মৌনপ্রেম #অয়ন্তিকা_রাফিয়াত_ঐশী পর্বঃ ৩৬ (ক)

0
28

#মৌনপ্রেম
#অয়ন্তিকা_রাফিয়াত_ঐশী
পর্বঃ ৩৬ (ক)
(অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)
📌“গল্পের এই অংশে যে ঘটনাগুলি তুলে ধরা হয়েছে তা কেবল কাল্পনিক ও কাহিনিচালিত। চরিত্রগুলি বাস্তব ব্যক্তির প্রতিরূপ নয়। তাই যেকোনো পরিস্থিতি পাঠকদের বিবেচনার অনুরোধ রইলো।”

——————————————

প্রাণেশা নিজের বাড়ি এসেছে অব্দি এ বাড়িতেই আছে। বাইরে কোথাও যাওয়া হয়নি তার। বাড়ির প্রত্যেকে নানা কাজে, প্রয়োজনে বাইরে গেলেও সে একেবারে ঘর বন্দি ছিল এ কটা দিন। বোনের সারাদিন বাড়িতে থাকতে থাকতে একটু বাইরের আবহাওয়া না পেলে দমবন্ধ লাগবে বলে সাহিল ঠিক করে ওকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাবে। নাজিয়াও যাওয়ার বায়না করলে পরে আবার তারা সব ভাই বোন মিলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাস, সবাই মিলে লেক পার্ক চলে যায় ঘুরতে। সেখানে সবাই মিলে বেশ অনেকক্ষণ সময় কাটিয়ে প্যাডল বোটিং করে। পুরো জায়গাটা অভিজ্ঞতা করে আসে। সপ্তাহান্তে কিছু ছোট ছোট প্রাইভেট ইভেন্ট বা পাবলিক অনুষ্ঠান হয় সেখানে। ওরাও তেমনই একটা ইভেন্টের দেখা পেয়েছিল। পার্কের কাছাকাছি কিছু ফুড কর্নার আছে, সেখানে তারা দুই বোন আর বড়মার ছোট ছেলে মিলে ফুঁচকা খাওয়ার প্রতিযোগিতা দেয়। প্রাণেশা সবার লাস্ট হয়েছে। তবে কম খায়নি মোটেও। যা খেয়েছে তাতেই তার অবস্থা দেখার মতো ছিল। সব মিলিয়ে সুন্দর একটা সময় কাটে প্রাণেশার তার ভাই বোনেদের সাথে। আসার পথে আবার রাস্তার ধারে সারি সারি কাশফুলের দেখা পায়। বাকিরা খেয়াল না করলেও প্রাণেশা গাড়ির কাচ নামিয়ে উৎসুক চোখে সেসব দেখে। সাহিল বোনের উৎফুল্ল চেহারা দেখে নিরিবিলি সাইডে গিয়ে গাড়ি থামিয়ে সেখানেও ওদের নিয়ে কিছুক্ষণ দাড়ায়। শরৎ এর কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করে ছবি-টবি তুলে তারপর বাসায় ফিরে।

কিন্তু বাসায় ফিরেই হয় বিপত্তি। প্রতিযোগিতায় খাওয়া অতো ফুচকার ভার বেচারি নিতে পারেছেনা। সারারাত অস্বস্তির সাথে কাটে। কাউকে অবশ্য জানায় নি। রাতে খাবার খেতে না চাইলে কেউ শুনেনি। জোর করে খাইয়েছিল। না খেয়ে ঘুমালে সারারাত ক্ষুদার চোটে অস্থির লাগবে বলে। ফুচকার লোড নিয়ে রাতেও খাওয়া তার শরীরের জন্য অতিরিক্ত হয়ে যায়। সারারাত অস্বস্তি নিয়ে ঘুমায়। কিন্তু সকাল হতেই সবার জোরাজোরিতে আবার নাস্তা করতে বসলে, অর্ধেক খাওয়ায় পর পরই সব উগ্লে দেয়। বমি করতে করতে কাহিল অবস্থা হয়ে যায় তার। বড়মা ওকে ধরতে গেলে গাঁয়ে হাত দিতেই জ্বর আসার মতো হালকা গরমের আভাস পায়।

সবাই ডাক্তার ডাকতে উদ্যত হয়ে উঠে। প্রাণেশা এই সামান্য কারণে ডাক্তার দেখাতে অসম্মতি জানালেও কেউ শুনেনা। তার বাবা পারিবারিক ডাক্তারকে ফোন দিতে চায়। কিন্তু সাহিল কি মনে করে মানা করে দেয় পারিবারিক ডাক্তারকে ডাকতে। জানায় সে প্রাণেশাকে নিয়ে হস্পিটালে যাবে।

