শুনলাম_বসন্ত_নাকি_আবার_এসেছে #লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান #পর্বঃ২৬

0
814

#শুনলাম_বসন্ত_নাকি_আবার_এসেছে
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২৬

পরদিন ভার্সিটিতে সাভাশ মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে ৷ ও নিশ্চিত বারিশ কিছু না কিছু তো করবেই করবে ৷ কিন্তু ওর বিশ্বাসে পানি ঢেলে দিয়ে বারিশ কিছুই করল না ৷ বরং ক্লাসে সেদিন সাভাশের করা প্রেজেন্টেশনের খুব করে প্রশংসা করল যেটা সচরাচর বারিশের থেকে আশা করা যায় না ৷

প্রশংসা শুনে সাভাশের ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ বিরবির করে বলে উঠল,,,, আমাকে কি চাটু মে*রে পটানোর চেষ্টা করছে নাকি? অসম্ভব কিছু না ৷ আয়েশাকে বিয়ে করার জন্য দেখছি এখন আমাকে পটাতেও দ্বিধা বোধ করছে না ৷

আয়েশা কালকে যেমন মাথা নিচু করে বারিশের সামনে বসে ছিল ৷ আজ ক্লাসেও তেমন মাথা নিচু করে ছিল ৷ বারিশের দিকে তাকাতে একদম ইচ্ছা করছে না ওর ৷ কিছুক্ষণ পর বারিশ ধীর পায়ে ওর সিটের পাশে এসে দাঁড়িয়ে গলা খাকারি দিল ৷ আয়েশা চকিতে মাথা তুলে তাকাল ৷ মনে মনে বলে উঠল,,,

আজকেও অ*পমান করবে নিশ্চিত!

কিন্তু ওকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করে দিয়ে বারিশ ওকে একটা পেনড্রাইভ দিয়ে বলল,,,

এখানে একটা লেকচার আছে ৷ কাল এসে সেই লেকচার টা তুমি সামনে গিয়ে আমাদের সবাইকে বোঝাবে ৷

আয়েশার চোখ কপালে উঠে গেল ৷ হতাশ কন্ঠে বলল,,, এর চেয়ে এক ঘন্টা বসিয়ে রেখে অ*পমান করতেন ৷

বারিশ যেন ওর কথায় হাসল এমনটা অনুভব হলো আয়েশার কিন্তু ভালোভাবে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল ওর মুখ স্বাভাবিক ৷ বারিশ ক্ষণকাল পর বলে উঠল,,

আই থিংক আমার কথা বুঝেছো ৷ ভালোভাবে লেকচার টা দেখবে, বুঝবে আর বোঝাবে ৷

বারিশ চলে গেল ৷ আয়েশা কপালে হাত দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে বলল,,,

বিয়ে হওয়ার আগেই স্টাডি ট*র্চার শুরু করে দিয়েছে শা*লা!

বারিশ ক্লাস থেকে বেরিয়ে যেতেই সাভাশ ওর পিছু পিছু গেল ৷ বারিশের পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বলল,,,

আমাকে মাখন দিয়ে লাভ নেই বোন আমি দিব না ৷ বিয়ের দিন বোনকে এমন জায়গায় লুকিয়ে রাখব যে চিরুনি তল্লাশি করেও ওকে খুঁজে পাবেন না ৷

বারিশ মুচকি হেসে বলল,,, তাই? দেখা যাক শালা বাবু ৷ কি করতে পারো তুমি ৷ আমাকে আন্ডারস্টিমেট করার ভুল করো না যেন ৷ তোমার বোন আমার মানে আমারই ৷

কাল না দিলাম বোনকে ৷ আজ আবার আরেকটা চাই?

