#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৫৬
আফিফ রাহাকে নিজের বাহুতে আগলে নিয়ে নিচে বসে যায়। রাহার গালে আলতো হাতে চাপড় মারতে মারতে অস্থির গলায় বলতে থাকে–
—রাহা, এই সোনা পাখি, কি হলো তোমার? চোখ খুলো।
ততক্ষণে সেখানে আদিয়াত ও আফরাও উপস্থিত হয়। মূলত তারা দু’জন কেক আনার বাহানায় একটু লেট করে আসে যাতে তাদের ছেলে সবার প্রথম নিজের বউকে বার্থডে উইশ করতে পারে। কি বুঝতে পারছেন না কি হচ্ছে এখানে? তাহলে শুনতে হবে আজ দুপুর থেকে ঘটা কিছু ঘটনা।
হ্যাঁ, আজ রাহার বাইশতম জন্মদিন। দুপুরের দিকে রাহাত আফিফকে ফোন দিয়ে আগামীকাল তাদের বাসায় যেতে বলে। আফিফ এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তখন রাহাত জানায় কাল রাহার জন্মদিন। তারা দু’জনই চান প্রতিবারের মতো এবারও মেয়েটার বার্থডে সেলিব্রিট করতে। আফিফ এটা শুনে চমকে যায় যে, কাল রাহা জন্মদিন। সে রাহাতকে কাল চৌধুরী নিবাসে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ফোনটা কেটে আফিফ ভাবতে থাকে বিয়ের পর প্রথম সে শ্বশুর বাড়ি যাবে, সেই উপলক্ষে শ্বশুর বাড়ির সকলের জন্য কিছু গিফটস না নিলে বিষয়টা খুবই খারাপ দেখায়। সে যেহেতু রাহাত, মুনতাহা ও রায়হানের পছন্দ কেমন সেই বিষয়ে কিছুই জানে না তাই ঠিক করে রাহাকে ভার্সিটি থেকে পিক করে প্রথমে তারা লাঞ্চ করবে। তারপর দুপুরের রোদটা একটু পরে গেলে বিকেলের দিকে কেনাকাটা করে সন্ধ্যায় একেবারে বাসায় ফিরবে।
এছাড়াও আরেকদিন রাহাকে তার চরিত্র সম্পর্কে কটুক্তি করে সে ভীষণ অপরাধবোধ করছিল। তারপর থেকে তাদের সম্পর্কে চোখে পড়ার মতো শীতলতা এসে যায়। ঐ বিষয়টার জন্যও রাহাকে কাছে ক্ষমা চাওয়ার একটা বাহানা খুঁজছিল আফিফ। আজ লাঞ্চে যাওয়ার বাহানায় এই কাজটাও করে নেওয়া যাবে। এসব ভেবেই সে আজ দুপুরে ভার্সিটিতে যায়। ভার্সিটিতে গিয়ে অনেকবার করে রাহার নাম্বারে কল দিলেও যখন রাহা ফোন ধরে না, তখন আফিফ রাহার ডিপার্টমেন্টে গিয়ে তার এক ক্লাসমেটের কাছে তার কথা জিজ্ঞেস করে। যাকে জিজ্ঞেস করে সে বলে দেয় রাহাকে লাস্ট কোথায় দেখেছিল। আফিফ তার বলে দেওয়া ডিরেকশন অনুযায়ী সেই মাঠের পাশের নিরব জায়গাটায় চলে যায়।
সেখানে গিয়ে সে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সত্যি কথাগুলো জেনে যায়। রাহা কান্না করে হায়া ও মেহরিমাকে বলা সবগুলো কথা শুনে সে আরো অপরাধবোধ করতে থাকে, সেই সাথে অনুশোচনা হয় এটা ভেবে সেদিন তাদের অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কাছে এসে যাওয়ার বিষয়টা নিয়ে আগে কেন খোলাখুলি ভাবে কথা বললো না। বিষয়টা তাদের অজান্তেই তারাই অনেক জটিল করে ফেলেছে। আফিফ তখনই ঠিক করে নেয় আজই সে তার মনের কথা রাহাকে জানিয়ে দিয়ে তাদের মধ্যকার সকল ভুল বুঝাবুঝি মিটিয়ে নিবে। তাই সে রাহার সাথে দেখা না করেই চলে যায়। হসপিটালে তেমন কাজের চাপ না থাকায় আজকের দিনটা তো ছুটি নিয়েছিলোই সেই সাথে আরো এক্সট্রা কয়েকদিনের ছুটিও নিয়ে নেয়।