সবাই হঠাৎ ওকে হস্পিটালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলায় অবাক হয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলেও সে উত্তর দেয় না। তার বোনকে নিয়ে সে যেখানে ইচ্ছে যাবে, কাউকে কৈফিয়ত দেওয়ার দরকার মনে করেনা। বাকিরা প্রাণেশার জন্য উদ্বেগ হলেও হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার মতো কিছু হয়নি, তাই আপত্তি জানাচ্ছিল। কিন্তু সাহিলের ত্যাড়ামো দেখে আর কিছু বলেনা। ছেলেটা চিরকালই এমন, কোন কিছুর কৈফিয়ত দিতে চাইবেনা, ত্যাড়ামো করবে কথায় কথায়। প্রাণেশার নিজেরও অসম্মতি ছিল সামান্য কারণে হস্পিটালে যেতে। কিন্তু সাহিল কারো কথা শুনেনা। ওকে নিয়ে চলে যায়।

মূলত সে প্রাণেশার কিছু চেক আপ করিয়ে আনতে চায়। সেদিনের পর কোনরকম সমস্যা দেখা দেয়নি যদিও। কিন্তু ওকে একবার ডক্টর দেখিয়ে আনার কথা অনেকবার ভেবেছে। তবে কি বলে নিয়ে যাবে বোনকে, সেটা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল। এখন যখন সময়, সুযোগ দুটোই হাতে আছে। তখন সেটা মিস দেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। তার এখনো প্রাণেশার সাথে ওর আগের জীবনযাপন নিয়ে তেমন কোন কথা হয়নি। হলে অন্তত কিছুটা বুঝতে পারতো। আর ওর সাথে কি হয়েছিল না হয়েছিল সেসবও জানতে পারতো। কিন্তু সে আফসোস আর অপরাধ বোধে সেসব নিয়ে কথা বলতে পারছেনা। মামণির এত এত খোঁজ নিয়েও সে ব্যর্থ হয়েছে। একটা বোন আছে সে ব্যাপারেও জানতো না। না জানি কি কি ফেস করতে হয়েছে তার বোনকে সারাটাজীবন। কিভাবে কেটেছে এতোগুলো বছর বাবা-মা ছাড়া, তাদের ছাড়া। খুব একটা ভালো কাটেনি সে ধারণা হয়ে গিয়েছে। আচ্ছা ও আগে যে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতো সে বাড়িতেই কি কোন অমানুষ ছিল?

———————

প্রাণেশাকে সেদিনের ঐ মহিলা ডক্টরের কাছেই নিয়ে গিয়েছিল সাহিল। ওর নানান রকম চেক আপ করিয়ে এনেছে। এখন তারা গাড়িতে বসে আছে। গাড়ির ভেতরের পরিস্থিতি ভীষণ থমথমে। প্রাণেশা যেন অন্য জগতে আছে। তার সাথে কি হলো, কি হচ্ছে কিছু বুঝতে পারছেনা সে। মনে হচ্ছে সময়টা এক জায়গায় আঁটকে আছে। দুনিয়াটা থমকে গিয়েছে। জীবনটা তাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে গেলো। আবার কোথায় নিয়ে দাড় করাতে চাচ্ছে, কিছু জানেনা সে। এটা আদৌ জীবন? এমনটা কারো সাথে হয়? সে জীবনের এমন খেলায় খুশি হবে নাকি দুঃখ পাবে কিছু জানেনা। তার ভাই এখনো কিছু জিজ্ঞেস করেনি। জানতে চাইলে কি বলবে তাও জানেনা।

সাহিল এক পলক বোনের দিকে তাকায়। তার মুখভঙ্গি ভীষণ শক্ত, তবে কিছুটা চিন্তার ছাপও দেখা যাচ্ছে। প্রাণেশার ভেতর কি চলছে কিছুটা আন্দাজ করতে পারছে। তবে সে বিষয়ে কিছু না বলে বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে সিটে মাথা ফেলে একটু ঘুমাতে বলে। কাল সারারাত অসুস্থ বোধ করেছিল, ঘুম হয়নি নিশ্চয়।

তারপর দৃঢ় অভিব্যক্তিতে কাউকে ফোন লাগায়। রিসিভ হলে ড্রাইভারকে সাইড হয়ে এক জায়গায় গাড়ি থামাতে বলে। বোনের সামনে দলের কারো সাথে কিংবা অন্য যে কারো সাথে কথা বলতে চায় না সে। কি কারণে কোন ভাষা ব্যবহার করতে হয় তার হিসাব নেই।

সাহিল গাড়ি থেকে কিছুটা দূরত্বে গিয়ে দাড়ায় কথা বলতে। বেশ কিছুক্ষণ আলাপ সারে অপর পাশের ব্যক্তির সাথে। কিছু নিয়ে তাড়া দিচ্ছে, রাগ দেখাচ্ছে, আবার কিছু বুঝিয়েও দিচ্ছে। কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে গাড়ির ভেতর বোনের দিকে নজর রাখে। হঠাৎ খেয়াল করে পেছন থেকে আরেকটা গাড়ি আসছে। বেপরোয়া গতি গাড়িটার। সাহিলের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলছে ওটা ইচ্ছাকৃত চালানো হচ্ছে ওভাবে। সে ডাক দিয়ে গাড়ির ড্রাইভারকে গাড়ি অন্যদিকে নিয়ে যেতে বলবে তার আগে পেছনের গাড়িটা তাদের গাড়ি বরাবর চলে এসে ধাক্কা লাগিয়ে দিতে যায়। সাহিল ঐ গাড়িটার উদ্দ্যেশে একটা বিচ্ছিরি গালি ছুড়ে ফোনটা পকেটে ঢুকাতে ঢুকাতে দৌড়ে ওদিকে যায়। ধাক্কা দিতে পারেনি। তাদের গাড়ির ড্রাইভার পেছন থেকে ঐ গাড়িটাকে দেখে নিয়েছিল। অস্বাভাবিক গতি বুঝে নিজেদের গাড়ি সরিয়ে ফেলেছে। সাহিল আসতে আসতে অপর গাড়িটা উদ্দেশ্য সফল করতে না পেরে চলে যায়।

