আমায়_রেখো_প্রিয়_শহরে #লেখনীতে_নূরজাহান_আক্তার_আলো #পর্ব_চৌত্রিশ

0
25

#আমায়_রেখো_প্রিয়_শহরে
#লেখনীতে_নূরজাহান_আক্তার_আলো
#পর্ব_চৌত্রিশ



অফিস থেকে বেরিয়ে দুপুরের লাঞ্চ সেরে রিদওয়ান আর কুহু এসেছে ডেইজির চেম্বারে। ক’জনের পরেই কুহুর নাম ধরে ডাকলে তারা ভেতরে প্রবেশ করল। বসল পাশাপাশি চেয়ারে৷ ডেইজি কুহুর সঙ্গে কথা বলছে।
মূলত ফানি কথা বলে কুহুকে ইজি করার চেষ্টা করছে। তার কথা শুনে কুহুও খিলখিল করে হাসছে। হাসির কারণ ডেইজি রিদওয়ানকে নিয়ে ফান করছে। এত ফানি কথা বলছে যার কারণে কুহু না হেসেও পারছে না৷ তবে রিদওয়ান এখানে নীরব দর্শক। একপর্যায়ে ডেইজি মূল পয়েন্টে এলো। হাসতে হাসতে কথার মাধ্যমেই কুহুর কিছু সমস্যার কথা জেনেও নিলো। আবার ফান করল। আবার হাসল। এরপর আবার কুহুর সমস্যা নিয়ে কথা তুলল। তারপর তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনল। কথা বলতে বলতে কথা ভুলে যায় নাকি তাও খেয়াল করল। এবং কথার মাধ্যমেই ডেইজি ধরে নিলো কুহুর আরো কিছু সমস্যা। এভাবে’ই বেশ কিছুক্ষণ সময় গেল। এমন না করলেপেশেন্ট বিরক্ত হয় কথা বলতে চায় না। আর কথা না বললে তার সমস্যাগুলো সহজে ধরা যায় না। তারপর ডেইজি বেশ কিছু মেডিসিন লিখে দিলে এবং তারা বেরিয়ে এলো। ডাক্তারের কাছে এসে আজ কুহুর কান্না পেলো না। মন খারাপ হলো না। কষ্ট হলো না কারণ তার রোগের নাম নাকি রিদওয়ান রিদ। এরপর তারা সেখান থেকে বেরিয়ে মেডিসিন শপে এলো। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মেডিসিন নিয়ে রিদওয়ান গাড়িতে বসেই তাকে দুপুরের মেডিসিন খাইয়ে দিলো। বাসায় ফোন দিয়ে রুপকের খোঁজ নিলো। রুপক খেয়েছে। শুয়ে শুয়ে গেম খেলছে। রিমিও আর তার বাবাও নাকি কিছুক্ষণ আগে ফিরেছে।
এরপর তারা বাবা মেয়ে আবার কোথাও যেন বেরিয়েছে। একথা শুনে রিদওয়ান আর কথা বাড়াল না সাবধানে থাকতে বলে কল কেটে দিলো।
এরপর তারা গেল নীল পানির লেক দেখতে। মাথার উপর ঝকঝকে স্বচ্ছ আকাশের দেখা পেতো। পাহাড়ের গায়ের ঘ্রাণ নিতে। এতদিন পর ঘুরতে পেরে কুহুর ভীষণ ভালো লাগছিল। তার ওষ্ঠে হাসি লেগে আছে। চোখ মুখে ঝরছে অপার খুশি। কিছুক্ষণ ড্রাইভ করে রিদওয়ানরা এলো কাঙ্ক্ষিত সেই স্থানে। গাড়ি থেকে নেমে কুহুর হাত ধরে এগিয়ে গেল নীল পানির লেকের দিকে। নীল পানির লেক দেখে কুহুর মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল। জায়গাটা এত সুন্দর! সৌন্দর্যে ভরপুর। এজন্যই বুঝি এ দেশকে স্বর্গ বলা হয়। সে প্রাণ ভরে শ্বাস নিলো। তারপর বেশ কিছুক্ষণ লেকের পানির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

-‘ লেকের পানি নীল হয় কেন?’

-‘দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে লেকের পানি নীল দেখায়। অল্প পরিমাণে পাণি বর্ণহীন দেখায়। কিন্তু লাল তরঙ্গদৈর্ঘ্যে আলোর সামান্য শোষণের ফলে জলের একটি অন্তর্নিহিত নীল রঙ রয়েছে। আরপরিষ্কার দিনে জল নীল দেখায় কারণ আকাশের নীলতাকে প্রতিফলিত করে। মেঘলা দিনে, বড় জলাশয়গুলি আবার ধূসর বর্ণের দেখায়।’

-‘জটিল সব ব্যাপার স্যাপার।’

-‘কই, সহজই তো।’

-‘ আচ্ছা এখানে ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর বানাতে দেবে না? আমি এখানে থেকে যেতে চাই। যানজটের শহর ভালো লাগে না আর। এখানে বাতাস থেকে শুরু সবকিছু যেন মন ভালো করা মাধ্যম।’

