সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_১৭

0
26

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_১৭

Maine jab dekha tha tujhko,
Raat bhi wo yaad hei mujhko!
Taare ginte ginte so gaya….

Dil mera dhadka tha kass ke,
kuch kaha tha tune hass ke!
Main usi pal tera ho gaya….

Aasmano pe jo khuda he,
Usse meri yahi Dua hai!
Chand yeh har roz mein Dekhu,
Tere sath mein….

হায়া’র চোখে চোখ রেখে গানটা গায় আশিয়ান। গানের প্রতিটি শব্দ যেনো আশিয়ানের ঠোঁট ছুঁয়ে বেরিয়ে এসে হায়া’র হৃদয়ে কাঁপন তুলছে। চারপাশ থমকে গেছে। কোলাহল, আলো, মানুষ—সব ফিকে। শুধু আশিয়ানের কণ্ঠটাই যেনো রয়ে গেছে বাস্তবের একমাত্র সুর হয়ে।

হায়া নিঃশ্বাস আটকে গেছে। ওই চোখ দুটো—যে চোখগুলোকে সে একসময় ঘৃণা করতে শিখেছিল, আজ সেগুলোতেই যেনো নিজের হারিয়ে যাওয়া সমস্ত স্বপ্ন খুঁজে পাচ্ছে। আশিয়ান তার চোখ দিয়ে কথা বলছে, মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা প্রতিটি না-বলা কথা যেনো সুর হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে হাওয়ায়।

ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে আশিয়ান। প্রতিটি পদক্ষেপে তার ভেতরের সমস্ত অহং ভেঙে চুরমার হচ্ছে, যেনো সে কোনো ক্ষমা চাওয়া শব্দহীন প্রার্থনার ভেতর দিয়ে হায়া’র কাছে ফিরছে। আর হায়া—সে স্থির, নিঃশ্বাসও যেনো নিতে ভুলে গেছে।

তার বুকের ভেতর কান্না জড়ানো এক রোমন্থন কাজ
করছে—যন্ত্রণায় গড়া ভালোবাসা, বেদনায় ভেজা প্রতীক্ষা।

আশিয়ানের গলায় সুর থাকলেও, চোখে ছিল দহন। তার দৃষ্টি যেনো কেবল একটা প্রশ্ন রাখছে হায়ার চোখে—“তুমি এখনো ভালোবাসো?”

আর হায়া’র চোখ… তার চোখে ছিল এক প্রকার আত্মসমর্পণ। ঠোঁটে কোনো শব্দ নেই, তবুও তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে জবাব ধ্বনিত হচ্ছে—“সবকিছু সত্ত্বেও, হ্যাঁ… আমি ভালোবাসি।”

সেই মুহূর্তে, গান থেমে গেলেও আবেগ থামেনি। সেখানে শুধু তারা দু’জন, আর মাঝখানে ভাঙা ভাঙা একটা হৃদয়, যা আবার জোড়া লাগতে চাইছে… শুধুমাত্র ভালোবাসার এক নিঃশব্দ স্পর্শে।

আশিয়ান একদম কাছে এসে দাঁড়ায়। এতটাই কাছে যে আশিয়ানের চঞ্চল উষ্ণ নিঃশ্বাস হায়া’র মুখে আছড়ে পরছে। আর সেই উষ্ণতা ভরা নিঃশ্বাসের সংস্পর্শে এসে হায়া’র অন্তঃকর্ণ কেঁপে কেঁপে উঠছে। আশিয়ানের ছোট ছোট চোখেজোড়া ছিল এক অদ্ভুত নিরবতা কিন্তু তাতে ভালোবাসার উষ্ণতার উপস্থিতি ঠিকই টের পেয়ে যায় হায়া।

আশিয়ান এক মুহূর্তের জন্য থেমে, তারপর তার হাতটা এগিয়ে আনে হায়া’র কাছে। হায়া বুঝে ওঠার আগেই, তার পুরুষালী উষ্ণ আঙুল দিয়ে হায়া’র ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা আইসক্রিমটায় আলতোভাবে ছুঁয়ে দেয়। ছোঁয়াটায় যেনো কাঁটা দিয়ে বিদ্যুৎ খেলে যায় হায়ার সারা গায়ে।

