#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_২৭
সময় বড়োই স্বার্থপর। সে কারও কান্নায় থামে না, কারও সুখে মুগ্ধ হয় না। নিজের ছন্দে, নিজের নিয়মে সে এগিয়ে চলে—পেছনে ফেলে যায় হাজারো ভাঙা স্বপ্ন, অপূর্ণ অপেক্ষা।
সেদিনের পর কেটে গেছে পাঁচটি দীর্ঘ দিন। হায়া বারবার নানা ভাবে আশিয়ানের কাছে ক্ষমা চেয়েছে, নিজের সেই অনাঘটিত বোকামির জন্য অনুশোচনায় ভেঙে পড়েছে। সে কথায়, আচরণে, দৃষ্টিতে — প্রতিটি ভঙ্গিতেই বোঝাতে চেয়েছে তার অনুতপ্ত মন। অথচ আশিয়ান যেন এবার একেবারে পাথর হয়ে গেছে। বোঝে, তবুও না বোঝার ভান করে। দেখে, তবুও না দেখার অভিনয় রচে।
তার জেদের মাটিটা ছিল বরাবরই দুর্ভেদ্য আর এইবারও সে তার কঠিন অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি।
হায়ার অনুনয় যেন বাতাসে ভেসে গিয়েছে, আশিয়ানের মন ছুঁয়ে যেতে পারেনি।
এই ক’দিন আশিয়ান যেন ইচ্ছে করেই হায়াকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চলেছে। রাতে ফিরছে অনেক দেরিতে, যেন বাসার চৌকাঠ পেরোনোই অনিচ্ছায় ভরা। আর সকালে? সূর্য ওঠার পরপরই গা ঢাকা দেয় কোনো অজানা ব্যস্ততায়।
হায়া, যার এখন ফাইনাল এক্সাম শেষ, সারা দিনই ঘরে থাকে—নিঃসঙ্গ, অপেক্ষার ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত। প্রতিটি ঘণ্টা যেন তার কাছে ধীরে ধীরে জমাট বাধা দীর্ঘশ্বাস হয়ে উঠছে। আশিয়ান আছে, তবুও নেই এই দুর্বিষহ অনুভূতিটা হায়ার বুকের ভেতর বিষের মতো জমে উঠছে।
সময় এখন রাত নয়টা পঁইতাল্লিশ।
আশিয়ান তার ক্লান্ত শরীরটাকে কোনোমতে টেনে বাসায় আসে। রুমে ঢুকে অফিস ব্যাগটা স্টাডি টেবিলের ওপর রেখে দেয়। তারপর এক দমকা নিশ্বাস ফেলে নিজের বিধ্বস্ত দেহটা সোফায় এলিয়ে দেয়। নিথর, নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে। মাথার ভেতর ব্যথায় দপদপ করছে, যেন প্রতিটা চিন্তা তার মস্তিষ্কে হাতুড়ির মতো আঘাত করছে। চারপাশ নিস্তব্ধ, আর সেই নিস্তব্ধতার ভেতর আশিয়ানের ক্লান্তি আরও ঘন হয়ে জমে থাকে।
সোফায় বসার মিনিট দুয়েক পরই কেমন ঠাণ্ডা ভেজাভেজা অনুভব করে। চোখ জোড়া বন্ধ রেখেই সোফায় হাত রাখলে বুঝতে পারে সোফাটা ভেজা। একটুখানি জায়গা না বরং পুরো সোফাটাই ভেজা। এমন কাণ্ডে আশিয়ানের কপালে কয়েকটা ভাজ পড়ে। ভুল বশত পানি পরলে একটা নির্দিষ্ট জায়গা ভেজা থাকবে পুরোটা তো ভেজা থাকার কথা না। তাহলে কি কেউ ইচ্ছে করে করেছে এমনটা?
