প্রেমের_প্রদীপ_জ্বলে [২৩] প্রভা আফরিন

0
220

প্রেমের_প্রদীপ_জ্বলে [২৩]
প্রভা আফরিন

কালো বিএমডব্লিউ গাড়িটা ব্যস্ত সড়কে উদ্দামতা ছড়িয়ে ছুটছে। নির্জীব ধুলোবালি পিচঢালা পথ ছেড়ে শূন্যে উড়ে পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে বাতাসের ধাক্কায়। ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা গম্ভীর পুরুষটির পোড় খাওয়া দক্ষ হাত স্টিয়ারিং আকড়ে ধরে আছে দৃঢ়ভাবে। দুটি চোখ একবার পথে, একবার ফোনে চঞ্চলভাবে ছুটছে৷ অপরপাশে ফোন বাজছে কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না। নিশান্তের ভারিক্কি মেজাজটা এবার ভালোমতো খিচড়ে গেল। ডান হাতে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে বাম হাতে ফোনের ডায়াল লিস্টে স্ক্রল করে একটি নম্বর খুঁজল। আধ মিনিটের মাঝেই ফোন বাজল শেখ বাড়িতে। রিসিভ করলেন তানি খালা। নিশান্ত ধীরস্থির স্বরে কৌশলে জানতে চাইল,
“খালা, আপনাদের বাড়ি থেকে কোনো গাড়ি বেরিয়েছে আজ? ড্রাইভার কি বাড়িতে আছে?”

তানি খালা প্রশ্নের হেতু বুঝলেন না। বললেন, “তাহের ভাই তো গাড়ি লইয়া যাবীন আম্মারে আনতে গেছে অনেকক্ষণ আগে।”

নিশান্তের পথে নিবিষ্ট চোখজোড়ায় বিদ্যুৎ খেলে গেল। বলল, “তাহের চাচার ফোন নম্বরটা দিতে পারেন আমাকে? শাওনকে বলুন জেনে আমাকে ম্যাসেজ করে দিতে। কুইক!”

ম্যাসেজ এলো পাঁচ মিনিটের মাথায়। নিশান্ত শেখ বাড়ির ড্রাইভার তাহেরকে কল করতেই প্রথমবারে রিসিভ হলো। তাহের মিয়া বেশ বিরক্তি নিয়ে বলল, “হ্যালো! ক্যাডা?”

“চাচা, আমি নিশান্ত৷ আপনি এই মুহূর্তে কোথায় আছেন?”

“আমি তো গাড়ি সার্ভিসিং করাইতে আইছি। গাড়িডা মাঝপথে খারাপ হইয়া গেছে। ইস্টার্ট নেয় না।”

“মেহযাবীন কোথায়?”

“ম্যাডাম তো গেছেগা। গাড়িত উইঠ্যা দেখে ইস্টার্ট নেয় না। হেরপরেই নাইম্যা গেছে।”

