ফ্লুজি #অনুপ্রভা_মেহেরিন [পর্ব ১৭ বাকি অংশ]

0
1339

#ফ্লুজি
#অনুপ্রভা_মেহেরিন
[পর্ব ১৭ বাকি অংশ]

বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার পথে।আকাশটায় সূর্যের আলো নেতিয়ে যাচ্ছে।দূর আকাশটা লাল নীল মিশে একাকার অবস্থা।জানলার কাছে দাঁড়িয়ে ভেজা চুলে আঙুল বুলায় আরশাদ।গত রাতের পাগলামির কথা মাথায় আসতে পুলকিত হয় তার মন।খুশবু অর্থাৎ আরশাদের ফ্লুজি একটি স্নিগ্ধ ফোঁটা ফুল।এই ফুলকে কেউ ছেড়ার সাধ্য করেনি।অবশ্য ছেড়া তো দূরের কথা কেউ প্রেমময় ছোঁয়াতে ছুঁয়ে দেখেছে কি না সন্দেহ।আরশাদ কিঞ্চিৎ হাসে তার স্নিগ্ধ ফুলের মধু সে একাই গ্রহণ করেছে।জীবনের একটি বড় চাওয়া পূর্ণ হয়েছে বলে আরশাদের হাসি চওড়া হয়।ফ্লুজিকে পেতে কম বেগ পোহাতে হয়নি তার এবং অবশেষে ফ্লুজি তার।

বিছানায় শুয়ে থাকা অর্ধ নগ্ন ফ্লুজির কাছে এগিয়ে যায় সে।মেয়েটার শরীরে ছড়িয়ে দেয় বিছানায় পড়ে থাকা গোলাপের পাপড়ি গুলো।আরশাদ পুনরায় উন্মাদ হয়,তার ফ্লুজির গলায় মুখ ডুবিয়ে নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা চালায়।

গলায় বুকে ভেজা কিছুর ছোঁয়া ভেঙে যায় ফ্লুজির ঘুম।দু’চোখের পর্দা মেলে তাকাতে দেখতে পেল আরশাদের বাদামি চোখ জোড়ার মেশাতুর দৃষ্টি।খুশবু অবাক হয় নড়চড় করতে নিলে বুঝতে পারে আরশাদ তার উপরে শরীরের ভর ছেড়ে দিয়েছে।গত রাতের কথা মাথায় আসতে খুশবু লজ্জায় নুইয়ে যায়।কিন্তু আরশাদ এখনো তাকিয়ে আছে তার দিকে।

” জান,ইয়ু লুক লাইক বাটার।প্লিজ গিভ ওয়ান মোর চান্স।”

খুশবু চোখ পাকায়।

” কয়টা বাজে আরশাদ?”

” বিকাল সাড়ে পাঁচটা।”

” কি এতটা সময়!কেউ কি আমাদের ডাকেনি?”

আরশাদ হাসে।এতটা সময় কোথায়?আরশাদ তাকে ঘুমাতে দিয়েছে সকাল বেলায়।সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ঘুমানো বড় কোন ব্যপার নয়।আরশাদ উঠে যায় তার ফ্লুজির কাছ থেকে।ব্লাঙ্কেটে জড়িয়ে নিজের নগ্ন অবস্থা বুঝতে পেরে দ্বিধায় পড়ে ফ্লুজি,সে কি করে যাবে এখন ওয়াশরুম?আশেপাশে তাদের জামাগুলো ছড়িয়ে আছে।আরশাদ বুঝতে পেরে ফ্লুজির লং শার্ট এগিয়ে দেয়।তার ভেজা চুল আঙুলের সাহায্যে পেছনে ঠেলে দিয়ে বসে যায় ফ্লুজির পাশে।খুশবু আরশাদের ভেজা চুলে তাকিয়ে বলে,

” আপনি গোসল করেছেন?”

