মন_শহরে_বসন্ত_হাওয়া |১৭| #কে_এ_শিমলা ®

0
514

#মন_শহরে_বসন্ত_হাওয়া |১৭|
#কে_এ_শিমলা ®

এক নতুন ভোরের আগমন। আজানের ধ্বনি কর্ণপাত হতেই ঘুম ভেঙ্গে যায় রণয়ীর। একটুও সময় ব্যয় না করে উঠে বসলো সে। বড়সর বিছানার একদম দুই পার্শ্ব ঘেঁষে দু’জন। নিজের অবস্থান দেখে নিজেই ভরকে গেল। এদিকে একটু পাশ ফিরলেই তো ফ্লোরে চিৎপটাং।”
নিজের কথা ভেবে যেই না ওদিকে সরবে রণয়ী। তখনই খানিকটা নড়ে উঠলো দুর্জয়। ওপাশে ফিরতেই রণয়ীর ভাবনা মতো সে নিচে পড়লো। ধড়ফড় করে উঠে বসলো ফ্লোরে। এতোটা পাশে ঘুমিয়েছে? হতভম্ব চোখে বিছানায় তাকাতে দেখলো রণয়ী নিজেই বিষ্ময় মিশ্রিত চোখে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। বড় করে একটি নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো দুর্জয়। মাথার চুল নেড়ে চেড়ে আবার রণয়ীর দিকে তাকালো। রণয়ী সালাম দিয়ে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল। বিছানা থেকে নামতে গিয়ে এপাশ ফিরলে, ঠোঁট চেপে হাসলো খানিকটা। আহারে স্বামী!”
দুর্জয়ের দিকে এগিয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে বললো, ‘উঠুন‌। ছোট বেলায় আমারো বিছানা থেকে পরে যাওয়ার অভ্যাস ছিল। বুঝতে পারছি আপনারো আছে স্যার।”

দুর্জয় ঠোঁটের ভেতরের খানিকটা অংশ কামড়ে ধরে তাকায়, রণয়ীর হাতের দিকে একবার। মুখের দিকে একবার। তাঁর চোখে মুখে হাসির ঝিলিক স্পষ্ট খেলা করছে। দুর্জয় হাত ধরে উঠার পরিবর্তে রণয়ী কে টেনে বসিয়ে দিল পাশে। অতঃপর নিজে উঠে গেল ফটাফট। নিজের অবস্থান দেখে রণয়ীর হাসিখুশি মুখে আবার বিষ্ময়। বললো, ‘কী হলো এটা?”

‘হেসেছিলেন না? এটাই শাস্তি। আমার বিছানা থেকে পড়ে যাওয়ার অভ্যাস কখনোই ছিল না। না ছোট বেলায় না বড় বেলায়। এই বুইড়া কালে তো একদমই না। আপনার রাজত্বে পুরো বিছানা দিয়ে আজ আমার এই হাল। আর আপনি হাসলেন!”

‘আপনি দেখেছেন আমি হেসেছি?”

‘অবশ্যই দেখেছি। এখনো আপনার মুখে হাসি লেপ্টে আছে।”

আবারো ফিক করে হেসে উঠলো রণয়ী। এবং সেই হাসি দেখলো মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় দুর্জয়। আজকের প্রত্যুষ বিশেষ। এবং এই রমনীর হাসিতে তা আরো বেশি বিশেষ হয়ে উঠলো। দুর্জয় তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করলো। এপাশ ফিরে দরজা আটকাতে গিয়ে দেখলো, বিছানায় একহাত রেখে তাতে থুতনি ঠেকিয়ে তাকেই এক দৃষ্টিতে দেখছে রণয়ী‌‌। শুধুই ভালোলাগা আজ!”

রণয়ী দৃষ্টি সরিয়ে আনলো। সাদা টিশার্ট প্যান্টে কী সুদর্শন দেখাচ্ছে মানুষটাকে। বিছানায় ভর দিয়ে উঠলো‌। আরশি সম্মুখে এসে থামলো সে। মাথায় ওড়না পেঁচানো ঢিলেঢালা ভাবে। বিয়ের সাজ সেই রাতেই তুলে নিয়েছে। একটা সুতির শাড়ি পরে ছিল রাতে।”

