কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ২৫.

0
364

#কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

২৫.

সমুদ্রতীরের এক দোকানে সিগারেট কিনতে গিয়ে তুল্য শার্লিকে চিপস কিনতে দেখলো৷ পরনে ভার্সিটিট লগোওয়ালা টিশার্ট, ঢোলা জিন্স। শার্লি কেনা শেষে চলে যাচ্ছিলো। তুল্য পেছন থেকে ডাক লাগালো,

– শার্লি শোন?

শার্লি দাড়ায়। তুল্য এগিয়ে একহাত পকেটে গুজে ওর সামনে দাড়ালো। সিগারেটের ধোয়া ছেড়ে, গা ছাড়া ভাবে বললো,

– শান্তর থেকে দুরে থাকবি।

– কোন শান্ত?

তুল্য কিছুটা অবাক হয়। উল্টো প্রশ্ন আশা করেনি ও। মুখ থেকে সিগারেট নামিয়ে বললো,

– তুই জানিস আমি কার কথা বলছি।

– কিন্তু তোর কথা আমি কেনো শুনবো?

তুল্য শিথিল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়। শার্লি কোনোরকম গোড়ামী না করে বললো,

– শার্লি তোর কথা শোনার জন্য বসে নেই তুল্য। স্টপ ট্রাইয়িং টু কন্ট্রোল মি। আমি তোর হাতের পুতুল নই।

বেশ কড়াভাবে জবাব দেয় শার্লি। তুল্য আবারো সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়লো। বেশ স্বাভাবিক গলায় বললো,

– তোকে আমি আমার হাতের পুতুল হতে বলিনি। অন্যকিছু হবি?

তুল্যর এমন প্রশ্নের জন্য শার্লি মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। ওর মনে হলো, আজকে আবার ওর লজ্জা পাচ্ছে। এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সাধ্য ওর নেই। দ্রুততার সাথে স্থানত্যাগ করলো শার্লি। হেলেদুলে বিচে পা বাড়ালো তুল্য।

তাথৈ ঘরজুড়ে পাইচারী করছে। কখনো গ্লাস হাতে নিচ্ছে, আবারো রেখে দিচ্ছে। ব্যালকনিতে যাচ্ছে, কাচের জানালায় নখ দিয়ে আওয়াজ করে আবারো রুমে চলে আসছে। ল্যাম্পশেডের দিকে হাত বাড়াতে গিয়ে, ফোনটা নিয়ে সরে আসছে। রাগের কারন, রুমে থাকা সিনিয়র মেয়ে দুইটা সাজতে সাজতে অনেকবেশি কথা বলছে। শার্লি আলো গেছে সূর্যাস্ত দেখতে। ওকেও বলেছিলো। অনেক জোরও করেছিলো। কিন্তু ও যায়নি। রুমের মেয়েদুটো গিয়েও আবারো ফেরত এসেছে। গ্রিলপার্টির আগে সাজগুজের জন্য। ওদের কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে রুম থেকে বেরিয়েই আসলো তাথৈ। কিন্তু করিডরে পা রাখতেই কারো সাথে ধাক্কা লাগে ওর। তাথৈ পিছিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু চুলে টান লাগার দরুন পারে না। ঠিকঠাক তাকিয়ে খেয়াল করলো, ওর সামনে তাশদীদ। তার খয়েরী শার্টের বোতামে ওর চুল আটকেছে। তাশদীদের হাতে ব্যাগ। সেখানে চামচ দেখা যায়। শান্ত ওকে গ্রিলের জন্য ওগুলো আনতে হোটেলে পাঠিয়েছে। তাথৈকে দেখে তাশদীদ হেসে ফেলে। হাসতে হাসতে বলে,

– হুয়াট আ ফিল্মি মোমেন্ট…

তাশদীদ হাসছিলোই। আর তাথৈয়ের রাগ বাড়লো তাতে। চুল ধরে জোরে টান লাগালো ও। হাসছিলো বলে তাশদীদ ঝোঁক সামলাতে পারে না। অনেকটা উবু হয়ে পরতে গিয়েও নিজেকে সামলে নেয় ও। কিন্তু ওর চাওনি প্রসারিত হয়। কেননা তাথৈ ওরই ব্যাগ থেকে কাটাচামচ বের করে ওর বরাবর ধরে আছে। ওর বড়বড় চাওনি দেখে তাথৈ শান্তভাবে বললো,

– এখন?