প্রাণেশা ঘোরে ছিল। হঠাৎ কি হলো কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। সাহিল তাড়াতাড়ি এসে ওকে দেখে নেয়। কিছু হয়েছে কিনা দেখে নিজে তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠতে যাবে তার আগে খেয়াল করে আরও একটা গাড়ি আসছে পেছন থেকে। ড্রাইভার ডেস্ক থেকে একটা রিভলবার বের করে তার হাতে দিলে সাহিল ঐ গাড়িটার টায়ারে শু ট করে দেয়। প্রাণেশা বোবা চিৎকার দিয়ে কানে হাত দেয়। আতঙ্কিত হয়ে চারপাশে তাকায়।

ঐ গাড়িটা থেমে গেলেও ভেতর থেকে কেউ ক্রমাগত গু লি ছুড়তে থাকে তাদের উদ্দেশ্যে। সাহিলও প্রাণেশাকে মাথা নামিয়ে বসে যেতে বলে পাল্টা শু ট করতে শুরু করে। আস্তে আস্তে গাড়ির অন্যপাশে গা ঢাকা দিয়ে লুকিয়ে তাকায়। ওরা বারবার গাড়ির ভেতরে টার্গেট করছে। প্রাণেশার ক্ষতি করতে চাইছে যেকোনোভাবে তা স্পষ্ট। সাহিল ওদের উদ্দেশ্যে পাল্টা গু লি ছুড়তে ছুড়তে প্রাণেশাকে বলে, “ভয় পাস না। মাথা ঝুকিয়ে নিচে বসে যা। কিছু হবেনা আমি আছি”। ড্রাইভারও নিজেকে আড়াল করে নিয়েছে। পেছন থেকে আরো একটা গাড়ি আসলে সাহিল ওটার টায়ারেও শু ট করে। লাগেনি। চোখ মুখ কুচকে শব্দ করে উঠে “শিট” বলে। আবার শু ট করতে চায়। কিন্তু ততক্ষণে ওটা চলে এসেছে একদম কাছাকাছি। সাহিল ড্রাইভারকে ডাক দিয়ে নেমে যেতে বলে। প্রাণেশাকে ভেতরে অজ্ঞান হয়ে পরে থাকতে দেখে টেনে নামিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে দরজা খুলবে তার আগে সামনে থেকে আরেকটা গাড়ি এসে ঐ গাড়িকে ধাক্কা লাগিয়ে দেয়, আর চোখের পলকে তাদের গাড়ির দরজা খুলে প্রাণেশাকে টেনে নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়।
সাহিল “হেই” বলে ডাক দিয়ে উঠলেও ঐ গাড়িতে থাকা কেউ সেসব শুনার জন্য আর থাকেনা।
সাহিল অস্থির চোখে ঐ গাড়ির নাম্বার দেখে নেয়। ওটাতে কে ছিল তা সে জানেনা। তবে এই পক্ষ আর ওরা এক নয় তা সহজেই বুঝে নিলো অন্য গাড়িটাকে ধাক্কা দেওয়ায়। প্রাণেশাকে কেউ নিয়ে চলে গেলেও বেশ অনেকক্ষণ তাদের গু লা গু লি জারি থাকে। সাহিল শু ট করতে করতে কাউকে ফোন লাগিয়ে বোনের খোঁজ নিতে বলে।

——————————

প্রাণেশাকে অন্তিক নিয়ে এসেছে। ওকে ঐ গাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সে বাড়ির উদ্দেশ্যে গাড়ি চালাতে বলে। প্রাণেশার অবস্থান অন্তিকের কোলে। অজ্ঞান হয়ে আছে। এত এত চিন্তার মধ্যে হঠাৎ এসব নিতে পারেনি। চোখের সামনে গুলাগুলি, সেসবের ভয়ঙ্কর শব্দ – সব মিলিয়ে আতঙ্কে জ্ঞান হারিয়েছে। অন্তিক ওর জ্ঞান ফেরায় না। ছোট বাচ্চাদের যেভাবে কোলে নেয় সেভাবে নিয়ে নিজের বুকে ওর মাথা রাখে। একদম আগলে নেয় বুকের সাথে। মুখটা তুলে চোখের উপর আসা চুলগুলো সরিয়ে কানের পেছনে গুজে কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায়। পর পর নাকে, আবার ঠোঁটে। এভাবে ছোট ছোট আদুরে স্পর্শ দিয়ে নিজের তৃষ্ণা মেটায়।