দুর্জয় বেরিয়ে এলে রণয়ী ঢুকে ফ্রেশ হয়ে অযু করে আসে। দুজনেই একসাথে নামাজ আদায় করলো। জায়নামাজ গুছিয়ে রেখে দুর্জয় বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়।‌ শীতল মৃদু বাতাস! একটু একটু করে আলো ফুটছে। বেলী ফুলের মনমাতানো সুবাস। চোখ বন্ধ করে একটি বড় নিঃশ্বাস টেনে নিল দুর্জয়।‌ পাশে কারো উপস্থিতি টের পেলো। রণয়ী রেলিং ঘেঁষে দাঁড়ালো এসে। তাঁর হাতের মেহেদীতে নজর গেল দুর্জয়ের। দুহাত টেনে এনে মেলে ধরলো সামনে। হাতের তালু এবং পীঠের মেহেদী দেখলো। তালুতে একটি হার্ট শেইপের ভেতরে ডি’আর লেখা। মৃদু হেসে বললো, ‘সুন্দর রং।’ ছেড়ে দিলো হাত।‌”

রণয়ী বললো, ‘চা নাকি কফি!”

‘ধন্যবাদ। তবে আপাতত কিছুই না।”

রণয়ী কথা না বাড়িয়ে চলে এলো রুমে। নিজেকে আয়নায় আবার দেখে নিল। শাড়ি পরিবর্তন করবে নাকি এটাই থাকবে! দুনোমনো করতে করতে বের হয়ে গেল। সৈয়দা জোহরা ইয়াসমিনের রুমের দরজা খোলা। রণয়ী প্রবেশ করলো সেখানে। বিছানায় চোখ যেতেই দেখলো রাইজু এবং জুনায়না শুয়ে আছে। ঘুমের মাঝে একহাতে ধরে আছে রাইজু পুতুল কে। মেয়েটা আসলেই পুতুলের মতো। ফুলোফুলো গাল, ঘন পল্লব বিশিষ্ট চোখজোড়া, চিকন জোড়া ভ্রু। জুমায়রার মতোই সুন্দর মায়াবী তাঁর মেয়ে।”

বেলকনিতে যেতেই দেখা মিললো শ্বাশুড়ির সাথে। রণয়ী সালাম দিল। হাসি মুখে সালামের জবাব দিলেন তিনি। কিয়ৎক্ষণ কথা বলে বেরিয়ে এলো রণয়ী। তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে নিজের ঘর থেকে বের হচ্ছিল জুমায়রা। রণয়ী কে দেখে মাথায় ওড়না দিল। হাতে তোয়ালে রেখে বললো, ‘ভাবীই! কেমন হলো ঘুম?”

‘ভালো আপু!”

‘হুম! যাচ্ছেন কোথায়?”

‘নিচে।‌ আপনি চা নাকি কফি নিবেন?”

‘আমার তো ভাই কফি চলে। তাও উইথাউট সুগার। আম্মু তো নিশ্চয় চা নিবেন। আমাকেও চা দিন। আপনি কী?”

‘চা!”

দুজনে কথা বলতে বলতে নিচে নেমে এলো।একসাথে কিচেনে। কথায় কথায় জেনে নিল রণয়ী নাহিয়ানের কী চাই। জুমায়রা জানালো সে আপাতত ঘুম। উঠলে কফি করে দেবে। রণয়ী তাদের তিনজনের জন্য চা তৈরি করলেও আরো একটা নিল। জুমায়রা তা দেখলো। ঠোঁট টিপে হাসলো খানিকটা। ট্রে সমেত চা নিয়ে আবার উপরে এলো দুজন। জুমায়রা দু কাপ চা হাতে নিয়ে বললো, ‘বুঝতে পারছি! ভাইয়ের রুটিন পরিবর্তন হবে। যান যান! দিয়ে গিয়ে।”

‘আমি দিয়ে আসছি আম্মা কে।”

‘উনাকে দিলে যতটা খুশি হবেন। উনার ছেলে কে দিতে গিয়েছেন শুনলে আরো বেশি খুশি হবেন। তাই আম্মু কে বেশি খুশি করা উচিত।”

পালিয়ে বাঁচলো রণয়ী। অফিসে যতটা গম্ভীর। বাসায় দুই ভাইবোন যেন তাঁর বিপরীতে। রণয়ী এক কাপ চা নিয়ে ধরলো দুর্জয়ের সামনে। ‘ডেল কার্নেগির’ একটি বই পড়ছিল দুর্জয়। হঠাৎ চায়ের কাপ সামনে দেখে চোখ তুলে তাকায়। রণয়ী চোখে ইশারা করলো নিতে। দুর্জয় নিয়ে নিল হাতে। রণয়ীর অধর কোণে মৃদু হাসি ফুটলো‌।”

