#পারবনা আমি ছাড়তে তোকে ❤❤
#লেখিকাঃ লামিয়া ইসলাম তন্নি ❤
#পর্বঃ ২৫ ❤
.
.
🍁
.
বিকেল ৪ টা বেজে ৩০ মিনিট। মাত্রই সব কাজ শেষ করে শাওয়ার নিলাম। শাওয়ার শেষে বিছানায় এসে গা এলিয়ে দিতেই খাটাশটা এসে চেঁচিয়ে উঠলো…..
.
—- আলোওওওও!
.
উনার চেঁচানো শুনে আমি লাফ দিয়ে উঠে বসি। বাব্বাহ্! কি সাঙ্ঘাতিক লোক রে! এর তো দেখি চেঁচানোর জন্য মাইক প্রয়োজন হয় না। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই খাটাশটা তার টেপ রেকর্ডার চালানো শুরু করলেন…..
.
—- ঐ তুই শুয়ে আছিস কেন?
.
—- খুব টায়ার্ড লাগছিল তাই!
.
—- ওহ্হো! তাই নাকি? তো কই তোকে তো দেখে টায়ার্ড লাগছে না ।
.
—- মানে? টায়ার্ড লাগছে কিনা তা কি আপনি দেখতে পাবেন নাকি ?
.
—- আশ্চর্য! তো না দেখলে কিভাবে বুঝব তুই সত্যি বলছিস নাকি মিথ্যে ?
.
—- আজিব! আমি আপনাকে মিথ্যে কেন বলব? এতে আমার লাভ?
.
—- কেন ঐযে একটু আদর পাওয়ার জন্য ।
.
—- ওয়াক থু! আপনার আদর চাইবো? আর আমি? হা হা হা! হাসালেন।
.
—- মানেহ?
.
—- মানেটা ক্লিয়ার। আমি আপনার আদর চাই না। আমার তো মাহিদের আদর চাই। ইশ! কত্তো কিউট । ওরে আমি বিয়ে…..
.
আর কিছু বলার আগেই উনি আমায় ধাক্কা দিয়া বিছানায় ফেলে আমাকে বিছানার সাথে চেপে ধরলেন। আমার তো ভয়ে শেষ। না জানি বাকীটা কি হয়? আল্লাহ আবার কেন লাগলাম উনার পেছনে ? এখন আমার কি হবে ? আল্লাহ আমাকে বাঁচাও । আমি লাগমু না উনার পিছে। আমারে যা কইব তাই শুনমু। তুমি আমারে বাঁচাও প্লিজ !
.
—- কি বলেছিস তোর আমার আদর না মাহিদের আদর চাই?
.
—- আমাকে ছাড়ুন আমার লাগছে !
.
—- ছাড়ব? ছাড়ার জন্য কি ধরেছি নাকি?
.
এইটুক বলে উনি আস্তে আস্তে আমার দিকে এগোচ্ছেন। আমি তো এবার ভয়ে শেষ। উনি আমার আরও কিছুটা কাছে আসতেই আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিলাম। বাঁচার আসা ছেড়েই দিলাম। আজ বুঝি আর শেষ রক্ষাটা হলো না ! কিন্তু আমি নিরাশ হইনি। উনি আমার ঠোঁট জোড়া উনার দখলে নিতেই ফোনটা বেজে ওঠে। সাথে সাথেই উনি আমাকে ছেড়ে চলে যায়। আর আমি তাড়াতাড়ি করে উঠে বসি। আল্লাহ শেষ অবদি এই খাটাশের হাত থেকে বাঁচালে আমায়। আমার আটকে থাকা প্রাণ এতোক্ষণে ফিরল! আল্লাহ গো! কি ভারী ! কে জানে কি খায় খাটাশটা। আমারে তো ভর্তাই করে দিছে । আরেকটু হলে মরেই যেতাম! যাক আল্লাহ বাঁচাইছে।
.
_________________
.
ডাইনিং রুমে গিয়ে টেবিলে খাবার সাজাচ্ছি। উনি এসে আমার পাশের চেয়ারটায বসে পড়েন। আমি উনাকে খাবার সার্ভ করে প্লেটটা এগিয়ে দিতেই উনি প্লেটটা আমার দিকে ঠেলে দিল। আমি কিছু না বলে জিজ্ঞেসু দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকাতেই বললেন…..