” হুম।তুমি সুযোগ দিলে আবার গোসল করতে রাজি আছি।”

আরশাদের পাগলামিতে সাড়া দিতে গেলে খুশবুর আজ আর বাঁচা হবে না।মেয়েটা দ্রুত গায়ে শার্ট জড়িয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে।সর্বাঙ্গে চাপা ব্যথা অনুভব করতে ঢোক গিলে।আরশাদ বুঝতে পারে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে কোলে তুলে নেয় তাকে।নিজেকে বাঁচাতে আরশাদের গলা জড়িয়ে ধরে ফ্লুজি।লং শার্টটা ততক্ষণে হাটুর উপর চলে এসেছে।লজ্জায় আরো গুটিয়ে যায় মেয়েটা।তার অবস্থায় আরশাদ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে।
.
ফ্লুজিকে গোসলে পাঠিয়ে আরশাদ ফিরলো রান্না ঘরে।খিদায় পেটের ভেতরটা খা খা করছে।এই মুহূর্তে ফ্লুজিরো নিশ্চয়ই খিদে পাবে।আরশাদ চটজলদি ভাত বসালো।ফ্রিজ থেকে একটি টুনা মাছের ক্যান নিয়ে পেয়াজ মরিচ কাটতে লাগলো।
আরশাদের রান্না হতে বেশি সময় লাগলো না এর মাঝে খুশবু উপস্থিত হয় আরশাদের সামনে।মেয়েটার ভেজা চুল দেখে আরশাদ বিচলিত হয়।

” ফ্লুজি হেয়ার ড্রায়ার রেখে এসেছি তো চুল শুকাওনি?”

” পরে শুকাবো।আমার খিদে পেয়েছে কিছু খেতে দিন।”

” তুমি বসো এইতো খাবার তৈরি।”

আরশাদ টেবিলে সব খাবার এনে গুছিয়ে রাখলো।খুশবুর প্লেটে পরিমানের তুলনায় বেশি খাবার দিতে মেয়েটা কপাল কুচকে তাকায়।অবশ্য আরশাদ চোখ গরম করে আদেশ করে, সব ভাত শেষ করতে হবে।খাবার শেষে গরম গরম এক গ্লাস দুধ এনে টেবিলে রাখলো সেই সাথে রাখলো দু’টো ওষুধের খোসা।

” ওষুধ গুলো খেয়ে নাও।”

” কিসের ওষুধ?”

আরশাদ ভ্রু কুচকায়।খুশবুর অবচেতন মন সতর্কতার ইঙ্গিত দিতে দ্রুত ওষুধ দু’টো গিলে নেয়।
.
সন্ধ্যার পর খুশবু গ্র‍্যানির সাথে দেখা করতে গেল।এলিনা খুশবুকে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে।তার বকবক কোন মতেই থামছে না।আরিব গালের নিচে হাত রেখে তাকিয়ে আছে এলিনার পানে মেয়েটা কি করে পারে এতটা বকবক করতে।গ্লোরিয়া,ইমরান,আফরোজ তারা কেউ বাড়ি নেই।আরশাদ বেরিয়েছে কিছুক্ষণ আগে।আড্ডার মাঝে এলিনা রোম ভেনিস সম্পর্কে নানান কথা বলে।কোথায় ঘুরতে গেলে ভালো হবে কিংবা কোথায় যাওয়া উচিত সবটাই বর্ননা করছে খুশবুকে।এলিনা অতি আগ্রহে চট করে বলে,

” ট্রেভি ফাউন্টেনে যাবে ভাবিমনি?জানো,যে সেখানে পয়সা ফেলবে সে আবার কোন না কোনদিন রোমে ফিরে আসবে এটাই সবার মাঝে বিশ্বাস।”

” দূর এসব কথা কি কেউ বিশ্বাস করে!”

” তুমি বিশ্বাস করছো না, তাই না?যখন যাবে তখন দেখবে।”

” এগুলো কুসংস্কার আমি এসব বিশ্বাস করি না এলিনা।”

আরিব হাসে।এগিয়ে এসে বসে খুশবুর মুখোমুখি এবং খুশবুকে বলে,

“আমরা উন্নত জাতি হওয়া সত্ত্বেও আমরা কিছু মিথ নিয়ে চলি।যেমন তোমাদের দেশের কথাই বলো,মাজার অনেকের কাছেই এখনো প্রাধান্য পাচ্ছে,মাজারকে সিজদাহ্ করছে টাকা দিচ্ছে,মানত করছে আরো কত কি।সেইভাবে এই দেশের লোকের কাছেও এসব বিশ্বাসে পরিনত হয়েছে।”

খুশবু মাথা ঝাকালো।এলিনা আরিবের হাত টেনে বলে,

“এই ভাইয়া কাল তুমি ফ্রি আছো?চলনা ট্রেভি ফাউন্টেন যাবো ভাবিকে নিয়ে।”

