মন_শহরে_বসন্ত_হাওয়া |৫| #কে_এ_শিমলা ®

0
453

#মন_শহরে_বসন্ত_হাওয়া |৫|
#কে_এ_শিমলা ®

ঠিক এগারোটা বেজে পঁচিশ মিনিটে মিটিং শুরু হয়ে একটা বেজে বারো মিনিটে শেষ হলো। দুর্জয় যখন বললো, ‘ওয়েল, আওয়ার মিটিং ইন্ড’স হিয়ার। নাও ইউ ক্যান গো অল।”

দুর্জয়ের কথা শুনে নিজ নিজ স্থান ছেড়ে সবাই উঠার পরেও নিজ জায়গায় বসে রইল রণয়ী। আবু সাঈদ পানির বোতল এবং অনেক গুলো ফাইল হাতে বেরিয়ে গেল। একে একে বাকিরাও বের হলো। রণয়ীর সেদিকে খেয়াল আছে কী নেই একটু দ্বিধায় তাকে দেখে দুর্জয়। উক্ত কক্ষ অর্থাৎ কনফারেন্স রুম খালি হলে দুর্জয় গলার কাছের টাই খানিকটা ঢিলে করে গলা খাঁকারি দিয়ে বললো, মিস রণয়ী রহিম!’

রণয়ী হকচকিয়ে উঠলো অকস্মাৎ দুর্জয়ের গলার স্বর শুনে। সামনের ফাইল থেকে মাথা তুলে আশপাশ দেখে নিল একপলকে। কেউ নেই। এবার ডান পাশে দৃষ্টি দিতেই দেখলো তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে দুর্জয়। খানিকটা নড়চড়ে উঠলো। ইতস্তত করে বললো, ‘ইয়েস স্যার?”

‘আপনি কিছু বলবেন?”

‘না স্যার।”

‘ওহ! ওকেই।”

রণয়ীর যাওয়ার পূর্বে বেরিয়ে গেল দুর্জয়। তাঁর যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকলো রণয়ী। অতঃপর ধীরে ধীরে সেও উঠে দাঁড়ায়। পানি পিপাসা পেয়েছে। এখানে যে বোতলটি ছিল তাঁর পানি ইতিমধ্যে শেষ। নিজ কেবিনে এসে পানি পান করলো সে। কিয়ৎক্ষন বসার পর অনুরিমা আসলো। দরজার কাছ থেকেই বললো, ‘রণয়ী আসো। লাঞ্চ করে নেই।”

‘আসছি অনু। তুমি গিয়ে বসো।”

‘আচ্ছা! আমাদের টেবিলেই বসো কিন্তু। জায়গা রাখবো।”

রণয়ী মাথা নাড়িয়ে সায় জানালে মৃদু হেসে চলে যায় অনুরিমা। রণয়ীর মনে পড়ে স্কুল লাইফের কথা। ‘তোর জন্য জায়গা রাখবো সামনের বেঞ্চে। বসবি কিন্তু।”
রণয়ী বান্ধবীদের কথায় সায় জানিয়ে বাসায় যেতো।‌ পরের দিন ঠিক সামনের বেঞ্চে জায়গা পেতো নিজের জন্য বরাদ্দকৃত। কী চমৎকার ছিল সেই দিনগুলো। আজ বান্ধবীরা সব যেন হারিয়ে গিয়েছে। কথা হয় মাসে সপ্তাহে একদিন। ব্যস্থতার যাতাকলে পড়ে আজ দেখা হয় না কতটা দিন।‌ মাধ্যমিক জীবনের সমাপ্তি হতে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে ভিন্ন ভিন জায়গায় চলে গিয়েছে সবাই। বান্ধবী ছিলই বা কয়জন। এই হাতে গুনা চার পাঁচ জন। তারাও আজ কেমন পর হয়ে গিয়েছে। চোখের আড়াল হলে মনের আড়াল। কথাটা অনেকদিক থেকে আসলেই সত্য।”