আফিফ নিজেই একা একা শপিংমলে গিয়ে ছাঁদ সাজানোর জন্য সব জিনিস নিয়ে বাসায় আসে বিকেলে, যখন রাহা আর আফরা ঘুমাচ্ছিলো। সে রুমে এসে খুবই আস্তেধীরেই ফ্রেশ হয় তাও আফরা উঠে যায়। তখন সে আফরাকে রাহার বার্থডের বিষয়টা বললে আফরা বলে সে রাহার জন্য নিজের হাতে কেক বানাবে। আদিয়াতও ততক্ষণে এসে পড়েছিল। সে বলে সে আফিফকে ছাঁদ সাজাতে সাহায্য করবে। ব্যস, তারা তিনজন রাহাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার মিশনে লেগে পড়ে।
রাহা সন্ধ্যার পর রুমে চলে আসলে আফরা তার জন্য কেক বানানোর কাজ শুরু করে দেয়। তার আফিফ ও আদিয়াত তো বিকেলের পরপর দিয়েই কাজে লেগে পড়েছিল। তাদের কাজটা আরে সহজ করে দেয় রাহা নিজেই। সে আজ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ায় আফিফ, আফরা ও আদিয়াতের সবটা করতে বেশ সুবিধাই হয়।
এবার গল্পে ফেরা যাক।
আদিয়াত ও আফরা ছাঁদে এসে দেখে আফিফ নিচে বসে আছে রাহাকে কোলে নিয়ে, আর রাহা জ্ঞানহীন হয়ে রয়েছে। তারা দু’জন দ্রুত পা চালিয়ে তাদের কাছে এসে উপস্থিত হয়। আফরা চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করে–
—আফিফ, রাহার কি হয়েছে? অজ্ঞান হয়ে গেলো কেনো?
আফিফ বলে–
—জানি না আম্মু। হঠাৎই অজ্ঞান হয়ে গেলো। রাহা এই, উঠো না! (রাহাকে ডাকতে ডাকতে বলে)
বোকা ছেলে নিজে ডাক্তার হয়ে, কোনরূপ ট্রিটমেন্ট না করিয়ে ডেকে ডেকে বউয়ের হুঁশ ফেরাতে চাইছে। আসলে আমরা সকলেই প্রিয় মানুষটির অসুস্থতায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আফিফের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
আদিয়াত বলে উঠে–
—আফিফ, রাহা মামুনিকে ঘরে নিয়ে চলো। সেখানে নিয়ে গিয়ে চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করি আমরা। যদি তাতে কাজ না হয় তাহলে হসপিটালে নিয়ে যাবো নে।
আফিফ বাবার নির্দেশনা মতো কাজ করে। সে রাহাকে কোলে তুলে নিয়ে নিজেদের রুমে চলে আসে। রুমে এসে সে রাহাকে বেডে শুয়ে দেয়। তারপর তার চোখেমুখে কয়েকবার করে পানি ছিটিয়ে দেয়। আফরা রাহার হাত-পা মালিশ করছে। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
আফিফ চঞ্চল পায়ে হেঁটে পড়ার টেবিলের ড্রয়ার থেকে তার স্টেথোস্কোপ ও স্ফিগমোম্যানোমিটার নিয়ে এসে রাহার পাশে বসে পড়ে। প্রথমে স্ফিগমোম্যানোমিটার দিয়ে প্রেশার মাপে। তারপর স্টেথোস্কোপ দিয়ে হার্টবিট। সবশেষে রাহার পালস চেক করলে সে থমকে যায়। বার কয়েক ঢোক গিলতে থাকে।
এরই মাঝে পিটপিট করে চোখ খুলতে থাকে রাহা। আফরা তাকে চোখ খুলতে দেখে বলে–
—আফিফ রাহা চোখ খুলে তাকিয়েছে।
মায়ের কথায় আফিফের ঘোর ফিরে। সে রাহাকে বলে–
—এখন কেমন লাগছে তোমার? শরীর বেশি খারাপ লাগছে কি?
রাহা ক্ষীণ গলায় বলে–
—মাথা কেমন ঘুরাচ্ছে আর গা গোলাচ্ছে। এছাড়া আর কোন সমস্যা হচ্ছে না।
—আচ্ছা। উঠো, ডিনার করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
আদিয়াত আফিফকে জিজ্ঞেস করে–
—আফিফ কি বুঝলে? রাহা মামনি হঠাৎই অজ্ঞান হয়ে গেলো কেনো?
