#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_২১
মেহরিমা বসে আছে হানিয়া আর স্পর্শের মাঝে। হানিয়া তাকে আগে থেকেই চিনলেও, স্পর্শের সঙ্গে এ আজই প্রথম দেখা। অথচ দেখলে কে বলবে—এ যেন বহুদিনের চেনা আত্মারা আজ কেবল নতুন পরিচয়ে ধরা দিয়েছে। কথায় কথায় এমন ভাব জমে উঠেছে যে, মনে হচ্ছে তারা তিনজন যেন দুধে মেশানো পাকা আম—স্বাদে-ঘ্রাণে একাকার, আলাদা করা দায়।
এই চেনা-অচেনার মিষ্টি মুহূর্তের বাইরে এক কোণে একা বসে আছে জাহান। সিঙ্গেল সোফার কোণায় সে যেন এক গোপন দর্শক, গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে প্রিয় তিন নারীর দিকে—তার মা, তার ফুফু, আর তার ভালোবাসার মানুষ, মেহরিমা।
তিন নারীর মুখর হাসিতে মুখর হয়ে উঠেছে ঘরটা। তাদের আলাপ চলেছে গৃহস্থালি থেকে শুরু করে জীবনের টুকরো গল্পে—একটা ঘর সাজানোর স্বপ্ন, পুরোনো দিনের কোনো রান্নার স্মৃতি, কিংবা এক কাপ চায়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করা কোনো মনখারাপ।
তাদের এমন একচেটিয়া আলাপচারিতায় জাহানের মনে কোনো বিরক্তির বিন্দুমাত্র রেশ নেই। বরং বুকের ভেতর এক ধরনের নিঃশব্দ প্রশান্তি খেলা করছে। তার চোখের সামনে বসে আছে জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষগুলো—একসাথে, হাসিমুখে, কথার সাগরে ভেসে। এই দৃশ্য দেখে তার মনে হয়, যেন সংসারের প্রথম রঙ তুলির আঁচড় এঁকে যাওয়া শুরু হয়েছে আজ—ভালোবাসা, গ্রহণযোগ্যতা আর একধরনের নিখুঁত ছন্দে।
তার ভালোবাসার নারী মেহরিমা আজ তার মায়ের আর ফুফুর সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে, যেন সে তাদের পরিবারের এক পরিচিত ছায়া, বহুদিনের চেনা আত্মা। জাহানের বুকের গহীনে কোনো শব্দ নেই, শুধু গভীর সন্তুষ্টির ঢেউ। সে কোনো কথা বলে না, কেবল দেখেই যায়—কারণ কখনো কখনো দেখা আর অনুভব করাই সবচেয়ে গভীর ভাষা হয়ে ওঠে।
জাহান তার পরিবারের মানুষদের হৃদয়ের গভীরতা চেনে। জানে, ভালোবাসা আর গ্রহণযোগ্যতায় তারা যেন এক অবিনশ্বর বৃক্ষ—যার ছায়ায় দাঁড়ালে কোনো সম্পর্ককেই তারা প্রত্যাখ্যান করে না, যদি তাতে থাকে সত্য, শ্রদ্ধা আর নিঃস্বার্থতা। মেহরিমা আর তার সম্পর্কের কথা জানলে হয়তো প্রথমে কপট বিস্ময়ের ঢেউ উঠবে তাদের চোখে, তারপরই আসবে এক ধমক—এতদিন লুকিয়ে রাখার অপরাধে। কিন্তু আপত্তি? সে আশঙ্কা কোনোদিনই ছিল না জাহানের মনে। তার পরিবারের উপর রয়েছে এক নিঃশর্ত আস্থা—যার ভিত গড়া রক্তে, ভালোবাসায়, আদরে।