একথা শুনে রিদওয়ান কুহুর মাথার তার কাঁধে টেনে নিলো। হাতের পাঁচ আঙুলের মাঝে গুঁজে দিলো তার আঙুল। কুহু নিশ্চুপ। চোখ বন্ধ করে অনুভব করছে এই মোহনীয় মুহূর্তটাকে। উপলব্ধি করছে পাশে বসা তার ব্যক্তিগত পুরুষটাকে। তখন রিদওয়ান ডাকল,

-‘কুহু।’

-‘হুম।’

-‘ রুপক দেশে চলে গেল থাকতে পারবে না আমার কাছে? শুধু তুমি আর আমি। আমাদের দু’জনের একটা সংসার হবে। তুমি নিজে সাজাবে তোমার সংসার।’

-‘ না।’

-‘কেন?’

-‘ আমি এর আগে কখনো বাবা মাকে ছাড়া থাকি নি৷ এই প্রথম তাও আবার এতদূরে। এবার ভাইয়াও যদি চলে যায় তাহলে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে আমার। ম’রে যাব আমি।’

-‘আমি আছি তো। সব সময় তোমার কাছে থাকব। ভালোবাসব। তবুও থাকবে না? আচ্ছা এটা বলো আমাকে রেখে যেতে তোমার কষ্ট হবে না?
মন কাঁদবে না?’

-‘হুম।’

-‘তাহলে থেকে যাও আমার কাছে বাকিরা দেশে চলে যাক। কিছুদিন পর নাহয় আমরাও যাব।’

-‘সবার সঙ্গে গেলে কি হবে? আপনিও দেশে ফিরে চলুন। ফিরে কলেজে জয়েন্ট করুক। শিক্ষক হিসেবে পারফেক্ট ছিলেন। আপনি আসার পর সবাই আপনাকে খুব মিস করেছে।’

-‘এতকিছু জানি না শুধু জানি আমি ছাড়া তুমি দেশে যাবে না, ব্যস!

-‘গেলে কি হবে?’

-‘ নিঃশ্বাস আঁটকে মা’রা যাব।’

-‘তাহলে আপনিও চলুন।’

-‘হঠাৎ করে যাব বললেই কি যাওয়া যায়? গুছিয়ে নিতেও তো সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়া যে প্রজেক্টে কাজ করছি মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ারও কোনো ওয়ে নেই।’

-‘এসব গুছিয়ে নিতে কতদিন লাগতে পারে?’

-‘মাস তিনেক তো লাগবেই।’

-‘ আচ্ছা।’

-‘আজ সকালে আম্মুর ব্যবহারে খুব কষ্ট পেয়েছিলে?’

-‘না তো। মায়ের বকা খাওয়ার অভ্যাস আছে আমার। মারও খাই। ‘

একথা শুনে রিদওয়ান হাসল। কুহুর হাত ধরে বসে পড়ল নরম ঘাসের উপর। এরপর দু’জনে তাকিয়ে রইল নীল জলের লেকের দিকে। অদূরে থাকা পাহাড়ের দিকে। কথা নেই। শব্দ নেই। শুধু দু’চোখ ভরে দেখতে লাগল সৃষ্টিকর্তার তৈরি সৌন্দর্যকে। এরপর সন্ধ্যায় আগ মুহূর্তেই তারা বাসায় ফিরল। নিলুফা ইয়াসমিন এখনো আসে নি। উনার ফিরতে রাত হবে। তখন রুপক আর রিমি রান্নাঘরে কিছু একটা করছিল। কুহু ফ্রেশ হয়ে এসে তাদের সঙ্গে জয়েন হলো। আজ রুপক রান্না করছে। কি যে রান্না করছে কে জানে। তবে তাদের তিনজনের খিলখিল করা হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে দো’তলাতে বসেও।

