#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ২০
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
দিগন্তে নতুন সূর্য উদয় হয়েছে।সকালের শান্ত নির্মল আবহাওয়ায় মাঝে মাঝে ভেসে আসছে পাখির কলরবে।যদিও শহরাঞ্চলে যান্ত্রিক কোলাহলে পাখির সেই স্বতঃস্ফূর্ত আওয়াজ হারিয়ে গেছে অনেক আগে।ঈশানির চোখ কখন লেগে গেছে টের পায়নি সে।ঘুমটা একটি হাল্কা হতেই নড়েচড়ে উঠলো সে।কিন্তু নড়তে পারলো না।আটকে গেলো কারো বাহুবন্ধনে।সকাল সকাল এক শিরশির অনুভূতি ছুঁয়ে গেলো ঈশানির সর্বাঙ্গে।একপলক চাইলো ঘুমন্ত মানুষটার মুখপানে।খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অবলোকন করলো মুখের প্রতিটি অংশ।সরু নাক,চওড়া কপাল,লালচে – কালচে মতোন ঠোঁট,গালের উপর খোঁচা খোঁচা চাপদাড়ি সবই নীরবে অবলোকন করলো সে।ঈশানির মনে হলো তার সামনে এই ঘুমন্ত পুরুষটি সবচেয়ে সুদর্শন। এই পুরুষটির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা যায় আজীবন।কোনো ক্লান্তি যেনো ছুঁতে পারবে না তাকে।ঈশানি ঢোক গিললো একটা।তারপর আরহানের হাত সরিয়ে উঠার চেষ্টা করলো। আরহান ঘুমের মধ্যে আরো নিবিড়ভাবে জড়িয়ে নিলো ঈশানিকে।ঈশানি একটু থেমে গেলো।দুমিনিট পর আস্তে আস্তে সরে আসলো।কিন্তু তার আগেই পিছন থেকে খপ করে ধরে ফেললো তার হাত।ঘুমজড়ানো আবেশি কন্ঠে বললো –
“সকাল সকাল বরকে রেখে কোথায় যাচ্ছেন, ম্যাডাম?”
ঈশানি পিছু চাইলো না।সেভাবেই কোনরকম বললো –
“ছাড়ুন।উঠবো আমি।”
আরহান ছাড়লো না।বরং টান দিয়ে ঈশানিকে শুইয়ে দিলো এবং সে আধশোয়া হলো তার উপর।ছোটো ছোটো ফোলা ফোলা চোখ দিয়ে গিলে নিলো ঈশানির সকালের কোমল,স্নিগ্ধ,আবেশিত মুখটি।তারপর ফিসফিসিয়ে বলে –
“সকাল সকাল তোমার এই মুখ দেখা আমার জন্য কাল হয়েছে,ঈশানি।”
ঈশানি বুঝলো না কথার মানে।চেয়ে রইলো অবুঝের মতো। আরহান এবার আরেকটু কাছে ঘেষলো।তারপর আরো ফিসফিসিয়ে উচ্চারণ করলো –
“একটু অভদ্র হই?”
