#শুভ্রফুল — ২৯
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি নিষিদ্ধ ]
আলো পড়তে বসে ও শান্তি পাচ্ছিলো না৷ মনটা শুধুই অশান্ত লাগছিলো তার ৷ খাতায় লিখার পরিবর্তে রেগে কলমটা জোড়ে চেপে ধরলো খাতার মধ্যে। নিজেকেই বিরক্ত লাগছে তার। আলো উল্টাপাল্টা আঁকিবুঁকি করতে লাগলো৷ খাতার পেইজের অবস্থা নাজেহাল। ছিঁড়ে যাচ্ছে পেইজটা। তবুও আলো থামছে না।
” আমাকে একদম টাচ করতে আসবেন না মিস্টার
চৌধুরী। যতোক্ষণ না আপনার বান্দরনিটা না যাচ্ছে ততোক্ষণ আপনি আমার কাছে আসবেন না আপনি ওই সোফায় থাকবেন আর নাহলে আমি থাকবো৷
শুভ্র আলোকে পেছন থেকে খানিকটা জড়িয়ে ধরেতেই ছিটকে উঠে দাঁড়ালো আলো। শুভ্র রাগলো না বরং বোঝাতে চেষ্টা করে বললো,
” আলো তোমার আমার উপর বিশ্বাস নেই? আমি যাচ্ছি হিয়ার কাছে? নাকি ওর কথা শুনছি? কেন
অশান্তি সৃষ্টি করছো? আমি ওকে কেবলই বোনের মতো ভাবতাম। আমার কোনো বোন নেই তুমি তো জানো।
আলোর মেজাজ আরো কিটকিটে হয়ে গেলো সে
রাগটা নীবারনের বদলে দুইগুণ বাড়িয়ে তাচ্ছিল্যের সহিত বলে উঠলো,
” আমি বুঝেছি আপনি আমার কথা শুনবেন না। কারন, সে আপনার ছোট্টকালের বান্দুবি সেই তো থাকবেই। বোন হুহ! নাম মাত্র। আমি কেন এতো অশান্তি সৃষ্টি করছি? আপনার প্রয়োজন নেই আমার মতো অসম্পূর্ণ মানুষ আপনার জীবনে না থাকায় শ্রেয়। থাকুক ওই মেয়ে আমি চলে যাবো।
শুভ্র আলোর চোখের কোণ বেয়ে পড়তে থাকা নোনা পানি আঙুলের সাহায্যে মুছে দিয়ে বললো,
” আমি জানি সমস্যাটা হিয়াকে নিয়ে নয় সমস্যা হলো তোমার মনে। পাগলি মেয়ে! আমি তোমার হাত না ছাড়লে হাজারটা মেয়ে আসলে ও কিছুই হবে না। তুমি আমার আমারই থাকবে বুঝলে? আর একটা কথা,
ভালোবাসলে ফ্যাসিস্ট হতে হয়। আমি তোমাকে ছাড়বো না মানে, কোনো ভাবেই না ৷ ভালোবাসি বউ।
নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো আলোকে শুভ্র। আলো কাঁপছে ভিষণ ভাবে। শুভ্র অনুভব করতে পারলো। মেয়েটার রাগ অনেক।
আলোর কপালে চুমু খেলো অতঃপর আবার ও বললো শুভ্র,
” আমার আলোর মনটা কি শান্ত হয়েছে?
” নাহ!
” তাহলে কি করতে হবে শুনি?
” জানি না।
শুভ্র আলোকে মুখোমুখি করে বললো,
” চলো তাহলে একটু ভালোবাসি!
