প্রেমের_প্রদীপ_জ্বলে [২৭] প্রভা আফরিন

0
215

প্রেমের_প্রদীপ_জ্বলে [২৭]
প্রভা আফরিন

প্রিমিয়াম ব্ল্যাক কফির সুবাসে পুরুষালি আলাপটা যেন আরেকটু গম্ভীরতা পেয়েছে। ধোঁয়া ওঠা সিরামিকের কালো কাপের মতোই রহস্য বিরাজ করছে দুজনের চোখে। একজনের নরম দৃষ্টি ছেয়ে আছে রহস্যময় উদ্বেগে। আরেকজনের তীক্ষ্ণ অনুসন্ধানী চোখে জানার দুর্নিবার আগ্রহ। জাওয়াদ জানে তার সামনে বসা ব্যাচের সবচেয়ে চৌকস আর্মি অফিসারটি একবার রহস্যের গন্ধ পেলে ক্ষুদার্ত বিড়ালের মতো শুকে শুকে মূলে পৌঁছাবে। শুধু পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার জন্যই নয়, বোন ও তার শ্বশুরবাড়ির নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই। তেমনই নিশান্তও জানে জাওয়াদের মতো শুদ্ধ পুরুষের দ্বারা কোনো ভয়ংকর অন্যায় হওয়া সম্ভব নয়। সে নার্ভ দেখেই সাহস ঠাহর করতে জানে। এতসব সাধারণ সমীকরণের মাঝেও কিছু গড়বড় দেখা দিয়েছে। কারণটা যে শুধু এক শাওনের এক্সের ওপর আটকে নেই তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এখন তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সকালের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়। যা জাওয়াদকে আরেকদফা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত করেছে। তার বাবা অসুস্থ। এমন সময় কেউ জেনেবুঝেই একটা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়াতে চেয়েছে। যদি নিশান্ত আজ অভ্যাসের গড়মিল করে ওদের বাড়ির দিকে না আসত! এই যে বিয়ের শপিংয়ের আমেজ, সেটা কি হসপিটালের কড়া গন্ধের আবহে পরিনত হতো না? জাওয়াদ প্রশ্ন করল,
“কিছু উদ্ধার করতে পারলি?”

নিশান্ত নিরেট স্বরে বলল, “ফোনেই বলেছি ছেলেগুলো মাদকাসক্ত। সারারাত আড্ডায় বসে বাংলা পানি এবং গাঁজার স্টিক টানে আর জুয়া খেলে। জুয়া আর নেশার টাকা জোটাতে এরা চুরি-ছিনতাই করে। এদের ম্যানিপুলেট করা ইজি। জুয়া খেলতে আসা আরেক মাতালের সঙ্গে বাজি ধরে ওরা এসেছিল বাজি ফাটাতে। বাজিতে জিতলে দশ হাজার টাকা পাবে। সাথে এক কার্টুন স্টিক। সেই লোভেই ছুটে এসেছিল সাত সকালে অনর্থ করতে। বেকায়দায় পড়ে গেল আমার হাতে পড়ে।”

জাওয়াদ কপালে সুক্ষ্ম ভাজ ফেলে বলল, “বাজিটা ধরল কার সঙ্গে?”

“পরিচয় উদ্ধার হয়নি। তবে কোনো জাতে মাতাল তালে ঠিক ব্যক্তির দ্বারাই পরোক্ষভাবে ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছিল। এদের আস্তানা ও সেখানে গতরাত অবধি কাদের আনাগোনা আছে সেসবের ব্যাপারে খোঁজ লাগিয়েছি।”

“আমিনও তো বর্তমানে একই শ্রেণির। সে-ই ঘটাতে পারে।”

নিশান্ত ঠান্ডা গলায় বলল, “আমিনও একই শ্রেণির। তাই এই ঘটনা ঘটাতে হলে তাকে একশবার সাহস সঞ্চয় করতে হবে। বাজি ধরার মতো অর্থের যোগান থাকতে হবে। তাছাড়া তোর বাবার অসুস্থতার ফায়দা নিয়ে আমিনের কোনো লাভ আমি দেখি না। তবে ওকেই মেইন সাসপেক্ট রেখেছি এখনো পর্যন্ত।”

জাওয়াদ কোনো জবাব দিতে পারল না। তার সুস্থির বেশের মাঝে কোনো অপ্রস্তুতভাবে নেই। কিন্তু চোখের মণির চঞ্চলতা নিশান্তের তীক্ষ্ণ চোখ এড়াতে পারে না। নিশান্ত কাচের টেবিলে দুই কনুই ভর করে হাতের আঙুল একত্রিত করে তাতে থুতনি ঠেকিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“তোর মেইন সাসপেক্ট কে, জাওয়াদ?”

