#শেষ_পাতায়_সূচনা [০৪–খন্ডাংশ]
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
—মম, আই নিড টু গো টু ওয়াশরুম ইমিডিয়েটলি।
ঘুম ভাঙা গলায় তাজ কথাটি বলে ওঠে। পূর্ণতা ছেলেকে নিয়ে যায় ওয়াশরুমে। তারপর ফ্রেশ করিয়ে নিয়ে এসে খাওয়াতে বসে তাকে। দুই লোকমা খাবার খাওয়ার পর তাজ আর খেতে পারে না ঝালে। ছেলেটা অবিকল তার বাপের মতো হয়েছে, অথচ জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত একবার দেখা পেয়েছে তার পিতার। তাও পাঁচ বছর বয়সে।জাওয়াদও একদমই ঝাল খেতে পারত না।
পূর্ণতা আর সেই ঝাল খাবার খেতে দেয় না ছোট তাজকে। ছেলেকে নিজের ফোনে কার্টুন ছেড়ে দিয়ে নিজে বের হয়ে আসে রুম থেকে। রাত প্রায়ই অনেক হওয়ায় রিসোর্টের প্রায় সব স্টাফই ঘুমিয়ে পরেছে। ছেলেটাকে কি খাওয়াবে ভেবে মাথা উলটপালট হয়ে পূর্ণতার।
পূর্ণতাকে এই সময়ে রুম ছেড়ে আসতে দেখে একজন স্টাফ তার কাছে এগিয়ে আসে। জানতে চায় পূর্ণতার কি প্রয়োজন। পূর্ণতা বিষয়টা খুলে বললে, স্টাফটি জানায় সেফ ঘুমিয়ে পরেছে। পূর্ণতা তখন নিজেই বলে, সে রাঁধবে
স্টাফটি তাকে কিচেনে নিয়ে যেতেই পূর্ণতা পাক্কা রাধুনি হাতে ঝটপট একটা বোল স্যুপি নুডলস বানিয়ে নেয়। কাজ শেষ করে ব্যবহৃত সব বাসনকোসনও নিজেই ধুয়ে দেয়। স্টাফটি মানা করলেও পূর্ণতা শুনে না। শেষে আসার সময় ঐ স্টাফকে ধন্যবাদ দিয়ে রুমে চলে আসে।
পূর্ণতা রুমে আসতেই তাজওয়াদ আদোও আদোও গলায় প্রশ্ন করে ওঠে–
—মাম্মা, ইউ মন্সতার আনতেলের তাতে তুমি কেনু? আর আমাকে চেড়ে তুমি এত সেদেগুদে কুতায় গিয়েতিলে?
তাজওয়াদ কার্টুন দেখা বাদ দিয়ে পূর্ণতার ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে জাওয়াদ ও পূর্ণতার বিয়ের ছবি বের করে ফেলে। পূর্ণতা জাওয়াদকে ছেড়ে যাওয়ার সময় তার স্মৃতি বহন করে এমন কোন জিনিস নিজের সাথে নিয়ে যায়নি, একমাত্র তাজওয়াদকে ছাড়া। ইভেন আগের ব্যবহৃত মোবাইলখানা সে কানাডার ফ্ল্যাইটে উঠার আগেই এয়ারপোর্টেই ফেলে রেখে গিয়েছিল।
একদিন হুট করেই তার আগের আইডি সাজেশনে আসে। তখন সে পাঁচ মাসের প্রেগন্যান্ট। জাওয়াদকে দেখার প্রবল তৃষ্ণা থেকেই সে তার আগের আইডির ওয়ালপেপার থেকে নিজেদের বিয়ের এই ছবিটি ডাউনলোড করে। যার জন্য সব হারালো, সেই তাকেই ভালোবাসতে ভালোবাসে পূর্ণতা।
[আজ পূর্ণতা আর জাওয়াদের অতীতের একটা বড় অংশ আসবে ইনশা আল্লাহ। আজকের পর্বটা পড়লেই আশা করি আপনার অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