আলো শুভ্রর বুকে কিল ঘুসি মারতে মারতে বললো,
” সবসময় ফাইজলামি।
” ন’ট ম্যাম! ভালেবাসা হলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ! আর ফাজলামো সে তো আঁধার করে৷ চলুন তাহলে,
পাঁজা কোলে তুলে নিলো শুভ্র আলোকে। শুভ্রর
কথায় লজ্জায় মুখ লুকায় সেই শুভ্রর বক্ষস্থলেই।
” আপনি আস্তো নির্লজ্জ হয়ে গিয়েছেন।
” আমার মতো ভালো আর ভদ্র ছেলে একটা ও পাবা না। এতো বড় একটা কথা বলা উচিত হয়নি তোমার। ওকে ফাইন যেই ট্যাগ দিছো চরিত্রের পাশে তা না হয় বাস্তবায়ন করলাম।
__________________
” আন্টি আংকেল কি করছো তোমরা?
” ওমা হিয়া এখনো ঘুমোওনি? ভেতরে এসে বসো।
আফিয়া চৌধুরীর কথায় হিয়া বসলো আফিয়া চৌধুরীর পাশের সোফায়। বললো,
” তোমাদের বাড়িটা কেমন নিস্তব্ধ লাগে তাই না আন্টি ?
আসিফ চৌধুরী মৃদু হেসে বললো,
” তা তো লাগবেই একটু। আঁধার ছিলো সময় তো ভালোই লেগেছিলো। ছেলেটা আজ হোস্টেলে চলে গেলো এখন আগের মতো নীরব হয়ে গিয়েছে বাড়িটা।
” হ্যা ঠিকই বলেছো আঁধার আর আলোর কারনে মনে হয় বাড়িটার প্রান ফিরে পায়। একসাথে থাকলে কত আনন্দ করে পুরো বাড়িটাকে মাতিয়ে রাখে।
জোরপূর্বক হাসলো হিয়া। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলে উঠলো সে,
” এবার তো তোমাদের নাতি নাতনির মুখ দেখা উচিত কি বলো আংকেল আন্টি?
আফিয়া চৌধুরী মৃদু হেসে জবাব দেন,
” তা অবশ্য ঠিক। আর আমরা চাইলেই কি আলো পড়ছে এখন । পড়াশোনা কমপ্লিট হোক তারপর তারা চাইলে। মেয়েটার পড়াশোনা করে কিছু করার তীব্র ইচ্ছে, সেখানে কোনো কিছু বাঁধা না হোক!
” কিন্তু তোমাদের ও তো ইচ্ছে আছে কি বলেন আংকেল?
” আগেকার দিন নেই মা। এখনকার সময়ে সবাই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তারপর ফ্যামিলি। আর আমি ও চাই আমার মেয়েটা নিজের ক্যারিয়ারে ফোকাস করুক। মেয়েদের নিজের একটা পরিচয় থাকা জরুরি।
খুশি হলো না হিয়া। লক্ষে পৌঁছাতে হবে। তবে আন্টির কথা ভাবলো তাড়াহুড়ো করলে চলবে না। ফের বলে হিয়া,
” আন্টি আমি তাহলে আসি। সুইট ড্রিম আংকেল আন্টি।
চলে গেলো হিয়া। আফিয়া চৌধুরী বলেন,
” তুমি একদম ঠিক বলেছো। আমি ও চাই আলো নিজের ক্যারিয়ারে ফোকাস করুক। কারন সম্পর্ক
সবসময় আপন হয় না।
” হ্যা আফিয়া বিশেষ করে মেয়েদের। আমি আমার বোনকে চেষ্টা করে ও বাঁচাতে পারিনি। মেয়েটা একটা অমানুষের ঘরে অত্যাচারিত হয়েছে। খাবারের কষ্ট পেয়েছে। লজ্জায় আমার কাছে আসেনি। না নিজে কিছু করতে পেরেছে। শেষে জীবনটাই দিয়ে দিলো।
” পুরনো কথা আবার মনে করে কেন কষ্ট পাও বলোতো ? ভুলে যাও চাইলে ও আর ঠিক হবে না।
