#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৪৮
[১৮+ এলার্ট। পর্বটি প্রাপ্তমনস্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত। গল্পের শেষ কথাগুলো পড়ার অনুরোধ রইল]
হায়া স্টেজের সামনে এসে দাঁড়াতেই জাভিয়ান উঠে গিয়ে স্টেজে পা রাখলেন। একহাতে মাইক তুলে নিয়ে হাসিমুখে উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বললেন—
—লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান,
আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আমার ছেলেদের রিসেপশন পার্টিতে এসে আমাদের আনন্দের অংশীদার হওয়ার জন্য। আপনারা দোয়া করবেন, যেন তারা চারজন ভবিষ্যতে সুখ, শান্তি ও ভালোবাসায় ভরপুর একটি জীবন গড়তে পারে।
আর এই বিশেষ সন্ধ্যার শুরুটা হতে যাচ্ছে এক অসাধারণ পরিবেশনার মাধ্যমে। পারফর্ম করবে আমার আদরের প্রিন্সেস, আমার মেয়ে জেসমিন তালুকদার হায়া এবং তার স্বামী, আমার প্রিয় ভাগ্নে আশিয়ান মির্জা।
আলোকিত এই ফ্লোর এখন তোমাদের অপেক্ষায়, প্রিন্সেস আর আশিয়ান। চলে এসো তোমরা।
হায়া তার বাবার এমন এনাউন্সমেন্ট শুনে ভীমড়ি খাওয়ার জোগাড় হয়। হ্যাঁ, সে ডান্স পারফর্মেন্স করতে চেয়েছিল আশিয়ানের সাথে কিন্তু মাঝের ঝামেলা টার কারণে কোন প্রাকটিসই করা হয়নি। এখন সে বিনা প্রেকটিসে নাচতে গেলে মান সম্মান খুইয়ে আসবে এটা সিউর। এসব ভাবতে ভাবতেই তার ঘাম ছুটে যায়। হঠাৎই একটি শক্তপোক্ত হাত তাকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। হায়া ঘাড় ঘুরিয়ে ব্যক্তিটির দিকে তাকালে দেখতে পায়, ব্যক্তিটি আর কেউ না তার বর দ্যা গ্রেট আশিয়ান মির্জা।
হায়া আশিয়ানের দিকে ভালো করে খেয়াল করে দেখে, আশিয়ান তার সাথে ম্যাচিং করে রয়েল ব্লু কালারের পাঞ্জাবি পরেছে। পাঞ্জাবির হাতা গুলো কনুইয়ের কাছাকাছি গোটানো যার কারণে পুরুষালি হাতের পশমগুলো সবই উন্মুক্ত হয়ে রয়েছে। বাম হাতের কব্জিতে দামী রোলেক্সে ব্রান্ডের ঘড়ি। চোখ ধাঁধানো হ্যান্ডসাম লাগছে আশিয়ানকে। হায়া আশিয়ানের এমন রূপ দেখে কয়েকটা ফাঁকা ঢোক গিলে নেয়।
হায়া ও আশিয়ান স্টেজে উঠে আসতেই “Main agar kahoon” গানটা বাজতে থাকে। আশিয়ান নিজের ইশারায় হায়াকে মুভ করাতে থাকে। হায়া কয়েক জায়গায় মিসব্যালেন্স হয়ে গেলেও আশিয়ান তাকে সামলে নেয়। ডান্স করতে করতে হায়া একটা ঘোরে চলে যায়। তার সেই ঘোর কাটে উপস্থিত সকলের করতালিতে।
একে একে নিউ কাপলরাও ডান্স করে। হায়া তার বাবা-মা, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, আদিবার পরিবার সকলকে টেনে স্টেজে নিয়ে এসে নাচ করায়। খুবই সুন্দর ভাবে সময়টা কাটায় সকলে। প্রোগ্রাম শেষ হয় রাত এগারোটায়। হায়া অবশ্য তার ভাইদের বউদেরকে সাড়ে দশটার দিকেই নিয়ে বাড়ির ভেতরে চলো গিয়েছে। তার প্ল্যান বিয়ের দিন এত ঝুট-ঝামেলার মাঝে দরজা আটকিয়ে টাকা নিতে পারেনি কিন্তু আজ সে নিবেই নিবে। বিয়ের সময় তে এসবেই আসল মজা।
________________________
অতিথিদের বিদায় দিয়ে জাহান-জায়িনের ঘরে আসার সুযোগ হয় রাত সাড়ে বারোটায়। জাহান নিজের রুমের সামনে এসে বড়সড় একটা ঝটকা খায়। জায়িনও তাই। তাদের ঘরে পাশাপাশি হওয়ায় দুই ভাই একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। জায়িন অবাক হয়ে ভাইকে জিজ্ঞেস করে–
—ভাই আমি যা দেখছি তুমিও কি তাই দেখছো?
