প্রেমসুধা #সাইয়্যারা_খান #পর্বঃ১১

0
907

#প্রেমসুধা
#সাইয়্যারা_খান
#পর্বঃ১১

পৌষ’কে কোলে তুলে একদম বারান্দায় এসে নামালো তৌসিফ। পৌষ চমকালো। জীবনের কাছে এসে এই বয়সে অনেক বড় হারাটা ও হেরেছে। নিজের হেরে যাওয়া মানতে না পারা মেয়েটা চেয়েছিলো নিজের সবটা শেষ করতে। তৌসিফের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিতে কিন্তু তৌসিফ তা করে নি। সে সোজা ওকে কোলে তুলে বারান্দায় নিয়ে এসে বসিয়েছে। পৌষ মৌন রইলো। তৌসিফ তাকালো বাইরের আকাশে।
আজ চাঁদের দেখা নেই। মেঘের আড়ালে সে ঘাপটি মে’রে বসে আছে। মেঘের কানাগোনা ও আজ বেশি। এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছে ওরা। তৌসিফের মনে পরলো কোন একটা সময় এই বারান্দায় রাত্রি বিলাস করতো তারা। রাতের পর রাত পা’গল করা প্রেমিকের ন্যায় তৌসিফ তাকিয়ে থাকতো এক নারীর মুখের দিকে। তার কোলে মাথা রেখে শুনতো সকল অহেতুল অযৌক্তিক কথা। সেই অযৌক্তিক কথাগুলোই তৌসিফের মন ভোলাতো। সারাদিনের খাটুনির সমাপ্তি ঘটাতো। নরম তুলতলে হাতটা নিজের হাতে ধরে বুকে রাখতো। চোখ জুড়াতে সময় যায় যায় অথচ প্রাণ জুড়াতো না।
আজও সময়টা এক। তৌসিফ এক। পাশে নারীটি ভিন্ন। এতটুকু ফারাকের কারণে আজ তৌসিফে’র মন টানলো না সেদিনের মতো তবুও কোথায় যেন সূক্ষ্ম এক আকাঙ্খা জাগলো। পৌষ’কে নিয়ে এই রাত্রি বিলাসের আকাঙ্খা।

সুদূর আকাশ থেকে চোখ সরিয়ে ও তাকালো পৌষ’র দিকে। ছটফট করা পৌষ আজ শান্ত বটে। একজন চঞ্চলা প্রাণ’কে যদি থামাতে চাও তবে শুধু তার দূর্বল দিকে দুটো টোকা মা’রো সে আপনা আপনি থমকে যাবে। পৌষ’র ক্ষেত্রে তা ই হলো। প্রশ্ন যখন নিজের অস্তিত্বের উপর তখন মানুষ তো থম ধরবেই। সেখানে পৌষ অতি আবেগী একটা মেয়ে যা তৌসিফ বুঝেছে। ধীরে সুস্থে পৌষ’র পাশে বসে ও। এমনি সময় হলে মেয়েটা সরে যেতো তৌসিফ জানে। আজ না সরার কারণ টা ও তার জানা। তৌসিফ কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,

— বলেছিলাম কিছু প্রশ্নের উত্তর দিব।

— নিজেকে তো দিয়ে দিলাম আপনাকে। ভোগ করুন অতঃপর মুক্ত করুন আমাকে।

“ভোগ করুন” শব্দটা শুনে তৌসিফের রুচিতে বাঁধলো। আর মুক্ত? ও করবে পৌষ’কে মুক্ত? ইহকালে এটা সম্ভব না। পৌষ’কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ধারালো কণ্ঠে বললো,

— ভোগ?

— হ্যাঁ ভোগ। আপনারা এটা বাদে আর কি পারেন?