বুক চিরে একটি দীর্ঘশ্বাস নির্গত হলো রণয়ীর। কেবিন থেকে বের হয়ে এগিয়ে গেল ক্যান্টিনের দিকে। কর্ণারের একটি টেবিলে দেখা গেল রোজা, অনুরিমা, নয়না, চৈতি বসে আছে। রণয়ী সেদিকে এগিয়ে গেল। ডিভোর্সী হিসেবে অন্যদের থেকে যতটা হেয় পূর্ণ দৃষ্টি তাকে সহ্য করতে হয়েছে। কথা সহ্য করতে হয়েছে। এদের কাছে এমন কোনোটাই হয়নি। তাদের যেন মনেই হয় না রণয়ী একজন ডিভোর্সী নারী। আসলেই জীবনে সবধরণের মানুষ জড়িয়ে থাকে। কেউ মূল্যায়ণ করে। আর কেউ বা কথার ছলে অপমান করে। নিচু করে। আঘাতে জর্জরিত করে। আর কেউ বা বিষাদ ব্যথা ভুলিয়ে দিতে মাতিয়ে রাখে আনন্দে। দীর্ঘ ডিপ্রেশন হয়তো এদের সংস্পর্শে না আসলে অল্প হলেও কাটাতে পারতো না রণয়ী।” আশেপাশের মানুষদের উপরেও মানসিক শান্তি বা তাঁর বৈপরীত্য মিশে থাকে। চাকরীর হয়ে আসছে বছর দুই এক মাস। তাদের সাথে পরিচয় হয়েছে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে। যদি নিজে থেকে কথা বলতো। কিংবা স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতো রণয়ী। তাহলে হয়তো আরো আগেই একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠতো তাদের সাথে। যাই হোক তাদের সাথেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে বলে আজকাল রণয়ী বেশ হালকা অনুভব করে। ডিপ্রেশন কমে গিয়েছে অনেক।”

রণয়ী টেবিলের পাশে আসতেই চৈতি হাতের ফোন রেখে চেয়ার দেখিয়ে বললো, ‘এই তো রণয়ী এসেছে। বসো বসো। তোমার জন্যই অপেক্ষা।”

‘বেশি অপেক্ষা করালাম?”

‘একদমই না। গল্প তো করছিলাম আরো পাঁচ মিনিট গল্প করবো।”

রোজার কথায় সায় জানিয়ে নয়না বললো, ‘একদম। আর আমাদের এবার গল্প শুনাবে রণয়ী।”

‘না না। খুব দুঃখিত। আজ আমি পারবো না। ক্লান্ত লাগছে আমার।”

‘আসলেই! তাকে ছাড় দাও। ক্লান্ত দেখাই যাচ্ছে ওকে।”

অনুরিমার কথায় চৈতি বললো, ‘তাহলে তুমি বলো। বিয়ের তো খুব বেশি দিন বাকি নেই। প্রস্তুতি কেমন?”

অনুরিমা খানিকটা অপ্রস্তুত হলো। আশপাশে দেখলো। পাশের কয়েকজন! নারী পুরুষ উভয়েই যেহেতু আছে। চৈতির কথায় তাদের দিকে দেখছে। অনুরিমা হাতের টিস্যু পেপার দিয়ে কপাল এবং নাক মুছলো। অতিরিক্ত গরমে আর অস্বস্তিতে তাঁর নাক ঘেমে যায়। মিনমিন স্বরে বললো,’ কী বলছো চৈতি। দেখো সবাই কীভাবে দেখছে আমাদের?”

‘আরে এতো লুকানোর কী? আজ হোক আর কাল। সবাই তো জানবেই।”

‘সে তখন দেখা যাবে। তুমি প্লিজ এখন এসব বলো না।”

‘যা বাবা। তাহলে চলো খেয়ে নেই। খেতে খেতে কোনো একটা বিষয়ে কথা এমনিই উঠে যাবে।”

