আঁধারে_প্রণয়কাব্য #পর্ব____১৭ #নিশাত_জাহান_নিশি

0
41

#আঁধারে_প্রণয়কাব্য
#পর্ব____১৭
#নিশাত_জাহান_নিশি

“চোখের মাথা খেয়েছিস? আমাকে চোখে লাগেনা?”

অধর কোণে ক্রুর হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলল ফায়েয। একটু মজা নেয়া যাক তবে। পাত্রীটা আসলে কে চট করে বলে দিলে প্রত্যয়ের সাথে মজা লুটা যাবেনা। অনেকদিন হলো প্রত্যয়ের পেছনে বাঁ হাত দেয়া হয়না! প্রত্যয়কে ঝাঁকিয়ে ফায়েয বাজিয়ে বলল,

“তুই প্রস্তুত?”
“একদম। শুধু ক্লিন শেভ করা বাকি!”
“কোনো তাড়াহুড়ো নেই। নিচের দিকেও একটু নজর দিস!”

ফায়েযের কু-ইঙ্গিত বুঝতে পারল প্রত্যয়। দাঁত কপাটি বের করে রসিয়ে বলল,

“অশ্লীল না?”
“ঐটাই তো মেইন!”
“যত্নেই রেখেছি।”
“কই দেখি!”
“শ্লা তোকে কেন দেখাব?”

দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে গেল! ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ফায়েযকে থামিয়ে প্রত্যয় হাঁপিয়ে ওঠা গলায় বলল,

“শ্লা থাম। আগে বল মেয়েটা কে?”
“মেয়ে যে-ই হোক, যেমন-ই হোক। মেয়ে পেলেই তো হলো তোর!”
“তা অবশ্য ঠিক। হাজার বছর পর তুই একটা কাজের কাজ করলি। তোর এই অসহায়, কাঙাল, দুস্থ বন্ধুটার দিকে মুখ তুলে তাকালি। আল্লাহ্ তোর ভালো করবে নে।”

প্রত্যয় পুরো সিরিয়াস। ফায়েযকে মন থেকে হাজার রকম দোয়া করতে ব্যাস্ত তখন। প্রত্যয়ের সাথে মজা নিতে ফায়েযের বরং ভালোই লাগছিল। বড়ো বড়ো শ্বাস ফেলল দুজন। রাস্তার পাশে থাকা দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাড়ালো। আচমকা কপালে ভাঁজ পড়ল ফায়েযের। প্রয়োজনীয় কিছু একটা মনে পড়ল তার। বেগ পোহালোনা সে। বেশ তৎপর গলায় প্রত্যয়ের দিকে প্রশ্ন ছুড়ল,

“আচ্ছা নাবিল ভাইয়ার কি খবর?”
“আছে ভালোই। কেন?”
“ভাইয়ার সাথে কবে দেখা করাবি বল?”
“তুই কবে দেখা করতে চাস বল?”
“কাল বা পরশু?”
“ডান। কিন্তু কেন?”
“তোর বিয়ে। তোর ভাই তোর জন্য ঠিক করা পাত্রী দেখব না?”
“ওহ্ হ্যা। তা তো অবশ্যই!”

____________________

“আমি কেসটা তুলে ফেলতে চাই মিস্টার ফায়েয!”

শক্ত কণ্ঠ সানামের। কথায় কোনো রসকষ নেই। মুখে চরম লেভেলের কাঠিন্য ভাব। ফায়েয ভড়কালো। ঘুম থেকে ওঠেই তাকে কিসব হ য ব র ল কথা শুনতে হলো। তাও আবার উদোম শরীরে! চোখ থেকে ঘুম উবে গেল ফায়েযের। তড়িঘড়ি করে সে শোয়া থেকে ওঠে বসল৷ তার দৃষ্টির সম্মুখেই বুকে হাত গুজে দাম্ভিক ভঙিতে দাড়িয়ে সানাম। দৃষ্টি তার অন্যদিকে। ফায়েয হটকারি গলায় শুধাল,

“রাতে কি খেয়েছেন?”
“আপনাকে খেয়েছি!”
“কিহ্!”
“যেমন প্রশ্ন তেমন উত্তর!”

