মন_শহরে_বসন্ত_হাওয়া |৩| #কে_এ_শিমলা ®

0
512

#মন_শহরে_বসন্ত_হাওয়া |৩|
#কে_এ_শিমলা ®

‘এই মেয়ে দেখে চলতে পারো না? চোখ কী বাসায় রেখে এসেছো?”

এক পুরুষালী কর্কশ গলায় কথা গুলো শুনে মাটিতে পড়ে থাকা কিশোরী মেয়েটি চোখ তুলে তাকায়। মুখ তাঁর এমন লাল বর্ণ ধারণ করেছে যে, ছেলেটি তা দেখে খানিকটা দমে গেল। চেয়েও আর রূঢ় গলায় কথা বলতে পারলো না। মেয়েটি নিজে থেকেই উঠে দাঁড়ায়। হাত ঝেড়ে পড়ণের ইউনিফর্মে লেগে থাকা ধুলোবালি ঝাড়ে। ভাগ্যিস সাদা নয় পড়নের স্কুল ইউনিফর্ম। নয়তো ব্যাপারখানা অন্যরকমের হতো।”

মেয়েটা এবার ছেলেটির পানে চেয়ে বলে,
‘আমাকে বলছেন দেখে চলতে পারিনা? নিজে দেখে চলতে পারেন? আমি পারিনা মেনে নিলাম।‌ আপনি নিজেও তো পারেন না। পারলে আর এভাবে আমাকে ফেলে দিতেন না মাঝ রাস্তায়।”

‘এই মেয়ে এখন কী তুমি এই মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমার সাথে ঝগড়া করবে? তুমি তো ভারী অসভ্য মেয়ে।”

‘হ্যাঁ হ্যাঁ আপনি খুব বড় সভ্য। সরুন সামনে থেকে। আপনার জন্য আমার এখন দেড়ি হবে। অন্যকে দোষী বলার আগে নিজের দোষটাকেও একটু দেখুন।”

কথাগুলো বলে মেয়েটি আর দাঁড়ালো না। পাশ কাটিয়ে চলে গেল ছেলেটির। হাত ঘড়িতে সময় দেখছে আর দ্রুত পদে হাঁটছে। পেছন থেকে ছেলেটা দেখছে তাঁর যাওয়া। যা বুঝতে পারলো। তাঁর সময়ের অভাবে আজ বড়সর একটি ঝগড়ার হাত হতে বেঁচে গিয়েছে সে। নয়তো মেয়েটির যা কথার ঝাঁঝ। মনে তো হচ্ছিল পারলে কাঁচাই চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে। অতঃপর ছেলেটা নিজেও হেঁটে চলে গেল নিজ প্রতিষ্ঠানের দিকে।”

ফুপি ফুপি! ফুপিমনি। সুন্দর একটি মেয়ে কন্ঠ কানে পৌঁছাতেই ভাবনায় ছেদ পড়ে রণয়ীর। পাশে থাকা‌ ডায়েরীটা পেছনে লুকিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। পুরোনো সবকিছু আজ স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। যখন তখন মন দর্পণে ভেসে উঠে।
রণয়ী তাকালো সম্মুখে। স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিতা তাঁর আটবছর বয়সী‌ ভাইঝি রাইজু দাঁড়িয়ে। বারান্দায় থাকা ফুলের টবের পাশে কালো ডায়রীটা রাখলো রণয়ী। অতঃপর রাইজুর সামনে ঝুঁকে বলে, তৈরি হওয়া শেষ মামনি?”

বাধ্যমেয়ের মতো মাথা নাড়িয়ে মেয়েটি বলে, ‘ জ্বী ফুপিমনি শেষ।”

রণয়ী মেয়েটির মাথার ডান পাশের বেণুণীর বেল্ট ঠিক করে দিতে দিতে বললো, আর ভাইয়ের?”

‘আম্মু টাই পড়িয়ে দিলেই তাঁর তৈরি হওয়াও শেষ।”

রণয়ী মৃদু হেসে তাঁর শুভ্র মসৃণ ললাটে চুমু আকলো। ছেলেমেয়ে দুটো এতো কিউট। আর তাদের বলা কথাগুলো শুনতে এতোটা মনোমুগ্ধকর। রণয়ীর শুধু শুনতেই ইচ্ছে করে। মেয়েটির সহিত কথার সমাপ্তি টানতেই গলার টাই ঠিক করতে করতে একটি নাদুসনুদুস সুন্দর ছেলে এলো বারান্দায়।”

