শুনলাম_বসন্ত_নাকি_আবার_এসেছে #লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান #পর্বঃ২২

0
845

#শুনলাম_বসন্ত_নাকি_আবার_এসেছে
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২২

ঘড়ির কাঁটা সাতটা ছুঁইছুঁই ৷ আয়েশা ভার্সিটির করিডরে বসে অস্থিরতায় আঙুল ফোটাচ্ছে ৷ সাভাশ এখনও বারিশের শা*স্তি থেকে অব্যাহতি পায়নি ৷ তুষারও বোনের পাশে বসে আছে ৷ তুবা এসবের কিছু জানে না কারন ওর আগেই ক্লাস শেষ হয়ে গিয়েছিল আজকে ৷ তুষার বাড়িতে ফোন করে বলে দিয়েছে ওদের আজ ফিরতে দেরি হবে কিন্তু কি জন্য দেরি হবে সেটা বলেনি ৷

যত সময় গড়াচ্ছে আয়েশার চোখে মুখে তত বেশি চিন্তারা এসে হানা দিচ্ছে ৷ কপাল বেয়ে রীতিমত ঘাম ছুটে যাচ্ছে ওর ৷ তা দেখে তুষার শান্ত স্বরে বলল,,,

টেনশন করিস না আপু ৷ বারিশ স্যার খারাপ কিছু করবেন না এই বিশ্বাস অন্তত রাখতে পারিস ৷ স্যার ততটুকুই শা*স্তি দেন যতটুকু আমাদের স*হ্য ক্ষমতার মধ্যে পড়ে ৷ তাছাড়াও এসব শা*স্তি দেওয়ার ফলে স্টুডেন্টরা শিক্ষাও পায় ৷

আয়েশা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,, ওরে জ্ঞানের সাগর রে! চুপ থাক ৷ বারিশ স্যারের ডাই হার্ট ফ্যান যে তুই সেটা আজও প্রমাণ করে দিলি ৷

তুষার হতাশ শ্বাস ফেলে বলল,,, ভালো কথা কারো স*হ্য হয় না!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

বারিশ আর সাভাশ গত চার ঘন্টা ধরে ভার্সিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা রুমে রয়েছে যেখানে ভার্সিটির জন্মলগ্ন থেকে অর্জন করা সমস্ত পুরষ্কার খুব সুন্দর করে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা ৷ রুমটা বিশাল বড়, পুরষ্কারে গিজগিজ করছে ৷ সাভাশের শা*স্তি হয়েছে এই রুমের সমস্ত পুরষ্কারগুলো একটা একটা করে নিজ হাতে পরিষ্কার করা ৷ তাও আবার শুধু একবার না , সাত সাত বার ৷

সাভাশ শেষ একটা মেডেল পরিষ্কার করে ছয়বারের কার্যক্রম শেষ করল ৷ বারিশ গম্ভীর মুখে ওর কার্যকলাপ সেই তখন থেকে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে ৷ সাভাশকে থামতে দেখে বারিশ কাটকাট গলায় বলে উঠল,,,

আই থিংক সবেমাত্র ছয়বার হয়েছে ৷ তাহলে থামলে কেন? সাতবার না করা পর্যন্ত থামতে পারবে না ৷

সাভাশ কঠিন দৃষ্টিতে বারিশের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলতে লাগল,,, এই বেডার ব্রাজিলের সাথে কোনো শত্রুতা আছে নাকি? সাতবারই কেন? দুনিয়ায় আর সংখ্যা ছিল না?

হোয়াট? কি ভাবছো? কাজ শেষ করো দ্রুত ৷

সাভাশ বারিশের থেকে চোখ সরিয়ে পুনরায় পরিষ্কার করতে লাগল ৷ টানা পরিষ্কার করতে করতে ওর হাত দুটো অনুভূতিশূণ্য হয়ে গেছে ৷ এখন হাতের উপর কোনো ফিলিংস ই আসছে না ওর ৷ সাভাশের ভীষণ রাগ লাগছে কিন্তু সেটা নিজের এই অবস্থার জন্য না বরং এটা ভেবে যে ওই খ*বিশ এই শা*স্তি আয়েশাকে দিতে চাচ্ছিল! এমনটা হলে সাভাশ সত্যি সত্যি বারিশকে মে*রে হাসপাতালের বাসিন্দা করে দিত!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো আরো এক ঘন্টা পর ৷ সাভাশ ডিটেনশন রুম থেকে বেরিয়ে ক্লান্ত পায়ে করিডোর দিয়ে হাঁটছে ৷ চোখ মুখ ফ্যাকাশে বর্ণ ধারন করেছে ৷ হাত প্রচন্ড ব্যা*থা করছে ওর ৷ দুহাত দুহাতের সাথে মিলিয়ে ও চোখমুখ খিচিয়ে ব্যা*থা সংবরণ করার চেষ্টা করল ৷ হঠাৎ সামনে থেকে আয়েশা আর তুষারকে ছুটে আসতে দেখে সাভাশ তড়িঘড়ি করে হাত দুটো পকেটে ঢুকিয়ে নিল ৷ কপালে ভাঁজ ফেলে বলে উঠল,,,

