বাসর রাতে স্বামীর হাতে থাপ্পড় খেয়ে ব্যালকনিতে বসে অশ্রু বিসর্জন করছে মায়া।।কখনো ভাবেনি বিয়ের প্রথম রাতে স্বামীর কাছে এভাবে অপমানিত হতে হবে তাকে।।খুব করে কান্না পাচ্ছে মায়ার,, তার নানুমনি কেও খুব মিস করছে।।নানুমনি এরকম একটা লোকের সাথে তাকে কিভাবে বিয়ে দিল!!
~~~~~~~~~~~~~~~
ফ্লাশব্যাক~
“রুদ্র কায়নাথ মির্জা” রায়হান মির্জার একমাত্র পুত্র,,,,বয়স ~২৯।দেশের টপ বিজনেসম্যান এর কথা উঠলে সর্বপ্রথম তাদের বাবা ছেলেকেই রাখা হয়,,,দেশে-বিদেশে তাদের বিজনেসের প্রচুর জনপ্রিয়তা ও নাম-ডাক আছে।।।
রায়হান মির্জা কোমল স্বভাবের হলেও,,,তার ছেলের মধ্যে সেই স্বভাব মোটেও নেই।।প্রচুর অহংকারী ও উগ্রমেজাজী রুদ্র কায়নাথ মির্জার চোখে নারী জাত ও গরিব মানুষেরা নিছক’ই কি ঘৃণার বস্তু।।
“মায়া সিদ্দিকী” ভীষণ সাধারণ ও বেশ আত্মসম্মানী একজন মেয়ে বলা চলে,,মা বাবা কেউই আর বেঁচে নেই,,পরিবার বলতে মামা-মামি আর নানু মনির কাছে মানুষ হয়েছে সে।।।
~~~~~~~~~
নানুমণি! ও নানুমণি! তুমি প্লিজ মামা মামীকে বোঝাও না…দু’দিন হলো আমি H.S.C পরীক্ষা দিয়েছি,,আমার এখনো অনেক পড়ালেখা বাকি আমি নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে চাই,,এখনই আমি বিয়ে করতে চাই না।।প্লিইইইইজ নানুমণি!!🥺~মায়া
মায়া,, আমার সোনামণি,,,তুই প্লিজ এই নানুমনির একটা কথা রাখ,,তুই তো জানিস তোর মামীরা তোকে খুব একটা দেখতে পারে না,,,মামা এবং আমার ভয়ে তোকে তেমন জ্বালাতে পারে না,,আর কদিনই বা বাঁচবো,,, আমি মরার আগে তোকে সুখী দেখে যেতে চাই,,,আমার নানু মনির একটা সুন্দর সংসার দেখতে চাই।।ছেলের বাবার সাথে আমার কথা হয়েছে,,,তোর বাবার বন্ধু ছিল সে।।সেখানে তুই খুব ভালো থাকবি।।এতো ভালো সম্বন্ধে আর পাব না যে,,,তুই রাজি হয়ে যা সোনামনি।।~~রহিমা শিকদার(মায়ার নানুমণি)
মায়া~কিন্তু নানুমনি আমি তোমাকে ছাড়া কিভাবে থাকবো?🥺
রহিমা শিকদার~বোকা মেয়ে,,,তোকে কি একেবারে দিয়ে দিচ্ছি নাকি?যখন মনে পড়বে তখন চলে আসবি।।হেসে বুঝালেন রহিমা সিকদার,,নাতনি টা তাকে ছাড়া একেবারে থাকতেই পারে না।।
মায়ার আর কি করার!অবশেষে বিয়েতে রাজি হয়ে গেল সে।।
অপরদিকে,,,
what’s going on, dad??তুমি খাওয়া দাওয়া কেন করছো না??বেশ রাগান্বিত শোনা গেল রুদ্রের কণ্ঠস্বর।।
রায়হান মির্জা তা বুঝেও অবজ্ঞা করে গেলেন,,ছেলে তার বুড়ো হয়ে যাচ্ছে,, অথচ বিয়ে করার নাম নেই।।
প্রতিষ্ঠিত ও অসম্ভব সুদর্শন হওয়া সত্ত্বেও,,২৯ বছর বয়সেও ছেলের কোন মেয়ে বন্ধু নেই।।।কোন মেয়ে সাহস করে কাছাকাছি আসার চেষ্টা করলে,, পরবর্তীতে সেই সাহস দেখানোর ক্ষমতা রাখে না রুদ্র।।ভাবনা থেকে বেরিয়ে তিনি রুদ্রকে বললেন,,কি জন্য খাওয়া দাওয়া করছি না তা তুমি বেশ ভালো করেই জানো রুদ্র। বাবা হিসেবে তোমার কাছে আমি আর কি চেয়েছি??এটুকু চাওয়া তুমি আমার পূরণ করতে পারছো না!!এত কষ্ট করে লালন পালন করার এই মূল্য দিচ্ছো তুমি??