— ভোগ করার হলে প্রথম রাতেই তা করতাম। হাত-পা বাঁধা ছিলো না আমার আর না ই আমার পুরুষত্বের কমতি আছে।

— তাহলে বসে আছেন কেন? যা করার করুন। আপনাদের নোংরামি থেকে আমাকে মুক্ত করুন৷

এক প্রকার চিৎকার করে উঠে বললো পৌষ। দাঁড়িয়ে গিয়ে বুক থেকে আঁচলটা সরিয়ে বললো,

— আহবান করছি আপনাকে। আমাকে নোংরা করুন৷ মুক্তি দিন৷ আপনার মোহরানা লাগবে না আমার। আপনার ঘরেই রাখা আছে। দয়া করুন আমার প্রতি।

তৌসিফ উঠে এলো। হাত বাড়ালো পৌষ’র দিকে। আঁচলটা টেনে ওর কাঁধে দিয়ে শান্ত স্বরে বললো,

— তোমার আহবান কবুল করলাম পৌষরাত।

একটু থেমে পৌষ’কে নিজের পাশে বসিয়ে বললো,

— তবে কথা দিচ্ছি কোনদিন নোংরা করব না। ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখব। আমার ভালোবাসা পবিত্র হবে।

পৌষ ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ালো পুণরায়। ধারালো কণ্ঠে বললো,

— হা। পবিত্র? তাও আপনারা? জঘন্য থেকে ও জঘন্য আপনারা। কি ভেবেছেন আদি’র ফোনালাপ শুনে আমি ওইসব হাবিজাবি বিশ্বাস করব? এই আমাকে বোকা মনে হয়? মনে হয় আমি বোকা৷ পানিতে যদি ও আমার ছায়া দেখতে পারে তবে আমি কেন আপনার ছায়া দেখতে পারব না? নিজের গাড়ি আগে পাঠিয়ে অন্য গাড়িতে আপনি গিয়েছেন। ভেবেছেন আদি’কে দিয়ে এসব বলিয়ে আমাকে দূরে সরাবেন ওর থেকে? এই মিথ্যা’র কোন প্রায়োজন ছিলো না। জারজ হতে পারি তবে দুশ্চরিত্রা না।

এতকথা বলে দম ফুড়িয়ে এলো পৌষ’র। তৌসিফ পকেট থেকে নিজের ফোনটা বের করে একটা ভিডিও প্লেয়ার অন করলো। যাতে কিছুটা নেশার ঘোরে আদিত্য নিজ মুখে স্বীকার করছে পৌষ’কে বাজি ধরে কথা বলা শুরু করেছিলো ও। কিছু ম্যাসেজ দেখায় তৌসিফ যা দেখে গা শিউরে উঠে পৌষ’র। পৌষ’কে বেড পর্যন্ত নেয়া ই ছিলো আদিত্য সহ ওর বন্ধুদের একমাত্র লক্ষণ। অবিশ্বাসের কিছু দেখলো না পৌষ। এই ভিডিও না হলেও দুই মাস আগের। কোন এক জাহাজের মধ্যে নেশায় বুদ হওয়া আদিত্য।

তৌসিফ ফোনটা সরিয়ে বললো,

— মাত্র এক ঘন্টা পৌষরাত। এক ঘন্টা লেগেছে এগুলো কালেক্ট করতে।

পৌষ’র মুখে কথা রইলো না। তৌসিফ এখানে অর্ধেক সত্যি বললো। আদিত্য দুই মাস আগ পর্যন্ত ও পৌষ’কে খারাপ নজরে দেখলেও ধীরে ধীরে সে অনেকটাই দূর্বল ছিলো পৌষ’র প্রতি। বাবা-মায়ের ছেড়ে দেয়া এক গরু হলো আদিত্য যে যেখানে ঘাষ দেখে সেখানেই মুখ দেয়। আদিত্য’র গার্লফ্রেন্ড সংখ্যা অসংখ্য। হয়তো এতসবে সে পৌষ’কে পছন্দ করা শুরু করেছিলো যা প্রকাশ হওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে গেলো।
তৌসিফ পৌষ’র হাতটা ধরলো শক্ত করে। অতি ঠান্ডা গলায় বললো,