তাশদীদ সোজা হয়ে দাড়ালো। কেবল দাড়ালো না। হুট করে আবারো পেছাতে লাগলো। চুলের টান সহ্য করতে না পেরে এবারো ওর সাথে পা বাড়ালো তাথৈ। কয়েকপা পিছিয়ে তাশদীদ থেমে যায়৷ আরো একদফায় ওর বুকে ধাক্কা খায় তাথৈয়ের উত্তপ্ত মস্তিষ্ক। মাথা তাশদীদের বুকে রেখেই দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে সামলালো তাথৈ। তাশদীদ তেমনই হেসে বললো,

– এখন রোমান্টিক।

তাথৈ সরে যায়৷ একটানে বোতামে জড়িয়ে থাকা চুল ছিড়েই ফেললো রাগে। আস্তেকরে ‘আউউউচ’ শব্দ বের করলো তাশদীদ। শক্ত হয়ে দাড়ানো তাথৈকে দেখে বুঝলো, ও অনেকবেশি রেগে আছে। তাশদীদ আর পরিস্থিতি বিগড়ালো না। স্বাভাবিক গতিতে তাথৈকে পাশ কাটাতে কাটাতে বললো,

– তুমি না আসলে। রুমেরগুলোকে জলদি সি সাইডে পাঠিয়ে দাও। বলবে আমি ডেকেছি।

জবাব হারায় তাথৈ। নিরবে চেয়ে চেয়ে দেখে তাশদীদের চলে যাওয়া। তারপর রুমের দিকে তাকিয়ে, কি ভেবে বাইরে থেকে লক করে দেয় রুমের দরজা। দ্রুত পায়ে চলে আসলো বাইরে। বনফায়ার করা হয়েছে। চলছে গ্রিলপার্টির প্রস্তুতি। সুর্যাস্ত দেখে এসে সেখানে ছেলেমেয়েরা গোল হয়ে বসে গেছে। নিজেদের মতো করে আড্ডা দিচ্ছে, হাসছে, গাইছে, গিটার বাজাচ্ছে। আর সবার মাঝে সবচেয়ে ব্যস্ত মানুষটা হলো শান্ত। সবকিছু নিয়ে ছোটাছুটি করছে ও। দায়িত্ব কাধে নিয়ে একটু বেশিই অস্থিরতা দেখাচ্ছে সে। তাশদীদ হাতের জিনিসগুলো রেখে ওকে স্থির হতে বললো। শোনেনি ও। কাঠগুলো ঠিকঠাক ঠেলে দিয়ে টিটু এবার টেনে ধরলো শান্তকে। বাধ্য হয়ে বসে গেলো ও। তাথৈ আশপাশ তাকিয়ে সবাইকে দেখে নিলো। শার্লি আলো একে অপরের সাথে কথা বলছে আর হাসছে। ওকে দেখে খুশি হয়ে গেলো ওরা দুজন। এগিয়ে গিয়ে ওদের পাশে বসলো তাথৈ। তবে আড্ডায় না। মোবাইল স্ক্রল করতে লাগলো ও। কিছুসময় পর টিটু স্টিলের বাটিতে চামচ দিয়ে শব্দ তুললো। সবার চাওনি জড়ো করে বললো,

– এতো সুন্দর ভিউ! এতো সুন্দর পরিবেশ! এখানে বসে খালিমুখে গ্রিল গুজলে মজা পাবো না। কোনো খেলা হয়ে যাক?