৷৷কাল ওকে দেখেছিল। রাস্তার পাশে দাড়িয়ে ছবি তুলছে। প্রাণেশাকে ওখানে দেখে তৎক্ষণাৎ কেমন প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত বুঝতে পারেনি সে। অতি আকাঙ্ক্ষিত কিছু হঠাৎ চোখের সামনে দেখলে যেমন হয়, তেমনই স্থবির হয়ে গিয়েছিল অন্তিক। আদৌ ঠিক দেখছে কি না তা নিয়েও সন্ধেহ ছিল। স্থবির হয়ে ওকে দেখতে দেখতেই গাড়িতে উঠে তারা চলে যায়। অন্তিক গাড়িটা যত দূর অব্দি দেখা গিয়েছে চেয়ে দেখেছে। চোখের আড়াল হতেই নীলয়ের দিকে তাকায়। নীলয়ের চোখ তখনো সেদিকে। অন্তিক বুঝতে পারে ভুল কিছু দেখেনি। কি হলো? প্রাণেশা এখানে কিছু ছেলেমেয়েদের সাথে? কি হচ্ছে? কেমন হতবাক চিত্তেই ফোন বের করে। সেখানে ঐ গাড়ির নাম্বার লিখে কাউকে টেক্সট করে পাঠিয়ে দেয়। তারপর কল দিয়ে রিসিভ হতেই বলে, “কার নামে আছে গাড়িটা খুঁজে বের করো পনেরো মিনিটের মধ্যে।”

যথাসময়ে জানতে পারে রাজনীতিবিদ সাহিল ফারদিনের গাড়ি ছিল ওটা। অন্তিকের ভ্রু টানটান হয় সাহিলের নাম শুনে। বেশ কয়েক মিনিট চুপচাপ থেকে কিছু ভাবে। এর মধ্যে নীলয় বলে,

“স্যার, ঐ গাড়িতে ম্যাডাম চলে গেলো না এখন? সাহিল ফারদিনকেও তো দেখলাম। ঐ যে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি। সেবার দেখা করলেন। কি হলো ব্যাপারটা বুঝতে পারছিনা।” নীলয় দ্বিধান্বিত স্বরে বলে

অন্তিক চোখ তুলে তাকায়।

“তুমি দেখেছ? ওখানে সাহিল ফারদিনও ছিল?”

“হ্যাঁ স্যার। মাত্রই তো দেখলাম।”

অন্তিকের টানটান ভ্রু সোজা হয়। তবে চিন্তার রেখা সরেনা চেহারা থেকে।

তারপর রাতের মধ্যে খোঁজ লাগিয়ে জানতে পারে সাহিল ফারদিন প্রাণেশার ভাই। প্রাণেশার না জানা বাবা হলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সজল ফারদিন। প্রাণেশা তাহলে তার বাবা বাড়ি চলে গিয়েছিল সরোয়ার বাড়ি থেকে। কিন্তু অন্তিক ভেবেছিল প্রাণেশা নিজের বাবা বাড়ি সম্পর্কে কিছু জানেনা। তার মানে তার ধারণা ভুল ছিল। তাহলে যদি জেনেই থাকে নিজের বাবা বাড়ি থাকতো না কেন? আর তাদেরও জানায়নি কেন? সে নিজে কখনো প্রাণেশাকে জিজ্ঞেস না করলেও যতটুকু জানে বাড়ির কেউ বাবার সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়েটা কিছু বলতো না। তাহলে জেনেও তাদের জানায়নি? কেন?

এমন নানান প্রশ্ন মাথায় আসলেও প্রাণেশাকে খুঁজে পেয়েছে, আর সে সুরক্ষিত আছে এটা ভেবেই সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এই মেয়েটাকে নিয়ে খুব, খুব দুশ্চিন্তায় ছিল সে। উপরে উপরে না দেখালেও তার ভেতরটাও অস্থির হয় আপনজনদের বিপদে। সেখানে মেয়েটাতো তার বউ। এত সাধনার বউ। অপরিচিতা থেকেও প্রথম দিন থেকে তার মনে জায়গা করে নিয়েছিল। আবার বউ হয়ে তার মনে জায়গা করেছে। তাকে দু দুবার করে প্রেমে ফেলেছে এই মেয়েটা। এত সহজ তার কোন খোঁজখবর না জানা অবস্থায় এতোগুলো দিন পার করা? মানসিকভাবে কতটা বিধ্বস্ত ছিল সে তা এই মেয়েটা বুঝবে কখনো?