— বিয়ের আগে আমি জানতাম না তুমি কোনভাবে আদিত্য’র সাথে জড়িত তাহলে আজীবন একা থাকলেও তোমাকে বিয়ে করতাম না। আর রইলো মুক্তি? তা ইহকালে হচ্ছে না পৌষরাত। বিয়ে যেহেতু করেছি ছাড়ব না। ভাবছো তোমাকেই কেন বিয়ে করলাম? এর উত্তর অনেক। তুমি নিজেকে জারজ বলো আর যা ই বলো না কেন তুমি এই তালুকদার বাড়ীর সাথে জড়িত। আমার সূত্রে না বরং ভিন্ন ভাবে। শুধু জেনে রাখো তোমাকে নদীতে যাতে না ভাসতে হয় তাই তোমাকে এখানে আনা হয়েছে। বড় ভাই না করেছিলো। মেঝ ভাই ও ততটা রাজি ছিলো না। কিন্তু জানো ছোট ছিলাম বলে বাবা আমাকে সব বলতো। কারণ জানি না৷ আমার আব্বার কথা রাখতেই তুমি এখানে।

তৌসিফের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো পৌষ। ওর গলাটা এবার ভাঙা শুনালো,

— দয়া করে বলবেন, আমি কি কারো পাপ নাকি কারো করা পূর্ণ্য?

— নিজের মা’কে দেখেছো?

পৌষ মাথা নাড়ে। তৌসিফ পুণরায় জিজ্ঞেস করে,

— দেখবে?

হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়তেই তৌসিফ পকেট থেকে একটা সাদাকালো ছবি দেখালো। চিকন গড়নের দুই বেণী করা কোন এক যুবতীর ছবি। অসম্ভব সুন্দর। তবে পৌষ’র চেহারা ওর বাবা’র মতো। ও দেখেছে বাবা’র ছবি।
টলমলে চোখে দেখতেই তৌসিফ বললো,

— তোমার চোখ দুটো তোমার মায়ের মতো।

— হুউ।

— আরেকটা রিজন বলব তোমাকে বিয়ে করার?

পৌষ ওর মায়ের ছবি দেখতে দেখতে ই বললো,

— হু।

— প্রথম বিয়ে প্রেম করে করেছিলাম। বউ আমাকে ঘোল খায়িয়ে পালিয়ে গেলো। আমার প্রেমের সুধা তার পোষায় নি। তাই এবার আব্বা’র করা পছন্দে বিয়ে করলাম। দেখি আমার প্রেমের সুধা তোমায় পোষায় কি না।

— আপনার আব্বা মা’রা গিয়েছে বহু বছর আগে।

— হ্যাঁ। তার আগেই তোমাকে বিয়ে করার কথা বলেছিলো আমায়। যেহেতু আমিই ছোট ছিলাম ছেলেদের মাঝে।

— ফাইজলামি করেন? আমি তখন ক্লাস টুতে পড়তাম। হেমু ভাই বলেছিলো।

— বয়সে তুমি আমার অনেক ছোট পৌষরাত। তাই চাইনি তোমাকে বিয়ে করতে তবে ঐ যে বলে বুড়ো বয়সে ভীমড়ি ওটাই বোধহয় হলো।

পৌষ উড়ে দাঁড়িয়ে রুমে যেতে যেতে বললো,

— অবশ্য ই। কেন নয়? নিজের চরিত্রহীন ছেলের জন্য জারজ ধরে আনতে চাইছিলেন তিনি। চমৎকার ব্যাপার।