” আমার কাল ক্লাস আছে যেতে পারবো না।আশা করি তুমিও যাবে না শুধু শুধু নিউ কাপলদের মাঝে ঢোকা ঠিক নয় এলিনা।তাদের একাই যেতে দাও।”

” আমি তাদের ডিস্টার্ব করবো না।”

” তুমি কি বাচ্চা মেয়ে?আসো গালটা চেপে দি।বাচ্চামো রাখো ওদের একাই যেতে দাও।তুমি আমার সাথে যেও আগামী ফ্রাইডেতে আমি ফ্রি আছি।”

এলিনার মনমরা মুখটা দেখে খুশবু বলে,

” এলিনা তুমি যেও।কোন সমস্যা নেই।”

আরিব এলিনার হয়ে বলে,

” না ভাবি ও যাবে না।তোমাদের তো ভেনিস যাওয়ার কথা আছে তখন না হয় আমরা সবাই মিলে ঘুরবো এখন তোমরা একাই যাও।”

এলিনা সম্মতি জানালো।গ্র‍্যানি সবার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখছিলেন।সবার বাকবিতন্ডায় তিনি করে বসলেন আরেক মন্তব্য।

” আমরা পরিবারের সবাই একদিন পিকনিক করলে কেমন হয়?”

এলিনা এবং আরিব সম্মতি জানালো।তাদের খুশি যেন আজ আকাশে বাতাসে উড়ছে।পারিবারিক পিকনিকগুলো ভিষণ আনন্দের।
.
আরশাদ এখনো আসেনি।রাত বাজে প্রায় একটা।একা একটা ভিলায় থাকতে খুশবুর গা ছমছম করছে।নিজেকে স্থির রাখতে টিভির সাউন্ড জোরে দিয়েছে।ফ্রিজ থেকে চকলেট কোল্ড ড্রিংস এবং চিপ্স কত কি যে সাবাড় করেছে মেয়েটা।সারাটা ভিলা ঘুরে দেখলো খুশবু।আরশাদের শখের ভিলা তাই শখের ভিলা তো যেন তেন নয়।দামি পেইন্টিং,ফুল,আসবাবপত্র সবটাই দামি এবং ইউনিক।

ডোর বেলের শব্দে চমকে যায় খুশবু।তখন আবার ফোনটাও বেজে উঠেছে আরশাদ ফোন করেছে।ছেলেটা এসেছে তাই খুশবুকে জানান দিয়েছে।দরজা খুলে আরশাদকে দেখতে পেয়ে স্বস্তির শ্বাস ছাড়ে মেয়েটা।

” এত দেরি করলেন কেন?”

” সরি জান।একা একা বোর হচ্ছিলে?”

” হুম।”

আরশার দরজা বন্ধ করে কিচেনের দিকে যায়।টেবিলে খাবারের প্যাকেট রেখে বলে,

” পাস্তা এনেছি আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।”

রাতের খাবার শেষে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হয় দুজনে।একই ব্লাঙ্কেটের নিচে আরশাদের বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে খুশবু।মেয়েটার চোখে রাজ্যের ঘুম কিন্তু আরশাদ মুভি দেখছে।খুশবু তার সাথে জেগে মুভি দেখলেও মেয়েটার মন মুভিতে নেই।

” জান আগামীকাল বিকালে রেডি থেকো আমরা ঘুরতে যাব।”

” কোথায় যাবেন?”

“ট্রেভি ফাউন্টেন।তুমি নাকি যেতে চেয়েছো।”

” আমি কখন যেতে বললাম?”

” আরিব বললো।”

” ওরা আমাকে গল্প শোনালো আমি তো কিছুই বলিনি।”

আরশাদ হাসে। ফোনটা রেখে খুশবুকে বুক থেকে নামিয়ে বালিশে মাথা রাখে।

” ঘুমাও জান।”

খুশবু চোখ বন্ধ করতে সেই সুযোগে আরশাদ হামলে পড়ে তার ঠোঁটে, দু’হাতের ভাজে আরশাদ ক্রমশ দু’হাত চার করে মুষ্ঠিবদ্ধ করে।খুশবুর আতঙ্কগ্রস্ত মুখখানি দেখে ছেলেটা হেসে সরে যায়।

” এবার ঘুমাও।”

” আপনাকে আমি বিশ্বাস করিনা ঘুমের কথা বলে…”

” এই হিসসস চুপ, ঘুমাও।”
.