” হুম আমার এখন কোটি কোটি টাকা আছে কিন্তু,
আমার বোনটা না খেয়ে টাকার অভাবে মারা গিয়েছে। পরের বাড়ির ভাতের মূল্য কেবল আমার বোনের মতো মেয়েরাই বুঝবে। আমি চাই না আলো না পড়ুক। থাকুক না টাকা পয়সা তবুও নিজের মতো চলুক। নিজের পরিচয়ে সকলে চিনুক তাকে।
” হ্যা আমি ও চাই। আচ্ছা শুইয়ে পড়ো তো কাল তো আবার বাইরে যাবে
” হ্যা এলার্ম দিয়ে রাখো৷
” আচ্ছা।
_________________
সকাল আট’টা বেজে চল্লিশ মিনিট। আলো মিররের সামনে বসে চুল মুছছিলো টাওয়াল দিয়ে। হঠাৎ দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেলো আলোর মনের মধ্যে । ভিজে চুলের
পানি ছিটিয়ে দিলো শুভ্রর মুখের উপর। আকস্মিক পানির ঝাপটা আসায় চোখ মুখ খিঁচিয়ে তাকালো শুভ্র সাথে জানালার পর্দাটা সরিয়ে দিলো বাইরের ঝলমলে আলো এসে উপচে পড়লো শুভ্রর মুখের উপর।
” কি মিস্টার এতোক্ষণ ধরে ডাকছি শুনছেনই না। এখন শুইয়ে থাকুন আরামসে।
” প্লিজ আলো লেট মি স্লিপ।
আলো খানিকটা ঝুঁকলো শুভ্রর মুখপানে দুষ্টু হেসে
বললো,
” আমাকে ঘুমোতে দিয়েছেন আপনি? তাহলে আমি কেন দিবো বলুন মিস্টার ?
শুভ্র হাত ধরতে নিলে দূরে সরে এসে বললো,
” উহুম ঘড়ির দিকে তাকান। সময় খুবই কম উঠে রেডি হয়ে নিচে আসুন আমি নিচে যাচ্ছি।
” আলো দাঁড়াও!
শুভ্র উঠতে নিলে আলো দৌড়ে এসে চাবিটা নিলো সাথে ফোনটা ও যেতে যেতে বলে উঠলো,
” অবশ্যই দাঁড়াবো ওই চাবি আর ফোনটা নিতে হতো বাই চৌধুরী সাহেব।
” আলো স্টপ! আলো কি করছো তুমি? দরজা খোলো বলছি।
বাইরে থেকে লক করে দরজার কাছে এসে ফিসফিস করে বলে উঠলো আলো,
” আপনি একান্তই আমার। তাই অন্য কারোর প্রবেশ নিষিদ্ধ। আমি না থাকলে যে কেউ আসতে পারে। রেডি হয়ে ফোন দিবেন আমি আসবো। ছোট বাচ্চার মতো চিৎকার চেঁচামেঁচি করছেন কেন? আমি কি আপনাকে কিডন্যাপ করেছি নাকি?
শুভ্র বুঝলো আলোর পাগলামো। চুপ হয়ে গেলো সে। আদোও চিল্লিয়ে কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। শুভ্র কাবার্ড থেকে প্যান্ট শার্ট বের করে শাওয়ার নিতে চলে যায়।
___________________
” আন্টি তোমাদের রান্নায় হেল্প করে আমার কি যে শান্তি লাগছে বলে বোঝাতে পারবো না।
হিয়ার কথায় আফিয়া ও নীলিমা হাসছে। হিয়া এটা সেটা কেটে দিচ্ছে। আলো এসে দাঁড়ালো চুপ করে তাদের পাশে। রাগে কিড়মিড় করছে আলো।
মুখের হাসি বজায় রেখে বললো,
” মামুনি, কাকিয়া একটা কাজ করো যারা কাজ করে তোমাদের হেল্প করে তাদের ছুটি দিয়ে দাও যে ক’দিন আপু আছে। আপু তো রান্না ও করতে পারে তাই না আপু?