সময় কাটলো‌। বাড়িতে যারা অতিথি ছিলেন সবাই ধীরে ধীরে তৈরি হলেন। বর কনে নিজেরাও তৈরি। সৈয়দা জোহরা ইয়াসমিন রণয়ীর কাছে আসলেন। তাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল অনেকেই। তিনি তাঁর দুহাত টেনে দুটো সোনার বালা পড়িয়ে দিলেন।‌ বললেন, ‘এটা আমার শ্বাশুড়ি আমায় দিয়েছিলেন। আজ আমি আমার পুত্রবধূ কে দিলাম। গলায় একটি স্বর্ণের চেইন পড়িয়ে দিয়ে বললেন, এটা আমি দিলাম। বহু বছর আগে তৈরি করে রেখেছিলাম। কবে আসবে পুত্রবধূ আর কবে পড়াবো। নাও! আজ এগুলো দিতে পারলাম।”
বাড়িতে আবারো জমজমাট পরিবেশ। রণয়ীর বাসা থেকে অনেকেই আসলো। খাওয়া দাওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হলো আবারো। বিকেল প্রায় সাড়ে চারটার দিকে সবাই বেরিয়ে পড়লো রণয়ীর বাসার উদ্দেশ্যে। দুর্জয়ের গাড়িতে আগের মতোই দু’জন। সাথে রাইজু, জুনায়না।”