কি ব্যাপার? তোরা এখানে এতো রাত পর্যন্ত? বাড়িতে যাস নি কেন গা’ধা? সবাই চিন্তা করছে হয়তো ৷

তুষার শীতল গলায় বলে উঠল,,, ফোন করে আগেই জানিয়ে দিয়েছি ৷ সমস্যা নেই ৷

তুষারকে চোখের ইশারায় কিছুক্ষণ শাসিয়ে সাভাশ আয়েশার দিকে তাকাল ৷ আয়েশার চোখ দুটো ছলছল করে উঠল ভাইয়ের পান্ডুর মুখটার দিকে তাকাতেই ৷ ঠোঁট উল্টে যেতে লাগল ওর ৷ তা দেখে সাভাশ ব্যস্ত হয়ে বলতে লাগল,,,

খবরদার কাঁদবি না, খবরদার বলে দিলাম ৷ তোর আমার প্রতি আলগা পিরিত দেখলে আমার হার্ট এ’ট্যাক হতে ধরে! সহ্য করতে পারি না এতো ভালোবাসা!

আয়েশা ওর কথাকে পাত্তা না দিয়ে ওর লুকিয়ে রাখা হাত দুটো বের করল ৷ সাভাশ লুকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো ৷ ভাইয়ের লাল হয়ে যাওয়া হাত দুটো দেখতেই আয়েশা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল ৷ ঘটনার আকস্মিকতায় সাভাশ আর তুষার আহাম্মক হয়ে একে অপরের দিকে তাকাল ৷ আয়েশা ক্রন্দনরত কন্ঠে বলতে লাগল,,,

খুব ক*ষ্ট হয়েছে তোর তাই না? ওই বারিশ স্যার একদম ভালো না ৷

হয়েছে কাঁদিস না ভাই ৷ বিশ্বাস কর তোর এতো ভালোবাসা আমার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষ*তিকারক ৷ তুই কি চাস আমি অকালে হার্ট এ’ট্যাক করে ম*রে যাই?

আয়েশা ক্রন্দনরত চোখে ক*টমট দৃষ্টিতে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ওর পিঠে মা*রতে মা*রতে বলল,,, তুই ব*লদ! তুই একটুও ভালো না ৷ তোকে মাসে মাসে না না সপ্তাহে সপ্তাহে এমন থ্যারাপি দেওয়া উচিত!

সাভাশ হেসে উঠে বলল,,, তোকে এভাবেই বেশি মানায় ৷

আয়েশা মা*রা বাদ দিয়ে সাভাশের হাত দুটো আলতো করে ধরে বলল,,,, চল বাসায় যাই ৷ নিশ্চয়ই ক্ষুধা লেগেছে তোর?

সাভাশ মাথা ঝাকিয়ে বোনের পাশাপাশি হাঁটতে লাগল ৷ তুষার পিছন থেকে বলে উঠল,,,

তোদের সম্পর্ক বোঝা মুশকিল ৷ একটুতেই ঝগ*ড়া বেঁধে যায় আবার একটুতেই ভালোবাসা উতলে পড়ে ৷

তুষারের কথায় পাত্তা না দিয়ে ওরা নিজেদের মতো হাঁটতেই লাগল ৷ তা দেখে তুষার ভ্রু কুঁচকে বলল,,, কি রে আমাকে ছেড়ে যাচ্ছিস কোন সাহসে? দাঁড়া আমার জন্য ৷

তুষার দৌঁড়ে ওদের কাছে চলে গেল ৷ তিনটা মূর্তি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল ৷ বারিশ হাত মুষ্টিবদ্ধ করে অন্ধকার থেকে আলোতে এলো ৷ সবকিছু দেখেছে ও যদিও ওদের মধ্য কি কথা হয়েছে সেটা শোনেনি তবে তুষারের বলা শেষ কথাটা শুনেছে ৷ বারিশের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে না ওর মনে কি চলছে কিন্তু খুব দ্রুতই বড় কিছু হতে চলেছে সেটা নিশ্চিত!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

ডায়নিং টেবিলে তিন ভাইবোন বসে আছে ৷ শেহনাজ অনেক আগেই খেয়ে নিয়ে নিজের রুমে গিয়ে পড়াশোনা করছে ৷ তানিয়া কিছুটা অসুস্থ তাই রুমে শুয়ে আছে ৷ সিনু ওদের তিনজনকে খাবার পরিবেশন করে ওদের সামনে বসে পড়ল ৷ সাভাশ হাত দুটো লুকিয়ে রেখে চুপচাপ বসে আছে ৷ তা দেখে সিনু ভ্রু কুঁচকে বলল,,,

কি হলো খাচ্ছ না কেন সাভাশ?

