প্রেমের_প্রদীপ_জ্বলে [৬] প্রভা আফরিন

0
264

প্রেমের_প্রদীপ_জ্বলে [৬]
প্রভা আফরিন

দ্বীপশিখার একমাত্র অলস ব্যক্তিটির নাম অনন্ত। নামের মতোই সে অনন্ত অবসর প্রিয় মানুষ। ‘আর্লি টু বেড, আর্লি টু রাইজ’ কথাটির সঙ্গে তার ঘোর বিরোধ। বরং ওর সখ্যতা ‘মাই লাইফ মাই চয়েজ’ ধরনের বাক্যের সঙ্গে। যার ফলে বাবা-ভাই ডিফেন্সে গেলেও অনন্ত উলটোপথ ধরেছে। কোনো দরকার নাই খটোমটো চাকরির জন্য বাড়ি ছেড়ে দূরে পড়ে থাকার। নুন-ভাত খেয়ে হলেও ও বাড়িতেই থাকবে। তবে এইসব আবেগি কথার পেছনে আসল কথা হলো সে পরিশ্রম করতে চায় না। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতেও বিশেষ মন নেই। সারাদিন গেমিং-এর পেছনে কাটাতে ভালোবাসে। ইদানীং শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট করারও শখ হয়েছে। বাবাকে বলতে ভরসা পাচ্ছে না। বাবা ও ভাই দুজনেই ভীষণ গম্ভীর মানুষ। এসব নিশ্চয়ই চাকরির সাইড এফেক্ট। অ’স্ত্র, র’ক্ত, যু’দ্ধ এই তিন জিনিসে যারা অভ্যস্ত তাদের শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় অনেক বেশিই হয়। অনন্ত নাহয় একটু আলাদাই হলো। তবুও র’ক্তের গুণে টুকটাক গু’ণ্ডামি, মা’রপিট ভালোই জানে।

বাড়ির সবাই ঘুম থেকে উঠে ব্যস্ত দিনের কর্মে লেগে গেলেও অনন্ত এখনো বিছানায়। আচমকা শোভা ঘরে ঢুকে হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিল। অনন্তের গায়ে ধাক্কা দিয়ে জাগাতেই ও বিরক্তিভরে ধমক দিল,
“জ্বালাবি না বেয়াদব। আমি আরো দুঘণ্টা ঘুমাব।”

অনন্ত চাদরে মুখ ঢাকে। শোভা ধাক্কাধাক্কির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে উদ্বিগ্ন স্বরে বলল, “এনেছি এমন খবর যা শুনে ঘুমেরও হবে কবর। বড়ো ভাইয়া গতকালকের ঘটনা টের পেয়ে গেছে। কপালে আজ শনি আছে।”

“কীসের ঘটনা?” ঘুম ভাঙা মস্তিষ্কে সহসাই কিছু ঠাহর হলো না অনন্ত। শোভা কপাল চাপড়ে বলল,
“ভুলে গেছো? দিয়েছো এমন পিটানি, আমিন হয়েছে চাটনি। ভাইয়া সেই চাটনির গন্ধ পেয়ে গেছে।”

অনন্ত লাফিয়ে উঠল শোয়া থেকে। ঘুম ছেড়ে গেছে তার। চোখ বড়ো বড়ো করে বলল,
“কেমনে কী ভাই?”

“ওসব কথা রাখো। আমি ভাইয়াকে বলেছি তেতলায় আমরা সবাই একটু হাসি-মজা করছিলাম। তাই হুড়োহুড়ির শব্দ হয়েছে। নাথিং এলস। কিন্তু ভাইয়া বোধহয় বিশ্বাস করেনি। আমার দিকে সন্দেহি চোখে চেয়েছিল।”

অনন্ত একটু ধাতস্থ হয়ে বলল, “সন্দেহই করেছে শুধু? যাক ব্যাপার না। ওটাকে বাড়ি থেকে বের করার সিসিটিভি ডিলিট করেছি। কোনো আলামত নেই বাড়িতে।”

“তুমি ওই ব্যাটাকে কোথায় রেখেছো? জলদি ঝামেলা ঘাড় থেকে নামাও।”