জাহানও একই সুরে বলে–
—তুই কি দেখছিস আমি জানি না। কিন্তু আমি আমার রুমের দরজায় ঐতিহাসিক আমলের একটা মস্ত বড় তালা ঝুলানো দেখছি।
—আমিও তো তাই দেখছি।
দু’ভাই একে অপরের দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। তারপর হঠাৎই দু’জনে একসাথে প্রশ্ন করে উঠে–
—কিন্তু এই কাজটা করল কে?
তখনই পেছন থেকে একটা নারী কণ্ঠ বলে উঠে–
—আমি করেছি ব্রাদার্স।
জাহান-জায়িন পেছনে ঘুরে দেখে মেয়েটি আর কেউ না তাদের কলিজার টুকরা বোন হায়া। হায়া চাবির গোছাটা আঙুলে ঢুকিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে আবারও বলে–
—আমি এই মহান কাজটি সম্পাদন করেছি, হে আমার সহদরেরা!
—কিন্তু কেনো?
জাহান-জায়িন পূর্বের মতোই একসাথে প্রশ্ন করে উঠে। হায়া তার সবগুলো দাঁত দেখিয়ে বলে–
—টাকা নেওয়ার জন্য।
—টাকা? কিসের টাকা?
জাহান প্রশ্ন করে উঠে হায়াকে। হায়া বলে–
—তোমাদের বিয়ের দিন তো আমি তোমাদের বাসর ঘরের দরজা ধরতে পারি নি। কিন্তু আজ আবারও একটা সুযোগ পেয়েছি, সেটাকে কিভাবে হাতছাড়া করি বলো ভাইয়েরা আমার?
কথাটা বলে হায়া একটা বিটকেল মার্কা হাসি দেয়। তার কথা শুনে জাহান আর জায়িন তব্দা খেয়ে দাড়িয়ে থাকে। হায়া তাদের সম্মুখে এসে দাড়িয়ে হাত পেতে বলে–
—টাকা ছাড়ো আর চাবি নিজেদের নামে লিখিয়ে নাও
জাহান-জায়িন নিজেদের চমকানো ভাবটা সামলিয়ে নেয়। জাহান শান্ত গলায় প্রশ্ন করে–
—কত চাই তোর?
—তোমার থেকে দশ, ছোট’দা ভাইয়ের থেকে দশ দিলেই হবে।
জায়িন তার কথা শুনে বলে–
—ওহহ বিশ টাকা। বোনু, তুই এখন বাচ্চাই রয়ে গেলি। বিশ টাকার জন্য এমন দরজায় তালা লাগানো লাগে? ভাইয়ের কাছে বললে কি দিতাম না আমি? ভাই (জাহানকে উদ্দেশ্য করে বলে) তোমার টাও আমি দিচ্ছি, তোমার দেওয়া লাগবে না।
কথাটা শেষ করে জায়িন পকেট হাতড় দুইটা দশটা টাকার নোট বের করে হায়ার সেই পেতে রাখা হাতে দেয়। হায়া তার ছোট’দা ভাইয়ের কথা আর কাজ দেখে হতভম্ব হয়ে যায়। সে চাইল বিশ হাজার তাকে দিচ্ছে বিশ টাকা। এই বিশ টাকায় একটা আইসক্রিমও তো খেতে পারবে না সে।
হায়া টাকা গুলো মুচড়িয়ে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে–
—হোপ, আমি চেয়েছি বিশ হাজার টাকা আর তোমরা আমায় বিশ টাকা?