চৈতির কথায় সবাই সম্মতি জানিয়ে খাওয়া শুরু করলো। এবং তাঁর কথা মতোই খেতে খেতে সেই অনুরিমার বিয়ের কথাই উঠলো। অনুরিমা বেশ লজ্জায় পড়লেও দমানো গেল না বাকিদের। তারা তাদের মতো বলেই যাচ্ছে। শেষমেষ না পেরে অনুরিমা কে তাদের কথার জবাব দিতেই হলো। এই যেমন হবু বর কে ক’দিন থেকে চিনে? শ্বশুর বাড়ি একবার যাওয়ার পর আর যাওয়া হয়েছে কী না? হবু শ্বাশুড়ি মা কল করে বেশি কড়া কথা বলেন নাকি বন্ধুসুলভ ব্যবহার তিনার‌। এরূপ কথাবার্তার মধ্য দিয়ে তাদের খাওয়া সমাপ্ত হলো। গরম লাগছে বেশ। তাই দু’জন উঠে গিয়ে ঠান্ডা আইসক্রিম নিয়ে আসলো। সেই আইসক্রিম খাওয়ার সমাপ্তি ঘটিয়ে তাদের পদাচরণ হলো নিজেদের কেবিনে কেবিনে।”

কেবিনে আসতেই হাতের মুঠোয় থাকা ফোন বেজে উঠলো রণয়ীর। স্ক্রিনে বড় ভাই নামটি ভেসে উঠছে। ধক করে উঠলো রণয়ীর বক্ষ। রনক! রণয়ীর বড় ভাই। সচরাচর সে রণয়ীর ফোনে কল করে না।‌ হঠাৎ একদিন কল আসবে। তাও প্রয়োজন হলে তো। তাকে কাজের জন্য বাসার বাহিরে শহরের বাহিরে থাকতে হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। যেমন আজ এক সপ্তাহ যাবৎ সে সিলেটে আছে। যে কোম্পানিতে রনক চাকরী করে সে কোম্পানি বিশাল। তাঁর কয়েকটি শাখা রয়েছে এরকম কয়েকটি আলাদা আলাদা শহর জুড়ে। তাই যেতে হয়। আরো নানা ধরণের কাজ থাকে।”

রণয়ী কল রিসিভ করে ফোন কানে ধরতেই ওপাশ থেকে গম্ভীর গলায় রনক বললো, ‘রণয়ী।”

‘জ্বী ভাইয়া বলো।”

‘বাসায় নাকি অফিসে?”

‘অফিসে! কেন?”

‘বাসায় না মায়ের ফোনে কল যাচ্ছে। আর না তো রিদিমার।”

‘কী বলো। আমি দেখছি একটু অপেক্ষা করো।”

‘আচ্ছা শুন। আমি কাল চলে আসবো। রিদিমা কে একটু জানালে হবে। সে কাল জিজ্ঞেস করেছিল। আমি নিশ্চিত ছিলাম না। তাই বলতে পারিনি। পরে কল করা হবে কী না বুঝতে পারছি না। তাই জানিয়ে দিলাম এখন। ওকে বললে ভালো হবে।”

‘আচ্ছা ভাইয়া বলবো। তুমি কেমন আছো?”

‘হ্যাঁ ভালোই আছি। কাজের কী অবস্থা?”

‘ভালোই।”

‘তাহলে রাখছি এখন।”

‘আচ্ছা! ভালো থেকো।”

ওপাশ থেকে কল কেটে দিল রনক। রণয়ী কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলো। আহারে ভালোবাসা! যে ভাইয়ের কাছে রণয়ী ছিল নয়নের মনি। সেখানে আজ সেই বড় ভাই কীভাবে জানি দূরত্ব বজায় রেখে চলে। হতেই পারে। এই ভালোবাসার জন্যই তো এমন পরিণতি। সব থাকার পরেও যেন রণয়ী হারিয়েছে একুল ওকুল। এখানে তাদের কোনো দোষ নেই। রণয়ীকে খুব বুঝিয়েছিল রনক। কিন্তু সেইই বুঝেনি। নিজেকে তখন খুব বুঝদার ভেবেছিল। যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মনে হয়েছিল তাই ঠিক। হারানোর ভয়টা এতোটাই জেঁকে বসেছিল তাকে যে। রণয়ী আর কারো কথাই শুনেনি। রনক সেদিন থেকেই কথা কমিয়ে দেয়। অতঃপর যেদিন ডিভোর্সী হয়ে বাড়ি ফিরলো। তখনো দূরে ঠেলেনি ঠিক! তবে আগের মতো আর আগলেও নেয়নি।”