রাত তখন সাড়ে ন’টা। রাতের খাবার খেতে বসেছে সবাই। তখনই জানা গেল রিমি তার বাবার সঙ্গে দেশে ফিরবে। টিকিটও কনফার্ম। রিদওয়ান ভ্রুঁ কুঁচকে কিছু বলার আগে নিলুফা ইয়াসমিন বাঁধ সাধলেন। তিনি অন্য কথা তুলে এই প্রসঙ্গের লাগাম টানলেন। কুহু তার ঘুরতে যাওয়ার কথা সবাইকে জানাল। কি কি দেখেছে গড়গড় করে তাও বলল। তার খুশির আভাস মুখখানাতেও যেন সুস্পষ্ট। আগের সেই চঞ্চলতাও চোখে পড়াে মতো। রুপক বোনের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে রিদওয়ানের দিকে তাকাল। এরপর কিছু না বলে খাওয়াতে মন দিলো।পাশাপাশি দু’জনকে বেশ মানিয়েছেও। দেশে থাকতে কুহুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়াটা যেন যুদ্ধের সামিল। আবার ডাক্তারের কাছ থেকে ফিরে মন মরা থাকে। কারো সঙ্গে কথা বলে না। খায় না। মেডিসিন খাওয়ানোর কথা আর কী বলবে। অথচ আজকের দৃশ্যটা যেন অন্যরকম। তার মনটা খুশিতে ভরে গেছে। মন থেকে দোয়া আসছে প্রিয় বন্ধুর প্রতি। সবকিছু ঠিক হওয়ার
আশা দেখছে। আভাসও পাচ্ছে বোনকে সে সঠিক মানুষের হাতেই তুলে দিয়েছে। সারাদিন শুয়ে বসে থেকে বিকেল রিমির সঙ্গে সে হাঁটতে বের হয়েছিল। আশপাশটা ঘুরে ফেরার সময় একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।
ম্যাকসন নামের একটা ছেলে এসে রিমির হাত ধরে টানতে থাকে। রাগে হিসহিসিয়ে জানায় রিমিকে তার সঙ্গে যেতে। রিমির চেনা ভেবেই রুপক দাঁড়িয়ে দেখছিল। হঠাৎ রিমি ছেলেটার গালে সপাৎ করে চড় বসিয়ে তার বাহু জড়িয়ে ধরে বলে বসল,

-‘এটা আমার উডবি হাজবেন্ড। তাকে আমি ভালোবাসি৷ সামনের মাসে বিয়ে আমাদের। আর কখনো আমার সামনে আসবি না। যদি আসিস তাহলে পুলিশ কল করব।’

এরপর আর দাঁড়ায় নি সে। তার হাত ধরে টানতে টানতেই বাসায় ফিরে এসেছে। তবে আসার সময় রিমি জানিয়েছে ম্যাকসনের কথা। বলেছে, সেদিনের ঘটনাও। সরিও বলেছে, এসব বলার জন্য নাহলে ম্যাকসনকে থামানো যেতো না। রুপক ব্যাপারটা সহজভাবে নিয়েছে। এবং রিমিকে বুঝিয়েছে। এরপর রিমির মন ভালো করতে তার হাতের বানানো সেইই স্পেশাল বিরিয়ানি রান্না করেছে। সঙ্গে জালি কাবাব। টেষ্টও অসাধারণ।
গম্ভীর মুখে খেতে থাকা নিলুফা ইয়াসমিনও জানালেন রান্না খুব ভালো হয়েছে। রুপক শুনে খুশি হলো। ভদ্রতা সূচক হাসল। রিদওয়ানের মুখে কথা নেই। সে একমনে খাচ্ছে। সে জানে রুপক রাঁধতে পারে। এর আগে বহুবার খেয়েছে তার হাতের রান্নাবান্না তাই আলাদা করে কিছু বলল না।
এদিকে কুহু, রিমি, আতিকুল রহমান একবার খেয়ে আবারও নিয়েছে।
তাদের মধ্যে বাজি চলছে। যেই হারবে আজ তাকে এঁটো বাসন মাজতে হবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে হেরেছে, আতিকুল রহমান। আর হেরেও খুশি তিনি। হাসছেন প্রাণ খুলে। কিছু হার এনে দেয় অপার খুশি। ফলস্বরূপ তিনি এঁটো বাসন মাজতে লেগেও গেলেন। তবে সাহায্য করল সকলেই।
যেমন, উনি মাজলেন আর কুহু সেসব থালা বাসন ধুলো। রিমি সেগুলো সাজিয়ে রাখল। রিদওয়ান আর রুপক ডায়নিং টেবিল পরিষ্কার করল। ব্যস, হাতে হাতে সব কাজ শেষ। এরপর আরো কিছুক্ষণ চলল গালগল্প, হাসাহাসি। এরপর সবাই যার যার রুমে চলে গেল। তবে এই সময়টুকুতে
নিলুফা ইয়াসমিন শুধুই চুপ করে দেখলেন। উপলব্ধি করলেন ব্যখাহীন কিছু সুখ মুহূর্তের কথা। তবে উনার মুখ দেখে কিছু বোঝা গেল না। তবে উনি মনে খুশি হলেন কারণ এই বাসায় এমন স্নেহমাখা দৃশ্য এ প্রথম কী না তাই!

বাইরে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো বাড়ি এখন নীরাবতায় ছেঁয়ে আছে। রাত এখন প্রায় একটার কাছাকাছি। কুহু বকবক করতে করতে ঘুমে তলিয়ে আছে। রিদওয়ান এতক্ষণ পাশে বসে লেপটপে কাজ করছিল। টানা কয়েক ঘন্টা কাজ করে কোমর, পিঠ, লেগে গেছে। ঘাড়টা ব্যথা করছে।
সে লেপটপে ডেক্সের উপর রেখে জানালা ভালো করে আঁটকে একবার নিচে গেল। নিচে সবকিছু ঠিকঠাক দেখে ফ্রেশ হয়ে শুতে এলো। পাশেই
কোল বালিশ বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে একটা জীবন্ত পুতুল। সে হাত বাড়িয়ে পুতুলটাকে কাছে টেনে নিলো। জাপটে ধরল সন্তপর্ণে।
এরপর আদর এঁকে দিলো পুতুলের কপালে, গালে। একা একা হাসলও।
কেন জানি বউ পুতুলটাকে ঘুমাতে দেখে তার সহ্য হলো না। সে কাতুকুতু দিতেই কুহু নড়েচড়ে আবার ঘুম। অসভ্য রিদওয়ান থামল না বরং স্পর্শ গাঢ় করল। তার অবাধ্য হাতজোড়াও চলতে থাকল কুহুর দেহের ভাঁজে।
এমন স্পর্শে এবার কুহু ঘুমে জড়ানো চোখ মেলতেই কানে কানে বলল,