বারিশ হঠাৎ থেমে গেল ৷ ওকে থামতে দেখে সাভাশও থেমে গেল ৷ বারিশ সাভাশের কাধে হাত রেখে অত্যন্ত ঠান্ডা স্বরে বলল,,,,

তোমার বোন আমার কাছে এতোই মূল্যবান যে তাকে আমার একটা হাতের মুঠোয় নেওয়া সম্ভব নয় ৷ সে পুরো বিজয় আহমেদ বারিশের চিত্তপটের সাম্রাজ্ঞী হবে ৷ তার স্থান অনেক উঁচুতে ৷ সে আমার হৃদয়ের গভীরে মুক্তোর মতো রক্ষিত থাকবে , হাতের মুঠোয় না ৷

কথাটা শেষ করে বারিশ একটা মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল ৷ সেদিকে কিছুপল একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে সাভাশ হঠাৎ মুচকি হাসল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

আজ সেই মহেন্দ্রক্ষণ ৷ হাসান পরিবার আর ইসলাম পরিবারের দুই মূল্যবান সোনার খনি অন্যের বাড়িতে গিয়ে শোভা প্রদর্শন করবে ৷ মেয়েদের কে বিদায় দিতে হবে ভেবে সকাল থেকেই ব্যথিত হৃদয়ের বাবা মা রা অস্থির হয়ে উঠেছে ৷ যেহেতু দুটো বিয়ে একসাথে তাই বড়সড় একটা কমিউনিটি সেন্টারে বিয়েটা আয়োজন করা হয়েছে ৷

পাশাপাশি দুই জোড়া আসন খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ৷ সাভাশ আর তুষার গায়ে শার্ট চাপিয়ে সকাল থেকে সবকিছু তদারকি করে চলেছে ৷ বোনদের বিয়ে বলে কথা দায়িত্ব তো পালন করতেই হবে ৷ সব দায়িত্ব পালন শেষে ওরা তৈরি হতে চলে গেল ৷

আয়েশা আর তুবা কনের সাজে একটা নির্দিষ্ট রুমে বসে আছে ৷ দুজনের থেকে চোখ সরানো যেন দায় হয়ে পড়েছে ৷ দুজনেই মেরুন রঙের বেনারসি পড়েছে সাথে ম্যাচিং করা হিজাব ৷ মুখে হালকা প্রসাধনী আর মেহেদি রাঙা দু খানা হাত ৷ তাতেই অপূর্ব মায়াবী হয়ে উঠেছে দুই যুবতী ৷

নীর আর শেহনাজ ওদের সাথে বসে আছে ৷ আর কিছুক্ষণ পর পর উৎফুল্ল হয়ে নতুন কনেদের প্রশংসা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে ৷ শেহনাজ বলে উঠল,,,,

আহ তোমাদের কি সুন্দর লাগছে! দুলাভাইদের ভাগ্য দেখে আমার হিং*সা হচ্ছে ৷ আমি ছেলে হলে তোমাদের দুজনকে বিয়ে করতাম ৷

নীর সামান্য হেসে বলল,,, ছেলে হলেও পেতি না কারন তুই আপুদের থেকে ৪ বছরের মতো ছোট ৷

তাতে কি? ভালোবাসা বয়স মানে না ৷ বউয়ের ইনকামে আমি চলতাম ৷ কতো সুন্দর হতো না ব্যাপার টা?

ওর কথা শুনে তিনজনই হাসতে লাগল ৷ এমন সময় সাভাশ আর তুষার পাঞ্জাবী পড়ে ওদের কাছে চলে আসল ৷ সাভাশ এসেই শেহনাজের পাশে বসে পড়ল ৷ শেহনাজের অপর পাশে নীর বসা ৷ তুষার ,আয়েশা আর তুবার দিকে তাকিয়ে বলল,,,

তোদের কিন্তু দারুন লাগছে ৷ মানতে হবে বারিশ স্যার আর ডাক্তার স্বাধীনের চয়েজ আছে ৷

সাভাশ টিটকারি মে*রে বলল,,,, ছ্যাহ কোন দিক দিয়ে সুন্দর লাগছে ওদের? কি বি*শ্রি সাজ সেজেছে! এদের দেখলে তো বর বিয়ের আসর ছেড়ে বাপ বাপ করে পালাবে ৷

আয়েশা আর তুবা ক*টমট দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, সাট আপ ৷

সেটাকে খুব একটা পাত্তা না দিয়ে সাভাশ বলে উঠল,,, সুন্দর তো লাগছে নিক্কি আর আমার বোনুকে ৷ একদম ন্যাচারাল বিউটি যাকে বলে ৷

