আমার উপমা তুমি (১৭)
আফরোজা আঁখি
বারবার ফোনে কল আসায় বিরক্ত হচ্ছে ইয়াশ। বালিশের কাছে রাখা ফোনটা হাতে তুলে মেঝেতে ছুড়ে ফেলতে যাবে, তখনই দেখল পরিচিত নাম্বার। কৌশিকই তবে এত সময় ধরে লাগাতার কল দিয়ে যাচ্ছে ওর ফোনে। বেশি কিছু না ভেবে কলটা রিসিভ করল ইয়াশ, কানের কাছে নিতেই ভেসে এল কারো কর্কশ কণ্ঠ,
“আমার বোন কোথায় ইয়াশ?”
ঘুম জড়ানো কণ্ঠেই উত্তর দিল ইয়াশ,
“তোর ভবিষ্যৎ ভাগ্নে-ভাগ্নীর আব্বুর কাছে।”
“মানে? হেয়ালি না করে সোজাসাপ্টা উত্তর দে ইয়াশ!”
“যেখানে থাকার সেখানেই আছে।”
চোখমুখে বিরক্তির চাপ ইয়াশের, কলটা কেটে দেবে তখনই বলে উঠল কৌশিক,
“তুই ওকে ম্যানিপুলেট করে নিজের কাছে নিয়ে গেছিস, তাই না?”
ইয়াশ হাসল কী যেন ভেবে, উঠে গিয়ে জানালার কাছে দাঁড়াল সে। বলল কৌশিককে,
“উঁহু, তোর বোন আমি বলতে এতটাই পাগল,ম্যানিপুলেট করার দরকার পড়ে না।”
“আমি তোকে দেখে নেব, ইয়াশ।”
“যখন তখন যা ইচ্ছে তা আবদার করলে তো হবে না কৌশিক! তোদের মতো নিউলি ম্যারিড কাপল না হলেও বউকে কাছে পেয়েছি এত দিন পর। আমাকে দেখার সুযোগ পাবি না আর। তোর বোনকে সময় দিতে হবে তো!”
কৌশিকের রাগ হচ্ছে ইয়াশের বাঁদড়ামোতে, রেগে কিছু বললে ইয়াশ আবারও বলে উঠেছে,
“বাংলা সিনেমার ভিলেনদের মতো ব্যবহার কেন করছিস কৌশিক? আমার ভবিষ্যৎ বাচ্চারা পৃথিবীতে আসার পর তাদের মামার এমন পালোয়ানের মতো হাবভাব দেখলে ভয় পাবে তো! সময় আছে নিজেকে পরিবর্তন কর, নইলে কিন্তু ওদেরকে তোর কাছে যেতে দেব না।”
রেগে-মেগে ফোনের লাইন কেটে দিল কৌশিক। কৌশিককে একটু হলেও জব্দ করতে পেরেছে ভেবে ইয়াশ হাসল মনে মনে।
————-
কাশফিয়ার ক্লান্ত, অচেতন শরীরটা পড়ে আছে বিছানায়। বিছানার চাদরটা গায়ে টেনে রেখেছে কেবল। ইয়াশ একবার তাকাল কাশফিয়ার দিকে, ওর পুরো শরীরের লালচে দাগগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ইয়াশের রাগ হলো নিজের উপরেই, হুশ জ্ঞান হারিয়ে নিজের অজান্তেই কষ্ট দিয়ে বসেছে কাশফিয়াকে! বেশি কিছু ভাবল না ইয়াশ, বিছানায় শুয়ে থাকা কাশফিয়াকে কোলে তুলে নিয়ে গেল ওয়াশরুমে। শাওয়ারের পানি এসে কাশফিয়ার উন্মুক্ত পিঠে পড়তেই তীব্র জ্বালায় চোখমুখ কুঁচকে বন্ধ করে নিল সে, খামছে ধরল ইয়াশের পেশিবহুল বাহু। কাশফিয়ার লম্বা লম্বা নখের আঁচড় পড়ল ইয়াশের হাতে, কিছুই বলল না সে। মুচকি হেসে পরম যত্নে ওকে জড়িয়ে নিল নিজের বুকে। শরীরটা মুছিয়ে দিয়ে নিয়ে গেল আবারও রুমে। ইয়াশের পরনে থাকা কালকের শার্ট ব্যতীত আর কিছুই নেই কাশফিয়ার গায়ে। ইয়াশ ঠোঁট কামড়ে হাসছে কাশফিয়ার দিকে তাকিয়ে, এ দেখে প্রচণ্ড রাগ হলো কাশফিয়ার। বিছানায় শুয়ে থেকেই রেগে বলল ইয়াশকে,
“রাক্ষস কোথাকার!”