___________________

হক বাড়ীতে এক প্রকার কলহ সৃষ্টি হয়ে গেলো। টেবিলে থাকা পানির জগটা ভেঙে চুরমার হয়ে ফ্লোর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। হেমন্ত’র হাত থেকে টুপটাপ ফোঁটায় ফোঁটায় র’ক্ত পরছে। পাশে দাঁড়িয়ে সেটা দেখে পিহা হিচকি তুলে তুলে কাঁদছে। চাইলেও হেমন্তের কাছে গিয়ে বলতে পারছে না হাতটা বেন্ডেজ করাতে। এই মুহুর্তে ওর ধারে কাছে যাওয়াটা ও সাহসের ব্যাপার স্যাপার। ইনি,মিনি গলা ফাটিয়ে কাঁদছিলো বিধায় ওদের মা দুটোকে ধরে রুমে নিয়ে গিয়েছে। এখনও ওখান থেকে সমান তালে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। রাগে ফুঁসতে থাকা হেমন্ত বাবা’র দিকে তাকিয়ে গমগমে গলায় বললো,

— এবার খুশি?

উনি দ্বিগুণ ক্ষেপে গিয়ে বললেন,

— বাড়াবাড়ি করছিস হেমু।

— একশত বার করব। হাজার বার করব। বোন ও আমার। সত্যিটা ওকে আগে বললে ও যখন ভাঙতো তখন সেই ভাঙা পৌষ সামলাতে আমরা থাকতাম ওর কাছে অথচ ওকে এমন সময় জানানো হলো যে যখন ও নিজেই অর্ধেক ভাঙা ছিলো। কেমন চাচা আপনি বাবা? আজ নিজের মেয়ে হলে পারতেন? এই আপনি না ওকে বুকে বুকে রাখতেন? আপনার এই বুক কাঁপলো না? কেমন পাষান আপনি বাবা?

বাবা’র থেকে দ্বিগুণ চিৎকার করে বলে উঠলো হেমন্ত। ওখানে না দাঁড়িয়ে হনহন করে ছাদে চলে গেলো। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে সুদূরপ্রসারী অতলে হারিয়ে গেলো হেমন্ত। কাটা হাতে পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে কোনমতে ঠোঁটে গুজে এদিক ওদিক পকেট হাতালো। লাইটার টা নেই। বিরক্তিতে “চ্যাহ” শব্দ করে র’ক্ত মাথা হাতটা ঝাড়া দিতেই দেখলো গুটি গুটি পায়ে অন্ধকার ঠেলে কেউ এদিকে আসছে। আকাড় তত বড় না। ছোট্ট খাট্টো এক দেহ। ধীরে ধীরে চোখের সামনে আসতেই হেমন্ত’র হাতে ধরে ধীরে ম্যাচ দিয়ে পিহা বললো,

— লাইটার পাই নি হেমু ভাই।

হেমন্ত ম্যাচ নিলেও সিগারেট ধরালো না। শুধু বললো,

— কোন বোন ভাইকে সিগারেট খেতে ম্যাচ এনে দেয়? পৌষ’র আত্না তোর মাঝে এলো কিভাবে?

পিহা কথা বললো না এই বিষয়ে। হেমন্ত’র হাতটা ধরে বললো,

— বেন্ডেজ করে দেই হেমু ভাই?

— দে।

অদক্ষ হাতে সেভলন দিয়ে মুছে গজ পেঁচিয়ে দিলো পিহা। হেমন্ত সেটার দিকে তাকিয়ে হেসে দিয়ে বললো,

— তোর পৌষ আপা থেকে অন্তত ব্যান্ডেজ প্যাঁচানো শিখতি। মানুষ ভালোটা শিখে অথচ তুই শিখলি খারাপ টা।

— জানেন মা বলেছে পৌষ আপা নাকি আর আসবে না।

— সত্যি বলেছে।

— জৈষ্ঠ্য আর চৈত্র ভাই রাতে এখন বাসায় আলুর দম আনে না। বলেছে পৌষ আপা না আসলে আর কোন দিন খাবে না ওগুলো।

— তাহলে খাওয়া ভুলে যা।

— ইনি,মিনি দুধ খেতে চায় না হেমু ভাই।

— এটা ওদের মা দেখবে।

— হেমু ভাই ও আগের মতো আমাদের আদর করে না।

— এটা তাকে গিয়ে বল।

— কোথায় সে?