কয়েক মিনিটের মধ্যে বাসায় এসে পৌঁছালো সবাই। নতুন জামাই কে বাসায় নেওয়া হলো। দুর্জয় রাবিয়া খানম এবং রিদিমা কে সালাম করলো। যতই হোক! সম্পর্কে রিদিমা তাঁর বড়। চারিদিকে অনেক মানুষ! পরিচিতদের সাথে রণয়ী কথা বললো। হালকা নাস্তা দেওয়া হলো। অতঃপর দুজন কে রণয়ীর ঘরে পাঠানো হলো। কথাবার্তা পরেও বিনিময় করা যাবে। আপাতত ফ্রেশ হওয়া প্রয়োজন।”

~~~~~•••••
অফিসে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফাইল দেখছিল রক্তিম। মোবাইল ফোনে টোন বেজে উঠলেও তেমন পাত্তা দিল না। কাজে গন্ডগোল লেগেছে এমন, আর ছাড়ছেই না। শুধু লস প্রজেক্ট! এদিকে আজ আবার নোমান ও আসেনি। কী যে জামেলা। তাঁর মধ্যে এসব ফোন মেসেজ দেখার সময় একদম নেই তাঁর হাতে। মিনিট দুয়েক পর হঠাৎ কেন যেন মোবাইল ফোন হাতে তুলে নিল রক্তিম। পাওয়ার বাটনে চাপ প্রয়োগ করতেই ব্যাংকের মেসেজ দেখলো। হঠাৎ ব্যাংক থেকে মেসেজ দেখে ভ্রু কুঁচকে এলো তাঁর। মেসেজে প্রবেশ করতেই প্রথমে একাউন্টের টাকায় দৃষ্টি গেল তাঁর। থমকে গেল দুর্জয়! আকাশ ভেঙ্গে পড়লো বোধহয় তাঁর মাথায়। পয়তাল্লিশ লক্ষ টাকা থেকে চল্লিশ লক্ষ গায়েব।”
মাত্র দুই মাস আগেই তো সাত লক্ষ টাকা উঠিয়ে পঁয়তাল্লিশ লক্ষ রেখে এসেছিল মোটে। হলো টা কী! দ্রুত কল করলো ব্যাংকে। সেখান থেকে উনারা যা বললেন শুনে মাথা ঘুরে গেল রক্তিমের। চল্লিশ লক্ষ টাকা উঠিয়েছে নূরা। আদৌ সম্ভব! বিশ্বাস হচ্ছে না। ঢোক গিলতে গিয়ে বুঝতে পারলো গলা শুকিয়ে এসেছে। মস্তিষ্ক ফাঁকা লাগছে। দপ করে বসে পড়লো রক্তিম চেয়ারে। কম্পিত হাতে কল করলো নূরার নাম্বারে। রিং হয়ে কেটে আসলো। রক্তিম কী করবে মাথা আসছে না! একের পর এক কল দিয়েই গেল অনবরত। কিন্তু রিসিভ করার নামান্তর নেই নূরার। কিছুক্ষণ পর হোয়াটসঅ্যাপ এ একটি ভিডিও এলো নূরার থেকে। রক্তিম তড়িগড়ি সেটা দেখতেই থমকে গেল আবারো।”

ভিডিওতে টাকার ব্যাগ। পাশাপাশি নূরা নোমান আরো দুজন ছেলে। নূরার কথাগুলো শুনে রক্তিমের মাথা খারাপ হয়ে গেল। মনে হচ্ছে এক্ষুনি সে জ্ঞান হারাবে। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে কল করলো নূরা কে। ভিডিও কল। ওপাশ থেকে কল রিসিভ হতেই বিশ্রী একটা গালি দিল রক্তিম।”

নূরা ক্রুর হেঁসে বললো, ‘তোমার দুঃখের দিনে কিছু বললাম না। বকা দিয়ে দাও।”

‘আমাকে এভাবে ঠকালি তুই? তোকে বিশ্বাস করে কী কম ঠকেছিলাম? আমার কষ্টের ফল এগুলো।”

‘ঠকে যাওয়াতো তোমার পুরনো অভ্যাস প্রিয় বোকা পুরুষ। আর এই টাকা! তিন বছর থাকলাম তোমার হয়ে। এই গুলোর জন্যই তো।”

‘ছিহ! তোর মতো মেয়ে মানুষের সাথে আমি ছিলাম নয় দশটা বছর। ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে।”

‘ওহ স্যার! এসব বলে আর কী হবে? আপনি মাথা ঠান্ডা করতে লেবুর শরবত খান গিয়ে। আমাদের ইঞ্জয় করতে দিন।”

‘নোমান! বিশ্বাসঘাতক! তোকে বিশ্বাস করেছিলাম। তোর খারাপ সময়ে আমি চাকরি দিয়েছিলাম। আর আমাকে এইভাবে ঠকালি।”

‘পুরোটা আমার সুইটহার্ট! আপনার এক্স! তারপর বউয়ের সাজানো গুছানো প্লান। সব তো সেই করেছে। তবে এরপর এখনো থেকে আমি করবো।”

‘দু’জন কে ছাড়বো না আমি। জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বোই।”

‘দুঃখিত! আপনার এই আশা পূরণ হচ্ছে না। কিছুক্ষণ পরেই আমরা ফুড়ুৎ করে উড়ে যাবো।”
দুজনের পাসপোর্ট দেখিয়ে বললো।”

‘পৃথিবীর যেকোনো দেশেই যা! খোঁজে বের করবো আমি তোদের।”

‘আপাতত টাকা বের করুন বিশ্ব খোঁজার জন্য। বাপ ছেলের একাউন্ট শুন্য। বলেছিলাম একটা টাকাও না রাখতে। কিন্তু মায়া করে পাঁচ লক্ষ রেখে এলো। সারাজীবন বিলাসিতায় কাটিয়েছেন। এখন একদিনেই কীভাবে ভিখারি হবেন? মায়া হলো আপনার জন্য।”

‘তোদের সাথে যা হবে খুব ভালো কিছু হবে না মনে রাখিস। আর নূরা! তুই যা করলি আজ। খুব পস্তাবি মনে রাখিস। আজ পাই আর বিশ বছর পর। তোকে নিজ হাতে খু**** করবো আমি। তোর জন্য আজ আমার এই অবস্থা। একটা দিন ও মানসিক শান্তি পাইনি। তোর জন্য আমায় একটা নির্দোষ মেয়েকে শাস্তি দিতে হয়েছে। অকারণে তাকে এমন যন্ত্রণা দিয়ে দূরে ঠেলে দিয়েছি। তাঁর অভিশাপে আমার মানসিক শান্তি হারিয়ে গিয়েছে। আর আজ তুই আমাকে নিঃস্ব করে গেলি। তোকে তিলে তিলে শেষ করবো মনে রাখিস।”

‘আগে পেয়ে দেখাও‌।
আর তোমার জন্য আরো একটি বড় সারপ্রাইজ আছে। জাস্ট এক সপ্তাহ। পেয়ে যাবে! আশাকরি আরো চমকাবে তুমি সেই সারপ্রাইজ পেয়ে। গুড বাই!”

খট করে কল কেটে দিল নূরা। রক্তিম রাগে ক্ষোভে ফোন ছুড়ে মারলো দেয়ালে। পড়নের কোট খুলে হাতে নিয়ে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় হেঁটে বেরিয়ে গেল অফিস থেকে। গাড়ি চালিয়ে সোজা মা বাবার কাছে ছুটলো।”

সেদিন যদি নিজেই চেকের মধ্যে চল্লিশ হাজার টাকা লিখে দিত। তাহলে এমনটা করতে পারতো না নূরা। চল্লিশ হাজারের কথা বলে, আজ সে চল্লিশ লক্ষ টাকা উঠিয়ে নিল। ব্যাংক থেকে যে কল করবে তারো কোনো সুযোগ রাখেনি। তাঁর নাকি হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। হার্টের প্রবলেম ধরা পড়েছে। ইমারজেন্সি দেশের বাহিরে নিয়ে যেতেই হবে। পঁচিশ থেকে ত্রিশ লক্ষ টাকা লাগবেই। আরো খরচাপাতির জন্য চল্লিশ লক্ষ মোটে। নিশ্চয় এমন ভাবে ব্যাংকে বলেছে যে কল করার সুযোগ দেয়নি।”

বাড়ির সামনে গাড়ি রেখে পাগলের মতো ছোটে গেল ভেতরে। রাহিমা সুলতানা ঘর মুছছিলেন। ছেলেকে এমন পাগলের মতো প্রবেশ করতে দেখে চমকে উঠলেন। এদিকে মা কে এই অবস্থায় দেখে রক্তিম নিজেই থমকে গেল। মা! মা কাজ করছেন এভাবে? কখনো দেখেছিল সে?”
কিচেন থেকে বের হয়ে এলেন রাজিবুল হাসান নিজেও। হঠাৎ রক্তিম কে দেখে চমকে উঠলেন তিনিও। রক্তিম হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো ফ্লোরে। রাহিমা সুলতানা, রাজিবুল হাসান এগিয়ে আসলেন ছেলের কাছে।”
কী হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই রক্তিম কাঁপা কাঁপা স্বরে সব খুলে বললো। সব শুনে দু’জন রক্তিমের পাশে বসে পড়লেন ধপ করে। রাহিমা সুলতানা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। আহাজারি করে বললেন, ‘কী সর্বনাশ করে গেলো গো এই কাল নাগিনী আমার। আমাকে যে পুরো নিঃস্ব করে দিয়ে গেল গো। এমন হাজারো কথা উনার।”

রাজিবুল হাসান স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন। আরো কিছু যে অপেক্ষায় আছে! তাঁর কথা ভেবেই পাগল পাগল লাগছে!”
রক্তিম সোফার সাথে হেলান দিয়ে মাথায় হাত রেখে বসে আছে। এতোটা ঠকে যাওয়ার জন্য কী তবে তাঁর আগমন ছিল! কীভাবে চোখে চোখ রেখে বলতো ভালোবাসি? বুক কাঁপতো না? এতো নিখুঁত অভিনয়! ঠকিয়ে যাবে এই মেয়ে জানতো। আগেই বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু এভাবে নিঃস্ব করে যাবে জানতো না সে।”
দুই ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো তাঁর চোখ বেয়ে।”

