#কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
২১.
– আর ইউ সিরিয়াস? ওই আফিফের কথার জন্য চারদিন হলো ক্যাম্পাস যাসনা তুই?
তীব্র আক্রোশে কথাটা বললো শার্লি। রুমন বিছানায় মাথা নিচু করে বসে আছে। ওর পড়ার টেবিলের চেয়ারটায় তাথৈ বসে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। গত তিনদিন রুমন ক্যাম্পাসে যায়নি। কেবল টুকটাক ম্যাসেজে কথা হয়েছে ওদের। তাথৈ শার্লি ভেবেছিলো যাই হয়ে যাক, একটু সময় নিয়ে রুমন আগের মতো ঠিক হয়ে যাবে। তাই তিনদিন ওর ক্যাম্পাস না যাওয়াতেও ওরা বলেনি কিছু। কিন্তু আজকে যখন ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখেছে রুমন আসেনি, দুজন মিলে সোজা বাসায় চলে এসেছে ওর। রুমনের বাবা ব্যবসায়ী মানুষ, মা গৃহিণী। ওর ছোট ভাই আছে একটা। তাথৈ শার্লিকে চেনে সবাই। ওরা বাসায় আসায় বেশ হয় রুমনের মা। দশমিনিট হলো ওরা রুমনের ঘরে এসেছে ওর সাথে কথা বলার জন্য। আর এটুক সময়ে রুমন শুধু বলেছে, ‘ওর ক্যাম্পাস যাওয়ার ইচ্ছে নেই।’ তারপর থেকে শার্লি অনেককথাই বলেছে। কিন্তু রুমন নিরব থেকেছে। তাথৈ মুখ খুললো এবারে। বললো,
– ক্যাম্পাস যাসনি কেনো?
– সেমিস্টার ব্রেক চলছে। অবশ্য ক্লাস থাকলেও আজ ভার্সিটি যেতাম না।
– পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছিস?
– বেচে থাকার অবলম্বনকে কি করে ছেড়ে দেই বল? আমি শুধু সময় চাইছি।
– তোর মনে হয়না তুই আফিফের মতো কারো কথায় একটু বেশিই ভাবছিস?
রুমন চোখ তুলে চাইলো। মৃদ্যু হেসে বললো,
– ভাবার কারন আছে বলেই ভাবছি। ও আমাকে কিছু বললে আমি সেটা কানে তুলতাম না তাথৈ। কিন্তু ও তোকে নিয়ে…
রুমন কথা শেষ করে না। তাথৈ শার্লি প্রসারিত চোখে চেয়ে রইলো ওর দিকে৷ শার্লি কিছু বলতে যাবে, তাথৈ ওকে থামিয়ে দিয়ে বললো,
– তুই এটা ভালো করেই জানিস, আমি তা কানে তুলিনি।
– সেটা তোর ভুল।
রুমনের এ হেন স্পষ্ট জবাব শুনে তাথৈ শার্লির বিস্ময় সীমাপার করলো। থমকে রইলো তাথৈ। শার্লি রীতিমতো কথা বলাই ভুলে গেলো যেনো। তাথৈ আস্তেধীরে উঠে দাড়ালো। ওকে দাড়াতে দেখে রুমনও দাড়িয়ে গেলো৷ তাথৈ শক্ত কন্ঠে বললো,
– ফাইন৷ কিন্তু আমার ভুলটা তুই ঠিক কিভাবে শুধরাতে চাইছিস? আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে?
– প্রয়োজন হলে সেটাই করবো।
– তুই কি পাগল…
শার্লি তেড়ে এগিয়ে আসছিলো। সে সময় ওয়ারড্রোবের ওপরের একটা বড় ফাইল ওর হাতের সাথে লেগে নিচে পরে যায়। থেমে যায় শার্লি। ফ্লোরে পরে একটা ডকুমেন্ট ফাইলের বাইরে বেরিয়ে আসে। তাথৈয়ের চোখ যায় কাগজটায়। ওটা দেখেই চোখ ভরে উঠলো ওর। রুমন চুপচাপ এসে ফাইলটা তুললো। শার্লি আবারো কিছু বলতে যাবে, তাথৈ আটকে দিলো ওকে। রুমনের দিকে তৃপ্ত হেসে বললো,
– আ’ম প্রাউড অফ ইউ রুমন!
