অসম্ভবেও আমার তুমি নুসরাত সুলতানা সেজুথি পর্ব-৩০

0
116

#অসম্ভবেও আমার তুমি
নুসরাত সুলতানা সেজুথি
পর্ব-৩০

বাহ বেশ আরাম আয়েশে আছেন দেখছি…!!

অতি পরিচিত গলার স্বর শুনতেই শোয়া থেকে একপ্রকার লাফিয়ে উঠলো তনয়া। তার পাশেই গভীর ঘুমে তলিয়ে তোফায়েল। শিকের ওপাশে দুহাত পকেটে গুজে বেশ আয়েশী ভঙিমা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আবরার। বাকা হাসি ঠোঁটের কোনায় গাঢ় হয়ে ফুটে আছে তার। আবরার কে দেখতেই চকিত হয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে পরলো তনয়া৷ এগিয়ে এসে উদগ্রীব হয়ে বলল,,

— আবরার,প্লিজ আমাকে এখান থেকে বের করে নিন।প্লিজ আবরার!

আবরার বিদ্রুপাত্মক হাসলো নিচের দিকে তাকিয়ে। পরক্ষনে গলা শক্ত করে বলল,

— কীট কে কখনও বিশ্বাস করতে নেই।তারা বিষাক্ত হয়। আর তাদের বিষ হয় আরো মারাত্মক।

তনয়া কেঁদে ওঠে। কান্নার শব্দে তোফায়েলের ঘুম ছুটে যায়। কৌতুহলে পাশ ফেরে সে। চোখ ঘোরানোর এক পর্যায়ে তনয়ার মুখোমুখি আবরার কে দেখে নিজেও ধড়ফড় করে উঠে পরলো। এগিয়ে এসে তনয়ার পাশে দাড়িয়ে আবরারকে উদ্দেশ্য করে দাঁত চিবিয়ে বলে ওঠে,

— তুমি? কেন এসেছো এখানে ?

আবরার ভ্রু নাঁচিয়ে বলল,

— এই যে জেলের মধ্যে আপনাদের কেমন লাগছে সেটাই দেখতে এসেছিলাম। দেখলাম নাক ডেকে ঘুমোচ্ছেন দুজনেই। তা কাল কোর্টে উঠছেন জানেন তো??

তোফায়েল ক্ষিপ্ত গলায় বলল,
— মজা নিচ্ছো আমাদের সাথে?? কি প্রমান করতে চাইছো? এসব করে জিতে গেলে?

আবরার কন্ঠে দৃঢ়তা এনে বলে,

— জেতার প্রশ্ন কেন আসবে? যেখানে আমি হারিইনি!
আগেই বলেছিলাম,,আবরার ফাহাদ চৌধুরীর সাথে লাগতে আসবেন না। তাও এলেন। এখন আর কি! পস্তাতে থাকুন।
কাল তো কোর্টে উঠছেনই,, এরপর হয় যাবজ্জীবন হবে নাহলে অন্য কিছু। ভুগতে ভুগতে মরবেন আপনারা। আর আমি সেটা দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে উপভোগ করবো।মাঝে মাঝে হাত তালিও দেবো…!!

কথাটায় তোফায়েলের ভীষণ ক্রোধ অনুভব হয়। ইচ্ছে হয় আবরার কে টুকরো টুকরো করে কাটতে। রাগ দমনে নিচের দিকে চোখ নামিয়ে লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে নেয় সে।

তনয়া দমে যায়না। অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে ফিচেল গলায় বলে ওঠে,

— আমি আপনাকে ভালোবেসেছিলাম আবরার।তাই বলে এত বড় শাস্তি দিলেন আমায়?? ভালোবাসা পাপ? আমিতো আপনার কোনও ক্ষতি করিনি কখনও তাইনা?