হিয়া মুচকি হাসলো। বললো,
” অবশ্যই রান্না পারি। আমরা বাঙালি। দেশের বাহিরে থাকি বলে রান্না জানবো না নাকি? আমি আমার হাসবেন্ডকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াবো বলেই রান্নাটা পড়াশোনা করার মতোই শিখেছি।
আলো তাল মেলালো সাথে। বললো,
” গুড আইডিয়া আপু। আংকেল আন্টি নাকি চলে গিয়েছে আপনার ভাইয়ার কাছে।
” হ্যা।
” তাহলে মামুনি তুমি একটা কাজ করো না পারলে একটা ভালো ছেলে দেখো আপুর জন্য। আপুর ইচ্ছে পূরণ করার খুবই ইম্পর্ট্যান্ট! কাকিয়া তোমার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে আছে না নামটা কি ছিলো হ্যা ওই যে, লাবিব ভাইয়া। তোমরা তো পাত্রি খুঁজতেছো। আমার মতো দেখতে এমন গুন সম্পূর্ণ আন্টি তো বলেছিলো আমায়। আমার মতে হিয়া আপুই বেস্ট কি বলো কাকিয়া?
” ঠিক বলেছিস তো আলো।
আফিয়া চৌধুরী বলেন,
” নীলিমা আলোর কথাটা একদম ঠিক। আগে আমরা ভেবে দেখিনি তো।
আলো খুশি হলো হিয়ার হেরে যাওয়া মুখটা দেখে। কি হতে চাই আর কি করতে চাই ওরা। কথাটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যাবার আগেই হিয়া মিনমিন করে বলে,
” কি যে বলো না তোমরা। আমি এখন বিয়ে করছি না। আরো একছর যাক তারপর ভেবে দেখবো।
আলো খোঁচা মেরে বললো,
” সময় থাকতে বিয়েটা করে ফেলুন আপু নয়তো হ্যান্ডসাম বর পাওয়া মুশকিল। মজা করলাম আপু।
লাবিব ভাইয়া অনেক হ্যান্ডসাম তাই না কাকিয়া?
” হ্যা আমাদের শুভ্রর মতোই একদম। ভালো জব করে বাড়ি গাড়ি সবই আছে।
হিয়া খুশি হলো না চলে গেলো কিচেন থেকে। সবাই ভাবলো লজ্জা পেয়েছে হয়তো মেয়েটা কিন্তু, আলো বুঝলো কারনটা। সে ও পিছু নিলো হিয়ার। তার রুম অব্দি গেলো আলো। হিয়া রুমে এসে রেগে হাসফাস করছিলো। মুখের অঙ্গভঙ্গি পাল্টে গেলো রাগে কটমট করছিলো হিয়া। কয়কে মিনিট দেরি করে নক করলো আলো।
” আসবো আপু?
হিয়া অবাক হলো। রাগের তীব্রতা কমেনি বেড়ে গেলো বোধহয়।
” কি চাই?
আলো ভেতরে আসতে আসতে বললো,
” চাওয়ার মতো আপনার কাছে কিছু আছে নাকি আপু?
” আসছো কেন তাহলে?
” আজব কথাবার্তা বলছেন কেন আপু? সবাই কি শুধু নিতে আসে নাকি? দিতে ও তো আসে। না মানে আমি তো আপনার সাথে গল্প করতে আসছি।
” গল্প আর আমার সাথে?
অবাক হয়ে বলে হিয়া।
” অবশ্যই আপনার সাথে।
” তো কি বলবে বলে চলে যাও।
” রাগ করছেন কেন? আমি তো মজা করে বলেছি
কথাটা।
” আমি রাগ করনি।
আলো বসলো রুমে থাকার সোফায়। হিয়া বেডে বসে আছে বিরক্তিকর ভাব নিয়ে। আলো হাসি মুখে বললো,
” আমি আপনাদের পুরনো দিনের গল্প শুনতে চাচ্ছিলাম।
” আমাদের মানে কার কথা বলছো তুমি ?
আলো রয়েসয়ে বসলো। অতঃপর বললো,
” আমার স্বামীকে খুব ভালোবাসেন আপনি তাই না হিয়া আপু ?
