অর্ধ_নক্ষত্র ।১৮। #লেখনীতে_Aiza_Islam_Hayati

0
314

#অর্ধ_নক্ষত্র ।১৮।
#লেখনীতে_Aiza_Islam_Hayati

গাড়ি এসে থেমেছে আসাদের বাড়ির সম্মুখে। আরশমান সব বুঝিয়ে দিয়েছে মেহরাকে।গাড়ি থেকে বেরিয়ে দুজন হাঁটা ধরে বাড়ির ভিতর।মেহরা সামনের দিকে হাঁটছে আর এইদিকে আরশমান মনোযোগ সহকারে মেহরার ওড়নায় নিজের আঙ্গুল গিট্টু দিয়ে তার পিছন পিছন হাঁটছে।ফ্লাটের সম্মুখে আসতেই মেহরা ওড়নায় টান অনুভব করে পিছন ফিরে চায়,তার চোখ চড়ক গাছ।মেহরা মৃদু কণ্ঠে তিক্ত কণ্ঠে বলে,”এইসব কী আরশমান?ওড়না টা আপনার আঙ্গুলে গিট্টু কেন মেরেছেন?”

আরশমান কোমল স্বরে সহসা উত্তর দিলো,”বিলাইর ছানাদের মত বউ আমার মানুষের মাঝে যদি হারিয়ে যায় তখন আমার কী হবে,তাই নিজের সাথে বেঁধে রাখলাম!”

মেহরা বিরক্ত হয়ে আরশমান এর হাত থেকে ওড়না ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য হাত বাড়ায় আরশমান সচকিত কণ্ঠে বলে,”এই বাঁধন খোলার একদম চেষ্টা করবেন না মেহরা।”

মেহরা ভ্রু কুঁচকে ফেললো দ্বিরুক্তি করার জন্য মুখ খুলবে তার আগেই ফ্লাটের দরজা খুলে একজন মধ্যবয়স্ক মহিলা দুজনের দিকে চেয়ে মুখে এক ফালি হাঁসি ঝুলিয়ে বলে,”তোমরা এসেছো,বাইরে দাঁড়িয়ে কী করছো?”

আরশমান ঠোঁটের কোণে হাঁসির রেখা ফুটিয়ে বলল,”তেমন কিছু না।আপনি ভিতরে জান আন্টি আমরা আসছি।”

মহিলাটি হেঁসে ভিতরে চলে গেলো।আরশমান মেহরার
ওড়না টেনে মেহরাকে নিজের কাছে এনে ফিসফিস করে বলল,”আমার পাশাপাশি থাকবেন।”মেহরার চাহনি বিরক্তিতে ছেয়ে আছে,এই লোকটা বড্ডো অদ্ভুত।

.
বসার ঘরের প্রত্যেকটি সোফায় বসে থাকা মধ্যবয়স্ক মহিলা ও পুরুষ মেহরার কাছে অচেনা,অচেনা হওয়ার’ই কথা কারণ সকলেই আরশমানের ভাড়া করা লোক।প্রত্যেকে আসাদ এর পরিবারের লোক সেজে বসে আছে,এ কথা উপস্থিত সকলের কাছে জানা শুধু মাত্র প্রশান্ত ব্যতীত।এত অচেনা মানুষের মাঝে মেহরা দেখতে পেলো আঞ্জুমান,প্রশান্ত,ফাইজ ও আসাদকে।কিন্তু জুনায়না কোথায়?সে কী এখনও থানায়?প্রত্যেকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা নামক এক নাটকে ব্যাস্ত শুধুই প্রশান্ত বাদে।

মেহরা আরশমান এর দিকে চাইলো মৃদু কন্ঠে বলল,”এই শুনুন।”

আরশমান মেহরার মত কণ্ঠের রেশ টেনে বলল,”হ্যাঁ বলুন প্রাণ আমি তো আপনাকেই শুনতে চাই।আপনার কথা শোনার জন্যই তো আমি ব্যাকুল হয়ে বসে থাকি ”

মেহরা চোখ মুখ কুঁচকে কণ্ঠের রেশ একই রেখে বলে,”চুপ!শা’লা তোকে তো আমি আর কিছুই বলবো না,সিরিয়াস টাইমে উল্টো পাল্টা কথা বলিস।”

আরশমান ঠোঁট টিপে হাঁসলো বলল,”প্রাণ আমি আপনার শালা না বরং আপনার একমাত্র হ্যান্ডসাম হবু জামাই।”

মেহরা মুখ ভেংচে বলে,”কচুর জামাই।”

আরশমান মেহরার ওড়নায় মৃদু টান দিয়ে বলল,”সকাল থেকে কী কচু কচু করছেন আপনি?কচু কী আপনার ফেভারিট লিস্টের খাদ্য নাকি?”

“নাহ খাদ্য কেনো হবে তা আপনার মতই এক অখাদ্য।”

“এই অখাদ্য কেই টলারেট করতে হবে,এখন থেকেই অখাদ্য থেকে তা খাদ্যে পরিনত করুন।”

মেহরা প্রতিউত্তর করার পূর্বেই একজন মধ্য বয়স্ক মহিলা মিষ্টির বক্স হাতে নিয়ে এগিয়ে এসে মেহরার মুখে মিষ্টি পুরে দেয়। মেহরার চোখ দুটো গোলগোল আকার ধারণ করে। আরশমান বলে উঠে,”আরেহ ধীরে ধীরে এইটুকু একটা বউ আমার তার উপর তার এইটুকু একটা মুখে রসগোল্লার মত মিষ্টি পুরে দিচ্ছেন।গলায় আটকে উল্টো পাল্টা ঘটনা ঘটে যাবে তো।”

মেহরা মিষ্টিটি খেয়ে কটমট চাহনিতে তাকায় আরশমানের দিকে।আরশমান হেঁসে বলে,”ওরেহ বউ আপনি দেখি খেয়ে ফেলেছেন।”

ফাইজ এগিয়ে এসে বলে,”তোরা দুজন এত দেরী করলি কেনো?”