হেমন্তের হঠাৎ ই টনক নড়লো। আসলেই কি তাই? ও তো একদিন ওদের কাছে টেনেছিলো পৌষ যাওয়ার পর। আর একদিন ও ভাই বোন গুলোকে বুকে টানা হয় নি। আচমকাই যেন ওর বুকে চাপ লাগলো। পিহা’র দিকে তাকিয়ে বললো,

— তোর নিজের জন্য কোন অভিযোগ নেই?

মাথা নাড়ে পিহা। বলে,

— আমাকে পৌষ আপা এনে দিলেই হবে। আমি শুনেছি পৌষ আপার জামাই খারাপ লোক।

— কে বলেছে তোকে?

— স্কুলে গেলাম তখন রজনীর মা বলেছে। সাথে এটাও বলেছে আমি যাতে কখনো ওনার সামনে না যাই।

ধ্বক করে উঠলো হেমন্তের বুকটা। ওর ছোট ভাই-বোন গুলোকে ওর নিজের ই বুঝানো উচিত ছিলো।
আজ বাবা’র সাথে কথা কাটাকাটি ও হয়েছে ওটা নিয়ে। তৌসিফ মানুষ আদৌ কতটা ভালো বা খারাপ তা কেউ জানে না?

___________________

সকাল সকাল মিনু’র চিল্লা চিল্লিতে ঘুম ভাঙে পৌষ’র। পাশে তাকিয়ে দেখলো তৌসিফ নেই। গতরাতে পৌষ এই রুমে ই ঘুমিয়েছিলো। বিরক্ত হয়ে উঠে মাথা ধরে রাগে দাঁত চেপে বললো,

— এই মিনুর বাচ্চাকে আজ এমন শিক্ষা দিব। সকাল সকাল ওর চিল্লাচিল্লি বের করব আজ।

পৌষ বিছানা ছাড়বে তার আগেই তৌসিফ রুমে ঢুকলো। পৌষ’কে বিছানায় থাকতে দেখে বললো,

— গুড মর্নিং।

পৌষ কিছুটা খেঁকিয়ে উঠলো,

— কাজের লোক সকাল সকাল এভাবে চিল্লা চিল্লি করে ঘুম ভাঙাবে আর মনিব এসে বলবে গুড মর্নিং। ওয়াও। নাইস।

তৌসিফ গায়ে থাকা জিমের জ্যাকেটটা খুলতে খুলতে বললো,

— কে চিল্লিয়েছে?

— আপনার মিনু।

— ওহ। আচ্ছা তুমি নাকি ওকে কাল মে’রেছো?

কথাটা বলতে দেড়ী দুই লাফে বিছানা ছাড়তে পৌষ’র দেড়ী হলো না। তৌসিফের সামনে দাঁড়িয়ে কোমড়ে হাত রেখে বললো,

— বাহ্ বাহ্ আপনার কান ভরে দিয়েছে?

— মানে?

— ঐ ছেড়ী কেন বিচার দিবে আমার নামে? কে হয় ও? একশত বার মা’রব। থাপ্পড়ে ওর চাপা ভেঙে দিব। আমাকে পার্সোনাল কথা জিজ্ঞেস করে। আর একবার যদি ও আমাকে খোঁচায় ওর মাথার ঐ লাল, নীল চুল টেনে ছিড়ে শাক রেঁধে আপনাকে খাওয়াব আমি। নিশ্চিত আপনার বুকে পরে পরে বিচার দিয়েছে। শালী ******