ঈশানি কেঁপে উঠলো।আপনা আপনি নিজের দুহাত চলে গেলো আরহানের বুকের উপর।ঠেলে সরাতে চাইলো তাকে।লোকটা সরলে তো।যেনো ঘাঁটি বেঁধে বসেছে সেখানে।তাকে সরানো এখন পৃথিবীর সবচেয়ে মুশকিল কাজের একটা।ঈশানি তাকালো না সেই কালো মনির গভীর চোখে।এদিক ওদিক তাকিয়ে হাসফাহ করতে লাগলো। আরহান ঈশানির দুহাত সরিয়ে বিছানায় চেপে ধরলো।ঈশানি ছটফটিয়ে উঠলো। পা দাপাদাপি শুরু করলো। আরহান নিজের মুখ নামিয়ে নিয়ে গেলো ঈশানি মুখের নিকটে।ঈশানির দাপাদাপি হঠাৎ থেমে গেলো।চোখদুটো আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গেলো যেনো।ঠোঁটজোড়া তিরতির করে কাপছে।নিশ্বাস যেনো আটকে আছে ভেতরে। আরহান সবটায় খেয়াল করলো।চাপা মুচকি হাসলো।ঠোঁট বাড়িয়ে গভীর চুমু খেলো কপালে।ঈশানি চোঁখ খুলে চাইলো।দুচোখের মিলন ঘটলো। ন্যানো সেকেন্ডে ব্যবধানে পুরুষালি খরখরে অধর আঁকড়ে ধরলো একজোড়া গোলাপী,নরম, কাপন্ত অধর।হুট করে আসা আক্রমণে ঈশানি বেহাল হয়ে পড়ে।খামচে ধরে বিছানার চাদর। গাঢ় থেকে গাঢ় হয় অধরের স্পর্শ। আরহান যেনো মেতে উঠলো ঈশানির অধরের উন্মাদনায়।ঈশানি কোনো প্রতিক্রিয়া করার আগে তার নিশ্বাস আটকে এলো।মনে হচ্ছে মরে যাবে।কিন্তু লোকটার ছাড়ার নাম নেই।ঈশানি মরার মতো শক্ত হয়ে পড়ে রইলো।বেসামাল হলো,বেহাল হলো,ছন্নছাড়া হয়ে গেলো তার সকল কিছু। আরহান আরো কয়েক সেকেন্ড পর ছাড়লো ঈশানির অধর।ঠোঁটজোড়া আলগা করে ভারী নিশ্বাস নিয়ে কোনোরকম বললো –
“ব্রিথ।”
ঈশানি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।একঝটকায় আরহানকে ফেলে দিয়ে দৌড়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।ঠোঁট কামড়ে হেসে উঠে আরহান।একহাত বুকে দিয়ে সোজা হয়ে শুয়ে রইলো।
.
সকালের সেই ঘনিষ্ট সময়টুকুর পর ঈশানি আর সামনে আসেনি আরহানের। সে ও আর বেশি ঘাটায়নি।রেডি হয়ে চলে গেছে হসপিটালে।
ঈশানির মরিমরি অবস্থা।যতবার সকালের দৃশ্যটুকু চোখে ভাসছে একায় লজ্জা পাচ্ছে,একায় হাসছে আবার একায় মুখ ঢেকে ফেলছে। মিনারা বেগম আর জাহিদ চৌধুরী তৈরি হয়ে বের হয়েছে। আয়রাকে দেখতে যাবে।ঈশানিকে বসে থাকতে দেখে মিনারা বেগম বললেন –
“ঈশু,খেয়ে তারপর যাবি কোচিংয়ে। আর বাড়ির গাড়ি ছাড়া যদি গিয়েছিস তাহলে মার খাবি।”
ঈশানি নিজেকে স্বাভাবিক করলো।তারপর ছোটমাকে বললো –
“হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝেছি। ও ছোটমা, আরুপুকে নিয়ে আসবে না?”
মিনারা বেগম বললেন –
“গিয়ে দেখি আগে মেয়েটার কি খবর।সাবধানে যাস তুই।”
এরপর ময়নাকে ডেকে কাজের আদেশ দিয়ে চলে গেলেন তারা। ঈশানিও চলে গেলো তার রুমে।কোচিংয়ের জন্য তৈরি হতে।
.