জাওয়াদ বিব্রতভাব আড়াল করতে চেষ্টা করে। নিশান্ত পুনরায় বলে, “যদি তোর মনে হয় তুই এই ম্যাটারটা হ্যান্ডেল করতে এফিশিয়েন্ট, দ্যান আমি তোকে প্রেশারাইজ করব না। বাট ইফ ইউ আর নট, দ্যান ইউ হ্যাভ টু কো-অপারেট উইথ মি।”

জাওয়াদের মাঝে কেমন হাল ছেড়ে দেওয়ার একটা একটা হতাশা দেখা গেল। সে চেয়ারে গা ছেড়ে বসে বলল,
“আই এম ইন আ ভেরি ডার্টি ট্র‍্যাপ, নিশান্ত। আমি, আমার বিজনেস, সম্মান সব বাজেভাবে ফেঁসে গেছে…। আমাকে আমার পরিবারকে রক্ষা করতে হবে। সেটা যেকোনো মূল্যে হোক। আবার আমি ওদের কাছে হার মেনে নতও হবো না। সেটাও যেকোনো মূল্যে।”

নিশান্ত খেয়াল করল জাওয়াদের চোখে একইসঙ্গে উদ্বেগ ও জেদ বিরাজ করছে। সে হারবে না। কোনোকিছুর বিনিময়ে আপোস করবে না।
___________

টুং করে ম্যাসেজ নোটিফিকেশন বাজতেই মেহযাবীনের চোখে কৌতুহল উদিত হলো। সে কাউকে জানায়নি কিছুদিন ধরে মাহিরের সঙ্গে তার টুকটাক কথা হচ্ছে। কথার সূত্রপাত হয়েছে সোস্যাল সাইটে ওর পাবলিশ করা নতুন একটি ডিজাইনের সূত্র ধরে। মাহির মোহাম্মদ সুফি সেই ডিজাইন দেখেই তাকে ইনবক্স করেছিল,
“বিউটি উইথ ব্রেইন! ডিজাইনের ইউনিক প্যাটার্নই বলে দেয় তোমার মাঝে একজন প্রতিভাবান সত্তা আছে। আর্টপিসে আটকে না থেকে একে সঠিক স্থানে ব্যবহার করছো না কেন? অপার সম্ভাবনা তোমার মাঝে।”

মেহযাবীন পুরুষের কাছ থেকে রূপ নিয়ে চটুল প্রশংসা পেয়ে অভ্যস্ত। সেই কথায় মন ভেজে না। তবে তার কাজের প্রশংসা করলে সে খুশি হয়। তাই সৌজন্য দেখিয়ে ছোট্ট করে জবাব দিয়েছিল,
“ধন্যবাদ। কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।”

মাহির রিপ্লাই দিতে দেরি করেনি, “তুমি চাইলে স্থাপত্যবিদ্যায় পড়তে পারতে। যদিও আমি জানি ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজিতে পড়েও তুমি কিছু কম যাবে না। সুফি ফ্যাশনে জয়েন হতে পারো। আমার শিল্প তোমার মতো শিল্পীর কদর করতে সদা প্রস্তুত।”

সুফি ফ্যাশন মাহির মোহাম্মদ সুফির গার্মেন্টস বিজনেস। দেশের নামকরা গার্মেন্টসের মধ্যে প্রথম সারিতে আছে। তবে নিজেদের বিজনেস ফেলে সুফি ফ্যাশনে তাকে ইনভলভ হতে বলাটা যাবীনের মনপুত হয়নি। যেখানে তাদের প্রতিষ্ঠানই সুফি ফ্যাশনকে টেক্কা দিতে জানে সেখানে এহেন প্রস্তাব প্রহসন বৈকি! রিপ্লাই না পেয়ে মাহিরও যেন সেটা বুঝেছিল। বলেছিল,
“মিহা, আমার কথায় রাগ কোরো না। মজা করেই বলেছি। তবে সত্যি হলো ক্যারিয়ারের শুরুটা নিজ প্রতিষ্ঠানে করলে সুক্ষ্ম একটা স্বজনপ্রীতি রয়েই যায়। বিশেষ করে বাড়ির মেয়েরা একটু বেশিই যত্নের ও আদরের হয়। তারা যখন ব্যবসায় নামে পরিবারই তাকে আগে প্যাম্পার করে। তুমি তোমার ভাইয়ের বিজনেসে ইনভলব হয়েই আমার কথা মিলিয়ে নিয়ো। জাওয়াদের নয়নের মনি তুমি। সে তোমাকে সব সময় আগলেই রাখবে। নিজ প্রতিষ্ঠানে চাইলেও স্বজনপ্রীতি এড়ানো যায় না। নিজের গণ্ডিতে থেকে প্রতিভা প্রকাশের চেয়ে গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে প্রতিভা দেখানোটা অনেক বেশি গৌরবের। এতে অন্যের কাছে তোমার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।”