সে জানে, সেই দিন আসবেই—যেদিন আর কোনো লুকোচুরি থাকবে না, কোনো দ্বিধা থাকবে না, ভয় তো দূরের কথা, তার ছায়াটুকুও থাকবে না। সব অভিমান, সকল নীরবতা ভেদ করে সে এগিয়ে যাবে মেহরিমার দিকে—চোখে সাহসের দীপ্তি, কণ্ঠে প্রতিজ্ঞার দৃঢ়তা।
সে দাঁড় করাবে মেয়েটিকে সকলের সামনে—সেই শান্ত, নীরব, অথচ গভীর এক সৌন্দর্যে মোড়া নারী, যে তার হৃদয়ের প্রতিটি ধ্বনি জানে।
তখন, কোনো আড়াল নয়, কোনো সংকোচ নয়—সে উচ্চারণ করবে তিনটি শব্দ, না তিনটি শপথ—
“আমি কবুল করি।”
প্রথমবার, তার চোখে চোখ রেখে। দ্বিতীয়বার, তার কাঁপতে থাকা হাত ধরেই। তৃতীয়বার, তার সমস্ত ভাঙা-গড়া অতীতকে আঁকড়ে ধরে, প্রতিজ্ঞা করে চিরদিনের জন্য আপন করে নেওয়ার।
জাহান জানে, মেহরিমার অতীত শূন্যতায় ভরা। অভিমান, অপমান, একাকিত্ব—সব মিলিয়ে এই মেয়েটা বহন করে বেড়িয়েছে নিজের ভিতর এক শীতল শোকের পাহাড়। কিন্তু জাহান ঠিক করেছে, সে সেই পাহাড়কে পিষে ফেলবে ভালোবাসার রোদের নিচে। সে তাকে ছায়া দেবে, আশ্বাস দেবে, ভরসা দেবে—আর দেবে এমন এক ভালোবাসা, যা অপ্রাপ্তির প্রতিটি ছায়াকে মুছে দেবে চিরতরে।
জন্ম নয়, জন্মান্তরের জন্য সে মেহরিমাকে নিজের করে নিতে চায়। শুধু ভালোবেসে নয়, এক আধ্যাত্মিক বন্ধনে বাঁধা পড়ে, একান্ত নিজের করে।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই তার গম্ভীর মুখাবয়বের সামান্য প্রশান্তির ছাপ ফুটে ওঠে। মেহরিমা কথা বলার মাঝে মধ্যেই আঁড়চোখে তার প্রণয় পুরুষ টির দিকে তাকাচ্ছে। চোরা চোখে দেখে নিচ্ছে তার মনে বাস করা একমাত্র পুরুষ টিকে।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও সে চোরা চোখে তাকিয়েছিলো জাহানের দিকে। তখনই জাহানকে একা একা হাসতে দেখে সে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। সে ভ্রু নাচিয়ে ইশারায় জাহানকে জিজ্ঞেস করে সে কেন হাসছে? জাহান মাথা নাড়িয়ে বুঝায় এমনিতেই হাসছে। মেহরিমা তার উত্তর পেয়ে আবারও ব্যস্ত হয়ে পড়ে স্পর্শ আর হানিয়া’র সাথে কথা বলায়।
তাদের কথা বলার মাঝেই ডোরবেল বেজে উঠে। জাহান নিজে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। দেখতে পায় তার বাবা, মামু আর কয়েকজন স্পেশাল গেস্ট এসেছে। জাহানের মুখের স্মিত হাসি বেশ চওড়া হয় গেস্টদের দেখে।
জাহান তাদের কাছে এগিয়ে এসে হাসিমুখে বলে–
—ভালো আঙ্কেল, কেমন আছো তোমরা?
কথাটা বলতে বলতে সে জড়িয়ে ধরে তার পিতা সমতুল্য লোকটাকে। মাঝ বয়সী সেই লোকটিও তাকে সন্তান স্নেহে জড়িয়ে ধরে। জাহানের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলে–
—আলহামদুলিল্লাহ বেটা ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?