.
—- খাইয়ে দে!
.
—- মানেহ?
.
—- মানে,আমাকে খাইয়ে দে। আমি নিজে খেতে পারব না।
.
—- কেন? আপনার কি হাত নেই? নাকি হাত কাকে নিয়ে ভেগেছে ?
.
এইটুকু বলে নিজেই নিজের মুখ চেপে ধরলাম। ইয়া আল্লাহ! না জানি এখন আবার কি করবে ? আমি তো ভুলেই গেছি পুড়ো বাড়িতে আমরা দু’জন ছাড়া কেউ নেই। এখন না জানি কি কি টর্চার করব! ইশ! একটু সহ্য করে নিলে কি হতো? এতো বেশি কথা যে কেন বলি? নিজের দোষে নিজেরই বাঁশ খেতে হয়। ভাবনার মাঝেই উনি ধমকে উঠলেন…..
.
—- কি বললি ?
.
—- কককই কিছু না । আসুন খাইয়ে দিই ।
.
এখন কিনা বাচ্চাদের মতো এই বুইড়ারেও আমার খাইযে দিতে হবে ? উফহ্ অসহ্য! আমি সুন্দর খাইয়ে দিচ্ছি উনিও ফোন স্ক্রোল করছেন আর খাচ্ছেন।
.
হ হ গেল গেল। বেশি করে গেল! জীবনে তো খাস নাই। রাক্ষস একটা ! কি স্বার্থপর রে বাবা! একবার কইতাছে না আলো তুইও খা। এহ্ কইবো ক্যান? কথায় বলে না- “নিজে বাঁচলে বাপের নাম” সেরকম আরকি! উনি খেলেই চলে। আর কাজগুলো আমাকে করিয়ে মারে ! মনে মনে বিরবির করতে করতে শেষের ভাতটুকু উনার মুখে পুড়ে দিতেই উনি খুব জোড়ে একটা কামড় বসালেন আমার হাতে। আমি ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলাম। সাথে সাথেই ব্যথা চোখ থেকে দুফোঁটা নোনা জল গড়িয়ে পড়ল। কিন্তু আমি কিছুই বললাম না। বা হাতে চোখের পানিটা মুছে নিয়ে উনাকে খাওয়ানো শেষ করে পানি দিয়ে উনার মুখটা মুছে দিলাম। উনি বসে বসে আমার কান্ড দেখছেন। আমি সব গুছিয়ে রুমে যেতে নিলে উনি পেছন থেকে আমার বা হাতটা চেপে ধরে একটানে উনার বুকে মিশিয়ে নেন। আমি ছাড়ানোর চেষ্টা করছি কিন্তু ফলাফল শূণ্য!
.
—- আই সো সরি আলো! আমি বুঝতে পারিনি। বিশ্বাস কর আমি ইচ্ছে করে দিইনি।
.
—- আমি কি আপনাকে কিছু বলেছি? বাদ দিন! আমাকে ছাড়ুন একটু ঘুমাবো। মাথাটা খুব ব্যথা করছে।
.
—- সরি আলো! প্লিজ রাগ করিস না।
.
—- আমি রাগ করিনি। আমাকে এখন যেতে দিন।
.
—- আমি জানি তুই রেগে আছিস।
.
—- আশ্চর্য! আমি বলছি আমি রেগে নেই। তবুও? রাগ করে কি লাভ বলুন? কোনো লাভ নেই। এই টর্চার থেকে তো আর মুক্তি নেই। ছাড়ুন আমায়!
.
কথাটা বলে উনার হাতটা ঝাড়ি দিয়ে ফেলে রুমে চলে এলাম। উনি হয়তো সত্যি বলছেন উনি ইচ্ছে করে দেননি। অসাবধানতার জন্য লেগে গেছে। যাই হোক! শত হলেও আমার স্বামী। উনাকে এভাবে বলাটা আমার মোঠেও ঠিক হয়নি। উনি হয়তো খুব হার্ট হয়েছেন। কথাগুলো নিজে নিজে বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।
.