-‘বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ‘

-‘এটা বলার জন্য আমার ঘুম ভাঙালেন?’

-‘না। বাইরে বৃষ্টি, পাশে সুন্দর বউ, রোমান্টিক ওয়েদার, শুধু প্রয়োজন পারমিশনের। প্রথমবার তাই পারমিশন নিচ্ছি সেকেন্ড বার পারমিশনের ধাঁর ধারব না যদিও।’

-‘কিসের পারমিশন? কী বলে না বলে কিছুই বুঝছি না।’

-‘স্পর্শ করার সম্মতির। তবে সময় চাইলে নিতে পারো। সঙ্গে এটাও মনে রেখো আজ অথবা কাল ধরা তোমাকে দিতেই হবে। এখন বলো তুমি কী চাও? আমি তোমার হ্যাঁ/না সব সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেবো।’

-‘ (…)’

-‘তবে কি ধরে নেবো, নীরাবতাকে সম্মতি লক্ষণ।’

একথা শুনে কুহুর গাল দুটো লাল বর্ণ হতে দেখে রিদওয়ান আর কথা বাড়াল না। সে কুহুকে নিয়ে ডুব দিলো ভালোবাসার নামক সুখ রাজ্যে।উপেক্ষার উপস্থিতি যেন না আসে তাই সময় দিয়ে অপেক্ষা করল না।
বৈধ সম্পর্কের জের ধরে সম্পর্কে গভীরতা এনে শুরু করল নতুনভাবে পথচলা। আজকের দিনের শুরুটা মন খারাপ দিয়ে শুরু হলেও শেষ টা স্মরণীয় হয়ে থাকল। কারণ আজকের সারাটাদিনে তার প্রাপ্তির খাতায় অনেককিছু ই যুক্ত হয়েছে। এভাবে হাসি খুশিতেই দুটো দিন কেটে গেল।
রাতের ফ্লাইটে রিমি আর আতিকুল রহমান দেশে ফিরে গেল। এতক্ষণে দেশে পৌঁছে গেছে। পাখির ছানার মতো করে আতিকুল রহমান মেয়েকে বুকে আগলে নিয়ে গেছে। একে একে দেখিয়েছেন পড়ে থাকা উনার এত বড় বাড়িটা। শূন্য সংসার। কোলাহলহীন বাড়ির আশপাশ। এসব দেখে রিমির নিজেরও খুব খারাপ লেগেছিল কিন্তু বাবাকে সে বুঝতে দেয় নি।বলা বাহুল্য কষ্ট বাড়াতে চায় নি। এরপর বাবা সঙ্গেই তার সময় কাটতে লাগল। আতিকুল রহমান কলেজের সময়টুকু বাদে প্রায় সময়ই মেয়েকে সঙ্গে রাখেন।কলেজে নিয়ে যান মাঝে মাঝে। ঘুরে ফিরে দেখায় অনেক কিছু। বাবা মেয়ে ঘুরে, শপিং করে, বাজি ধরে লুডু খেলে, নিজেরা রান্না করে, বাজার করে,হইহই করে ঘুড়ি উড়ায়, বাগানের পরিচর্যা করে,একে অপরকে নিজে হাতে খাইয়েও দেয়। এক কথায় মেয়ের আবদার পূরণ করে। এভাবেই বাবার সঙ্গে রিমির সম্পর্কটা আরো মজবুক হয়। রিমিও বুঝে বাবার আদর কাকে বলে। ওদিকে রিদওয়ান আর কুহুর সম্পর্কটা
দাম্পত্যের স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। বেড়েছে একের অন্যের মায়াও।
কুহু এখন লেগে থাকে নিলুফা ইয়াসমিনের সঙ্গে। উনার সঙ্গে শপে যায়। হাতে হাতে সাহায্য করে। দুষ্টুমি করে। বকা খায়। মন খারাপ করে, বাবা মায়ের জন্য চুপিচুপি কাঁদেও। সেটা খেয়াল করেসনিলুফা ইয়াসমিন’ই আবার কাছে ডেকে নেয়। ভালোবাসা অপ্রকাশিত রেখেই স্নেহ দেখায়। আদর করে। শপ থেকে অনেককিছু এনে দেয়। কখনো বা প্রচন্ড রেগে গিয়ে ঝাড়তে শুরুতে করে তিনজনকেই। বাদ যায় না রুপকসহ দেশের মাটিতে থাকা আতিকুর রহমান এবং রিমিও। সবাই উনার বকাগুলোকে হাসিমুখে মেনে নেয়৷ অভিযোগ গুলোও শুনে। বকা শুনতে শুনতে কুহু মাঝে মাঝে হেসে ফেলে। তার হাসি দেখে হাসে রিদওয়ান আর রুপকও। তখন চেঁচামেচির মাত্রা বেড়ে যায় একপর্যায়ে হেসে ফেলে রাগী নিলুফা ইয়াসমিনও। এর মধ্যেই আরেকটা ব্যাপার লক্ষণীয়, সেটা হলো কুহুর পরিবর্তন।