“চমৎকার!” এই শব্দটাই প্রহসনরূপে ছিটকে এলো গম্ভীর কণ্ঠনালী হতে৷ অনন্ত তাকে পৌঁছে দিতে গেল না, আবার গাড়িটাও তখনই খারাপ হলো। ভাগ্য কী খুব কৌশলে মেয়েটিকে বিপদে ফেলতেই মরিয়া! বিধির বিধান হলে খণ্ডানোর সাধ্য কার! নিশান্ত ফোন কেটে যাবীনের বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাড়ি ফেরার রোডটা ধরল। উষ্ণ নিশ্বাস ত্যাগ করে ফুঁসে ওঠা চিন্তাগ্রস্ত মস্তিষ্ককে সামলালো। মাঝে একবার সিগন্যালে আটকা পড়েও অনবরত ফোন করে গেল। ফোন বাজছেও। কিন্তু কেউ তুলছে না। স্নায়বিক চাপে দেহের প্রতিটি রক্তকণিকা অস্থির হয়ে উঠছে। এর মাঝেই ডায়াল লিস্টে আবারো হাতড়ে বেরিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ নম্বরে ফোন করল সে। তড়িৎ কিছু তথ্য দিয়ে মেহযাবীনের মুঠোফোনের লোকেশন ট্র‍্যাক করে তার ডিভাইসের সঙ্গে কানেক্ট করতে বলল। কল কাটার কিছুক্ষণ বাদেই ওর এন্ড্রয়েড সেটটা বিপ করে উঠল। নিশান্ত শিকারী বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে দেখল মেহযাবীনের লোকেশন তার ধানমণ্ডির বাড়ির দিকেই ছুটছে। নিশান্ত তার কিছু দূরেই আছে৷ এবার স্পিড বাড়ল গাড়ির। যেন অদৃশ্য কিছু ধাওয়া করছে সে। ছুটতে ছুটতে যখন শেখ বাড়ির বিশাল লোহার ফটকের সামনে গিয়ে তার পোশা প্রাণীয় ন্যায় আদুরে গাড়িটা থামল। ক্ষুব্ধ চোখে দেখতে পেল শেখ বাড়ির ড্রাইভ ওয়েতে রেঞ্জ রোভার গাড়িটা বেশ দম্ভ নিয়েই পদার্পণ করেছে। গাড়ির ডানদিক থেকে একটি অতিশয় সুদর্শন পুরুষ নামল। তার চোখে সানগ্লাস, ঠোঁটে আন্তরিকতা মাখা হাসি। গাড়ির সামনে দিয়ে ঘুরে এসে পুরুষটি থামল বাঁ দিকে ডোরের সামনে। দরজা খুলে দিতেই বেগুনি রঙা মসলিন শাড়ির কুচি সামলে নেমে এলো সাদা হিলজোড়া। নিশান্তের দু-পাটি দাঁত একে অপরের সঙ্গে শক্ত হয়ে চেপে বসল। পেশিবহুল মুঠোয় থাকা স্টিয়ারিংটা তার হাতের তীব্র চাপ সইছে। এই মেয়ে তো বহাল তবিয়তেই আছে। হাসিমুখে আরেক পুরুষের সঙ্গে পা ফেলে ভেতরে যাচ্ছে। অথচ তার ফোনটা একবারও তুলল না! বিগত কুড়ি মিনিটে নিশান্ত কী কী করেছে সেই আন্দাজ এই রমনীর আছে? এই কাণ্ডজ্ঞানহীনতায় মেহযাবীনের পেলব গাল তার বলিষ্ঠ হাতের থাবায় পিষ্ট করতে চাওয়া কি খুব দোষের হবে! নিশান্তেত লজিক এমন ভাবনায় মোটেও দোষ দেখে না।

ক্ষোভটা অন্তরে কয়েক দফায় ফুঁসে থামতেই সৌম্যদর্শন পুরুষটি এবার ভাবনার দুয়ারে টোকা দিলো। ড্রাইভ ওয়ে ধরে এগিয়ে গেলো নিশান্তের গাড়িটা। পিঠ উঁচিয়ে মালিকের শৌখিনতা প্রকাশ করা রেঞ্জ রোভারের পেছনেই নিজের গাড়িটা পার্ক করে নামল সে। দৃপ্ত কদমে সদর দরজা ছুঁতে বেশিক্ষণ সময় লাগল না। বসার ঘরে তখন নতুন অতিথির সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন সুমা।

সুমার কপালে গাঢ় ভাজ। ছেলেটিকে আগেও দেখেছেন তিনি। কোথায় সেটা মনে পড়ছে না। আগন্তুক ছেলেটি যেন সে কথা ধরতে পেরেই সহাস্যে জবাব দিলো,
“আন্টি আমি মাহির। জাহিদ সুফির বড়ো ছেলে মাহির মোহাম্মদ সুফি।”

“সুফি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার জাহিদ সুফি?”
আপনাতেই বেরিয়ে এলো সুমার মুখ হতে। মাহির মাথা নেড়ে সায় দিলো। কৈশোরে জাওয়াদের সঙ্গেই পড়েছে সে। এ বাড়িতে এসেছিল দুয়েকবার। সেই ছেলেকে এতদিন বাদে দেখে সহসাই চিনতে পারেননি সুমা। জাওয়াদের বন্ধু হিসেবেই আন্তরিক এক হাসি ফুটল উনার ঠোঁটে।

