে দিল।ফের ফোনটা কানে তুললো সে।তার আগে দেখে নিলো সংযোগ আছে কি-না। আছে।দেখেই মৃদু হেসে ফোনটা কানে নিলো।ফের অমায়িক কন্ঠে বললো।

‘তোমাকে খুব বেশি ডিস্টার্ব করলাম।সেই ডিস্টার্বের বিনময়ে যে স্বস্তি শান্তিটুকু দিলে আমাকে,তারজন্য নিভানের ভালোবাসা গুচ্ছিত রইলো তোমার জন্য।যদি সুস্থ থাকি,তবে সন্ধ্যায় দেখা হচ্ছে।আল্লাহ হাফেজ।

মনেমনে, আপনি সর্বদা সুস্থ থাকেন শব্দগুলো বললেও মুখে চুপ থাকলো কৌড়ি।আল্লাহ হাফেজ বলে মনেমনে বিদায় জানালো হবে।আজকে নিভান যেনো নাছোড়বান্দা।মায়াময় কন্ঠে বললো।—এই কৌড়ি, আল্লাহ হাফেজ বলবে-না।

ঘনো নিঃশ্বাস ফেললো কৌড়ি।নিঃশ্বাসের শব্দ ওপাশ থেকে নিভানও শুনলো।নিভানের মায়াময় কন্ঠের বশিভূত হলো কৌড়ি।কৌড়ি মৃদুস্বরে বললো।—আল্লাহ হাফেজ।

নিজেই ফোন কেটে দিলো সে।ওপাশ থেকে মৃদুহেসে ফোনের দিকে কিছুসময় তাকিয়ে থেকে ফোন প্যান্টের পকেটে ঢুকালো নিভান।ফের দ্রুত কেবিন ত্যাগ করে নিজের গন্তব্যের দিকে পা বাড়ালো।

সময়টা মধ্যহ্ণ!গায়ের পরিহিত সাদা শার্টটার দিকে আবারও তাকালো ইভান।রক্তের ছোপছোপ দাগে ছেয়ে আছে শার্টটা।এই অবস্থায় কিভাবে সে বাড়ির ভিতরে যাবে বুঝে উঠতে পারলোনা!বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই তো মা চাচিদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে তাকে।আর প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে তো এই দুপুরবেলা একটা হুলুস্থুল কান্ড ঘটবে।তবুও তো যেতে হবে।তবে মায়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে,উনার প্রশ্নের সম্মুখীন হবে কিকরে সে?কি করে বলবে তার আদরের ছেলেটা মারাত্মক এক্সিডেন্ট করে হসপিটালের বেডে পড়ে আছে।শুধু যে হসপিটালের বেড পড়ে আছে এমনটা তো নয়।গুরুতরভাবে এক্সিডেন্ট হয়ে আইসিইউতে নির্জীব শুয়ে আছে।গাড়ির সিটে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজলো ইভান।মূহুর্তেই ভেসে উঠলো সেই বিভৎস এক্সিডেন্টে দুমড়ে মুচড়ে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে থাকা গাড়িটা।মূহুর্তেই পথচারীরা হৈহৈ করে উঠলো।

‘ওই বুঝি অসচেতন রাস্তা পারাপর করতে গিয়ে মা-সহ বাচ্চাটাকে বাঁচাতে,গাড়ির লোকটা বুঝি মরলো।

