প্রেম_অপ্রেম_অধ্যায় |১৩| #আফরিন_আলম_মৌনি.

0
474

#প্রেম_অপ্রেম_অধ্যায় |১৩|
#আফরিন_আলম_মৌনি.


দেয়ালে টাঙানো জার্মান ঘড়ির কাটা এগারোর ঘরে ঘুরছে। চারিদিকে পিনপতন নীরবতা৷ টেবিল ল্যাম্পের হালকা আলো আলোকিত করছে ঘরটায়৷ ফার্নিচার ব্যতীত ঘরে মানুষের কোনো অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে না৷ বারান্দার কাছে একটা পুরুষালি অবয়ব দেখা যায়। ব্যালকনির গ্রিলে হাত রেখে অনন্ত অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছে কল্প। সে-ও যেন অন্তত নীরবতায় ডুবে আছে।

হাতে ধোয়া ওঠা উষ্ণ কফির মগটা নিয়ে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করল বিলু। ঘরে কাউকে দেখতে না পেয়ে ভ্রু কুচকালো। বার কয়েক ‘ ভাই, ভাই ’ বলে আওয়াজ দিল। কারো আওয়াজ না পেয়ে বারান্দার দিকে এগিয়ে যেতেই ভাইয়ের দেখা পেল। সে তার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে নারাজী সুরে বলল,
-‘ তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো? এতোক্ষণ ডাকছিলাম, সাড়া দেওনি কেন?’

কল্প বোনের দিকে ফিরে তাকালো। হাত বাড়িয়ে ওর হাত থেকে কফির মগটা নিতে নিতে বলল, ‘ সাড়া না দিলেও খুজেই তো নিলি ’
বলতে বলতেই সে কফির মগে চুমুক বসালো।

-‘ উমম..টেস্টি হয়েছে। কফি বানানো শিখলি কবে? ’
-‘ অনেকদিন। শুধু কাউকে বানিয়ে খাওয়ানো হয়নি
এইটুকু৷ ’
-‘ এবার থেকে মাঝেমধ্যে আমাকে বানিয়ে খাওয়াতে পারবি?’
-‘ খুব পারবো। ’
একটু নীরব থেকে সে ফের বলল,
-‘ আচ্ছা ভাই মৌনির সাথে শেষে তোমার কি কথা হয়েছিল। দেখলাম হনহন করে চলে যাচ্ছে। ’

-‘ যেখানে রাগ দেখানোর দরকার সেখানে ভেজা বিড়াল, মনে হয় সমস্ত রাগ সব আমার উপরই দেখায়। ’

-‘ ওর গায়ের মারের দাগ দেখে আমি জাস্ট অবাক হয়ে গিয়েছি, কীভাবে মেরেছে ওকে! ’

-‘ ওই রাতে অবস্থা আরো খারাপ ছিল। আমি বুঝে পাচ্ছিনা এতো কষ্ট সহ্য করে, মারধর খেয়ে ওই সৎমায়ের বাড়িতে পড়ে থাকার কি দরকার। ’

-‘ আই থিংক একা থাকার জন্য ওর টিউশানির টাকা এনাফ নয়। ’

-‘ তিন তিনটে টিউশানি করে, এরপরেও টাকা এনাফ নয়! আমার মনে হয় অন্য কোনো কারণ। কি কারণ জানা নেই তবে আমার মন বলছে। আগে ওর মনোভাব জানতে হবে৷ ও আসলে কি চায়। তোকে ওর সাথে ফ্রি হতে হবে বিলু, যেন ও অনায়াসেই ওর মনের কথা তোর সাথে শেয়ার করতে পারে। ’

-‘ আই ইউল ট্রাই মাই বেস্ট, ভাই। ’

কল্প জানালার বাইরে অন্ধকারে চোখ রেখে কফি পান করছে। বিলু ক্ষণিক তার দিকে তাকিয়ে ফের শুধালো,
-‘ আজ তোমার এখানে আসাটা ঠিক হয়নি ভাইয়া। আকাশের অবস্থা ভালো না৷ যদি আটকা পড়ো। ’

– ‘ বেশি খারাপ হওয়ার আগেই চলে যাবো। তোর সাথে কথাবলা জরুরী ছিল। ’

-‘ কি কথা বলবে? ’