দুপুরে খাওয়া দাওয়া শেষে বিকাল সময়টাতে খুশবুকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে আরশাদ।তাদের যাত্রাটা প্রায় ঘন্টা খানেক।জানলার বাইরে তাকিয়ে সবটা পর্যবেক্ষণ করছে খুশবু।এই শহরটা অন্যরকম সুন্দর।ঘন্টাখানেক বাদে ট্রেভি ফাউন্টেনে পৌঁছে গেল তারা।সন্ধ্যা নামার পথে পৃথিবীর বুকে নেমেছে অন্যরকম সৌন্দর্য।পর্যটকদের ভীরে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া দায় যে জায়গাটিতে তা হলো ট্রেভি ফাউন্টেন।

ট্রেভি ফাউন্টেনের সামনে পর্যটকের অভাব নেই।ভিড়ের মাঝেই চারপাশ পর্যবেক্ষণ করলো খুশবু।চারিপাশে সজ্জিত উঁচু দালান তার মাঝে স্বচ্ছ জলের ফোয়ারা।ট্রেভি ফাউন্টেন সমস্ত ইতালির বৃহত্তম ফোয়ারা।ফোয়ারায় অনেকগুলো সাদা মূর্তি দেখা যায়।স্বচ্ছ জলে চিকচিক করছে জলের তলায় পয়সাগুলো।

ত্রেভি শব্দটি এসেছে ইতালীয় শব্দ “ত্রে” এবং “ভিয়া”-র সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে যার অর্থ ‘তিন রাস্তা’।ট্রেভি ফাউন্টেন বা ত্রেভি ফোয়ারা ইতালির রাজধানী রোমে অবস্থিত একটি ফোয়ারা। এটি রোম শহরের বৃহত্তম বারোক আনুমানিক ১৬০০ সালের দিকে যে শৈল্পিক রেনেসাঁ শুরু হয়েছিল।

আরশাদ খুশবুকে দাঁড়াতে বলে বেশ কিছু সুন্দর সুন্দর ছবি ক্যাপচার করে।ধীরে ধীরে যখন রোমের বুকে অন্ধকার নেমে এলো তখন ট্রেভি ফাউন্টেনের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পেল।সেই সাথে বাড়লো মানুষজন।নানান দেশের লোক এখানে উপস্থিত।

আরশাদ খুশবুর হাত ধরে হাটে।আশেপাশে অনেকেই কয়েকটি পয়সা ছুড়ে ফেলছে স্বচ্ছ ফোয়ারার জলে।আরশাদ পকেট থেকে কয়েকটি পয়সা বের করে তার ফ্লুজিকে বলে,

“পয়সা ফেলো।”

” আমি এসব বিশ্বাস করি না আরশাদ।”

” আমিও করি না।কিন্তু যতবার এসেছি পয়সা ফেলেছি।একটা ট্রেন্ড বলতে পারো যা বছরের পর বছর চলে এসেছে।স্থানীয় লোককাহিনী অনুযায়ী কথিত আছে যে, কেউ এই ফোয়ারায় পয়সা ফেললে সে আবার কোন না কোনদিন রোমে ফিরে আসবে। প্রচলিত কথা হচ্ছে এই ফোয়ারায় একটি পয়সা ফেললে দ্বিতীয়বার রোমে বেড়াতে আসার স্বপ্ন পুরন হয়। ২য় এবং ৩য় পয়সা যথাক্রমে প্রেম আর বিয়ের জন্য। প্রায় চারশ বছরের পুরানো এই ফাউন্টেনে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার ইউরো জমা হয়।”

খুশবু হাসে।কি অদ্ভুত বিশ্বাস এই শহরের মানুষদের।আরশাদের হাত থেকে পয়সা নিয়ে ফোয়ারার স্বচ্ছ জলে ফেললো খুশবু।মুহূর্তে তার মাঝে একট চিলতে হাসি দেখা যায়।
ভিড়ের মাঝে দেখা মিলে এক দম্পত্তি গভীর আলিঙ্গনে জড়িয়ে।কিছুটা দূরে আরেক দম্পত্তি নিজেদের ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে জানান দিচ্ছে ভালোবাসার।আরশাদ খুশবুকে টিপ্পনী দিয়ে বলে,

” চলো ওদের ফলো করি।”

” ছিহ আরশাদ।সবার সামনে এসব করা…”

” এরা আমেরিকান দম্পত্তি দেখেই বোঝা যাচ্ছে।এই রাতের শহরটায় কিছু অলিতে গলিতে আরো রহস্যময়।যদি বেপরোয়া হতে চাও তবে চলো আমার সাথে।”

” কোথায়?”