ইয়াশ এগিয়ে গেল কাশফিয়ার কাছে, মুখের উপর থেকে চুলগুলো সরিয়ে গুঁজে দিল কানের কানের পাশে, বলল ফিসফিস করে,
“বলেছিলাম না বুঝে শুনে কাছে ডাকবে আমাকে!”
কাশফিয়ার বাধা মানল না ইয়াশ কাছে গিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ওকে, শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হলো কাশফিয়ার, কান্না করে বলে উঠল ইয়াশকে,
“আহ! ব্যথা পাচ্ছি, সরুন।”
“সরব না।”
“আমাকে কষ্ট দিয়ে শান্তি পান আপনি?”
“ভালোবাসাও তো দিয়েছি বউ,ওটা দেখলে না?”
কাশফিয়া মুখ সরিয়ে নিল অন্যদিকে। ইয়াশকে কিছু বলেও লাভ হবে না জানে সে। সেই তো আগের মতোই জড়িয়ে ধরে রেখেছে এখনও। বিছানায় শুয়ে থাকা কাশফিয়ার ছোট্ট বুকে নিজের মাথাটা রাখল ইয়াশ। জড়িয়ে ধরে চোখ দুটো বন্ধ করল নিজের। কাশফিয়া ওর হাত রাখল ইয়াশের ঘন চুলের ভাঁজে। চোখ গেল ইয়াশের উদোম পিঠের দিকে, পৃষ্ঠদেশ জুড়ে কাশফিয়ার বড় বড় নখের আঁচড়গুলো স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। মনে মনে হাসল কাশফিয়া, রাক্ষস তো সে নিজেও কম নয়!
————-
রোহি শুয়ে আছে হসপিটালের বেডে। উজ্জ্বল, আফিয়া আর সিমি দাঁড়িয়ে আছে ওর পাশেই। বারবার জানতে চাইছে ওর কিছু লাগবে কিনা। কথা নেই রোহির মুখে। এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে দরজার দিকে, কী যেন ভেবে যাচ্ছে সে। ডাক্তাররা এসে মাত্রই দেখে গেল রোহিকে, আগের থেকে কিছুটা ভালো আছে এখন। তবে পুরোপুরি ভালো হবে কিনা, কেউ-ই বলতে পারছেন না। সিমি কান্না করছে ফুপির জন্য, উজ্জ্বলও মনমরা হয়ে বসে আছে। অবশেষে কথা বলল রোহি। উজ্জ্বলকে বলল ওর চাচা-চাচিকে দেখবে, এক্ষুনি যেন বাড়িতে কল দেয়। উজ্জ্বলও শুনল বোনের কথা, কল দিল বাড়িতে। সবার সঙ্গে সুন্দর ভাবেই কথা বলল রোহি। চাচা-চাচিকে বিদায় জানিয়ে কেটে দিল ফোনটা। রোহির মনে আরেকটা ইচ্ছে জেগেছে ইয়াশ আর কাশফিয়াকে দেখবে সে। তাই বলল উজ্জ্বলকে,
“ইয়াশকে আসতে বলবে ভাইয়া, সাথে ওর উপমাকেও নিয়ে আসতে বলবে।”
দ্রুত নিজের ফোনটা হাতে নিল উজ্জ্বল, ইয়াশের নাম্বারে কল দিতে দিতে বলল রোহিকে,
“হ্যাঁ, এক্ষুণি আসতে বলছি।”
রোহি নিজের মুখ সরিয়ে নিল অন্যদিকে, বলল বিড়বিড় করে,
“আমাদের আবার দেখা হোক ইয়াশ, একটা শান্ত, মায়াভরা সন্ধ্যায়। তোমার কাঁধে মাথা রেখেই না হয় আমার মৃত্যু হোক। তুমি আমার না হলেও, তোমাকে শেষবার এক নজর দেখার ইচ্ছেটা অন্তত পূর্ণ হোক।”
————–