প্রায় ১০-১২ মিনট পর রুমে কারো উপস্থিতি অনুভব করলাম। কিন্তু চোখটা খুলে দেখার মতো শক্তি নেই। মাথা ভীষণ ব্যথা করছে। সাথে জ্বরও চলে এসেছে বোধহয়! প্রচুর ঠান্ডা লাগছে। হঠাৎ কপালে কারও স্পর্শ অনুভব করলাম। বুঝতে আর বাকী রইল না কে হতে পারে। কিন্তু এখনও আমি আগের মতোই শুয়ে কাঁপছি। উনি আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিলেন। কিন্তু কিছুতেই কাঁপানো কমছেনা। উনি আমার পাশে শুয়ে আমাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলেন। আমি একদম ছোট বাচ্চাদের মতো উনার বুকের সাথে মিশে উনাকে জড়িয়ে আছি৷ উনি হয়তো ভাবছেন আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। আমার কাছে সব থেকে সুখের জায়গা এটাই মনে হচ্ছে। ইচ্ছে করছে সারাজীবন এখানটাতেই এভাবে নিজের মুখ গুঁজে থাকি। এভাবে উনাতেই মিশে থাকি।
.
বেশকিছুক্ষণ বাদে উনি আমাক ডাকতে লাগলেন…..
.
—- আলো! আলো….
.
আমি কিছু বলছিনা।
.
—- আলো চল ওঠ খেতে হবে তো!
.
এবার আমি মুখ খুললাম। কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম….
.
—- আআআমি খাখাবো না।
.
—- দেখ ডক্টরের কাছে যেতে হবে।
.
—- আআমার ককিচ্ছু লাগবেনা। আআপনি থাকলেই চলবে। পপ্লিজ আমাকে একটু এভাবেই জড়িয়ে রাখুন না! (কান্না ভেজা কন্ঠে)
.
উনি এবার আমাকে ছেড়ে উঠে বসলেন। আমাকে কিছু না বলে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলেন। ভেবেছিলাম হয়তো রেগে গেছেন। কিন্তু নাহ!
.
কিছুক্ষণ পর উনি খাবার আর একটা বাটিতে পানি আর কাপড় নিয়ে রুমে ঢুকলেন। উনি আস্তে করে আমার পাশে বসে আস্তে আস্তে আমাকে উঠিয়ে বসালেন।
.
—- আপনি আমাকে যতো কষ্ট দেওয়ার দিন না? কিন্তু আপনার বুকে একটু মুখ গুঁজে থাকতে দিন প্লিজ! আমার না ওখানে সব থেকে শান্তি লাগছে। অনেক আরাম সেখানে! একটু খারাপ লাগে না।
.
উনি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আমার কথাগুলো শুনছেন। আমি আবার বলতে শুরু করলাম……….
.
—- জানেন আমি আমাদের প্রিন্সেসকে বলব না যে তোমার বাবাই আমাকে কষ্ট দিয়েছে। বরং বলব তোমার বাবাই খুব ভালো। আম্মুকে একটুও কষ্ট দেয় না। ভীষণ ভালোবাসে! হুম জানি তো এটা সত্যি নয়। কিন্তু কি করব বলুন বাচ্চাদের তো এসব বলতে নেই। তাহলে তো বাচ্চারা কষ্ট পাবে। বাবাইকে ভুল বুঝবে। কিন্তু আমি তো চাই আপনাকে আমাদের বেবিরা আমার থেকে বেশি ভালোবাসবে। ওরা অনেক কিউট হবে একদম আপনার মতো! তাই না বলুন? শুনুন না আপনি কি আমাদের প্রিন্সেসকে নুপুর বানিয়ে দেবেন? এতো সুন্দর নুপুর? প্রিন্সেস ওটা পড়ে সারা বাড়িতে দৌড়োবে। আর আমরা তা দেখবে! ইশ! কত্তো কিউট হবে ! আচ্ছা শুনুন, আমি কিন্তু প্রিন্সেসের চুলগুলো অনেক বড় করব। দুপাশে দুটো ঝুঁটি করে দিব। কতো ভালো লাগবে দেখতে।
.