সবাই সম্মতি দেয়। টিটু একটা বক্স দেখিয়ে বললো,

– সোজা নিয়ম। দু দলে খেলা। ছেলে ভার্সেস মেয়ে। এই বক্সের কিছু কাগজ ফাঁকা আর কিছু কাগজে গানের নাম লেখা আছে। যে ফাঁকা পাবে, সে আপাতত দর্শক। কিন্তু যে গান পাবে, তাকে সেটা অভিনয় করে বাকিদের বোঝাতে হবে। যদি কোনো মেয়ের অভিনয়ে আগে মেয়েরা ঠিক গেইস করে, তাহলে ওদের এক পয়েন্ট। আর যদি মেয়ের অভিনয়ে আমরা ছেলেরা ঠিক গেইস করি তাহলে আমাদের দুই পয়েন্ট। সেম ছেলেদের ক্ষেত্রেও। আর যদি কেউ অভিনয় করে গান বোঝাতে না পারে, তাহলে তাকে বা তার দলকে ওই গানটাই পারফর্ম করতে হবে। ব্যস!

সবাই আগ্রহ দেখালেও তাথৈ বিরক্ত হয়। উঠে যাবে বলে উদ্যতও হয়। তাশদীদ ওকে উঠতে দেখে বলে উঠলো,

– আর যারা যারা পার্টিসিপেট করবে না, কালকে তারা আমাদের ট্যুর গাইড। আজরাতে এখানকার সব জায়গা গুগল করে জেনেশুনে, কাল সেই আমাদের ঘোরাবে।

তাথৈ তীক্ষ্মচোখে তাকালো ওর দিকে। কিন্তু তাশদীদ ওরদিক তাকালোই না। বসে রইলো তাথৈ। তীব্র রাগ হলো ওর। ভাগ্যও যেনো পদেপদে ওকে বিপরীতে টানছে। একেএকে ছেলেমেয়েরা কাগজ তুলে অভিনয় করতে থাকে। খেলা সমানসমানে ছিলো। ছেলেরা ছেলেদের অভিনয় আর মেয়েরা মেয়েদের অভিনয় ধরতে পারছিলো। এক পর্যায়ে এগিয়ে যায় শান্ত। কাগজ তুলে গানের নাম দেখে খুশি হয়ে যায় ও। গানের কথা ইশারায় বুঝাতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাশদীদ চেচিয়ে বললো,

– পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে!

হৈহৈ করে ওঠে সব ছেলেরা। শান্ত খুশিতে এসে ঝাপিয়ে পরে তাশদীদের ওপর। ওর কোলে পরে থাকা অবস্থাতেই সবাই একসাথে গেয়ে ওঠে,

‘ভেবে দেখেছো কি?
তারারাও শত আলোকবর্ষ দূরে…
কতো দুরে…
তুমি আর আমি যাই ক্রমে দুরে সরে…’

শেষলাইন গাইতে গিয়ে আড়চোখে একবার শার্লির দিকে তাকালো শান্ত। মেয়েদের মাঝ থেকে এবার আলোর পালা ছিলো। খালি কাগজটা দেখে স্বস্তির দম ফেললো আলো। বসার জায়গায় ফেরত যেতে দিয়ে দুরে বসা তুল্যকে চোখে পরে ওর। তুল্য পেছনের দিকে বসে ছিলো। মুলত সিগারেট খাচ্ছিলো ও। আলো চুপচাপ গিয়ে বসে পরলো। এতোক্ষণ ধ্যান না দিলেও শার্লিকে দাড়াতে দেখে তুল্য ধোঁয়া ছাড়লো মুখ দিয়ে। একপলক তাকালো শান্তর দিকে। শান্ত স্বাভাবিক ছিলো। অথচ তুল্যর মনে হলো, শার্লিকে দেখে শান্তর প্রতিক্রিয়া আলাদা। কয়েকটানে সিগারেট শেষ করে সিগারেটটা ফেলে দেয় তুল্য। আবার নতুন একটায় আগুন ধরায়। শার্লি গিয়ে কার্ড হাতে নিলো। গানের নাম দেখে মুখটা চুপসে যায় ওর। এই গান এখন কিভাবে বর্ণনা করবে ও? ওর কি অভ্যাস আছে এসবে?বাকি মেয়েরা ওকে সাহস দিচ্ছে, গান বোঝানোর জন্য, অভিনয় করার জন্য। কিন্তু অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও গানটা বোঝাতে পারলো না শার্লি। প্রথমবার কোনো মেয়ে গান বোঝাতে পারেনি। ছেলেরা হুল্লোড় বাধিয়ে দিলো। কাগজ মুঠো করে আলোর পাশে গিয়ে বসে পরলো শার্লি। শান্ত বললো,