তার চেয়েও বড় কথা আজ সে ঘুমাবে কোথায়? এই কয়েকদিন সে হায়া’র সাথে রাগ করে এই সোফাতেই নিজের বসতি স্থাপন করেছিল, কিন্তু আজ সেই জায়গা টারও এই অবস্থা।
আশিয়ান যখন এসব ভাবতে ব্যস্ত তখনই তার ঘরণী গুটিগুটি পায়ে হেটে আসে তার সামনে। হাতে তার এক গ্লাস পানি। হায়া গ্লাসটা আশিয়ানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে–
—পানি টা খান। ভালো লাগবে।
আশিয়ানের ধ্যাণ ভাঙে হায়া’র কথায়। সে হায়া’র দিকে একনজরে তাকিয়ে থাকে। আগে অফিস থেকে ফিরলে মেয়েটাকে কম করে হলেও ১৫/২০ মিনিট নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখত। এমনটা করায় তার মনে হতো, তার সারাদিনের সকল ক্লান্তি কর্পূরের ন্যায় উড়ে যেত। কিন্তু লাস্ট কয়েকটা দিন তা করা হয়নি। ইভেন রাতেও হায়া’র তুলতুলে শরীরটা নিজের বুকের উপর নিয়ে ঘুমানো হয়নি।
—কি হলো নিন পানিটা।
আশিয়ান হাত বাড়িয়ে গ্লাসটা নেয়। পানি খেতে শুরু করে তখনই হায়া হাত বাড়িয়ে আশিয়ানের শার্টের বাটান গুলো খুলে দিতে থাকে এক-এক করে। আশিয়ান একবার তার হাত সরিয়ে দিলেও হায়া জোর করেই কাজটা করে।
আশিয়ানের পানি খাওয়া শেষ হলে তার হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে টেবিলে রেখে দেয় হায়া। তারপর তার পেছনে গিয়ে আশিয়ানের মাথার চুলগুলো আলতো হাতে টেনে দিতে শুরু করে। আশিয়ান গমগমে গলায় বলে–
—লাগবে না। ছাড়ো ফ্রেশ হতে যাবো।
হায়া তার দ্বিগুণ গম্ভীর গলায় বলে–
—লাগবে কি লাগবে না সেটা আমি বুঝে নিবো। আপনি চুপ করে থাকুন, নাহলে চুল ছিঁড়ে শাক রান্না করে আপনাকেই খাওয়াব।
হায়া’র এমন কথায় আশিয়ান থতমত খেয়ে যায়। বলে কি এই মেয়ে। চুল ছিঁড়ে শাক রান্না করা যায়?? হায়া বেশ কিছুক্ষণ আশিয়ানের মাথা টিপে দেয়। আশিয়ানেরও ভালো লাগছিল বলে আর মানা করে না। হায়া মাথা টিপা শেষ করে কাবার্ডের দিকে এগিয়ে যায়। সেখান থেকে আশিয়ানের বাসায় পরিধান করা জামা কাপড় বের করে তার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বলে–
—ফ্রেশ হয়ে আসুন। খাবার কি এখানে আনবো নাকি নিচে যেয়ে খাবেন?
—নিচে যেয়েই খাবো। সবার খাওয়া হয়েছে?
—হুম।
“তুমি খেয়েছো?” কথাটা জিজ্ঞেস করতে গিয়েও করে না আশিয়ান। ফ্রেশ হতে চলে যায়। হায়া তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাসি দেয়। বিড়বিড়িয়ে বলে–
—শালার জামাই, আজ তোর হাতেই আমি খাবো আর তোর বুকেই আমি ঘুমাবো। আমার সাথে নাটক করার ঝাল যদি বের করতে না পেরেছি তাহলে আমার নাম জেসমিন তালুকদার হায়া না। আগে আগে দেখো হোতা হে কেয়া।
কথাটা বলে হায়া নিজের কাঁধের চুল গুলো একটু ভাব নিয়ে উড়িয়ে দিয়ে গুণগুণ করতে করতে নিচে চলে যায় খাবার গরম করতে।
আশিয়ান নিচে এসে দেখে হায়া কিচেন থেকে খাবারের বাটি গুলো আনছে। হায়া আশিয়ানকে দেখে বলে–
—আপনি শুরু করুন আমি আসছি।
কথাটা বলে আবারও কিচেনে চলে যায়। আশিয়ান খাবার প্লেটে তুলে নেয় ঠিকই কিন্তু শুরু করে না খাওয়া। এরই মাঝে কিচেন থেকে বিকট আওয়াজে হায়া’র চিৎকার শোনা যায়।
আশিয়ান দৌড়ে কিচেনে গিয়ে দেখে কিছু কাঁচের থালাবাসন নিচে পড়ে আছে আর হায়া নিজের রক্তাক্ত হাত ধরে বসে আছে। আশিয়ানের বুকটা জোরে ধক করে উঠে। সে দৌড়ে হায়া’র কাছে এসে বসে পড়ে, উত্তেজিত হয়ে বলে–
—এসব কি করে হলো হায়া? হাত কাটলে কিভাবে জান? আল্লাহ কতো রক্ত ঝরছে!!!
