#কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
২৩.
অম্বুনীড়ে ঢুকে তুল্য তাথৈকে সিড়িতে বসে মোবাইল ঘাটতে দেখলো। ট্যুরের জন্য আজকেই বেরিয়ে যাচ্ছে ওরা। রাতের ট্রেন। তাই বুজোকে ওর এক বন্ধুর বাসায় রেখে আসতে গিয়েছিলো ও। ভাইকে দেখে ভাবান্তর হলো না তাথৈয়ের। তুল্য সিগারেট ফেলে দিয়ে বললো,
– ট্যুরে যাবি সেটা ড্যাডকে বলেছিস?
– বেরোনোর আগে জানিয়ে দেবো।
জবাব দিয়ে উঠে বাসার ভেতরে চলে যায় তাথৈ। তুল্য হতাশার শ্বাস ফেলে। নিজেকে নিয়ে ওর আফসোস নেই। ওর ধারনা, তাথৈয়ের এমন হওয়ার কারন ওই। বোনকে একা ছেড়ে বিদেশ পড়তে যাওয়াটা সত্যিই ওর উচিত হয়নি। এই অনুধাবন থেকেই দেশে ফিরেছিলো ও। কিন্তু লাভটা কি হলো? তাথৈ ওকে ততোটাই ঘৃণা করে, যতোটা ওর মাকে করে। তুল্য হার মেনে নেয়। যাকে ভালোভাবে বললে ত্যাড়া কথা বলে, খারাপভাবে বললে তেজ দেখায়, সেই মেয়েকে কি করে ঠিক করবে ও? নিজের রুমে চলে আসে তুল্য। ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিয়ে নিচে নেমে দেখে তৈয়ব আলফেজ সোফায় বসে। হয়তো সবেই অফিস থেকে এসেছেন তিনি। তুল্যর হাতে ব্যাগ দেখে বললেন,
– কোথাও যাচ্ছো?
– ডিপার্টমেন্টাল ট্যুর।
জবাবটা তাথৈ দিয়েছে। তৈয়ব আলফেজ দেখলেন তার মেয়েও তৈরী হয়ে ব্যাগ নিয়ে নিচে নামছে। ভদ্রলোক বাড়তি আর একটা কথাও বললেন না। গম্ভীরভাবে বললেন,
– এক গাড়িতে যাও দুজন। এক ড্রাইভার স্টেশন থেকে দুজনের গাড়ি পিক করতে পারবে না।
বাবার ব্যবহার দেখে কিছুটা অবাক হয় তুল্য। তবে তাথৈ অবাক হয় না। ও জানে, তৈয়ব আলফেজের কাছে ওদের নিয়ে ভালোমন্দ বলার সময় নেই। দু ভাইবোন বেরোলো স্টেশনের উদ্দেশ্যে। রাত দশটার দিকে স্টেশনে এসে গাড়ি থামলো ওদের। তাথৈ ব্যাকসিট থেকে নেমে ট্রলি নামাতে চলে গেলো। তুল্য ফ্রন্টসিটে বসে ছিলো। নামতে গিয়ে একপলক সামনে তাকালো ও। ওদের গাড়ির বরাবর শার্লি দাড়িয়ে। পরীক্ষা, ভাইভার পর এ কয়দিনে আর ক্যাম্পাসে যায়নি কেউই। তাই আর দেখাও হয়নি ওদের। শার্লির পরনে সুতির কামিজ। ওর কপালের টিপটাও তুল্যর চোখে পরলো। শার্লি দু হাত কচলাতে কচলাতে, একদম আস্তে করে ঘাড় নেড়ে বুঝালো, ‘ঠিক আছে?’
তুল্যর ঠোঁটের কোনে মৃদ্যু হাসি ফোটে। মাথা ওপরনিচ করে হ্যাঁ বুঝায় ও। একদফা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে নেয় শার্লি। তুল্য হেসে গাড়ি থেকে নামে। ততোক্ষণে তাথৈ ট্রলি নিয়ে এগিয়েছে। শার্লি ওরদিক এগোলো। উত্তেজনা নিয়ে বললো,
– ফাইনালী তুই এলি! আমরা ট্যুরে যাচ্ছি তাথৈ! ট্যুরে!