উনি আমার বাচ্চাদের মতো কথাগুলো শুনছে। কি সুন্দর মন দিয়ে শুনছেন। হয়তো বুঝতে পেরেছেন আমি জ্বরের ঘোরে এসব বলছি। তাই কিছুই বলছেনা।
.
হঠাৎ কি যেন ভেবে উনি আমাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। চুলে হাত স্লাইড করতে করতে বললেন……..
.
—- সব হবে বুড়ি! এখন তোকে আগে খেতে হবে। তারপর মেডিসিন দেন ঘুম। ডক্টর আঙ্কেলকে বলেছি উনি সন্ধ্যায় আসবেন বলেছে।
.
—- আমি তো খাব না। আমি আপনার বুকে ঘুমাবো। ওখানে অনেক শান্তি! আমি সবসময় ওখানেই থাকব।
.
—- আচ্ছা সারাজীবনই তুই ওখানে থাকবি এখন খেয়ে নে প্লিজ!
.
—- না! আমি খাব না।
.
—- তাহলে ওখানে থাকতে দিব না। আর প্রেন্সেসএ দিব না প্রিন্সেসকে নুপুরও কিনে দেব না।
.
—- কেন ?
.
—- তুই খাবি না তাই।
.
—- আচ্ছা আমি খাবো। কিন্তু প্রমিজ করুন আগে দিবেন !
.
—- ওকে ডান।
.
—- না হবে না। ভালো করে করুন। বলুন এক সত্যি, দুই সত্যি, তিন সত্যি আমি প্রিন্সেসকে নুপুর কিনে দেব।
.
—- হুম এক সত্যি, দুই সত্যি, তিন সত্যি। হ্যাপি? এবার হা কর.!
.
অবশেষে আমাকে খাইয়ে দিয়ে। মুখ মুছে প্লেটটা ডাইনিং রুমে রেখে এসে আমাকে শুয়ে দিয়ে নিজে আমার পাশে শুয়ে বুকে জড়িয়ে নিলেন। আমি একদম গুটিসুটি মেরে উনার বুকে মিশে উনাকে জড়িয়ে আছি। ইশ! কতটা শান্তি। পৃথিবীতে আমার সব থেকে শান্তির জায়গা শুধু এটা। যেখানে কোনো কষ্ট আমাকে ছুঁতে পারবেনা। যেখানে আমার সুখ আর সুখ! ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমালাম।
#চলবে……
[#বিঃদ্রঃ সরি গাইস ! আমি সত্যিই খুব দুঃখিত আপনাদেরকে এতো ওয়েট করানোর জন্য😥। বাট কি করব বলুন। আই এম হেল্পলেস! অনেক ডিপ্রেশনে আছি। পড়াশোনাসহ আরও নানা টেনশন 😥। তার উপর আজকে ৫দিন নেট এতো পরিমাণ বিরক্ত করছে বলার বাহিরে। ওয়াই-ফাই কানেক্ট হচ্ছে না। আর এমবি নিছি বাট ঘরে নেটওয়ার্ক না পাওয়ার জন্য ডাটাতেও তেমন কাজ হয়না😔। এই লোডিং জিনিসটা আমার বড্ড বাজে লাগে😖। আর এই ৫ দিনে এই লোডিং, লাইফটা ত্যানা ত্যানা করে দিছে। ফোন প্রবলেম,নেটওয়ার্ক প্রবলেম,পড়াশোনা সব মিলিয়ে গল্প দেওয়া হয়ে ওঠেনি। তাই কিছুদিন গল্পটা রেগুলার হবে না হয়তো😢। সবাই প্লিজ ধৈর্য ধরে পাশে থাকুন। আমিও কোনো এক রাইটারের গল্প পড়ি। সো আমি জানি ওয়েট করতে কতটা খারাপ লাগে। পাঠকের দিক থেকে বিবেচনা করে আপনাদের খারাপ লাগাটা আমি বুঝতে পারছি। বাট আমার হাতে নেই যে কিচ্ছু 😥! সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ ❤।]