কল্প এবারে সরাসরি বিলুর দিকে তাকায়। পরপরই সেখানে রাখা বেতের চেয়ারে গিয়ে বসে পড়ে। পাশের চেয়ারটায় বিলুকেও বসতে ইশারা করে৷ বিলু বিনাবাক্য ব্যয়ে সেখানে গিয়ে বসে। বিলু বসতেই সে জিজ্ঞেস করে,
-‘ আজ মেয়েগুলো ওভাবে আমাকে মৌমাছির মতো ছেকে ধরলো কেন? এমনভাবে কথা বলছিল যেন সবাই কল্পর গার্লফ্রেন্ড। ’

-‘ গার্লফ্রেন্ড-ই তো। আর পুরো ছয়মাস পর তুমি আই মিন কল্প ভার্সিটিতে পা রেখেছে। ছেকে ধরবে না তোমায়? ’

-‘ কি আশ্চর্য! একটা ছেলের এতোগুলো গার্লফ্রেন্ড হয় কীভাবে? ’

-‘ ঠিক গার্লফ্রেন্ড বললে ভুল হবে। বলতে পারো স্পেশাল ফ্রেন্ড। আর তুমি জানোনা কল্প ওয়াজ এ বয়? ’

-‘ কিহ! আমাকে কি এখন প্লে বয়ের রোল প্লে করতে হবে নাকি? ’

ভাইয়ের বিস্ময় দেখে ঠোঁট টিপে হাসল বিলু।

-‘ কল্প কিন্তু যেমন তেমন প্লে বয় ছিল না ভাই। এক নম্বরের ফ্লার্টবাজ, বেদ্দাপ আর বাটপার ছিল। এমন ছেলে আমাদের ভার্সিটিতে কি, আশেপাশে আরো দুইটা ভার্সিটিতেও খোজ করলে পাবে না। ’

-‘ এখন আমাকে ফ্লার্টিং করে বেড়াতে হবে! ’

-‘ কল্প যখন হয়েছে কল্পর ক্যারেক্টর তো প্লে করতেই হবে৷ ’

-‘ ইম্পসিবল। তুই আমার স্বভাব জানিস না? জীবনে কোনো মেয়ের সাথে সেভাবে কথা বলেছি আমি? যে ওতোগুলো মেয়ের সাথে একসাথে ফ্লার্টিং করব? অসম্ভব! একজন তো আমার পরিচয় নিয়ে দেদারসে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু তার বিহেভিয়ার কি আমার মতো? সে তো নিজের লো ক্লাস বিহেভিয়ার মেইনটেইন করেই চলছে। আমি যদি কল্পর পরিচয় নিয়ে ঘুরেও বেড়ায় আমাকে যে কল্পর বিহেভিয়ার মেইনটেইন করে চলতে হবে এমনটা তো নয়৷ মানুষের বিহেভিয়ার তো চেইঞ্জ হতেই পারে। এটা সিরিয়াস কিছু নয়। তবুও আমি কল্পর মতো হতে পারবো না। ’

-‘ তবুও ভাই, যদি কেউ বুঝে ফেলে যে তুমি কল্প নও। হুট করেই তো একজনের বিহেভিয়ার চেইঞ্জ হতে পারে না। ’

-‘ হুট করে কোথায়? ইটস অলরেডি বিন সিক্স মান্থস।দ্যাটস এনাফ টু চেইঞ্জ এ পারসন্স বিহেভিয়ার। ’

-‘ সেটাও ঠিক ’

-‘ কল্পর কমন বিহেভিয়ার, ওর সম্পর্কে বেসিক ইনফরমেশন গুলো আমাকে কালেক্ট করে দে। কি পারবি তো? ’

বিলু ক্ষণিক চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে থাকে ভাইয়ের দিকে। কল্পও তার উত্তরের আশায় তার দিকে তাকিয়ে। কপালে হাত দিয়ে স্যালুট করার মতো করে বলে, -’ ওকে বস। কাম হো যায়েগা, বিলু হ্যায় তো ফিকর কিস বাত কি? ’

“ ঠিক হ্যাঁয় মেরি জান। ”
কথাটা বলতে বলতে বিলুর মাথায় হাত রাখল কল্প। দুজনেই হেসে উঠল। তাদের হাসির শব্দে এতোক্ষণে ঘরটায় যেন নীরবতা ভাঙলো। মুখরিত হলো আধারে মোড়া বারান্দাটা।