ঈশানি একটা মিষ্টি গোলাপী কালার থ্রিপিস পড়েছে। কোমড় সমান লম্বা লতানো চুলগুলো বেনি করে নিয়েছে।নিজে একটু বেবী পাউডার আর একটা লিপ গ্লোস দিয়ে তৈরি হয়ে নিয়েছে।বের হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে কল লাগালো মিথিলাকে।দুবার রিং হতেই ধরে ফেললো সে।ঈশানি মন খারাপ করে বললো-
“মিথি,তুই কোন কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছিস? আমরা যে আলাদা হয়ে গেলাম।”
মিথিলা হাই তুলতে তুলতে বলে –
“জামাইয়ের সাথে সারাদিন রোমান্স না করে আশেপাশের তো একটু খোজ ও রাখতে পারিস। আমি আর তুই যে একই কোচিংয়ে সেটা তোর সুদর্শন বর বলেনি বুঝি।”
ঈশানি কিঞ্চিৎ খেঁকিয়ে উঠলো।পরমুহুর্তেই প্রফুল্ল হয়ে বললো –
“তুই আর আমি একই সাথে? সত্যি বলছিস।”
মিথিলা প্রত্যুত্তর করলো –
“তোর বর’ই তো কালকে কল দিয়ে সব খোজ নিয়ে তোকে আর আমাকে দুজনকে ভর্তি করিয়েছে।”
ঈশানি মুগ্ধ ,বিমোহিত হলো।লোকটা এতো ভালো কেনো? কোনো উত্তর পায় না।তবে হৃদয়জুড়ে প্রশান্তি ছুঁয়ে যায়।ওপাশ থেকে মিথিলার খসখসে আওয়াজে ধ্যান ভাঙ্গে।মিথিলা বলে –
“এসব বাদ দেও।তুমি আসো তাড়াতাড়ি।তোমার সাথে আমার বোঝাপড়া আছে।”
ঈশানি প্রথমে বুঝলো না।পড়ে বুঝতে পেরে ঢোক গিললো।মেয়েটা তো সব জেনে গেছে নিশ্চয় আজ ভীষন ঝাড়বে।ঈশানিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দেয় মিথিলা।ঈশানির বেড়িয়ে পরে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে।
.
আরহান সবে মাত্র সকালের রাউন্ড শেষ করে এসেছে কেবিনে। নিজের চেয়ারে শরীরটা এলিয়ে দিয়েছে।তখনি তার অ্যাসিস্ট্যান্ট জানায় একজন সুইসাইড পেশেন্ট এসেছে।আর্জেন্ট। আরহান ও উঠে দাড়ায়।স্টেথোস্কোপটা গলায় পেঁচিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
ইমারজেন্সি কেবিনের সামনে এসে থমকে যায়। বেডে শুয়ে আছে অলিভিয়া। আরহান দ্রুত পায়ে এগিয়ে যায়।অলিভিয়ার হাত ধরে পালস চেক করে।অলিভিয়ার বাবা করুন স্বরে বলে –
“ডাক্টার,আমার মেয়েটাকে বাচা….”
থেমে যায় ভদ্রলোকের কথা। আরহানকে দেখে চোখ দিয়ে যেনো আগুন ঝরে।তৎক্ষণাৎ হুংকার দিয়ে বলে –
“তুমি ?আমার মেয়েটাকে মেরে এখন এসেছো চিকিৎসা করতে।স্পর্শ করবে না ওকে।”
নার্সের দিকে তাকিয়ে বলে –
“আপনি অন্য ডাক্টার ডাকুন।এই প্রতারককে দিয়ে আমি আমার মেয়ের চিকিৎসা করাবো না।”
আরহান শীতল চোখে চেয়ে রইলো।নার্সটি অপ্রস্তুত হলো। আরহানের দিকে একবার চেয়ে বললো –
“আপাতত ওয়ার্ডে ডাক্টার নেই।আপনি শান্ত হন।”
ভদ্রলোক নাকচ করে বলে –
” না,এই ছেলের ছায়াও আমি আমার মেয়ের উপর পড়তে দেবো না।ওর জন্যই আমার মেয়ের এই অবস্থা।”
আরহান এবার দু পা এগিয়ে গেলো।তারপর গম্ভীর কন্ঠে বললো –
“আপাতত আপনার মেয়ের চিকিৎসার জন্য আমাকেই লাগবে আপনার।নিশ্চয় আপনার মেয়ের জীবনের থেকে কিছু বড় না? বাকি কথা অলিভিয়া সুস্থ হলে হবে।”
ভদ্রলোককে কিছু না বলে আরহান নার্সকে দিক নির্দেশনা দিলো।নিজেও ছুটলো সেদিকটায়।
অলিভিয়ার বাবা উতলা হয়ে রইলেন।অলিভিয়ার মা মরার যাওয়ার পর একা হাতে মা ও বাবার দুজনের আদর দিয়ে মানুষ করেছে মেয়েটাকে।এই মেয়েটাই তার বেঁচে থাকার অবলম্বন।মেয়েটার কিছু হলে সেও যে বাঁচবে না।
.