টলমল দৃষ্টি কোণ হতে জল মুছলো রণয়ী। রিদিমার নাম্বারে কল করলো। কিন্তু ওপাশ থেকে বললো সুইচড অফ।
রণয়ীর ভ্রু যুগল কুঁচকে এলো কিঞ্চিত পরিমাণ। এবার মায়ের নাম্বারে কল করলে সেই একই।‌ রণয়ীর বেশ চিন্তা হলো‌। একসাথে দুটো ফোন বন্ধ। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও সফল হলো না। ফোন বন্ধ এখান থেকে বসে চেষ্টা করলেই বা কি হবে।”

রণয়ী চিন্তিত থাকলেই বা কী? অফিসের কাজ তো ঠিকই করতে হবে। তাই রবিনের দিয়ে যাওয়া ফাইল গুলো কাছে টেনে নিল। চিন্তিত থাকায় মন বসাতে পারছিল না। তবুও চেষ্টা করলো রণয়ী। অল্প অল্প করে কাজ করলো। না পেরে ফাইল রেখে কম্পিউটারের কাজ করতে লাগলো।”

নিয়মমাফিক বেলা গড়িয়ে বিকাল হলো। বিকাল থেকে সন্ধ্যা। সেই সন্ধ্যার পর পরই রণয়ী ফাইল নিয়ে অগ্রসর হলো বসের কেবিনের দিকে।”

দুর্জয় মনোযোগ সহকারে ল্যাপটপে কাজ করছিল। দরজায় করাঘাতের শব্দের সাথে ভেসে এলো, ‘মে আই কাম ইন স্যার?”

দুর্জয় নিত্যদিনের মতো এক হাতে রিমোট নিয়ে পাওয়ার কমিয়ে দিল। এটি যেন তাঁর একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে‌। এই নারীকন্ঠ শুনবে। আর সে এসির পাওয়ার কমিয়ে দিবে। জবাবে দুর্জয় বললো, ‘কাম ইন।”

রণয়ী ফাইল নিয়ে বেশ দ্রুতই হেঁটে এলো। দুটো ফাইল একত্রে রাখলো টেবিলের উপর। দুর্জয় আড়চোখে দেখলো একপলক রণয়ী কে। চোখের নিচে অবস্থিত চশমাখানা সে একটু ঠেলে আবার কী বোর্ডে আঙ্গুল চালায়। রণয়ী হঠাৎ চোখে হাত দিয়ে দেখলো তাঁর চশমা চোখে এখনো। খুলে হাতে নিল।”

এবার দুর্জয় তাঁর দিকে চেয়ে বললো, ‘কিছু বলবেন?”

রণয়ী ইতস্তত করে বললো, ‘যদি আজ আমাকে এখন ছুটি দিতেন। তাহলে খুব ভালো হতো স্যার।”

দুর্জয় ভাবুক ভঙ্গিমায় রণয়ীর রাখা ফাইল দুটো নিজের কাছে নিয়ে নীল রঙা ফাইলটায় দৃষ্টি বুলিয়ে নিল। মিনিট দুয়েক পর ফাইল রাখতে রাখতে বললো, ‘ঠিক আছে যান। তবে, কাজে মনোযোগী হবেন আশাকরি।”

রণয়ীর জবাব বন্দী নয়তো। কিংবা কিশোরী রণয়ী হলে ফট করে বলে উঠতো, ‘অফিসের কাজ আর কিভাবে করলে মন দেওয়া হবে? নাওয়া! খাওয়া! বাসায় যাওয়া! বাদ দিয়ে শুধু কাজ করলেই কী বলবেন কাজ হয়েছে? নির্ঘাত তখনো বলতেন আরো মনোযোগ দিবেন। ‘খাটিয়ায় তুলে দিয়েও বলবেন আপনার আরো একটু কাজের দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল রণয়ী। ও হ্যাঁ না ‘মিস রণয়ী রহিম। নামের সাথে পদবী না লাগিয়ে বললে হয় নাকি?”