ব্যস্ত শহুরে রাস্তার পথচারীর মধ্যে সে-ও একজন ছিলো।তবে কল্পনাতেও আনেনি মারাত্মক এক্সিডেন্টে মরতে বসা মানুষটা তার আপনজন হবে।সকল পথচারীর মতো সে-ও এক্সিডেন্টের কথা শুনে এগিয়ে গিয়ে গাড়িটা নজরে পড়তেই বুকটা ঝড়ের মতো কেঁপে উঠেছিলো তার।নজর যেনো কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাইছিলোনা,গাড়িটা তার আপনজনের।আর ভিতরের আহত মানুষটা আর আত্মার একাংশ।মানুষটা আঘাত পেলে তার-ও ব্যথা লাগে,কষ্ট অনুভব হয়।মূহুর্তেই পথরে বনে যাওয়া হাতগুলো কিভাবে যে টেনেহিঁচড়ে গাড়ির সিটে রক্তাক্তে এলিয়ে থাকা মানুষটাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলো,সেটা শুধু ইভান যানে।তারপর সর্বসাহায্যে হসপিটালে পৌঁছে কাকে কিভাবে জানাবে ভেবে উঠতে পারছিলো।নিভান শুধু একটা নাম নয়।ওই নামের মানুষটা,নিজের আপনজনদের মধ্যে আবেগ ভালোবাসা আর অনেকের দূর্বলতার স্থান।ওই মানুষটা এক্সিডেন্ট করেছে!অসুস্থ হয়ে হসপিটালের বিছানায় শুয়ে!সবাই মূর্ছা পড়বে।তার অসুস্থতার কথা শুনে তারপ্রতি যত্নশীল মানুষগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে,এটাও ধারণা আছে ইভানের।বিশেষকরে বাবা,মা,নানুমা।তাই দুপুর এগোটার দিকের ঘটনা এখন দুপুর তিনটে, এখনো কাওকে জানাতে সাহস পায়নি ইভান।শুধু ছোটো চাচ্চুকে জানিয়েছিলো।আপতত তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে,তিনিই এখন হসপিটালে অবস্থান করছেন।সহজ সরল মানুষটাও আপনজনের এমতাবস্থায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো ইভান।

পরিস্থিতির সম্মুখীন তো হতেই হবে।ছোটো চাচ্চুর গাড়ীটা নিয়ে এসেছে সে।গাড়ী থেকে বের হলো ইভান।আজকের দুপুরের চারপাশটা কেমন নিস্তব্ধ।আশেপাশে তাকিয়ে মেইন দরজায় গিয়ে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজাতেও সময় নিলো সে।কেমন যেনো সাহসে কুলচ্ছে না।এলোমেলো শ্বাস ফেলে কলিংবেলের চাপতেই, মুহূর্তেই দরজা খোলার শব্দ পেলো ইভান।কিছুটা আশ্চর্যও হলো।সময় না নিলেও মিনিট সময় পার হয়ে অন্য সময় দরজা খুলতে। আর আজ সময় নিলো-না!মনেহলো দরজার পাশে কেউ ওত পেতে বসে ছিলো,দরজা খোলার জন্য।তবে কি দাদাভাইয়ের এক্সিডেন্টের কথা জেনে গিয়েছে বাড়ির সবাই?

‘ও আল্লাহ।ও ইভান বাবা তোমার গায়ে রক্ত মাখামাখি কেনো?কি হইছে তোমার?

রানির চিল্লানোতে মূহুর্তেই যেনো,দুতলা বাড়িটা গমগম করে উঠলো।নীহারিকা বেগম টেবিলে খাবার গোছাচ্ছিলেন,রানিকে এমন হাহাকার করতে শুনেই সব ফেলে দৌড় এলেন।সাথে স্বান্তনা রহমানও পিছু নিলেন।ততক্ষণে ইভান ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়িয়েছে।ইভানকে দেখেই আঁতকে উঠলেন নীহারিকা বেগম।দ্রুত কাছে এসে গায়ে হাত দিয়ে ইভানকে পরখ করতে করতে আতঙ্কিত কন্ঠে বললেন।

‘কি হয়েছে তোর?এতো রক্তে মাখামাখি কেনো তুই?

