#হাতটা_দাও_বাড়িয়ে
#অরিত্রা_অর্নি
#পর্ব_১৩
#রাজনীতি_রিলেটেড
“ভোরের দিকে ঘুম ভাঙ্গে আহিলের চোখ মেলে তাকাতেই দেখে পুরো রুম অন্ধকার হয়ে আছে । ভোরের আলো ফুটেছে মাত্র ।
আহিল লক্ষ্য করে রাফিয়া ওর বুকের উপর মাথা দিয়া পায়ের উপর পা তুলে আরামে ঘুমিয়ে আছে । আহিল একটু মুচকি হাসে তারপর রাফিয়ার কপালে আলতো করে একটা চুমু খেয়ে রাফিয়াকে ভালো করে শুইয়ে দিয়ে উঠে বসে । বিছানার পাশের টেবিলের উপর থেকে ফোন আর মানিব্যাগ টা নিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে যায় আহিল ।
বাইরে এসেই দেখে রিপা দাড়িয়ে আছে ।
_ নাস্তা করে গেলে হতো না ভাইয়া ?
_ অন্য একদিন করবো । আজকে আসি ।
“আহিল বেরিয়ে যায় । রিপা গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে আবার নিজের ঘরে গিয়ে রাফিয়ার পাশে শুয়ে পড়ে । কাল অনেক রাতে হুট করেই আহিল চলে আসে তখন বাকিরা ঘুমে । রিপা বুঝতে পারে বিষয়টা । তাই নিজেই রুম ছেড়ে দিয়ে বসার ঘরের সোফায় শুয়ে পড়ে আর আহিল রাফিয়ার কাছে ”
” বাড়ি ফিরে আহিল দ্রুত সাওয়ার নিতে চলে যায় । পানি ঘাড়ে লাগতেই জ্বলে উঠে । কোনো রকমে সাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে আয়নায় সামনে দাড়িয়ে চুল মুচছে আর নিজের ঘর দেখছে । ঘাড়ে কামড়ের দাগ গুলো ফুটে আছে । তাও একটা দুটো না অনেকগুলো কামড় । আহিল আলমারি খুলে একটা পাঞ্জাবি বের করে পরে নিয়ে আবার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে । নির্বাচনের আর মাত্র দুইদিন বাকি । চারদিকে আহিলের নাম থাকলে ও রুদ্র যে কোনো ঝামেলা করবে না এইটা নিয়ে একেবারেই নিশ্চিত নয় আহিল । তার মধ্যে রিজনের খবর কোনোভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না । গাড়ি নিয়ে আহিল চলে আসে ক্লাব ঘরে । একাই এসেছে । মনের ভেতর প্রচুর অশান্তি হচ্ছে আহিলের । শাওন কে ফোন করে চলে আসতে বলে ”
“সকাল নয়টায় দিকে ঘুম থেকে উঠে রাফিয়া । এইদিক ওইদিক তাকিয়ে দেখে কেউ নেই । রাফিয়ার মনে পরে কাল তো আহিল ছিলো স্পষ্ট মনে আছে ওর । রাফিয়া উঠে বসে ফ্রেশ হয়ে এসে আবার বিছানায় বসে তখন ই রিপা রুমে ঢুকে ”
_ করি তুই ওমন সং এর মতো বসে আছিস কেনো ? কি হয়েছে ?
_ কিছু না । কাল রাতে তুই কোথায় ছিলি ।
_বসার ঘরে ।
_ কেনো ?
_ ওমা এখন কি তোদের বর বউয়ের মাঝে কাবাব মে হাড্ডি হবো নাকি ।
_ তুই উনাকে ঢুকতে দিয়েছিস তাই না ।
_ হুম ,, ( দাত বের করে হেসে বলে রিপা )
” রাফিয়া এই কথা শুনে রাগী চোখে রিপার দিকে তাকায় । রিপা ভয় না পেয়ে উল্টো রাফিয়ার কাছে এসে বসে তারপর রাফিয়ার কানে কানে বলে ”
_ বর বলে মানিস না । আবার বরের আদর তো ঠিক ই নিয়েছিস । মানুষ এমন ই ( দুষ্টু হাসি হেসে বলে রিপা )
_ কিসের আদর ( চোখ বড় বড় করে বলে রাফিয়া )
_ হয়েছে আর মিথ্যে বলতে হবে না কিসের আদর ঐটা তোমায় ঘাড় দেখেই বুঝা যাচ্ছে। আর এইভাবে বসে না থেকে সাওয়ার নিয়ে রেডি হো ভার্সিটি ও তো যেতে হবে নাকি ।
” কথাটা বলে রিপা রেডি হতে চলে যায় । রাফিয়া চুপ করে বসে থাকে । রিপার সব কথা ই ওর মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে । রাফিয়া উঠে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ায় । সত্যি ই ঘাড়ের একটা জায়গায় লাল হয়ে আছে । রাফিয়া এইবার বুঝতে পারে রিপা কেনো এইসব বলছে । রাফিয়ার প্রচুর মেজাজ খারাপ হয় আহিলের উপর । রাফিয়া ও রেডি হতে চলে যায় । রিপা আর রাফিয়া রাস্তায় বেরিয়ে দেখে আজকে ও সেই গাড়ি দাড়িয়ে আছে কিন্তু রাফিয়া উঠে না । রিপা কে নিয়ে রিকশায় উঠে বসে ।
_ আজকে ও উঠলি না গাড়িতে । দেখিস রাতে আবার চলে আসবে ( হেসে বলে রিপা )
_ আজকে এসে দেখুক না একবার । আমি বাবার কাছে যদি না বলেছি ।
_ ছি । তোর বিয়ে করা জামাই তোর সাথে এসে থাকবে এইটা তুই আংকেল কে বলবি ।
” রাফিয়া কথাটা শুনে সত্যি ই বুঝতে পারে। এইসব কথা কি বাবাকে বলা যায় নাকি ”
_ চুপ কর । আসুক না আজকে । ওই ব্যাটার খবর করে ছাড়বো আমি ।
_ কি লাভ । দুইদিন পরে এমনিতে ও নিয়ে যাবে তোকে ।
_ মানে।
_ তোর কি মনে হয় । আহিল ভাই তোকে এইভাবে রেখে দিবে বিয়ে করে । আংকেল শুধু বলেছে বলে যে নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে তোকে কিছুতেই দিবে না । তাই সে মেনে নিয়েছে । থাকতে না পেরে কাল ই চলে এসেছে আর দুইদিন পর তো নির্বাচন শেষ । তোকে নিতে দেরি করবে বলে তোর মনে হয় ।
” কথাগুলো শুনে রাফিয়ার মনে অস্থিরতা শুরু হয় । আর দুইদিন বাকি । তারপর কি ওই লোকটার সাথে সংসার বাঁধতে হবে । রাফিয়া একটু নড়েচড়ে বসে ”
” আহিল জানতে পেরেছে রাফিয়া আজকে ও ওর গাড়ি করে যায়নি । আহিলের প্রচুর রাগ হয় । এত ব্যস্ততার মধ্যে থেকে কিভাবে কি সামলাবে বুঝে উঠতে পারে না । এই জন্যই গুরুজনরা বলে গেছে । নারীর মায়ায় পড়লে জীবন শেষ । গলার কাঁটা মতো না পারবে গিলতে । আর না পারবে ফেলতে ।
চলবে ,,,,,
( আরেক পর্ব রাতে দিবো ইনশাল্লাহ)