হিয়া বুক ফুলিয়ে সাহসিকতার সাথে বলে উঠলো,
” অফকোর্স! ওকে পেতে আমি সব করতে পারি।
আলো দাঁড়িয়ে গেলো। মুখে হাসি রেখে উদ্ধিগ্ন স্বরে বললো,
” দীর্ঘ তিন বছর একসাথে থেকে ও ভালোবাসার কথা বলেননি কেন আপনি ?
হিয়া মনমরা হয়ে বললো,
” তোমার জন্য আলো। তুমি আমাদের মধ্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছো।
আলো বুঝলো হিয়ার দুঃখটা। শান্ত স্বরে বললো,
” আচ্ছা মানলাম তার আগে কি ভালোবাসা কম ছিলো?
হিয়ার সোজাসাপটা উত্তর,
” না তো! আমি তো ওকে অনেক ভালোবাসতাম।
আলোর রাগ সব মাথায় চড়ে গেলো। কথার ধরন পাল্টে গেলো রাগের তোপে,
” তাহলে বলিস নি কেন আগে? তোদের নাটক দেখে বাঁচি না আমি। আজ এখনই এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবি। অন্যের স্বামীর দিকে খারাপ নজরে তাকাস লজ্জা করে তোর শাঁকচুন্নি। তোর তো তেঁতুল গাছে থাকা দরকার। তুই এখানে বাড়ির মধ্যে কি করছিস বল আমায়?
হিয়া হতভম্ব আলোর এমন বিহেভিয়ার। সাথে সাথে বলে উঠলো সে,
” মাইন্ড ইউর ল্যাংগুয়েজ আলো৷
আলো আঙুল উঁচিয়ে বলে উঠলো আগের ন্যায়,
” তোর ল্যাংগুয়েজ এর গুষ্ঠি কিলায়। এই মুহুর্তের মধ্যে যদি এই বাড়ি থেকে না গিয়েছিস, তাহলে তোকে আমি জুতো মেরে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো বলে দিচ্ছি।
হিয়া দিগুণ সাহস নিয়ে মুখের উপর জবাব দিলো,
” আমি যাবো না এই বাড়ি থেকে। আমি শুভ্রকে
নিজের করেই ছাড়বো।
আলো ঝটপট পায়ে থাকা জুতো খুলে ফেললো।
দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো,
” তাহলে তোর মতো শাঁকচুন্নির জন্য জুতোর বারিই বেস্ট। খাঁ এবার জুতোর বাড়ি। শুভ্রর জন্য সব করতে পারিস তাহলে খা জুতোর বারি।
আলো এলোপাতাড়ি বাটা জুতো দিয়ে আচ্চা মতো
বারি দিচ্ছে হিয়াকে। হিয়া নড়ছে না উল্টো আলোকে থামানো চেষ্টা করছে। বলছে,
” আলো! আলো স্টপ আলো লাগছে আমার।
আলো জুতো দিয়ে বারি দিতে চেষ্টার কমতি রাখছে না। রাগ আর জেদে বলে উঠলো সে,
” লাগুক খা জুতার বারি। পারলে তোকে চিবিয়ে খেতাম নেহাৎ তুই মানুষ! মানুষ তো আর…
হিয়া রুম থেকে বের না হয়ে এদিক সেদিক রুমের ভেতর ছুটাছুটি করে চিৎকার করে বলছে,
” ও আন্টি, মাগো মা এই মেয়ে তোমায় কিন্তু, আমি ছাড়বো না বলে দিচ্ছি।
আলো থামলো ক্লান্ত লাগছে। চোখ মুখ লালচে হয়ে গিয়েছে। তবুও বলছে,
” আগে আমি ছাড়লে তো আমায় তুই ছাড়বি। খাঁ
জুতার বারি। ভাত খেয়ে তো তোর পেট ভরে না জুতার বারি খেয়েই পেটা ভর শাঁকচুন্নি কোথাকার। অন্যের জামাইয়ের দিকে নজর দেস চোখ দু’টো উপড়ে ফেলবো কিন্তু।
” কি হয়েছে? কেন চিৎকার করছো এভাবে হিয়া? কি হয়েছে আলো তুই এখানে?