“কেনো বিয়ের ডেট ফিক্স হয়ে গেলো নাকি?”, আরশমান কথাটি বলতেই ফাইজ উত্তরে উচ্চ স্বরে বলল,”হ্যাঁ বেশি না আর দুইদিন পর ঘরোয়া ভাবে হবে আসাদ, জুনায়নার বিয়ে।”

আরশমান মিটমিট করে হাঁসলো,সোফার এক কোণায় দাড়িয়ে থাকা প্রশান্তকে দেখলো।কেমন মুখটি ছোট করে রেখেছে প্রশান্ত।আরশমান ফাইজ কে চোখে ইশারা করে প্রশান্তর দিকে অগ্রসর হলো, মেহরার ওড়নায় টান পড়তেই মেহরা বিরক্ত হলো গেলো আরশমানের পিছন পিছন। আরশমান প্রশান্তর সম্মুখে এসে বলে,”কী ব্রো তুমি কী খুশি না আমাদের জুনায়না রানীর বিয়েতে?”

প্রশান্ত হাঁসলো বলল,”কেনো না।অবশ্যই খুশি আমি।”

ফাইজ এর ফোন শব্দ তুলে বেজে উঠলো,পকেট থেকে ফোন বের করে ফাইজ ফোনটি প্রশান্তর দিকে এগিয়ে দিলো।প্রশান্ত অবাক হলো ফোনটি হাতে নিয়ে দেখলো জুনায়না ভিডিও কল দিচ্ছে।প্রশান্ত রিসিভ করলো সঙ্গে সঙ্গে ঐপাশ থেকে জুনায়না হেঁসে বলে উঠলো,”কী প্রশান্ত বাবু মিষ্টি খেয়েছো?”

প্রশান্ত জোর পূর্বক হাঁসলো বলল,”হম খেয়েছি।”

ফাইজ ভ্রু কুঁচকে বলে,”তুই মিষ্টি কখন খাইলি দোস্ত?”

আরশমান হাঁসলো বলল,”এই কেউ মিষ্টির বক্স নিয়ে আসো।”

আরশমান এর ডাক পড়া মাত্রই একজন যুবক মিষ্টির বক্স নিয়ে আরশমানের সম্মুখে হাজির।আরশমান মিষ্টির বক্স থেকে মিষ্টি নিয়ে সহসা প্রশান্তর মুখে মিষ্টি ঢুকিয়ে দেয় হেঁসে বলে,”মিষ্টি মুখ কর প্রশান্ত বাবু।”

ঐপাশ থেকে জুনায়না হেঁসে বলল,”দোস্ত এখন বিয়ের মিষ্টি খা কয়েকদিন পর তোর মামা হওয়ার খুশিতে তোকে আমি নিজ হাতে মিষ্টি খাওয়াবো।”

প্রশান্ত ছাড়া সকলে হো হো করে হেঁসে উঠলো।জুনায়না হাঁসির ইতি টেনে বলল,”দোস্ত আজকে আমাকে রাতে নিতে আসিস প্লিজ।”

প্রশান্ত প্রতিউত্তর বলল,”কেনো আমি কেনো?তোর হবু
বর কে বল ।”

“নাহ দোস্ত তুই আসবি আমাকে নিতে,তোর আর ওই আসাদ এর আসার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

আরশমান, ফাইজ দুই পাশ থেকে প্রশান্ত কে ধাক্কা দিয়ে বলল,”যাও মামা যাও যাও।”

প্রশান্ত দুরুক্তি করলো বলল,”আজ আমার তোকে নিতে যাওয়া সম্বভ নয়।আমার মিটিং রয়েছে”,বলে ফোনটি ফাইজ এর হাতে দিয়ে দিলো প্রশান্ত।অতঃপর দ্রুত বেরিয়ে গেলো।

ফাইজ হেঁসে বলে উঠলো,”মামা এই প্রশান্ত তো অশান্ত হয়ে গিয়েছে।যে জুনায়নার কথা ফেলে না কখনও আজ সে মুখের উপর না বলে দিলো।”

ঐপাশ থেকে জুনায়না হেঁসে বলল,”ওর মিটিং আজ করাচ্ছি আমি।ওর অফিসে আজ রেড দিবো দেখ।”

.
তিন বন্ধুর মাঝে হলো আরোও কতক্ষণ কথন।এইদিকে পিছনে দাঁড়িয়ে তাদের কথা শুনে মিটমিট করে হাসছে মেহরা।আরশমান ফিরল বলল,”চলুন মেহরা যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে।”

মেহরা হাঁসির ইতি টেনে হাঁটা ধরলো হঠাৎ পিছন থেকে আরশমান মেহরার ওড়না টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো অতঃপর আরশমান মেহরা কে নিয়ে হাঁটা ধরলো বলল,”এত সুন্দর একটা জামাই রেখে কী একা একা হাঁটা ধরেছিলেন।”

মেহরা চোখ মুখ কুঁচকে বলে,”তোর দেখি সাহস বেড়ে গেছে হুট হাট ওড়না টেনে ধরিস।”

“আমার হবু বউ আমি তার ওড়না টেনে ধরবো তাতে তোমার সমস্যা কি?”

#চলবে।

পরের পর্ব গুলো বড় দেয়ার চেষ্টা করবো।এই গরমে আমার অবস্থা খারাপ ভাই বোনেরা।🙂 কী লেখেছি জানিনা,ভুল ত্রুটি হলে আমি দুঃখিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here