আজ কোচিংয়ের ওরিয়েন্টশন ছিলো।কোনো ক্লাস হয়নি।শুধু শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করেছে।সম্মানিত শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে, দিক নির্দেশনা দিয়ে আয়োজন শেষ করেছে।
ওরিয়েন্টশন প্রোগ্রাম শেষ হলে একে একে বের হয় সকলে।মিথিলা ঈশানির হাত ধরে একসাইডে নিয়ে আসে।তারপর শুরু হয় মেয়েটার নির্যাতন। যা নয় তাই বলে ঈশানিকে বকতে থাকে।ঈশানি বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নিচু করে থাকে।তারপর মিথিলাকে শান্ত করে একে একে সব কিছু বলে।সব শুনে অবাকের শেষ পর্যায়ে পৌঁছায় মিথিলা।রনির উপর রাগ বাড়ে তার।ইচ্ছেমতো গালাগালি করতে থাকে।জড়িয়ে ধরে ঈশানিকে।ঈশানিকে হেসে ফেলে কিন্তু উপরে ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে –
“হয়েছে।আর নাটক করবি না।এতক্ষন বকে এখন এসেছে জড়িয়ে ধরতে ।দূরে থাক,মহিলা।”
মিথিলা ছাড়লো না।সেভাবেই চোখটিপে বললো –
“কেনো রে? জামাই জড়িয়ে ধরলে তো তখন খুব মজা লাগে, তাই না।আমি জড়িয়ে ধরলে কি কাটা লাগে?
এই বল না, কি কি করেছিস বরের সাথে?”
ঈশানি লজ্জায় মূর্ছা গেলো।মিথিলাকে ঝাড়ি দিয়ে এগিয়ে গেলো গাড়ির দিকে। হাত দিয়ে টাটা দিয়ে চলে যায় বাড়ির উদ্দেশ্যে।
.
ঈশানি বাড়ি এসে দেখে আয়রা এসেছে।খুশি হয়ে যায় ঈশানির মন।ছুট্টে যায় আয়রার কাছে। আয়রাকে জড়িয়ে ধরে।তারপর বাচ্চাদের মতো বলে উঠে –
“আরুপু আমি খালামণি হবো।তোমার পুঁচকে তোমার পেটে তাই না।আমি একটি ছুঁয়ে দেখি।”
আয়রা হেসে ফেলে। ঈশানির একহাত নিয়ে নিজের পেটে ধরে বলে –
“এই যে দেখ।”
ঈশানির চোখ চকচক করে উঠলো।সেখানে হাত রেখে যেনো কিছু খুঁজছে।তারপর মন খারাপ করে বললো –
“কিছুই তো বুঝতে পারছি না আপু।”
আয়রা খিলখিল করে হাসলো তারপর বললো –
“এখনো তো ও ভীষন ছোটো।এখনি কিছু বুঝবি না।আর একটু বড় হলে ওর অস্তিত্ব একটু একটু বুঝতে পারবি।”
ঈশানি হাত সরিয়ে নিলো।নানান গল্প জুড়ে দিল আয়রার সাথে। আয়রা ভীষন অবাক হলো ঈশানির চঞ্চলতায়। মিনারা বেগম ঈশানিকে তাড়া দিলেন ফ্রেশ হয়ে খাওয়ার জন্য। ঈশানি ও চলে গেলো উপরে।
আয়রা অভিভূত হয়ে ওর মাকে বললো –
“মা, ঈশু আগের থেকে প্রাণবন্ত হয়েছে তাই না?”
