বৃষ্টিস্নাত প্রেমের গল্প #পর্ব-৪৩ #লেখনীতে-আসমিতা আক্তার ( পাখি )

0
1492

#বৃষ্টিস্নাত প্রেমের গল্প
#পর্ব-৪৩
#লেখনীতে-আসমিতা আক্তার ( পাখি )

পরদিন সকাল!হুর ঘুম থেকে উঠে ঘুমুঘুমু চোখ নিয়ে বিছানা থেকে নামার সময় উষ্ঠা খেয়ে পড়তে নেয়,ঠিক সেই মুহূর্তে রুদ্ধ তার দুই বাহু জড়িয়ে ধরে। ফট করে চোখ খুলে নেয় হুর। রুদ্ধ কে নজরে আসে।রাগান্বিত মুখশ্রী। দাঁত চিবিয়ে রুদ্ধ বলে,

“মরার খুব তাড়া আছে তাই না?

থতমত খেয়ে যায় হুর। সে কি ইচ্ছে করে পড়তে যা ছিল নাকি?চোখে ঘুম প্রচুর ছিল তাই ঘুমের ঘোরে পড়ে যেতে নিয়েছিল। বাঁচিয়েছে তাই বলে কি এভাবে কড়া কথা শোনাবে নাকি? মীর জাফর কোথাকার!রাগ করে হুর নিজেই রুদ্ধর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। গটগট পায়ে চলে গেল ওয়াশরুমে। এদিকে রুদ্ধ কোমরে এক হাতে দিয়ে হুরের তেজ দেখছে। রাগ দেখানোর কথাটা আর কিন্তু উল্টো বউটা তার সাথে রাগারাগি করছে। এটা কোন ভাবে মেনে নিতে পারছে না। যেভাবেই হোক এবরশন করাতে হবে।

ডাইনিং টেবিলর কাছে আসতেই কলরব শোনা গেল। দৃষ্টিগোচরে আসলো সবার হাসি মাখা মুখ।সবার সন্তুষ্ট আদল দেখে হুর ঠোঁটের করে তৃপ্তি ঢেলে হাসলো।কেউর হাসি পছন্দ হলো না রুদ্ধের। কঠিন মুখ করে ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ল। আকস্মিকতায় সবাই চমকে উঠলো। পরমুহূর্তে রুদ্ধকে দেখে আবারো ঠোঁটের কোণে হাসি চলে আসলো। গদগদ হয়ে ফায়াজ বলল,

“ব্রো আমার না এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে, তুমি বাবা হচ্ছ।আচ্ছা,ব্রো তোমার অনুভূতি কেমন বলতো?

সবে মাত্র নিজের প্লেটে খাবার নিতে যাচ্ছিল রুদ্ধ।তার মাঝেই ফায়াজের প্রশ্ন।অনুভূতির কথা শুনে হাত তার থেমে যায়।মনের মাঝে নিরব এক অনুভূতি কাজ করছে। বু/কের ধ্বনি সুর বিহীন চলছে। ভালো নাকি খারাপ বুঝতে সক্ষম হল না রুদ্ধ। শুধু বুঝল বাচ্চা সে নিতে পারবে না। মুহূর্তেই অনুভূতিকে পাথর দিয়ে চেপে রাখল। ফায়াজের কথার উত্তর না দিয়ে হুরের দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো,

” জলদি খাবার খাও, হসপিটালে যাব এখন।

হুরের খাওয়া থেমে যায়।হাস্য উজ্জল চেহারা নিমিষেই মলিন হয়ে যায়। বেদনায় নেত্রকোনায় পানির খেলা।হসপিটালের কথা শুনে সবার চোখ রুদ্ধ আর হুরের দিকে গেল। লিলি আর জেরিন দুজনই ডাইনিং টেবিলের সামনে ছিল। মূলত কার কি লাগবে পরিবেশনা করছিল।তারাও তাকিয়ে আছে রুদ্ধ আর হুরের দিকে। সোহেল শেখ তো নিজের মাঝে প্রশ্ন দমিয়ে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করেই উঠলেন।

“হাসপাতালে কেন?

রুদ্ধ নিজের খাবার খেতে খেতে উত্তর দিল।
“এবরশন করানোর জন্য।

সবাই থমকে গেল।ভুল শুনল কি?বিস্ময় কাটাতে সময় লাগলো সবার। তবে বুঝতে পারল না রুদ্ধ এবরশন কেন করাতে চাচ্ছে।বিস্ময় নিয়ে সোহেল শেখ প্রশ্ন করলেন,

” এবরশন মানে?এবরশন কেন করাবে?