– আ’ম অলসো প্রাউড অফ মি তাথৈ।
শার্লির কিছুই বুঝে আসলো না। তাথৈ ওর হাত ধরে টেনে ওকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। ওরা চলে যেতেই কল আসে রুমনের নম্বরে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, রুমন ম্যাসেজ চেক করলো৷ ওপাশের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ে জবাব লিখলো,
‘সমস্যা নেই। আপনি যে কয়েকদিন বলবেন, আমি থাকতে পারবো ওখানে। সেমিস্টার ব্রেক চলছে। একজন অনেকবড় স্টেপ নিয়েছে আমার জন্য। আর আমি তাকে নিরাশ করবো না। আই’ল ডু মাই বেস্ট!’
•
তাশদীদ শান্ত, টিটুকে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ায় বসেছে। পড়া, পড়ানোসহ নানানদিক সামলাতে গিয়ে তাশদীদের কেটে গেছে এ কদিন। ক্যাফের টিভিতে নিউজ চলছে, সেদিকে শান্ত-টিটুর গভীর মনোযোগ। তাশদীদের কানেও আসছে খবরটা। সেরকম আগ্রহ না দেখিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিলো ও। শান্ত বললো,
– এ ব্যাটা তো নোবেল পেয়ে যাবে এ বছর৷
– দেখ! এরাও পড়াশোনা করে, আর আমরাও! এরা পড়াশোনার পাশাপাশি আবিস্কার করে। আর আমাদের দেশে পড়াশোনার পাশাপাশি কি শেখায়? ডিমভাজার প্রনালী! ছ্যাহ্!
টিটু টিপ্পনী কাটলো। শান্ত তাশদীদের দিকে তাকালো। ও অদ্ভুতভাবে হাসছে। ব্যাপারটা যেনো পছন্দ হলো না শান্তর। বললো,
– তুই হাসছিস?
তাশদীদ তেমনভাবেই হাসতে লাগলো। এবার টিটুও বললো,
– আসলেই। তুই হাসছিস কেনো তাশদীদ? এমন দুচারটে ইনভেনশন তো তোর মাথা থেকেও বের করতে পারিস। আমরা না হয় পড়াশোনা করিনা। পড়লেও মুখস্ত, গবেষণা টবেষনার ধার ধারিনা। কিন্তু তুই তো চুপা রুস্তম৷ আগের ভার্সিটিতে এতো না লুকিয়ে চুরিয়ে প্রজেক্ট করতি, এক্সপেরিমেন্ট করতি। কি পেলি তার বিনিময়ে?
– ওসবের বিনিময়ে আমাকে কিছু পেতেই হবে, আমি এমনটা ভাবিনি। তোরা কেনো ভাবছিস?
– কারন পেপেরোমিয়ার ডিএনএ তে বায়োলুমিনেন্টের ডিএনএ রিকম্বিনেশনের আইডিয়াটা তোর ছিলো।
শান্তর কথা শুনে হুট করেই তাশদীদের মুখের হাসিটা গায়েব হয়ে যায়। আশপাশ তাকিয়ে জোরালো হাসলো তাশদীদ। বললো,
– কি বলছিস? আমার আইডিয়া কেনো হবে? আর সেটা টরোন্টোতে কেনো?
– কেনো? যেতে পারে না? তোর ডিপার্টমেন্টের প্রফেসরের ছেলে তো টরোন্টোতে পড়ছে তাইনা? কি নাম যেনো তার? জেইন?
