#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো
(৫৪)
বিয়ের প্রস্তাবের নামে হয় বোঝাপড়া। কাকা মোটেই চাননা তখন মেয়েকে বিয়ে দিতে। যেহেতু জানতে পেরেছেন তানভীর নিজেই তোকে পছন্দ করেছে তখন কাকা এমন এমন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে যে এমন শর্ত মেনে কেউ কখনো বিয়ে করবেনা। তানভীরের পরিবার ও মানতে পারেনি। কি কি শর্ত একচুয়েলি দিয়েছে তা আমার ধারণা মাত্র যে তোকে শ্বশুড় বাড়ি তে হয়তো পাঠাবে না। বাড়ির বউ বাড়িতে থাকবেনা! ঘর জামাই থাকবে তাও আবার খান বাড়ির ছেলে! এটা কেউ এলাও করেনি। তানভীরও বুঝতে পেরেছিলো ব্যাপারটায় অনেক হ্যাসেল হবে। জল ঘোলা করে কি লাভ! ভালো লাগা কিছুদিন পরেই কেটে যাবে। তানভীর খান হ্যাভ মেনি অপশন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে যার কোন পিছুটান নেই সে কেনো ভালা লাগা নিয়ে পড়ে থাকবে? পথে ঘাটে এমন ভালো অনেককেই লাগে ভুলেও যায়। কিন্তু তোকে ভুলা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তানভীর তোকে ভুলতে পারেনি। বরং তোকে যখন ডেইলি কলেজে নিজের চোখের সামনে দেখতে লাগলো ততো উইক হয়ে গেলো। নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেললো।বলে দিলো তোকে ওর চাই। কাকার কাছে একের পর এক লোক পাঠাতে লাগলো। কাকাকে মানাতে সবাই ব্যর্থ। ব্যাপারটা ফিরোজ খানের ইগোতে লেগে গেলো। তানভীরকে কড়া ভাবে নিষেধ করলো। বড় ছেলের চিন্তা বাদ দিয়ে তানভীরকে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লাগলো। তানভীর তার জায়গা থেকে এক চুল বিন্দু নড়লো না। বিয়ে যদি করতে হয় তোকেই করবে । এক ঘন্টা যদি সে বিয়ে টিকে তাহলেও বিয়ে করবে। লোক পাঠানো বাদ দিয়ে নিজে উপস্থিত হলো কাকার কাছে। বিভিন্ন ভাবে কনভেন্স করার চেষ্টা করে গেলো। কাকা কানে নিলো না। তোকে নিয়ে শুরু হলো দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব। ইলেকশনে সর্বদা ব্যস্ত তানভীর। তোর কথা মনে হলেই চলে আসতো কাকার কাছে। হাত ধরে বসে থাকতো। তোকে চাইতো। কাকার পাশে থেকেই তোকে দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে নিলো। কাকা জানতো তানভীর কখনো তোর ক্ষতি করবেনা। হতেও দিবে না। এতে তার ই লস। তোকে ইমপ্রেস করে যে জিতে নিবে সে উপায় ও নেই। বাপ ভক্ত মেয়ে হয়েছিস।বাপের কথার এক চুল বাইরে নড়বিনা। নিজেও ঠিক করে ফেলেছিস বিয়ে টিয়ে কিছু করবিনা। ইলেকশনে দুর্দান্ত গন্ডগোল হলো। জেলে আটকা পড়লো তানভীর। যদিও আধাঘণ্টার মধ্যে বেরিয়ে এসেছে। এসব দেখে শুনে কাকা আরো জেদ করে বসলো। বেপারোয়া লিডার তানভীরের কাছে মেয়েকে কোন ভাবেই দিবেনা। তানভীরকে কখনো খারাপ ভাবে ইগনোর না করলেও এবার তানভীরকে মোটেই ছাড় দিলেন না। কড়াভাবে অপমানিত করে ছাড়লেন। হুঁশিয়ারী দিলেন,