__________

বিল্ডিংয়ের পিছন দিকে বেশ খানিকটা খালি জায়গা রয়েছে। একটা ছোটখাটো পুকুরও রয়েছে। যার পানির রঙগুলো সবুজ। পাকা পুকুরঘাটে সবুজ শেওলা ধরেছে। বৃষ্টির ফলে জায়গাটা পিচ্ছিল হয়ে রয়েছে। যার ফলে পুকুরে নামতে হয় খুব সাবধানে। পা সামলে।
মৌনিও এখন খুব সাবধানে পা সামলে নামছে। হাতে একটা সরু লাঠি। একটু দূরেই ভাসছে একটা লাল রঙের কাপড়। এটা মূলত একটা কুর্তি। কুর্তিটা রুবির যেটা ছাদ থেকে উড়ে এসে সোজা এই পুকুরে এসে পড়েছে। মৌনি বিস্ময়ে অভিভূত। এতো মানুষের কাপড় থাকতে এই কুর্তিটাই উড়ে এসে পড়তে হলো এখানে। এখন যদি এই কুর্তিটা না তুলতে পারে তাহলে রুবি হুলস্থুল কান্ড বাধিয়ে ফেলবে বাড়িতে। কারণ রুবির ভাষ্যমতে এটা তার অসম্ভব পছন্দের। উফ! এইসব বিপত্তিগুলো তার সাথেই ঘটতে হয়!

মৌনির পায়ের গতি ধীর স্থির। আস্তে আস্তে সিড়ি বেয়ে নামছে সে। তেরোটা সিড়ির মধ্যে মাত্র তিনটা সিড়ি পেরিয়েছে সে। চতুর্থ সিড়িতে পা ফেলতেই পিছন থেকে ভারী কন্ঠের আওয়াজ ভেসে এলো-

-‘ এই মেয়ে! কি করছ? এই পিচ্ছিল সিড়ি দিয়ে পুকুরে নামছো কেন? ’

হাতে থাকা লাঠিটা সমতলে রেখে পিছু ফিরে তাকালো মৌনি। আওয়াজ দিয়েছেন বাড়িওয়ালা দাদু। তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার ঠিক পাশেই সটান দাঁড়িয়ে আছে কল্প। দৃষ্টি তার দিকেই৷ মৌনি তাকে দেখে ভ্রু কুচকালেও ক্ষণিকেই তাদের বাড়িওয়ালা আমজাদ সাহেবের দিকে মিষ্টি হেসে বলল-
-‘ একটা কুর্তি ছাদ থেকে উড়ে এসে এখানে পড়েছে দাদু। সেটাই তুলতে এসেছি। ”

-‘ পুকুরে কিন্তু সাপ আছে। তার উপর এতো পিছল, সাবধানে নেম মা। ’

-‘ ঠিক আছে দাদু। ’

আমজাদ সাহেব মাথা নেড়ে অন্যদিকে চলে গেলেন। গোধুলির সময়টায় তিনি বাড়ির আঙিনায় হাটাহাটি করেন। এখন হয়তো এদিকে হাটতেই এসেছিল৷ তবে উনার সাথে ওই বজ্জাত কল্পটা কি করছে কে জানে? মৌনি বেশি না ভেবে নিজের কাজে মনোযোগ দিল। অষ্টম সিড়িতে পা রাখতেই ফের থামতে হয় মৌনিকে। পিছন থেকে কেউ ধুপধাপ পায়ে নিচে নেমে আসছে বুঝতে পেরেই থামে। চমকে পিছু ফিরে তাকাতেই দেখতে পায় কল্প নেমে আসছে। মৌনি চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এতোক্ষণে যে কয়টা সিড়ি নামতে তার পাঁচ মিনিটেরও অধিক সময় লেগেছে সেখানে ছেলেটা মাত্র পাঁচ সেকেন্ডেই নেমে এলো! কীভাবে? ওর কাছে সুপার পাওয়ার-টাওয়ার আছে নাকি?

সে মৌনির থেকে আরো দুই তিনটে সিড়ি অতিক্রম করে দাঁড়িয়ে পড়ে৷ ঘাড় বাকিয়ে কল্পর দিকে চায়। ভ্রু উঁচিয়ে শুধায়, “ কি ব্যাপার? এভাবে তাকিয়ে আছ কেন? কিছু বলবে? ”

“ আপনি এই পিচ্ছিল সিড়ি দিয়ে এতো তাড়াতাড়ি নেমে এলেন কীভাবে? আমি তো নামতেই পারছিলাম না। ”
তার প্রতিউত্তরে ঝটপট শুধায় মৌনি।

“ ইটস মাই সুপার পাওয়্যার। ইউ কান্ট আন্ডারস্ট্যান্ড ইট! ”
কৌতুক কন্ঠে বলে কল্প। মৌনি মুখ ভেঙিয়ে বলে,
“ সুপার পাওয়ার না ছাই। দেখি কি জুতা পরেছেন। ”

বলেই সে কল্পর পায়ের দিকে তাকালো। দেখল বাসার স্লিপার পায়ে৷ মৌনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল৷ এইরকম স্লিপার তো তার পায়েও আছে। সে কেন নামতে পারলো না?