মেহযাবীন ভেবে দেখেছিল কথাগুলো। খুব একটা মিথ্যা বোধহয় বলেনি মাহির। তাকে তার পরিবার অনেক বেশিই আগলে রেখেছে ও রাখবেই। তবে মাহিরের এই আগ্রহকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে ছাড়েনি,
“আপনিও কী একটি অনভিজ্ঞ শিল্পীকে হুট করে নিজের প্রতিষ্ঠানের উঁচু পদ দিতে গিয়ে একটু একচোখামি করতে চাইছেন না?”

মাহির হাসির ইমোজি দিয়ে বলেছিল, “কয়লা কিন্তু অপরিশোধিতই থাকে। তাকে জহুরির চোখ চিনতে পারে বলেই খনি থেকে সোজা মূল্যবান মণিরত্নে ঠাঁই পায়। আমিও একজন জহুরি বলতে পারো। তোমার মাঝে হীরের ঝলক দেখতে পেয়েছি। তাকে মণিরত্নে ঠাঁই দিতে চাওয়াটা কি ভুল সিদ্ধান্ত? আমার ব্যবসায়ী হিসেব কিন্তু তা বলে না। দিনশেষে নিজের বিজনেসের উজ্জ্বলতা বাড়ানোই তো ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্য।”

মেহযাবীন এরপর আর রিপ্লাই দেয়নি। তবে কথাগুলো সে ফেলেও দেয়নি। নিজের বলয়ের বাইরে গিয়ে প্রতিভার প্রমাণ দেওয়ার ইচ্ছেটা যেন খুব সুক্ষ্মভাবেই তার মাথায় কেউ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। সারাজীবন বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় সবার কাছ থেকেই শুনে এসেছে যাবীন পারিবারিক বলয়ের ভেতরে আটকে আছে। তাই স্বভাবে এত বেশি ভীতু। বাড়ির ছোট্ট ও আদরের সদস্য হিসেবে তাকে সর্বদা সেভাবেই ট্রিট করা হয়েছে। তার স্বাধীনতা আছে। সেটাও বলয়ের ভেতরেই। সে জন্যই সাহসী সত্তা তৈরি হয়নি ওর। বাবা-মা তার জীবনের সিদ্ধান্ত সরাসরি না নিলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করতেন। এই যেমন সুমা মেয়েকে নিজের ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়াতে চেষ্টা করছেন। ধীরে ধীরে মেহযাবীনকে সেভাবেই বোঝানো হচ্ছে। মেহযাবীনের মন একবার বিদ্রোহ করে উঠল। মায়ের বিজনেস সে বুঝে নেবে। তার আগে নিজের কাছেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য তার উচিত পারিবারিক বলয়ের বাইরে অন্য কোথাও নিজেকে জাহির করা। এতে তার পারিবারিক ও ব্যবসায়িক মহলে গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়বে। এইসব ভাবনা আপাতত যাবীনের মাঝেই সীমাবদ্ধ।

শপিংয়ের শেষে ভরপেট খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ি ফেরার কথা সবার। সেই উদ্দেশ্যেই অনেকগুলো টেবিল দখল করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসেছে দুই পরিবারের সদস্যরা। মিষ্টি বসেছে মেহযাবীনের টেবিলে। সে বারবার উশখুশ করে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। মেহযাবীন বুঝতে পেরে বলল, “কাউকে খুঁজছো?”

“নিশান্ত ভাইয়া এলো তো। কোথায় গেল?”