” খবরদার আমার মেয়ের আশেপাশে আসবেনা। কোনো বেপারোয়া রাজনৈতিক লিডারের কাছে আমি কোনোদিন আমার মেয়ে বিয়ে দিবোনা। ”
তানভীর ও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়, “এক রাতের জন্য হলেও আপনার মেয়েকে আমি বিয়ে করবো। আমি ব্যতীত কেউ আপনার মেয়েকে ছুয়ার সাহস অব্দি পাবেনা। ”
এরপরে তানভীর কখনও যায়নি তোর জন্য রিকুয়েস্ট করতে। নিরবে সংঘাত চলেছে দুজনের মধ্যে। তোর সামনে কখনওই পড়েনি তানভীর। দূর থেকেই তোকে দেখে গেছে। মাঝে মাঝে যখন বুকে তীব্র যন্ত্রনা হয়েছে আমাকে সামনে বসিয়ে একেরপর এক সিগারেটের ধোঁয়া ছুড়েছে। তবুও শান্তি পায়নি। কি যে ছটফটানি! আমি সহ্য করতে পারতাম না। বাড়ি ফিরে তোর ভাবীকে বুকের মধ্যে চেপে ধরে রাখতাম। আর ভাবতাম তোর ভাবীকে যদি না পেতাম তাহলে আমিও আজ তানভীরের মতোই এক ব্যর্থ প্রেমিক হিসেবে পরিচিতি পেতাম।
আমার ধারণাই ঠিক হলো। আমিও জানতে পারলাম তোকে বিয়ের শর্ত গুলো। যখন ফাহাদের সাথে তোর বিয়ে পাকা করতে গেলাম। কাকা শর্ত বসালো, তুই কাকার কাছেই থাকবি। চাকরী করবি। সংসারের কোনো কাজে হাত লাগাতে পারবিনা। স্বাধীন লাইফ লিড করবি। তখন বুঝলাম এই শর্ত গুলোই দেওয়া হয়েছিলো ফিরোজ খানকে। তিনি সাথে সাথে রিজেক্ট করে দিয়েছেন। ফাহাদের সাথে বিয়েটা তানভীরের কাছে সুযোগ হয়ে ধরা দেয়। কৌশলে তোকে বিয়ে করে। কিন্তু কাকার সাথে তার নিরব যুদ্ধটা চুপি চুপি লেগেই আছে। বাইরে মতই সখ্যতা থাক! তানভীর সেজন্য ই চায়না তোর কাছাকাছি থাকতে। ঘরজামাই করতে চেয়েছিলো তানভীরকে এরপরেও কোন হিসেবে আসবে? যতটুকু আসা যাওয়া তোর কারণে। কাকার দিক থেকে কাকাকেও কিছু বলতে পারবোনা। একটাই মেয়ে! একমাত্র অবলম্বন। তোকে কিছুতেই আড়াল করতে চায়না। কিন্তু বাধ্য হয়ে ঠিকই পরের ঘরে তোকে তুলে দিতে হচ্ছে। কাকার দেখলাম মুখটা শুকনো হয়ে আছে। লাব্বু কাকা তোকে ভীষন ভালোবাসে। তার একমাত্র অস্তিত্ব তুই। আর তানভীর একমাত্র ভালোবাসা। এই দুজন মানুষ তোর জন্য প্রাণটাও উৎসর্গ করে দিতে পারবে। কখনো কোনদিন এই মানুষ দুজনকে কষ্ট দিবিনা। বড় হয়েছিস। নিজের সবটা দিয়ে আগলে রাখবি। তানভীর কখনোই তোকে কোন সিদ্ধান্তে বাধা দিবেনা যদি সে সিদ্ধান্ত তোর ভালোর জন্য হয়। তুই তোকে যে জায়গায় দেখতে চাস সেখানেই যেতে পারিস।তোকে কোনো কিছুতে ফোর্স করা হবেনা। ফোর্স করে কাউকে আটকানো যায়না। যদি যেতো তামিম ভাইয়ের জীবন এমন কাটতো না। ফ্লোরা তো পুলিশি হেফাজতে আছে জানিস তো? কতদিন থেকে চলছে এসব কাজ কে জানে? যাই হোক! খেয়েছিস তো? চোট লেগেছে তোর মাথায়। সেরেও গেছে প্রায়। তো এমন দুর্বল দেখাচ্ছে কেন?”
“ব্যান্ডেজ খুলে আনবো ভাইয়া। যাবে?”
