#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_২৩
[রোমান্টিক পর্ব এলার্ট⚠️]
বারান্দার নিঃশব্দ এক কোণে চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত দুইটি মন, একে অপরের স্পর্শে খুঁজে পায় নিঃশেষ প্রশান্তি। তারা বসে আছে জড়িয়ে—ভালোবাসার চুপচাপ এক আলিঙ্গনে, যেখানে শব্দের প্রয়োজন হয় না, চোখের একটুখানি চাহনিই সব বলে দেয়।
চারপাশে নিস্তব্ধতা, মাঝে মাঝে মৃদু হাওয়ার ছোঁয়া, আর দূর থেকে ভেসে আসা রাতজাগা পাখির ডাক—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা হয়ে ওঠে কবিতার মতো। এ যেন পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল পেরিয়ে এসে গড়ে ওঠা এক ক্ষণিকের স্বর্গ।
এমন ভালোবাসার আলিঙ্গনে নিজেকে সুখী ভাবতে আর কিছুর প্রয়োজন হয় কি? হয় না। ভালোবাসা যখন নিঃশব্দে কথা বলে, তখন বাকি সব কিছু মুছে যায়।
হায়া একটু নড়েচড়ে আবার ঘাপটি মেরে বসে থাকে আশিয়ানের বুকে মুখ গুঁজে। একটু আগে যেই অস্থিরতা কাজ করছিলো তার মধ্যে এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই। হায়া আশিয়ানের বুকে মাথা রেখেই তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে এক ধ্যাণে। পুরোনো ভালোবাসাটা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। মন চাইছে একটু অবাধ্য করতে মস্তিষ্কের। একটু ভালোবাসা দিয়ে অনেকটা ভালোবাসা পেতে মন চাইছে বেহায়া মনটার।
আশিয়ান চাঁদের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আনে। চোখ রাখে নিজের বুকের উপর বসে থাকা মেয়েটার দিকে। তার পুতুপুতু বউটা ঠিক তার দিকেই তাকিয়ে আছে। একটুও লজ্জা নেই, চোখে শুধু একরাশ গভীরতা।
তাকে দেখে আশিয়ানের ঠোঁটের কোণে গোপন একটা হাসি খেলে যায়। তারপর ধীরে হাত বাড়িয়ে হায়ার কপালের উপর এলোমেলো হয়ে থাকা চুলগুলো আলতোভাবে সরিয়ে নেয়, কানের পাশে গুঁজে দেয় যত্নের পরশে। গলায় নেমে আসে একরাশ কোমলতা প্রশ্ন—
—কি দেখছো?
হায়া থেমে যায় একটু। চোখে এক ঝাপসা মায়া, মুখে ভাসে তা। ধীরে বলে ফেলা একটা সরল
স্বীকারোক্তি—
—আপনাকে।
এক মুহূর্তের জন্য আশিয়ান থমকে যায়। আশিয়ানের টানটান কপালে এক চিলতে ভাঁজ পড়ে। আবার প্রশ্ন করে, এবার যেন একটু নিচু স্বরে, একটু বেশি সজ্ঞান হয়ে—
—আমায় এত কি দেখো?
হায়া এবার আর জবাব দেয় না। শুধু তার চোখে চোখ রেখে বসে থাকে, যেন সেই দৃষ্টিতেই আছে হাজারটা অপ্রকাশিত কথা।
সময়ের চাকা এগোয়, কিন্তু ওদের মাঝখানে যেন একটা মুহূর্ত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।
অল্প পর হায়া তার বুক থেকে একটু সরে আসে, তবে আশিয়ানের কোল ছাড়ে না। সে তখন হাত বাড়িয়ে আলতোভাবে ছুঁয়ে দেয় তার কপালের ব্যান্ডেজ। খুব সাবধানে, মমতার পরশে হাত বুলিয়ে দেয় সেখানটায়—মনে হয়, ব্যথাটা যদি নিজের স্পর্শে টেনে নিতে পারতো!