হায়ার কথা শুনে জায়িনের ডান হাতটা অটোমেটিক বুকের বাম পাশে চলে যায়। সে বুকের বাম পাশে খামচে ধরে জাহানের গায়ে কিছুটা হেলান দিয়ে বলে–
—ভাই গো আমারে ধরো!! এই মাইয়া কি কয়? বিশ হাজার টাকা চাচ্ছে। অ্যাঁই তুই বলত বিশ হাজারের কয়টা শূন্য দিতে হয়।
জায়িনের এমন কটাক্ষ পূর্ণ কথায় হায়ার রেগে যায়। সে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে যেতে বলে–
—থাক তোমাদের দেওয়া লাগবে না। নো মানি, নো হানি।
হায়াকে চলে যেতে দেখে দুই ভাইয়েরই চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। এই মেয়ে তাদের রুমের দরজা খুলে না দিলে আজ সারা রাতও রুমে যেতে পারবে। অথচ চজ তাদের জীবনের বিশেষ একটি রাত। দুই ভাই দৌড়ে গিয়ে হায়ার দুই হাত ধরে তাকে আটকায়। জায়িন অনুনয়ের মতো করে বলে–
—বোনু, বোনু তালা না খুলে কোথায় যাস? তালা খুলে যা।
—আজ তালা খুলবে না। আমি এটা দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি, ঢাকার শহরের টপ বিজনেসম্যান জাভিয়ান তালুকদারের ছেলেরা নাকি এমন কিপ্টামি করছে। আচ্ছা বেশ করো কিপ্টামি। আমি যাই।
জাহানও জায়িনের মতো অস্থির গলায় বলে–
—তুইও তো জাভিয়ান তালুকদারের মেয়ে। উপরন্তু তোর আবার বড়লোক জামাই আছে। আমাদের তো সেটাও নেই।
হায়া তাদের দু’জনের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে গম্ভীর গলায় বলে–
—এত কথা বলতে আর শুনতে পারব না। “টাকা দাও, চাবি নাও” এই বলে আমি আমার বক্তব্য শেষ করলাম।
জাহান-জায়িন বুঝতে পারে টাকা না দিলে আজ তারা রুমে যেতে পারবে না। অগ্যাত তাদের টাকাই ছাড়তে হয়। জাহানের ওয়ালেটে সব মিলিয়ে দেশ হাজার পেলেও জায়িন তার পকেট খুজে পাঁচ হাজার পায়। ওয়ালেট আপাতত তার কাছে নেই। জাহান টাকাটা দেওয়ার সাথে সাথেই হায়া তার রুমের চাবিটা জাহানের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু জায়িনকে দেয় না।
জায়িন কাঁদো কাঁদো গলায় বলে–
—বোনু বিশ্বাস কর ওয়ালেট টা আমার কাছে নেই থাকলে দিতাম। আপতত এই টাকাতেই মেনে যা না কলিজা আমার।
—নো, নেভার, কাবহি নেহি। ওয়ালেট এনে টাকা ছাড়ো বাকিটা।
জায়িন তার কথা শুনে কয়েক সেকেন্ড কিছু একটা ভাবে। তারপর হাতের ঘড়িটা একবার চেক করে বলে–
—ও হ্যাঁ মনে পরেছে। আমার ওয়ালেটটা ছাদের চিলেকোঠার ঘরে ফেলে এসেছি। তুই দাঁড়া আমি নিয়ে আসছি।
এই বলে জায়িন ছুট লাগাতে নেয় তখন হায়া তাঁকে থামিয়ে দেয়। জাহানের হাতে চাবিটা দিয়ে বলে–
—এটা তুমি রাখো বড়দা ভাই। আমি যাচ্ছি চিলেকোঠা থেকে ছোট’দা ভাইয়ের ওয়ালেট নিয়ে আসতে। আমি ছোট’দা ভাইয়ের ওয়ালেট পেলে তোমায় ফোন করব, তখন তুমি চাবিটা ছোট’দা ভাইয়ের হাতে তুলে দিবে। ঠিক আছে?