To be continue………!!

#আমায়_রেখো_প্রিয়_শহরে
#লেখনীতে_নূরজাহান_আক্তার_আলো
#পর্ব_পঁয়ত্রিশ



প্রবাদে আছে, ‘সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে’ এটি বহু পুরনো একটি প্রবাদ। কিন্তু এর মানেটাও যথার্থ। সঙ্গের সঙ্গী যদি ভালো হয় তবে পথচলাও সহজ হয়। সঙ্গের সঙ্গী যদি খারাপ হয় তাহলে কর্মযোগে জীবনে পড়ে বিরুপ প্রভাব। এ যেন অপ্রিয় একখানা সত্য। এর যথাযথ উদাহরণ ধরা যাক, কহু আর রিদওয়ানের বর্তমানে অবস্থানকে, বিয়ের পরে বন্ধনকে।
কিছুদিন আগেও হঠাৎ হঠাৎ ভুলে যাওয়া, কল্পনার জগৎ, তিক্ত তিরিক্ষি মেজাজ নিয়ে এতদিন নিজেও বিরক্ত ছিল কুহু। তার এই রোগ, রোগের চিকিৎসা, মেডিসিন খাওয়া নিয়ে চলতো একপ্রকার বাকদ্বন্দ। নিজেকে অসুস্থ বলে মনে করত না। উল্টে,ভাবত সবাই জোর করে অসুস্থ বানাতে চাচ্ছে, তাকে মেন্টালি টর্চার করছে। অথচ বর্তমানে তার মাঝে এসবের
কোনো লক্ষণ দেখা যায় নি। বিরক্তি ভাব নেই। চিন্তা নেই। অসুস্থতার’ও
রেশ নেই। বাক বিতর্কতা। আছে শুধু তার চঞ্চলতা আর প্রিয় মানুষদের ভালো রাখার নিদারুণ প্রচেষ্টা।