রণয়ীর সামনে এসে দাঁড়ালে বুঝলো রণয়ী। তাঁর এখন করণীয় কী? তাই খানিকটা ঝুঁকে ঢিলে হওয়া টাই আবার বাঁধতে বাঁধতে বলে, “এতো ঘুম কেন বাবা তোমার? না পড়লে? আর না তো শরীরচর্চা করলে? এটা ভালো হলো? তোমাকে ফুপিমনি বলি না, ‘সকাল সকাল যে উঠে! সে সারাদিন ভালো থাকে। তাঁর মন ভালো থাকে।”

ছেলেটি ফুলো ফুলো গাল আর অধরযুগল নাড়িয়ে বলে, ‘ফুপিমনি আমার এতো ঘুম। সকালে ছাড়েই না। আমি চোখ খুলতে চাই কিন্তু চোখ খুলে না।”

রণয়ী মৃদু হাসলো তাঁর কথায়। এবার তাঁর কপালে অধর ছুঁইয়ে বললো, ‘তোমার বনু কে দেখো। সে উঠে পড়ে! হুজুর তাকে ভালো মেয়ে বলেন। ফুপিমনির সাথে ব্যায়াম করে। ফুপিমনিও তাকে ভালো বলি। মায়ের কাজে সাহায্য করে। তাঁর বিছানা গুছায়। মাও তাকে ভালো মেয়ে বলেন।‌ দাদির সাথে গল্প করে। দাদিও তাকে ভালো মেয়ে বলেন।”

রাজন সরু চোখে তাকায় তাঁর পাশে দাঁড়ানো বোনের পানে। রাইজু ফট করে একটি ভেংচি কাটলো। রাজন চোখ ফিরিয়ে এনে বললো, ‘আমিও ভালো হয়ে যাবো।”

রণয়ী তাদের একসাথে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে বললো, ‘এবার যাও। স্কুল ব্যাগ নিয়ে বসার ঘরে চলে আসো। ফুপিমনি আসছি।”

ঠিক আছে‌ বলে মেয়েটি দ্রুত পদে হেঁটে চলে গেল। ছেলেটি হাঁটছে তো হাঁটছেই। তাঁর সবকিছুতেই অলসতা। তাঁর বোন যেভাবে কথা বলে সেভাবে কথা না বললেও তার কথাও সুন্দর। ধীরে ধীরে বলে শুনতে ভালোই লাগে। দুই ভাইবোনের কোনোকিছুতে মিল খোঁজে পাওয়া যায় না। একজন আরেকজনের বিপরীতমুখী। দুইজন দুই মেরুর। কীভাবে যে নয় নয়টি মাস একসাথে থাকলো দুই মেরুর দু’জন মানুষ। রণয়ী আবার বারান্দায় গিয়ে তাঁর ডায়রী নিয়ে এলো। মেয়েটার কৌতুহল বেশি। এই বয়সেই মাশাআল্লাহ পড়তে পারে বাংলা সুন্দর। ক্লাসে তাঁর নাম সবার আগে। অপরদিকে রাজন অলসতার জন্য পিছিয়ে আছে। যেখানে তাঁর বোন এক নাম্বার ছাত্রী। সেখানে সে পাঁচ নাম্বারে আছে। রণয়ী চায় না রাইজু এসব দেখুক পড়ুক। তাই যথাসম্ভব লুকিয়ে পড়ে। স্মৃতিচারণ করে। ভাবনায় ভাসে। কাঁদে, হাসে, ঘৃণা জাগে। অথবা বুক ভেঙ্গে আসে। কিন্তু করার কিছুই নেই। ভালোবাসা বলতে আজ তাঁর কাছে শুধু এইসব স্মৃতি আর স্মৃতি জমাট বেঁধে কলমের কালির ছোঁয়ায় এই ডায়রীবদ্ধ হয়ে আছে। রণয়ী আলমিরা খোলে রেখেদিল ডায়রীটা তাঁর যথাস্থানে।”