-‘দেখলে আমার জুতা? ’
-‘ কীভাবে নামলেন? ’
-‘পায়ে হেটে। ’
-‘ উফ! আপনি একটা বিরক্তকর.. সরুন তো এখান থেকে। ’

কথাটি বলেই মৌনি দ্রুত পায়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল। কল্প তার সামনে দাঁড়িয়ে পথ আটকালো। মৌনি যেদিকেই যায় কল্প’ও সেদিকে’ই যায়। যারপরানাই বিরক্ত হলো মৌনি। গরম কন্ঠে বলল-‘ কি সমস্যা? এভাবে পথ আটকাচ্ছেন কেন? ’

-‘ দাদু কি বলল শোনোনি, পুকুরে নামাটা বিপজ্জনক। তবুও পুকুরে নামছে কেন? ’

-‘ আমি কি বললাম সেটা শোনেনি? শোনেন নি যে আমি কুর্তিটা তুলতে যাচ্ছি। ’

-‘ ওটা তো আর তোমার নয় যে এভাবে ঝুকি নেবে। যে মেয়েটার জন্য দুদিন আগে এতো মার খেলে তার সামান্য গায়ে পড়া একটা কুর্তির জন্য এভাবে ঝুকি নেওয়ার কারণ দেখছি না। ’

-‘ ঝুকি কোথায়? লাঠিটা দিয়ে জাস্ট তুলে আনব। সাপ তো উপরে আসবে না আমাকে কামড়াতে।’

– ‘ সাপ তোমার কাছে নয়। তোমাকেই সাপের কাছে যেতে হবে। ড্রেসটা যেখানে পড়েছে তোমার মনে হয় হাতের ওই ছোট্ট লাঠিটা দিয়ে আনতে পারবে? তোমাকে তো পুকুরে নামতে হবে৷ ”

মৌনি হাতের লাঠিটার দিকে তাকালো। সত্যিই তো, এটা তো পুকুরে পড়া ওই ওড়না অব্দি যাবে না। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল দূরত্ব বুঝি কম। সেজন্য এই লাঠিটা নিয়েই দৌড়য়েছে সে। কিন্তু এটা তো অনেক দূরত্বের। এই লাঠি তো পৌছাবে না৷

চিন্তিত মৌনির হুট করেই আরো একটা খেয়াল আসল মাথায়। খেয়াল হলো যে কল্প তাকে ‘ তুমি ’ বলে সম্বোধন করছে। সাথে সাথে কপালের মাঝে দু তিনটে ভাজ পড়ল। ইষত বিস্ময় নিয়ে শুধালো,
-‘ এই আপনি আমাকে ’ তুমি ’ করে বলছেন কেন? আপনি না আমায় আপনি করে বলতেন? ’

-‘ তো? ’
প্রশ্নের পিঠে কল্পর ভাবলেশহীন প্রশ্ন। মৌনি সন্দেহ কন্ঠে শুধায়,
-‘এখন তুমি বলছেন কেন? ’

-‘ তোমার মতো বাচ্চা মেয়েকে ‘ আপনি ’ করে বললে আমার মান সম্মান থাকবে? ’

-‘ এই আপনি বাচ্চা বলছেন কাকে? জানেন আ’ম এইটটিন নাউ। আর তিন মাস পর নাইটিন হবে। ”

– অর ইউ নো আ’ম টুয়েন্টি ফাইভ নাউ? আর এক মাস পর টুয়েন্টি সিক্স হবে? ”

কল্পর বয়স শুনে মৌনি বড়সড় একটা ধাক্কা খেল। কল্পর বয়স পঁচিশ? পঁচিশ! এই বাচ্চা বাচ্চা চেহারার ছেলেটার বয়স এতো বেশি সেটা ভেবেই বিস্ময়বোধ করে মৌনি। সেতো ভেবেছিল তারা বোধহয় সমবয়সী৷ বিস্মিত মৌনির মনে হলো আচ্ছা এই ছেলেটার বয়স এতো হলে সে কোন ক্লাসে পড়ে? কথাটা খেয়ালে আসতে সে জিজ্ঞাসা করল,