তুষার নীর আর শেহনাজের দিকে তাকিয়ে বলল,,,আসলেই ৷ সত্যি বলতে নীরকে আজ চেনাই যাচ্ছে না ৷ একদম অন্যরকম সুন্দরী লাগছে ৷

শেহনাজের মন এতোক্ষণ ভালো থাকলেও তুষারের মুখে নীরের প্রশংসা শুনে ওর মনটা একদম বিষিয়ে উঠল ৷ মন খারাপ করে ও সাভাশের কাঁধে মাথা দিল ৷ তা দেখে সাভাশ ভ্রু কুঁচকে বলল,,,,

বোনু কি হয়েছে? ওইই দুইটা শা*কচুন্নির জন্য ক*ষ্ট পাওয়ার কিছু নেই ৷ ওরা আমাদের এতো সহজে রেহাই দিবে ভেবেছিস? একদম জোকের মতো লেগে থাকবে দেখিস ৷

শেহনাজ সাভাশের হাতটা শক্ত করে ধরে ওর কাধে মাথাটা আরও স্থায়ীভাবে রেখে দিল ৷ সাভাশ কোনও বাধা দিল না ৷ ওর অবস্থা দেখে তুষার বলল,,,

ভ্যাবলি মন খারাপ করিস না ৷ তোকেও ওদের দুজনের সাথে পাঠিয়ে দিব বুঝলি?

শেহনাজ তুষারের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি কাটল কিন্তু কোনো উত্তর দিল না ৷ কিছুক্ষণ নিরবতা বিরাজ করল ৷ নিরবতা ভেঙে আয়েশা হতাশ স্বরে বলে উঠল,,,

আমি ওই বুড়োকে বিয়ে করব কিভাবে? শা*লা আমার থেকে ১০ বছরের বড় ৷ স্বাধীন ভাইয়া আর তুবার জুটিটা কত সুন্দর ৷ ওদের বয়সের গ্যাপ জাস্ট চার বছর ৷

নীর বিজ্ঞের মতো বলে উঠল,,, একদম না ৷ আমার কাছে দশ বছরের ব্যবধান টাই বেশি পারফেক্ট ৷ চার বছরের গ্যাপ আমার একদম পছন্দ না ৷

সবাই একযোগে অবাক হয়ে বলল,,,কেন?

এতে করে নীর খানিকটা ভড়কে গেলেও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,,, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বয়সের ব্যবধান কম থাকলে স্ত্রী রে*গে স্বামীর গায়ে থুথু ছুঁড়লে স্বামীও উল্টো থুথু ছোঁড়ার সম্ভাবনা প্রবল ৷ কিন্তু বয়স ব্যবধান বেশি থাকলে উল্টো থুথু খাওয়ার সম্ভাবনা নেই ৷

সাভাশ তৎক্ষণাৎ বলে উঠল,,, তবে তুলে আ*ছাড় মা*রার সম্ভাবনা অত্যধিক ৷ এখন তুই ভাব থুথু খাবি না আ*ছাড় খাবি?

নীর ঠৌঁট উল্টে সাভাশের দিকে তাকাল ৷ আর অন্যদিকে সবাই হাসতে লাগল ৷ তুবা হাসতে হাসতে বলল,,,

সিরিয়াসলি নীর! তোর থেকে এমন কথা শুনতে পাব এটা জীবনে কল্পনাও করিনি ৷ রাইমা খালামনিকে যদি বলে দিই তাহলে তোর উপর ক্যারাটে প্রয়োগ করে দিবে!

তুষার সামান্য হেসে বলল,,, এমন বেহুদা লজিক আমাদের বলেছিস বলেছিস ৷ অন্য কাউকে যেন বলতে যাস না আবার ৷

নীর লজ্জিত ভঙ্গিতে হেসে মাথা নিচু করে ফেলল ৷ ওর লজ্জা পাওয়া মুখটার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে থেকে সাভাশ মনে মনে বলল,,,

আহ নিক্কি! এসব কি বলছিস? আমি কি কখনো তোকে থুথু ছু*ড়তে পারি? তবে হ্যাঁ সারাক্ষণ চুমু খেয়ে লালা নিশ্চয়ই ভরিয়ে দিতে পারি ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