নিশান্ত নিঃশব্দে তখন বসার ঘরে পা দিয়েছে। কানটা মাহির সুফি ও সুমার কথোপকথনে সজাগ হলেও দৃষ্টি সিড়িমুখে দাঁড়িয়ে থাকা মাখন রঙা ত্বকের মেয়েটির দিকেই। মেহযাবীন নিশান্তের উপস্থিতি বুঝে দৃষ্টি ফেরাতেই থতমত খেয়ে গেল। এই লোক এমন শিকারী চোখে তাকে দেখছে কেন? যেন ক্রিমিনাল হাতের নাগালে পেয়েছে! এখনই কোমরের কাছ হতে পি’স্তলটা বের করে ওর মাথা বরাবর শ্যুট করবে!

মাহির সুফির বলে চলেছে, “মেহযাবীনের ভার্সিটির সামনে দিয়েই যাচ্ছিলাম। বেচারি গাড়ি নষ্ট দেখে লোকাল ট্রান্সপোর্ট ধরতে দাঁড়িয়ে ছিল। আমিই পৌঁছে দিয়ে গেলাম। শুনলাম আংকেল অসুস্থ! তাই দেখা করতে আসা।”

সুমা আন্তরিক স্বরে ধন্যবাদ দিলেন। জানালেন সুলতান শেখ ঘরে বিশ্রাম করছেন। মাহির তাই আর দেখা করতে চাইলো না। নিশান্ত তখনই জলদগম্ভীর স্বরে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে ডাকল, “মেহযাবীন?”

“হু?” ভারিক্কি কণ্ঠের বিপরীতে কোমল স্বরে প্রত্যুত্তর করল সে।

“তোমার ফোন কোথায়?” একই কঠোর স্বর নিশান্তের। দৃষ্টিতে সকালের সাক্ষাতের সেই নমনীয়তা বিলুপ্ত।

মেহযাবীন তার লেদারের ভ্যানিটি ব্যাগ হাতরে ফোনটা বের করতেই নিশান্তের কণ্ঠ পুনরায় আওড়াল, “কতবার ফোন করেছি?”

মেহযাবীন লক স্ত্রিনে মিসড কল সংখ্যা দেখে তরাক করে পুনরায় সম্মুখের তীক্ষ্ণ চোখদুটোর দিকে চাইল। বিস্ময়ের সঙ্গে বলল, “এতবার ফোন করেছেন! কেন? কোনো দরকারে?”

জবাবে একটা বিষাক্ত খোঁচা দিতে ইচ্ছে হলো নিশান্তের। সুমা আন্টির উপস্থিতি তাকে নিবৃত্ত করল। সুমা বললেন, “কিছু কী হয়েছে, নিশান্ত?”

নিশান্ত এবার কঠোরতা চাপা দিলো। নির্বিকার কণ্ঠে বলল, “অনন্তের ওকে পৌঁছে দেবার কথা ছিল। শুনলাম অনন্ত স্টেডিয়ামে গেছে ফুটবল খেলতে। ড্রাইভারের থেকে জানলাম গাড়িটাও নষ্ট হয়েছে। তাই ও ঠিকঠাক পৌঁছেছে কিনা জানতেই কল করা।”

শুধু এ কারণেই পঁচিশটা মিসড কল! বিশ্বাস হতে চাইল না যাবীনের। তাই জন্যই কি এমন ধারালো দৃষ্টিতে ফালা ফালা করে দিতে চাইছে ওকে! তার ফেরা নিয়ে কেউ চিন্তিত হয়েছিল বলেই কিনা একটা কৈফিয়ত জমা হলো যাবীনের ঠোঁটের অগ্রভাগে,
“ক্লাসে ঢুকে সাইলেন্ট করেছিলাম। এরপর আর খেয়াল করিনি।”