– অন্যকোনো অপশন ছিলো?
তাথৈয়ের ত্যাড়া জবাব শুনে নিমিষেই চুপসে গেলো শার্লি। তাথৈয়ের যাওয়ার যে বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই, তা ও ভালোমতোই জানে। তুল্য নিজের ট্রলি নিয়ে ওদের পাশ কাটাতে কাটাতে বললো,
– আর কয়েক মিনিট এখানে দাঁড়িয়ে অপশন চেইক কর। ট্রেন মিস করে অম্বুনীড়ে ফেরা একমাত্র অপশন পাবি তখন।
পা বাড়ালো তাথৈ-শার্লি। এগোতেই একঝাঁক ব্যাচমেট, জুনিয়র সিনিয়রকে দাড়িয়ে থাকতে চোখে পরে ওদের। হাজারো উত্তেজনা নিয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের সামনে সবাই। মাঝে দাড়িয়ে শান্ত কিছু বলছে, সবাই আরো উত্তেজিত হয়ে পরছে, আর টিটু ভিডিও করছে। আলো এককোনে চুপচাপ দাড়িয়ে ছিলো। না এসে উপায় ছিলো না ওর। কল করে আগেরদিন বারণ করায় ওকে অনেক কড়া কথা শুনতে হয়েছে শান্তর। শান্তর এক কথা ছিলো ও না গেলে তুল্য তাথৈ কেউই যাবে না। আর টপাররা না গেলে বাকিরাও যাবেনা। তাই বাধ্য হয়ে এসেছে আলো। একসময় তুল্যকে চোখে পরে ওর। লাল টিশার্টের ওপর জিন্সের সোয়েটার, পায়ে লাল কেডস। ট্রলি হাতে এগোচ্ছে সে। আলোর ঠোঁট মৃদ্যু হাসিতে প্রসারিত হওয়ার আগেই চোখ পরলো পেছনে শার্লির ওপর। পরবেই না কেনো? শার্লির পরিবর্তনটা তো চোখে পরার মতোই। চাপা কষ্টে হাসলো আলো। মনেমনে বললো, ‘আমার শখের পুরুষের জন্য তোমার সাজ-শখেরা চিরস্থায়ী হোক শার্লি।’
তাথৈ আলোর দিকে এগোলো। বললো,
– কখন এসেছো?
– প্রায় বিশমিনিট। তোমাকে সুন্দর দেখাচ্ছে শার্লি।
তাথৈকে জবাব দিয়ে আলো পরমুহুর্তে শার্লির প্রশংসা করতে ভুললো না। শার্লি মৃদ্যু হেসে ‘থ্যাংকস’ বললো। আলোর সম্পুর্ন স্বাভাবিক ব্যবহার ছিলো। টুকিটাকি কথা বলতে লাগলো ওরা। একটুপরেই ট্রেনে উঠে বসতে ডাক লাগালো শান্ত। চমকে উঠে ত্রিশজনের মতো ছেলেমেয়ের দিকে তাকালো তাথৈ। ওর অজান্তেই ওর চোখজোড়া খুজতে শুরু করলো কাউকে। শান্তর কথামতো জিনিসপত্র সমেত ট্রেনে উঠে বসে প্রত্যেকে। শোভন চেয়ারের একটা পুরো বগি বুক করা হয়েছে ওদের। শার্লির ধাক্কায় হুশে ফেরে তাথৈয়ের। স্টেশনটায় আরেকদফা চোখ বুলিয়ে উঠে পরে ট্রেনে।
মাত্র আধঘন্টার মাঝে ট্রেনটা দুটো স্টেশন পেরোয়। আর একটুকোতেই বিরক্ত হয়ে উঠলো তাথৈ। আওয়াজ থেকে বাচতে ও ইচ্ছে করে পেছনের উইন্ডো সিটে বসেছে৷ পাশের সিটটায় শার্লি। সামনের জানালার সিটে আলো, পাশে আরেকজন মেয়ে। ট্রেনে ওঠার পর থেকেই সবার মাঝে কলরব পরে গেছে। সামনেরদিকে গানবাজনা, হুল্লোড়, ভিডিও রিলস করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছে সব। এতো কলরব অপছন্দের বলে তাথৈ শুরুতেই কানে হেডফোন গুজে দিয়েছিলো। কিন্তু এভাবে আর কতোক্ষণ? শার্লি উঁকিঝুকি দিয়ে সামনের সারির সিনিয়র জুনিয়রের গলা ছেড়ে গান গাওয়া দেখছিলো। বিরক্তি নিয়ে কান থেকে হেডফোন টেনে খুলে ফেললো তাথৈ। গায়ে থাকা হুডিটাও খুলে ফেললো। আলো বললো,
– হুডি খুলছো কেনো তাথৈ? অনেক ঠান্ডা! অসুস্থ হয়ে পরবে!