মিষ্টির সরল প্রশ্নে মাহিরের ম্যাসেজের কথা ভুলে যাবীন এদিকে আলোকপাত করল। মেয়েটার বয়স কম। ছটফটে ও ফ্যান্টাসিতে ভরপুর মন। এই বয়সী মেয়েদের কাছে একজন পেটানো শরীরের, লম্বাটে ও ব্যক্তিত্ববান আর্মি অফিসার নিঃসন্দেহে ক্রাশ খাবার উপাদান। নিশান্ত আসছিল তখনই। মেহযাবীন দেখল মিষ্টির মুখের আদল বদলে লাজুক হয়ে যাচ্ছে। যা ভেবেছে তাই। সে ভ্রুকুটি করে নিশান্তের দিকে চায়। মনোযোগ দিয়ে দেখে এই আপাদমস্তক বারুদে ঠাসা পুরুষের ঠিক কোথায় মুগ্ধতা। আলতো দৃষ্টির পরশ বোলায় পুরুষটির আর্মি ছাঁটযুক্ত ঘন চুলে, চওড়া কপাল বেয়ে দৃষ্টি পিছলে আসে চোখা নাকে। যেটা সর্বদাই আত্মসম্মান ও অহংয়ে পরিপূর্ণ। দুই চোখে যেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরির বসবাস। পুরু ঠোঁটের কালচে খয়েরি আভাতে মিশে আছে রুক্ষতা। আর তার চোয়ালের গাম্ভীর্য তো এমনিতেই বুকে আতঙ্ক ধরিয়ে দেয়। মেহযাবীন এই পুরুষের প্রতিটি অঙ্গের মাঝেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখতে পায়। মুগ্ধতা তাহলে কোথায়? মেহযাবীন ততক্ষণ অপলক চেয়ে ছিল যতক্ষণ না দুজনের চোখাচোখি হলো। সেই রাশভারী দৃষ্টির দখলে পড়তেই সে অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে নিজের দৃষ্টি সামলে নিল। মনে মনে নিজের গালে দুটো থাপ্পড় কষাতেও ভুলল না। মিষ্টি মুগ্ধ নয়নে দেখতে পারে। সে কেন দেখবে?
নিশান্ত নিকটে এগিয়ে এসে হঠাৎ একটা অদ্ভুত আবদার করে বসল,
“আমি জাওয়াদ আর শাওনের জন্য কাপল রিং কিনব বিয়ের উপহার হিসেবে। তুমি তো সাজগোজ, অর্নামেন্টের ব্যাপারে অভিজ্ঞ। আমাকে কী একটু সময় দিতে পারো?”

নিশান্ত কী জীবনে প্রথমবার এতটা স্বাভাবিক স্বরে আবদার করল! মনে করতে পারল না মেহযাবীন। তবে সে ফেরাতেও পারল না। বলল, “তা পারব।”

ওরা এগোতে নিলে মিষ্টি পিছু নিয়ে বলল, “তোমরা কোথায় যাও? আমিও যাব।”

নিশান্ত একটা হিম চাহনি দিলো। মিষ্টির হাতের অনেকগুলো শপিংব্যাগ দেখে বলল, “অনেক কেনাকাটা করেছো। খেতে বসো গিয়ে। আমরা ফিরব এখনই।”

মিষ্টি আর কথা বলাত সুযোগ পেল না। তবে ক্রাশের পাত্তা না পেয়ে বেচারির মন ভেঙে গুড়ো গুড়ো হয়ে গেল। মেহযাবীন মিটমিট করে হাসতে হাসতে নিশান্তের পাশে পাশে হাঁটছিল। নিশান্ত তীর্যক কণ্ঠে বলল, “হাসার কী হলো এখানে?”

মেহযাবীনের হাসি মুছে গেল। এই খুনে কণ্ঠের ব্যক্তির ওপর মানুষ কী করে ক্রাশ খায়? নাকি তার কাছেই এমন শোনায়! বিরক্ত হয়ে বলে ফেলল, “এত ক্যাটক্যাট করেন কেন? মেয়েদের সঙ্গে নরম সুরে কথা বলবেন। নয়তো মিষ্টির মতো ফ্যান ফলোয়ার তো ফসকে যাবেই। বউ-ও পাবেন না পরে।”

কথাগুলো বলেই সে ঠোঁট টিপল। বেশি সাহস দেখিয়ে ফেলল কি! এখন কি এই জাদরেল মিলিটারি শপিংমল কাঁপিয়ে তাকে ধমক দেবে? মানসম্মান রাখবে তো! ওর সমস্ত ভাবনায় খিল দিয়ে সেই মেঘমন্দ্র কণ্ঠস্বরটি তার কান ছুঁয়ে ধীরজ গলায় বলে গেল,
“তুমি স্বামী পেলেই হবে।”

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here