নিশ্চয় বুঝবেনা। তাকে বুঝাতে হবে। অন্তিক কারো প্রতি নিজের আবেগ-ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেনা সহজে। এ দিকটাই খুব কাচা সে। প্রাণেশাকে এত চায়, এত ভালোবাসে সে। কিন্তু তার কিছুই মেয়েটা জানেনা। শুধু জানে তার স্বামী এখন তাকে মেনে নিয়েছে। প্রাণেশা হয়তো মনে করে অন্তিক তাকে শুরুতে মেনে নিতো না, সে কথা বলতে পারেনা বলে। কিন্তু অন্তিক এ বিষয়টাকে কখনো সেভাবে গুরুত্বই দেয়নি। অন্তিকের কখনো মনেই হয়নি যে কথা বলতে না পারাটা একটা প্রতিবন্ধকতা মেয়েটার জন্য। তাহলে এই কারণে ওকে মেনে না নেওয়ার প্রশ্ন আসবে কেন? অবশ্য ভেবে দেখে তার মনে পড়ে একবার দুইবার কথা বলতে পারেনা একথা উল্লেখ করে ওকে খুচিয়েছিল। কিন্তু সেসব কিছুই অন্তিক ওকে ব্যক্তিগত ভাবে ব্যঙ্গ করে বলেনি। আর না মানসিকভাবে ভেঙে দিতে বলেছে। মেয়েটা কতো সুন্দর… এখন সে যদি, রুপ দেখিয়ে ও সবাইকে পাগল করে দিতে পারে, একথা কখনো কথায় কথায় খুচিয়ে বলে। তাহলে সেটা কি ওকে ব্যক্তিগত ভাবে ব্যঙ্গ করা হবে? নাকি ওকে মানসিকভাবে আঘাত করা হবে? কিছুই হবেনা। বরং লজ্জ্বা পাবে। অন্তিক ওকে কথা বলতে পারেনা একথা উল্লেখ করে যতবার ওকে কিছু বলেছে, কোনবারেই ওকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে এসব বলেনি। যেখানে সে ওর কথা বলতে না পারাকে একটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখেইনা। সেখানে ঐ বিষয়টা নিয়ে সে মেয়েটাকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কিছু বলবেই কেন? সে তো নরমালি দেখে এসব।

সেসব গেলো। কিন্তু তারপর যখন আবার দেশের বাইরে থেকে এসে ওকে ডিভোর্সের কথা ভুলে যেতে বলে, তখনো নিজের অনুভুতি সম্পর্কে কিছু জানায় নি ওকে। শুধু বলেছে ডিভোর্স দেবেনা। তারপর একসাথে থাকা শুরু করলো। ভালোবাসা থেকে হোক, মুগ্ধতা থেকে হোক কিংবা কামনা থেকে – যেকোনো কারণে ওর কাছাকাছি যেতে মন চাইতো অন্তিকের। হয়তো বউ বলে। হালাল বলে ভেতর থেকে চাওয়া গুলো আসতো। নাহয় প্রাণেশা তার জীবনে আসার আগে তো এমনটা কখনো হয়নি তার সাথে। তোশা ছাড়া আর কোন মেয়ে বন্ধু ছিলই না। ফুফাতো বোন মেহেরিন ওকে ভালোবাসে জানার পরও তেমন কোন অনুভূতি হতোনা তার। একটা মেয়ে তাকে ভালোবাসে, এই বিষয়টা নিয়ে সে কখনো গভীরভাবে ভাবেইনি। ভাবার ইচ্ছেই হয়নি। প্রাণেশাকে নিয়েই যতো ভালো খারাপ অনুভূতির জন্ম হয়েছে তার মনে। ওর উপরেই ভালো খারাপ সব রকম অধিকার খাটিয়েছে।

অনুভূতি প্রকাশে কাচা বিশিষ্ট সফল আইনজীবী অন্তিক – নিজের বউকে আগে ভালোবাসি কথাটা না বলে তার সাথে দাম্পত্যের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করে নিয়েছে। আর তার বউ অভিমান করে চলে গিয়েছে বাপের বাড়ি। ওকে অপরাধ বোধে ফেলে দিয়ে বাবা-ভাইয়ের সাথে থাকছে। এলোমেলো ভাবনায় অন্তিক হঠাৎ হেসে উঠে। দুহাতে মুখটা ঘষে আকাশের দিকে তাকায়।
সে যে নিজের আবেগী বউকে আগে ভালোবাসি না বলে কাছে টেনে ভুল করেছে, সে বোধ তার আগেই এসেছে। কিন্তু স্বভাব অনুযায়ী আবেগ অনুভূতি প্রকাশে কাচা হওয়ায়, ভালো লাগা কিংবা ভালোবাসা যেমন প্রকাশ করতে পারেনি, তেমন খারাপ লাগা কিংবা অপরাধ বোধও প্রকাশে অপটু সে। এর বাইরে সেদিন বিকেলে করা ব্যবহার তো সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিলই। এবার কাছে পেলেই ক্ষমা চেয়ে নিবে। এসব ভেবে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