—আলহামদুলিল্লাহ ভালো।।
পাশ থেকে ভদ্রলোকটির স্ত্রী কপট অভিমান নিয়ে বলে উঠে–
—আমায় তো কেউ মনেই করে না। সবাই ভুলে গিয়েছে আমায়।
জাহান লোকটিকে ছেড়ে পাশে দাড়িয়ে থাকা ভদ্রমহিলাকে একপাশ দিয়ে জড়িয়ে ধরে হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলে–
—তোমায় কি করে ভুলতে পারি মিষ্টি আন্টি? তুমি তো আমার ফেভারিট।
মহিলাটিও তাকে জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় জিজ্ঞেস করে–
—কেমন আছে আমার বাবাটা? দিন দিন তো মেয়েদের মন চুরি করার মতো সুন্দর হয়ে যাচ্ছে। ভাইয়া (জাভিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলে) ছেলেকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেন, নাহলে কবে জানি ছেলে আপনার চুরি হয়ে যায়।
জাহান মহিলাটির কথা শুনে লজ্জা পেয়ে যায় আট বাদ বাকি উপস্থিত সবাই হেঁসে দেয়। জাভিয়ান মুখে স্মিত হাসি নিয়ে বলে–
—দরজার সামনে দাড়িয়েই সব কথা বলে ফেলবে নাকি? ছেলের বিয়েও খেতে চাও আবার আলোচনায়ও সামিল হচ্ছো না ব্যাপারটা কেমন হয়ে গেলো না। চলো ভেতরে চলো।
এরই মধ্যে হানিয়া বলতে বলতে উপস্থিত হয়–
—কে এসেছে রে জাহান?
জাহান হাসিমুখে জবাব দেয়–
—ভালো আঙ্কেল আর মিষ্টি আন্টি এসেছে আম্মু।
মুহূর্তেই সকলে ব্যস্ত হয়ে পড়ে জাহানের ভালো আঙ্কেল ও মিষ্টি আন্টি ওরফে আদিয়াত ও আফরা’কে নিয়ে। হানিয়া তাদের কাছে এসে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করে–
—স্যার কেমন আছেন?
—এসব কি হানিয়া, তুমি আমায় এভাবে স্যার ডেকে বয়স্কদের তালিকায় ফেলে দিতে পারো না। আই এম জাস্ট ফিফটি ফাইভ ইয়ারস ওল্ড। এটা কোন বয়স হলো?বলো তো বাচ্চারা।
আদিয়াত রসিকতা করে কথাগুলো বলে হানিয়া ও বাকি বাচ্চাদের। বাচ্চারা বলতে জাহান, আফিফ আর আদিবা। তারা তিনজনই আদিয়াতের কথায় হেঁসে বলে–
—নো। উই হ্যাভ নেভার সিন এন ওল্ড ম্যান এস হ্যান্ডসাম এস ইউ বিফোর।
আদিয়াত তাদের কথা শুনে বলে –
—দেখলে বাচ্চারাও জানে ফিফটি ফাইভ ইয়ারস কোন বয়সই না। ইউ নো হোয়াইট, এইজ ইজ জাস্ট এ নম্বর। মনের বয়সই বড় বয়স।
সকলে তার কথা শুনে হাহা করে হেঁসে দেয়। সকলে গিয়ে সোফায় বসে। আবরার আর জাভিয়ান ফ্রেশ হতে চলে যায়। জাহান, আদিয়াত আর আফিফ এক সোফায় বসে আর হানিয়া, স্পর্শ আর আফরা আরেক সোফায় বসে গল্প শুরু করে দেয়। আদিবা তার সমবয়সী মেহরিমার সাথে গিয়ে কথা বলা শুরু করে।
টুকটাক কথা বলে স্পর্শ আর হানিয়া আফরা’কে আদিবা ও মেহরিমার সাথে কথা বলতে বলে উঠে চলে যায় কিচেনের দিকে। হোক আদিয়াতরা তাদের আত্মার আত্নীয় তাই বলে কি আতিথেয়তায় কার্পন্য করবে? উহু, একদমই না।