টিটু বড়বড় চোখে একবার তাশদীদের দিকে, একবার টিভিতে তাকালো। লুচিপাতায় জীবদ্যুতির উদ্ভাবক হিসেবে নিউজের হেডলাইনে জেইন নামটা ভাসছে। তাশদীদ একদৃষ্টিতে শান্তর দিকে তাকিয়ে আছে। টিটু কিছু বলার আগেই শান্ত কথা ঘোরালো। কোকের বোতলে চুমুক দিয়ে ট্যুরের পরিকল্পনা করতে লাগলো। কখন, কোথা থেকে, কিভাবে যাবে, খাবে, ঘুরবে, এইসব। সিনিয়র ব্যাচের রাজনৈতিক মুখ বলে পুরো গুরুদায়িত্বটা এসেছে ওর ওপর। ওকে বলতে দেখে টিটু কিছু বলার চেষ্টা করলো। কিন্তু এবার তাশদীদ থামিয়ে দিলো ওকে। বললো,
– প্লানের ফল্ট খোজ টিটু। যতোগুলো ফল্ট পাবি, ট্যুরে তার দশগুন ডিসকাউন্ট দেবো তোকে।
বাকিসব ভুলে গেলো টিটু। মনযোগী হলো শান্তর পরিকল্পনায় খুঁত ধরতে। শান্ত বলা শেষ করলে তাশদীদ টিটুকে বলতে বললো টিটু গলা ঝেরে বলতে শুরু করলো,
– আমি তোর হিসাবে দুইটা জায়গায় ফল্ট দেখলাম শান্ত। তুই যাওয়ার দিন ব্রেকফাস্টে কেক, আপেল আর জুস কেনো রাখলি? ডিম কেনো রাখলি না? আর ঝর্নায় যাওয়ার সময় বললি টংয়ে চা খাবি। ওখানে গেলে কি শুধু চা খাওয়া যাবে পাগল? কিছু এদিকসেদিকের জন্যও টাকা তোল?
কথাটা বলে ‘ক্ক্যা’ শব্দ করলো টিটু। ওর কথা শুনে তাশদীদ কপাল ডলার ভঙিমায় মুখ লুকালো। শান্ত কিছুক্ষণ অবিশ্বাস্য চোখে টিটুর দিকে তাকিয়ে রইলো। এরপর ওরদিক আঙুল তুলে তাশদীদকে বললো,
– এটাকে কি করা যায় বলতো? ওখানে গিয়ে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেবো? নাকি পাহাড় থেকে নিচে ফেলে দেবো? কোনটা বেটার হবে?
– পাহাড় থেকে এমনভাবে ফেলবি যাতে নিচে সমুদ্রে পরে ভেসে যাই। প্লিজ এটা কর। আমি দুইটারই এক্সপেরিয়েন্স নিতে চাই।
টিটু দাত ক্যালালো। বোতল তুলেই ওকে মারার ভঙিমা দেখালো শান্ত। টিটু হুরমুরিয়ে চেয়ারসমেত পিছিয়ে যায়। শব্দ করে হেসে দিলো তিনজনে। তাশদীদ একটুপর হাসি কমিয়ে বললো,
– সেকেন্ড ইয়ারের ফাইনাল শেষ হয়েছে রে শান্ত?
– না। পরশু ভাইবা শেষ। এদের জন্যই ট্যুরের ডেইট ডিলে করছিলো টিচাররা।
তাশদীদ মাথা ঝাঁকালো। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বরাবর তাকাতেই দেখলো শার্লি সিনিয়র এক মেয়ের পেছনপেছন ক্যাফেটেরিয়ায় ঢুকছে। সবসময় আলাদা ভাবে চলা শার্লিকে আরেকজনের পেছনে ঘুরতে দেখে কপাল কিঞ্চিৎ কুঁচকে আসলো তাশদীদের। শার্লির সামনের মেয়েটা এসে ওদের পাশের টেবিলে বসলো। শার্লিও হন্তদন্ত হয়ে ওর পাশে বসে গেলো। কিছু বলতে যাবে, মেয়েটা বললো,
– যাও আগে চা আনো! তারপর শুনছি।
ওর এমন আদেশ শুনে শার্লি টু শব্দটাও করলো না। দ্রুত গিয়ে চা নিয়ে আসে ও। তাশদীদের আগ্রহ বাড়লো। ও মনোযোগী হলো শার্লির দিকে। এপাশে টিটু শান্তকে ট্যুরের টি-শার্টের ডিজাইন দেখাতে ব্যস্ত। ওপাশে শার্লি বললো,
– আপু বুঝতেই পারছেন, আমার সিজির অবস্থা করুন। ফার্স্ট ইয়ারের ভাইভাতে যে পরিমানে বাঁশটা খেয়েছি, সেটা আর এবছর খেতে চাইছি না। সেবার এক্সটার্নাল আমাকে মুখের ওপর এটিচিউড নিয়ে কথা শুনিয়েছিলো। টু আউট অফ ফোর দিয়েছিলো। এবারে একটু ভালো করতে চাই আপু, প্লিজ হেল্প করুন। প্লিজ! আপনি ছাড়া আর কোনো সিনিয়রের সাথে আমার তেমন যোগাযোগ নেই। আর আপনার গত সেমিস্টারের ভাইভাতে এ প্লাস। একটু আমাকে হেল্প করুন। প্লিজ। প্লিজ!