আফিফ থমথমে গলায় বলে–
—খাওয়াদাওয়া ঠিক করে করে না তাই প্রেশার লো হয়ে গিয়েছিল। এখন কিছু খেলেই আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।
কথাটা বলতে বলতে আফিফ আলতো হাতে রাহাকে উঠিয়ে বসায়। তারপর তার পিঠের পেছনে একটা বালিশ দিয়ে তাঁকে আধশোয়া করে বসায়। আফরা বলে–
—তোদের নিচে যেতে হবে না কষ্ট করে। আমি খাবার দিয়ে যাচ্ছি তোদের দুইজনের জন্য। আর রাহাকে না হয় আমি খাইয়ে দিয়ে গেলাম।
—আমি খাইয়ে দিবো নে। তোমরা গিয়ে শুয়ে পড়ো।
আফরা জানে তার ছেলে কতটা দায়িত্ববান তাই আর কিছু বলে না। আদিয়াত ও আফরা রুম থেকে বের হয়ে আসার আগে রাহাকে তার বার্থডে উইশ করে। তারপর তারা দু’জন একটা গিফটও দেয় তাঁকে। রাহা শ্বশুর-শ্বাশুড়ির থেকে এত আদর-ভালোবাসা পেয়ে আপ্লূত হয়ে যায়।
তারা দু’জন চলে যাওয়া পর আফিফ থমথমে মুখে রাহাকে খাইয়ে দিতে থাকে। রাহা এক ধ্যানে আফিফের দিকে তাকিয়ে আছে। একটু আগের আফিফ আর এই আফিফের মধ্যে বিস্তর ফারাক। কি সুন্দর করে তাকে ঘুম থেকে তুললো, ছাঁদে নিয়ে গেলো হাত ধরে। তারপর….তারপরের কথা স্মরণ করে রাহার চোখজোড়া বড়বড় হয়ে যায়। আফিফ রাহাকে প্রপোজ করেছিলো।
—ডাক্তার সাহেব, আপনি আমাকে কি সত্যিই ভালোবাসেন?
রাহার প্রশ্নটা শুনে আফিফের চলন্ত হাতটা থেমে যায়। তাদের মধ্যে নিরবতা এসে ঠায় নেয়। রাহা হাপুস নয়নে আফিফের দিকে তাকিয়ে আছে উত্তর শোনার জন্য, কিন্তু আফিফ তাঁকে হতাশ করে দিয়ে বলে–
—খাওয়ার সময় এত কথা বলতে নেই, চুপচাপ খাও।
শেষের কথাটা একটু ধমকের সুরেই বলে। রাহা ছলছল নয়নে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আফিফ রাহাকে খাইয়ে দিয়ে নিজেও খেয়ে নেয়। রাহা ততক্ষণে শুয়ে পড়েছে, কিন্তু ঘুমায় নি। চোখবুঁজে শুয়ে আছে।
আফিফ খাওয়া শেষ করে ফ্রেশ হয়ে আসে। তারপর লাইট নিভিয়ে দিয়ে সটান হয়ে শুয়ে পড়ে। নিস্তব্ধতা মুড়িয়ে রাখা তাদের রুমে শুধু সিলিংয়ে চলতে থাকা ফ্যানের আওয়াজ ও ঘরের দেওয়ালে টাঙানো ঘড়িটার টিকটিক আওয়াজ ব্যতীত আর কোন শব্দই শোনা যায় না। সময় গড়িয়ে যেতে থাকে আপন নিয়মে। সেই সাথে এক দুই ফোটা করে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে আফিফের চোখের কোন বেয়ে। আফিফ অনুভব করে তার পাশে শুয়ে থাকা রমণীটিও তারই মতো নিঃশব্দে অশ্রুপাত করছে।
আফিফ না হয় কাঁদছে অনাকাঙ্ক্ষিত কারো একজনের আগমনী বার্তায়, কিন্তু তার পাশে শুয়ে থাকা রমণীটি কাঁদছে কেনো? সে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায় নি বলে? নাকি তখনকার সেই প্রশ্নের উত্তর দেয় নি বলে? নাকি সেদিন তার চরিত্র নিয়ে কথা বলার জন্য? কোনটার জন্য রমণীটি এমনভাবে কাঁদছে? নিজের অজান্তেই সে এই মেয়েটিকে অনেকটা কষ্ট দিয়ে ফেলেছে।
আফিফ আস্তে আস্তে তার দিকে ফিরে শোয়। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে তার দিকে। তারপর কোন ভাবনা চিন্তা ছাড়াই রাহাকে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার কাঁধে মুখ গুঁজে দেয়। রাহা আফিফের এমন কাজে চমকে যায়। সে ভাবে হয়ত ঘুমের ঘোরে এমনটা করেছে। কিন্তু তার ভাবনাকে মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়ে, আফিফ বলে উঠে–
—আই লাভ ইউ সোনা পাখি, লাভ ইউ সো মাচ।