সানামের এই রূপের সাথে ফায়েয নতুনভাবে পরিচিত হলো। বিছানায় হাতে ভর দিয়ে বসল ফায়েয। বেশ আরাম করেই বসল। চোয়াল উঁচালো। কদাকার হেসে লাগামহীন গলায় বলল,

“ওহ হো চোখের সামনে ভার্জিন ছেলে দেখে মাথা একদম ঠিক নেই তাইনা? তাও আবার বিবস্ত্র শরীর! ফুটফুটে ফর্সা দেহ। বলিষ্ঠ শরীর। বাই দ্য ওয়ে আমি কিছু মনে করিনি। শুনতে ভালোই লাগছে। আরও কিছু অশ্লীল কথা বলুন, শুনি! সকাল টাইমে মুড এমনিতেও অন থাকে।”

ফায়েযের ঠোঁটে বাঁকা হাসির রেখা। দৃষ্টি তার বেসামাল। সানামকে ঠিকঠাকভাবে তাতিয়ে দেয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায়। সানাম একটু আগেও ভাবেনি তার একটা কুচুটে কথার পরিবর্তে এতগুলো নির্লজ্জ কথা অনায়াসে শুনে যেতে হবে! সানামের দৃষ্টি খরতর। নাকের ডগা লাল হয়ে এলো। তবুও সে ফায়েযের দিকে ফিরে তাকালোনা। বরং ভ্রুদ্বয় কুঁচকে রুক্ষ গলায় বলল,

“একটু খেয়াল করলে হয়ত দেখবেন আমি আপনার দিকে এখনও ফিরেও তাকাইনি! বয়ে গেছে আপনার দিকে ফিরে তাকাতে।”

“বয়ে যায়নি। তবে যাবে! দেখবেন আমি ওয়ান টু কাউন্ট করতে করতেই আপনি আমার দিকে ফিরে তাকাবেন!”

সানাম হেয়ো হেসে বলল,

“হাহ্, শেগুড়ে বালি!”
“এই ফ্লোরে সা*প। রাসেলস ভাইপার!”
“কোথায় রাসেলস ভাইপার?”

সানাম চট করে ফায়েযের দিকে ফিরে তাকালো। শঙ্কিত গলায় বলল,

“ফাইজলামি পাইছেন?”
“ইশশ! ফিরে তাকালো ময়নাটা!”

সানাম রুখে এলো ফায়েযের দিকে। বিছানায় হাঁটু গেড়ে বসে ফায়েযের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। দাঁতে দাঁত চিবিয়ে বলল,

“আমি এখানে আপনার সাথে ইম্পর্টেন্ট কথা বলতে এসেছি। ইয়ার্কি ফাজলামি করতে নয়।”

ফায়েয নিমগ্ন। সূক্ষ্ম ও নিঁখুত দৃষ্টি ক্ষিপ্ত সানামের দিকে নিবদ্ধ। রয়ে সয়ে ফায়েয বলল,

“কাছ থেকে দেখতে আপনি আরও সুন্দর। ইতিমধ্যে যদিও পৃথিবীর সব সুন্দর সুন্দর সৃষ্টিগুলো আমার দেখা হয়ে গেছে। তবে আপনাকেই ভালোবাসার চোখে এতটা কাছ থেকে দেখা বাকি ছিল! জন্ম আমার ধন্য করে দিলেন আপনি।”

“ধ্যাত আমি চলেই যাচ্ছি।”

বিরক্ত হলো সানাম। মুখের ভাব পাল্টালো। নিমিষেই ফায়েযের সম্মুখ থেকে প্রস্থান নেয়ার জন্য পেছন ঘুরল। ফায়েয তার সীমা বুঝতে পারল। যা একটু আগেই লঙ্ঘন করে ফেলেছে সে! শঙ্কিত হলো ফায়েয। তড়িৎ বেগে বিছানা ছেড়ে ওঠে দাড়ালো। সটান হয়ে সানামের সামনে দাড়ালো। দুষ্টুমির ভাবভঙি পাল্টে সে বেশ তৎপর গলায় শুধাল,

“ওকে বলুন কি ইম্পর্ট্যান্ট কথা?”
“আমি কেসটা তুলতে চাই।”
“কারণ?”
“কার জন্য লড়ব আমি?”
“কেন? আপনার এক্সের জন্য।”
“এক্স মরে ভূত হয়ে গেছে। এমন দু-নম্বর লোকের জন্য আমি কোর্ট কাচারিতে দৌড়োদৌড়ি করতে পারবনা।”
“সিরিয়াসলি?”
“অমন অবাক হওয়ার কি আছে? স্বার্থপর মানুষের কথা আমি দু-বার ভাবিনা। আমি অতোটাও ভালো মানুষ নই।”

ফায়েয হয়রান হয়ে গেল। সানামের রূপ এবার খুলছে বলে! তবে ফায়েয এই বিষয়ে সানামকে প্রশ্রয় দিতে চাইলনা। বেশ ভেবেচিন্তে বলল,