ব্যাপারটা বুঝে আসলো তাশদীদের। ভাইভা ম্যানার শেখার জন্য শার্লি এই মেয়ের পেছনে ঘোরাঘুরি করছে। মেয়েটা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে, গা ছাড়াভাবে বললো,
– ওকে ওকে। আমি তোমাকে কয়েকটা টপিক…
– আপু পড়ার টপিক নিয়ে ঝামেলা নেই। ওটা আমাকে তাথৈ কভার করে দেবে। আগেরবার যা হয়েছে তা শুধু আমার বিহেভ…
– এক্সাক্টলি! ঠিকই করেছে এক্সটার্নাল! বেয়াদ্দপের বেয়াদ্দপ তুমি! ডি কেনো দিয়েছে তারা তোমাকে? তোমার তো ফেইল করা উচিত!
হুট করে মেয়েটার ক্ষিপ্ত মেজাজ দেখে শার্লি পুরো বোকাবনে যায়। ওর বুঝে আসলো না এমুহূর্তে তার এমন ব্যবহারের কি কারন। আগেরলাইনেই তো ওকে হেল্প করবে এমনটা বলছিলো। শার্লি কপাল কুচকে বললো,
– কি সমস্যা আপু? একটুআগেই তো আপনি আমাকে হেল্প করতে চাইছিলেন। কি হলো হঠাৎ আপনার? কিসের আক্রোশ আমার ওপর ঝারছেন?
মেয়েটা আরো তেতে উঠলো এবারে। রাগ নিয়ে উঠে দাড়িয়ে বললো,
– যা খুশি করো তুমি! টপিক নাও তোমার ওই তাথৈয়ের কাছ থেকেই! আর ম্যানারটাও ওর কাছ থেকেই শিখে নিও! গো টু হেল! জাস্ট গো টু হেল!
ব্যাগ নিয়ে হনহনিয়ে চলে যায় মেয়েটা। মেয়েটার রাগের কারন বুঝে শার্লি কপাল চেপে ধরে। মেয়েটা চাইছিলো ওর দেওয়া টপিক পড়ে ভাইভা দিক ও। কিন্তু তার আগেই ও তাথৈয়ের কথা বলে ফেলেছে। বলবেই না কেনো? আগেরবার ভাইভাতে সবাই বলেছিলো, তাথৈয়ের বলা টপিকের বাইরে একহরফও আসেনি। শুধু ও সুযোগ পায়নি জবাব দেওয়ার। তারআগেই এক্সটার্নাল ওকে বেরিয়ে যেতে বলেছিলো। অকস্মাৎ ওর সামনের চেয়ারে এসে বসে যায় তাশদীদ। শার্লি চমকে তাকায়। তাশদীদ টেবিলে আঙুল দিয়ে শব্দ তুলে বললো,
– হোয়াটস আপ শার্লি? পরীক্ষার মাঝে ক্যাম্পাসে কেনো? কাল-পরশু ভাইভা না তোমাদের?
– আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন তাশদীদ ভাই?