আবরারের মুখচোখ এবার বেশ শান্ত হয়ে আসে। নরম গলায় বলে,

— ভালোবেসে আপনি ভুল করেছেন এরকম কথা আমি কখনওই বলিনি তনয়া। আমি শুধু বলেছি আপনার ভালোবাসা পেতে চাওয়ার পন্থায় ভুল ছিলো৷ আচ্ছা আপনিই বলুন না শুরু থেকে আমাদের সম্পর্ক কি এরকম ছিলো? ছিলোনা।উল্টে আপনি আর আমি ভালো বন্ধুর মত ছিলাম।আপনি আমাকে পছন্দ করেন এটা আপনি সরাসরি আমাকে জানাতেই পারতেন। তখন তো আমার লাইফে স্নিগ্ধাও ছিলোনা। ভেবে দেখা যেত। কিন্তু আপনি তা না করে আমার নামে মিথ্যে অপবাদ দিলেন! সবার সামনে আমায় ছোট করলেন আমার বাবাকে ছোট করলেন। আপনার শ্লীলতাহানি করেছি ভেবে আমি নিজেই আপনাকে বিয়ে করবো বলে ভেবেছিলাম।কিন্তু মিথ্যে আমার বড্ড বেশিই অপছন্দ। যেদিন থেকে শুনলাম ওসব আপনাদের দুজনের বানানো নাটক সেদিন থেকে আপনি আমার ঘৃনার পাত্রীতে পরিনত হলেন তনয়া। আর আবরার ফাহাদ চৌধুরী একবার যাকে মন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় তার আর প্রবেশ হয়না এখানে। দূর্ভাগ্যবশত আপনিও সেই তালিকায় পরে গেলেন।

( একটু থেমে)
আমার কথা না হয় বাদই দিলাম,স্নিগ্ধা? ওতো আপনার কোনও ক্ষতি করেনি। তাও আপনি ওকে প্রানে মারার কথা ভেবে নিলেন! বাহ!

আপনি বারবার বলতেন না স্নিগ্ধা আমাকে আপনার থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে,,,ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে? সেটা সম্পূর্ণ ভুল।কারন আমি নিজের ইচ্ছেতে স্নিগ্ধার কাছে গিয়েছি,ওকে ভালো বেসেছি। তাই ওর প্রয়োজন পরেনি আমাকে ছিনিয়ে নেয়ার। আমি আর স্নিগ্ধা দুজন দুজনকে এতোটাই ভালোবাসি যে তৃতীয় ব্যাক্তি আমাদের মধ্যে কখনও স্থানই পায়না।আমি পেতে দেইনা। আর বিশ্বাস করুন আমরা দুজন খুব সুখে আছি।ভালো আছি আর শান্তিতে আছি।

আপনি বরং জেল থেকে বাইরে বের হওয়ার উপায় না ভেবে এটা ভাবুন যে আপনার ভুল কি কি ছিল? কোন কোন দোষের জন্যে আপনার হাল আজ এরকম, দেখবেন উত্তর আপনি নিজেই পেয়ে যাচ্ছেন।
যাক গে,দোয়া করি জেলের মধ্যে নিজের বাবাকে নিয়ে সুস্থ থাকুন।আল্লাহ আপনাকে সুবুদ্ধি দিক।

এক দমে কথা গুলো বলে মুচকি হাসলো আবরার। তনয়ার কান্নার মাত্রা আরো বাড়লো তাতে। তোফায়েল মেয়ের কাধে হাত রেখে বলল,

— তনু তুই ওর সাথে কথা বলিস না তো। চলে আয়। এখন ওর পৌষ মাস চলছে তো তাই ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। দিন আমাদের ও আসবে। এক মাঘে শীত যায়না।

তোফায়েলের কথায় হাসির রেশ আরো বাড়লো আবরারের। তনয়া চোখ মুছে নিয়ে মুখ শক্ত করে তাকালো আবরারের দিকে। উত্তেজনা নিয়ে বলল,