রিমির দেশে যাওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেছে। রিমি বাংলাদেশে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক এখন বন্ধুত্বপূর্ণ।
দেশ, দেশের মানুষ, সবকিছু ভীষণ ইনজয়ও করে। নিলুফা ইয়াসমিনের আরো আগে দেশে ফেরার কথা থাকলেও ছেলের অনুরোধে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছেন। তবে ধীরে ধীরে কাজ গুছিয়েও নিয়েছেন। রুপকও বোনের সঙ্গে সেখানেই আছে। অনলাইনেই নিজের কাজকর্ম করে এবং রিদওয়ানের অফিসে গিয়ে তাকে সাহায্য করে। দূর থেকে খেয়াল রাখে তার বাবা মায়ের প্রতি। ছেলে হিসেবে, ভাই হিসেবে, বন্ধু হিসেবে কোনো দায়িত্বকেই হেলা করে না। দেশে রিমি আর আতিকুল রহমান নিজেদের
অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছে। এদেশে নিলুফা ইয়াসমিন, রিদওয়ান, কুহু, রুপকের জীবনও চলছে সময়ের গতিতে। এরিমধ্যেই কুহুকে কয়েকবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়েছে। খেতে হয়েছে কড়া কড়া মেডিসিন।
মেডিসের প্রভাবে প্রচুর ঘুম হয়। ঘুম মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখে। টেনশন মাথায় ঘুরপাক খায় না। কল্পনার জগতের দুয়ার খুলতে পারে না, অকারণে যা তা ভেবে বাস্তবের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে না। তবে ঘুমের কারণে আজকাল স্বাস্থ্য খানিকটা বেড়েছেও। স্নিগ্ধ শীতল মুখখানা ভরাট ভরাট লাগে। সে দেখতে এমনিতেই ভীষণ আদুরে। তবে মুখের ভরাট ভাব তাকে আরো
পরিপূর্ণ করেছে। এখন তার সকাল শুরু হয় কারো বাহুডোরে নিজেকে আবিস্কার করে।ভালোবাসার চাদরে সিক্ত হয়ে। মন ভালো করার রেশ খুঁজে পায় প্রিয় মানুষটার ঘুমন্ত মুখ দেখে। এরপর ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে গিয়ে সকালের নাস্তা নিয়ে শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে হাতে হাত কাজ করা, একসঙ্গে নাস্তা করা, নাস্তা করতে বসে গল্পের মহাড়া খোলা, রিদওয়ান আর রুপককের বিদায় জানিয়ে উনার সঙ্গে শপে যাওয়া। সেখানে গিয়ে শাশুড়িকে হেল্প করা, মাঝে মাঝে উনার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, টুকটাক শপিং, শপ থেকে ফিরে প্রিয় মানুষটার জন্য নিজেকে পরিপাটি করে তার জন্য অপেক্ষা, অপেক্ষার অবসাদ ঘটিয়ে সেই মানুষটার আগমন। ক্লান্ত শরীর প্রেমময় চাহনি। মন কেমন করা হাসি। সেই হাসিতে সর্বাঙ্গের শিহরণ। এভাবেই সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে তার দিনগুলো কাটছে। আসার পর যা ভেবেছিল ততটাও খারাপ লাগে না তার। তবে বাবা মায়ের জন্য ভীষণ মন খারাপ হয়। চুপিচুপি কাঁদে। তার কান্না দেখে রিদওয়ান কিছু না কিছু করে মন ভালো করে দেয়। হাসায়। তাছাড়া রিদওয়ান নিজে হাতে নিয়ম করে মেডিসিন খাওয়ানোর ফলে মেডিসিন মিস হওয়ারও সুযোগ মিলে না। ফলস্বরূপ, ওর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে দূর হচ্ছে। এটা সবার নজরে পড়েছে। এতে সবাই খুশিও। এত তাড়াতাড়ি, এত পরিবর্তন কেউ আশা করে নি। ভাবেও নি পরিবেশ পরিবর্তন করা কুহুর জন্য এতটা উপকারে আসবে। কারো নিগূঢ় ভালোবাসায়, যত্নে, তার মাঝে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। এসবের মধ্যে এত বকার পরেও কুহু নিলুফা ইয়াসমিনের পিছু ছাড়ে না। মা ডাকতে দ্বিধা করে না। সে মিশতে চায়, ভালো থাকতে চায়, সবাইকে ভালো রাখতে চায় দেখে তিনিও আর দূর দূর করেন না। কথার খোঁচা মারে না শাসণের আড়ালে ভালোবাসেন। স্নেহ’ও করেন। তবে তা
প্রকাশ করতে চান না। অথচ কুহু তা বুঝেও ফেলে, ধরে ফেলে শাশুড়ির ভালোবাসার নমুনা। এইতো কয়েক সপ্তাহ যাবত নিলুফা ইয়াসমিন যেচে তাকে নিজেকে সাজিয়ে তোলার কিছু টিপস্ দিয়েছে।সাধারণ পোশাকে কিভাবে পরিপাটি রাখা যায় তা শিখিয়েছেন। মোদ্দাকথা, নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া শিখিয়েছেন। সেও শাশুড়ির কথামতো তাই করে। এতে তার বাহ্যিক রুপসহ, ড্রেসআপেও কিছু পরিবর্তন এসেছে।তাকে খুব সাধারণ লুকেও অভিজাত্যের ছাপ লক্ষ করা যায়।

আজকে ছুটির দিন। সবাই বাসাতে আছে। সকালের নাস্তা সেরে নিলুফা ইয়াসমিন কুহুকে নিজের রুমে ডেকে পাঠালেন। জানালেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই বের হবেন সেও যেন দ্রুত রেডি হয়। কুহু বাড়তি কথা না বাড়িয়ে
রেডি হতে গেল। রিদওয়ান বাসায় তাই ইচ্ছে ছিল না কোথাও যাওয়ার।
কিন্তু শাশুড়ির কথা ফেলতে পারবে না বলেই আর কথা বাড়াল না। সে
জানে, শাশুড়ি তাকে কোনো না কোনো কাজেই নিয়ে যাচ্ছে। রিদওয়ান তখন রুমে বসে ফোন স্কল করছিল। কুহুকে রেডি হতে দেখে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকাতেই কুহু বলল, বের হবে।মায়ের সঙ্গে যাচ্ছে দেখে রিদওয়ান কিছু বলল না। অথচ তার প্ল্যাণ ছিল আজ কুহুকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার। সে এটাও জানে, যেই কাজেই যাচ্ছে বেশিক্ষণ সময় ওয়েস্ট করবে না তার মা। কারণ বাঙ্গালি শাশুড়ির মতো তার মায়ের মন মানসিকতা না। যারা ছেলে আর ছেলের বউকে দূর দূরে রেখে পৈশাচিক এক আনন্দ অনুভব করে। ছেলে, ছেলের বউয়ের মধ্যে দুরত্ব বাড়িয়ে মিটিমিটিয়ে হাসে। সে জানে, তার মা সবকিছু স্মার্টলি ভাবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পছন্দ করে। তারপর কুহু রেডি হতেই নিলুফা ইয়াসমিনের ডাক পড়ল, সে রিদওয়ানের থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। রুমে একা বসে না থেকে রিদওয়ান বেরিয়ে লনে গেল। এখানে ঘাস হয়েছে। বড় কাঁচি নিয়ে ঘাসগুলো কাটল। নিজের গাড়ি পরিষ্কার করল। এমন আরো কিছু কাজ সারতেই রুপকও এসে সঙ্গ দিলো। গল্পে গল্পে দুই বন্ধু মিলে বাগান সাফ করে ফেলল। এসব করে ঘন্টা দুয়েক পেরিয়ে গেছে অথচ কুহুরা ফিরে নি। কোথায় যাচ্ছে বলেই যায় নি। সে অস্থিরতা দমাতে এটা করে যাচ্ছে কিন্তু শান্ত হতে পারছে না। রুপক ওর অস্থিরতার কারণ বুঝলেও প্রকাশ করল। শুধু মনে মনে হাসল। বোন জামাই নাহলে এতক্ষণে বেফাঁস কিছু বলে ফেলত। এই সম্পর্কের কারণে বেফাঁস কিছু বলা হারাম হয়ে গেছে।
এখন যেটাই বলুক বোনের কথা মাথায় রাখতে হবে। বন্ধুর বউকে নিয়ে
মার্জিত ভাষায় দু’একটা ফাজলামিমার্কা কথা বলাই যায় কিন্তু বোনকে নিয়ে নয় তাই মুখেও লাগাম টেনে চলে। দুই বন্ধু বাইরের কাজ সেরে মুখ হাত ধুয়ে ড্রয়িংরুমে এলো। আজ ভারত পাকিস্তানের খেলা আছে। শুরু হবে মিনিট দু’য়েক পর। রুপক ড্রয়িংরুমের সোফায় শুয়ে খেলা দেখতে লাগল। রিদওয়ান দুই মগ কফি করে একটা রুপককে দিয়ে পা বাড়াতেই রুপক বলল,