রুদ্ধর সহসা উত্তর,
“কারণ আমার বাচ্চা চাই না।

আরেক দফা থমকে গেল সবাই।এ কি বলছে রুদ্ধ?”বাচ্চা চাই না” মানে কি?মানুষ একটা বাচ্চার জন্য কত আহাজারি করে। আল্লাহ’র কাছে দিন রাত কান্না কাটি করেও একটা বাচ্চা পায় না। আর রুদ্ধ কি না নিজেই নিজের বাচ্চাকে মেরে ফেলবে!রুদ্ধর কথা শুনে সবার মনে আগ্রহ পোষণ হলো। কি কারনের রুদ্ধ বাচ্চা চায় না জানতে ইচ্ছে হলো।ফায়াজ আগ্রহ পোষণ করে বলল,

“কিন্তু কেন?

খাপছাড়া রুদ্ধর জবাব,
“কাউকে উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই।

বলা শেষে সবার কর্ণকুহুরে হুরের শীতল কন্ঠ ভেসে আসে।

“আমি এবরশন করাবো না।

রুদ্ধ বলে,
“তোমার কাছ থেকে আমি কোন রায় চাইনি।আমি আমার সিদ্ধান্ত তোমায় জানিয়েছি।

বেদনার জায়গা দখল করে তৎক্ষণাৎ রাগ এসে ভর করল হুরের ছোট হৃদপিঞ্জরে। অনাগত সন্তানকে এভাবে মেরে ফেলার মতো জঘন্য কাজ সে করতে পারবে না। যতই সে স্বামী ভক্ত হোক না কেন,যতই স্বামীকে ভালোবাসুক না কেন,রুদ্ধর এই আদেশ সে মানতে পারবে না।নিজের মনোবল শক্ত করল। নিজের চেয়ার থেকে উঠে হাত মুঠো করে শক্ত কণ্ঠে শুধালো।

“আমি কোন মতেই হাসপাতালে যাবো না। আর যদি বাধ্য করে নিয়ে যান তাহলে আমার কাছে যেই আসার চেষ্টা করবে না কেন সবাইকে খু/ন করে দিব।যে আমার অনাগত সন্তানকে মারার জন্য আসবে সবাইকে আমি খু/ন করবো।

হুরের কথা শুনে সবাই ঘাবড়ে গেল। মেয়েটা ব্যাপক রেগে গেছে। না, হলে খু/ন করার মত এত বড় কথা বলত না। রাগ করাটাও জায়েজ। কেইবা চায় নিজের অনাগত সন্তানকে মেরে ফেলতে?নিজের রাগ নিবারনের জন্য আর এক মুহূর্ত ডাইনিং টেবিলে রইলোনা। বড় বড় কদম ফেলে চলে গেল তার রুমে। সবার ঘাবড়ানো চেহারার মাঝে রুদ্ধর রিঅ্যাকশন কিছুটা আলাদা। সে ঘাবড়ে না গেলেও তার তীক্ষ্ণ চোখ দৃশ্যমান। আজকাল বউটা হুমকি দেয়াও শুরু করে দিয়েছে।রুদ্ধর মুখের ওপর কথা বলতে শুরু করে দিয়েছে।

————————————
হুর নিজের কথায় তটস্থ। তাই আর রুদ্ধ জোর করেও পারেনি এবরশন করাতে। এবরশন করানো হয়নি দেখে হুরের খুশি যেন মুখ থেকেই সরছে না। ঠোঁটের কোণে লেগে আছে বিস্তর হাসি। হুরের হাসি দেখে রাগ বেড়ে যায় রুদ্ধর। না পারে সইতে না পারে কিছু কইতে।বিছানায় আরামে বসে ফল খাচ্ছে হুর। বাম হাতে ফোন। বাচ্চাদের ছবি দেখছে।ছবি দেখা অবস্থায় ফোন কেউ হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। সামনে তাকিয়ে দেখে রুদ্ধ। তা দেখে ভ্রু কুঁচকে হুর বলে,

“কি হল আমার ফোন নিলেন কেন?

রুদ্ধ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখল বাচ্চাদের ছবি। আরো রাগ বাড়লো। হুরকে ধমক দিয়ে বললো,

“এসব আহ্লাদী বাদ দিয়ে উঠে রেডি হও।

“আমি হাসপাতালে যাব না। এক কথা কতবার বলব আপনায়?আপনা..