আমিনকে রাখা হয়েছে বন্ধুর বাড়ির গ্যারেজের ভেতর। বাড়িটা এখনো নির্মণাধীন বলে লোকসমাগম হবে না ভেবে নিশ্চিন্তে রেখে এসেছিল। কিছু বখশিশ দিয়ে দারোয়ানকে পাহাড়ায় রেখে এসেছিল। কিন্তু সকালে পৌঁছে দেখল আমিন কিংবা দারোয়ান কারোই চিহ্ন মাত্র নেই বাড়িতে। মাথায় বাজ পড়ল অনন্তের। ফোন করল বন্ধুকে। বন্ধু খোঁজ নিয়ে জানাল দারোয়ানের ফোন বন্ধ। দিশেহারা হলো অনন্ত। দারোয়ান কই? আমিনই বা কোথায়?

যাবীনকে ফোন করে জানাতেই সে উদ্বিগ্নতার সঙ্গে জবাব দিল,
“তোকে আমি বলেছিলাম একা একা পাকামো করিস না৷ গুরুজনের পরামর্শ প্রয়োজন। দুই ভাইবোন শুনলি না আমার কথা। এবার হলো না বিপদ! আহত বাঘ কতটা ভয়ংকর তুই ভাবতে পারছিস?”

“পারছি না। আমি তো আর সুন্দরবনে গিয়ে আহত বাঘ দেখে আসিনি।”

চিন্তান্বিত সময়েও অনন্তের হেয়ালিতে যাবীন রেগে গেল, “শাট আপ, অনন্ত! শুধু ডব্লিউ ডব্লিউ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে জানলেই হবে না। পুরো ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখ। শাওনের প্রত্যাখ্যান ও মুভ-অন হওয়াটা আমিন কিছুতেই মানতে পারেনি। ভালোবাসা থেকে নয়, স্বার্থের জন্য এবং ক্ষোভ থেকে সে হিংস্র হয়েছে। আমার ধারণা ও শাওনকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা-পয়সা হাতানোর ধান্ধায় ছিল। তা যখন হবে না বুঝেছে তখন হিতাহিত হারিয়ে শাওনের ক্ষতি করে দিতে মড়িয়া হয়েছিল। ধরা পড়েছে, মার খেয়েছে। কিন্তু টুইস্ট হলো তার নিখোঁজ হওয়াটা। এখানে দুটো ব্যাপার ঘটতে পারে। এক, নির্মাণাধীন বাড়ির দারোয়ান নিশ্চয়ই নতুন কেউ। পুরোনো বা বিশ্বস্ত লোক নয়। আর সে লোভীও। নয়তো তোর দেওয়া বখশীশের বিনিময়ে রিস্ক নিতো না। সুতরাং আমিন তাকে লোভ দেখিয়ে ছাড়া পেয়েছে। দারোয়ানও পালিয়েছে। অথবা আমিনের গ্যাং-ট্যাং কিছু থাকলে তারাই আমিনকে উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি দারোয়ানকে লোপাট করেছে।”

অনন্ত বান্ধবীর বিচক্ষণতায় মুগ্ধ হলো। নিজে যে এটুকু ভাবতে পারেনি তা স্বীকার না করে বলল, “আমার বুদ্ধিগুলো তোকে ধার দিয়েছিলাম বলেই এখন কাজে আসছে। এটা মোটেও তোর ক্রেডিট নয়। কিন্তু এটা বল, আমিনের গ্যাং যদি থাকেও, তারা জানবে কেমন করে আমি ওকে কোথায় রেখেছি?”

“দুঃখিত! তোর ধার দেওয়া বুদ্ধিতে এটা কুলোচ্ছে না, দোস্ত।” যাবীন তাচ্ছিল্য করল।

অনন্ত নতি স্বীকার করে বলল, “আচ্ছা, ভুল বলেছি। সব তোরই বুদ্ধি। এবার বল।”