রাগে কাঁপতে কাঁপতে কথাগুলো বললো পৌষ। তৌসিফ হতভম্ব ভাব কাটাতে পারছে না। মিনু সকালে কেঁদে কেটে ওকে বিচার দেয়ার পর মিনুকে হাতে দুই হাজার দিয়ে তৌসিফ চলে গিয়েছিলো। ও তো এমনিতেই পৌষ জিজ্ঞেস করলো তাতেই এই মেয়ে রেগে বোম। শেষে কি গালিটাই না দিলো।
তৌসিফের ভাবনার মাঝেই মিনু’র চুল ছিঁড়তে রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো পৌষ। তৌসিফ ওকে ধরতে ধরতেই পৌষ হাতছাড়া। যেই না মিনু’কে ধরবে ওমনিই দরজা দিয়ে সোহাকে ঢুকতে দেখে মিনু চিৎকার করে লাফিয়ে উঠে ডাকলো,

— আপা। আপা। আমার আপা এসেছে। মামা দেখে যান আপা এসেছে।

সোহা ভেতরে ঢুকে ই মিনু’কে জড়িয়ে ধরে। পৌষ’র দিকে তাকিয়ে বলে,

— এই মেয়েটা কে? আর এমন বেহাল দশা কেন এর?

পৌষ খিটমিটিয়ে উঠলো। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো আসলেই বড্ড এলোমেলো হয়ে আছে ও। রাতে ঘুমালে দিন দুনিয়ায় হুশ ওর থাকে না। মাঝে মধ্যে তো সকালে নিজেকে আয়নায় দেখে গুলিস্তানের ফুটফাটে বসা গঞ্জাখোড় মনে হয়।

#চলবে…

রোদ হিসেবে ব্যাস্ত তখনই পুরুষটা জিজ্ঞেস করলো,

— বলো? কোন দরকার?

–হ্যাঁ।

— কি দরকার?

— বিয়ে করব।

খুকখুক করে কেঁশে উঠলো বুড়োটা। পুণরায় জিজ্ঞেস করলো,

— কাকে?

— আপনাকে?

এবার রীতিমত ঘাম ছুঁটে গেলো তার। রোদ টেবিলে থাকা পানির গ্লাসটা তাকে এগিয়ে দিয়ে বললো,

— আরে আরে আঙ্কেল ঠিক আছেন?

পরপরই জিহ্বা কাটলো। আঙ্কেল ডাকা যাবে না। তাই বলে উঠলো,

— আরে ভাইয়া পানি খান আপনি। নিশ্চিত রেডি হওয়ার সময় পান নি।

লোকটা পানি খেতে কিছুটা শান্ত হলো। নিজেকে ধাতস্থ করে বললো,

— দেখ মা আমার বউ, বাচ্চা আছে। তুমি কি বলছো এসব?

“বউ” আছে শুনে তেঁতে উঠলো রোদ। বুড়ো বউ রেখে তাহলে আবার বিয়ে করতে চাইছিলো? হায় আল্লাহ! রোদ ফেঁসে গেলো না তো? বিয়ের নাম করে পরকীয়া করবে না এই বুড়ো? রোদ তো ইয়াজের বুদ্ধিতে মজা করে নিজের পকেট ভারী করতে এসেছিলো এখন না ফাঁসলেই হলো।
কিছুটা তেঁতে উঠা গলায় রোদ বললো,

— আগে তো বলেন নি বউ আছে? শুধু বাচ্চার কথা বলেছেন কেন?

— বউ ছাড়া বাচ্চা আসবে কোথা থেকে?

রোদ আদ্রিয়ান নিয়ে লিখা ই-বুক “চিনি”। মাত্র ৫০ টাকায় ই-বইটি পড়তে কমেন্টে দেয়া লিংকে ক্লিক করুন।

যারা পড়েছেন বা পড়বেন অবশ্য ই বইটই অ্যাপে রিভিউ দিবেন…. 💜

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here