মিনারা বেগম নিজেও খেয়াল করেছে এ ব্যাপারটা।মেয়েটা আগে চুপচাপ থাকতো।ইদানিং দুষ্টু দুষ্টু কথা বলে,একা একা হাসে,সবকাজ তার ভীষন আগ্রহ। মিনারা বেগম প্রত্যুত্তর করলেন –
“হুম।”
আয়রা আবার বললো –
“ভাইয়ার সংস্পর্শে এসে মেয়েটা বাচ্চা হয়েছে।হয়তো ছোটবেলা থেকে ও যেটা পায়নি সেটা ভাইয়ার থেকে পেয়ে ওর কিশোরী হৃদয় ছোটবেলার সকল লুকিয়ে রাখা আবেগ,অনুভূতি,চাঞ্চল্য বের করে দিচ্ছে।ওর লুকিয়ে রাখা সত্তা বেরিয়ে আসছে।”
মিনারা বেগম কিছু বললেন না।শুধু ভাবুক হয়ে রইলেন।
.
সন্ধ্যার একটু পরেই আরহান এসেছে। আরহানকে দেখে ঈশানি রান্নাঘরে চলে যায়। আরহানের পছন্দমতো ব্ল্যাক কফি বানিয়ে উপরে আসে।দেখতে পায় আরহান এখনো গায়ের কাপড় ছাড়েনি।সেভাবেই বসে আছে।ঈশানি গিয়ে চাপের কাপটা এগিয়ে দিলো। আরহান চাইলো একবার ঈশানির দিকে।তারপর হাত থেকে চায়ের কাপ নিয়ে পাশের টেবিলে রেখে ঈশানিকে টেনে পাশে বসালো।তারপর ঈশানির কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো।তারপর জড়ানো কন্ঠে বললো –
“একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দেও।ভালো লাগছে না”
ঈশানির কেমন যেনো লাগলো।মনে হলো লোকটা ঠিক নেই।উদ্বিগ্ন হলো,বিচলিত হলো ঈশানি।অস্থির হাত গলিয়ে দিল আরহানের গভীর চুলে।চুলগুলো মৃদু টান দিয়ে নরম কন্ঠে সুধালো –
“খুব বেশি ক্লান্ত লাগছে আপনার?শরীর খারাপ লাগছে কি?”
আরহান কিছু বললো না।ঈশানির কোমড় পেচিয়ে মুখ গুঁজে দিলো ঈশানির পেটে।ঈশানি ঈষৎ কেঁপে উঠলো।কিন্তু নড়াচড়া করলো না।সেভাবেই নরমহাতে টানতে লাগলো আরহানের সিল্কি,মসৃণ চুল।বেশ কিছুক্ষণ এভাবেই থাকলো আরহান।ঈশানির মনটা কেমন যেনো খচখক করলো। আরহানের জন্য হৃদয়ে কেমন যেনো ব্যথা অনুভব করলো।মনে মনে আওড়ালো -” ঠিক আছেন আপনি? কি হয়েছে আপনার?আমি কি করলে আপনার ভালো লাগবে বলুন না।” কিন্তু মুখে কিছু বললো না। হাত বুলিয়ে দিতে থাকলো।
প্রায় ঘণ্টাখানেক পর উঠে বসে আরহান।ঈশানির গালে হাত দিয়ে কপালে চুমু আঁকে।তারপর চলে যায় ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে।
ঈশানি শুধু ভাবে লোকটা অদ্ভুদ। ভারী অদ্ভুদ।তারপর কফিটা নিয়ে চলে যায় নিচে।ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।গরম করা জরুরি।
~চলবে
{ভুল – ত্রুটি ক্ষমা করবেন। আর একটু গঠনমূলক কমেন্ট করবেন অনুগ্রহ করে।}