আবারও ধমকে উঠে রুদ্ধ,

” এই মেয়ে এক্সট্রা কথা বলতে বলেছে কে তোমায়?তোমায় কলেজে ভর্তি করাতে নিয়ে যাব। তাই রেডি হও।

“কিন্তু আমি তো ডিসাইড করিনি কোন কলেজে ভর্তি হব।

” তোমার করার প্রয়োজন ও নেই। আমি ডিসাইড করেছি।”উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজে” ভর্তি হবে তুমি। আমি কথা বলে রেখেছি। এখন গিয়ে কিছু ডকুমেন্টস ফিল আপ করলেই হয়ে যাবে।

হুর ভাবলেশহীন হয়ে আমতা আমতা করতে লাগল।তা দেখে রুদ্ধ এক ভ্রু উঁচু করে বললো,

“কি ভর্তি হবে না?নাকি বাচ্চা হওয়ার খুশিতে ডাক্তারি পড়া বিষর্জন দিবে?

তৎক্ষনাৎ হুর উঠে দাঁড়িয়ে বলে,

” না,না আমি ডাক্তারি পড়ব তো।

১০ মিনিটের মধ্যে কলেজে পৌঁছে গেল। সব ফর্মালিটিজ পূরণ করে গাড়িতে বসল।গাড়ি পুনরায় বাসার দিকে যেতে লাগল। মাঝপথে গাড়ি আসতেই হুর বলে,

“চলুন না কোথাও ঘুরতে যাই! অনেক দিন হলো বাহিরে বের হই না।

না শোনার ভান করল রুদ্ধ। হুর মুখ ফোলালো। রুদ্ধ ড্রাইভার কে বলল, আশেপাশে কোনো পার্ক থাকলে গাড়ি থামাতে।সামনেই একটা পার্ক ছিল। সেখানে গেল দুজন।পিছনে আসল গার্ড।গার্ডের সহ্য হল না হুরের।কিঞ্চিৎ রাগ নিয়ে বলল,

“আপনার চামচিকাদের দূরে যেতে বলুন। এমন ভাবে থাকতে বলুন যেন সবাই মনে করে পার্কে শুধুমাত্র আমরা দুজন এসেছি।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাই করল রুদ্ধ। সবাইকে দূরে দূরে থাকতে বলল। রুদ্ধর আদেশ সবাই মান্য করল।সামনে ঝালমুড়ি দেখতে পেয়ে হুর বায়না ধরল খাওয়ার। অনিচ্ছা সত্ত্বে রুদ্ধকে কিনে দিতে হল।ঝালমুড়ি খাওয়া শেষে আবার বায়না ধরল ফুচকা খাবে। এবার রুদ্ধ কিনে দিল না। এমনিতেই বাহিরের ঝালমুড়ি খাইয়েছে। আবার ফুচকা খেলে পেটে সমস্যা হতে পারে।হুরের সাথে এখন বাবু ও আছে। তাই সতর্ক হয়ে হুরকে খাবার খাওয়াচ্ছে রুদ্ধ। তবে বলেছে বাসায় গিয়ে জেরিন কে বলবে ফুচকা বানিয়ে দিতে।এতে হুর খুশি হয়ে যায়।পার্কে কিছুক্ষন হাটাহাটি করে।বসেও কিছুক্ষন। সন্ধ্যা নাগাদ ফের বাড়িতে চলে আসে।

বাসায় আসল কিছুক্ষন হল হুরদের। আসার সাথে সাথেই হুর জেরিন কে জানিয়েছে সে ফুচকা খাবে।তৎক্ষনাৎ কাজে লেগে পড়ে জেরিন।ফুচকা বানানো হয়ে গেলে হুর ডাইনিং টেবিলের উপর বসে যায় ফুচকা নিয়ে। এক পা ভাজ করে অন্য পা সোজা রেখে পিঠ কুজো করে বসেছে।জেরিন তাকে মানা করেছিল এভাবে বসে না খেতে। কিন্তু হুরের নাকি বাসায় ফুচকা এভাবে বসে না খেলে ভালো লাগে না। গ্রামেও যদি কখনও তার বাবা ফুচকা আনতো তখন ছোট টেবিলের উপর বসে পা ছড়িয়ে খেত।