তার চোখে তখন একরাশ কষ্ট। চাঁদের আলো সেখানে ধরা পড়ে হালকা জলচিহ্নে। না বলা, অথচ খুব স্পষ্ট ভালোবাসা ভেসে ওঠে হায়ার চোখে।
হায়া নিজের হাত আশিয়ানের কপালে রেখেই জিজ্ঞেস করে–
—ব্যথা করে?
আশিয়ান এতক্ষণ হায়া’র চোখের দিকেই তাকিয়ে ছিলো। সে স্পষ্ট দেখতে পেয়েছে হায়া’র চোখে তার জন্য হওয়ার কষ্টের অশ্রু। মনে মনে ভাবে–
—একটু পরীক্ষা করা যাক।
আশিয়ান বলে–
—হুম। চিনচিনিয়ে ব্যথা করে উঠে মাঝে মধ্যেই আবার মাঝে মধ্যে একটু বেশিই ব্যথা করে।
কথাগুলো শুনে হায়া’র বুকের পাঁজর ভেঙে আসতে চায় কষ্টে। তাকে রক্ষা করার জন্য লোকটা কতটা ব্যথার পেয়েছে। হায়া নিজের হাতটা আশিয়ানের কপাল থেকে সরিয়ে আনে।
চোখে অশ্রু জমেছে খানিক আগেই এখন গড়িয়ে পড়তে চাইছে। হায়া তার দৃষ্টি নিচু করে নেয়। সে তার অশ্রু কাউকে দেখাতে নারাজ, বিশেষ করে আশিয়ানকে তো নই-ই। ভাঙা ভাঙা গলায় বলে–
—রুমে চলুন। মেডিসিন নিয়ে ঘুমাবেন। সকালে ডাক্তারের কাছে গিয়ে তাড়াতাড়ি ঠিক হয় এমন ঔষধ নিয়ে আসবো নে।
আশিয়ান তার প্রেয়সীর সিক্ত গলার ঠিকই বুঝতে পারে। সেই সাথে তার নাক টানার হালকা আওয়াজে সহজেই বুঝে যায় অশ্রু জমেছে তার বউয়ের নয়নের কোলে। মনে মনে প্রসন্নের হাসি দেয়।
আশিয়ান বলে–
—একটা মেডিসিন আছে যেটায় নিলে এখনি ব্যথা কমে যাবে।
হায়া চট করে তার দৃষ্টি আশিয়ানের দিকে স্থাপন করে। হৃদয় ব্যাকুল হয়ে আছে তার আশিয়ানের ব্যথা কমানোর জন্য। সে খানিকটা অস্থির ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করে–
—কি মেডিসিন? আপনি সেটা নিয়েছেন?
—নাহ। এখনো নেই নি।
—কেন? সেটা কি বাসায় নেই? কাউকে দিয়ে আনিয়ে দিবো?
—বাসাতেই আছে। আর তোমার কাছে আছে।
—আমার কাছে?