রাহার এতক্ষণের শব্দবিহীন কান্না এখন আর্তনাদে রূপ নেয়। বেশ শব্দ করে কাঁদতে থাকে সে। আফিফ তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। রাহাও তাকে নিজের শরীরে সব শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরে, যেন ছাড়লেই আফিফকে হারিয়ে ফেলবে। আফিফ অনেক কষ্ট করে তার কান্না থামায়। কত-শত ওয়াদা করে বউয়ের কাছে। তাকে ভালোবাসার, ভালো রাখার, তার চোখ থেকে কখনোই অশ্রু নামক মূল্যবান সম্পদ না ঝরানোর।
রাহাকে বুকে নিয়েই ঘুমায়। ঘুমানোর আগে ভেবে নেয় কাল সকাল হতেই তার কি কি করা লাগবে।
______________________
হায়া ঘুমের মধ্যেই টের পায় তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, সেই সাথে শরীরটাও কেমন ভারী ভারী লাগছে। ভীষণ ছটফট করতে করতে একসময় ধপ করে চোখ খুলে ফেলে। চোখ খুলে দেখতে পায় তার গুনধর বর মশাই তার ঘুমের ফয়দা নিচ্ছে। হায়া মোচড়ামুচড়ি করায় আশিয়ান তার ঠোঁট সরিয়ে নিয়ে হায়ার বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ে।
হায়ার বড়বড় শ্বাস নিচ্ছে। মনে হচ্ছিল আরেকটু হলেই রুহটা বের হয়ে যেতো। হায়া ঘাড় ঘুরিয়ে জানালার দিকে তাকালে দেখে অন্ধকার হয়নি এখনও। আজ আশিয়ান তাড়াতাড়িই চলে এসেছে। সে জানালার থেকে চোখ সরিয়ে এনে আশিয়ানের দিকে তাকালে দেখতে পায় তার অসভ্য মামা প্লাস ফুফাতো ভাই তারই বুকের উপর থুতনি ঠেকিয়ে টুকুর টুকুর করে তাকিয়ে আছে। শরীরে এখনও বাহিরের জামাকাপড়। হঠাৎই হায়া রেগেমেগে উঠে। সে আশিয়ানকে নিজের উপর থেকে সরাতে সরাতে বলে–
—সরুন তো। সবসময় চিপকাচিপকি না করলে ভালো লাগে না?
—না, লাগে না। বিয়েটা করেছি যাতে হালাল হয়ে এমন সারাক্ষণ চিপকে থাকতে পারি। এখন নো সরা-সরি অনলি চিপকাচিপকি। আজ না বলে এসে পড়েছো কেনে বাসায়? তাই এর শাস্তি পাবে এখন। এখন এমন চিপে অন্তত দুই ঘন্টা শুয়ে থাকব।
কথাটা বলে আশিয়ান তার শক্তি লাগিয়ে হায়ার সাথে আরেকটু লেগে যায়। হায়া খেঁকিয়ে বলে–
—আজব তো ভাই!
আশিয়ান হায়ার মুখে ভাই কথাটা সহ্যই করতে পারে না। কেমন কেমন লাগে তার। সে ধমকে বলে–
—চুপ বেয়াদব, জামাইকে ভাই ডাকে কে? জামাই ডাকো।
হায়া তার ধমকে একটু ঘাবড়ে যায় ঠিকই কিন্তু দমে না। সে মুখ ভেঙচিয়ে বলে–
—এহ্হ যত্তসব ঢং। ভুলে যাবেন না এককালে আমরা মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন ছিলাম। সেই সম্পর্কের জেরে মাঝেমধ্যে ভাই ডাকতেই পারি।
—না পারো না।
—পারি।
—পারো না।
—বললাম তো পারি।
—পারো।
—না, পারি না।
আশিয়ান হায়াকে তার নিজের কথায় ফাঁ”সিয়ে দেয়। হায়া নিজের ভুল বুঝতে পেরে মনে মনে জিভ কাটে। তারপর আশিয়ানের দিকে তাকালে দেখতে পায় সে নিজের সবগুলো ঝকঝকে ফকফকে দাঁত বের করে তাকিয়ে আছে।
হায়া আমতাআমতা করে কিছু বলতে নিবে তখনই তাদের দরজায় কেউ একজন নক করে। আশিয়ান গলা উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে–
—কে?
একটি নারী কণ্ঠ বলে–
—আশিয়ান বাবা, আপনাগো দুইজনরে নিচে যাইতে কইছে আফা।
—আচ্ছা, যান আপনি খালা আমরা আসছি।
হেল্পিং হ্যান্ড মহিলাটি চলে যায়। আশিয়ান হায়ার উপর থেকে সরে আসে। তারপর নিজের জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।
~চলবে?
[ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