জাহান নিজের মনের শয়তানি লুকিয়ে বাহিরে ভোলাভালা একটা হাসি দিয়ে মাথা নাড়িয়ে বোনের কথায় সম্মতি দেয়। হায়া চলে যায় চিলেকোঠার ঘরের উদ্দেশ্য। সে চোখের আড়াল হতেই জাহান স্বল্প আওয়াজে বলে উঠে–
—সারাজীবন আমাদের এমন জ্বালানোর জন্য তোর এই চটপটে স্বভাব যেনো সর্বদা বিরাজ থাকে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেনো, তোকে দুনিয়ার সবচাইতে সুখী করুন কলিজা আমার।
—আমিন।
জাহান জায়িনের রুমের চাবিটা তার হাতে তুলে দেয়। দুইভাই তালা খুলে নিজেদের রুমে প্রবেশ করে। তারা হয়ত জানেই না তাদের জন্য আরো একটি চমক অপেক্ষা করছে।
_______________________________
এদিকে হায়া গুনগুন করতে করতে চিলেকোঠার ঘরে এসে উপস্থিত হয়। রুমের দরজাটা আগের থেকেই আধখোলা থাকায় ঢুকতে কোনপ্রকার বাঁধা পায় না সে। রুমে ঢুকেই সে নিজেকে মনে মনে ভয়ংকর কিছু গালি দেয়। নিজের ফোনটা না নিয়ে আসার জন্য গালি গুলো দিলো আরকি।
হঠাৎই সে অনুভব করে তার পেছনে কেউ একজন দাড়িয়ে আছে। সে পেছন ফিরবে তখনই একটা পুরুষালি উষ্ণ হাত তার শাড়ির ভাজে হাত ঢুকিয়ে উন্মুক্ত কোমড় জড়িয়ে ধরে আর অন্যহাত দিয়ে হায়ার ঘাড় থেকে চুল সরিয়ে সেখান টায় ওষ্ঠের উষ্ণ আর্দ্র আদর দিতে থাকে। হায়া আঁতকে উঠে এমন কান্ডে। ছটফটিয়ে লোকটির থেকে দূরে সরে যেতে চায় কিন্তু পারে না। তার কোমড়ে থাকা লোকটির হাত শক্ত পোক্ত হয়ে জড়িয়ে আছে।
বেশকিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির পর হায়া কোন মতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়। চিলেকোঠার রুমটি তার অতিপরিচিত হওয়ায় ঘুটঘুটে অন্ধকারেও হাতড়াতে হাতড়াতে লাইটের সুইচ পেয়ে যায়। সুইচে চাপ দিতেই পুরো রুম আলোকিত হয়ে যায়। হায়া তাড়াতাড়ি করে পেছনে ঘুরে তাকে স্পর্শ করা পুরুষটিকে দেখার জন্য।
লোকটিকে দেখে হায়া হতভম্ব, স্তব্ধ হয়ে যায়। তার অজান্তেই মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়–
—আশিয়ান আপনি?
আশিয়ান হায়াকে দূরে সরে যেতে দেখে উদগ্রীব হয়ে বলে–
—হ্যাঁ সোনা আমি। দূরে গেলে কেনো? কাছে আসো। আজ আমাদেরও বাসর হবে তো। তাড়াতাড়ি আসো কাম ফাস্ট।
বিয়ের পাঁচ মাস পর বাসর? এ-ও শোনার বাকি ছিল হায়ার। হায়া ভ্রু কুঁচকে বলে–
—বিয়ের পাঁচ মাস পর কিসের বাসর? আর আমাদের মধ্যে তো সব হয়েই গিয়েছে।
—হয়েছে আজ আবার হবে। আর বাসর করতে বিয়ের দিনই লাগে নাকি। আজ জাহান-জায়িনের ফুলে সজ্জিত বাসরঘর দেখে আমারও বাসর করতে মন চাইছে, তাই তো দুই ঘণ্টার মাঝে এই রুমটাকে নিজ হাতে সাজিয়েছি। কাম ফাস্ট জান, রাত তো পার হয়ে গেলো বলে।
হায়ার মনে হলো তার মাথায় কেউ বাশ দিয়ে বারি মেরেছে। শালাদের বাসরঘর দেখে নিজেরও বাসর করতে চাইছে। হায়রে অসভ্য পুরুষ! এই অসভ্য পুরুষটিই তার কপালে লেখা ছিল শেষ পর্যন্ত?