“এখানেও ভাববার অবকাশ আছে। আমিন বিপদজনক কাজ করছে নিশ্চিত জানত। হয়তো বিপদের আন্দাজ করেই বাড়ির বাইরে বন্ধুদের রেখে গেছিল নজর রাখতে। আর মনে রাখতে হবে এরা মা’দ’কাসক্ত গ্যাং। অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যখন আমিন বের হয়নি নিশ্চয়ই বুঝে গেছিল বিপদ হয়েছে। আর তুই যে বাড়ির পেছন দিয়ে আমিনকে বের করেছিস হয়তোবা তখনও ওরা এলাকাতেই ঘোরাঘুরি করছিল। কোনোভাবে দেখেছে। তোর সরে পড়ার পর এ্যাকশন নিয়েছে। তবে সবটাই ধারণা। কেউ তো এমনিই আর উবে যাবে না।”

“ভালোই হলো বল। ঝামেলা নিজে থেকেই চলে গেছে।”

“আজ্ঞে না। বিপদ নিজে থেকে ঘাড়ে উঠেছে। আমিন কিন্তু মা’দ’কাসক্ত। গতকালের ঘটনার পর যদি সে ভয় পেয়ে থাকে তো আর ঘাটাবে না। আর যদি আহ’ত বাঘের মতো গজরাতে থাকে তবে সুযোগ পেলে আবারো ঝাঁপিয়ে পড়বে। সাবধানের মার নেই। তুই এক্ষুনি থানায় যাবি। আমিনের নাম, পরিচয় সব উল্লেখ করে জিডি করবি। ঝামেলা যেহেতু সেধে ঘাড়ে তুলেছিস, নিজেদেরই সামলাতে হবে। তুই প্লিজ একটু সিরিয়াস হ। আমি চাই না আমার ভাই-ভাবীর সুখের মুহূর্তে কোনো ঝামেলা আসুক। আমার উচিত এখনই ভাইয়াকে জানানো।”

অনন্ত বুঝল বিষয়টা। তবে শেষ কথাটার সঙ্গে একমত হতে পারল না৷ বউয়ের এক্স ছিল এটা মেনে নেওয়া যতটা সহজ, এক্স এখনো মড়িয়া হয়ে পেছনে ঘোরে শোনা ততটাও সুখকর নয়। এখনো তো দুজনের স্বামী-স্ত্রীসুলভ বোঝাপড়াই হয়ে ওঠেনি৷ যতই পূর্ব পরিচিত হোক, নতুন সম্পর্কে দুজনেরই একে অপরের সম্পর্কে অনেক কিছু জানার আছে।পারস্পারিক বোঝাপড়ায় মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার আছে। বন্ধনের ভীত মজবুত হতে সময় লাগবে। শুরুতেই যদি দুশ্চিন্তা, আশঙ্কা কিংবা সন্দেহ মনে উঁকি দেয় তা ভালোকিছু বয়ে আনবে না। তাছাড়া বোনের নতুন জীবনে সামান্যতম বিঘ্নতা আসুক অনন্ত চায় না। ও বলল,
“জাওয়াদ ভাইকে এখনই কিছু বলিস না। আপসেট হতে পারে। শাওনকেও বলিস না। অস্থির হয়ে যাবে। মনে শান্তি পাবে না। সেটা দেখে আবার জাওয়াদ ভাই ভাববে শাওন তার সঙ্গে কম্ফোর্ট ফিল করছে না। উফ কি জ্বালা! আমি জিন্দেগীতে প্রেম করব না। করলে তাকে বউ না করে ছাড়ব না। তাহলে এইসব প্যারা নেওয়া লাগবে না।”

যাবীন হেসে ফেলল। তা শুনে অনন্ত ক্ষেপে গিয়ে আবার বলল, “হাসবি না একদম। ঘুম থেকে উঠে দৌড়ের ওপর আছি৷ এখন আবার থানায় যেতে হবে। বিয়ের সমস্ত ঝামেলা মিটে গেলে আমরা জাওয়াদ ভাইকে বুঝিয়ে বলব সব।”

অনন্তের বাড়ি ফিরতে বিকেল গড়াল। তার উষ্কখুষ্ক, নির্জীব মুখ দেখে নিশান্ত জিজ্ঞাসু কণ্ঠে বলল,
“সারাদিন কোথায় ছিলি?”