বাবা তুমি কেন ওই ছলনাময়ী নারী জাতকে আবার আমার জীবনে আনতে চাইছো??তার উপর তুমি যেই মেয়েকে বিয়ে করতে বলছো সে একজন গরিব/ মিডিল ক্লাস ফ্যামিলির মেয়ে! She is just not my type Dad!!
রুদ্র!! তোমাকে কতবার বলেছি আমার সামনে অহংকারী কথা বলবেনা,,আমি তোমার এসব অভদ্রতার সহ্য করবোনা,,তুমি যদি আমার কথা না শুনো তাহলে,, আমি এক গ্লাস পানিও মুখে দিব না।।
ব্যাস!!বাবার রাগের কাছে ধরাশায়ী হয়ে পড়লো রুদ্র,,, সবার কাছে পাষাণ ও কঠিন হৃদয়ের খেতাব পাওয়া রুদ্র তার বাবাকে যে ভীষণ ভালোবাসে, বারবার তার বাবার রাগের কাছে হেরে যায়।।আর রায়হান মির্জা ছেলের ঠিক সেই দুর্বলতারই সুযোগ নিল।
বাবা খেয়ে নাও,, তোমাকে ওষুধ খেতে হবে।।ঠিক আছে বিয়েতে রাজী।।শুধু বিয়েটা হবে,,,কিন্তু বিয়ে নিয়ে কোন ফালতু রিচুয়ালে আমি আমার প্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করতে পারবো না,, মনে রেখো।।বেশ ঠান্ডা স্বরে কথাগুলো বলে অফিসে চলে গেল রুদ্র।।
~~~~~~
ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে হচ্ছে রুদ্র ও মায়ার।।মায়ার নানুমণি,তিন মামা ও তাদের সহধর্মীনিরা,, সাথে মামাতো বোনগুলো,রুদ্র,রুদ্রের বাবা,,, বিয়েতে শুধু এই কয়জন লোকই আছে।।মায়ার তিন মামীর মধ্যে ছোট মামি মায়াকে ভীষণ ভালোবাসে,,বাকি দুই মামি মায়াকে খুব একটা সহ্য করতে পারে না,,বড় মামি একটু বেশি ঘৃণা করে মায়া কে।।
বড় মামি রুকসানার দুই মেয়ে,,বড় মেয়েকে কোনরকম তাদের মতো মধ্যবিত্ত ফ্যামিলিতে বিয়ে দিলেও,,, ছোট মেয়েটা পালিয়ে গিয়ে তাদের মুখে চুনকালি মেখেছে।।পালিয়ে গিয়েছো একটা বেকার ছেলের সাথে।। তার মেয়েগুলো মায়ার থেকে কতটা সুন্দরী!! যেখানে মায়া শ্যাম বর্ণের,,সেখানে তার দুটো মেয়েই পকপাকা ফর্সা রঙের ছিল,,কই এত বড়লোক,সুদর্শন পাত্র তো তারা জোগাড় করতে পারেনি তাদের মেয়ের জন্য??আর এই অনাথ চাল- চুলোহীন মেয়ের কিনা এত ভালো জায়গায় বিয়ে হবে??সারা জীবন তাদের ঘাঁড়ের উপর গিলে খেয়ে এখন এত বড়লোক জায়গায় বিয়ে করে রাজরানী হয়ে থাকবে??হিংসায় জলে-পুড়ে কথাগুলো ভাবছে রুখসানা।।
ঘরোয়া আয়োজনে অবশেষে বিয়েটা হয়ে গেল রুদ্র ও মায়ার।।কনে বিদায়ের পালা,, মায়া তার নানুমনিকে জড়িয়ে কাঁদছে,, বিয়ে শেষে রুদ্র রাগে-ক্ষোভে বাইরে বেরিয়ে এলো।।
রুদ্রকে বাইরে একা দেখে রোকসানা সিদ্দীকি ভয়ংকর দুষ্টু বুদ্ধি আঁকলো,, সাথে যোগ করল মেজো মামানি মহিমা সিদ্দিকীকে।।
মায়াদের বিল্ডিং ঘরের দরজা থেকে সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে রুদ্র আপন মনে সিগারেটের ধোঁয়া উড়াচ্ছিল।। তখনই দুজন মহিলার কিছু কথা তার কানে ভেসে আসলো,, সে মহিলা দুজনকে দেখতে পাচ্ছিল না কিন্তু কথা শুনে বুঝলো তারা তার সদ্য বিবাহিত বউয়ের মামনি হয়।।
রুকসানা সিদ্দিকী ~যাক ভাগ্নিটাকে অবশেষে বিশাল ধনী পরিবার এ বিয়ে দিতে পারলাম।। তবে ছেলের বাবা একটা মাথামোটা।।
মহিমা সিদ্দিকী~ঠিক বলেছ বড় ভাবি।। মায়ার বুদ্ধি আছে বেশ।। বন্ধুর মেয়ে বলে ভুলিয়ে-ভালিয়ে লোকটাকে কেমন উল্লু বানালো!! তবে মায়ার বয়ফ্রেন্ডের কি হলো, যার সাথে রাত-বিরেতে ঘুরতে যেত??