উজ্জ্বলের সাথে কথা বলতে বলতে নিচে নামল ইয়াশ।উজ্জ্বলকে বলেছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই আসছে ওরা। স্বস্তি পেল উজ্জ্বল, কলটা কেটে দিয়ে রোহিকে জানালো কথাটা। ইয়াশ নিচে নামতেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাইফান আর মেহেককে দেখল। এত সকালে দুজনের একসাথে এখানে আসার কারণ বুঝল না সে।এদিকে সাইফান দাঁড়াতে পারছে না, ভালো করে চোখে ঘুম লেগে আছে ওর। এসেছে কেবল মেহেকের জোড়াজুড়িতে। সাইফান না আসলে তো আবার ইয়াশ রুমে ঢুকতে দেবে না মেহেককে। ভার্সিটি অফ থাকার কারণে দেখা হয়নি ইয়াশের সাথে, তাই মিথ্যা বাহানায় এসেছে আজ।
ইয়াশ এগিয়ে এল ওদের কাছে, ভ্রু কুঁচকে দুজনের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,—-“কি চাই?”
মেহেক উত্তর দিল আমতা আমতা করে,—-“আ…আসলে স্যার, আমার তো ম্যাথে প্রবলেম, জানেনই। তাই এসেছি আপনার কাছ থেকে হেল্প নিতে।”
ইয়াশ ভিতরে ডাকল দুজনকেই, তারপর সোফা দেখিয়ে বসতে বলল ওদের। কিচেনের দিকে যেতে যেতে বলল মেহেককে,
“সাইফান অনেক ভালো ম্যাথ পারে, তুমি বরং ওর থেকেই হেল্প নাও, মেহেক।”
মুখটা কেমন যেন হয়ে গেল মেহেকের। সাইফান হাসল এটা দেখে, বলল ঠাট্টার স্বরে,—-“পেয়েছিস তো কাঁচকলা! আজাইরা আমার ঘুমটা নষ্ট করালি। সেই তো স্যার তোকে পাত্তা দিলেন না।”
সাইফানের কথার উত্তরে রেগে বলল মেহেক,—-“চুপ কর তুই।”
সাইফান আর কথা বাড়াল না। কিছুক্ষণ পর ইয়াশ এসে বসল ওদের সামনে। হাসি ফুটল মেহেকের ঠোঁটের কোণে, এটারই তো অপেক্ষায় ছিল সে। ইয়াশ হাতে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে সোফায়, মনোযোগ দিয়ে কী যেন করছে। মাঝেমধ্যেই সাইফানের সাথে কথা বলছে। এদিকে মেহেক বই খাতা ছেড়ে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ইয়াশের দিকে। ফর্সা শরীরে কালো রঙের টি-শার্টটা ইয়াশকে মানিয়েছে ভালো। গালের খোঁচা খোঁচা দাড়ি, মাথার উষ্কখুষ্ক চুলগুলোতে যেন আরও ভালো লাগছে ওকে।
মেহেক মুগ্ধ হয়ে দেখে যাচ্ছে ইয়াশকে। এই মানুষটাকে মেহেক পছন্দ করে সেই কবে থেকে। কবে যে নিজের মনের কথা বলতে পারবে ইয়াশকে, সেই আশায় বসে আছে ও।
কাশফিয়া এসেছে ড্রয়িং রুমে, আস্তে আস্তে এসে দাঁড়িয়েছে ইয়াশের পাশে। সাইফান মন দিয়ে ম্যাথ সলভ করছে, এদিকে মেহেকের পুরো মনোযোগ ইয়াশের দিকেই, তাই আর কেউ-ই দেখেনি কাশফিয়াকে।
ইয়াশের থেকে চোখ সরাল মেহেক, সোফায় ফেলে রাখা একটা কালো রঙের ওড়নায় নজর গেল তখন। ভ্রু কুঁচকে ওড়নাটার দিকে তাকিয়ে রইল মেহেক, ভাবল মনে মনে,—-“ইয়াশের বাড়িতে মেয়েদের ওড়না এল কোথা থেকে? ইয়াশ ব্যতীত অন্য কেউ কি এখানে থাকে?”