“ওই বন্ধুদের সঙ্গে একটু ঘোরাঘুরি আরকি।”

অনন্ত অপ্রতিভ ভঙ্গিতে পাশ কাটাতে চাইল। নিশান্ত তা স্পষ্ট বুঝল। ভাইবোনের সঙ্গে হৃদ্যতার অভাব ও দীর্ঘদিনের দূরত্বের ফলেই বোধহয় ওর সামনে কেউ সহজ হতে পারে না৷ তবুও ক্যান্টনমেন্ট যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাইবোনদের ওপর বড়ো ভাইসুলভ একটা কতৃত্ব ছিল তার। এখন সবগুলো বড়ো হয়ে গেছে। একজনের বিয়েও হয়ে গেছে। সকলের আলাদা জগত রয়েছে। নিশান্তের নিজেরও তাই। এসব ভেবে একটু নিভে গেল ও। সন্দেহটা আর ঘাটাতে চাইল না। ভরাট স্বরে ডাকল,
“অনন্ত?”

অনন্ত দাঁড়াল। চোখমুখ অত্যন্ত স্বাভাবিক রেখে জবাব দিল, “হু ভাইয়া।”

“কোনো ঝামেলায় জড়াসনি তো?”

“কোনো ঝামেলা নেই ভাইয়া৷ তুমি চিন্তা কোরো না।”

“করছি না৷ তবুও যে সমস্যায় তুই বা এ পরিবারের সম্মান জড়িত তেমন কিছু হলে যদি নিজে সলভ করতে না পারিস, বড়োদের কাউকে জানাস।” নিজেকে জানানোর কথাটা আর উচ্চারণ করল না ও।

আফিয়া ছেলেদের দেখে হুড়মুড় করে নিচে নামলেন। অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “সকালে না খেয়ে বের হলি, এরপর সারাদিন আর খোঁজ নেই৷ এটা কেমন কথা, অনন্ত? লায়েক হয়ে গেছিস? বাড়ির মানুষকে তোয়াক্কা করছিস না?”

অনন্ত জিভ কেটে বলে, “সরি মা। আর হবে না। এখন খেতে দাওতো। ঘরের খাবার ছাড়া পেট ভরে না।”

অনন্ত ডাইনিংয়ের দিকে ছুটল। ছেলের খিদে পেয়েছে শুনে মায়ের মনও আর কাঠিন্য দেখাতে পারল না। তিনি নিশান্তকেও বললেন,
“বিকেল গড়িয়ে গেল। তোর খিদে পেয়েছে? বানিয়ে দেব কিছু?”

নিশান্ত ছোটো করে জবাব দিল, “প্রয়োজন নেই। তোমার ছোটো ছেলেকে একটু সুস্থির হতে বলো।”
____________

তামাটে সন্ধ্যা৷ সারা আকাশের রঙ ধীরে ধীরে শুষে নিচ্ছে পশ্চিম কোণ। অন্যদিকে জ্বলে উঠছে কৃত্রিম আলোর ঝলকানি। আজ শাওন-জাওয়াদ দম্পতির বিয়ের দ্বিতীয় দিন। চেনা পরিবেশে বউ হিসেবে প্রথম দিনটি খারাপ কাটল না শাওনের। এবাড়িতে হুড়োহুড়ি, চেঁচামেচি নেই। লোক সমাগম নেই। যারা আছে তারাও বেশ ধীরস্থির মানুষ। নিজের বাড়ির কথা মনে পড়ে তখন। শূন্যতা কাজ করে। তবে বেশিক্ষণের জন্য নয়৷ জাওয়াদ স্বভাবে চুপচাপ হলেও বেশ চটপটে মানুষ। সকালে ঘণ্টা দুইয়ের জন্য একটু কাজ নিয়ে খুটখাট করে বাকিটা সময় শাওনকে দিয়েছে। বাইরে একটু ঘুরতেও বেরিয়েছে। সকলের আহ্লাদ এড়িয়ে একটু বউসুলভ আচরণ করতে রান্নাঘরে উঁকি দিল সন্ধ্যায়। যে দুজন এ বাড়িতে কাজ করে তাদের নাম জরি ও তানি। ছেলে-মেয়েরা খালা বলে ডাকে। তাদের সঙ্গে মিলে সাত কাপ চা বানাল। জরি ও তানি খালাকে দুইকাপ দিয়ে বাকিগুলো নিয়ে দোতলায় উঠে গেল। শ্বশুর-শাশুড়িকে চা দিয়ে বন্ধু ও ননদের ঘরে ঢুকল।