প্রচন্ড বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করে হায়া। আশিয়ান বলে–
—হ্যা তোমার কাছে।
—কিন্তু আমার কাছে তো এমন কোন মেডিসিন নেই।
অসহায়ের মতো কথাটা বলে হায়া। আশিয়ান তার মুখভঙ্গি দেখে হেঁসে দেয়। ঠোঁটের কোণে ভালোলাগার সেই হাসিটুকু বজায় রেখে হঠাৎই হায়া’র কোমড় দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে তাকে নিজের আরো কাছে নিয়ে আসে। হায়া’র হাত দু’টো স্থান নেই আশিয়ানের চওড়া বুকে।
আশিয়ান হায়া’র কানের কাছে নিজের মুখ নিয়ে এসে খানিকটা ফিসফিসিয়ে বলে–
—প্রেয়সীদের ওষ্ঠের ভালোবাসাময় স্পর্শ, প্রেমিক পুরুষদের বড় মেডিসিন ম্যাম।
নিমিষেই হায়া’র চোখ বড়বড় হয়ে যায়। তার বুঝতে বাকি থাকে না আশিয়ান কি মিন করেছে। সে ছটফটিয়ে সরে আসতে চাইলে অনুভব করে তার কোমড়ে থাকা আশিয়ানের হাতের শক্ত বাঁধন। হায়া আবারও শুনত পায়, তার পাগল বর বলছে–
—দেও না একটা ভালোবাসার স্পর্শ। ভীষণ যন্ত্রণা করছে বুকটায় একটু আদর পাওয়ার জন্য।
আশিয়ানের কণ্ঠে মাত্রাতিরিক্ত মায়া, অনুনয় ছিলো। হায়া চাইলেও তাকে ফিরিয়ে দিতে পারছে না। তার প্রেমিকা সত্ত্বা তাকে ফিরিয়ে দিতে দিচ্ছে না। হায়া কিছুটা সময় নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে। তারপর এক হাত দিয়ে আশিয়ানের কাঁধ চেপে ধরে ভালো করে বসে।
একদমই নিচু স্বরে বলে–
—একটু ঝুঁকুন।
আশিয়ানের ঠোটের কোণের হাসি আরো চওড়া হয়। ভালো লাগায় বুকটা ভরে উঠে। সে হায়া’র কথামতো নিজের মাথাটা আরেকটু নিচু করে আনে। দোনামোনা করতে করতে হায়া একসময় দিয়েই দেয় তার ভালোবাসার পুরুষ টিকে নিজের ওষ্ঠের স্পর্শ। প্রথমবার স্পর্শ করার পর হায়া’র কি যে হলো, সে নিজেই একের পর এক ওষ্ঠস্পর্শ দিতে থাকে আশিয়ানের কপালের সেই জায়গা টায়।
আশিয়ান চুপ করে সাদরে তা গ্রহণ করতে থাকে। একসময় হায়া নিজেই থেমে যায়। তার অন্তর আত্মা প্রচন্ড ভাবে কাঁপছে সেই সাথে তার শরীরও। আশিয়ান তার এই কাঁপুনি ঠিকই টের পায়। হায়া আশিয়ানের কপাল থেকে নিজের মুখ সরিয়ে এনে জিজ্ঞেস করে–
—ব্যথা কমেছে?
—একদম গায়েব হয়ে গিয়েছে।
দাঁত কেলিয়ে জবাব দেয় আশিয়ান। হায়া আশিয়ানের থেকে দূরত্ব বাড়াতে চাইলে আশিয়ান তা করতে দেয় না। আগের মতো শক্ত করে ধরে রাখে হায়া’র কোমড়। হায়া বলে–
—এবার তো ছাড়ুন। রুমে চলুন, ঘুমাবেন না?
—ব্যথা ভালোভাবে না সারলে ঘুম আসবে না।
হায়া অবাক হয়ে যায় তার কথা শুনে। মাত্র না বললো গায়েব হয়ে গিয়েছে? তাহলে মিনিট না পেরোতেই আবার বলছে ব্যথা না সারলে ঘুমাতে পারবে না। মানে কি ভাই?
হায়া ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে–
—মাত্র না বললেন একদম গায়েব হয়ে গিয়েছে? মিনিটের ব্যবধানে আবার ব্যথা শুরু হয়ে গেলো?
—মাথার ব্যথা তো চলে গিয়েছে।
—তাহলে আর কোথায় ব্যথা করছে?
—এখান টায়।
হায়া’র কোমড় থেকে এক হাত সরিয়ে এনে নিজের ঠোঁটের আহত জায়গাটায় ইশারা করে আশিয়ান। হায়া’র এবার চোখ কোটর থেকে বের হয়ে আসতে চায়। এখন কি তাকে এখানেও আদর দিতে হবে? কস্মিনকালেও সে এটা করতে পারবে না।
হায়া ছটফটিয়ে নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলে–
—থাকুক ব্যথা। ভেসলিন লাগিয়ে দিচ্ছি সেরে যাবে। ছাড়ুন আমায় আর রুমে চলুন। ঘুম পাচ্ছে আমার।
—প্লিজ একটা।
—একটা তো নাই, একটা অর্ধেকও না।
—প্লিইইইইইজ বউ…
—পারবো না।
আশিয়ান এবার হায়া’কে ছেড়ে দেয়। মুখটা তার নিমিষেই মলিন ও গম্ভীর হয়ে যায়। গমগমে সুরে বলে–
—যাও তুমি রুমে। গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আমার কিছু কাজ আছে। আমি পরে ঘুমাবো।
হায়া কপালে কয়েকটা ভাজ পড়ে।মাত্রই তো কত সুন্দর করে কথা বলছিলো, সেকেন্ডের ব্যবধানে কি হলো আবার?