হায়ার ভাবনার মাঝেই আশিয়ান তার অনেকটা কাছে এসে পড়ে। হায়া তা বুঝতে পেরে সরে যেতে চায় কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। আশিয়ান হায়ার দিকে খানিকটা ঝুকে তার হাঁটুর পেছনে হাত দিয়ে ধরে তাকে কাঁধে উঠিয়ে বেডের দিকে হাঁটা দেয়। হায়া ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে থাকে কিন্তু আশিয়ান তাকে ছাড়ে একদম বেডের উপরে।
আকস্মিকভাবে পরে যাওয়ায় হায়া কোমড়ে একটু ব্যথা পায়। সে আর্তনাদ করে বলে উঠে–
—বাবা গো, এই জল্লাদ আজকেও আমার কোমড় ভেঙে দিল।
আশিয়ানের মনে পরে যায় তাদের বিয়ের দিনটার কথা। সেদিনও ভাবেই তো হায়াকে ভুল বসত কোল থেকে ফেলেছি। কিন্তু সেই দিনটা আর আজকের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।
পাঞ্জাবিটা আশিয়ান অনেক আগেই খুলে রেখেছিল। চিলেকোঠার গুমোট বাতাস ও হায়াকে নিয়ে করা চিন্তার কারণে শরীর ঘেমে উঠেছিল। বউটা আসতে যেনো ইচ্ছে করে সময় নিচ্ছিল। বিরক্তি আর অধীরতা মিলিয়ে তার ধৈর্য ফুরিয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই।
গায়ে এখন শুধু একটা সেন্ডো গেঞ্জি, যা তার পেশীবহুল কাঁধ আর বুকের রেখাগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরছিল। আর পাঞ্জাবির সাথে মিল রেখে সাদা পায়জামা পরেছিল সেটা। আশিয়ান আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সেন্ডো গেঞ্জিটাকেও এক টানে খুলে ফেলে দেয় দূর। তারপর হঠাৎই লাফ দিয়ে উঠে পড়ে বিছানায়।
হায়া থমকে যায়, তার ঠোঁট কেঁপে ওঠে অজান্তে। পরের মুহূর্তে নিজেকে খুঁজে পায় আশিয়ানের চার হাত-পায়ের মাঝখানে বন্দি অবস্থায়, ঠিক যেন শিকারকে কৌশলে আটকে রাখা কোনও গর্বিত বাঘ।
হায়ার চোখে কেবল বিস্ময় নয়, ছিলো একটা কাঁচা ভয় আর অজানা উত্তেজনা। সে দুই হাত বাড়িয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করে আশিয়ানকে, বুকের কাছে ঠেলে দিতে চায়। আশিয়ান তার প্রতিহত করার উপায় দেখে মৃদু হাসে। তারপর শক্ত, উষ্ণ আঙুল গলিয়ে দেয় হায়ার আঙুলের ভাঁজে এবং হাত দুটোকে বিছানার সাথে চেপে ধরে দৃঢ়ভাবে।
তাদের চোখাচোখি হয় মুহূর্তখানেক। আশিয়ানের চোখে ছিল দাবির ঝিলিক, আর হায়ার চোখে ছিল মৃদু কাঁপন এবং অনুভূতিদের ঝড়।
আশিয়ান তার মুখটা নিয়ে আসে হায়ার কানের খুব কাছে। তার গরম নিঃশ্বাস হায়ার কাঁধে পরতেই হায়া আরো একবার কেঁপে ওঠে। আশিয়ান এক দহনজাগানো হাস্কি সুরে বলে—
—তুমি যতই আমার থেকে দূরে যেতে চাইবে, আমি ততই প্রগাঢ়ভাবে তোমার নিঃশ্বাস, তোমার অস্তিত্বের সাথে মিশে যাবো। তুমি আমার জেদ, আমার পাপ, আমার বৈধ অধিকার।
কথাটা শেষ করে আশিয়ান সকালে যেই জায়গাটায় কামড় দিয়েছিল সেই জায়গাটায় প্রগাঢ় এক চুম্বন করে। আশিয়ান তাতেই শুধু থেমে থাকে না একের পর আদরে হায়াকে নিজের আয়ত্ত্বে নিয়ে আসে।
হায়ার শরীরটা এক মুহূর্তে কেঁপে ওঠে। কিন্তু সে জানে এটা ভয় নয়। এটা সেই অনুভব, যা তাকে ভেঙে না দিয়ে গলে দিতে চায়। হায়ার এই গলে যাওয়াটাই আশিয়ানকে গভীর ভালোবাসার প্রমাণ।
সময় গড়ানোর সাথে সাথে দুই মানব-মানবী নিজেদেরকে ভালোবাসতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। হায়া সকল মান-অভিমান সাইডে রেখে ভালোবাসার মানুষটির ডাকে সারা দেয়। হায়া সুখকর বেদনায় ডুবে থেকেই আশিয়ানকে বলতে থাকে–
—আপনি খারাপ আশিয়ান। ভীষণ খারাপ।
অস্থির নিঃশ্বাস ফেলে আশিয়ান বলে উঠে–
—আমি খারাপ তাহলে ভালো কে? ঐ ফারাবী? যে কিনা তোমার বরকে কয়েকবার জানে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল?