রুকসানা সিদ্দিকী~হ্যাঁ,,দুদিন আগেও তো ছেলেটার সাথে হোটেলের রাত কাটিয়ে এলো।।………. রুকসানা ও মহিমা সিদ্দিকী ইচ্ছে করেই রুদ্রকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিল আর মিটিমিটি হাসছিল,, আগে থেকেই মেয়েদের প্রতি বদ্ধ খারাপ ধারণা থাকায় নিষ্পাপ মায়াকে নিয়ে করা মামিদের এই মিথ্যাচার ধূর্ত রুদ্র ও খুব সহজেই বিশ্বাস করে নিলো।।
রুদ্রের তার বাবার প্রতি একরাশ অভিমান জমা হলো,,সেই সাথে সদ্য বিবাহিত মায়ের প্রতি জন্মালো অসীম ঘৃণা,,যা হয়তো রুদ্র ও মায়ার জীবনের এক দহনের সূত্রপাত।।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বর্তমান ~বাসর ঘরে ঘোমটা দিয়ে বধু বেশে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছে মায়া।। একটু অনুভূতি,একটু ভয়, অনেকটা অস্থিরতা কাজ করছে।। ঠক ঠক জুতোর আওয়াজ পাচ্ছে মায়া,, এত শব্দ করে কে আসছে!! এরই মধ্যে ঘরে একজন পুরুষের প্রবেশ দেখলো মায়া,সে বুঝল এটাই তার সদ্য বিবাহিত স্বামী।দরজা বন্ধের আওয়াজ হলো,,মায়া জানে না কেন তার ভয় এত বেড়ে গেছে,,প্রচুর ভয় করছে তার।। ঠক ঠক বুট জুতোর আওয়াজ বিছানায় মায়ার কাছে এসে থামলো।।মায়া এখনো তার স্বামীকে দেখেনি,,নানুর কাছে শুনেছিল অনেক সুদর্শন বর তার।।তার বর’ও নাকি তাকে দেখেনি এখনো।। কি অদ্ভুত বিয়ে!!এই যুগে এভাবেও বিয়ে হয়??মনে মনে কথাগুলো ভাবছে মায়া।। আচ্ছা এখন কি করবে রুদ্র??নিশ্চয়ই তার ঘোমটা উঠিয়ে মুখ দেখবে!!কথাটা ভেবেই ঘোমটা টেনে আরো বড় করলো।। মায়ার ভাবনার মাঝেই গলায় প্রচন্ড শক্ত হাতের চাপ অনুভব করলো।।কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিল মায়ার।।শ্বাস নিতে পারছে না সে!মায়ার মনে হচ্ছে সে বুঝি এখনই মরে যাবে।। পুরোপুরি নিঃশ্বাস আটকে যাওয়ার আগে রুদ্র মায়ার গলা ছেড়ে দিলো।খুক খুক করে কাঁশছে মায়া,,বেশ খানিকক্ষণ সময় নিয়ে বড় বড় করে নিঃশ্বাস টেনে তোলার চেষ্টা করছে সে,,একটু ধাতস্থ হতেই আবারও বাম গালে শক্ত হাতের থাপ্পড় খেয়ে খাট থেকে পড়ে গেল সে।।মায়ার মনে হচ্ছে সে কানে শুনছে না, গালের অস্তিত্ব অনুভব করছে না!! এমন শক্ত হাতের থাপ্পড় হয়তো জীবনেও খায়নি মেয়েটা।
~~~চলবে??
মায়ার_যাতনা
অরুনিতা_আঁখি
প্লিজ আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক অথবা ফলো দিয়ে আমাদের সাহায্য করুন।
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
Follow ✓
আপনাদের কমেন্টের লাইক দেওয়ার মানে হল এই গল্পের পরবর্তী পর্বটি আসছে ,
তাই প্লিজ আপনাদের মন্তব্য জানান…
Comment…