এরই মধ্যে হায়া’কে ধরে আস্তে আস্তে নিচে নেমে আসে আশিয়ান। আদিয়াতরা মূলত হায়া আর আশিয়ানের সাথেই দেখা করতে এসেছে। কালকে তাদের কিডন্যাপিংয়ের ঘটনার জন্য। হায়া তাদেরকে পেয়ে প্রচন্ড খুশি হয়। সে আশিয়ানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মহিলা পার্টির মধ্যে গিয়ে বসে পড়ে। আশিয়ান বেচারা বউয়ের অনুপস্থিতিতে জাহানদের কাছে চলে যায়।
আফরা মেহরিমার থুতনি ধরে উঁচু করে হায়া’কে বলে–
—এই শান্ত পরীটা কে রে হায়া? তখন থেকে দেখছি শুধু আমাদের কথা শুনছেই নিজে কিছু বলছে না।
হায়া বলে–
—আরে মিষ্টি আন্টি ও আমার বেস্টফ্রেন্ড মেহরিমা। আর ওকে দেখে যতটা শান্তশিষ্ট মনে হচ্ছে ও কিন্তু ততটা শান্ত নয়। আমার সাথে কথা বলা শুরু করলে মাথাটা খেয়ে নেয় একদম।
হায়া’র কথা শুনে মেহরিমা একটু লজ্জা পায়। সে রাগী চোখে হায়া’কে শাসায় এসব বলার জন্য। হায়া দুষ্টুমি করে জোরে জোরে বলে–
—অ্যাঁই তুই আমায় চোখ করে দিলেই কি আমি সত্যি কথা বলবো না ভেবেছিস? সেই আশায় গুড়া বালি। জান যায় যাক কিন্তু সত্যের পথে অটল থাকবো আমি।
পাশ দিয়ে আদিবা আবার বলে–
—আসছে রে আমার সত্যবাদী। তুই যে কতবড় সত্যবাদী সেটা আমার থেকে ভালো করে কেউ জানে না। মুখ খুলাস না হায়া, তাহলে হাঁটে কিন্তু হাড়ি একটাও আস্ত রাখবো না।
হায়া ঢং করে বলে–
—আমার সাথে এত বড় দুই নাম্বারি করবি তুই আদু? যাহ তোর সাথে কথা নাই।
এরই মধ্যে হানিয়া ও স্পর্শ সকলের জন্য নাস্তা নিয়ে আসে। মেহরিমা ভাবে এটা তাদের ফ্যামিলি টাইম আর তার না থাকাই উত্তম এসময়। তাই সে হায়া’র কানে কানে বলে–
—দোস্ত আমি আজ যাই হ্যা। আরেকদিন আসবো নে।
হায়া ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে–
—কেন কি হলো তোর আবার? তোর টিউশনিতে না আজ অফ ডে? তাহলে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবি কেন?
মেহরিমা আমতাআমতা করে বলে–
—না মানে….
—কি না মানে ইয়ে উয়ু করছিস? স্পষ্ট করে বল।
—আমার মনে হয় আমার এখন চলে যাওয়া উচিত।
—আর সেটা কেন মনে হলো আপনার একটু বলে ধন্য করেন আমায়?
—দেখ দোস্ত রাগ করিস না। এটা তোদের ফ্যামিলি টাইম আর আমার এখন না থাকাই উচিত বলে আমি মনে করছি।
হায়া মেহরিমার কথা শুনে শান্ত চোখে তার দিকে তাকায়। তারপর বলে–
—আচ্ছা চলে যা তুই।
—দোস্ত রাগ করিস না, আমার কথাটা বুঝার চেষ্টা কর।
হায়া আর একবারও মেহরিমার দিকে তাকায় না আর না তার কোন কথা শুনে।
অন্যদিকে জাহান অনেকক্ষণ ধরেই তার বোন আর প্রেয়সীর ফিসফিসানি দেখছে। সে খেয়াল করেছে মেহরিমা কিছু একটা বলার পর হায়া কেমন গম্ভীর মুখ করে বসে আছে। না মেহরিমার দিকে তাকাচ্ছে আর না-ই বা তার কথার কোন জবাব দিচ্ছে। এর মানে হায়া কোন কারণে রেগে আছে মেহরিমার উপর। কিন্তু কি বিষয়ে রেগে গেলো হঠাৎই?