– চলো! অভিনয়ে তো ডাব্বা গুল! এবার গানটা কে গেয়ে শোনাবে? দ্রুত শুনিয়ে দাও, কি গান ছিলো। ফাস্ট ফাস্ট!

শার্লি মন খারাপ করে কাগজটা পাশের অন্য জুনিয়র মেয়ের দিকে বাড়িয়ে দিলো। গানটান ওর গাওয়ার ইচ্ছে নেই। জুনিয়রকে দিয়ে পার করে দিক। মেয়েটা কাগজটা হাতে নিলো। কিন্তু ও গান ধরার আগেই মাঝে বসা আলো চোখ বন্ধ করে গেয়ে উঠলো,

‘আমি আবার ক্লান্ত পথচারী
এই কাঁটার মুকুট লাগে ভারী।
গেছে জীবন দুদিকে দু’জনারই
মেনে নিলেও কি মেনে নিতে পারি?
ছুঁতে গিয়েও যেন হাতের নাগালে না পাই…’

আলো চোখ মেললো। গোটা জায়গাটা একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গেছে ওকে গান গাইতে দেখে। শার্লি উৎফুল্ল হয়ে তাকিয়ে রইলো আলোর দিকে৷ তাথৈও যেনো নিজের চোখ-কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না। যে আলো গানের গ টাতেও কখনো ভাবনা ভাবেনি, সেই আলো গান গাইছে! ফোন বাদ দিয়ে ওউ বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো আলোর দিকে। একটু থমকে ছিলো ছেলেরাও। তাশদীদ নিজেকে স্বাভাবিক করে শান্তর কাধে চড় মেরে ওকে গিটার বাজাতে বললো। শান্ত করলোও তাই। আলো মৃদ্যু হেসে গাইতে লাগলো,

‘এভাবে হেরে যাই, যেই ঘুরে তাকাই
কেমন যেন আলাদা আলাদা সব।
আলগা থেকে তাই, খসে পড়েছি প্রায়
কেমন যেন আলাদা আলাদা সব।

রাগের মাঝেও তাথৈ খুশি হলো। এখানে না আসলে আলোকে এভাবে দেখা হতো না ওর। ওদিকটায় তাকিয়ে দেখে তাশদীদ হাটু ভাক করে তাতে কনুই ঠেকিয়ে বসে। বোন ফায়ারের লালচে আলোতে ওর চেহারায় সেই সদাসর্বদার হাসিটা। শার্লি সবার আড়ালে একপলক তুল্যর দিকে চাইলো। অন্ধকারে তার চেহারা দেখা যায় না। কেবল সে যে মুখ দিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছে, তা বোঝা যায়। তুল্যর দিকে চেয়ে শার্লিও এবার গেয়ে উঠলো,

‘কুয়াশা ভেজা নামছে সিঁড়ি
অনেক নীচে জল…
সেখানে এক ফালি চাঁদ ভাসছে
করছে টলমল।

‘তাকে বাঁচাবো বলে জলে নেমেও
বাঁচাতে পারি না আর…’

লাইনদুটো আলো গেয়েছে৷ শার্লি তুল্যর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে, আলোর দিকে তাকালো। হেসে দিলো দুজনে। তারপর একসাথে গাইলো,