এর পরের মুহূর্তেই—সে হায়া’কে অবাক করে দিয়ে সেই আঙুলটা নিজের মুখে পুরে নেয়। চোখে তখনো চাহনি গাঁথা হায়ার চোখে।

গলায় গা ছমছমে হাস্কি টোনে বলে—
–দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালাম… কিন্তু আসল স্বাদটা নেওয়ার সৌভাগ্যই হয়ে উঠলো না।

কথাটার মানে বুঝতে হায়া’র বেশি সময় লাগে না। আশিয়ানের কথা শুনে হায়া চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। চোখে লজ্জা, মুখে উত্তাপ, নিঃশ্বাস এলোমেলো। ঠোঁট কামড়ে কোনোভাবে নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করে।

এক মুহূর্ত পর, কিছু না বলে সে আচমকা মুখ ফিরিয়ে নেয়। দু’পা পিছিয়ে গিয়ে পিঠ ঘুরিয়ে নেয় আশিয়ানের দিক থেকে। তার গালে তখন লাল ছায়া—রক্তিম, লজ্জায় গলে যাওয়া চেহারা।

–হায়া…

আশিয়ানের কণ্ঠ তার পেছন থেকে নরম হয়ে ডাকে, কিন্তু হায়া ততক্ষণে এক মনে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছে। উদ্দেশ্য গাড়ি।

দ্রুত পায়ে সরে যাচ্ছে সে, কিন্তু পায়ের গতি আর হৃদয়ের গতি যেনো সমান তাল মিলিয়ে ছুটছে না। তার বুকের ভেতর তখনও আশিয়ানের স্পর্শের স্মৃতি, ঠোঁটে এখনও তার সেই চাহনির তাপ।

একবার পেছনে তাকায়—চোখাচোখি হয়।
আশিয়ান এখনও দাঁড়িয়ে, ঠোঁটে সেই চেনা, শয়তানি-মেশানো মিষ্টি হাসি।

হায়া তার দৃষ্টি এড়িয়ে নিয়ে মুখ নিচু করে ফিসফিস করে বলে—
—পাগল… একদম অসহ্য রকমের পাগল।

কিন্তু তার কণ্ঠে রাগ ছিল না, ছিল কাঁপা কাঁপা প্রেম। হায়া পা চালিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। আশিয়ানও কিছু সময়ের ব্যবধানে গাড়িতে এসে ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দেয়। বেশ কিছুক্ষণ তারা দু’জনই নিরবতা পালন করে। এক পর্যায়ে নিরবতা ভঙ্গের দায়িত্ব হায়া নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে বলে–

—কই যাচ্ছি আমরা? বাসায় ফিরবেন না?

—নাহ। আজ বাসায় যাবো না ভাবছি।

—তাহলে কোথায় যাবেন?

—ভাবছি আজ সারারাত এভাবে ঘুরবো। সকালের দিকে বাসায় ফিরবো। আইডিয়াটা কেমন?

—পুরাই বাকওয়াস। চুপচাপ গাড়ি বাসার দিকে ঘুরান। কেউ জানতে পারলে বকা দিবে দু’জনকেই।

—একদিন না হয় বকা খেলাম।

—আপনার এত শখ হলে আপনি খেয়েন কিন্তু আমায় বাসায় রেখে আসুন। পরে যেখানে ইচ্ছে সেখানে যেয়েন।

—তা তো হচ্ছে না ওয়াইফি। তুমি হচ্ছো আমার অর্ধাঙ্গিনী, আমার রুহ, দেহ দুটোরই অর্ধেকাংশ। তাই আমি যা পাবো, যা খাবো, যা করবো সবকিছুর ফলাফলের ভাগ তোমাকেও অর্ধেক নিতে হবে। এতে তোমার মত থাকুক আর না থাকুক।

—আমি আপনার সবকিছুর অর্ধেক ভাগ নিলেও আমার কষ্টের ভাগ আপনি এক বিন্দুও নিবেন না। কেনো জানেন? কারণ আমায় কষ্টগুলো দেনই আপনি।

তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে হায়া কথাগুলো বলে। আশিয়ান হায়া’র কথায় খানিকটা কষ্ট পায় কিন্তু আপাতত দৃষ্টিতে হায়া’র কথাই সঠিক।

আশিয়ান বলে–

—দেখো….