” খেয়ে আসছি। আমার আজ ঠিকমতো ব্রকফাস্ট করা হয়নি।”
লাবিবার ব্যান্ডেজ খুলে কবির জিপ ঘুরিয়ে তানভীরের বাড়ির দিকে টার্ন নেয়। লাবিবাকে বলে,
” তানভীরের লাগেজটা দিয়ে আসছি। তোরটা তো তুই পেয়ে গেছিস। ”
” হু।”
তানভীরের লাগেজ টা লাবিবা নিজেই নিয়ে রুমে যায়। সাজানো গোছানো রুম।যে রুমে কাটিয়েছে সে একটা রাত। এই বিছানায় ঘুমিয়েছে দুবার। লাবিবা লাগেজটা আলমারির সামনে রেখে বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসলো। চোখ বন্ধ করে দুবার শ্বাস ছাড়লো। তার ভেতরে কি হচ্ছে একমাত্র সেই জানে। অন্য কেউ তা আঁচ করতে পারবে না। লাবিবা হুট করেই তানভীরের আলমারি খুললো। হ্যাঙারে টানানো একটা শার্ট নিয়ে বুকের উপর চেপে ধরলো। অশান্ত মনটা শান্ত করতে গিয়ে আরো অশান্ত হয়ে উঠলো। শার্টে পাওয়া তানভীরের শরীরের ঘ্রাণ লাবিবাকে পাগল করে তুললো। লাবিবা মিররে তাকালো। ঘাড় বাকালে দেখা যায় পেছন দিকে শুধু ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ আছে। পুরো মাথার ব্যান্ডেজ খুলে নিয়ে এসেছে হসপিটাল থেকে। ঔষধ ও চেঞ্জ করে দিয়েছে। ফ্যাকাশে মুখটা অন্যরকম লাগছে। এমন কখনো লাগেনি। মিশ্র এক অনুভূতি লাবিবাকে ঘিরে ধরেছে। কার কাছে আগলাবে এই অনুভূতি গুলো? লাবিবার সকল অনুভুতি একটা জিনিসই আগলে রাখে। সে হলো ডায়েরি। একটু খারাপ লাগলে সেটা লিখে রাখে। একটু ভালো লাগলেও লিখে রাখে। স্পেশাল কিছু হলে তো স্পেশাল ভাবেই লিখে। তানভীর লেখেনা? প্রশ্নটা মনে আসতেই লাবিবা ধীরে ধীরে আলমারি তে চোখ বুলালো। বন্ধ করে পুরো রুমে চোখ বুলালো। কোথাও কোনো ডায়েরি নেই। তানভীর কি ডায়েরি লিখে না? নাই লিখতে পারে। এতো বিজি মানুষ টা ডায়েরি লেখার সময় আছে? শখ ও তো থাকতে পারে। তাই বলে তাকে নিয়ে কিছুই লিখবে না? দরকার টাই বা কি লেখার? মাথায় বিভিন্ন রকম কথা ভাবতে লাগলো কিন্ত হাত চললো। লাবিবা কি মনে করে ম্যাট্রিক্সের নিচেও দেখলো। কোথাও কোনো ডায়েরি নেই। ড্রয়ার গুলো খুলে খুলে দেখলো। অধিকাংশ ড্রয়ার লক করা। খুঁজে খুঁজে আলমারির উপর থেকে চাবি পেয়ে ড্রয়ারগুলো খুলে দেখতে লাগলো। ফাইলের উপর ফাইল। লাবিবা খুব সাবধানে ফাইলের মাঝে খুজতে লাগলো। ছোট খাটো একটা ডায়েরি তো পাবে। সেটাও পেলো না। যা পেলো মাঝারি বড় সাইজের দুটো জার্নাল। লাবিবা অবাক হয়ে গেলো। মানুষটা জার্নালও মেক করতে পারে! এতো গুণী তাকে কে হতে বলেছিল? পৃথিবীর সব থেকে বড় গুণটাই সে রপ্ত করে নিয়েছে। ধৈর্য্য। লাবিবার এতো ধৈর্য্য থাকা সত্ত্বেও কখনো কখনো বাঁধ ভেঙে যায়। এই মানুষটা এতো স্ট্রং কিভাবে? লাবিবা একটা জার্নাল খুলে হা করে তাকিয়ে থাকলো। এতো সুন্দর করে করা হয়েছে। তানভীরের অনেক ছবি। লাবিবা খুঁজতে লাগলো সে কোথায়? আদৌ কি আছে? অপর একটি জার্নালে তাকে খুঁজে পেলো। তাঁদের বিয়ের ছবি এটা। তানভীর আর সে একসাথে বসে। লাবিবার বুকটা ধুক করে উঠলো। অপলক তাকিয়ে থাকলো ছবিটির দিকে।
” লাবিবা? ফ্লোরে বসে কি করছো?”