রুদ্ধ অনেকক্ষন হলো রুমে বসে আছে। কিন্তু বউটার কোনো খবর নেই।এত সময় বউকে চোখের সামনে দেখতে না পেয়ে রাগ উঠছে। আগের রাগের সাথে এখনের রাগ জমা হলো।আজ বাহিরে না গিয়ে ঘরে থেকে সব কাজ করেছে।নিচে এসে ডাইনিং টেবিলের দিকে নজর যেতেই হতভম্ব হয়ে যায়।ডাইনিং টেবিলের ওপর পা ছড়িয়ে হুর আর ফায়াজ গপাগপ ফুচকা খাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে কোন প্রতিয়োগিতা চলছে। লিলি আর জেরিন দুজনকে উৎসাহ দিচ্ছে। মাথায় বড়সড়ো এক বাজ পড়ে গেল রুদ্ধর ।চোখ বড় বড় করে অগোছালো পরিবেশ দেখছে। অগোছালো বউকে মেনে নিতে পারলেও অগোছানো পরিবেশকে সে একদমই মেনে নিতে পারে না।কপোট রাগ নিয়ে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল।ফায়াজ আর হুরের সামনে দাঁড়ালো ।তবে তাদের রুদ্ধর দিকে কোন ধ্যান আছে?একদমই নেই। তারা তো রাক্ষসের মত ফুচকা খেতে ব্যস্ত।রুদ্ধকে আসতে দেখে লিলি আর জেরিন উৎসাহ দেয়া বন্ধ করে দিল। ভদ্র ব্যক্তির মত মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। গলা খাকারি দিয়ে হুর আর ফায়াজের ধ্যান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করল। ধ্যান ভাঙলো না। নজর ফুচকার উপর রেখে দুহাতের সাহায্যে দুজন খাচ্ছে। তীক্ষ্ণ চোখে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে কর্কশ গলায় ধমকে ওঠে রুদ্ধ।

“কি হচ্ছে এখানে? আমার বাড়ির এই অবস্থা কেন?

থেমে যায় হুর আর ফায়াজ। মুখ ভর্তি ফুচকা নিয়ে রুদ্ধর দিকে তাকায়। দুজনেরই চোখ বড় বড় হয়ে আসে। মুখ ভর্তি ফুচকা থাকার কারণে গাল ফুলে মহিষ হয়ে গেছে। কথা বলার জন্য মুখ খুলতে নিলে অনুভূত হয় মুখ ভর্তি ফুচকা নিয়ে কথা বলা সম্ভব না।রুদ্ধর বড় বড় চোখ করে ফোলানো মুখের ফুচকা শেষ করল। ঝালে দুজনের অবস্থায় নাজেহাল। দুজনের চোখের পানি নাকের পানি এক হয়ে এসেছে। ঝালের জন্য বারবার নাক টানছে। লিলি দৌড়ে যায় রান্না ঘরে মিষ্টি জাতীয় কিছু আনার জন্য।হুর বড় এক ঢোক গিলে রুদ্ধর দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করতে থাকে।ফায়াজ ভয় পেয়ে মাথা নিচু করে রইল। সবার কানে আবারও রুদ্ধর ধমক প্রদর্শন হয়।

“এটা ডাইনিং টেবিল। এটা খাবারের জন্য ব্যবহৃত হয়। বড় মানুষেরা কিভাবে বাচ্চামো করে সেটা আমার বোধগম্য হয় না।

থেমে গিয়ে হুরের দিকে তাকিয়ে তর্জনী আঙ্গুল দেখিয়ে চোখ লাল করে বলে,

“এই মেয়ে দুদিন পর তুমি বাচ্চার মা হবে। এখন নিজেই বাচ্চামক করছো। কমনসেন্স বলতে কোন কিছুই নেই তাই না। দেখতো টেবিলের অবস্থা কি করেছ!

টেবিলের চারপাশ চোখ বুলিয়ে টেবিলের চেহারা একবার দেখে দুজন। সাথে সাথে অপরাধীদের ন্যায় মাথা নিচু করে রাখে।পুরো টেবিল নোংরা হয়ে গেছে। ভাঙা ফুচকা টকের পানি একত্রে মিশে খুব বিশ্রী আবর্জনা মনে হচ্ছে। মাথা নিচু করেই দুইজন হুরমুর করে টেবিল থেকে নেমে দাঁড়ালো। হুর কে এভাবে নামতে দেখে আচ্ছামত ঝাড়তে লাগলো রুদ্ধ।

“এই মেয়ে এত লাফালাফি করছ কেন?ফারদার যেন আমি না দেখি তোমায় এত নাচানাচি করতে।আগে দৌড়াদৌড়ি, নাচানাচি, ফালাফালি করা এখন যাবে না। লাফালাফি করার মাঝে যদি কিছু হয়ে যায় তখন বেবির ক্ষতি হবে। খুব তো বলো “এ বাচ্চা আমার”এই বাচ্চা আমার”আমি কখনো আমার বাচ্চাকে মারতে দিব না”।তাহলে এখন কোথায় গেল তোমার মমতা? এভাবে বাচ্চার খেয়াল রেখে তুমি মা হতে চাচ্ছ?