তিন ভাইবোন ই মুখ চাওয়াচাওয়ি করল ৷ হঠাৎ আয়েশা বলে উঠল,,, মাম্মা আসলে আজকে আমি ওকে খাইয়ে দিতে চেয়েছি তাই ৷

সিনু বি*স্ফোরিত চোখে ওদের দুজনের দিকে তাকাতে তাকাতে বলল,,,এটা এখন আমাকে বিশ্বাস করতে হবে? তুমি কিনা খাইয়ে দিবে সাভাশকে?

কেন নয় মাম্মা? তুমি এমন করছো কেন শুনি? তোমার জ্ব*লতেছে নাকি?

সিনু ক*টমট দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ সেটা ভ্রুক্ষেপ না করে আয়েশা এক লোকমা ভাত সাভাশের মুখের সামনে ধরল ৷ সাভাশও নির্দ্বিধায় সেটা খেয়ে নিল ৷ সিনুর হতভম্ভ ভাব চরম সীমায় পৌঁছে গেল ৷ অস্ফুট স্বরে বলতে লাগল,,,

আশ্চর্য! তোমরা কি অসুস্থ? সকালে তো ঠিকঠাকই ছিলে ৷ গরমের কারনে কি কোনোভাবে শরীর খারাপ করেছে?

সাভাশ আর আয়েশা একযোগে বলে উঠল,,,শাট আপ মাম্মা ৷ ডিস্টার্ব করছো ৷

সিনু থতমত খেয়ে চুপ করে গেল ৷ তুষার খেতে খেতে নিশ্চুপ হাসতেছে ৷ সিনু ক্ষণকাল চুপ থেকে আবার বলে উঠল,,

সত্যি করে বলো সোনা রা তোমাদের কি কিছু হয়েছে? মানে মাথায় আ*ঘাত লেগেছে কি কোনোভাবে?

সাজিদ সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলল,,, সিনুপাখি কি হচ্ছে? তোমার কি ওদের মিল স*হ্য হচ্ছে না? ডিস্টার্ব করছো কেন ওদের? সবসময় শুধু তিড়িংবিড়িং করতে থাকো! রুমে আসো তুমি ৷

সিনু তড়াক করে বসা থেকে উঠে কাটকাট গলায় বলল,,, হ্যাঁ যাবই তো ৷ যাওয়া তো লাগবেই ৷ একজনের সাথে কিছু দেনা পাওয়া বাকি আছে যে ৷

সাজিদ এমন নিরব হু*মকিতে কেশে উঠল ৷ সিনু ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে টিটকারি দিয়ে বলল,,,আরে কাশতেছেন কেন? চলুন চলুন রুমে যাই ৷

সাজিদ গলা খাকারি দিয়ে বউয়ের সাথে রুমে যেতে লাগল আগাম যু*দ্ধের প্রস্তুতি নিতে নিতে ৷ ওরা চলে যেতেই তুষার,সাভাশ আর আয়েশা হাসতে লাগল ৷ হাসি থামিয়ে ওরা আবারও খাওয়ায় মনোযোগ দিল ৷ আয়েশা নিজে খাওয়ার পাশাপাশি ভাইকে যত্ন করে খাইয়ে দিতে লাগল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

বারিশকে গত দুইদিন থেকে আয়েশা দেখেনি ৷ ভার্সিটিতেও ওর ক্লাস অন্য স্যার নিয়েছিল ৷ আর বীরকে পড়াতে এসেও বারিশের মুখ দর্শন হয়নি আয়েশার ৷ এটা অবশ্য আয়েশার কাছে স্বস্থির ৷ বেশ খুশিই আছে বারিশকে না দেখতে পেয়ে ৷ আজও যখন দেখল না তখন ওর মুখের হাসি বিস্তৃত হয়ে গেল ৷

বীরকে পড়ানোর সময় হঠাৎ বর্ষা চিন্তিত মুখে আয়েশার জন্য কিছু স্নেকস নিয়ে আসল ৷ বর্ষার অবস্থা খেয়াল করে আয়েশা ভ্রু কুঁচকে বলল,,,