হায়া জিজ্ঞেস করে–
—এত রাতে কি মহান কাজটা আছে শুনি?
—আছে কিছু কাজ। সব কি তোমায় বলতে হবে? উঠো আমার উপর থেকে আর রুমে যাও।
রুক্ষ স্বরে কথাগুলো বলে আশিয়ান। কথা শেষ করে অন্যদিকে মুখ করে রাখে। একটা আদর দিলে কি এমন হতো? সে কি দেয় না হায়া’কে? তখন তো ঠিকই চুপ করে সেটা নেয়। তাহলে আজ যখন সে চাইলো তখন কেমন মুখের উপর মানা করে দিলো। কষ্ট পেয়েছে সে হায়া’র এহেন কাজে।
হায়া কোমড়ে একহাত রেখে আশিয়ানের দিকে তাকিয়ে তার হাবভাব বুঝার চেষ্টা করছে। হায়া হাত বাড়িয়ে আশিয়ানের চোয়াল ধরে তার মুখটা নিজের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করে।আশিয়ান শরীর শক্ত করে বসে থাকে আর হায়া’র হাতটা সরিয়ে দেয়। হায়া বুঝতে পারে আশিয়ান কষ্ট পেয়েছে তার রিজেকশনে।
হায়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সিদ্ধান্ত নেয় আশিয়ানের ইচ্ছে পূর্ণ করবে। সে তো তার মায়েরই মেয়ে, একটু বেশি দয়ালু তাই। তাদের স্বামীরা যত বড় অন্যায় করুক না কেনো তারা রাগ ধরে রাখতে পারে না নিজেদের ব্যক্তিগত পুরুষ টির সাথে।
হায়া আবারও চেষ্টা করে আশিয়ানের মুখটা নিজের দিকে ফেরাতে। আশিয়ান আগের বারের মতো এবারও শক্ত হয়ে থাকে আর হায়া’র হাতটা সরিয়ে দেয়। হায়া’র এবার রাগ হয়। সে দাত কিড়মিড়িয়ে বলে–
—আরেকবার এমন করবেন কাল একদম পাপার সাথে ঔবাড়ি চলে যাবো। দেখি এদিক ঘুরেন।
লাস্টের কথাটা ধমকের সুরে বলে। আশিয়ান চোখমুখ ভয়াবহ গম্ভীর করে হায়া’র দিকে তাকায়। হায়া আশিয়ানের চোয়ালে একহাত রেখে আরেক হাত আশিয়ানের ঘাড়ে রেখে তার মুখের দিকে ঝুঁকে এসে ঠাশ করে একটা চুমু দেয় আশিয়ানের ঠোঁটের কোণে আহত জায়গা টায়। তারপর সাথে সাথেই সরে আসে আশিয়ানের থেকে।
ব্যাপারটা এত তাড়াতাড়ি ঘটে যায় যে আশিয়ান সাথে সাথে বুঝে উঠতে পারে না। হায়া চুমু দিয়ে তাড়াতাড়ি করে আশিয়ানের কোল থেকে সরে রুমে যাওয়ার জন্য উঠে দাড়ায়,কিন্তু আশিয়ান তার হাত টেনে আবারও নিজের কোলে বসিয়ে দেয়। এবার সে নিজেই তাদের দু’জনের চার অধর এক করে দেয়। প্রথমবারের মতো তারা লিপ্ত হয় ওষ্ঠ চুম্বনে।
হায়া চোখ বড়বড় করে তার কাছ থেকে সরে আসার জন্য ছটফট করতে থাকে। কিন্তু হায়া যতই ছটফট করে আশিয়ান তার হাতের বাঁধন গুলো ততই শক্ত করে। হায়া’র ছটফটানিতে আশিয়ান বিরক্তবোধ করে। সে হায়া’র ঠোঁট খানিক সময়ের জন্য মুক্ত করে বলে–
—প্লিজ একবার জান। একটু রেসপন্স করো।