শাড়ি পড়াই ছিল। আরশি সম্মুখে দাঁড়িয়ে আবারো দেখে নিল রণয়ী নিজেকে। অতঃপর ওড়নাখানা পেঁচিয়ে নিল মাথায়‌। ঢেকে নিল উন্মুক্ত ঘাড় গলদেশ। মোবাইল ফোন সাইড ব্যাগে ভরে ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে বের হলো ঘরের আলো নিভিয়ে। মা ভাবীর থেকে বিদায় নিয়ে ভাইঝি ভাইপো নিয়ে বেরিয়ে এলো।”
রণয়ী যখন গেইটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন ছেলেমেয়ে নিয়ে মিসেস সাবিনা ও আসছিলেন। রণয়ী ভেবেছিল বরাবরের মতো এবারেও মিসেস সাবিনা চলে যাবেন। তিনি তাঁর পরিবারের বাকিদের সাথে টুকটাক কথা বললেও রণয়ীর সাথে বলেন না। দেখলেই ভাবখানা এমন এই প্রথম দেখছেন রণয়ী কে। আর তিনি অপরিচিত কোনো মেয়ের সাথে কথা বলেন না। রণয়ী নিজে থেকেও কখনো সেধে গিয়ে কথা বলেনি। সে জানে সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যারা শিক্ষিত হয়েও কিছু কিছু সময়ে অক্ষর জ্ঞানহীন মানুষের মতো আচরণ করেন। আর সেই আচরণ প্রকাশিত হয় মিসেস সাবিনার আচরণেও। একজন তালাকপ্রাপ্তা মেয়ের ঠিক কতখানি যুদ্ধ থাকে তাঁর সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য। তা অনেক মানুষ জানেন। আবার অনেকে স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাসই করেন না। হ্যাঁ অনেক সময় কিছু মেয়ে অল্পতেই বিচ্ছেদ চেয়ে বসে। আর কেউ শতশত কারণ থাকা সত্ত্বেও শেষ অব্দি সংসারটা টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে। রণয়ী ও করেছিল। কিন্তু ওই যে একটা কথা আজ রণয়ী বলে, কপালে থাকলে হারানোর দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও ফিরে পাওয়া যায়। আবার এটাও আছে, কপালে না থাকলে দুই যুগ সাথে থাকা সত্ত্বেও বিচ্ছেদ আসবেই। হারানোর ভয়ে মানুষটাকে নিজের করে নিলেও দিনশেষে সেই ভয় সত্য হয়ে আপন মানুষটা হারিয়ে যায়।”

মিসেস সাবিনার আজকের ডাকে অবাক হলো রণয়ী খানিক। তবে তা চেহারায় কোনো ছাপ ফেললো না তাঁর। যেন এ স্বাভাবিক কোনো ব্যাপার। একজনের ভালো লাগে না। ভুল চিন্তাধারা নিয়ে এড়িয়ে চলতে চায়। চলুক না। রণয়ীর দিন‌ তো থেমে নেই। খুব চলে যাচ্ছে দিন বেশ।”

মিসেস সাবিনা কাছে এলেন। অন্যসব কথাবার্তা রেখে বললেন, এই শুনো তো একটু।”

‘জ্বী বলুন।”

‘সামনে তো আগামীকাল থেকে কোচিং সেন্টার চালু করা হবে। তুমি জানোই।”

‘জ্বী জানি। তো কী করতে হবে?”

‘ বলছিলাম তোমার ভাইঝি ভাইপো কে পাঠাতে পারো। ওখানে ভালোই পড়ালেখা হয়।‌ওদের ভালো হবে।”

রণয়ী দায়সারা ভাবে বললো, ‘ধন্যবাদ। তবে আমার ভাই মানে ওদের বাবা ওদের জন্য ভালো টিচার রেখে দিয়েছেন অলরেডি। বছরের শুরু থেকেই পড়তে হবে এটা উনার কথা। তাই আলাদাভাবে আর পড়তে হবে না বলে মনে হয় আমার।”

‘ও তাই। আগে বললেই পারতে। কখনো দেখিনি তো কাউকে পড়াতে আসতে তাই বললাম। ওখানে স্কুলের তিন চারজন স্যার ম্যাম থাকবেন। পরীক্ষা সংক্রান্ত অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।”

‘স্কুল থেকে পাওয়া তথ্য গুলোই অনেক। আসছি আমার অফিস বিলম্ব হবে। হাত ঘড়ি দেখতে দেখতে শেষ কথা বললো রণয়ী।”

মিসেস সাবিনা ঠোঁটের কোণ বাঁকিয়ে কিছু না বলেই চলে গেলেন।‌ রণয়ী মাথা দুদিকে নাড়িয়ে সেও গেইট পেরিয়ে বের হয়। খানিকটা সামনে যেতেই গাড়ি পাওয়া গেল।‌ কয়েক মিনিটের ব্যবধানে স্কুলে পৌঁছালো গাড়ি। রণয়ী ভাড়া মিটিয়ে দুজনের হাত ধরে গেইটের ভেতরে প্রবেশ করে। এতো এতো শিক্ষার্থী চতুর্দিকে। আর যদি হয় এই সময় তাহলে তো কথাই নেই। ওদের হাত ধরেই নিয়ে গিয়ে ক্লাস অব্দি দিয়ে আসতে হয়। সবাই কে অবশ্য দিতে হয় না। ওদের দিতে হয়। খুব বেশি দিন নয়। পাঁচ ছয় মাস আগের কথা।”