” নাইট ক্লাব।”
.

খুশবু বারণ করলো কিন্তু আরশাদ আর সেই বারণ শুনলো না।বন্ধুদের সাথে সে অনেকবার নাইট ক্লাবে এসেছে হালকা নেশা করেছে কিন্তু কোন মেয়ে নিয়ে তার নাইট ক্লাবে আসা হয়নি।আর দু’একজন বন্ধু গার্লফ্রেন্ড নিয়ে এসে সারারাত মাস্তি করেছে নেশার কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।আরশাদ কখনোই এসবে নাক গলায়নি।যার যার যেমন লাইফ স্টাইল।

তবে ক্লাবে থাকা আবেদনময়ী মেয়েদের দেখে তার পুরুষত্ব যে ছলকে উঠেনি তা কিন্তু নয়।তবুও আরশাদ নিয়ন্ত্রণে ছিল।ডিলান আর আরশাদ এসবে নিজেদের খুব কম জড়িয়েছে।রাত যত গভীর হলো শহরটার ততটাই রহস্যময় হয়ে উঠছিল খুশবুর কাছে।নাইট ক্লাবে পৌঁছে আরশাদ খুশবুর হাত ধরে রাখে।চারিদিকে ওয়েস্টার্ন পোশাক পরাহিত মেয়েদের হিড়িক পড়েছে।খুশবু আড় চোখে তাকিয়ে নজর ঘুরায়।সবার মাঝে সে একাই অন্যরকম।কড়া সিকিউরিটি পেরিয়ে আরশাদ এবং খুশবু নাইট ক্লাবে প্রবেশ করে।উচ্চ স্বরে গানের শব্দে মাথা ধরে এলো খুশবুর।চারিদিকে মেয়েদের লাস্যময়ী রূপে কোন ছেলে পারবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে?

” হানি কেমন লাগছে?”

” ভীষণ বাজে।”

” তোমার লাইফে নতুন এক্সপেরিমেন্ট।”

” আমার আব্বু জানলে আমাকে এক্ষুনি আদেশ করবে, এই আরশাদ ফারশাদ ব্যাটাকে ছেড়ে চলে আয়।”

“এত সহজ নয় হানি।তুমি আমার।”

“আব্বু জানলে কি যে বলবে এসব তারা মোটেও পছন্দ করবে না।”

আরশাদ হাসে।খুশবুর হাত ধরে নিয়ে যায় ভিড়ের মাঝে।ছেলে মেয়েদের বেহায়াপনা নাচানাচিতে গা গুলিয়ে উঠলো তার।আরশাদ তাকে নিয়ে যায় বার সেকশনে।এলকোহলহীন একটি জুস নিয়ে ফ্লুজিকে খেতে বলে কিন্তু তৎক্ষনাৎ বারণ করে মেয়েটা।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ইতালিয়ান মেয়ে আরশাদের হাতে হাত রাখে আরশাদ কৌশলে সেই হাত সরিয়ে দেয়।মেয়েটা ইতালিয়ান ভাষায় কিছু জিজ্ঞেস করে এবং আরশাদ সেসব উত্তর দিয়ে সরে আসে।

আরশাদ এবং ফ্লুজি অন্য পাশে যেতে দেখতে পেলো ছেলে মেয়েদের রোমান্স।কারো কোন বাঁধা নেই সবাই সামনা সামনি গভীর চুম্বনে মশগুল।খুশবু অবাক হয় আরশাদ খুশবুকে ইশারা করে বলে,

” চলবে?”

” না।”

” কোন না নয় জান।চলবে।”

” নো।

” ইয়েস।”

আরশাদ এগিয়ে আসে তার ফ্লুজির চুল খামছে আবেশে দু’টো ঠোঁট মেলায়।সময় যত বাড়তে থাকে দু’জন তত লাগামহীন হয়ে যায়।ফ্লুজি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে
আরশাদ নিজেকে বশে এনে ফ্লুজিকে বুকে জড়ায়।বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে নাইট ক্লাব থেকে বের হতে দ্রুত হাটতে হাটতে বলে,

” বাসায় চলো জান আর সহ্য হচ্ছে না।”

চলবে….

🔺গ্রুপ লিংক-https://facebook.com/groups/764407025608497/
🔺আইডির লিংক-https://www.facebook.com/profile.php?id=61555546431041

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here