সে বাড়ির বাইরে দরজার কিছুটা সামনে দাড়িয়ে কথাগুলো ভাবছিল।

নিজের ইন্ট্রোভার্ট ভাই, ভাবি চলে যাওয়ায় কেমন বদ মেজাজি হয়ে গিয়েছিল। কিছু বললেই ছ্যাঁত করে রেগে যেতো। সে ভাই এখন এখানে দাড়িয়ে একা হাসছে। হাঁটতে হাঁটতে বিষয়টা দেখে ইশির কৌতূহল হলেও কিছু জিজ্ঞেস করেনা। না জানি আবার রেগে গিয়ে একটা ঝাড়ি দিয়ে দেয়। ইশি মা, চাচির পাশে গিয়ে বসে। কথায় কথায় তার মা প্রাণেশার জন্য আফসোস করেন। ছেলেটাও কেমন হয়ে গেলো ভেবে মুখ অন্ধকার করেন। তা দেখে ইশি আনমনে বলে,

“ভাইয়ার জন্য এত চিন্তা না করে ভাবির জন্য করো। ভাইয়াকে তো দেখলাম বাইরে দাড়িয়ে একা একা হাসছে। কি জানি কি হলো? নাকি ভাবির শোকে পাগল হয়ে গেলো কিছুই বুঝলাম না।”
মেয়ের কথা শুনে মিসেস আয়েশা আমিন তাকান।
“বাইরে দাড়িয়ে হাসছে মানে?”

“হু, খুশি খুশি দেখাচ্ছে। কিন্তু কি হয়েছে বুঝতে পারিনি।”

“প্রাণেশার খোঁজ পেলো নাকি?” কথাটা বলে তিনি ছেলের কাছে যান। অন্তিককে জিজ্ঞেস করলে সে কোনো বণিতা করেনা। জানিয়ে দেয় আজ ওকে দেখেছে এক জায়গায়। খোঁজ নিয়ে জেনেছে ও এখন নিজের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। আয়েশা আমিন অধৈর্য হয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে অন্তিক তার মাকে সব জানায়। তিনি ওবাড়ির কেউ উনাদের সাথে যোগাযোগ করে কিছু জানালো না কেন জানতে চাইলে অন্তিক বলে,

“যতটুকু বুঝতে পারছি তোমার বউমা বাড়ির কাউকে জানায়নি যে সে এখন বিবাহিতা।”

“কি বলছিস? বিয়ের বিষয়টা জানালো না? রাগ অভিমানে হয়তো।’ তারপর কিছু ভেবে আবার বলেন, “সে যাক, একদিন সবাই মিলে তাহলে ও বাড়ি গিয়ে ওকে চেয়ে নেব। যা হয়েছে সব কিছু উনাদের জানিয়ে ভুল বুঝাবুঝি দূর করে ওকে নিয়ে আসতে হবে।”

অন্তিক কিছু বলেনি তখন। নীরব সম্মতি দিয়ে ভাবছিল কিভাবে ওর সাথে দেখা করা যায়। কিভাবে কথা বলা যাবে একটু। ওর মান অভিমান ভাঙিয়ে তারপর ও বাড়ি থেকে নিয়ে আসাটাই বেস্ট হবে মনে হয়েছে তার কাছে…৷৷

কালকের কথা ভাবতে ভাবতে বাড়ি পৌছে যায় তারা। প্রাণেশাকে কোলে নিয়ে নেমে বাড়ির সামনে যায়। বেল বাজালে কিছুক্ষণের মধ্যে চাচি এসে দরজা খুলে দেয়।

মিসেস তাবিয়া হঠাৎ অন্তিককে একটা মেয়ে কোলে নিয়ে দরজার সামনে দেখে অবাক হন। কিন্তু মেয়েটার চেহারা দেখে অবাকতা খুশিতে পরিণত হয়। ওদের ভেতরে আসতে দিয়ে সবাইকে ডেকে আনেন। অন্তিক ততক্ষণে প্রাণেশাকে নিজের রুমে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছে। বাড়ির সবাই বাড়িতেই ছিল শুক্রবার হওয়ায়। মিসেস আয়েশা আমিন রাতেই সবাইকে জানিয়েছিলেন প্রাণেশার ব্যাপারে। সবাই তো আরও দুই এক দিন সময় নিয়ে ওবাড়ি গিয়ে ওকে নিয়ে আসার কথা ভেবে রেখেছিল। তাহলে ওকে আবার নিয়ে আসলো কেন কিছু বুঝতে পারছেনা। তার উপর ঘুমাচ্ছে মেয়েটা। আয়েশা আমিন ভয় পেয়ে যান। ছেলেটা আবার জবরদস্তি নিয়ে আসলো না তো প্রাণেশাকে?