সোহানার গলা পেয়ে ঝটপ লাবিবা হাতের জার্নালটা রেখে অপরটা ড্রয়ারে লক করে সোহানার সামনে এসে দাঁড়ালো। ” মামুনী। কিছুনা। এই বুকটাই নিচ্ছিলাম। ”
” ও আচ্ছা। ফ্লোরে বসবেনা। পেছন ঘুরো দেখি মাথার কি অবস্থা?”
” শুকিয়ে যাবে মামনী। ”
” কতটুকু জায়গা চুল থাকবেনা! ইসস। শোনো বিয়েতে উপরের চুল গুলো দিয়ে মেকাপ করে নিবে। ”
” এমনিতেও বোঝা যায়না মামনী। ভাইয়া কোথায়?”
” নিচে তোমার জন্য ওয়েট করছে। ”
” তোমার ছেলে এখনো আসেনি না?”
” ওরে আমার মা টা আজকেই বাবা চলে আসবে। তুমি শুধু শুধু টেনশন করোনা।”
বাড়ি ফিরে দেখে টুকটাক আত্বীয় স্বজন আসতে শুরু করেছে। লাবিবা এদের আবার বেশিরভাগ ই চিনে না। লাবিবা ফিরতেই সাবিনা এগিয়ে এলো। প্রশ্ন করলো,
” ডাক্তার কি বললো? দেখি ঘুরে দাঁড়াও তো।”
লাবিবা বুঝেনা কি দেখবে এরা? সাবিনার চিন্তিত অস্থির মুখটা দেখে লাবিবা বুকে মাথা রেখে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। সাবিনা আরো চিন্তিত হলো।
” শরীর খারাপ করছে লাবিমা?”
” আব্বু কোথায়?”
” কমিউনিটি সেন্টারে গেছে। সব কিছু তো আর ও বাড়ির উপর চাপিয়ে দেওয়া যায়না।”
” আম্মু আমাকে ছাড়া থাকতে তোমাদের খুব কষ্ট হবে তাইনা?”
” রুমে যাও।ফ্রেশ হও। ”
” কতটুকু কষ্ট হবে বলোনা। ”
“লাবিমা ছাড়ো তো কাজ আছে আমার।”
” আমার সাথে তোমরা কেনো ওমন করো আম্মু?”
সাবিনার চোখে জল চলে আসে। মা সে। শক্ত হতে হবে। লাবিবার সামনে আর কাঁদা চলবেনা।
” মা হও তারপর নিজেই বুঝে নিতে পারবে। মায়েদের কতটুকু কষ্ট। ”
” আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আম্মু। আমার আব্বু আমাকে ছাড়া কিভাবে থাকবে? আমার আব্বু তো সেদিন রাতে কাদছিলো। আমি বুঝতে পারিনি। একদমি বুঝতে পারিনি আব্বুর কষ্টটা।”
” এতো চেষ্টা করেও তো তোমাকে রাখতে পারলাম না মা। মেয়েদের জম্মই হয় পরের ঘরকে নিজের ঘর করে নেবার জন্য। নিজের ঘর হয় পর। তোমার পর বলতে কোন কিছু নেই মা। সবই তোমার। সবাই তোমার। তোমাকে নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই মা। তানভীর তোমাকে আমাদের চেয়েও বেশি বেশি ভালো রাখবে। আমাদের যখন ইচ্ছা তখন তোমাকে দেখতে চলে যাব। তুমি চলে আসবে মন চাইলেই। শহরের বাড়িটা হয়ে গেলে একদমই কাছাকাছি থাকবো আমরা। মা রে সন্তান যত দূরেই যাক সে কখনো বাবা মার থেকে আলাদা হয়না। ”