— মানছি আমি ভুল করেছি কিন্তু যাই করে থাকি আপনাকে পাওয়ার লোভে করেছি। আপনার কোনও ক্ষতি করতে নয়।কোনও দিন আপনার ক্ষতি করবো বলে ভাবিওনি। তাও আপনি আমায় ক্ষমা করতে পারলেন না আবরার । বেশ! আমাকে এখানে কষ্টে,, অন্ধকারে রেখে আপনারা খুব সুখে আছেন তাইনা আবরার?
আজ আমি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছি,,আপনার এই সুখের সংসার একদিন ভেঙে গুড়িয়ে যাবে। আপনি নিজেও টের পাবেন না । আর রইলো বাকি স্নিগ্ধার কথা? স্নিগ্ধা একদিন আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে আর সেটাও আপনারই ছোট্ট কোনও ভুলের দরুন। সেদিন আপনিও আমার মত হাহুতাশ করবেন ভুল শোধরানোর জন্যে। মরিয়া হয়ে উঠবেন। কিন্তু ক্ষমা আপনি পাবেন না আবরার। এরকমটা ঘটবে দেখবেন।ঘটবেই!

কথাটা একটু হলেও গায়ে লাগলো আবরারের।মুখে বাকা হাসির রেশ মিলিয়ে গেলো। শুকনো এক ঢোক গিললো সাথে সাথে। পরমুহূর্তে নিজেকে সামলে ঠোঁট এলিয়ে বলল,,

— আমার ভালোবাসায় আমার বিশ্বাস আছে। সো আই ডোন্ট কেয়ার এবাউট এনিথিং।ওকে??আর আপনি আমায় নিয়ে না ভেবে নিজেদের নিয়ে ভাবুন।কাল কি হবে সেসব ভাবুন। আসি?

কথাগুলো বলে উল্টে ঘুরে হাটা ধরলো আবরার। ভেতরে ভেতরে একটা ভয় আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো তাকে। তনয়ার কথা যদি সত্যি হয়? স্নিগ্ধা কি সত্যিই তাকে ফেলে চলে যাবে? এও কি সম্ভব!
না কখনও না। মেয়েটা তাকে ভালোবাসে,শ্রদ্ধা করে বিশ্বাস করে,,,ও কখনোই এমন করবেনা।

_________________________________________

তুমি কি আমার সাথে মজা করছো স্নিগ্ধা..??

মৃনালের এরুপ প্রশ্ন একটু বেশিই কৌতুকের ন্যায় শোনালো স্নিগ্ধার কাছে। কপাল কুঁচকে বলল,

— আপনার সাথে কি আমার মজার সম্পর্ক… ??

মৃনাল আহত চোখে তাকায়। গলার স্বর নরম করে বলে ওঠে,

— এরকম মজা করোনা স্নিগ্ধা।আমার সহ্য কর‍তে ভীষণ কষ্ট হবে। প্লিজ!

স্নিগ্ধা নাক মুখ কুঁচকে নিয়ে বলল,,

—- আশ্চর্য! আমি কেন আপনার সাথে মজা করবো?? আমি সত্যিই বিবাহিত। এ নিয়ে মজার আছেই বা কি..?? তাছাড়া আপনি মেঘকে জিজ্ঞাসা করুন।ওতো সেদিন আমার হাজবেন্ড কে দেখেছে….

স্নিগ্ধার এমন কথায় মৃনাল ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা নিয়ে মেঘের দিকে ঘাড় বাকা করে। অন্যদিকে চোখ বেরিয়ে এলো মেঘের। অবাক হয়ে বলল,

— আমি কবে তোর স্বামী কে দেখলাম..??

— কেন? সেদিন যে লোকের দিকে মুখ হা করে তাকিয়েছিলি.. এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি ওনাকে??

মেঘ এবার আগের থেকেও বেশি অবাক হয়। ব্যাস্ত গলায় বলে,

— উনিই তোর স্বামী..??

স্নিগ্ধা শক্ত মুখে বলল,
— হ্যা।

উত্তর পেয়ে মৃনাল মেঘ দুজনের মুখেই কালো মেঘ জমে। ঘুটঘুটে অন্ধকার ছেয়ে আসে মৃনালের ভেতরে। এত দিন যাকে নিয়ে স্বপ্ন সাজালো সে অন্য কারো… কি কপাল তার!