হায়া এক ধ্যাণে আশিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। আশিয়ানের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে ব্যথাটা হায়া না সে নিজে পেয়েছে। এরই মাঝে আবরার-স্পর্শ আর তাদের হেল্পিং হ্যান্ড মহিলাও চলে আসে। তারাও হায়া’কে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে ঘাবড়ে যায়। স্পর্শ তড়িঘড়ি করে জিজ্ঞেস করে–
—আম্মু, এত হাত কাটলি কিভাবে? আল্লাহ! আশিয়ান ওকে কিচেন থেকে বাহিরে নিয়ে যা।
আশিয়ান ঝট করে হায়া’কে কোলে তুলে নেয়। সাবধানে কাচ গুলো ডিঙিয়ে তাকে বাহিরে এনে ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে দেয়। উদ্বিগ্ন হয়ে হায়া’র অন্য হাত-পা দেখতে থাকে। আর কোথাও কেটেছে কিনা।
আবরার আশিয়ানকে বলে–
—এত রাতে তো কোন ডাক্তার পাবো না, তুমি ওকে আশেপাশের কোন ক্লিনিকেই নিয়ে যাও। কোন রিস্ক নেওয়ার দরকার নেই, যদি হাতের ভেতরে কোন কাচ ঢুকে থাকে তাহলে পরবর্তীতে ইনফেকশন হওয়ার চান্স থাকবে।
আশিয়ান বাবার কথামতো হায়া’কে পুনরায় কোলে তুলতে নেয় কিন্তু হায়া তাকে থামিয়ে দেয়। শান্ত গলায় বলে–
—কোন কাচ ফুটে নি আমার হাতে। নরমাল ড্রেসিং করিয়ে দিলেই হবে, যেটা উনিও পারবে। শুধু শুধু এত রাতে দৌড় ঝাপ করা লাগবে না।
আশিয়ান রাগী গলায় ধমক দিয়ে বলে–
—তুমি বেশি বুঝো আমাদের থেকে? চুপচাপ আমার সাথে যাবে, বেশি কথা বললে মাথার উপরে তুলে একটা আছাড় মারব।
হায়া’র চোখ বড়বড় হয়ে যায় আশিয়ানের কথা শুনে। তার একটু নাটকের জন্য এখন হসপিটালে যেতে হবে? হায় আল্লাহ! অবশ্য সে নিজেও ভাবেনি এতটা হাত কেটে যাবে। সে জাস্ট প্লেট গুলো পায়ে ফেলতে চেয়েছিলো কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত পায়ে তো পরলই না উল্টো হাত কেটে বসে আছে।
হায়া তাও সাহস নিয়ে বললো–
—বাসার সামনের ফার্মেসির লোকটাকে ডেকে আনলেই হয়। সে না হয় এসে দেখে যাক। সে যদি বলে হসপিটালে যেতে হবে তারপর না হয় গেলাম।
—একটা কথাও না। চুপচাপ চলো আমার সাথে।
কথাটা বলে যেই না হায়া’কে কোলে তুলবে তখন স্পর্শ বলে–
—আশু, হায়া ঠিক বলছে। আগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অন্তত রক্ত পড়াটা বন্ধ করা দরকার। দেখছিস কতটা রক্ত বের হয়েছে অলরেডি।
আশিয়ান হায়া’র দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখে তার পরনের স্কাই ব্লু চুরিদারটা রক্তে ভিজে লাল হয়ে গিয়েছে অনেকটা। আশিয়ানের বুকে আবারও চিপ খায়।
আশিয়ান আবরারের দিকে তাকিয়ে বলে–
—বাবা, তুমি একটু ফার্মাসিস্ট কে কল করো না। আমার কাছে তার নাম্বার নেই।
আবরার আশিয়ানের কথা শুনে নিজের রুমের দিকে হাটা দেয়। ফার্মাসিস্ট তাদের পুরানো চেনা লোক হওয়ায় রাত দশটায়ও তাদের বাসায় আসে। সে হায়া’র হাত ভালো করে খুঁচিয়েখাচিয়ে ক্লিন করে ড্রেসিং করে দেয় আর এ-ও বলে–
—ক্ষত জায়গাটা গভীর হলেও কোন কাচ ফুটে থাকেনি। আমি ড্রেসিং করিয়ে দিয়েছি। দিনে একবার ড্রেসিং করতে হবে রেগুলার কয়েকদিন তাহলে ক্ষত তাড়াতাড়ি শুঁকিয়ে যাবে। এছাড়া চিন্তার কোন কারণ নেই।
আশিয়ান অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করে–
—আপনি সিউর তো? ভালো করে চেক করেছেন তো? দেখুন আমরা ওকে নিয়ে কোন রিস্ক নিতে চাই না।
আবরারের সমবয়সী লোকটা আশিয়ানের এমন অস্থিরতা দেখে মনে মনে হেঁসে উঠে। আবরার আশিয়ানকে বলে–
—উনি ভালো করে চেক করেই তো দেখল আমাদের সামনে। প্রয়োজন হলো নিশ্চয়ই বলত। তুমি একটু চুপ করো তো। আর ফারুক ভাই (ফার্মাসিস্ট) রাতে হয়ত ব্যথা হতে পারে। এর জন্য কোন ঔষধ দিবেন?