মা মেয়ে মিলে অনেক কান্নাকাটি করলো। রাতে লাবিবাকে জোর করে ধরে খাওয়ানো হলো। মেডিসিন নিতে হবে। খালি পেটে থাকা যাবে না। একদিকে বাবা মাকে ছেড়ে যেতে হবে আরেকদিকে তানভীরকে ভেবে ভেতরে ভেতরে ছটফট করলো লাবিবা। ফজরের নামাজ আদায় করে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। এখনো অন্ধকার ছাড়েনি। তখন ই ফোন বেজে উঠলো। লাবিবার রুমে কাজিনরা ও আছে। আবেগের বসে আপুর সাথে থেকেছে আজ। লাবিবা দৌড়ে এসে ফোন তুললো। শব্দে ওদের ঘুম ভেঙে যেতে পারে। অন্তুর ঘুম একদমই পাতলা। স্কিনে ভেসে উঠলো খান সাহেব! এতো ভোরে! লাবিবার বুক জোরে উঠানামা করতে লাগলো। তিনি কি ফিরেছেন? কাঁপা কাঁপা হাতে রিসিভ করে কানে তুললো।
” হ্যালো। ”
” সরি জান।”
লাবিবা ফুঁপিয়ে উঠলো। অসংখ্য বার জান বলে সম্বোধন করেছে লাবিবাকে। আজকের মতো শান্তি মেলেনি। লাবিবা আজ জানে এটা মিথ্যে নয়। কোনো আদরের ডাক ও নয়। লাবিবা সত্যিই তানভীরের জান। লাবিবাকে চুপ থাকতে দেখে তানভীর বলে,
” আই প্রমিজ য়্যু, তোমাকে নিয়ে এক বিকালে হাত ধরে হাটবো। নব প্রেমিক প্রেমিকার মতো অনুভূতি কুড়াবো। দশটাকার বাদামের ঠোঙা, এক প্লেট ফুচকা সেটাও ভাগ করে নিবো। তোমার সাথে আমার বহুসময় বহুপথ অতিবাহিত করা অনেক বাকি। ভোরের সূর্যদ্বয় একসাথে উপভোগ করতে চাই। চলে এসো। আমি আছি নদীর তীরে তোমার অপেক্ষায়। ”
লাবিবা দৌড়ে এসে অন্তুর গায়ের নিচ থেকে উড়না টেনে নিলো। গায়ে পেঁচিয়ে নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হু হু করে কেঁদে দিলো। ঝটপট চোখ মুছে চুলগুলো এক করে কাটা লাগালো। ফোনের ফ্ল্যাশ দিয়ে ড্রয়িং রুমে নামাজ অবস্থায় মহিলাদের পাস করে বেরিয়ে পড়লো।
নদীর কাছাকাছি যেতেই দূর থেকে গাড়ির লাইট চোখে পড়লো। লাবিবা সেদিকেই দৌড় দিলো। গাড়ির সামনে ধীরে ধীরে এক অবয়ব সচ্ছ হতে লাগলো। কালো প্যান্ট সাদা শার্টে দাঁড়িয়ে আছে তানভীর। লাবিবার দিকে এগিয়ে এলো। লাবিবা চোখ বন্ধ করে ঝাপিয়ে পড়লো তানভীরের বুকে। তানভীর তাল সামলাতে না পেরে দু পা পিছিয়ে গিয়ে গাড়ির বনেটে হাত রেখে ব্যালেন্স করলো। তানভীরকে জড়িয়ে ধরেই লাবিবা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। আচমকা এমন করাতে তানভীর ভড়কে গেলো। কপালের রগ ফুলে উঠলো। লাবিবার পিঠে হাত রেখে ঝাকালো।
” জান? কাঁদছো কেন? জান? কি হয়েছে বলো? আমি সরি তো না বলে গিয়েছি আর হবেনা এমনটা। জান? কি হয়েছে বলো। ”
লাবিবা থামলো না। অনেকক্ষন জিজ্ঞেস করার পর কাঁদতে কাঁদতেই বললো, “আমি তো একটু ভালোবাসতেই আপনার জন্য পাগল হয়ে যাই। আপনি কি করে পারলেন এতো গুলো বছর থাকতে আমাকে ছাড়া? ”
লাবিবার কথা শুনে তানভীরের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। অপ্রস্তুতভাবে এদিক সেদিক তাকালো। বাবা মা ভাইয়ের পর তার কষ্টে কাঁদার মতো আরেকজনকে পেলো যে তার বউ ,লাবিবা। আর একবারো লাবিবাকে কিছু জিজ্ঞেস করলো না। লাবিবাকে কাঁদতে নিষেধ ও করলোনা। এ কান্না তানভীরের কথায় থামবে না।
চলবে ___