মৃনাল কে নিশ্চুপ দেখে স্নিগ্ধা এবার শান্ত গলায় বলল,

— দেখুন ভাইয়া,, আমি বলছি না আপনি আমাকে ভালোবেসে অন্যায় করেছেন। ভালোবাসা কোনও অন্যায় নয়।কিন্তু আমি বিবাহিত,, আমার স্বামী সংসার আছে এটা নিশ্চয়ই আপনি জানতেন না? আর এখন যখন জেনে গিয়েছেন তখন নিশ্চয়ই আপনি নিজেকে সংশোধন করে নেবেন।কারণ ভালোবাসা ভালো,কিন্তু সেটা যখন এক তরফা হয় তখন তাকে সংযত করা উচিত। আর এই কথাটা আমি আমার স্বামীর থেকে শিখেছি।

জবাবে মৃনাল ভারী হয়ে আসা চোখ গুলো তুলে স্নিগ্ধার মুখের দিকে স্থির করলো।

এই মুখটা নিয়ে কত কল্পনা জল্পনা ছিলো তার,,সব আজ নিঃশেষ হয়ে যাবে? এত তাড়াতাড়ি? কি করে মেনে নেবে সে??
স্নিগ্ধা পুনরায় কিছু একটা বলতে ধরে,,কিন্তু ওপাশ থেকে গেটের সামনে এসে ব্রেক কষা আবরারের সাদা রংয়ের গাড়িটা দেখতেই চুপ করে যায়।

মৃনাল থেকে চোখ সরিয়ে মেঘের দিকে তাকায়। ভাইয়ের শোকে মেঘের মুখে অন্ধকার। স্নিগ্ধা মৃদূ আওয়াজে বলে ওঠে,,

— উনি এসে গিয়েছেন।আমি আসছি মেঘ।

কারো কোনও উত্তরের অপেক্ষা না করেই গেটের দিকে দ্রুত পায়ে হাটা ধরলো স্নিগ্ধা । মেঘ এগিয়ে এসে ভাইয়ের কাধে শান্ত্বনা মূলক হাত রাখে।মৃনাল সেদিকে একবার চোখ বুলিয়ে ঘাড় ফেরায় স্নিগ্ধার যাওয়ার দিকে।

নিত্যদিনের মত আবরার বেরিয়ে এসে স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি উপহার দেয়। স্নিগ্ধাও হাসে। আবরার গাড়ির দরজা খুলে দিলে স্নিগ্ধা বিনাবাক্যে উঠে পরে গাড়িতে। দৃশ্য গুলো বড্ড পোড়াচ্ছে মৃনাল কে। হতাশ চোখের দৃষ্টি অজান্তেই কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে।

ভাইয়ের কষ্ট মেঘের অনুভব করতে দেরি হয়না।কাধে রাখা হাতে মৃদূ চাপ দিয়ে বলল,

— ভাইয়া??

মৃনাল কেপে ওঠে। ধ্যানে ছিলো এমন অনুভূতি হয়।মেঘের দিকে শীতল চাহনীতে তাকায়। ভাইয়ের মলিন মুখমণ্ডলে মেঘের ভীষণ কান্না পায়।কোনও রকম ধরে আসা গলায় বলে ওঠে,

— এখন কি করবে ভাইয়া?

মৃনাল বোনের দিকে তাকিয়ে ক্ষীন হাসলো। জোরপূর্বক হাসি সেটা বুঝতে সময় লাগেনা মেঘের। মৃনাল বড্ড কৌশলে ঠোঁটে হাসি রেখেই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে চোখের কোনে জমে আসা পানিটা মুছে নিলো। শিথিল গলায় বলে উঠলো

— কি আর করবো? দেবদাস হচ্ছিনা।এত ভাবিস না… আই হ্যাভ টু মুভ অন।

কথাটা বলে দিয়ে সামনের দিকে হাটা ধরলো মৃনাল। মেঘ ভাইয়ের যাওয়ার দিকে কালো মুখ নিয়ে তাকিয়ে থাকে। মুখে মুভ অন করবে বললেও আদৌ পারবে কি? অন্তত মৃনালের স্নিগ্ধাকে নিয়ে পাগলামি গুলোর সাক্ষী তো সে নিজেই।