” এভাবে কেউ চিৎকার করে? ভয়ে আমার আত্মা শুঁকিয়ে যাওয়ার উপক্রম।
আফিয়া চৌধুরী ও নীলিমা চৌধুরী আসে রুমে হুরমুর করে।
আলো জুতোটা ফেলে বলে উঠলো,
” মামুনি কাকিয়া কিছুই হয়নি। আপুর শরীরে ইয়া বড় একটা তেলাপোকা এসে পড়ে তার জামার মধ্যে ডুকে গিয়েছে তাই একটু..
” তেলাপোকা আন্টি তেলাপোকা কোথায়? আমি থাকবো না এখানে আন্টি বাঁচাও না..
হিয়ার এমন ভয়ার্ত চিৎকারে হেসে উঠলো আলো।
বাকি দুজন কি বলবে বুঝতেছে না। আলো বললো,
” এভাবে লাফাবেন না আপু। তেলাপোকাকে জুতো মেরে বের করে দিয়েছি। তবে রুমে আছে কয়েকটা
রুমটা অনেকদিন বন্ধ ছিলো তো তাই।
ভয়ে ডুগ গিললো হিয়া। তেলাপোকাকে জমের মতো ভয় পায় সে। আলো খুশি হলো আগে জানতো না জানলে জুতোর বাড়ির সাথে তেলাপোকার ও ব্যবস্থা করতো।
” শান্ত হও তো হিয়া তেলাপোকা কোথা থেকে আসবে বলো? রুম তো ক্লিন করা একদম। ভুল দেখেছো হয়তো।
” আমি থাকবো না আন্টি। আমি আজই চলে যাবো।
আফিয়া চৌধুরী বলেন,
” কালকেই তো এসেছো আর আজ চলে যাবা?
” তেলাপোকা আছে জানলে আসতামই না।
” এতো ভয় পায় কেউ পাগলি মেয়ে।
” না কাকিয়া তেলাপোকা খুব ভয়ংকর। আমার ভয় লাগে।
আলো ও বললো,
” হ্যা আপু তেলাপোকার সাথে ইদুর আবার বড় বড় সাপ ও আছে নাগিন ঠিক আপনার মতো। কখন কোথা থেকে এসে ডুকে পরবে কেউ বলতে পারে না।
” আহ আলো কি বলছিস তুই?
” ঠিকই বলছি মামুনি ৷ আমি দেখেছি আপুর রুমের সামনে বাগানের দিকটাতে।
হিয়া দ্রুত লাগেজটা বের করে চলে যেতে লাগলো।
” আন্টি আমি আর থাকবো না এখানে আপনারা ভালো থাকবেন৷
” কি হলো কিছুই বুঝলাম না।
আলো মনে মনে বললো, এতো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। জুতোর বারিতে কাজ হলো না আর সামান্য তেলাপোকাতে বাড়ি ছেড়ে পালালো। যাক আপদ বিদায় হলো। আমার সংসার আমার স্বামীর দিকে হাত বাড়ায় কত বড় সাহস। যেখানে আমি তিনটি বছর অপেক্ষার পর পেলাম আর ওনি একদিনে এসে চিনিয়ে নিয়ে যাবেন মগেরমুল্লুক পেয়েছেন শাঁকচুন্নি!
__________________
” আমার আলো দিনদিন বড্ড দুষ্টু হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, সাথে ঝগরুটে ও হয়ে যাচ্ছে।
” কি করবো বলুন একটাই জামাই। সবাই কাড়াকাড়ি লাগে। দেশে কি ছেলের অভাব পড়ছে নাকি বুঝি না কিছুই। যে আসবে তাকে এভাবেই শাঁকচুন্নির মতো বিদায় করবো। জানি এর রেশ কাটেনি আবার ও তেঁতুল গাছ থেকে উঁকিঝুঁকি মারবে শাঁকচুন্নিটা।
শুভ্র হাসলো। মেয়েটা কতটা পজেসিভ তাকে নিয়ে।
চলবে,,,