দাঁতে দাঁত পিষ্ট করে হাতের চশমা চেপে ধরলো রণয়ী। নাকের পাটাতন ফুলে উঠলো। নিজেকে সামলে নরম কন্ঠে বললো, ‘ঠিক আছে স্যার।”

সময় ব্যয় না করে বেরিয়ে এলো রণয়ী। ঠোঁট চেপে খানিক হাসলো দুর্জয়। রণয়ীর অসন্তোষ চিত্ত সে দেখেছে কাছ থেকে। উপরের যে কথাটা বলেছে দুর্জয়। সেটা শুধুই এক কথা। রণয়ীর সাথে এই কথা একদমই যায় না। সে তাঁর কাজের প্রতি যথেষ্ট পরিমানে মনোযোগী। অযথা সময় নষ্ট করে না। কারো সাথে কাজের বেলায় আলাপচারিতায় ও মজে না। দুর্জয় কেবল তাকে বললো এই কথাটা। যে কথায় দেখতে চেয়েছিল তার প্রতিক্রিয়া কী? দুর্জয় নিজের অজান্তেই এই যুবতী কে অন্যরকম ভাবে দেখতে চায়। এই যেমন তাঁর গম্ভীর মুখশ্রীর স্থলে হাসিখুশি চঞ্চলতা কিংবা রাগী মুখশ্রী। কোনো কথা শুনলেই ছ্যাত করে উঠা রুপটা চায়।”
কিন্তু হায় এ যে আগের রণয়ী নয়। তবুও অল্প কিছু দেখলেই বা কী দোষ? দুর্জয় নিজের কাজে মন দিল। কাল অফিস বন্ধ। প্রচুর কাজ পিছিয়ে থাকবে। আজ যত বেশি সম্ভব কাজ করা উচিত।”

কেবিনে এসে ব্যাগ হাতে নিল। ফ্যানের সুইচ অফ করে একটি‌ লাইট অফ করে দিল। কম্পিউটার দেখে নিল‌।‌ সব ঠিকঠাক মৃদু পায়ে বেরিয়ে এলো। পথিমধ্যে অনুরিমা দেখলো তাকে। বললো, ‘চলে যাচ্ছো! এতো‌ জলদি আজ?”

‘বুঝতে পারছি না অনু। আমার মা ভাবী দু’জনের ফোন বন্ধ একসাথে। ভাই কল করে তাদের পাননি। আমার কাছে কল করেছেন।”

‘আল্লাহ বলো কী! দু’জনের ফোন একসাথে বন্ধ?”

‘হ্যাঁ! এখনো কল করেছি। কিন্তু লাগেনি। কাজেও মন বসাতে পারছি না। তাই ছুটি নিয়ে চলে যাচ্ছি।”

‘আচ্ছা সাবধানে যেও তবে। রাতে একটু কল করে জানিও। নয়তো চিন্তা করবো আমি।”

মাথা নাড়িয়ে সায় জানিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেল রণয়ী। সন্ধ্যা হওয়ায় খালি রিকশা পেয়ে গেল কয়েকটি। একটি ডেকে উঠে বসলো। যেতে কল করলো প্রথমে মায়ের নাম্বারে। পূর্বের মতোই। দুটো দেয়ার পর এবার ভাবীর নাম্বারে দিল। ভাগ্য বুঝি সহায় হলো। এবার কল গিয়ে ঢুকলো। তবে ঢুকলো ঠিকই কেউ আর রিসিভ করলো না ওপাশ থেকে। রণয়ীর চিন্তার ভার খানিকটা কমে এলেও পুরোপুরি কমলো না। অস্থিরতা চেপে ধরলো তাকে। হাঁসফাঁস করছে রিকশায় বসে। কেন যে আজ এই দীর্ঘ পথে আসলো।”
রিকশা কে বললো তবুও তিনি‌ বললেন ওদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় সোডিয়ামের আলো নাও পাওয়া যেতে পারে। যেহেতু ওইদিকে বিদ্যুৎ আজ খুব বিরম্বনা করেছিল। রণয়ী আর কথা বাড়ায়নি। অন্ধকার রাস্তা দিয়ে যাওয়ার চেয়ে দীর্ঘ পথে যাওয়া ঢের ভালো। সচেতনতায় সুরক্ষিত তো থাকবে। এবার যেন পথটাই শেষ হতে চাচ্ছে না। হাজারো রকমের চিন্তা সাথে অস্থিরতা নিয়ে বসে রইলো রণয়ী রিকশার সিটে।”

চলবে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here