যাবীন অবসরে আঁকিবুঁকি করতে পছন্দ করে। হাতও বেশ। প্রফেশনাল কোর্স করা আছে বলে দক্ষতাও আছে। গাঢ় সন্ধ্যায় পূবের জানালা মেলে দিয়ে ও বিষণ্ণ আকাশের ছবি আঁকছিল। মেঝেতে ছড়িয়ে আছে রং, তুলি, আর্ট পেপার। ছবি আঁকার সময় যাবীন কারো উপস্থিতি পছন্দ করে না। একা, নিঝুম, নিরালায় বসে মনের চিত্রটুকু পেপারে ফুটিয়ে তোলে। ঘরে কারো আগমন ঘটায় যাবীনের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। শাওন হেসে বলল,
“ননদিনীকে একটু ডিস্টার্ব করছি।”
“ডিস্টার্ব হচ্ছি তবে নতুন বউয়ের বেলায় একটু ছাড় আছে।”
হেসে জবাব দিল যাবীন। বন্ধুত্বের সম্পর্কে নতুন পালক জুড়ে দিয়েছে ননদ-ভাবি সম্পর্ক। চায়ের কাপ মিয়ে যাবীন পুনরায় বলল,
“আমার কি তোকে ভাবি ডাকা উচিত?”

শাওন বেশ ভাবের সুরে বলল,
“অবশ্যই। বাড়ির ভেতর আমি তোর সিনিয়র। বাড়ির বাইরে বন্ধু।”
“বাড়ির ভেতর আমিও তোর রায়বাঘিনী ননদিনী। সমঝে চলবি।”
দুজনেই হেসে ফেলল। শাওন একটু চুপ থেকে ভাবল। বিয়ের আসরে যাওয়ার পর পূর্ববর্তী ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছুই জানে না ও। ভেতরে ভেতরে একটা চিন্তা রয়েই গেছে। ও নিকটে এসে নিচু স্বরে বলল,
“ওদিকের কী খবর?”

যাবীন জবাব না দিয়ে ট্রের দিকে চাইল। দু-কাপ চা অবশিষ্ট আছে। স্বামী-স্ত্রীর চায়ের আলাপ জমার সময়ে মুহূর্তটা নষ্ট করে দেওয়া অনুচিত। যাবীন মাথা নেড়ে বলল, “তুই চিন্তা করিস না। একজন দায়িত্ববান বডিগার্ডকে জীবনসঙ্গীরূপে পেয়ে গেছিস। সে তোর কাছে কোনো খারাপ কিছু ঘেষতেই দেবে না। শুধু তুই আমার ভাইকে ভালো রাখিস।”

আশ্বস্ত হয়ে নিজেদের রুমে ঢুকল শাওন৷ জাওয়াদ একা বসে ইকোনমিকস-এর একটা বই পড়ছিল। স্ত্রীর আগমনে সেটায় বুকমার্ক চেপে রেখে দিল। হাসল চায়ের কাপ দেখে৷ বলল,
“বাহ! সংসারের দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছো?”
“দায়িত্ব অনেক ভারী শব্দ। আমি একটু কিছু করার চেষ্টা করছি মাত্র। চা ভালো হয়েছে?”

জাওয়াদ বেশ যত্ন করে চায়ে চুমুক দিল। যেন চা-ও রাগ না করে। এরপর বলল,
“একদিন চা খাইয়ে লোভ দেখালে তো চলবে না, মিসেস।”

ঘুরিয়ে করা প্রশংসাটা ধরতে পারল শাওন। স্মিত হেসে বলল,
“তুমি বললে রোজ করে দেব।”
“রোজ? যখন-তখন?”
“হু, দায়িত্বের শুরুটা নাহয় চায়ের কাপ থেকেই হোক।”

জাওয়াদের ঠোঁটে প্রশান্তির হাসি খেলে যায়। আশ্বাস দিয়ে বলে,
“আমি জানি তুমি পারবে।”
“তুমি পাশে থাকলে।”
“অলওয়েজ এট ইয়োর সার্ভিস, মিসেস।”

চলবে…
রিচেক করিনি। ভুল থাকলে ধরিয়ে দেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here