ওড়নাটার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে কথাগুলো ভেবে যাচ্ছে মেহেক। ইয়াশ ল্যাপটপ থেকে চোখ সরাতেই দেখল ওর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাশফিয়াকে। গায়ে ইয়াশের শার্ট আর পরনে একটা প্লাজু ছাড়া আর কিছুই নেই ওর। এই অবস্থায় কাশফিয়া এখানে এসেছে দেখে রেগে গেছে ইয়াশ। সামনে বসে থাকা সাইফান কে কি দেখেনি ও? এই মেয়ে এত নির্বোধ কেন, বুঝে পায় না ইয়াশ!
ইয়াশ আর মেহেক ছাড়াও অন্য কেউ এখানে আছে বুঝতে পেরে মুখ তুলে তাকিয়েছে সাইফান। কে দাঁড়িয়ে আছে দেখার সুযোগ পেল না সে। এর আগেই ইয়াশ একটানে কাশফিয়াকে নিয়ে এল নিজের কাছে। ওর কোলে কাশফিয়াকে বসিয়ে মাথাটা চেপে ধরল নিজের বুকে। সোফায় পড়ে থাকা ওড়নাটা এনে ঢেকে দিল কাশফিয়ার মাথা আর শরীর। কাশফিয়া টু শব্দটিও করল না, বিড়াল ছানার মতো ঘাপটি মেরে বসে রইল ইয়াশের কোলে।
মেহেক আর সাইফান দুজনেই হাঁ করে তাকিয়ে আছে ইয়াশের দিকে। সাইফান আর মেহেকের প্রশ্নবোধক চাহনি দেখে বলল ইয়াশ,
“অবাক হওয়ার কিছুই নেই। সি ইজ মাই ওয়াইফ। ইউ ক্যান লিভ নাও।”
হাসি মুখটা চুপসে গেলো মেহেকের, ইয়াশের কথা শেষ না হতেই চোখ মুখে বিস্ময় নিয়ে বলল মেহেক,
“আপনি বিবাহিত, স্যার? এসব কবে হলো?”
কাশফিয়ার এমনিতেই রাগ হচ্ছে এই মেয়েটার উপর, তারমধ্যে আবার করে বসেছে এমন প্রশ্ন! মেয়েটার মোটা মাথায় কি ঢুকছে না? কাশফিয়া ইয়াশের বউ বলেই তার কোলে চড়ে বসে আছে এতোক্ষন ধরে! ইয়াশের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে কাশফিয়া, এদিক সেদিক তাকিয়ে কী যেন খুঁজলো।
সেন্টার টেবিলের দিকে চোখ যেতেই মিষ্টির প্লেটে রাখা কাটাচামচটা নজরে এলো ওর। কাশফিয়া ওটা হাতে তুলে রেগে মেগে মেহেকের চোখ বরাবর ধরে বলছে,
“এই মেয়ে, তখন থেকে আমার বরের দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? সমস্যা কী তোমার? চোখ দুটো গেলে দেব?”
কাশফিয়ার কাজে হতভম্ব বনে গেল মেহেক। ইয়াশও মাথায় হাত ঠেকিয়ে বসে আছে আগের মতোই। ভয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেল মেহেক। ভ্রু কুঁচকে কাশফিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
“ম্যারাসলেস মেয়ে! বয়সে আমি তোমার বড় হব। কার সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় জানো না?”
“সে তুমি বড় হও আর ছোট, আমার হাজবেন্ডের দিকে বারবার তাকাবে কেন?”
“বিকজ আই লাভ হিম।”
সোফায় বসে থাকা ইয়াশ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়েছে মেহেকের দিকে। কাশফিয়াও যে রেগে গেছে বুঝতে বাকি নেই ওর। কাশফিয়া কিছু বলবে তখনই বলে উঠল ইয়াশ,
“হোয়াট ননসেন্স, মেহেক? তুমি শুধু আর শুধুই আমার স্টুডেন্ট।এসব কথার মানে কি? আজকের পর থেকে আর আমার চোখের সামনে আসবে না তুমি, কোনো কারণ থাকলেও না। লিভ নাও!”