কি হয়েছে আপু? তোমাকে ভীষণ চিন্তিত লাগছে ৷

বর্ষা উদাস মুখে আয়েশার পাশে বসে বলল,, আমার ভাই টার জানি কি হয়েছে? ওকে এতো খারাপ অবস্থায় আমি কখনো দেখিনি ৷ ভার্সিটি থেকে ছুটি নিয়ে গত দুইদিন থেকে নিজের রুমে ঘরবন্দী হয়ে আছে ৷ না কিছু খাচ্ছে আর না কারো সাথে কথা বলছে ৷ কি সমস্যা সেটাও বলছে না ৷

আয়েশা মনে মনে বলল,,, এমন টা তো সাভাশ আর আমার করা উচিত ছিল ৷ মুখ দেখানোর মতো অবস্থায় রেখেছিল নাকি আমাদের?

বর্ষা পুনরায় বলতে লাগল,,, ছোট থেকে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে বারিশ ৷ তবুও ওকে এমন ভেঙে পড়তে এই প্রথম দেখলাম ৷ আমার যখন ১১ বছর আর বারিশের ১০ বছর তখন আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি বাবা ইন্তেকাল করলেন ৷ আমার অতুল সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিলাম ৷ তখন বারিশ কেমন হঠাৎ করে বড় হয়ে গেল ৷ সংসারের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিল ৷ এমন কোনো কাজ নেই যেটা ও করেনি ৷ নিজে ক*ষ্টে জ*র্জরিত হলেও মা আর আমাকে কখনো ক*ষ্ট পেতে দেয়নি ৷ মাঝে মাঝে মনে হয় ও যেন আমার বড় ভাই ৷ বারিশের অনেক পরিশ্রমের ফলে আজ আমরা এ অবস্থায় এসেছি ৷ কাজ করার পাশাপাশি ও পড়াশোনাও সমান তালে চালিয়ে গেছে আর আমাকেও পড়িয়েছে ৷ অবশ্য এক স্যারের অনেক গুরুত্ব রয়েছে বারিশের সফলতার পেছনে ৷

আয়েশার হঠাৎ সমস্ত রা*গ পড়ে গেল ৷ মনোযোগী হয়ে বর্ষার কথাগুলো শুনতে লাগল ৷ সামান্য হেসে বর্ষা বলে উঠল,,,

বারিশ ভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়ে পাশের ফ্লাট টা ভাড়ায় নিয়েছিল যদিও এখন ওটা কিনে নিয়েছে ও ৷ বীরের বাবা তখন এখানেই থাকতো ৷ উনার আমাকে দেখে পছন্দ হয়েছিল ৷ তাই দেরি না করে উনি বারিশের কাছে আমার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ৷ বারিশ অনেক খোঁজ খবর নিয়ে তবে আমাকে বিয়ে দিল ৷ আমি বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম এই ভেবে যে বীরের বাবাকে বিয়ে করলে আমি সারাজীবন আমার ভাই আর মায়ের সাথেই থাকতে পারব ৷

বলে বর্ষা মুচকি হাসল ৷ আয়েশারও এসব শুনে মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ল ৷ বারিশ ব্যতীত এই পরিবারের সবাইকে ওর ভীষণ পছন্দ ৷ কত সুন্দর ব্যবহার সকলের ৷ হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠতেই বর্ষা উঠে গেল ৷ আর আয়েশা হাসিমুখে বীরকে পড়ানোয় মনোযোগ দিল ৷ কিন্তু ওর হাসি বেশিক্ষণ টিকল না কারন বারিশ এসেছে ৷ যতই লোকটা ভালো হোক না কেন আয়েশার কাছে সবসময় বি*রক্তিকর মানুষ হয়েই থাকবে!

তাও ভাগ্য ভালো বারিশ আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই আয়েশার বীরকে পড়ানো শেষ হয়ে গেল ৷ ও দ্রুত ব্যাক প্যাক কাঁধে নিয়ে যেতে যেতে বলল,,,

ফি আমানিল্লাহ বাছা ৷

ফি আমানিল্লাহ মাম…

বীরের কন্ঠ অর্ধেক বাক্যে থেমে যেতে দেখে আয়েশা ভ্রু কুঁচকে পিছু ঘুরে তাকাল ৷ বারিশ বি*ব্রতিমাখা মুখে বীরের মুখ চেপে ধরে রেখেছে ৷ আয়েশা কপাল কুঁচকে সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চলে গেল ৷ ও চলে যেতেই বারিশ বীরকে কাঁধে তুলে বলল,,,,

চলো মামু মে*রে তোমার পা*ছা লাল করে দিই! এখনি আমার মান সম্মান খেয়ে দিতে তুমি ৷ খবরদার ও নামে ডাকবে না কারন তোমার মামীমনি তোমার মামুকে লা*রে না!

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here