বারিশ অফ হোয়াইট পাঞ্জাবী আর স্বাধীন ব্লাক পাঞ্জাবী গায়ে নিজেদের বধূদের জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে ৷ বারবার ওদের চোখ নিজেদের বউকে খোঁজার জন্য ছুটে চলেছে ৷ কিছুক্ষণ পর তুবা আর আয়েশাকে নিয়ে আসা হলো ৷ ওদের দিকে চোখ পড়তেই বারিশ আর স্বাধীনের মুখ হা হয়ে গেল ৷ ওদেরকে এনে আসনে বসানোর পরও বারিশ আর স্বাধীনের হুশ ফিরল না ৷ হঠাৎ সাভাশ ওদের পাশে এসে গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,

একটা বোনও কিন্তু দিব না বলে দিলাম ৷

বারিশ আর স্বাধীন থতমত খেয়ে নিজেদের আসনে বসে পড়ল ৷ তুবা সকলের অগোচরে স্বাধীনের পেটে চিমটি কেটে বলল,,,

এই যে সাইকো সাহেব আপনার কি লজ্জা নেই? ওভাবে তাকিয়ে ছিলেন কেন? মনে হচ্ছে একটা চশমা পড়ে আপনার বোন হয়ে যাই ৷

স্বাধীন ভ্রু কুঁচকে তুবার দিকে তাকাল কিন্তু কিছু বলল না ৷ অন্যদিকে বারিশ বারবার আড়চোখে নিজের হবু বধূর দিকে তাকালেও বধূ কিন্তু একবারের জন্যেও মাথা তুলল না ৷

কিছুক্ষণের মধ্যেই কাজি এসে একসাথে দুই বিয়ে পড়ানো শুরু করল ৷ আলহামদুলিল্লাহ্ দুই নতুন দম্পতির সূচনা হলো আজ থেকে ৷ জানি না ওদের দাম্পত্য জীবনে কি কি ঘটনা হতে চলেছে তবে আল্লাহর রহমতে ভালো কিছু হবে তা আশা করা যায় ৷

সাজিদ আর তানজিদ কেমন বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷ বাবা মানে পুরুষ তো তাই চেয়েও কাঁদতে পারছে না ৷ নিজেদের কলিজা ছিঁ*ড়ে অন্য কেউ নিয়ে গেলেও যে তাদের কাঁদতে নেই! যদি সিনু আর রাইশার মতো মেয়েদের জড়িয়ে ধরে মন খুলে কাঁদতে পারতো তাহলে হয়তো বুক থেকে কিছুটা ভার কমে যেত ৷

কিন্তু মেয়ে যখন ছলছল চোখে সামনে এসে দাঁড়াল তখন আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না ৷ মেয়েকে জরিয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সাজিদ আর তানজিদ ৷ ওদিকে কাঁদতে কাঁদতে সিনু আর রাইশার অবস্থা বেগতিক ৷ তানিয়া আর রাইমা ওদের ধরে রেখে নিজেরাও কাঁদছে ৷ এসব দেখে নীর আর শেহনাজ মুখে হাত চেপে কান্না আটকে যাচ্ছে ৷

সবার ভঙ্গুর অবস্থা দেখে বারিশ আর স্বাধীন অসহায়ভাবে একে অপরের দিকে তাকাল ৷ ওরা বুঝতে পারছে না ওদের এখন ঠিক কি করা উচিত ৷ আয়েশা প্রায় আধাঘন্টা সাজিদকে জরিয়ে ধরে কাঁদল ৷ অতঃপর দুর্বল পায়ে হেঁটে সাভাশের সামনে গিয়ে দাঁড়াল ৷ সাভাশ স্বাভাবিক মুখভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টিতে বোনের ক্রন্দনরত লাল হয়ে যাওয়া চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ প্রথমবারের মতো আয়েশা সাভাশকে জরিয়ে ধরে কেঁদে ফেলল ৷ সাভাশ এখনও নিজের স্থানে অটল ৷ ক্ষণকাল বাদে বোনের পিঠে হাত রেখে সামান্য হেসে বলল,,,