-‘এসে যাবে এত টেনশন করিস না।’

-‘খেয়ে কাজ নেই টেনশন করব, হুহ।’

-‘কাজ আছে কি নেই তোমার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে চান্দু। এদিকে আয়, বস, কথা আছে।’

-‘কি কথা?’

-‘বস তো আগে।’

রিদওয়ান সিঙ্গেল সোফায় বসে কফিকে সিপ নিলো। রুপক কফির মগ হাতে নিয়ে উঠে বসেছে। সে টিভির দিকে তাকিয়ে রিদওয়ানের দিকে ঘুরে তাকাল। তারপর কিছু ভেবে বলল,

-‘কুহুর ভুলে যাওয়ার সমস্যাটা কী আর খেয়াল করেছিস? আমি কিন্তু ওর মাঝে অনেক পরিবর্তন দেখছি।’

-‘ হুম। ওর পরিবর্তন নজরে পড়ার মতোই। ওর সমস্যা হচ্ছে ওকে একা থাকতে দেওয়া যাবে না। এক থাকলেই অবান্তর ভাবনা ওর মাথায় ঘুরে তারপর সব গুলিয়ে ফেলে। তাছাড়া এখন পোপার রেস্ট, মেডিসিনও নিচ্ছে টাইম টু টাইম।’

-‘ বিডিতে যেসব ডাক্তার দেখাতাম সে তো ডাক্তারকেও দেখতে পারত না। তাদের দেওয়ার মেডিসিন তো আরো দূর। এমনই কড়া পাওয়ারের
মেডিসিন দিতো একটা মেডিসিন খেলে সে টানা তিনদিন ধরে ঘুমাত।
হাত পা কাঁপতো। একারণে জোর করেও মেডিসিন খাওয়াতে পারতাম না। লাস্ট চেকাবে ডেইজি আর কিছু বলে নি?’

-‘কনসিভের ব্যাপারে সাবধান হতে বলেছে। মেডিসিনও দীর্ঘদিন চলবে।
কুহু ক’দিন যাবৎ ইমপ্রু়ভ করতে শুরু করেছে এখন’ই কনসিভ করলে ঝুঁকি’ও আছে। মেডিসিনের প্রভাবে বাচ্চা ইমম্যাচিচুর হওয়ার সম্ভবণা বেশি।’

-‘হুম।’

-‘ কল্পনা আর বাস্তবতাকে গুলিয়ে ফেলার ব্যাপারটা ওটা সারবে কবে? এটা সারলে আমার চিন্তা কিছুটা কমবে।’

-‘ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে প্যারা নিস না।’

-‘ আরেকটা কথা বলার ছিল। আসলে…।’

-‘মেয়েদের মতো ন্যাকামি করা শিখলি কবে? যা বলার সরাসরি বল।’

-‘ আম্মুর শরীরটা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। বাবারও তাই। একটার পর একটা অসুখে জর্জরিত তারা। আমাকে বলতে চায় না যদিও। তবে বুঝি আমি। আচ্ছা আমি দেশে ফিরলে কুহুকে সামলাতে পারবি না? সে তো আগের তুলনায় অনেক ইমপ্রুভ করেছে। তুই বোঝালে সেও বুঝবে।’

-‘কবে যেতে চাচ্ছিস?’