ফের ইভানের ঘাড় কাধ মাথার চুলগুলো উল্ট পাল্টে দেখতে দেখতে স্বান্তনা রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকলেন—দেখেছিস ছোটো,তোকে সকাল থেকে বলছিলাম না।আমার বুকটা কেমন করছে,কি যেনো খারাপ হতে চলেছে।আমার কথা মিললো তো!মায়ের মন কখনো মিথ্যা বলে না।আর না ভুল জানান দেয়।তারউপর সেই দুপুর থেকে ছেলে দুটোকে ফোন দিয়ে পাচ্ছিনা।আমার মনটা আরও খুদমুদ করছিলো, জ্বলছিলো।তুই তো বিশ্বাস করছিলি-না আমার কথা।দেখেছিস,একটা বিপত্তি বাধিয়ে তারপর বাড়িতে এলো।আমার মন তবে ভুল বলছিনা।

ইভান দূর্বল অনড় নজরে মায়ের বিচলতা দেখে গেলো।একেই বলে বুঝি মা।যার অন্তর, সন্তানের সুখ অসুখে ভালোমন্দে বিপদআপদে আগেই টের পেয়ে যায়।উফ!সেই মা’কে কিকরে জানাবে তার আদরের সন্তানের ভয়ঙ্কর বিপদের কথা!

‘কই,তোর তো কোথাও কাটাছেঁড়া নেই।তবে সমস্ত শরীরে এতো রক্ত মাখামাখি কেনো?কার কি হয়েছে ইভান?ও ইভান কথা বল?এমন রক্তে মাখামাখি কেনো তুই?

ততক্ষণে ড্রয়িংরুমে সবাই হাজির।সিঁড়ির গোঁড়ায় দাঁড়িয়ে আতঙ্কিত নজরে ইভানকে দেখছে তন্ময়ী।পা এগোবে সে সাহস হচ্ছে না তার।এ কয়েকদিনে ইভানের সাথে কাছাকাছি ঘুমানো ছাড়া বিশেষ সম্পর্ক এগোইনি তাদের। তবে হালাল সম্পর্কের টান হোক বা ছেলেটার বারবার অনুতপ্ততা।তাকে মায়ায় জড়াতে বাধ্য করেছে।একটা অদ্ভুত টান তৈরী হয়েছে।এখন ভুলেও তন্ময়ী চায়না ওই ছেলেটা কোনো প্রকার বিপদআপদে পড়ুক।সেই ছেলেটার এতো রক্তে মাখামাখি,কেমন যেনো ভিতর থেকে অসড় অসড় অনুভব হলো।বিধায় চেয়েও সামনে এগোতে পারলোনা।ইতিমধ্যে ফাতেমা বেগম এবং ডলািয়া বেগমও সেখানে হাজির।রানির গলা শুনে মান্যতা মৌনতা কেউ বাদ রইলোনা।কৌড়ি মান্যতার রুমে ছিলো।মান্যতা আগে এসে নিচে নেমে গেলে-ও,ইভানকে এমন অবস্থায় দেখেই ধীর হয়ে গেলো তার পা।তবে সিঁড়ির মাঝ বরাবর এসে নীহারিকা বেগমের অবিচলিত করা প্রশ্নে, ইভানের বলা নির্দয় বাক্যগুলোয় নিঃশব্দে থেমে গেলো তার পা।নিঃশ্বাস আঁটকে
ধব্ক করে উঠল বুক।

‘আমার কিচ্ছু হয়নি মা।তবে…

‘তবে কি বল?ও ইভান আমার নিভানের কিচ্ছু হয়নি তো?

প্রশ্ন করতেই নীহারিকা বেগমকে শক্তকরে জড়িয়ে ধরলো নিজের শক্তপোক্ত বুকে।ফের বললো-শান্ত হও।দাদাভাই ঠিক হয়ে যাবে।একদম পাগলামো করবেনা,তবে সুস্থ হয়ে দাদাভাই কিন্তু আমাকে বকবে।

‘আমার নিভানের কি হয়েছে ইভান?

নীহারিকা বেগমকে আরও শক্তপোক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ইভান।ফের চোখ বুঁজে নিঃশ্বাস ফেলে একনাগাড়ে বললো।–‘দাদাভাই এক্সিডেন্ট করেছে মা।

‘আমার নিভান ঠিক নেই তাইনা?