‘এভাবে হেরে যাই, যেই ঘুরে তাকাই
কেমন যেন আলাদা আলাদা সব।
আলগা থেকে তাই, খসে পড়েছি প্রায়
কেমন যেন আলাদা আলাদা সব।’

হাততালি আর হুল্লোড়ে মেতে উঠলো সবাই। পরেরবার তাথৈকেই উঠতে হলো। ঘাড় খানিকটা কাত করে আগ্রহ নিয়ে তাকালো তাশদীদ। তাথৈ চোখ বন্ধ করে দম নিলো। মনেমনে চাইলো, লেখাছাড়া কাগজ আসুক। কিন্তু তা হলো না। কাগজ তুলে তাতে লেখা দেখে শরীর বিষিয়ে উঠলো যেনো। সবচেয়ে বিশ্রি যেটা, ওর পরিস্থিতি কাটানোর উপায় নেই। বাধ্য হয়ে শার্লির দিকে তাকিয়ে নিজের চোখের দিকে ইশারা করলো। চোখ বন্ধ করে, তাকিয়ে, তারপর আবারো চোখ বন্ধ করে লম্বা একটা শ্বাস নিলো ও। তাশদীদ ওর অভিনয় পরখ করছিলো। এটুক দেখেই বিশ্বজয়ের হাসি হাসলো ও। যেনো তাথৈয়ের বলতে চাওয়া গানটা ওর বুঝতে এতুটুকোও কষ্ট হয়নি। ও বললো,

– ঘুম বাই ওড সিগনেচার।

আশপাশ থেকে সবাই হচকিত চোখে তাশদীদের দিকে তাকায়। তাথৈ শার্লি-আলোর প্রতি মনোযোগী ছিলো। ও ভেবেছিলো, এটুকোতেই ওরা বুঝে যাবে গানটা কি। কিন্তু তা হয়নি। তাশদীদের ঠিকঠাক আন্দাজটা শুনে থেমে যায় ও। চুপচাপ চলে আসলো সামনে থেকে। ছেলেরা বুঝে যায়, ওরাই জিতেছে। আবারো হৈচৈ শুরু করে ওরা। শান্ত তাশদীদকে ধমকে বললো,

– হোপ ব্যাটা! না বলতি! আলফেজ ডটার আজকে গান শুনাতো আমাদের!

– হ্যাঁ। সে তো গায়েক মেয়ে! তোদের গান শোনাতে উদগ্রীব হয়ে বসে আছে!

তাশদীদের জবাব শুনে শান্ত চুপ মেরে যায়। তাশদীদ আবারো বললো,

– যে মেয়ে, ও না গাওয়ায় গান সুইসাইড করতে গেলেও ও গান গাইবে না। আমি গেইস না বললে নির্ঘাত জুনিয়রকে দিয়ে গানটা গাওয়াতো ও!

– বেশ ভালোই চিনিস দেখি ম্যাডাম আলফেজকে? হু হু?

তাশদীদকে গুতানোর চেষ্টা করলো শান্ত। তাশদীদ একবিন্দু না দমে বললো,

– তুইও তো গান গাওয়ার সময় এদিকওদিক তাকাচ্ছিস। তা বলেছি আমি একবারো?

শান্ত কিছু না শোনার ভান করলো একটা৷ তাথৈ শার্লির পাশে এসে বসলো। শার্লি কিছুটা ওরদিক ঝুকে, ওকে লজ্জা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফিসফিসিয়ে বললো,

– এই তাশদীদ ভাই তোকে একটু বেশিই বুঝতে শুরু করেছে না? হু?

তাথৈয়ের চাওনি দেখে তৎক্ষনাৎ কথার ধরন বদলালো শার্লি। চোরের মতো এদিকওদিক চেয়ে, আমতা আমতা করে বললো,

– ই্ ইয়ে, ভাই অনেক ব্রিলিয়ান্ট। অল্প হিন্টসেও ঠিকঠাক গেইস করতে পারে! বুঝিতো আমি! সবই বুঝি!

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here