আশিয়ান কথাটা শেষ করার আগেই তার গাড়িটা কাউকে ধাক্কা দেয়। অর্থাৎ কেউ একজন তার গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট করে। আশিয়ান জোরে ব্রেক কসে। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে।

এমন ঘটনায় হায়া ও আশিয়ান দু’জনই ভয় পেয়ে যায়। তারা তড়িঘড়ি করে গাড়ি থেকে নেমে দেখে ৯/১০ বছরের একটা বাচ্চা মাটিতে লুটিয়ে পরেছে। আশিয়ান আর হায়া বাচ্চাটির মাথার কাছে বলে পরে। আশিয়ান বাচ্চাটির মাথা নিজের কোলে তুলে নিয়ে তার গালে আলতো করে চাপড় মেরে বলে–

—এই বাবু! চোখ খোলো? বেশি ব্যথা পেয়েছো?

হায়া আশিয়ানকে ধমকে বলে–

—আপনি যে চশমা লাগিয়েও দেখতে পান না আজ জানলাম। দেখছেন বাচ্চাটা ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পরেছে তাকে আপনি জিজ্ঞেস করছেন বেশি ব্যথা পেয়েছে নাকি। রাতকানা কোথাকার। কোলে তুলুন বাচ্চাটাকে। হসপিটালে নিতে হবে ওকে।

আশিয়ান হায়া’র কথা মতো বাচ্চাটিকে কোলে তুলে গাড়ির দিকে হাঁটা দিলে তখনই কোথা থেকে যেনো ২/৩ জন লোক এসে তাদের সামনে উপস্থিত হয়।

একজন লোক বলে–

—এই আপনারা বাচ্চাটিকে এভাবে করে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? বাচ্চাটা তো মনে হয় অজ্ঞান।

আশিয়ান বলে–

—আসলে ও হুট করে আমাদের গাড়ির সামনে এসে এক্সিডেন্ট করে ফেলেছে। তাই ওকে নিয়ে হসপিটালে যাচ্ছি।

আরেকজন লোক বলে–

—এক্সিডেন্ট করলো কিভাবে? দেখে চালাচ্ছিলেন না নাকি? এক মিনিট, এক মিনিট আপনারা বাই এনি চান্স বাচ্চা কিডন্যাপার না তো? তা না হলে এত রাতে এমন সুনশান জায়গায় বাচ্চাটা আসবে কোথা থেকে? বাচ্চাটির শরীরেও তো বেশ ক্ষত দেখা যাচ্ছে।

লোকটির পাশ থেকে আরেকজন বলে উঠে–

—ঠিক বলেছিস শরীফ। ওরা হয়ত বাচ্চা চোর। বাচ্চাটাকে এখানে এনেছিলো কোন ক্ষতি করার। যেই আমাদের দেখলো তখনই এসব কাহিনি বলা শুরু করলো। না না এদের কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না আমার।

লোকগুলোর কথা শুনে আশিয়ান আর হায়া বিচলিত হয়ে পরলো। হায়া অস্থির কণ্ঠে বলে–

— আপনারা আমাদের ভুল বুঝছেন। আমরা দু’জন হাসবেন্ড ওয়াইফ। আমরা গাড়ি নিয়ে ঘুরাঘুরি করছিলাম তখনই বাচ্চাটা হুট করে আমাদের গাড়ির সামনে এসে পরে। আমার হাসবেন্ড ইচ্ছে করে ওকে হিট করে নি। আমি বিশিষ্ট শিল্পপতি জাভিয়ান তালুকদারের মেয়ে জেসমিন তালুকদার হায়া। উনি আমার হাসবেন্ড। আপনারা আমাদের ভুল বুঝবেন না।

হায়া’র পরিচয় শুনে লোক তিনটা’র চোক্ষু চরগ গাছ। জাভিয়ানকে চিনে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। বিখ্যাত বিজনেসম্যান হিসেবে তার বেশ খ্যাতি রয়েছে। তারা চোখে চোখে নিজের মধ্যে কি কথা বললো তারাই জানে। তারপর তাদের মধ্যে শরীফ নামের লোকটি বলে–

—আমার তো আপনাদের কথা বিশ্বাস হচ্ছে না। তোমরা কি বলো?