“কেস তোলার কোনো প্রয়োজন নেই।”
“কেন? জাস্টিস দেখাতে এসেছেন?”
“উঁহু। এখানে আমার স্বার্থ রয়েছে।”
“যেমন?”
“এখন আপনি কেসটা তুলতে গেলে আমার করা কেসগুলোও পুরোপুরি হালকা হয়ে যাবে।”

সানাম ভাবল। ফায়েযের এটুকু উপকার সে অনায়াসে করতেই পারে। সানাম সম্মতি প্রকাশ করল। বলল,

“ওকে। এজন্যই আপনার কাছে আসা।”
“এটা ফোনেও বলা যেতো!”
“কিছু বিষয় সামনাসামনি কথা বলে মিটমাট করা ভালো।”
“এতে মানুষটাকেও দেখা হয়ে গেল!”
“আবার শুরু করেছেন আপনি?”
“কি করব? আপনি করছেনই এমন কাজ। ঘুম থেকে ওঠেই আপনার মুখ দেখতে হচ্ছে। চলেন একসাথে ঘুমাই!”

সানাম কথা বাড়ালোনা। ফায়েযকে ধাক্কা মেরে রুম থেকে বের হয়ে গেল। ফায়েয হাসতে হাসতে সানামের পিছু নিয়ে বলল,

“আরে দাড়ান। কোথায় যাচ্ছেন?”
“বাড়ি যাচ্ছি। আপনার মতো ঠোঁটকাটা লোক আমি বাপের জন্মে দেখিনি।”

ইতোমধ্যেই একটি ফর্সা, লম্বা দেখতে মেয়ে পাশের রুম থেকে বের হয়ে এলো। সানাম ও ফায়েযের মুখোমুখি হয়ে গেল। মেয়েটি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সানামের আগা গোঁড়া খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল। অতঃপর ফায়েযের দিকে দৃষ্টি ফেলল। ফায়েয মেয়েটিকে দেখে চমকালো। বলল,

“তৃধা তুই?”
“মেয়েটা কে?”
“কখন এলি তুই?”
“আগে বলো মেয়েটা কে?”
“বেস্টফ্রেন্ড!”

ফায়েযের প্রত্যত্তুরে সানাম কেমন যেন আঘাত পেল! তৃধাকে ডিঙিয়ে সে ফায়েযের বাড়ি থেকে প্রস্থান নিলো। শ্রেতাদের বাড়ি একবার যেতে হবে তাকে। এই উদ্দেশ্য নিয়েই সে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।

তৃধা ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। উতলা ফায়েযের দিকে দৃষ্টি ফেলল। প্রশ্ন ছুড়ল,

“খালি গাঁয়ে কেন তুমি? সিক্স প্যাকওয়ালা বডিটা সবাইকে দেখাচ্ছ?”

“এত ক্ষেপছিস কেন স্টু’পিট!”

ফায়েয রুমে ঢুকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো। তৃধা অজানা কারণেই ফুলে ফেঁপে ওঠছিল। মুখশ্রী কুঁচকে বিড়বিড় করে বলল,

“এট অ্যানি কস্ট ঐ মেয়েটি সম্পর্কে আমার খোঁজ নিতে হবে!”

________________________

“ধ্যাত বেটা।। মেয়ে দেখাইতে আনছিস মেয়ে কই?”

প্রত্যয় আগাগোড়া ফিটফাট হয়ে রেস্টুরেন্টে ফায়েযের পাশে বসে ছটফট করছিল। ফায়েয ফোন চাপতে ব্যাস্ত। অমনোযোগী কণ্ঠে বলল,

“এত উতলা হচ্ছিস কেন?”
“তর সইছেনা। ব্রেকাপের পর নিজেকে কত সামলে রেখেছি জানিস?”
“আমার চেয়েও বেশি?”

ইতোমধ্যেই শার্টের হাতে গুটাতে গুটাতে নাবিল বেশ ব্যাস্ত ভঙিতে ফায়েযদের বুক করা টেবিলটির দিকে এগিয়ে এলো। ফায়েযদের সামনেই থাকা চেয়ারটি টেনে বসে সে অনর্গল বলতে শুরু করল,

“সরি সরি। তোদের অনেকক্ষণ অপেক্ষায় রেখেছি।”

নাবিলকে দেখে প্রত্যয় চমকালেও ফায়েয বেশ প্রস্তুতভাবে আলতো হেসে বলল,

“ইট’স ওকে ভাইয়া। আপনি আমার ডাক শুনে এসেছেন এইতো অনেক।”

“আরে কি বলো? এতো ফর্মালিটিস দেখাচ্ছ কেন?”

#চলবে_____?

[আগামী চার তারিখ আমার পরীক্ষা। এই কয়েকদিন হয়ত গল্প না ও আসতে পারে।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here