নিজেকে সামলালো শার্লি। শান্ত-টিটু নিজেদের মধ্যেকার কথা থামিয়ে তাশদীদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাশদীদ হাসিমুখে সালামের উত্তর নিলো। বললো,
– আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো। তোমার কি অবস্থা বলো! থিওরি কেমন গেলো?
– আর কেমন যাবে বলুন? যেমন স্টুডেন্ট, তেমনই গেছে।
দৃষ্টি নামিয়ে আস্তেকরে জবাব দিলো শার্লি। তাশদীদ মুচকি হাসলো। টেবিলের সামনে কিছুটা মাথা ঝুকিয়ে ধীরস্বরে বললো,
– টেল মি আ থিং শার্লি? তোমাদের ক্লাসের টপাররা হেল্পফুল না?
শার্লি তৎক্ষনাৎ চোখ তুলে চায়। তাশদীদের আগ্রহী চাওনি দেখে বুঝতে পারে, কিছুক্ষণ আগে ও যে মেয়ের পিছনে পড়াশোনার বিষয়ে ঘুরছিলো, সেটা টের পেয়েছে সে। শার্লি স্বাভাবিক হয়ে জবাব দিলো,
– না ভাই। এমনটা না। টপাররা প্রত্যেকেই অনেকবেশি হেল্পফুল। তাথৈ, আলো, তুল্য ওরা সবাই সবাইকে হেল্প করে। কিন্তু কেউ হেল্প তো তখনই করবে, যখন তার কাছে হেল্প চাওয়া হয় তাইনা? আর আমি এমন সমস্যায় পরেছি যে…
– একটা সিক্রেট বলি?
তাশদীদ শার্লিকে শেষ করতে দেয় না। ওর এমন নুয়ানো আওয়াজ শুনে কিছুটা চকিত চোখে চায় শার্লি। তাশদীদ মুখের কাছে হাত নিয়ে, গলার আওয়াজ আরো বেশি খাদে নামিয়ে বললো,
– আই হ্যাভ আ সুপারপাওয়ার। আমি যে কারো, যে কোনো প্রবলেম সলভ করতে পারি। আমার কাছে সবার সবরকমের সমস্যার সমাধান আছে।
তাশদীদের ছেলেমানুষি দেখে শার্লি শব্দ করে হেসে দিলো। তাশদীদ তেমনই ফিসফিসিয়ে বললো,
– আরে আরে! আস্তে হাসো! তোমার হাসি দেখে মানুষ যদি আমার এই সুপারপাওয়ার সম্পর্কে জেনে যায়, তাহলে সবাই সবার প্রবলেম নিয়ে চলে আসবে আমার কাছে। দেখা গেলো, চোর এসে বলছে, আমি চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে যাই, এর সমাধান দিন। ডাকাত এসে বলছে, আমি ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পরে যাই, সমাধান দিন। তুমি বুঝতে পারছো? ব্যাপারটা জানাজানি হলে আমার শক্তির কেমন অপব্যবহার হতে পারে?
শার্লি মজা পেলো। নিজেও এবার ফিসফিসিয়ে বললো,
– ওকে…আমি কাউকে বলবো না। বিনিময়ে আমার প্রবলেমটা সলভ করে দিন তাশদীদ ভাই। প্লিইইইজজজ…
তাশদীদ পেছনের সিটে হেলান দিয়ে আয়েশে বসলো। শার্লি হেসে কথা বলছে ওর সাথে। পাশেরটেবিলে বসা শান্ত টিটু তাশদীদ আর শার্লির কথোপকথন শুনতে পেলো না। টিটু কপাল কুঁচকে বললো,
– কি চলে রে ওখানে শান্ত?
শান্ত শার্লির হাসিমুখ থেকে দৃষ্টি সরালো না। কেবল মুগ্ধ হেসে বললো,
– কি চলে সেটা জানিনা। তবে তাশদীদ একটা ম্যাজিক, এ কথাটার আবারো প্রমাণ পেলাম। ওর সংস্পর্শে এসে বায়োকেমের বিখ্যাত টমবয় শার্লিও গার্লি বিহেভ করতে শুরু করেছে দেখ!
#চলবে…