আশিয়ানের কথার স্পন্দন শ্রবণনালী ছুঁয়ে হায়ার স্নায়ুর উপর এক অজানা শিহরণ নামিয়ে দেয়, সে আঁতকে উঠে তাকায় চারপাশে, যেন শব্দ নয়, কোনো অস্ত্র তাকে বিদ্ধ করল। তার ভালোবাসার মানুষটিকে মারতে চেয়েছিল ফারাবী? হায়া আশিয়ানের উন্মুক্ত পিঠ খামচে ধরে আতঙ্কিত গলায় জিজ্ঞেস করে–
—কি বলছেন আপনি? ফারাবী ভাইয়া আপনাকে মারতে চেয়েছিল?
ঘামে ভেজা কপালে নরম এক চুম্বন এঁকে আশিয়ান কানে কানে এক মোলায়েম কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলপ–
—জ্বি আমার ভালোবাসা। আমার বার্থডের পরের দিন যেই এক্সিডেন্ট টা হয়েছিল না, সেটাও কিন্তু ফারাবীই করেছে। এমনকি আরো অনেক ঝামেলা তৈরি করতে চেয়েছে সে আমাদের মাঝে যেগুলো না বললেই নয়।
হায়া ভয় পেয়ে যায় আশিয়ানের কথাগুলো শুনে। ভালোবাসার মানুষটিকে হারানোর ভয় তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। আশিয়ানের বহু নিকটে থেকেও সে ভয়ে কাঁপতে থাকে মৃদু করে। চিলেকোঠার ঘরের কয়েকটা জানালা আছে। সেই জানালা গুলো দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদের আলো এসে ঘরটাকে আলোকিত করে তুলেছে।
আশিয়ান হায়ার শরীরের মৃদু কম্পন ও আবছা আলোয় তার আতঙ্কিত মুখখানা সন্তর্পণে অবলোকন করে। তাদের এই স্পেশাল মুহূর্তে হায়ার ভয় নয় তার ভালোবাসা চায় আশিয়ান। তাই তো সে নিজ পন্থা অবলম্বন করে হায়ার ভয় দূর করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। হায়াও একসময় নিজের ভয় ভুলে আশিয়ানের পাগল করা ভালোবাসার ডুবে যায়। ঘনিষ্ঠ মূহুর্তে হায়া শুধু একটা কথাই শুনতে পায়–
—আমার একটা ছোট্ট প্রিন্সেস চাই হায়া প্লিজ। আমার ঘর আলোকিত করার জন্য আরেকটা হায়া লাগবে আমার।
__________________________
জাহান রুমে এসে আঁতকে উঠে। অস্থির ও হতভম্ব গলায় বলে উঠে–
—হায় আল্লাহ! আমার বউ কই?
শব্দসংখ্যা~২১১১
~চলবে?
[১দিন বা মাঝে মধ্যে দুইদিন পর দেই কিন্তু তাও তো কত বড় করে দেই তাই না?এই বড় বড় পর্ব লিখতে নিম্নে ৪/৫ ঘণ্টা লাগে যদি সব আগের থেকে ভাবা থাকে। কিন্তু আপনারা তো দুই মিনিটেই পড়ে চলে যান। একটা রিয়েক্ট আর দুই লাইনের একটা কমেন্ট করতে কি বড্ড বেশি কষ্ট হয়ে যায়?
এই পর্বে ৪৫০রিয়েক্ট না আসা পর্যন্ত পরবর্তী পর্ব আসবে না। আমারও কষ্ট লাগবে ভাই যখন ভিউয়ার ২০হাজার হয় কিন্তু রিয়েক্ট ৩৫০টাও হয় না।😅
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