– এই আওয়াজের মধ্যে থাকলে পাগল হয়ে যাবো!
এটুক বলেই সিট থেকে বেরিয়ে আসলো তাথৈ। বগির পেছন দিকের দরজায় এগোলো। সেখানে গিয়ে দেখে আফিফ বন্ধ দরজার পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে সিগারেট টানছে। তাথৈকে দেখে ও বললো,
– কিছু বলবি?
– স্মোকিং শেষ করে সরে দাড়া। আমি দরজায় দাড়াবো।
আফিফ সোজা হয়ে দাড়ায়। এগিয়ে এসে তাথৈয়ের সামনে দাড়ালো ও। ফু দিয়ে ধোয়া ছেড়ে বললো,
– যদি না সরি?
– আমার সাফোকেশন হচ্ছে।
– এটা ট্রেন! তোর বাপের সম্পত্তি না যে তোর কথায় আমার সরে দাড়াতে হবে! তাছাড়া ট্রেনে আবার সাফোকেশন কিসের?
মুহুর্তের ব্যবধানে নিজেকে দরজায় আটকানো অবস্থায় পেলো আফিফ। শ্বাস আটকে দিতে চলা মাফলার টেনে ধরে কোনোমতে। ওর গলার মাফলারটা দরজার হাতলে পেচিয়ে, তাতে ফাঁস সৃষ্টি করেছ তাথৈ। ওর চেহারাজুড়ে রাগ। আফিফ কেশে উঠলো। জোর খাটাতে যাচ্ছিলো ও। তাথৈ শক্ত আওয়াজে বললো,
– ঠিক এইরকমই সাফোকেশন হচ্ছে আমার!
আফিফ মাফলার টেনে বের হওয়ার চেষ্টা করলো। উল্লাসী আওয়াজ শুনে নমনীয় হলো তাথৈ। বগির ভেতরে একপলক দেখে নিয়ে, আফিফের মাফলার ছেড়ে দিলো ও। বললো,
– পরিস্থিতি তোকে ছাড় দিচ্ছে আফিফ। কিন্তু তুই তার সুযোগ নেওয়ার মতো ভুল করিস না। কারন গোটা মহাবিশ্ব ছাড় দিলেও, আমি ছাড় দেই না। তাথৈ আলফেজ ছাড় দিতে জানে না। সেদিন আমাকে অপমানের জবাব পাওনা আছে তোর। তাশদীদ ওয়াসীরের দেওয়া একটা চড় এনাফ ছিলো না তোর জন্য।
আফিফের তাশদীদের দেওয়া চড়টার কথা মনে পরে যায়। চড়টা যথেষ্ট ছিলো কি ছিলো না, তা কেবল যে খেয়েছে, সেই জানে। পুরো একদিন একরাত কানে শুনতে পায়নি ও। তীক্ষচোখে চেয়ে , ওখান থেকে চলে আসলো আফিফ। তাথৈ একটা ছোট্ট শ্বাস ফেলে ট্রেনের দরজা খুলে দিলো। চোখ বন্ধ করে তাতে পিঠ ঠেকিয়ে দাড়ালো। হিমশীতল বাতাসে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভব করলেও একচুল নড়লো না তাথৈ। কিছুটা সময় পর ট্রেনের গতি কমে আসে। তাথৈ বুঝলো, সামনে স্টেশন। চোখ মেলে দেখলো, বিমানবন্দর স্টেশন। এ বগিতে আরকেউ উঠবে না বলে তাথৈ দরজা থেকে সরলো না। বেখেয়ালি দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো স্টেশনের দিকে। হঠাৎই ‘শান্ত!’ ডাকটা কানে আসে ওর। পরিচিত স্বর শুনতেই হরিণীর মতো চঞ্চল হয়ে ওঠে তাথৈয়ের চোখজোড়া। পিপাসু চাওনিতে প্লাটফর্মের শত মানুষের ভীড়ে কাউকে খুজতে থাকে ও। কিন্তু কাউকে পায়না। এরমাঝেই ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুইসেল দেয়। ভেতরেভেতরে অস্থির হয়ে পরে তাথৈ। একআকাশ অস্থিরতা নিয়ে আরো বেশিকরে খুজতে থাকে সেই আওয়াজধারীকে। ট্রেন ছেড়ে দেয়। তাথৈ দরজা দিয়ে মুখ বারিয়ে বগির সামনের দরজায় তাকালো। টিটু সামনের দরজায় ঝুলছে। শান্ত ওর গায়ের ওপর ভর করে চেচালো,
– তাশদীদ???
ওদের দৃষ্টি অনুসরন করে তাথৈ তেমনি অস্থিরচিত্ত্বে পেছন ফেরে। ওর চোখে পরলো, ওদের পরের বগির সামনে বসে জুতার ফিতে বাধছে তাশদীদ। পরনে কালো হুডি, কাধে ব্যাগ, পাশে একটা ওয়ানটাইম গ্লাসে চা। শান্তর ডাক শুনে একবার মাথা তুললো ও। খুবই ধীরস্থিরভাবে ‘আরে’ বলে জুতোর ফিতে বাধা শেষ করলো ও। এদিকে ট্রেনের গতির তারসাথে তাথৈয়ের উদ্বেগও বাড়ছিলো। কিন্তু তাশদীদের ওমন নিশ্চিন্ত ভাব দেখে কপাল কুচকে আসে ওর। ট্রেন ছাড়তে দেখেও কোন মানুষটা উঠে দৌড়ানোর পরিবর্তে জুতার ফিতে বাধায় মনোযোগ দেয়? শান্ত আবারো চেচালো,
– ভাই তোর জুতার ফিতা আমি বেধে দিচ্ছি! আগে ট্রেনে তো ওঠ!
তাশদীদ ফিতে বাধা শেষ করে চায়ের কাপ হাতে নিলো। কথা ছিলো সাভার থেকে কমলাপুর না এসে সোজা এই স্টেশন থেকেই উঠবে। কিন্তু তামজিদের যন্ত্রণায় প্রীতিকার্নিশ থেকে বেরোতে দেরী হয়েছে ওর। এখন ট্রেনটাও ছেড়ে দিচ্ছে। ওকে চায়ের কাপ ধরতে দেখে তাথৈয়ের চোখ বড়বড় হয়ে গেলো। এই লোক জানে তাকে দৌড়াতে হবে, তারপরও সে চায়ের কাপ হাতে নিচ্ছে? সামান্য চায়ের মায়া ত্যাগ করতে পারলো না? তাশদীদ দৌড়াতে দৌড়াতে দেখলো ট্রেনের সামনের দুইটা বগি প্লাটফর্ম ছাড়িয়ে গেছে। উপায়ন্তর না দেখে চেচিয়ে বললো,
– তোরা যা, আমি পেছনের বগিতে…
ঠিক সে সময়েই ওদের বগির পেছনের দরজায় তাথৈকে চোখে পরে তাশদীদের। বরাবরের মতো আজও ওর পরনে কুর্তা। কিন্তু সেটা সবুজ রঙের বলে গাড়ির রঙ না জামার রঙ তা খেয়াল করতে পারেনি তাশদীদ। এতোক্ষণ ভেবেছিলো হয়তো পেছনের দরজা খোলা না৷ তাথৈকে পেছনের দরজায় একা দাড়াতে দেখে তাশদীদ হাসলো। চায়ের কাপটা ফেলে দিলো ও। ডানহাতের ব্যাগটা কাধে ঠেকিয়ে আরেকটু বেগ বাড়িয়ে দৌড় লাগালো। চলন্ত ট্রেনের সাথে দৌড়াতে দৌড়াতে বললো,