-‘ আচ্ছা আপনি কোন ইয়ারে এবার। ’
-‘ ফাস্ট ইয়ার। কেন? ’
-‘ ফাস্ট ইয়ার! মানে আমরা সেম ইয়ার! তাহলে আপনার বয়স এতো বেশি হলো কীভাবে? ‘
-‘ অনার্স নয় আমি মাস্টার্স ফার্স্ট ইয়ার ম্যাডাম৷ ’
-‘ আপনি মাস্টার্সএ পড়েন! ’

কল্পর বয়স আর ক্লাস নিয়ে মৌনির কন্ঠের বিস্ময় টের পেয়ে মনে মনে হাসল কল্প। মনে মনে বলল- ‘ এটা তো কল্পর বয়স বললাম মন। নিষাদের নয়। নিষাদের বয়স শুনলে তুমি কতোটা বিস্মিত হতে? ’

মনের কথা মুখে প্রকাশ করল না সে। মুখে বলল-
-‘ ইয়াহ! তুমি অনার্স ফাস্ট ইয়ার আর আমি মাস্টার্স ফার্স্ট ইয়ার৷ বয়স তো একটু বেশিই হবে। আর তুমি আমার বয়সের হিসেবে পিচ্চিই। তোমার মতো একটা ছোট মেয়েকে এতোদিন যে আমি আপনি বলে সম্বোধন করেছি সেটা ভেবেই তো আমার লজ্জা করছে। ’

-‘ শুনুন! আমি বয়সে যতোই আপনার থেকে ছোট হই না কেন আমি আপনার অপরিচিত। আর অপরিচিতদের আপনি বলেই সম্বোধন করতে হয়। ’

-‘এখন তো আর অপরিচিত নও। ’

-’ উহু৷ আমরা অপরিচিত’ই। আপনি আমাকে আগের মতোই আপনি বলবেন। ’

-‘ উহু! আমরা এখন মোটেও স্ট্রেঞ্জার্স নয়। আমরা এখন প্রতিবেশী। আর আমি নিজের থেকে বয়সে এতো ছোট বাচ্চাকে কিছুতেই আপনি বলতে পারবো না। বুঝেছ? ’

-‘ এমন ভাবে বলছেন যেন আমি সদ্য হাটতে
শিখেছি। ’

-‘ উহু। হাটতে এখনো শেখোনি। তবে আমার হাত ধরে খুব শীঘ্রই শিখে যাবে..

শেষের কথাগুলো নিচু স্বরেই বলল সে। মৌনি শুনতে না পেয়ে বলল, -‘ এই বিরবির করে কি বলছেন আপনি আমাকে। ’

-‘ কোথায়, কখন কি বললাম আপনাকে নিয়ে? ’
-‘ এক্ষুণি বলেছেন। ’
-‘ ওহ হ্যাঁ, তোমার এখানে নামার প্রয়োজন নেই, আর না ওই ড্রেসটা তোলার। উপরে চলো, তোমার সাথে কথা আছে আমার। ’

এই বলেই কল্প মৌনির হাত চেপে উপরের দিকে তুলতে লাগল। হুট করেই এভাবে হাত ধরায় মারাত্মক ক্ষেপে গেল মৌনি। এমনভাবে হাত ঝাড়া মেরে নিচের দিকে সিড়ি বেয়ে নামতে থাকল যে পিচ্ছিল সিড়িতে সহসাই পা পিছলে গেল। কল্প তার আকস্মিক প্রতিক্রায় হততম্ব হয়ে গেল৷ অভ্যাসবশত হাতটা ধরে ফেলেছিল তবে মেয়েটা যে এভাবে রিয়্যাক্ট করবে সেটা সে নিজেও বুঝতে পারেনি।

— চলবে.

📌 কার্টেসি ছাড়া কপি নিষিদ্ধ 📌

[ আই থিংক এবার কল্প-নিষাদের পরিচয় সম্পর্কিত ব্যাপারটা ক্লিয়ার হয়েছে। পর্বটি দেরিতে আপলোড দেওয়ার জন্য দুঃখিত। এই কদিন লেখার মতো পরিস্থিতিতেও ছিলাম না আমি। আশাকরি বুঝবেন! হ্যাপি রিডিং এভ্রিওয়ান।🌼 ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here