~~~~~•••••
পরের দিন বিকেলে ইমাম মঞ্জিলে ফিরে এলো দুজন। জামাই আপ্যায়ণে কোনো কমতি রাখেননি রাবিয়া খানম। রনক রামিন দুইভাই সাধ্যমতো খাতির করেছে। এমনটাই হবে জানতো দুর্জয়। তাদের আন্তরিকতায় সে মুগ্ধ।”
বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিল রণয়ী। সৈয়দা জোহরা ইয়াসমিনের সাথে দেখা করলো। সে বিকেল ননদ শ্বাশুড়ির সাথে গল্প করে কাটলো তাঁর।”
রাত নামলো ধরণীর বুকে। খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ করে ঘুমোতে এলো। তবে ঘুমোবে কী না সেটা নিয়ে দ্বিধায় রণয়ী। খাওয়ার পরেই বেরিয়ে গিয়েছে দুর্জয়। কখন আসবে না আসবে বলে যায়নি!”
বিছানায় শুয়ে শতশত ভাবনার মধ্যে চোখে ঘুম নেমে এলো তাঁর। দুর্জয় ফিরলো বেশ কিছু সময় পর। ঘরে এসে দেখলো রণয়ী ঘুমিয়ে পড়েছে। সেও ফ্রেশ হয়ে এলো বিছানায়। রণয়ীর চাদর তাঁর গায়ে দিয়ে নিজের জায়গায় শুয়ে পড়লো সে। ‘খুব বেশি কাছাকাছি না হোক! এক বিছানায় আছে! এই তো অনেক।”

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here