শরীফ বাকি দু’জন কেও জিজ্ঞেস করে। তারাও নেতিবাচক উত্তর দেয়। আশিয়ান বলে–

—আপনারা যদি আমাদের কথা বিশ্বাস না করেন তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। আপনারা চাইলে আমাদের সাথে হসপিটালে যেতে পারেন আমাদের গাড়িতে করে। এমনিতেই অনেকটা সময় চলে গিয়েছে।

আশিয়ানের কথার মাঝেই তার কোলে থাকা বাচ্চাটি নড়েচড়ে উঠে। সেকেন্ডের ব্যবধানে বাচ্চাটি চোখ খুলে তাকায়। একজন লোক বলে–

—ঐ তো বাচ্চাটির জ্ঞান ফিরেছে। এখন ওর থেকেই সবটা জানা যাবে।

আশিয়ান বাচ্চাটিকে নিচে দাঁড় করিয়ে দেয়। শরীফ লোকটি বাচ্চাটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করে–

—বাবু তোমার নাম কি? আর এখানে এত রাতে এলে কি করে? আর তোমায় এত মেরেছে কে? তুমি নিঃসংকোচে আমাদের সবটা বলো। আমরা তোমায় সাহায্য করবো।

লোকটির কথা শেষ হতে না হতেই বাচ্চাটি তাকে ঝাপটে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। বাচ্চাটির এমন কান্না দেখে আশিয়ান-হায়াও ভরকে যায়। আরেকজন লোক এসে বলে–

—ভয় পেও না বাবা। বলো তোমার সাথে কারা কি করেছে? আমরা বলছি তো তোমায় সাহায্য করবো।

অনেক কষ্টে বাচ্চাটির কান্না থামে। তারপর বাচ্চাটি হিঁচকি তুলতে তুলতে বলে–

—আমার নাম রাফি। উনারাই (আশিয়ান আর হায়া’কে দেখিয়ে বলে) আমারে এমনে মারছে। আমি হেগো বাসায় কাম করতাম। একটু ভুল হইলেই আমারে মারতো। পরশু সাহেবের শার্টে ভুল বশত চা পইরা যাওয়ায় আমারে ইস্টোর রুমে আটকায় রাখছে এই দু’দিন। আর অনেক মারছেও। দেখেন আঙ্কেল মাইরা আমারে কি করছে। আজ সন্ধ্যায়ও অনেক মারার পর আমি অজ্ঞান হইয়া গেছিলাম। তারপর হেরা আমারে কি করতে এহানে আনছে আমি জানি না চোখ খুললাম মাত্র।

বাচ্চাটির কথা শুনে আশিয়ান আর হায়া’র আক্কেল গুড়ুম। বলে কি এই বাচ্চা? তারা একে দেখলোই আজকে। হায়া বাচ্চাটির সামনে এসে রাগত স্বরে বলে–

—এই বাবু মিথ্যে বলছো কেন? আমরা তোমায় কবে কাজে রাখলাম আর এভাবে মারলাম। আমরা তোমায় চিনিই না। শুধু শুধু মিথ্যা বলছো।

শরীফ নামের লোকটি হায়া’কে ধমকে বলে–

—এই আফা, বাচ্চাটা রে ধমকান কেন এখন? বাচ্চা মানুষ যা সত্য তাই কইছে। মিয়াভাই (আরেকজন লোককে উদ্দেশ্য করে বলে) এরে আমাগো এলাকায় নিয়া চলেন। তারপর আমরা পুলিশ ডাকমু। যা ফয়সালা করার পুলিশই করবো। জাহিল গুলা কেমনে বাচ্চাটা রে মারছে। দেখেই আমার রক্ত গরম হইয়া যাইতাছে।

আশিয়ান লোকটির কথা শুনে কিছু একটা বুঝতে পারে হয়ত। সে হায়া’কে বাচ্চাটির সামনে থেকে সরিয়ে নিজের কাছে নিয়ে এসে নিজের পেছনে লুকিয়ে নেয়। হায়া কিছু বলতে গেলে আশিয়ান চোখ গরম করে তাঁকে চুপ করিয়ে দেয়।