“ওকে তো আরও পরে সবাই মিলে গিয়ে নিয়ে আসার কথা ছিল। আজকে নিয়ে আসলি যে? আর ঘুমাচ্ছে কেন? আবার কি করেছিস?” উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি জানতে চান।

অন্তিক ওকে ঠিক করে শুইয়ে দিয়ে মায়ের দিকে তাকায়। বাবার দিকে তাকালে বুঝতে পারে তার ধারণাও একই। সবাই ভেবেছে ওর সাথে কিছু করে তুলে এনেছে জোর করে। ওদের ভাবনায় তেমন পাত্তা দেয় না সে। তবে মায়ের চিন্তিত চেহারা দেখে জবাব দেয়,

“হামলা হয়েছিল ওদের উপর। ওখান থেকে নিয়ে এসেছি। আর ও ঘুমাচ্ছেনা। অজ্ঞান হয়ে আছে। ভয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে।”
অন্তিকের কথা শুনে সকলে বিচলিত হয়। আয়েশা আমিন ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন,
“কি বলছিস? হামলা হয়েছিল মানে? কিসের হামলা? ও কোথাও ব্যাথা পেয়েছে? অজ্ঞান হয়ে গেলো কেন?”

মি. মাহমুদ সরোয়ার স্ত্রীকে শান্ত হতে বলে ছেলেকে বলেন,

“কিসের হামলা অন্তিক। পরিষ্কার করে বলো? কে হামলা করলো? আর তুমি কিভাবে জানলে?”

“আমি ঠিক জানিনা কারা হামলা করেছে। তবে ওর ভাই সাহিল ফারদিন রাজনীতির মানুষ তাতো জানোই। এমন হামলা হর হামেশা হয়। আমি লোক লাগিয়ে রেখেছিলাম তোমার বউমার আশেপাশে। ওরা জানালো আজ সকাল সকাল নাকি সাহিল বোনকে নিয়ে হস্পিটালে গিয়েছে। ওর কিছু হয়েছে ভেবে আমিও বের হয়ে গিয়েছিলাম। তখনই দেখি এসব মাঝরাস্তায়। ওদের গু লা গু লির মাঝে ওকে নিয়ে এসেছি। ভয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। চিন্তা করোনা তোমরা।”

অন্তিকের কথা শুনে সবাই চিন্তিত হয়ে পরে। না জানি ওখানে এখন কি হচ্ছে। দিগন্ত সবাইকে রুম খালি করতে বলে। বেশি মানুষের গিজগিজে প্রাণেশার দমবন্ধ লাগবে। কয়েক ঘণ্টা পর আপনা আপনি ওর জ্ঞান ফিরবে।

সবাই বের হয়ে পড়ে তার কথা শুনে। অন্তিকও বের হয়ে যায়। প্রাণেশাকে সেইফলি ওখান থেকে নিয়ে আসলেও এখন কি হচ্ছে না হচ্ছে কিছু জানেনা। যদিও সাহিল ফারদিন মানুষটাকে সে আগে থেকে চেনে। এত সহজে ওর ক্ষতি করা যাবেনা সে জানে। তাই তার চিন্তা না করে আগে নিজের বউকে ওখান থেকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে। তবে ওকে নিয়ে আসলেও ওখানের পরিস্থিতি সম্পর্কে একটু চিন্তা থেকেই যায়।

————————

অন্তিকের ধারণায় ঠিক। হামলাকারীরা বিরোধী দলেরই লোক ছিল। সাহিলসহ তার পরিবারের উপর এমন বিভিন্ন সময় ছোট বড় আক্রমণ হয়। রাজনীতির সুবাধে তার শত্রুর অভাব নেই। তার জন্য এসব তেমন সিরিয়াস কোন ইস্যু না। সে সবসময় আগে পিছে লোক নিয়ে ঘুরে। বাড়ির সবার জন্যও সেইফটির ব্যবস্থা করা আছে। কিন্তু আজ কেন যে সাথে গার্ড নিয়ে যাওয়ার কথা ভুলে গেলো তা সে জানেনা। বোনের চিন্তায় ভুলে বসেছিল যখন তখন হামলা হতে পারে এই বিষয়টা। বিশেষ করে সাহিলের আপন মানুষদের উপর বেশি হামলা হয়। এতদিন সে ছিল একা। বাবার সেইফটি বিশেষভাবে দেওয়া আছে। কিন্তু আসলে বাবাও নয়। বিরোধীদলগুলো তার দূর্বল দিক খুঁজে আঘাত করার অপেক্ষায় ছিল এতদিন। সাহিলের একটা বোন আছে এই বিষয়ে তারা জানতোনা। কাল ঘুরতে বের হওয়ায় প্রাণেশা তাদের চোখে পরে। ওর প্রতি খুব যত্নশীল সাহিল, তাই যে কারো চোখে পড়বে স্বাভাবিক। ওদেরও পড়েছে। তবে তখন প্রপার সেইফটি নিশ্চিত করে বেরিয়েছিল বলে কিছু করতে পারেনি। তাছাড়া প্রাণেশা আসলে কে সে বিষয়েও তারা কিছু জানতোনা। তবে খোঁজ নিয়ে এটা সাহিল ফারদিনের বোন জেনে তারা অবাক হয়েছে। ওর যে কোন ভাই বোন আছে সে বিষয়ে পুরোপুরি অজ্ঞ ছিল তারা। বোনকে এতদিন লুকিয়ে রেখেছিল তাদের থেকে? তার মানে কত আদরের হবে? এটা ভেবে তাদের মূল টার্গেট হয় প্রাণেশা। আজকে সিকিউরিটি ছাড়া একা বোনকে নিয়ে বেরিয়েছে তার খবর পেয়েছে তারা। তাই সুযোগ হাত ছাড়া করেনি। প্রায় পিষেই দিয়েছিল। কিন্তু শেষে কোথা থেকে কে এসে ওকে নিয়ে গেলো তা না সাহিল বুঝতে পেরেছে। আর না বুঝতে পেরেছে হামলাকারীরা। প্রাণেশাকে নিয়ে যাওয়ার পর সাহিলের লোকজন এসে পড়েছিল ঘটনাস্থলে। তাই তাদের বিশেষ ক্ষতি করতে পারেনি। কিন্তু বোনটাকে কে নিয়ে গেলো তা ভেবে অস্থির সাহিল এক মিনিটও সময় নষ্ট করেনি। গাড়ির নাম্বার মুখস্থ করে রেখেছিল। পনেরো মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে থাকতেই জানতে পেরেছে এডভোকেট অন্তিক সরোয়ারের গাড়ি ছিল ওটা। ওর নাম দেখে ভ্রু টানটান হয় তার। অন্তিক সরোয়ার তার বোনকে তুলে নিয়ে গেলো কেন? সাহায্য করলো কি? হবে হয়তো। সামনের গাড়িটাকে ধাক্কা দিয়ে প্রাণেশাকে নিয়ে গিয়েছে। হয়তো এদিকেই ছিল, আর অতর্কিত হামলা দেখে সুযোগ বুঝে সাহায্য করেছে। সাহিল তাই ধরে নেয়। কারণ অন্তিকের সাথে তার কোন ঝামেলা নেয়। বরং তাদের মধ্যে মুটামুটি ভালো সম্পর্ক আছে। সেবার তৃণার কেইসে সেই তো সাহায্য করেছিল অন্তিক সরোয়ারকে। তার বোনকে অন্তিক নিয়ে গিয়েছে শুনে কিছুটা নিশ্চিন্ত হয় সাহিল। ইতোমধ্যে নিউজ চ্যানেলগুলোতে তার উপর হওয়া হামলার ব্যাপারে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিক, পুলিশরাও এসে পড়েছে। বাড়ি থেকে ক্রমাগত ফোন আসছে দেখে সে রিসিভ করে।