—হ্যাঁ। একটা নরমাল পেইন কিলার আর প্যারাসিটামল খাইয়ে দিলে জ্বর আসার সম্ভাবনা কম থাকবে।
—আচ্ছা।
লোকটি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চলে যায়। স্পর্শ আশিয়ানকে বলে–
—তোমরা দু’জন উপরে যাও। আমি তোমাদের খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি। আশিয়ান ওকে সাহায্য করো। আর দু’জন খেয়ে নিও।
—হায়া খায় নি আম্মু?
খানিকটা অবাকতা নিয়ে প্রশ্ন করে আশিয়ান। স্পর্শ বলে–
—নাহ্, তোমার জন্য অপেক্ষা করছিল।
কথাটা শুনে আশিয়ানের রাগও হয় আবার একটা ভালো লাগাও কাজ করে। কিন্তু সে তার রাগ টাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। সে হায়া’র দিকে এমন একটা লুক দেয় যে আবরার-স্পর্শ না থাকলে আশিয়ান তাঁকে কাচাই গিলে ফেলত। হায়া তার চাহনি দেখে পরপর কয়েকটা শুকনো ঢোক গিলে নেয়।
তারপর তারা দু’জন রুমে চলে আসে। রুমে এসে আশিয়ান হায়া’কে বেডে বসিয়ে দিয়ে সে কাবার্ডের কাছে চলে যায়। সেখান থেকে হায়া’র একটা ড্রেস বের করে রুমের লাইট অফ করে হায়া’র কাছে ফিরে আসে। হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়ার হায়া খানিকটা ভয় পেয়ে যায়।
তার ভয়টা আরো বেড়ে যায় যখন আশিয়ান তার জামার চেইনে হাত লাগায়। হায়া হড়বড়িয়ে বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে কিছুটা দূরে সরে যায়। কাঁপা কাঁপা গলায় বলে–
—কি করছেন আপনি? জামায় হাত দিচ্ছেন কেন?
আশিয়ান গম্ভীর গলায় বলে–
— চেঞ্জ করবে না তুমি? এক হাত তো কেটে বসে আছো। আরেক হাত দিয়ে একা একা চেঞ্জ করতে পারবে? এদিকে আসে, আমি হেল্প করছি তোমায়।
আশিয়ানের কথা শুনে হায়া লজ্জা ও অস্বস্তি দুটোই অনুভব করে। সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে–
—আমি পারবো, আপনি আমার কাছে দেন। আর বাহিরে দিকে একটু ওয়েট করেন।
কথাটা বোধহয় আশিয়ানের পছন্দ হয় না। সে হায়া’র হাসবেন্ড হয়ে তার অসুস্থতায় সাহায্য করতে পারবে না? এতদিন না হয় আশিয়ান তাকে সময় দিচ্ছিল, তাদের সম্পর্কটাকে সময় দিচ্ছিল তাই বলে সবসময় এমন দূরে দূরে থাকবে এমনটা তো হবে না। আশিয়ান হায়া’কে নিজের জীবনে চায়। এতটা চায় যে সে হায়া’কে ছাড়া নিজেকে অচল মনে করে। আর হায়া? সে সব অনুভব করেও কেমন গা-ছাড়া ভাব নিয়ে চলে।
আশিয়ান রেগে হায়া’র কাছে চলে আসে। বেলকনিতে জ্বলতে থাকা লাইটের আলোতে ঘরটা আবছা আলোয় ছেয়ে আছে। সে হায়া’র বাম হাত টেনে একদম নিজের কাছে নিয়ে আসে, এতটাই কাছে যে হায়া আশিয়ানের প্রতিটা নিঃশ্বাস অনুভব করতে পারছে।
আশিয়ান দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে–
—লুক, তোমায় ও আমাদের সম্পর্কটাকে আমি যথেষ্ট সময় দিয়েছি। আর না। আমার ধৈর্যের বাধ ভেঙে গিয়েছে। একটা কথা শুনে রাখো, তুমি আমার। শুধু মাত্র আমার। ইহকাল পরকাল সব কালের জন্য আমার। তুমি আমায় ভালোবাসা না তো? ওকে, চলবে আমার। আমি চালিয়ে নিবো। কিন্তু আমার থেকে দূরে থাকার চিন্তা মাথার হাজার কিলোমিটারেও আনবে না। তুমি জানো আমি আমার জিনিসের প্রতি কতটা পজিসিভ। এখন চুপচাপ আমায় আমার কাজ করতে দাও। নাহলে আজ রাতটা তোমার জন্য বেদনাদায়ক একটা রাত হতে চলেছে।