আশিয়ান লোক গুলোর উদ্দেশ্য শান্ত গলায় বলে–

—আচ্ছা ঠিক আছে, আপনারা ফোন দিবেন তো পুলিশকে। ভালো কথা। আপনারাদের দেওয়া লাগবে না, আমি নিজেই দিচ্ছি।

কথাটা বলে আশিয়ান নিজের প্যান্টের পকেট থেকে ফোনটা বের করে যেই না কল করতে যাবে তখনই একজন লোক আশিয়ানের ফোনটা টান দিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনা দেখে হায়া চমকে গিয়ে আশিয়ানের পিঠের কাছে আরেকটু সেঁটে যায়। সেও কিছু একটা বুঝতে পেরেছে।

আশিয়ান লোকটিকে বলে–

—আমার ফোন নিলেন কেন এমন করে? ফোনটা দেন, আমি কল করছিলাম তো পুলিশকে।

হঠাৎই লোক তিনটা একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে উচ্চস্বরে হেঁসে দেয়। বাচ্চাটিও ততক্ষণে তাদের কাছে চলে গিয়েছে। শরীফ লোকটি বলে–

—এরে তোরা বের হয়ে আয়। বড় পাখি পাইছি আজ। তাগো খাতিরযত্ন করবি না তোরা?

লোকটা নিজের কথা শেষ করতে না করতেই আশপাশের ঝোপঝাড় থেকে হুড়মুড়িয়ে আরো ৭/৮ জন লোক বের হয়ে আসে।তাদের প্রায় প্রত্যেকের হাতে দেশীয় অ*স্ত্র। আশিয়ান আর হায়া এবার স্পষ্ট বুঝতে পারে তারা ডাকাতদের কবলে পরেছে।

সবাই শরীফ নামের লোকটির পেছনে এসে দাঁড়ায়। একটা লোক শরীফের দিকে একটা রাম দা এগিয়ে দেয়। শরীফ সেটা নিজের হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে বলে–

—আমরা থাকতে আপনাগো এত কষ্ট করতে দেই কি করে? আপনারা ফোন তো করবেন কিন্তু পুলিশ না নিজের পরিবার রে। আর কেন করবেন আশা করি বুঝতে পারতাছেন। এহন আমাগো লগে চলেন। আমাগো এলাকায় আইছেন একটু খাতিরযত্ন না নিয়ে ছাড়ি কেমনে। (হঠাৎই মুখটা ইস্পাত কঠিন করে বলে) কোন চালাকি করবেন না, তাইলে ঘাড় থেকে কল্লা আলাদা করতে বেশি সময় নিমু না কিন্তু আমি।

হায়া আগে কখনো এমন সিচুয়েশনে পরে নি তাই সে একটু বেশিই ভয় পেয়ে গিয়েছে। সে আশিয়ানকে পেছন থেকে খামচে ধরে থরথরিয়ে কাঁপতে থাকে। আশিয়ান তার এমন কাঁপুনি দেখে বুঝতে পারে তার প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে। সে হায়া’কে পেছন থেকে সামনে এনে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে একহাত দিয়ে। তারপর হায়া’র চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকে। শরীফকে উদ্দেশ্য করে বলে–

—আমরা কোন চালাকি করবো না। আপনারা যেই দাবী করবেন তাই আমরা পূরণ করবো। আপনি চাইলে আমার ফোন আর আমার গাড়ি রাখতে পারেন। দুটো মোট দাম বারো লাখ টাকা। কিন্তু প্লিজ আপনারা অস্ত্র গুলো সরান। এসব দেখে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পরছে।

পাশ থেকে আগের একটা লোক বলে–

—গাড়ি ফোন তো আমরা এমনিতেই নিমু। কিন্তু তার লগে ঐ ফুলটুসি রেও আমাগো দিতে হইবো যে মিয়াভাই।

লোকটার কথা শুনে বাকি সকলে বিশ্রী ভাবে উচ্চস্বরে হাসতে শুরু করে দেয়। আশিয়ান লোকটির কথা শুনে পারে না হায়া’কে নিজের বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে নেয়। মনে মনে সে একটা কথাই বলে–

—আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করো মাবুদ।

শব্দসংখ্যা~১৮৪৮
~চলবে?

[ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 🤍]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here