মেহরিমা হায়া’কে কয়েকবার বলার পরও হায়া তেমন একটা রেসপন্স করে না। সে একটা হতাশা মিশ্রিত শ্বাস ফেলে বসা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। তারপর হানিয়া’র উদ্দেশ্য বলে–
—আন্টি আজ তাহলে আমি আসি।
হানিয়া তড়িঘড়ি করে বলে–
—কেন রে মা? এই তো আসলি, এখনি চলে যাবি? আজকের ডিনার টা আমাদের সাথে করে যা।
মেহরিমা কিছু বলার আগেই হায়া গা-ছাড়া ভাব নিয়ে বলে–
—আমাদের আপন ভাবলে তো এত তাড়াতাড়ি যেতে চাইতো? ও ভাবছে আমাদের ফ্যামিলি টাইমে সে বাহিরের মানুষ হয়ে পরিবেশটাকে অস্বস্তিকর বানিয়ে ফেলছে। যেতে দাও আম্মু ওকে।
সকলে হায়া’র কথা শুনে মেহরিমার দিকে তাকায়। আর মেহরিমা কেমন চোরের মতো মুখ করে রেখেছে। জাহান বুঝতে পারে কেন তার বোন রেগে গিয়েছে। মেহরিমার এমন ধারণা শুনে জাহানও রেগে যায়। সে একটা ফোন করার বাহানায় সেখান থেকে চলে যায় রাগী মুখ করে। মেহরিমা আঁড়চোখে তার যাওয়া দেখে। মনটা খারাপ হয়ে যায় তার জাহানের রাগ দেখে।
হানিয়া মেহরিমার কাছে এসে তাকে একপাশ দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলে–
—আমাদের তোর আপন মনে হয় না? আমরা কিন্তু তোকে আর হায়া’কে একই চোখে দেখি। কিন্তু তোর আজকের কথায় কষ্ট পেলাম ভীষণ ।
মেহরিমা তড়িঘড়ি করে ছলছল চোখে বলে–
—আন্টি তুমি প্লিজ কষ্ট পেয়ো না। আমি তো জানি তোমরা আমায় কতটা আপন ভাবো আমিও তোমাদের নিজের কাছের মানুষ ভাবি।
—তাহলে আজকের ডিনার টা আমাদের সাথে করে গিয়ে প্রমান কর তুই আমাদের আপন ভাবিস। কি থাকবি তো?
মেহরিমা সম্মতিসূচক মাথা নাড়ায়। হানিয়া তার কপালে একটা স্নেহের পরশ দিয়ে নিজের কাজে চলে যায়।
মেহরিমা হায়া’র পাশে বসে তার কানের কাছে ঝুঁকে এসে বলে–
—দোস্ত তোর ভাই তো রেগে গিয়েছে। এখন তাকে শান্ত করাবো কি করে?
—সেটা তোর টেনশেন। ছাগলের মতো চিন্তা ভাবনা করার সময় মনে ছিলো না তোমার ‘উনি’ রেগে যেতে পারে? এখন আমায় বলে কোন লাভ নেই।
মেহরিমা অসহায়ের মতো হায়া’র দিকে তাকিয়ে থাকে।
______________________
মেহরিমা মাগরিবের নামাজ পড়ে মাত্রই রুম থেকে বের হয়েছিলো। উদ্দেশ্য কিচেনে হানিয়া ও স্পর্শ কাছে যাওয়া। তখনই কলিংবেল বেজে উঠে। স্পর্শ তড়িঘড়ি করে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে দরজা খুলতে যাবে তখন মেহরিমা তাঁকে আটকে দেয়। নম্র গলায় বলে–
—আন্টি আমি দেখছি। আপনি একটু বসুন। তখন থেকে শুধু দেখছি ছুটাছুটিই করছেন।
স্পর্শকে ডাইনিং টেবিলে বসাতে বসাতে কথাটা বলে মেহরিমা। তারপর এক গ্লাস পানি স্পর্শর দিলে এগিয়ে দিয়ে সে চলে যায় দরজা খুলতে। দরজা খুলে কিছু অপরিচিত মানুষদের দেখতে পায়। তাদের মধ্যে একজন মানুষকে দেখে সে একটু ভয় ও অস্বস্তিতে পড়ে যায়।
শব্দসংখ্যা~১৭৫৪
~চলবে?
[কত্তোোোো বড় করে দিয়েছি দেখলেন😒😏 একটু তো বেশি রেসপন্স করতেই পারেন।🥲
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