অপমানিতবোধ হলো মেহেকের৷ ইয়াশের থেকে এমন ব্যবহার আশা করেনি সে। চলে যাবে বলে পা বাড়ালো মেহেক, তার আগে একবার তাকাল কাশফিয়ার দিকে। মনে মনে ভাবল সে,এই মেয়েটার মধ্যে কি এমন আছে যা তার মধ্যে নেই?কেন ইয়াশ ওকে রেখে এই মেয়েটাকে পছন্দ করল? ২য় বার একই কথা বলল ইয়াশ, মেজাজ দেখিয়ে নিজের বাড়ি থেকে বেরুতে বলল মেহেককে। কাশফিয়ার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে এই মেহেককে দেখে, তবুও চুপ করেই রইলো সে। মেহেক চলে গেলো ইয়াশের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে, পিছু পিছু গেলো সাইফানও। দরজার সামনে গিয়ে আবারও ফিরে আসল সাইফান একগাল হেসে বলল ইয়াশকে,
“ম্যাম কিন্তু সুন্দর স্যার,অভিনন্দন আপনাদেকে।”
ইয়াশের হয়তো পছন্দ হলো না সাইফানের কথাটা। রেগে-মেগে ওর দিকে তাকাতেই সাইফান ভয় পেয়ে দ্রুত চলে গেলো বেরিয়ে।
কাশফিয়া একবার তাকাল ইয়াশের দিকে, গায়ে থাকা ওড়নাটা মেঝেতে ছুড়ে ফেলে চলে যাচ্ছিলো রুমে।ইয়াশ বুঝল ওর উপমা রাগ করেছে। কাশফিয়ার হাত টেনে নিয়ে আসল নিজের কাছে। ইয়াশের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে রেগে বলছে কাশফিয়া,
“ছাড়ুন আমাকে।”
ইয়াশ শান্ত কন্ঠে জবাব দিল কাশফিয়ার কথার,
“রাগ করেছো উপমা?”
কথা বলল না কাশফিয়া, রাগ তো সে করেছেই! তাকে বাড়িতে রেখে অন্য একটা মেয়ের সাথে বসে গল্প করছিল ইয়াশ! কাশফিয়ার যে মেয়েটার থেকে বেশি ইয়াশের উপরেই রাগ হচ্ছে।উত্তর না পেয়ে আবার কাশফিয়াকে ডাকল ইয়াশ,
“উপমা।”
সাথে সাথে উত্তর এল কাশফিয়ার থেকে,—-“আমি রাগ করলে আপনার যায় আসে? আমি কে আপনার? যান,ওই মেয়েটার সাথেই গিয়ে গল্প করুন।”
ইয়াশ কি যেন ভেবে ছেড়ে দিল কাশফিয়াকে, সুযোগ পেয়ে কাশফিয়া চলে যেতে নিলেই দ্রুত সামনে গিয়ে আবারও ওকে জড়িয়ে ধরল ইয়াশ। আলতো করে ওর কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল আদুরে গলায়,
“তুমিই তো আমার সব উপমা। আমার স্বপ্নে দেখা সেই রাজকন্যা তুমি,নির্জন জীবনের নিভু আঁধারে এক চিলতে রৌদ্রতাপ তুমি। আমার উপমা তুমি।”
কাশফিয়া মাথা তুলে তাকাল ইয়াশের মুখপানে। লোকটার ঘায়েল করা হাসিতে কোথায় যেন উড়ে গেলো সব রাগ অভিমান। এমন সুন্দর হাসি আর মন ভোলানো চমৎকার কথা শুনলে কারোই বা রাগ থাকবে?
#চলবে…..
টাইপো— Nila Rahman 😘
পড়ুন রোমান্টিক ই-বই “রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM
গল্প রিলেটেড সব আপডেট পেতে গ্রুপে জয়েন হোন।
https://facebook.com/groups/569604222322147