প্রেমিকের এত দরদ মেশানো অনুরোধ কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কোন প্রেমিকার পক্ষে? তাও যদি হয় স্বামী রূপী হালাল প্রেমিক। আমার তো মনে হয় সম্ভব নয়।
আশিয়ান একহাত দিয়ে হায়া’র কোমড় চেপে ধরে আরেক হাত দিয়ে ঘাড় চেপে ধরে। পুনরায় মিলিয়ে দেয় তার পুরুষালি ওষ্ঠের সাথে হায়া’র কোমল ওষ্ঠ। হায়াও এবার তার সাথে তাল মেলাতে শুরু করে। আশিয়ানের দিকে আরেকটু এগিয়ে এসে তার বুকের সাথে লেপ্টে গিয়ে একে অপরের ভালোবাসা আদান-প্রদান করতে থাকে।
_________________________
মেহরিমার অনেক চেষ্টা করেও যখন গাড়ির ডোর খুলতে পারে না তখন না চাইতেও তার জাহানের সাথে কথা বলতে হয়। সে দৃষ্টি অন্যদিকে রেখেই জাহানকে বলে–
—লক খুলে দিন। আমার লেট হচ্ছে।
—এদিক ঘুরে কথা বলো।
কথাটা নরমালি বললেও শোনা যায় আদেশ করছে যেনো। মেহরিমা জাহানের কথা শুনে না। অন্যদিকেই মুখ করে রাখে। তার মনে অভিমান ও শঙ্কা জন্মেছে। বারবার চোখের পাতায় তখনকার সেই দৃশ্য ফুটে উঠছে। জাহানকে সে অন্যের সাথে কল্পনাও করতে পারে না সেখানে এমন একটা দৃশ্য নিশ্চয়ই তারজন্য পীড়াদায়ক বৈ আর কিছু নয়।
জাহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলা শুরু করে–
—তোমার এই অভিমান আমার পবিত্র ভালোবাসায় আঙুল তুলছে তুমি কি তা বুঝতে পারছো? আমার মা-বোনের পর তুমিই একমাত্র নারী যার জন্য আমি জাহান নিজের জীবন দিতেও দ্বিতীয় বার ভাববো না। সেখানে তুমি আজ একটা সিলি ইন্সিডেন্টকে কেন্দ্র করে আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখছো?
মেহরিমা এবার মুখ না খুলে পারে না। সে জাহানের দিকে মুখ ফেরালেও দৃষ্টি তার নিচের দিলে বরাবরের মতো। সে বলে–
—কি করবো বলেন? আপনি ব্যতীত কে আছো আমায় এত ভালোবাসবে? যত্ন নিবে? আপনি আর হায়া ব্যতীত তো আমার কেউ নেই এই দুনিয়ায়। আজ যখন আপনাকে ঐ অবস্থায় দেখলাম আমি অনুভূতিশূন্য, বোধশূন্য হয়ে পরেছিলাম। আমি.. আ…
মেহরিমা আর কিছু বলতে পারে না। এতক্ষণ চেয়ে রাখা কষ্ট গুলো তার বাধ ভেঙে কান্নারূপে বের হয়ে আসে। দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে শব্দ করে কাঁদতে থাকে। জাহানের বুক জ্বলে উঠে মেহরিমাকে এমন ভাবে কাঁদতে দেখে।
শব্দসংখ্যা~১৭০৭
~চলবে?
[আমি খানিকটা অসুস্থ। জ্বর-মাইগ্রেনের ব্যথায় হাত চলছে না। ছোট হলে মানিয়ে নিয়েন। লেট করার জন্য দুঃখিত। রিচেক দেই নি।
ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