কেন যে স্নিগ্ধার ব্যাপারে একটু খোঁজ খবর নিলোনা সেই আফসোস ভীষণ ভাবে ঝাপটে ধরে মেঘকে।

___________________________________________

মৃনালের মলিন মুখটা বারবার স্নিগ্ধার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। হয়তো ছেলেটা ভীষণ কষ্ট পেয়েছে।

ইশ! তনয়া আপুও কি এরকম কষ্ট পেয়েছিলো?? যখন যখন আবরার বলতো ও আমাকে ভালোবাসে? হ্যা পাবেই তো,না পাওয়ারও তো কিছু নেই। আমি সব জেনে বুঝেও আবরারের পাশে কাউকে সহ্য করতে পারিনা খুব সহজে।তাহলে ওদের অবস্থা নিশ্চয়ই খুব একটা ভালো হয়না।

আমি কি মৃনাল ভাইয়া কে একটু বেশিই শক্ত শক্ত কথা শুনিয়ে দিয়েছি? বাবা বলতো কখনও কারো মনে আঘাত দিয়ে কথা বলা ঠিক নয়। কিন্তু আমি কি করবো? আমি যা বলেছি সেসব তো আমার মনের কথাই ছিলো। আমি বিবাহিত,অন্য কাউকে ভালোবাসি এসব তো মিথ্যে নয়। দেখা যেত এসব না বললে উনি আরো বেশি সিরিয়াস হতো আমায় নিয়ে! জল বেশি দূর গড়ানোর আগে তা রোধ করা ভালো।

না না আমি একটু বেশিই ভাবছি। আমি একদম ঠিক কাজ করেছি। এতে কোনও ভুল নেই আমার। এসব ব্যাপারে কাউকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়।

— টায়ার্ড লাগছে পরি..??

আবরারের আওয়াজ শুনতেই ভাবনায় ছেদ পরলো স্নিগ্ধার। ওর দিকে তাকিয়ে বলল,

— নাতো..!!

আবরার শান্ত স্বরে বলল,

— গাড়িতে উঠেছো থেকে দেখছি চুপচাপ। ভার্সিটিতে কিছু হয়েছে..??

স্নিগ্ধা সামান্য হেসে মাথা নাড়লো। যার অর্থ “না…
পরমুহূর্তে কিছু একটা ভেবে কৌতুহলী গলায় বলে ওঠে,

— আচ্ছা আপনি আমাকে বিশ্বাস করেন??

আবরার মৃদূ বিস্ময় নিয়ে তাকায়। ভ্রু কুঁচকে বলল,

— হঠাৎ এই প্রশ্ন..??

স্নিগ্ধা চোখের পাতা এক করে বোঝালো — কিছুনা…

আবরার বাকা ঠোঁটে হাসলো। সামান্য উদ্বেগ নিয়ে বলল,

— আমি আমার পরিকে বিশ্বাস করি। অন্য কাউকে নয়।

স্নিগ্ধা কথাটার মানে বুঝতে না পেরে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থাকে। আবরার পুনরায় বাকা হেসে স্নিগ্ধার গালে এক হাত ছুইয়ে বলে,,

— প্রিয়তমা, যেটা বুঝতে পারোনা সেটা বোঝার চেষ্টাও করোনা। মস্তিষ্কে প্রেশার বাড়বে বৈ কমবে না।

স্নিগ্ধার সত্যিই আর বুঝতে ইচ্ছে হলোনা। আবরারের কাধে মাথাটা ঠেকিয়ে মৃদূ গলায় বলল,,

— আমার মধ্যে যতই অস্থিরতা থাক আবরার,, আপনাকে কাছে পেলেই সব উবে আসে।

উত্তরে আবরার স্নিগ্ধার কপালে ঠোঁট বাকিয়ে চুমু খেয়ে বলল,

—- মানুষ তার কাছেই প্রশান্তি পায় যাকে সে ভালোবাসে….