জবাবে লৌহকঠিন মানবটি যে তুষ্ট হলো না সে আর বলার অপেক্ষা রাখল না। বোধহয় মনে মনে তাকে কাণ্ডজ্ঞানহীন সহ ভয়ানক কিছু তকমা উপহার দিয়ে দিয়েছে।

মাহির ভ্রুকুটি করে বলিষ্ঠ দেহের, লম্বাটে উচ্চতার তামাটে পুরুষটির দিকে। এই পুরুষটির ব্যক্তিত্বের ধার সে কিছুক্ষণের মাঝেই অনুমান করে ফেলেছে। কিছুটা কৌতুহলী হয়েই মেহযাবীনকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করল,
“তোমার ফেরা নিয়ে সবাই খুব কনসার্ন দেখি, মিহা? কী হয়েছে?”

যাবীন অস্বস্তিতে পড়ল। তাকে মিহা বলে ডাকে শুধু বাবা, মা আর ভাইয়া। এছাড়া পুরো পৃথিবীর কাছে সে মেহযাবীন ও আত্মীয় পরিজনের কাছে ছোটো করে যাবীন হিসেবেই সমাদৃত। সেখানে মাহির শুরু থেকেই তার একান্ত ব্যক্তিগত নামটি ধরে ডাকছে। বোধহয় ভাইয়ার বন্ধু বলেই তার অনুকরণে মিহা বলে ডাকছে। তাছাড়া হুট করে গাড়ি নষ্ট হওয়ায় মেহযাবীন যখন অন্য কোনো উপায় খুঁজছিল বাড়ি ফিরতে তখন মাহির গাড়ি থামিয়ে ওকে ড্রপ করে দিতে চাইলে বড্ড বিব্রত হয়ে পড়েছিল সে। ভাইয়ার বন্ধু বলে সৌজন্যতা দেখাতে হচ্ছিল আবার কঠোরভাবে নিষেধও করতে পারছিল না। অবশেষে মাহিরের এইটুকু সেবা সে নিল। সেই সঙ্গে এ-ও বুঝতে অসুবিধা হয়নি একজোড়া মুগ্ধ দৃষ্টি সারাপথ ওর সঙ্গে লেগে ছিল।

এদিকে তাকে মিহা বলে ডাকাটা আরেকটি কানেও বেশ বিঁধল। অন্যদের সামনে ভেতরকার কোনো ঝামেলার আঁচ যেন প্রকাশ না পায় তাই চতুরতার সঙ্গে নিশান্তই জবাব দিলো,
“আংকেলের অসুস্থতায় মেহযাবীন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আজ একটা গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ক্লাস ছিল বলে সেটা এটেন্ড করতে হয়েছে। ঠিকঠাক ফিরল কিনা সেটার ইনফরমেশন নেওয়ার প্রয়োজন ছিল।”

কথাটা যে মাহিরের কাছে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য হয়নি সেটা নিশান্তের অভিজ্ঞ চোখ বুঝে ফেলল অনায়াসে। শুধু এই কারণেই একটা পুরুষ এভাবে ছুটে আসবে! মাহির সে দ্বিধা মনে চেপেই উদ্বেগের সঙ্গে বলল,
“তুমি অসুস্থ? আসার পথে একবারও বললে না। বুঝতেও পারলাম না।”

“বুঝলে কী করতেন?” প্রশ্নটা না করে পারল না নিশান্ত। মেহযাবীনের প্রতি ব্যক্তিটার অতিরিক্ত এটেনশন দেওয়াটা সহজ চোখেই বোঝা যাচ্ছে।

মাহির থতমত খেয়ে গেছে সে প্রশ্নে। জবাব তৈরি করার আগেই নিশান্ত ফট করেই কথাটা বলে ফেলল,
“মেকআপের গুণ। মেকআপের গুণ দিয়েই আজকাল সত্যিটা অনায়াসে ঢাকা যায়। সেটা হোক চরিত্র, ঘটনা কিংবা চেহারা। তাই চেহারা দেখে অসুস্থতা টের পাননি।”

কথাটার মাঝে সুক্ষ্ম কোন ইঙ্গিতটা ছিল স্পষ্ট বুঝল না কেউ। তবে মেহযাবীনের গায়ে জ্বালা ধরল। ধীর পায়ে এগিয়ে এসে নিশান্তের নিকটে দাঁড়িয়ে চাপা ক্ষোভিত গলায় বলল, “আপনি বলতে চাইছেন আমি মেকআপ ছাড়া অসুন্দর?”