“সাহিল? কোথায় তোমরা? ঠিক আছ? নিউজ চ্যানেলগুলোতে কি দেখাচ্ছে? তোমরা ঠিক আছ তো? তোমার বোন, তোমার বোন ঠিক আছে?” সজল ফারদিন একের পর প্রশ্ন করেই চলেছেন। ছেলে মেয়ে দুটোই ওখানে। চিন্তায় উনার মাথা ফেটে যাচ্ছে।

সাহিলের হাতে কিছুটা লেগেছে গু লা গু লির সময়। তালুতে কেটে গিয়েছে গভীরভাবে। জ্বালা করছে ভীষণ। সে হাতটা অল্প ঝাকিয়ে চোখ মুখ কুচকে বলে,

“প্রাণেশা ঠিক আছে। আমিও ঠিক আছে। চিন্তা করতে হবেনা। কিছুই হয়নি কারো।”

“কি বলছো? নিউজে কি কি দেখাচ্ছে। আমার মেয়েটার কোথাও লেগেছে কি না দেখো। তোমাকে দেখা যাচ্ছে টিভিতে। প্রাণেশাকে দেখাচ্ছেনা কেন? ও কোথায়?”

সাহিলকে তখন সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেছে। তার লোকেরা আঁটকে রাখছে কোনভাবে। তাদেরও একই প্রশ্ন। খবর পেয়েছে গাড়িতে সাহিল ফারদিন, তার বোন আর ড্রাইভার ছিল। ড্রাইভার আর তাকে দেখা গেলেও তার বোনকে দেখা যাচ্ছে না কেন? তাকে কি হামলাকারীরা নিয়ে গেলো? নাকি সেইফলি কোথাও সরিয়ে রেখেছে ক্যামেরা থেকে আড়াল করতে? আর হামলা কে করেছে বলে ধারণা করছে সে। এমন আরও অনেক কিছু। সে ফোনটা মুখের কাছে এনে বাবাকে কোনোভাবে বলে,

“আমি আর বোন দুজনেই ঠিক আছি। বাড়িতে কারো কোন চিন্তা করতে হবেনা। কিছুই হয়নি আমাদের। বুঝেছ? এখন রাখছি।”

এরপর তার লোকেরা সাংবাদিকদের সরিয়ে দেয়। সাহিল পুলিশদের সাথে অল্প কথা বলে গাড়িতে উঠে যায়।

চলবে…………
(খুব দেরি হলো গল্প দিতে। তার জন্য দুঃখিত। কিন্তু কি পরিমাণ মানসিক প্রেশারে আছি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সেটা আপনাদের বোঝাতে পারবো না হয়তো। এতকিছুর মধ্যে অনেক কষ্টে আজকের পর্বটা দিলাম। প্লিজ আমাকে নিরাশ করবেন না।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here