রণয়ী বরাবরের মতো দুজন কে গেইটের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু ওরা দু’জন আর ঠিকঠাক ভাবে ক্লাসে পৌঁছাতে পারেনি। অস্বাভাবিক ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে রাজন পড়ে যায়। নিচে পড়ে হাতের কনুই এবং কপালের এক পাশ ছিলে যায়। কারো জুতোর চাপে দুটো আঙ্গুলেও আঘাত পায়। রাইজুর ও এমনই কিছু সমস্যা হয়। তবে সে তড়িগড়ি উঠে ভাইকে তুলতে চেষ্টা করে। কিন্তু তাঁর শক্তি কুলোয় না আহত ভাই কে তুলতে। সপ্তম শ্রেনির একটা মেয়েকে বললে সে ক্লাস অব্দি নিয়ে যায়। কিন্তু রাজনের জন্য সেদিন বাড়িতে কল করতে হয়। অতঃপর রনক রণয়ীর ভাই এবং রাজন রাইজুর পিতা বলে, ‘তাদের একবারে ক্লাস অব্দি দিয়ে আসতে পারলে নিয়ে যেতে নয়তো না গেলেও হবে‌। ভাইয়ের একটা চাপা রাগ আছে রণয়ীর উপর। তাই রণয়ী নিজেও ব্যাপারটা আগে ভাবেনি।‌ এরপর থেকে এখনো অব্দি ক্লাসে দিয়ে আসে।”

তাদের ক্লাসে পৌঁছে দিয়ে রণয়ী বের হয় স্কুল থেকে। সাথে নেওয়া গাড়ি করেই অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। অফিসেও যথা সময়ে পৌঁছে যায়। তখন দশটা বেজে এগারো মিনিট। রণয়ী লিফটের দিকে যেতে যেতে চোখ যায় দেয়ালের পাশে দাঁড়ানো আবিরের পানে। ফোন কানে ধরেও দৃষ্টি রণয়ীর পানে। দৃষ্টিটা যদি হতো স্বাভাবিক তবে অন্য কথা ছিল। কিন্তু ছেলেটার জন্য রণয়ী বেশ অস্বস্তিতে আছে মাস কয়েক ধরে। পারে না শুধু তাঁর নামে কমপ্লেন করতে। যেদিন তিনতলা থেকে নিচ তলায় দেওয়া হলো তাকে। সেদিন যেন রণয়ী হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল। কিন্তু না অধিক সমস্যার শুরু সেদিন থেকেই হয়। বাহিরে একা বের হলে বেশ অস্বস্তি আর চাঁপা একটা আতঙ্ক নিয়ে তাকে চলতে হয়। রণয়ী দ্রুত হেঁটে উপরে চলে যায়। ভাগ্য ভালো লিফটের কাছে তিন তলারই একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে।”

প্রতিদিনকার ন্যায় আজকেও কাজের মাধ্যমে দিন চলে গেল। সন্ধ্যার পূর্ব মুহুর্ত। মাত্রই একটা ফাইল সম্পন্ন করেছে রণয়ী। বসে থাকতে থাকতে অনুভব হলো কোমর বুঝি লেগে গিয়েছে। তাই উঠে দাঁড়ায়। কেবিনে দুই চক্কর দিয়ে বের হলো। স্যার অফিসে নেই। নয়তো ফাইলটি দেখিয়ে দিতো।”
সামনের বারান্দায় দাঁড়ালে নিচের সুন্দর শহুরে বৈচিত্র্যময় অনেক দৃশ্য দেখা যায়। সন্ধ্যার পশ্চিমাকাশে রক্তিম লালিমায় ছেয়ে যায় পুরো দিগন্ত। তাকিয়ে দেখলে শুধু তাকতেই ইচ্ছে হয়।”
রণয়ীর ভাবনা প্রথমে ক্যান্টিনে গিয়ে এক কাপ কফি নিয়ে বারান্দার একদম কর্ণারে চলে যাবে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে হালকা হয়ে আসবে। কেবিন থেকে বের হতেই দেখা মিললো একজন ভালো এবং সুন্দর মনের মানুষের সহিত।”

চলবে!

|ছোট বলবেন না! ১৫০০ শব্দসংখ্যা আছে এখানে।|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here