নিজের মাতৃত্বের ওপর আঙ্গুল তুলে কথা বলার জন্য রুদ্ধকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে হুরের।একটু ফুচকা খেয়েছে বলে তাকে এভাবে কথা শোনাবে?একটু দ্রুত নামতে গিয়েছে বলে তাকে এভাবে বলবে?রুদ্ধ হুরকে ঝারছে দেখে ফায়াজ পাতলা গলি দিয়ে কেটে পড়তে চাচ্ছিল। তার আগেই চোখে পড়ে যায় রুদ্ধর। বলে,

“এই তুমি কোথায় যাচ্ছ? বরাবর অপরাধ করেছ দুজন। তোমাদের দুজনকে শাস্তি দেওয়া উচিত। তোমার ভাবি না হয় একটু বাচ্চামো করে। তাই বলে কি তুমিও ধামরা হয়ে বাচ্চামো করবে?তোমার উচিত হুরের খেয়াল রাখা। তুমি যখন দেখছিলে হুর ফুচকা খাচ্ছে তাহলে তুমি কেন তার সঙ্গ দিলে?এত এত ফুচকা খেলে বেবির ক্ষতি হবে তুমি জানো না?তাকে বারন না করে উল্টো নিজেই প্রতিযোগিতা লেগে গেছো।এমন যেন আমি দ্বিতীয়বার আর না দেখি।

মাথা নিচু করে বড় ভাইয়ের সবটা কথা শুনলো সে।হুট করে নিজেকে খুব সুখী মনে হল। রুদ্ধ কখনো তার সাথে নরমালি কথা বলে না। আজ বলেছে। আবার বাবুর জন্য। রুদ্ধর করা শাসন তার খুব ভালো লেগেছে। আজ সঠিক মাইনে মনে হল রুদ্ধ তার বড় ভাই। বাবুর জন্যই শাসন পেয়েছে মনে করতেই বাবুকে জড়িয়ে ধরে চটাস চটাস করে চু/মু খেতে মন চাচ্ছে। কিন্তু না হওয়া বাবুকে চু/মু কিভাবে খাবে সে!ভেবে নিল সুদে আসলে সব চু/মু বাবু হওয়ার পর পরই দিবে।

রুদ্ধর এত কঠিন কন্ঠ,ধমকানো,আদেশ কোনোটাই ভালো লাগছে না হুরের।বিরক্তের উপর বিরক্ত হচ্ছে।হাত এবং কাপড়ের অবস্থা খুবই শোচনীয়।প্রথমে নিজেকে পরিষ্কার করতে হবে। রুদ্ধর কথা কোনরকমে হজম করে রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নিল।রুমে এসে দেখল রুদ্ধ ফোনে কেউর সাথে উচ্চস্বরে কথা বলছে।রুদ্ধ হুরকে দেখে গলার স্বর কমিয়ে নিল।স্বর নিভু থাকলেও তেজ নিয়ে কথা বলছে।মুখ মুছতে মুছতে দেখল হুর।মাথায় অনেক কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে। এই লোকটার সাথে বাকিটা জীবন কিভাবে কাটাবে তাই ভাবছে।একটা খু/নি স্বামী যে তার কপালে ছিল কে জানে!যেভাবেই হোক রুদ্ধকে এই পথ থেকে বের করতেই হবে।সে কখনও চায় না তার বাচ্চারা বড় হয়ে জানুক তার বাবা খু/নি।মাথায় ফন্দি আটতে লাগল।অনেকক্ষন ভেবে একটা বুদ্ধি পেল।উদ্যোগে নেমে পড়ল। সময় লাগবে কাজটা করতে। তবে সে এটা করেই ছাড়বে।

বিঃদ্রঃ৩ টা পার্ট এখনও আমার হাতে আছে।বেশি বেশি রেসপন্স করুন। আর ফ্রী-তে পেয়ে যান পরবর্তী পর্ব।🙂

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here