“মেকআপ দিয়েও যে সুন্দর সেটাই বা কবে বললাম?” একই চাপা স্বরে জবাব দিলো নিশান্ত।

মেহযাবীন আহত চোখে চেয়ে রইল। যেন ক্ষুদ্র এই জীবনে প্রথমবার কেউ তার সৌন্দর্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করল। নাকের উপরিভাগ বিরক্তির ভঙ্গিতে কুচকে গেল সঙ্গে সঙ্গে।

ওদের এই নৈকট্য মাহির নিগূঢ় চোখে পরখ করল যেন। লোকটির সঙ্গে পরিচিত হবার জন্যই এগিয়ে এসে মুখোমুখি দাঁড়ায়। হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে, “আমি মাহির মোহাম্মদ সুফি। সুফি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারপার্সন। আপনার পরিচয়টা মিস্টার?”

নিশান্ত অবলীলায় তার শক্ত হাতের তালু ও অ’স্ত্র ধরে অভ্যস্ত কড়া পড়া আঙুলগুলো দিয়ে মাহিরের হাত চেপে ধরল। সংক্ষেপে বলল,
“নাফিউন আজাদ নিশান্ত। আপাতত আমার পরিচয় জাওয়াদ শেখের সম্বন্ধি৷ আপনার বন্ধু আমার ভগ্নিপতি।”

সুমা মাহিরকে অনুরোধ করেছিলেন বসে চা-নাশতা গ্রহণ করতে৷ জাওয়াদ যেহেতু সারারাতের ধকল সেরে দুপুরের পর ঘুমিয়েছে তাকে আর ডাকতে নিষেধ করল মাহির। সুলতান শেখও তখন বিশ্রাম করছেন বলে মাহির আর কারো সঙ্গে দেখা না করেই প্রস্থান করল। যাওয়ার আগে সুন্দর করে হেসে যাবীনকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“তোমার সুস্থতা কামনা করি। ভালো থেকো। আবার দেখা হবে।”

শেষ কথাটা এমনই জোর দিয়ে বলল যেন দেখা হওয়াটা অবধারিত। নিশান্ত এই ভাব বিনিময়কে কটাক্ষের দৃষ্টিতে দেখল। ড্রাইভার তাহের বাড়িতে ফিরল তখনই। গাড়ির সার্ভিসিং চার্জ দেওয়ার টাকা নেই তার কাছে। মালিকের কাছ থেকে সেটা নিয়ে যেতেই আসা। নিশান্ত কৌতুহলে তাকে জিজ্ঞেস করল, “গাড়িটা হঠাৎ নষ্ট হলো কীভাবে?”

তাহের মিয়া বলল, “আমিও তো কিছুই বুঝলাম না, স্যার। কয়দিন আগেই বড়ো স্যার সব গাড়ির কলকব্জা চেক দিয়া রাখছে। ম্যাডামরে আনতে গেলাম ভালো গাড়িটা নিয়া। পার্কিংয়ে থুইয়া এক কাপ চা খাইতে গেছিলাম। আহনের পরে আর ইস্টার্ট নেয় না।”

নিশান্তের রুক্ষ মুখশ্রী ভাবনাগ্রস্ততায় ছেয়ে গেল। হুট করে গাড়ি নষ্ট হওয়া, যাবীনকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়াটা কারো ঠান্ডা মস্তিষ্কের সফল ভাবনা হতেই পারে! নাকি সন্দেহবাতিক মনটা একটু বেশিই ভেবে ফেলছে এবার! প্রেমের ফাঁদ পাতা ভূবনে কেউ হয়তো রূপবতী নারীর নৈকট্য পেতেই এত ছলাকলা কষছে! তাতে ক্ষতিটা আসলে কার হচ্ছে?

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here