কাঁদিস না ৷ বিশ্বাস কর বারিশ স্যার তোকে মা*রবে না ৷ আমাকে কথা দিয়েছে সত্যি ৷

এতো কষ্টের মাঝেও আয়েশা সামান্য হেসে ফেলল ৷ সাজিদ অসুস্থ হয়ে একটা চেয়ারে বসে পড়েছে ৷ ওর আর সামর্থ্য নেই মেয়েকে বিদায় জানিয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার ৷ তাই সাভাশ বোনের হাত ধরে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসল ৷ বারিশ গাড়িতে উঠতে যাবে এমন সময় সাভাশ বলল,,,

একটা কথা শুনে রাখুন ৷ আমার বোনকে যদি আজকের পর আর একবারও কাঁদতে দেখি তাহলে কোনো কিছু না ভেবে আমি গিয়ে ওকে নিয়ে আসব ৷ সাথে আপনার নাক বরাবর কয়টা ঘু*ষি মা*রতে ভুলব না!

বারিশ সামান্য হেসে বলল,,, ঘু*ষি মে*রে নিজের শক্তি ন*ষ্ট করতে হবে না ৷ আমি দুনিয়াতে থাকাকালিন আমার থেকে আমার বউকে কেউ আলাদা করে তো দেখাক!

একজন বিদায় হয়ে গেল ৷ সাভাশ একদৃষ্টিতে চলন্ত গাড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ তুবা একমাত্র সন্তান হওয়ায় তানজিদ আর রাইশা পারছে না নিজের মেয়েকে বিদায় দিতে ৷ নাভিন আর মেহমেত অনেক কষ্টে তানজিদকে সামলালো ৷ তুবা কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা গেছে ৷ নাভিন ইশারা করতেই স্বাধীন এসে তুবাকে আগলে নিল ৷ তারপর গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল ৷ সাভাশ আর তুষার গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিল ৷ এবার ওরাও চলে গেল আর পিছনে রেখে গেল দুই ভঙ্গুর পরিবারকে ৷

গাড়ি ছুটে চলেছে ৷ তুবার কান্না করতে করতে গলা শুকিয়ে গেছে ৷ ও ক্ষীণ কন্ঠে বলে উঠল,,,

একটু গাড়ি থামাতে বলুন ৷

স্বাধীন তৎক্ষণাৎ গাড়ি থামাতে বলল ৷ তুবা স্বাধীনকে বলে একটা পানির বোতল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়ল ৷ ওর সাথে সাথে স্বাধীনও নামল ৷ তুবা মুখে পানি দিতে লাগল আর স্বাধীন খুবই যত্নের সাথে ওর ভারি বেনারসি টা আগলে রাখল ৷ এমন সময় একটা ট্রাক খুব জোরে হর্ণ বাজিয়ে ওদের পাশ দিয়ে চলে গেল ৷

তুবা পানির বোতল ফেলে দিয়ে মাথা চেপে ধরল ৷ স্বাধীনের ভয়ে বুক কেঁপে উঠল ৷ ও ব্যস্ত হয়ে বলতে লাগল,,,

আমি যা যা শিখিয়েছি সেসব এপ্লাই করার চেষ্টা করো তুবা ৷ ডোন্ট লুজ ইয়রসেলভ ৷

তুবা আ*র্তনাদ করে বলতে লাগল,,,, আমি স*হ্য করতে পারছি না ৷

কয়েক মিনিট পর তুবা শান্ত হয়ে গেল ৷ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে স্বাধীন এক নাগাড়ে বলতে লাগল,,,,

না না না চেঞ্জ হয়ো না তুবা ৷ তুমি আমার বউ তুবা ৷ তুমি কোনো বৃদ্ধ মানুষ না ৷

তুবা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে স্বাধীনের দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসল ৷ তা দেখে স্বাধীন স্বস্থির নিশ্বাস ফেলল ৷ কিন্তু একটু পরে ওর চোয়াল ঝুলে গেল যখন তুবা বলে উঠল,,,,

আরে বাবা তোমার সাথে না একদিন রাস্তায় দেখা হলো? তা কেমন আছো তুমি? চাকরি কেমন চলছে তোমার?

স্বাধীনের চিৎ*কার করে বলতে ইচ্ছা করল,,,, আমি কোনো বাবা টাবা না ৷ আমি তোমার ২ ঘন্টা পুরাতন একমাত্র স্বামী হাদা!

চলবে,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here