স্নিগ্ধা চোখ বন্ধ করে নেয়। হঠাৎ কিছু একটা অনুভব করতেই চট করে চোখ মেলে তাকায়। অধৈর্য গলায় বলে,

— গাড়ি থামান আবরার।

আচমকা এমন কথার মানে বুঝতে সময় লাগে আবরারের। স্নিগ্ধার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে ওঠে,

— এনি প্রব্লেম…?

স্নিগ্ধা চোখ খিচে বন্ধ করে বলল,

— গাড়ি থামান….

কোনও কিছু না ভেবেই এক রাশ প্রশ্ন নিয়ে
গাড়িতে ব্রেক কষলো আবরার। তবে ততক্ষনে অনেক দেরি৷ স্নিগ্ধা গলগল করে বমি করে ভাসিয়ে দিয়েছে তার শরীর।

আবরার প্রথম দফায় ভড়কে গিয়ে নিজেকে আপাদমস্তক দেখলো। সাদা শার্ট হলুদাভ রং ধারন করেছে একেবারে । স্নিগ্ধার দিকে তাকাতেই দেখলো স্নিগ্ধা কেমন অসহায় চোখে আবরারের দিকে তাকিয়ে আছে।
পরমুহূর্তে স্নিগ্ধা মুখ কাচুমাচু করে মৃদূ আওয়াজে বলে ওঠে ,,

— বলেছিলাম তো গাড়ি থামাতে।

এটুকু বলে ব্যাস্ত হাতে আবরারের শার্ট মুছে দিতে ধরলো স্নিগ্ধা। তার আগেই হাত টা ধরে আটকে দিলো আবরার,

উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, — তোমার কি শরীর খারাপ করছে? শার্ট ছাড়ো। আগে তোমার কথা বলো…

স্নিগ্ধা ধৈর্য হীন হয়ে বলল,,

— শার্ট টা নোংরা হয়ে গেলো তো?

আবরার মুচকি হেসে বলল,

— তোমার থেকে দামি নয়।আগে বলো শরীর খারাপ লাগছে?? কেমন ফিল হচ্ছে? ভীষণ বমি পাচ্ছে? রিক্সা নিয়ে নেবো?

আবরারের উদগ্রীবতায়
স্নিগ্ধা উত্তর না দিয়ে কিছুক্ষন অবাক চোখে দেখলো ওকে।
মনে মনে আবরারের প্রতি ভীষণ রকম ভালোলাগা কাজ করলো তার।

স্নিগ্ধার মুখ চোখের অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়।বিষয় টা খেয়াল করতেই এক হাত প্রসারিত করে স্নিগ্ধাকে ধরলো আবরার। সেকেন্ডের কম সময়ে আবারও মুখ ভরে বমি করে দিলো স্নিগ্ধা।

এবারো পুরোটা আবরারের গায়ে। আবরার তবুও স্নিগ্ধাকে ছাড়লোনা। উল্টে শক্ত করে স্নিগ্ধাকে এক হাতে পেচিয়ে রেখে গাড়ির ডেস্ক থেকে পানির বোতল বের করলো।

স্নিগ্ধাকে ছেড়ে বোতল থেকে পানি নিয়ে মুখে চোখে পানির ঝাপটা দিয়ে দিলো আস্তে আস্তে। স্নিগ্ধার মুখমন্ডল কেমন ক্লান্ত হয়ে এসছে।

আবরার রুমাল দিয়ে স্নিগ্ধার মুখ মুছিয়ে দিয়ে মৃদূ হেসে বলল,

— এত দিনেও বউয়ের আমার গাড়িতে বসার অভ্যাস হলোনা।

স্নিগ্ধা ঠোঁট উল্টে তাকালো আবরারের দিকে। কিন্তু মুখ কিছু বলে ওঠার শক্তি পেলোনা। কেন জানিনা তার মনে হলো এমন অসুস্থতার কারন আগের মত গাড়িতে চড়তে পারার অনভিজ্ঞতা নয়।বরং অন্য কিছু।

চলবে,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here