হায়া আশিয়ানের এমন কথা শুনে গাট হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আশিয়ান হায়া’র গলার থেকে ওড়না নিয়ে নিজের চোখ বেঁধে নেয়। তারপর সেভাবেই তার ড্রেস চেঞ্জ করিয়ে দেয়। ড্রেসে চেঞ্জ করার পরই শুনতে পায় স্পর্শের গলা। আশিয়ান দরজা খুলে দেখে সে খাবার নিয়ে এসেছে। আশিয়ান খাবারের ট্রে’টা নিয়ে পুনরায় হায়া’র কাছে আসে। নিজের সাথে সাথে হায়া কেও খাইয়ে দিতে থাকে। খাওয়া শেষ করে হায়া’কে প্রয়োজনীয় মেডিসিন দিয়ে তাকে শুইয়ে দিয়ে সে নিচে চলে যায়। এঁটো প্লেটগুলো ধুয়ে রুমে এসে ভার্সিটির কাজ করতে থাকে।
মন মেজাজ বিক্ষিপ্ত থাকায় ঘণ্টায় দুয়েক কাজ করেই শুতে চলে যায়। বেডে এসে হায়া’র থেকে বেশ খানিকটা দূরত্ব বজায় করে শুয়ে পড়ে। একটু পরই অনুভব করতে পারে একজোড়া তুলতুলে হাত তার বাহু আঁকড়ে ধরেছে। নিজের অজান্তেই আশিয়ানের মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
আশিয়ান ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখে হায়া ঘুমের ঘোরে তার কাছে এসেছে। আশিয়ান এদফায় তাকে ফিরিয়ে দেয় না। সে আলতো হাতে হায়া’কে নিজের বাহুতে এনে শোয়ায়। তারপর হায়া’র আহত হাতটা নিজের কোমড়ের উপর রেখে হায়া’কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
আহ! এখন একটু শান্তি পেলো বোধহয় তার আত্মা। এতদিন রাতে শুধু ছটফট করে কাটিয়েছে। বিয়ের পর বউ’কে জড়িয়ে না ধরলে ঘুম আসে বুঝি? আশিয়ান হায়া’র চুলের ভাজে মুখ ডুবিয়ে কতগুলো চুমু খায়। হায়া’র মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে বিড়বিড়িয়ে বলে–
— হায়া, আমার শান্তি, আমার একান্ত ব্যক্তিগত নারী। আমার ভালোবাসা। এই আশিয়ান মির্জা তোমায় সীমাহীন ভালোবাসে।
কথাটা বলে আবারও ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় আশিয়ান।তারপর সে অবস্থাতেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে।
এদিকে চোখ বন্ধরত হায়া’র মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে। সে খুবই আলতো করে আশিয়ানের বুকে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় যাতে আশিয়ান বুঝতে না পারে। মনে মনে বলে–
—আপনার জন্য বিশাল একটা সারপ্রাইজ আছে জামাই জান। জাস্ট আর কয়েকটা দিন ওয়েট করেন কষ্ট করে।
শব্দসংখ্যা~১৯২০
~চলবে?
[হায়া-আশিয়ানের মান অভিমান আমার নিজেরই ভালো লাগছিলো না, তাই তাদের প্যাচ আপ করিয়ে দিলাম। ভালো করেছি না?🥹কাল ইনশা আল্লাহ অন্য জুটি দের নিয়েও লিখবো। রিচেক করি নি, ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েন।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 😘]