উত্তর দিতে পারলো-না ইভান।গলা রোধ হয়ে এলো তার।তবে মা’কে ভুলেও কাছছাড়া করলো-না।নিভানের এক্সিডেন্ট!আতঙ্কে হাত পা ঠান্ডা হয়ে এলো সবার।আবেগে কেঁদে ফেললো মান্যতা মৌনতা।মুখে হাত চেপে ধরলেন ডালিয়া বেগমও।কি সর্বনাশ,কিভাবে কি হলো? বলে মুখেও আওড়ালেন!বিচলিত হলেও বৃদ্ধা আমেনা বেগমও।স্বান্তনা রহমান তো হাত পা নাড়ানোর শক্তিই পেলেন না।সকালবেলা সুস্থ সাবলীল ছেলেটাকে উনিই খাবার বেড়ে খাওয়ালেন।এখন বলছে সেই ছেলেটা মারাত্মক এক্সিডেন্ট করেছে!হঠাৎই কথাটা যেনো বিশ্বাস হলোনা।ভুল শুনেছেন বলে মনে হলো।তারপর নীহারিকা বেগমের পাগলামি করা দেখে হুঁশ ফিরলো যেনো উনার।

‘ও ইভান,আমার বাচ্চাটা ঠিক নেই বল?আমার বাচ্চাটা আমার আগে ছেড়ে চলে যাবে না-তো,ওর বাবার কাছে?

‘বড়ো বউমা এগুলো কি বলতে শুরু করলে তুমি?

ধমকে উঠলেন ফাতেমা বেগম।তাতে এবার কেঁদে ফেললেন নীহারিকা বেগম।ইভানকে জড়িয়ে হাওমাও করে উঠলেন।ফের শ্বাশুড়িকে উদ্দেশ্য করে
বললেন–ওর আমার উপর অনেক অভিযোগ, খুব অভিমান মা।আপনি জানেন না।আমার বাচ্চাটা প্রকাশ করতে চায়না বলে!কিন্তু আমি মা,আমি ওর মনের কথা জানি।ওর আমার উপর খুব অভিমান।খুব অভিযোগ।
ও ওর বাবাকে খুব ভালোবাসতো।আমি জানি, ও আমার উপর অভিমান করে ওর বাবার কাছে গিয়ে শান্তিতে থাকতে চায়।একটু স্বস্তি আর শান্তিতে থাকতে চায়।

গলা ছেড়ে কাঁদতে কাদতে কথাগুলো বলে ফের বললেন।–ও আল্লাহ আমার প্রানটা নিয়ে, তুমি আমার বাচ্চাটাকে সুস্থ করে দাও।আমার আয়ু কেটে তাকে যুগ যুগ বাচিয়ে রাখো।

ফের ইভানকে উদ্দেশ্য করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন–এই ইভান আমাকে নিয়ে চল-না,আমার বাচ্চাটার কাছে।

সেই যে পা থেমে গেছে কৌড়ির।তা আর সচল অনুভব হলো না তার।নিস্পলক স্তব্ধ নজরে শুধু ড্রয়িংরুমে চলা ঘটনাগুলো দেখে চলেছে সে।কানে শুনছে সব।তবে কি শুনছে সব যেনো তালগোল পাকিয়ে মস্তিষ্কে বিচরন করছে।বাজে অদ্ভুত একটা ধকধক অনুভূতিতে তোলপাড় করছে হৃদস্পন্দন। বাবা মারা গিয়েছিলো যেদিন,ঠিক একই অনুভূতিতে কেঁপেছিলো বুকের ভিতর বাহির।কি এসব ভাবছে সে?মানুষটা মরতে যাবে কেনো?তবে হয়তো তার এটা খেয়ালে নেই।মানুষ মরণশীল।সে পিঁড়ি অনুযায়ী এসেছে বলে পিঁড়ি অনুযায়ী চলে যাবে।এমনটা নিয়ম সৃষ্টিকর্তা করেন নি।যার যখন সৃষ্টিকর্তার থেকে ডাক আসবে তখনই তাকে চলে যেতে হবে!এটা অতি বাস্তবিক সত্যি কথা।

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here