-‘ যত তাড়াতাড়ি যাওয়া সম্ভব।’

-‘এক কাজ কর আম্মু আর কুহুকেও নিয়ে যা। এদিকের কাজ প্রায়ই গোছানো শেষ। ওদিকে আব্বু আর রিমিও একা থাকছে। যেতে হবেই একে একে গেলেই ভালো হবে।’

-‘আর তুই? তুই একা থাকবি?’

-‘আমি কয়েকদিন পরেই যাব। রানিং প্রোজেক্টের কাজ প্রায় শেষ। ওটা ফুলফিল করে আমিও চলে যাব।’

-‘কুহু তোর সব কথা শোনো। তোর সঙ্গে পেয়ে তার অভাবনীয় পরিবর্তন তাই বলছি তাকে কুহু নাহয় থাক। তোরা দু’জন একসাথে আয়। আন্টি
আর আমি আগে যাই?’

-‘ভয় পাচ্ছিস?’

-‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। সেখানে তোকে না পেয়েই কুহু আবার অনিয়ম শুরু করবে। যা ওর জন্য মোটেও ঠিক হবে না।’

-‘ঠিক আছে ওরা ফিরুক কথা বলে দেখি। যদি রাজি হয়, স্যামালিনাকে বলে তিনটে এয়ার টিকিট কনফার্ম করে দেবো।’

-‘হুম।’

এসব আলোচনার সমাপ্তি টানতেই বাইরে থেকে গাড়ির হর্ণ কানে এলো।
কুহুরা এসে গেছে। বউ শাশুড়ি মিলে কথা বলতে বলতে ড্রয়িংরুমে এসে প্রবেশ করল।নিলুফা ইয়াসমিন বসলেন না টুকটাক কথা বলে ফ্রেশ হতে
রুমে চলে গেলেন। কিন্তু কুহু রুপকের পাশে ধপ করে বসে পড়ল। ঘাড় কাত করে ভাইয়ের কাঁধে মাথা রাখল। রুপক ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে বোনের দিকে। কুহুর মুখটা একটু অন্যরকম লাগছে। সে মনোযোগ দিয়ে দেখেও ধরতে পারল না। তাই রিদওয়ানকে বলল,

-‘কিছু একটা চেঞ্জ হয়েছে কিন্তু সেটা ধরতে পারছি না। তুই পারছিস?’

-‘বিড়ালমার্কা চোখ, ভোতা নাক, ঠিকই তো আছে, তুই আবার চেঞ্জের কি দেখছিস?’

-‘কিহহ! কি বললেন আপনি? আমার চোখ বিড়ালমার্কা? ভোতা নাক?’

-‘হুম ঠিকই তো বললাম।।মানুষ সত্য কথা মানতে চাই না কেন বুঝি না। আচ্ছা শোনো, আমি.…!’

-‘পারব না শুনতে। যার ডাগর ডাগর চোখ, টিকালো নাক, তাকে গিয়ে আপনার মধুর বাক্য শুনিয়ে আসুন।’

একথা বলে কুহু উঠে হনহন করে চলে গেল। যেতে যেতেই রিদওয়ানের নামে অভিযোগ দিয়ে গেল নিলুফা ইয়াসমিনের কাছে। এদের দু’জনের কান্ড দেখে রুপক হাসল। ইঁদুর বিড়ালের মতো এরা ঝগড়া করবে কিন্তু কেউ কাউকেই ছাড়া একদন্তও থাকতে পারে না। কুহুকে রাগিয়ে দিয়ে রিদওয়ান মিটিমিটি হেসে চলল রুমের দিকে। কুহুকে ছাড়া রুম কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। চেনা রুমটাকেও অচেনা মনে হচ্ছিল এজন্য সে বাইরে ঘুরছিল। এখন রুমের মালকিন যখন রুমেই আছে তখন বাইরে সময় কাটানোর মানেই হয় না। এদিকে রিদওয়ানকে যেতে দেখে রুপক ফোন হাতে নিয়ে দেখে রিমির মেসেজ। মেসেজ দেখে সে হাসল। পাগলি কত ধরনের হয় এই মেয়েটাকে না দেখলে তার জানা হতো না। তাছাড়া আজকাল রিমির সঙ্গে তার ভালোই কথা হয়। রিমির বলে দেওয়া বেশ কিছু জায়গাতে ঘুরেছেও সে। সব সময় রিদওয়ান আর কুহুর সঙ্গে বের হওয়া যায় না। তাদেরও স্পেস দেওয়া দরকার। তাই সে রিমির কথাতে এখানে বেশ কিছু জায়গায় ঘুরেছে, শপিং’করেছে। তার নিঃসঙ্গতাকে কাটাতে সময়ও দিয়েছে।

To be continue…….!!

গল্পটি সম্পর্কে রিভিউ, আলোচনা, সমালোচনা করুন আমাদের গ্রুপে। গ্রুপ লিংক নিচে দেওয়া হলোঃ
https://facebook.com/groups/holde.khamer.valobasa/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here