– হাতটা তো দিচ্ছো না! ব্যাগটা ধরো।
তাথৈ প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই ব্যাগ ওর কোলে ছুড়ে মারে তাশদীদ। আকস্কিকতায় ব্যাগটা ক্যাচ ধরার মতো করে দুহাতে জাপটে ধরলো তাথৈ। তাশদীদ কোনোমতে দরজার হাতল ধরে ট্রেনে ওঠে। কিন্তু সমস্যা হয় অন্যত্র। ঝোঁক সামলাতে না পেরে ও অনেকটা কাছে চলে আসে তাথৈয়ের। তাথৈয়ের পেছনে হাত রেখে দুরুত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলো তাশদীদ। পারেনি। ব্যাগ বুকে আকড়ে ধরে তাথৈ চোখ তুলে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। তাশদীদের দৃষ্টিও ওর চোখে স্থির রয় দু দন্ড। সামনে থেকে টিটুর চেচিয়ে বললো,
– তাশদীদ? উঠেছিস তুই?
মুদ্যুস্বরে হু বলে আস্তেধীরে তাথৈর হাত থেকে ব্যাগটা নিলো তাশদীদ। কোনোরকম শীতের জামাকাপড় না পরে দরজায় দাড়িয়ে থাকা মেয়েটাকে দেখে নোয়ানো আওয়াজে প্রশ্ন করে বসলো,
– শীত করছে না?
তাথৈ ওভাবেই তাকিয়ে রইলো। জবাব দিলো না৷ অকস্মাৎ নিজের হাতের উল্টোপিঠ তাথৈয়ের উন্মুক্ত গলায় ছোয়ালো তাশদীদ। চোখ খিচে বন্ধ করে নিয়ে, দেয়ালে আরো লেপ্টে দাঁড়িয়ে গেলো তাথৈ। তাশদীদ সেকেন্ডের ব্যবধানে হাত সরিয়ে নিলো। ব্যাগসমেত বগির সামনের দিকে ছুট লাগিয়ে বললো,
– হ্যাপি শীত! এন্ড থ্যাংকিউ মিস গ্রিন ফ্ল্যাগ।
তাথৈ ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ শব্দদুটোকে নিজের সাথে মেলাতে পারলো না। কেবল নিরবে দেখলো, এক দুরন্ত মানব ওকে থামিয়ে দিয়ে, ওর রাগকে জমিয়ে দিয়ে সামনে গিয়ে হৈচৈ বাধিয়ে দিয়েছে। তাশদীদ যেতেই ছেলে মেয়ে সবাই মিলে হৈ হৈ করে উঠেছে। ব্যাগটা টিটুর দিকে ছুড়ে মেরে বাকিসবের সাথে তাশদীদ নিজেও চেচাচ্ছে, নাচছে। গুটিগুটি পায়ে নিজের সিটের দিকে আসলো তাথৈ। হুডিটা পরে চুপচাপ বসে পরলো সিটে। ও টের পেলো, ওর শরীর প্রচন্ডরকমভাবে কাঁপছে। শ্বাসপ্রশ্বাস গাঢ় হচ্ছে। অথচ কিছুক্ষণ আগেও তো ওর শীত করছিলো না। তাহলে? হঠাৎ এমন কম্পনের কারন কি। শীত? নাকি শিহরন? রাগ? নাকি রোষানলকে প্রশমিত করতে জানা শীতলতা?
#চলবে…

